07/12/2025
"চাচু,চাচু তুমি না থুব তুন্দর,আমি বলো হয়ে তোমাতে বিয়ে তলবো তুমি আমাকে বিয়ে তরফা"
"হ্যাঁ,করবো তো আমি দেশে এসে ফার্স্ট তোকে বিয়ে করলো প্রিয়তমা "
কথাখানা বলতে গিয়ে ছেলেটির চোখ পানিতে ভরে উঠলো, দু-এক ফোঁটা পানি নেচে গোড়িয়ে পড়লো গালে । ছোট বাচ্চা মেয়েটি ছেলেটি সামনে গিয়ে আলতো হাতে চোখের পানিটুকু মুছে দিয়ে আদুরে
কণ্ঠে বলে উঠলো,
"তুমি কাঁদছো কেন চাচু?"
"এমনি প্রিয়তমা"
কথাখানা বলেই কিছু সময় পর ছোট বাচ্চাটিকে ঘুম পাড়িয়ে নিজের রুমের দিকে হাটা ধরে ছেলেটি। রুমে এসে নিজের বেগ নিয়ে বাসা থেকেই বেড়িয়ে যায় নিজের গন্তব্য স্থানে। সে পেছন ফিরে দেখে নেই সেই বাড়িটাকে,হয়তো এটাই তার শেষ দেখা,তাই মন ভরে দেখে নেই বাড়িটিকে।সে আবার ফিরে গাড়িতে উঠে চলে যায় ।
____________________________________________
দশ বছর পর আমেরিকা থেকে দেশে আসছে চৌধুরী বাড়ির ছোট ছেলে দ্বীপ চৌধুরী। তাকে এয়ারপোর্টে নিতে গেছে চৌধুরী বাড়ির বড় ছেলে জাহিদ চৌধুরী। তিনি গাড়ি থেকে বেরিয়ে দ্বীপের জন্য অপেক্ষা করছে কিছুক্ষণের মধ্যেই দ্বীপ চোখে গ্লাস কালো কোট, পান্ট,হাতে কালো (olevs) ব্র্যান্ডের ঘড়ি। দ্বীপ এসে থামলো জাহিদ চৌধুরীর সামনে ভাইয়ের সাথে কোলাকুলি করে দু'জনে বাসায় উদ্দেশ্যে রায়না হলো । গাড়ি এসে থামলো চৌধুরী বাড়ির সামনে, দরজা খোলে হলো গাড়ি ভেতরে প্রবেশ করলো গাড়ি থেকে নেমে,বাড়ির দরজাই বেল বাজালো দ্বীপ,দরজা খোলেতে আসলো এক মেয়ে যার সাজে রয়েছে হলুদ শাড়ি মুখে লেগে রয়েছে হলুদ,সে দরজা খোলতেই চিৎকার করে বলে উঠলো,
"ভাইয়া"
কথাখানা বলে জড়িয়ে ধরলো দ্বীপ কে, দ্বীপ তাকে জড়িয়ে ধরে বলে উঠলো কেমন আসিস সে বললো ভালো এভাবে একটু কথা বলার পর বাসার ভেতরে ঢুকলো । দ্বীপ তার মাকে জড়িয়ে ধরলো, দশ বছর পর ছেলেকে পেয়ে মিনা বেগম কান্না করতে করতে ছেলে কপালে চুমু খেলেন। দ্বীপ কে এতো বছর পর দেখে জাহিদ চৌধুরীর স্ত্রী খুশি চৌধুরী ও কান্না করে দ্বীপের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় আর বলে উঠে,
"কত বড় হয়ে গেছিস রে?"
দ্বীপ কথাখানা শুনে মুচকি হাসে, আজ দ্বীপের ছোট বোনের গায়ে হলুদ তাই সব আত্নীয় স্বজন বাসায় উপস্থিত।বাড়ি সবাই তাকে বসিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করতেই থাকে । সে এতো বছর সেখানে কিভাবে তার ব্যবসার সামলেছে নিজের হাতে আর কেন সে ওই দেশে নিজের ব্যবসা শুরু করলো, যেখানে তার নিজের বাবার ব্যবসা তার ভাই সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।সে কাউ কে সে ভাবে কিছু বলছে না, শুধু বলছে সে নিজে কিছু করতে চাই । তার এই ব্যাপারে তাকে জাহিদ চৌধুরী কিছু বলে না কারণ তিনিই চান দ্বীপ তার নিজের পরিশ্রমে কিছু করুক। এমন সময় বাসাই প্রবেশ করলো দশ বছর আগের সেই ছোট্ট বাচ্চা মেয়েটি রুহি চৌধুরী।সে এখন ১৯ বছরের হয়ে গিয়েছে।সেই বাসার ঢুকেই দেখে সবাই এক ছেলে সাথে গল্পে মেতে আছে,সে মনে করে ছেলেটি মিশু চৌধুরীর হবু বর (দ্বীপের ছোট বোন) তাই সে মজার ছলে বলে উঠলো,
"আরে জিজু আপনার তো দেখছি আমার বোন কে ছাড়া মনই বসছে না"
সবার মনোযোগ যায় রুহি দিকে,রুহি সেদিকে খেয়াল না করে পানি খেতে থাকে । মিনা বেগম রুহির কথা শুনে কিছুটা মজার ছলে মন খারাপ করে বলে উঠে,
"জানিস রুহি, তোর চাচু আমাকে ফোনে বললো সে আসবে না"
কথাটা বলেই কেন জানি রুপির খারাপ লাগলো,সে ভেবেছিল তার এতো দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটবে কিন্তু না তা আর হলো কই।তাকে সেই নরক নামক অপেক্ষা যন্ত্রণা থাকতে হবে।সে নিজেকে সামলে একাটু করা গলায় বললো,
"যেই মানুষটা আমাদের কথা ভাবে না তাকে নিয়ে আমাদেরও ভাবার কথা না"
কথাখানা বলেই সে কাউ কে কিছু বলতে না দিয়ে চলে যায় উপরে, সবাই তার দিকে চেয়ে থাকে তার কাছে একথা আশা করেনি কেউ। দ্বীপ এতোক্ষণ নীরব দর্শক ছিল সে রুহির কথাখানা শুনে একটু হেসে মনে মনে বলে উঠলো,
"তোর প্রাপ্তিটা যদি বুঝতি আমার জীবনে, তাহলে আভিমানটা মনে হয় থাকতো না প্রিয়তমা "
রুহির এই কথাখানাতে সবাই চুপ,কেউ কিছু বলাতে পারছে না মিয়া বেগম দ্বীপের দিকে চেয়ে বলে উঠলো,
"ও তোর উপর অভিমান হয়েছে,যা গিয়ে ওর অভিমান ভাঙ্গা"
"আমি ফ্রেশ হবো, রুমে গেলাম "
গম্ভীর কণ্ঠে কথা খানা বলে নিজের রুমে চলে যায়, রুমে গিয়ে লম্বা শাওয়ার নিয়ে সে বের হয়।কাপড় পড়ে, একটু রেস্ট নিয়ে সে হাঁটা ধরে রুহির রুমের দিকে, রুমের সামনে গিয়ে নক করে। ওপাশ থেকে রুহি বেলকনিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে মন খারাপ করে আবশ্য মন কথা যাকে দেখার জন্য দশটা বছর পার করলো,যার জন্য সে প্রতিটা সেকেন্ড অপেক্ষা করছে সে আজ আসলো না তার কথা রাখলো না সে জোরে বলে উঠে দরজা খোলা আছে,রুহি মনে করে মিশু এসেছে তাই সে কিছু বলে না। দ্বীপ রুমে ঢুকে রুহিকে বেলকনিতে দেখে একটু হেসে দশ বছর আগের সেই রাশভারী কণ্ঠে বলে উঠে,
"প্রিয়তমা"
কথাখানা শোনা মাত্রই তার হঠাৎ দশ বছর আগের সেই শেষ বারের শোনা প্রিয়তমা কথাটার মতো লাগলো,যা সে সেদিন শেষ শুনে ছিলো।পেছন ফিরে তাকায়,তার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে সে চেনা মুখখানা। রুহির কিছু সময় দাঁড়িয়ে সবটা বুঝলো তার চোখ জোড়ার পানি এসে যায়,সে কিছু না ভেবেই দৌড়ে গিয়ে দ্বীপকে জোড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে। দ্বীপ তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে উঠলো,
"সরি মাফ করে দে জান, তোকে কষ্ট দিতে চাইনি সরি,মাই লাইফ,সরি"
চলবে.........
#প্রিয়তমা
#সূচনা_পর্ব
(উপন্যাসটির কাল্পনিক, বাস্তবে কোনো মিল নেই।কেমন হয়েছে জানাবেন আর ভালো রেসপন্স হলে হলো উপন্যাসটা আগে চলবে)