19/11/2025
১৭৮২ সালে পশ্চিমবঙ্গের চাঁদপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীরের যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলার গ্রামীণ সমাজের গভীর দারিদ্র্য, শোষণ এবং সামাজিক বৈষম্যের ভেতর দিয়ে। জন্মেছিলেন এক সাধারণ মুসলিম কৃষক পরিবারে। কিন্তু চোখে দেখেছেন মানুষের ওপর জমিদার ও ব্রিটিশ শাসনের দ্বৈত অত্যাচার। তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন মাদ্রাসায়, ছিলেন কুরআনের হাফেজ। একাধারে বাংলা, ফার্সি, আরবি ভাষায় পারদর্শী হওয়ায় শৈশব থেকেই তিনি দেখেছেন মানুষের জীবন কতটা অনিশ্চিত, কতটা নির্ভরশীল শক্তির উপর। এই অভিজ্ঞতা তাকে ধীরে ধীরে নেতৃত্বের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। একজন সাধারণ ধর্মীয় শিক্ষার্থী থেকে গণমানুষের নেতা হয়ে ওঠার শুরুটা ওখান থেকেই।
১৮৩০-এর দিকে বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর, ব্রিটিশ শাসনের দমননীতি এবং জমিদারদের স্বৈরাচারী শোষণে স্থবির হয়ে পড়ে। সেই সময় তিতুমীরের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকলে তা অত্যাচারী জমিদারদের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় শাসকরা মুসলিমদের দাড়ি ও মসজিদের ওপর খাজনা আরোপ করত, এমনকি ইসলামি নাম রাখতে চাইলেও খাজনা দাবী করত। এই নিপীড়নই তাকে কৃষক ও দরিদ্র মানুষের নেতা হিসেবে দৃঢ় অবস্থানে দাঁড় করায়।
তার নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় উদাহরণ ছিল ১৮৩১ সালের বারাসাত বিদ্রোহ ও নারায়ণপুরে নির্মিত বাঁশের কেল্লা। এই বাঁশের কেল্লা শুধু প্রতিরক্ষা দুর্গ ছিল না বরং ঐ সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক চেতনার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়েছিল। গ্রামের মানুষ নিজের শ্রম ও সম্পদ দিয়ে কেল্লা তৈরি করেছিল, যা দেখিয়েছিল মাজলুমরাও একত্রিত হয়ে শক্তিশালী হতে পারে।
তিতুমীর দেখিয়েছিলেন সাংগাঠনিক দক্ষতা, নীতি এবং মানুষের আত্মবিশ্বাসের সমন্বয়ে যেকোনো শক্তিশালী আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব। তাঁর সংগ্রাম আজও ছাত্র আন্দোলন, গণ আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, শ্রমিক অধিকার, ভূমি-সংক্রান্ত প্রতিরোধে অনুপ্রেরণার উৎস।
আজ এই মহান বীর সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীরের শাহাদাত বার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।
-এডমিন