04/04/2026
খালাকে জিজ্ঞেস করলাম, খালা এক নৌকায় যদি আমি আর আপনার স্বামী থাকে আর নৌকা যদি ডুবে যায় তখন আপনি কাকে বাঁচাবেন? প্রশ্নটা শুনে প্রীতম আমার দিকে মুখ কঠিন করে তাকায় আছে। আসলে একটু আগে খালা আর খালুর বিরাট ঝগড়া হইছে। মনে হচ্ছে এবার তালাক কনফার্ম।
আমার প্রশ্ন শুনে আমার শ্বাশুড়ি মা বললেন, প্রীতম, ওকে বল ফাইজলামি সবসময় ভালো লাগেনা। প্রীতম আমাকে কিছু বললোনা। ও আমাকে কিছুই বলেনা। শুধু প্রতিদিন রাতে ঘুমাবার আগে একটা কথাই বলে, ছোঁয়া তুমি কি ছোটবেলা থেকেই এমন হারামি? আমি খুশি হয়ে ওর দিকে তাকায় প্রতিদিন বলি, হ্যাঁ। তুমি হারামির জামাই।
খালা কিছু বলার আগে খালু বললেন, ও অবশ্যই তোমাকেই বাঁচাবে বৌমা। ওর আমাকে নিয়ে মাথাব্যথা নাই। আমি মরলে কি আর বাঁচলে কি! এই কথা শুনে খালা খুব রেগেমেগে গিয়ে বললেন, এই মেয়ের সাথে যদি আমার শত্রুও এক নৌকায় থাকে, তাহলে ওই শত্রুকেই আমি বাঁচাবো। খালার এই কথা শুনে প্রীতম কষ্ট পেলো। ও খালাকে বললো, খালা এই ছিলো আপনার মনে?
আমি অবশ্য কথাটা শুনে মন খারাপ করিনাই। আমার এসবে অভ্যাস আছে।
আমি মন খারাপ এর ভান ধরে প্রীতমকে বললাম, প্রীতম তুমি তো আমাকে ভালোবাসো তাইনা? প্রীতম বললো, হ্যাঁ ছোঁয়া, কোনো সন্দেহ? আমি বললাম, তাহলে ধরো এক নৌকায় আমি আর খালা। তুমি তখন কি করবা? আমার প্রশ্ন শুনে খালা হুহু করে কেঁদে উঠলেন। খালা বললেন, এই মেয়ে আমার কলিজার টুকরা প্রীতমকে আমার থেকে কেড়ে নিবে। আপা তোর বউমার মত শয়তান মেয়ে আমি আগে দেখিনাই। প্রীতম তুই বলে দে তুই আমাকে ডুবে মরতে দিবি।
পরিস্থিতি এখন অন্যরকম। আমি প্রীতমের দিকে তাকায় আছি। হঠাৎ আমার শ্বাশুড়ি মা এসে বললেন, ওই নৌকাতে আমিও আছি। তুই যেকোনো একজনকে বাঁচাতে পারবি। এটা শুনে খালা আরও জোরে হাউমাউ করে কান্না শুরু করলেন। কাঁদতে কাঁদতে বললেন, আপা তোর কি দরকার ছিলো নৌকায় উঠবার? আমাকে একা মরতে দিতি, এখন তো তুইও ডুবে মরবি রে আপা। প্রীতম এসব শুনে ঝরঝর করে ঘেমে যাচ্ছে।
সবাই আমরা এখন প্রীতমের দিকে তাকায় আছি। আমার এত সুন্দর স্বামী ভয়ে ফ্যাকাসে হয়ে আছে। ও একবার শুধু বললো, তোমরা সবাই নৌকায় কেনো উঠবা? তোমাদের তো রিক্সাতেও উঠানো যায়না একসাথে, সেখানে নৌকা? খালু তখন বললেন, যেহেতু নৌকায় উঠেই পড়ছে, তুই উত্তর দিয়ে দে বাবা। প্রীতম খালুর দিকে করুণ চেহারায় একবার তাকালো।
প্রীতম টিস্যু দিয়ে চেহারা মুছলো। এরপর আমার দিকে তাকায় বললো, আমি কাউকেই বাঁচাতে পারবোনা ছোঁয়া, আমি সাঁতার পারিনা। কথাটা শুনে বাবা আস্তে করে বললেন, ভাগ্যিস ওকে ছোটবেলায় সাঁতার কাটা শিখাইনাই। কি বাঁচাটাই না বেঁচে গেলি আজ।
আমি প্রীতমের উপর রাগ হইনাই। সাঁতার না জানলে কিই বা করার আছে। আমি শুধু প্রীতমকে বললাম, আচ্ছা তারমানে আমরা তিনজনেই মারা যাবো। প্রীতম, তখন তুমি সবথেকে বেশি কারজন্য কাঁদবা? আমার জন্য? মায়ের জন্য? নাকি তোমার প্রিয় খালার জন্য? প্রশ্নটা শুনে মা আর খালা প্রীতমের দিকে তাকায় আছে একসাথে।
প্রীতম চেহারাটা শক্ত করে কিছুক্ষণ তাকায় থাকলো আমার দিকে। এরপর আমাকে বললো, আমি তখন মরতে চলে যাবো ছোঁয়া। তোমরা যেই দুনিয়ায় নাই সেই দুনিয়ায় আমি একা থেকে কি করবো বলো! তখন পাশ থেকে বাবা বললেন, আমি আর তোর খালু কিছুই না তোর জন্য?
কথাটা শুনে প্রীতম এবার মারাত্মকভাবে কঠিন চেহারা বানিয়ে বাবা আর খালুর দিকে ঘুরলো। এরপর বললো,
তোমরাও তখন আমার সাথে মরতে যাবা
Arni Shawkat আপুর লেখা গল্প