14/11/2025
সাভারের পুরনো রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপের পাশেই রাতে খুব কম মানুষ আসে। সবাই বলে, রাত বাড়লে ওই জায়গায় বাতাসও যেন অদ্ভুত শব্দ করে। কেউ বলে, এগুলো স্রেফ গল্প… কেউ বলে, ওখানে এখনো কেউ “কাজ” করে।
১. রাত ১২টা — নিরাপত্তাকর্মীর ডিউটি
শওকত ছিল এক নতুন নিরাপত্তাকর্মী। ওই ধ্বংসাবশেষের পাশেই অস্থায়ী অফিসে তাকে রাতের শিফটে বসতে হয়।
সহকর্মীরা বলত,
“ভাই, রাত বারোটার পর ওদিকে যাইও না… সেলাই মেশিনের শব্দ শোনা যায়।”
শওকত হাসত।
“ধ্বংস হওয়া ভবনে আবার মেশিন চলবে কিভাবে?”
২. অদ্ভুত আওয়াজ
এক রাতে, হঠাৎ বাতাস থেমে গিয়ে যেন চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
ঠিক তখনই শওকত শুনল—
টিক… টিক… টিক…
কোনো সেলাই মেশিনের মত শব্দ।
ধীরে ধীরে সেটা বাড়তে লাগল—
টিকটিকটিকটিকটিকটিক… যেন শত শত মেশিন একসাথে চলছে।
শওকত ভয় পেলেও কৌতূহল দমন করতে পারল না। টর্চলাইট নিয়ে ধ্বংসস্তূপের দিকে এগোল।
৩. ভাঙা দেয়ালের ভিতর
সে যখন খুব কাছে পৌঁছাল, তখন অদ্ভুত কিছু দেখল।
ভাঙা দেয়ালের ফাঁক দিয়ে মৃদু হলুদ আলো বের হচ্ছে… যেন ভেতরে কাজ চলছে।
হঠাৎ সে দেখল—একজন মেয়ে, পুরনো গার্মেন্টস ইউনিফর্ম পরে, পেছন ঘুরে বসে সেলাই করছে।
কিন্তু…
তার সামনে কোনো মেশিন নেই।
তবুও তার হাত দুটো মেশিনের মত দ্রুত চলছে।
শওকত ভয় পেয়ে পিছিয়ে আসতেই মেয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাল।
তার চোখে মণি নেই… শুধু কালো গর্ত।
সে ফিসফিস করে বলল—
“আমার শিফট শেষ হয়নি… সুপারভাইজার বলেছে কাজ শেষ না করে বের হতে না…”
৪. অতীতের কণ্ঠ
সেই মুহূর্তে চারদিক অন্ধকার হয়ে গেল।
চারপাশে যেন শত শত মানুষের চাপা কান্না, সাহায্যের আর্তনাদ,
“দয়া করে… আমাদের বাঁচাও…”
—এগুলো শোনা যেতে লাগল।
হঠাৎ মাটি কাঁপতে শুরু করল।
শওকত দেখল—ধ্বংসাবশেষের ভাঙা কংক্রিটের নিচ থেকে অনেক হাত বের হয়ে আসছে, যেন কেউ বের হতে চাইছে।
৫. শেষ দৃশ্য
শওকত দৌড়ে পালাতে গিয়ে দেখল, সামনে দাঁড়িয়ে আছে একজন সুপারভাইজার-সদৃশ ছায়ামূর্তি।
সে বলল—
“তুই নতুন? রাতের শিফটে তোকে ডাকিনি… এখন তোরও শিফট শেষ হবে না।”
ঠিক সেই মুহূর্তে সব আলো নিভে গেল।
হঠাৎ দেখা গেল, শওকত আর সেখানে নেই—শুধু তার টর্চটা ভাঙা দেয়ালের পাশে পড়ে আছে।
লোকেরা বলে, নতুন নিরাপত্তাকর্মীরা রাতের দিকে মাঝে মাঝে দূর থেকে দেখতে পায়—
একজন লোক ভাঙা ভবনের ভিতরে বসে অদৃশ্য মেশিনে সেলাই করছে।
কারও কারও মতে—
সে নাকি শওকত… যার শিফট আর কোনোদিনই শেষ হয়নি।