Rima's dairy

Rima's dairy "My cooking and Vlog"

Assalamualaikum My all lovely friends.I'm Rima from Rima's dairy..plz everyone support my new page..Thank you

সমাজে কিছু পুরুষের রেপুটেশন এমন হয় যে, তাদের পরিবার বা সন্তানের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস কারও হয় না।  পাড়া-মহল্লা থেকে...
23/05/2026

সমাজে কিছু পুরুষের রেপুটেশন এমন হয় যে, তাদের পরিবার বা সন্তানের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস কারও হয় না। পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে শত্রু সবাই জানে, এই মানুষের সীমানায় আঘাত করলে উল্টো পাল্টা আঘাত আসবে পঙ্গপালের মতো।

এই সমাজ ভীষণ নিষ্ঠুর। এখানে মানুষ দুর্বল দেয়াল পেলেই তা ভেঙে ফেলার সুযোগ খোঁজে। তাই ভদ্র হতে গিয়ে নিজেকে এতটা সস্তা বা নরম বানাবেন না, যাতে শিকারিরা আপনাকে সহজ লক্ষ্যবস্তু মনে করে। আপনার মেয়ের দিকে কোনো কুদৃষ্টি পড়ার আগেই যেন অপরাধীর মাথায় ভয় কাজ করে—এর বাবার সামনে দাঁড়ালে রক্ষা নেই।

যে মানুষটা সারাদিন হাসিমুখে থাকে, সে-ই যে প্রয়োজনে রুদ্রমূর্তি ধারণ করতে পারে, এটা সবাইকে বুঝতে দিন।🔥 পরিবারের নিরাপত্তার প্রশ্নে পুরুষের চোখে কেবল বজ্র মানায়। রামিসার বাবার সেই চূর্ণ-বিচূর্ণ, লাশের মতো মুখটা আমাদের এক চরম শিক্ষা দেয়। অমন জীবন্ত লাশ হওয়ার আগেই পশুর সামনে ত্রাস হয়ে দাঁড়ান।

সব বাবাদের উদ্দেশ্যে বলছি—সন্তানকে শুধু ভালোবাসাই দেবেন না, তাদের জন্য এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর হোন। ঘরের চৌকাঠে দাঁড়িয়ে থাকা শেষ প্রহরী হোন। 💪

আপনার উপস্থিতিই যেন এই বার্তা দেয়—আমি বেঁচে থাকতে আমার পরিবারের গায়ে আঁচড় কাটার ক্ষমতা কারও নেই।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: নিষ্পাপ শিশু রামিসার ওপর হওয়া নির্মম নির্যাতন আর তার বাবার সেই জীবন্ত লাশের মতো মুখটা আমাদের মনে করায়—এই সমাজ এখন কতটা পচে গেছে। আসুন, ঘরে ঘরে প্রতিটি বাবা-মা নিজের সন্তানদের জন্য এক একটি বুলেটপ্রুফ দেয়াল হয়ে উঠি। ধর্ষণের বিরুদ্ধে, এই পশুবৃত্তির বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ হোক ইস্পাতকঠিন। 🖤

#ধর্ষণের_বিরুদ্ধে_রুখে_দাঁড়ান #কন্যাসন্তানের_সুরক্ষা #বাবা_মানেই_দুর্গ #নিরাপদ_সমাজ_চাই

গল্পের নাম:  #মরীচিকার_ওপারে_শান্তিভাবনায় ও লিখনীতে: রাবেয়া রীমা বিকেলের মৃদু আলোয় বারান্দায় এসে দাঁড়াল রীতা। হাতে এক ক...
16/05/2026

গল্পের নাম: #মরীচিকার_ওপারে_শান্তি
ভাবনায় ও লিখনীতে: রাবেয়া রীমা

বিকেলের মৃদু আলোয় বারান্দায় এসে দাঁড়াল রীতা। হাতে এক কাপ চা। ঢাকা শহরের বহুতল ভবনগুলোর দিকে তাকালে তার ইদানীং কেমন যেন দমবন্ধ লাগে। চারদিকে শুধু এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতা। কে কার চেয়ে দামি গাড়ি কিনল, কার পরনের জামাটা কোন ব্র্যান্ডের, কে কত হাজার টাকা রেস্তোরাঁয় উড়িয়ে এল—এই নিয়েই সবার মাতামাতি।

অথচ এই তো সেদিন, রীতা তার এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাসায় গিয়েছিল। ড্রয়িংরুমে বসে সোফার কুশন থেকে শুরু করে গায়ের চাদর—সবকিছুর দাম আর ব্র্যান্ডের ফিরিস্তি দিচ্ছিলেন গৃহকর্ত্রী। রীতা চুপ করে শুনছিল আর ভাবছিল, “আসলে আমরা মানুষরা কী করছি? আদৌ কি আমরা জানি জীবনটা কত ক্ষুদ্র?”

একটু আগেই সে খবর পেয়েছে, তাদের এলাকার এক মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেটি তার বাবার কাছে পাঁচ হাজার টাকার একটা ব্র্যান্ডের শার্টের জন্য বায়না ধরেছে। মধ্যবিত্ত বাবা কপালে চিন্তার ভাঁজ নিয়ে বসে আছেন। বড়লোকদের সাথে টেক্কা দিতে গিয়ে আজ মধ্যবিত্তরা নিজেদের পিষে ফেলছে। আর যারা ধনী, তারা ছুটছে আরও উপরে ওঠার নেশায়।

রীতা মনে মনে ভাবলো দুই দিনের এই দুনিয়া। একটা মানুষ বড়জোর কয় বছর বাঁচে। অথচ এই ছোট্ট জীবনে কত আকাঙ্ক্ষা, কত উচ্চবিলাসিতা! কেন চার-পাঁচ হাজার টাকার ব্র্যান্ডের পোশাক না পরলে কি শরীর ঢাকা যায় না? একটা দুইশো বা পাঁচশো টাকার সাধারণ পোশাকেও তো একজন মানুষকে সমান সুন্দর এবং মার্জিত দেখায়। তাহলে কেন এই টাকার অহংকার দেখানো?

তার মনে পড়ল আল্লাহর সেই বাণী—ধন-সম্পদ তো আসলে একটা পরীক্ষা। আল্লাহ মানুষকে টাকা দেন এটা যাচাই করার জন্য যে, সে কোন খাতে তা খরচ করছে। অতিরিক্ত এই টাকার ওপর যে সমাজের দুঃখী, দরিদ্র, মুসাফির আর ক্ষুধার্ত মানুষের হক আছে, তা আজ আমরা ভুলেই গেছি। ব্র্যান্ডের দোকানে হাজার হাজার টাকা বিল করার সময় আমাদের বুক কাঁপে না, অথচ রাস্তার পাশের ক্ষুধার্ত শিশুটার দিকে চেয়ে দশটা টাকা বের করতে আমাদের হাত কাঁপে।

রীতা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ভাবল, শতভাগ সৎ পথে কামানো টাকা কি কেউ এভাবে অপচয় করতে পারে? সৎ পথের উপার্জনে একটা বরকত থাকে, একটা মায়া থাকে। তা কখনো বিলাসিতার স্রোতে ভাসিয়ে দেওয়া যায় না। মানুষ আজ টাকা ছাড়া কিছুই বোঝে না, টাকার মোহে অন্ধ হয়ে সম্পর্কের সুতো ছিঁড়ে ফেলছে। কিন্তু দিনশেষে কঠোর পরিশ্রম, অল্প আয় আর অল্প খাবার—এটাই তো ইসলামের মূল শিক্ষা। অল্পতেই তৃপ্ত থাকার মাঝেই লুকিয়ে আছে আসল রাজকীয়তা।

রীতার নিজেরও খুব বড় কোনো চাওয়া নেই। সে মনেপ্রাণে আল্লাহর কাছে একটাই প্রার্থনা করে—"হে আল্লাহ, যতদিন বাঁচি, কম খাব, কম পরব, সাধারণ হয়ে থাকব। কিন্তু তোমার সন্তুষ্টি যেন আমার সাথে থাকে।"

ঠিক তখনই বারান্দার গ্রিলের ফাঁক গলে একটা চড়ুই পাখি এসে বসল কার্নিশে। পাখিটা কোথাও থেকে ছোট্ট একটা ধানের শীষ মুখে করে নিয়ে এসেছে। সেটা খুঁটে খুঁটে খেয়েই সে তৃপ্তির সুরে কিচিরমিচির করে ডানা মেলে আকাশে উড়ে গেল।

পাখিটার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রীতার মনে এক পরম সত্যের উদয় হলো। এই প্রকৃতির দিকে তাকালে কত বড় শিক্ষা পাওয়া যায়! পাখিরা তো আগামীকালের জন্য কোনো খাবার জমিয়ে রাখে না, আলিশান খাঁচার লোভ করে না। আল্লাহ তাদের যেভাবে যতটুকু দেন, তাতেই তারা সুখী। অথচ আমরা মানুষরা আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব হয়েও একটা পাখি বা অবুঝ প্রাণীর সমপরিমাণ সন্তুষ্টি নিজেদের মনে ধরে রাখতে পারছি না।

রীতা উপলব্ধি করল, এই দুনিয়াটা আসলে একটা পরীক্ষাকেন্দ্র মাত্র। পরীক্ষাকেন্দ্রে কেউ দামি চেয়ার-টেবিলে বসল নাকি সাধারণ বেঞ্চে বসল, তা দিয়ে যেমন মেধার বিচার হয় না; ঠিক তেমনি কে কত দামি ব্র্যান্ডের জামা পরল আর কত দামি গাড়ি চড়ল, তা দিয়ে আল্লাহর দরবারে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ হয় না। আসল বিচার তো হবে আমাদের খাতার ভেতরের উত্তরগুলো দিয়ে—আমরা কীভাবে চললাম, কতটা সৎ থাকলাম এবং মানুষের প্রতি কতটা দয়া দেখালাম।

বিলাসিতা আসলে একটা চোরাবালি। মানুষ যত এর পেছনে ছুটবে, তত বেশি নিচে তলিয়ে যাবে। এর কোনো শেষ নেই। তৃপ্তি কখনো ব্র্যান্ডের দোকানে বা টাকার অঙ্কে কেনা যায় না, তৃপ্তি থাকে মনের ভেতরের শুদ্ধতায়। কিসের পেছনে ছুটছে এই সমাজ? মরীচিকার পেছনে ছুটে তো কখনো তৃষ্ণা মেটে না!

পৃথিবীর সব ব্র্যান্ডের গাড়ি আর দামি কাপড়ের মোহকে পেছনে ফেলে রীতা যখন ঘরে ফিরে এল, তখন তার মনটা এক অদ্ভুত হালকা আর শান্তিতে ভরে গেছে। সে বুঝতে পারল, কম টাকা, কম আয় আর অল্প খাবারে যে কঠোর পরিশ্রমের জীবন—তাতেই লুকিয়ে আছে স্রষ্টার নৈকট্য আর আত্মার আসল স্বাধীনতা। এই দুই দিনের পৃথিবীর মোহে নিজেকে বিলীন না করে, অল্পতে বেঁচে থাকার মাঝেই জীবনের সবচেয়েবড় সার্থকতা।

"এই গল্পটি কোনো কাল্পনিক গল্প নয়, বরং আমাদের আজকের সমাজের বাস্তব চিত্র। এটি সম্পূর্ণ আমার নিজের চিন্তা, অনুভূতি এবং একান্ত নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে লেখা। চারপাশের এই অন্ধ প্রতিযোগিতার ভিড়ে আমাদের মন যেন একটু থমকে দাঁড়ায়, সেই তাগিদ থেকেই এই লেখার জন্ম। আশা করি, এই ছোট্ট বার্তাটি সমাজের জন্য একটি পজিটিভ মেসেজ বয়ে আনবে এবং আমাদের জীবনের দৃষ্টিভঙ্গিটা কিছুটা হলেও বদলে দিতে সাহায্য করবে।"

⚠️ কপিরাইট সতর্কতা:
এই লেখাটি সম্পূর্ণ আমার নিজের চিন্তা ও অনুভূতির প্রকাশ। লেখিকার নাম বাদ দিয়ে বা পরিবর্তন করে এটি অন্য কোথাও পোস্ট করা থেকে বিরত থাকুন। ভালো লাগলে লেখিকার নামসহ সরাসরি শেয়ার করার অনুরোধ রইল। অন্যের সৃজনশীলতাকে সম্মান করুন।

গত দুদিন ধরে ইউটিউব চষে ফেলেছি 📱, একের পর এক ভিডিও দেখে আমের মোরব্বা বানানোর লড়াই চলেছে। কিন্তু আজ একটা বড় শিক্ষা হলো—সব...
09/05/2026

গত দুদিন ধরে ইউটিউব চষে ফেলেছি 📱, একের পর এক ভিডিও দেখে আমের মোরব্বা বানানোর লড়াই চলেছে। কিন্তু আজ একটা বড় শিক্ষা হলো—সবার হাতের জাদু বা 'হাতের গরম' এক হয় না। কেউ হয়তো চাইলেই প্রথমবার খুব সহজে চমৎকার কিছু বানিয়ে ফেলে, আর আমার মতো কাউকে পারফেক্ট স্বাদ আর লুক আনতে বারবার চেষ্টা করতে হয়। আমগুলো তিনবার চুলা থেকে নামাতে হয়েছে, অনেক ধৈর্য আর খাটনি দিতে হয়েছে এই সাধারণ কয়েক টুকরো মোরব্বার পেছনে। 🥭🔥

আসলে আমাদের আগের প্রজন্মের মা, চাচি, খালা বা ফুফুরা যখন অনায়াসেই আমাদের জন্য এই মজার মজার রান্নাগুলো করতেন, তখন আমরা এর কষ্টটা ওভাবে উপলব্ধি করতে পারিনি। 👵❤️ যদি না মানুষ নিজে সেই কাজ করতে যায়, তবে ওই কাজের মর্ম আর শ্রম কোনোদিনও বোঝা যায় না। আজ মোরব্বা বানাতে গিয়ে সেই খাটনিটা হাড়হাড় রে টের পেলাম। 😰 তাড়াহুড়োর এই যুগে আমরা সবকিছু দ্রুত চাই, কিন্তু কিছু জিনিসের পূর্ণতা পেতে হলে যে কতটা ধৈর্যের প্রয়োজন, তা আজ শিখলাম। ⏳✨

দুই দিনের এই ‘ভয়ংকর’ যুদ্ধের পর মোরব্বাটা দেখতে যেমন সুন্দর হয়েছে, খেতেও আলহামদুলিল্লাহ ভালো লাগছে। 😋 তোমাদের কার কার রান্নায় এমন ‘হাতের গরম’ এর জাদু আছে? বা আমার মতো এমন কোনো পরিশ্রমের পর সফল হওয়ার গল্প থাকলে কমেন্টে শেয়ার করতে পারো। 👇

#আমের_মোরব্বা #আচারের_গল্প #রান্নাবান্না #প্রথম_বার #দেশি_স্বাদ #পুরানো_দিনের_স্বাদ #রান্নার_অভিজ্ঞতা

শুভ সকাল! ❤️✨জীবনটা অনেক সুন্দর যদি আমরা নিজেকে ভালোবাসতে শিখি।আমরা মেয়েরা তো মায়ার বাঁধনে বাধা।আমাদের প্রতিদিনের ছোট ছো...
09/05/2026

শুভ সকাল! ❤️✨

জীবনটা অনেক সুন্দর যদি আমরা নিজেকে ভালোবাসতে শিখি।আমরা মেয়েরা তো মায়ার বাঁধনে বাধা।আমাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজগুলো—হোক সেটা রান্না করা, ঘর পরিষ্কার রাখা কিংবা সন্তানের যত্ন নেওয়া—এগুলোকে যদি আমরা শুধু পাহাড়সম বোঝা মনে না করি, তবে জীবনটা অনেক সহজ হয়ে যায়। সব বোনদের উদ্দেশ্যে, তুমি যা-ই করো না কেন, কাজগুলো যত্ন নিয়ে আর নিজের মনে করে করো।

যখন তুমি কোনো কাজ ভালোবেসে আর মমতা দিয়ে করবে, তখন সেই কাজ শেষে দেখবে মনে এক অপার্থিব তৃপ্তি আর শান্তি আসছে। অবহেলায় করা কাজ যেমন সুন্দর হয় না, তেমনি তা আমাদের মানসিক প্রশান্তিও দিতে পারে না। তাই প্রতিটি কাজকে নিজের মেধা আর পরিশ্রম দিয়ে সাজিয়ে তোলো।

নিজের আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে এগিয়ে চলো। সঠিক খাদ্যাভ্যাস আর সাপ্তাহে অন্তত ৩-৪ দিন ব্যায়ামের মাধ্যমে নিজেকে ফিট রাখো।একটা কথা মনে রাখবে, তুমি যদি ভেতর থেকে সুস্থ আর মানসিকভাবে শান্ত থাকো তাহলে তোমার চারপাশটা সুন্দর থাকবে। অন্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজের শক্তিতে বিশ্বাস রাখো। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে যখন তুমি নিজের কাজগুলো হাসিমুখে সামলাবে, তখন দুনিয়ার কোনো নেতিবাচক কথা তোমাকে দমাতে পারবে না।

"নিজের যত্ন নিও, সুস্থ থেকো।" 🌿✨
#গৃহিণীজীবন #নিজেরশক্তি

আমরা অনেকেই মনে করি মোবাইল বা গ্যাজেট মানেই বাচ্চাদের ক্ষতি। কিন্তু সঠিক দিকনির্দেশনা আর শিক্ষণীয় কিছু দেখার সুযোগ করে ...
07/05/2026

আমরা অনেকেই মনে করি মোবাইল বা গ্যাজেট মানেই বাচ্চাদের ক্ষতি। কিন্তু সঠিক দিকনির্দেশনা আর শিক্ষণীয় কিছু দেখার সুযোগ করে দিলে, তারা যে কতটা সৃজনশীল হতে পারে তা আজ নিজের চোখেই দেখলাম।

বাসার ছোট সদস্যের আজকের এই সারপ্রাইজ দেখে আমি রীতিমতো অবাক! নিজের মেধাকে কাজে লাগিয়ে সে যেভাবে ফলগুলো ডেকোরেশন করেছে আর জুস বানিয়েছে, তা সত্যিই আমার কল্পনার বাইরে ছিল।

প্রথম ছবিতে: কমলার খোসাকে বাটির মতো বানিয়ে তাতে চিনি-মিশ্রিত পানি, আর উপরে সামান্য লবণের ছিটায়ে খোসা ছাড়া অর্ধেক কমলা পরিবেশন। সাথে ডেকোরেশনের জন্য বাদামের ব্যবহার—সব মিলিয়ে এক দারুণ প্রচেষ্টা!

দ্বিতীয় ছবিতে: স্লাইস করা কমলা দিয়ে বানানো রিফ্রেশিং জুস। কাঁচের বা গ্লাসের পরিবর্তে নিজের মতো করে ডেকোরেশন করার এই ভাবনাটাই ছিল সবচেয়ে সুন্দর।

আসলে এখনকার প্রত্যেকটি বাচ্চাই অসম্ভব মেধাবী। আমরা যদি সময়ের অজুহাত না দিয়ে ওদের একটু সঠিক পরিচর্যা করি এবং ওদের মেধা বিকাশে সাহায্য করি, তবে ওরা অনেক দূর এগিয়ে যাবে। ছোট হাতের এই অগোছালো কাটিংয়ের মাঝেও যে নিখাদ ভালোবাসা আর মমতা আছে, তা যেকোনো দামী উপহারের চেয়েও মূল্যবান।

মাশাআল্লাহ, প্রতিটি ঘরে ঘরে এভাবেই শিশুদের প্রতিভা বিকশিত হোক। ❤️

গল্পের নাম : #শান্তির_সন্ধানেভাবনায় ও লেখনীতে: রাবেয়া রীমা এক দেশে এক খুব ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর আলিশান প্রাসাদ, দামী...
06/05/2026

গল্পের নাম : #শান্তির_সন্ধানে
ভাবনায় ও লেখনীতে: রাবেয়া রীমা

এক দেশে এক খুব ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর আলিশান প্রাসাদ, দামী গাড়ি আর অগাধ সম্পদ ছিল। কিন্তু রাতের বেলা তাঁর চোখে ঘুম আসত না। মনের ভেতর সারাক্ষণ অস্থিরতা কাজ করত—কীভাবে সম্পদ আরও বাড়ানো যায়, কীভাবে প্রতিযোগিতায় জেতা যায়।

একদিন শান্তির খোঁজে তিনি এক পাহাড়ের চূড়ায় থাকা এক বৃদ্ধ সাধুর কাছে গেলেন। ব্যবসায়ী বললেন, "হে মহাত্মা, আমার সব আছে, কিন্তু মনে শান্তি নেই। আমি অনেক টাকা খরচ করতে রাজি, আমাকে শুধু মনের শান্তি এনে দিন।"

সাধু হেসে বললেন, "শান্তি তো কেনা যায় না বাপু। তবে তুমি যদি আগামীকাল ভোরে আমার সাথে গ্রামে চলো, হয়তো উত্তর পেয়ে যাবে।"

পরদিন ভোরে তারা এক অতি দরিদ্র কৃষকের কুঁড়েঘরের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। কৃষক আর তার স্ত্রী মিলে বাসি রুটি আর সামান্য লবণ দিয়ে সকালের নাস্তা করছিলেন। তাদের পরনে ছিঁড়া কাপড়, ঘরে আসবাব বলতে প্রায় কিছুই নেই। কিন্তু তারা একে অপরের সাথে হাসিমুখে কথা বলছিলেন। তাদের চোখে-মুখে এক অদ্ভুত তৃপ্তি আর প্রশান্তি খেলা করছিল।

কৃষকটি সাধুকে দেখে ছুটে এসে সালাম জানাল এবং বিনীতভাবে বলল, "বাবা, আমাদের এই সামান্য খাবারে কি ভাগ বসাবেন? আজ অনেকদিন পর আমরা পেট ভরে খেতে পারছি, মনটা খুব শান্তিতে ভরে আছে।"

ব্যবসায়ী অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। তিনি ভাবলেন, "আমার ঘরে রোজ রাজকীয় ভোজ হয়, অথচ আমি কোনোদিন এভাবে হাসতে পারিনি।"

সাধু ব্যবসায়ীর দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললেন:

"দেখলে তো? শান্তি বাইরের কোনো বস্তুতে নেই। শান্তি হলো একটি মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা। যতক্ষণ তোমার মন 'আরো চাই' বলে হাহাকার করবে, ততক্ষণ তুমি অশান্তিতে থাকবে। আর যেদিন যা আছে তা নিয়েই শুকরিয়া জানাতে শিখবে, সেদিনই দেখবে শান্তি তোমার দরজায় কড়া নাড়ছে।"

ব্যবসায়ী সেদিন বুঝতে পারলেন, আত্মিক শান্তি কোনো সাফল্যের চূড়ায় নয়, বরং তৃপ্তি ও কৃতজ্ঞতার গভীরে লুকিয়ে থাকে।

গল্পের মূল কথা: মানুষের আত্মিক শান্তি বা মনের শান্তি আসলে সম্পদের প্রাচুর্যে নয়, বরং মনের সন্তুষ্টিতে বিরাজ করে।

(এই লেখাটি আমার অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও কপি বা পেস্ট করা নিষেধ। তবে চাইলে সরাসরি শেয়ার করতে পারেন।)

গল্প:  #অন্তরের_অমৃতশহরের যান্ত্রিকতা ছেড়ে নীলু যখন গ্রামে ফিরেছিল, ভেবেছিল ডাহুকের ডাক আর মেঠো পথের শান্তিতে বুক ভরে নি...
04/05/2026

গল্প: #অন্তরের_অমৃত

শহরের যান্ত্রিকতা ছেড়ে নীলু যখন গ্রামে ফিরেছিল, ভেবেছিল ডাহুকের ডাক আর মেঠো পথের শান্তিতে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেবে। কিন্তু দিন কয়েক যেতেই তার ভুল ভাঙল। দেখল, শহরের ধোঁয়া যেমন ফুসফুসে বিষ ছড়ায়, গ্রামের কিছু মানুষের বিষাক্ত কথা তেমনি মনের শান্তি কেড়ে নেয়।

রাস্তার মোড়ে দাঁড়ানো একদল লোকের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নীলু শুনতে পেল ফিসফাস। সামান্য একটা কথাকে টেনেহিঁচড়ে তারা এমন এক জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে, যার সাথে সত্যের কোনো লেনদেন নেই। সে ভাবল, "মানুষ তো এখন কথাকে সহজভাবে নেয় না; বরং কথাকে গড়ে-পিটে অন্যের দিকে ছুড়ে মারার অস্ত্র বানায়।"

এক বিকেলে নীলু নদীর পাড়ে বসে ভাবছিল—আমরা কি আসলেই মানুষ? বনের পশুদের বিবেক নেই, তারা শিকার করে পেটের দায়ে। কিন্তু আমরা তো বুদ্ধিমান। অথচ আমাদের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্যকে খোঁচা মারা, গীবত করা, আর গালমন্দ করে নিজেকে বড় প্রমাণ করা।

তার ভাবনায় ছেদ পড়ল পাশের বাড়ির বৃদ্ধ করিম চাচার গলার আওয়াজে। চাচা তার নাতিকে বকা দিচ্ছেন, কারণ ছেলেটি পাশের বাড়ির এক অসহায় মানুষের বাগান থেকে না বলে ফল পেড়েছে। নীলু খেয়াল করল, এখনকার যুগে মানুষের আবেগ বা নিরুপায় অবস্থা বোঝার সময় কারো নেই। সবাই ছুটছে শর্টকাটে বড় হওয়ার নেশায়। কার থেকে কী লুট করা যায়, কাকে নিঃস্ব করে উপরে ওঠা যায়—এই ইঁদুর দৌড়েই সবাই ব্যস্ত।

নীলুর হঠাৎ মনে হলো, "মানুষের এই ধোঁকাবাজির ভিড়ে সঠিক মানুষ চেনা যেন খড়ের গাদায় সুঁই খোঁজা।"

কিন্তু সন্ধ্যার ঠিক আগে সে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখল। গ্রামের এক নিঃস্ব বিধবা নারীর ঘরের চাল উড়ে গেছে ঝড়ে। ঠিক সেই মুহূর্তেই গ্রামের তথাকথিত 'বড় মানুষ'রা যখন সমালোচনা করতে ব্যস্ত, তখন শান্ত স্বভাবের এক যুবক নিঃশব্দে নিজের জমানো কাঠ আর টিন নিয়ে হাজির হলো ঘরটি ঠিক করতে। তার কোনো প্রচার নেই, কোনো উচ্চবাচ্য নেই।

নীলু হাসল। সে বুঝল, চারদিকে যত বিশৃঙ্খলা আর কটুক্তিই থাকুক না কেন, এই পৃথিবীতে এখনো কিছু মানুষ নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে জানে। হয়তো এই মুষ্টিমেয় ভালো মানুষের কল্যাণেই আজও সূর্য ওঠে, পৃথিবীটা এখনো টিকে আছে।

ভাবনায় ও লেখনীতে : রাবেয়া রীমা
🚫কপি না করে শেয়ার করুন। অনুমতি ছাড়া অন্য পেজে নিজের নামে পোস্ট করবেন না। 🙏

গল্পের নাম:  #মায়ার_আয়নাভাবনার ও লেখনিতে :রাবেয়া রীমাপুরানো মহল্লার সেই পরিচিত গলিটা দিয়ে হাঁটলে আজও অণুর নাকে ভাজা তালে...
03/05/2026

গল্পের নাম: #মায়ার_আয়না
ভাবনার ও লেখনিতে :রাবেয়া রীমা

পুরানো মহল্লার সেই পরিচিত গলিটা দিয়ে হাঁটলে আজও অণুর নাকে ভাজা তালের পিঠা কিংবা রোদে দেওয়া আচারের ঘ্রাণ লাগে। কিন্তু সেই ঘ্রাণের সাথে মিশে থাকা মানুষগুলো যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। অণু এই গলির প্রতিটি ধূলিকণাকে চেনে। তার মনে আছে, ছোটবেলায় সে যখন জুমার নামাজের পর বাড়ির সামনে খেলত, তখন বড় আব্বা তাকে কোলে তুলে দোয়া করে দিতেন। আর পাশের বাড়ির হালিমা ফুপি ছিলেন তার সব আবদারের জায়গা।

অণু বড় হয়েছে, পড়াশোনা শেষ করেছে, সংসারী হয়েছে। কিন্তু তার মনের সেই ছোট্ট জানালাটা আজও খোলা। সে আজও বিশ্বাস করে, মায়া কোনোদিন পুরনো হয় না। কিন্তু বাস্তবতার রুক্ষতা তাকে বারবার থমকে দাঁড় করায়।

সেদিন অনেকদিন পর হালিমা ফুপির সাথে দেখা। অণু হালিমা ফুপির হাতের সেই ডাল-ভাত আর ভর্তার স্বাদ আজও ভুলতে পারেনি। শৈশবে মা যখন শাসন করত, অণু দৌড়ে গিয়ে ফুপির আঁচলের নিচে লুকাত। অথচ সেই ফুপি আজ তাকে দেখে এক অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকালেন। সেই চাহনিতে না ছিল চেনার আনন্দ, না ছিল পরম মমতায় বুকে টেনে নেওয়ার আকুতি।

অণু কদমবুসি করার জন্য নিচু হতেই ফুপি যেন একটু অস্বস্তি নিয়ে সরে দাঁড়ালেন। কুশল বিনিময়ের সময় ফুপির প্রশ্নগুলো ছিল যান্ত্রিক— "এখন কী করো? বেতন কত? বাড়ি কোথায় নিয়েছ?"

অণুর বুকের ভেতরটা যেন এক নিমিষেই খালি হয়ে গেল। সে বুঝতে পারল, বড় হওয়ার সাথে সাথে মানুষের সম্পর্কের চশমাটা বদলে যায়। ছোটবেলার সেই 'নিঃস্বার্থ ভালোবাসা' এখন 'স্বার্থের ওজনে' মাপা হয়। মানুষ এখন মায়া দিয়ে নয়, বরং সামাজিক মর্যাদা আর লাভ-ক্ষতির হিসেব দিয়ে মানুষকে চেনে।

অণু একা একা বাড়ি ফেরার পথে ভাবছিল—সবাই বদলে গেল, শুধু সে-ই কি তবে সেই অতীতে পড়ে রইল? শৈশবের সেই সহজ-সরল মানুষগুলো আজ কেন অদ্ভুত সব আড়াল আর মুখোশ পরে নিয়েছে?

আসলে সময়ের কোনো দোষ নেই। সময় শুধু আমাদের সামনে আয়না ধরে। সমস্যা আমাদের মানসিকতার। বড় হওয়ার সাথে সাথে আমরা 'মায়া' নামক অমূল্য সম্পদটা বিসর্জন দিয়ে 'স্বার্থ' নামক এক মরীচিকার পেছনে ছুটি। অণু বুঝতে পারল, সে পরিবর্তন হয়নি বলেই তার কষ্টটা বেশি। কিন্তু পরক্ষণেই তার মনে হলো, এই স্বার্থপর পৃথিবীতে অন্তত একজন তো আছে যে আজও মায়াটাকে মনে রেখেছে।

🚫অনুমতি ছাড়া এই লেখাটি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা হুবহু কপি-পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন। শেয়ার করার সময় লেখিকার নাম পরিবর্তন করবেন না।

গল্পের নাম:  #অজেয়_পথচলাভাবনায় ও লেখনীতে: রাবেয়া রীমাব্যস্ত এই যান্ত্রিক শহরের হাজারো মানুষের ভিড়ে বাস করত মায়া নামের ...
28/04/2026

গল্পের নাম: #অজেয়_পথচলা
ভাবনায় ও লেখনীতে: রাবেয়া রীমা

ব্যস্ত এই যান্ত্রিক শহরের হাজারো মানুষের ভিড়ে বাস করত মায়া নামের এক সাধারণ মেয়ে। শহরের ইট-পাথরের দেয়ালের মতো তার জীবনটাও ছিল একসময় চারপাশের মানুষের ওপর নির্ভরশীল। মায়া বিশ্বাস করত তার চারপাশের মানুষগুলোই তার আসল শক্তি। একটা সময় ছিল যখন তার প্রতিটি ছোট-বড় প্রয়োজনে অনেকেই পাশে দাঁড়াত, সহমর্মিতা দেখাত। মায়া তাদের সেই সান্নিধ্য আর সাহায্যের ওপর ভরসা করেই নিজের দিনগুলো সাজিয়েছিল।

কিন্তু সময় যত গড়াতে লাগল, মায়া এক অদ্ভুত বাস্তবতা দেখতে পেল। যাদের সে তার পরম আশ্রয় ভেবেছিল, তারা সময়ের স্রোতে একে একে দূরে সরে যেতে লাগল। কেউ পরিস্থিতির অজুহাতে, কেউ বা অবহেলায়। মায়া দেখল, শহরে মানুষের ভিড় থাকলেও দিনশেষে সবাই আসলে নিজের পথেই একা। যখন সেই চেনা মানুষেরা আস্তে আস্তে সরে গেল, মায়া এক বিশাল শূন্যতায় পড়ে গেল।

কিন্তু সেই শূন্যতাই তাকে এক চরম সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করালো—এই পৃথিবীতে নিঃস্বার্থ এবং চিরস্থায়ী ভরসার জায়গা কেবল একজন, তিনি আল্লাহ। মানুষের দেওয়া দুঃখ-কষ্ট আর একাকীত্ব তাকে ভেঙে চুরমার করার বদলে উল্টো তার মনের শক্তিকে পাহাড়ের মতো কঠিন করে তুলল। মায়া উপলব্ধি করল, নারীরা অতি আবেগী হয়ে যখন কারো ওপর একবার নির্ভর করে ফেলে, তখন সেই নির্ভরশীলতা ছুটে গেলে পথ চলা অসম্ভব কঠিন হয়ে পড়ে।

তাই সে আর কারো ওপর ভরসা না করে সজ্ঞানে একলা চলার পথ বেছে নিল। সে এখন নিজের মনের কথা শোনে, নিজের বিবেক যা সায় দেয় সেভাবেই চলে। যদিও সে এখনও বড় কোনো কাজে নিজেকে পুরোপুরি নিয়োজিত করেনি, কিন্তু তার প্রতিটি দিন কাটছে নিজেকে প্রস্তুত করার লড়াকু প্রচেষ্টায়। তার প্রতিটি সকাল শুরু হয় রবের ওপর এক অটল বিশ্বাস নিয়ে।

মায়া মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে, এই যে সে সব দুঃখকে সঙ্গী করে ধৈর্য ধরে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে একলা পথে হাঁটছে, তার এই সংগ্রামের সুফল আল্লাহ তাকে অবশ্যই দেবেন। সে বিশ্বাস করে, মানুষের দুয়ারে না গিয়ে আল্লাহর দুয়ারে পড়ে থাকলে তিনি কখনও কাউকে খালি হাতে ফেরান না। নিজের মনের এই দৃঢ়তা আর রবের ওপর অগাধ নির্ভরতাই এখন মায়ার জীবনকে করে তুলেছে শান্ত, সুন্দর এবং সত্যিকারের মহিমান্বিত। এই ব্যস্ত শহরে সে এখন নিজেই নিজের পথের দিশারী।

🚫 কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ:
এই গল্পটি আমার ব্যক্তিগত উপলব্ধি এবং সৃজনশীল মেধা থেকে লেখা। আমার অনুমতি ব্যতিত এই গল্পের লেখা, ভাবনা বা কোনো অংশ কপি করে অন্য কোথাও ব্যবহার করা বা নিজের নামে প্রচার করা আইনত এবং নৈতিকভাবে নিষিদ্ধ। অন্যের সৃজনশীলতাকে সম্মান করুন।

গল্পের নাম:  #সীমানার_আকাশনীলার ঘরভর্তি ছিল শুধু নীল রঙের ছড়াছড়ি। ছোটবেলা থেকেই সে জানালা ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকত। ত...
27/04/2026

গল্পের নাম: #সীমানার_আকাশ

নীলার ঘরভর্তি ছিল শুধু নীল রঙের ছড়াছড়ি। ছোটবেলা থেকেই সে জানালা ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকত। তার স্বপ্নগুলো ছিল যাযাবর মেঘের মতো—কখনও সে পাহাড় ডিঙাতে চাইত, কখনও চাইত সাত সমুদ্রের ওপারের কোনো অচেনা শহরে নিজের পরিচয় গড়তে। সবাই বলত, "মেয়েটার পা মাটিতে পড়ে না, সবসময় আকাশ ছোঁয়ার কথা ভাবে।"

কিন্তু বিয়ের পর বদলে গেল চেনা মানচিত্রটা। যার হাত ধরে সে বিশাল এক নীল দিগন্তের স্বপ্ন দেখেছিল, সেই মানুষটিই একদিন খুব সন্তর্পণে তার চারপাশটা ছোট করে আনল। বিশাল মেঘের বদলে নীলার ভাগ্যে জুটল ড্রয়িংরুমের চার দেয়ালের সীমাবদ্ধতা। তার পড়াশোনা, তার ক্যারিয়ার, তার নিজের মতো করে বাঁচার ইচ্ছেগুলো একটা অদৃশ্য গণ্ডির ভেতর আটকে গেল।

একদিন বিকেলে বারান্দার এক চিলতে রোদ এসে পড়ল নীলার মুখে। সামনে বসা মানুষটি তাকে খুব গর্ব করে বলছিল, "দেখো, তোমার জন্য আমি শহরতলীর এই ছোট্ট ফ্ল্যাটটা সাজিয়েছি। এখন থেকে এটাই তোমার পৃথিবী। বেশি দূরে যাওয়ার কী দরকার? সব তো হাতের কাছেই আছে।"

নীলা হাসল, কিন্তু সে হাসিতে কোনো উজ্জ্বলতা ছিল না। সে ভাবছিল, যে হাত আকাশ ছোঁয়ার জন্য বাড়িয়েছিল, সেই হাত এখন ঘর মোছার কাজে ব্যস্ত। সে মানুষটির চোখের দিকে তাকিয়ে মনে মনে আওড়ালো:

"স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়ার, বিশাল মেঘের গায়,

কেউ একজনা গণ্ডি টেনে আটকে দিল আমায়।

আকাশটাকে ছোট করে আনলে হাতের কাছে,

বলতে পারো, এর জবাব কি তোমার কাছে আছে?"

উত্তর হলো না, কারণ মানুষটি সে নীলার মনের নীরব হাহাকারটা শুনতেই পায়নি। নীলা বুঝল, কিছু সীমাবদ্ধতার কোনো জবাব হয় না, শুধু দীর্ঘশ্বাস হয়ে জমে থাকে।

স্বত্ব ও লেখনী: রীমা
(অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ)

Address

Demra

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Rima's dairy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share