06/09/2026
বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে ডকুমেন্টারি তৈরি করায় সাগর - রুনিকে হত্যা করে জিয়াউল - প্রাচী
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডে সেনাবাহিনীর বরখাস্ত মেজর খুনি জিয়াউল আহসান এবং লীগের দালাল অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর মধ্যে ফোনে কথোপকথন এবং পরে দুটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস সংগ্রহ ও হস্তান্তরের
হত্যার আগে তৈরি হচ্ছিল ডকুমেন্টারি
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে হত্যার আগে মাছরাঙা টেলিভিশনের তৎকালীন বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করছিলেন। ডকুমেন্টারিটি প্রকাশের আগেই পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় তাঁদের হত্যা করা হয়।
তদন্ত ও অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা দৈনিক আমার দেশের বরাতে জানিয়েছেন, কয়েকটি গুমের ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারির আগে ও পরে র্যাবের তৎকালীন গোয়েন্দা প্রধান জিয়াউল আহসান অভিনেত্রী ও রোকেয়া প্রাচীর সঙ্গে ২০ বারের বেশি ফোনে কথা বলেছেন।
ওই কথোপকথনের সূত্র ধরে অনুসন্ধান করতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সাগর–রুনি হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর জিয়াউল আহসান তাঁর একজন বিশ্বস্ত সহকারীকে রোকেয়া প্রাচীর কাছে পাঠিয়েছিলেন। সে সময় রোকেয়া প্রাচী ওই সহকারীর কাছে দুটি ডিভাইস দিয়েছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওই দুটি ডিভাইসে পিলখানার বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে তৈরি করা ডকুমেন্টারির তথ্য ছিল। সাগর ও রুনিকে হত্যার পর তাঁদের ব্যবহৃত ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ কয়েকটি ডিভাইস খোয়া যায়। ফোনালাপ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত সংস্থা জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর মধ্যে ডিভাইস আদান-প্রদানের বিষয়টি জানতে পেরেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন দল জিয়াউল আহসানের ওই সহকারীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন বলে ট্রাইব্যুনালের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
আগামীকাল কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, সন্দেহভাজনদের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁরা জানতে পেরেছেন, তৎকালীন র্যাবের গোয়েন্দা প্রধানের দলে দায়িত্ব পালনকারী একজন ব্যক্তিকে হত্যাকাণ্ডের আগের দিন বলা হয়েছিল, “আগামীকাল কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে।” প্রয়োজন হলে তাঁকে ভোরে উপস্থিত থাকার জন্যও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল। এর পরদিনই সাগর–রুনি হত্যাকাণ্ড ঘটে।
তিনি বলেন, ওই দলে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউল আহসানের কাছ থেকে জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সার্ভারে দীর্ঘ সময়ের অসংখ্য তথ্য পাওয়া গেছে। কিছু ফাইল মুছে ফেলা হলেও সেগুলোর একটি অংশ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। আবার কিছু তথ্য ও নথি আগে থেকেই মুদ্রিত অবস্থায় ছিল। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত সংস্থা সাগর–রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে তিন থেকে চারজনকে চিহ্নিত করেছে। তাঁদের বিষয়ে আরও যাচাই-বাছাই চলছে।
জব্দ করা ডিভাইস ও তথ্য সাগর–রুনি হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের হাতে গেলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।