26/09/2025
ইঞ্জিনিয়ার ইজাবউদ্দিন আহমেদ:
১৯১৯ সালের ২২ মে, বাংলা ১৩২৬ সালের ৮ জ্যৈষ্ঠ ইঞ্জিনিয়ার ইজাবউদ্দিন আহমেদ বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মহিষমারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯২৯ সালে চড়তা মিডল ইংলিশ স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৯৩৫ সালে ঠাকুরগাঁও হাইস্কুলে এবং পরে কলকাতা পার্ক সার্কাস স্কুলে ভর্তি হন। পার্ক সার্কাস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক ও কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এস.সি পাশ করেন। শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ সেকেন্ড ক্লাস পেয়ে পাস করেন। অসম্ভব মেধাবী ছিলেন তিনি। প্রখর স্মরণশক্তি ছিল তাঁর। প্রতিটি পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছেন। কলকাতার শিক্ষাজীবন সম্পর্কে তাঁর রচিত ‘আমার জীবন’ গ্রন্থে বলেছেন-‘কলকাতা যাওয়ার সুযোগ না হলে আর যাই হোক আমার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার সুযোগ হতো না। জীবনেও প্রতিষ্ঠিত হতে পারতাম না। তৎকালে কলকাতাই ছিল শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রুচি গড়ে উঠবার প্রাণকেন্দ্র।
আই.এস.সি পরীক্ষার পর হাইস্কুলে মাস্টারি করেছিলেন। ইঞ্জিনিয়ারিং পাসের পর ‘অল ইন্ডিয়া পেটেন্ট এন্ড ডিজাইনস’ অফিসে চাকরি করেন। পরবর্তীতে রেলওয়ে বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে মধ্য প্রদেশের রায়পুর এবং ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোর, কোয়েটা ও ইরানের মিরজাওয়ায় চাকরি করেন। ১৯৫০ সালে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রামে বদলি হয়ে আসেন। তখন তাঁর দুচোখে ভিন্ন কিছু করার স্বপ্ন। দেশ ও জাতির জন্য বড়কিছু করার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সাধারণ মানুষের সোনার হরিণের চাকরি ছেড়ে দেন। ইঞ্জিনিয়ার ইজাবউদ্দিন আহমেদ ১৯৬৩-১৯৬৪ সালে রাজশাহী ও কুষ্টিয়া সুগার মিল নির্মাণ কাজের সুযোগ পান। তিনিই প্রথম বাঙালি যিনি সুগার মিলের মত বৃহৎ শিল্প কারখানা নির্মাণ কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরেছিলেন। এধরনের বড় ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ অবাঙালিদের জন্য এককভাবে নির্ধারিত ছিল। ব্যবসা বাণিজ্য চাকরি এবং শিল্পকারখানায় বাঙালিদেরকে কোণঠাসা করে রেখেছিল তারা। পশ্চিম পাকিস্তানিরা সবকিছুতেই প্রাধান্য বিস্তার করেছিল। এরকম এক বিরূপ পরিবেশে ১৯৬৪ সালে ‘ন্যাশনাল জুট মিল’ নামে একটি বৃহৎ জুট মিল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন ইঞ্জিনিয়ার ইজাবউদ্দিন আহমেদ। দু’শ বিঘার উপর প্রতিষ্ঠিত জুট মিলটি ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝিতে চালু হয়। প্রথম বছরেই মিলটি লাভ করে।১৯৫৯ সালে, প্রয়াত প্রকৌশলী এজাবুদ্দিন আহমেদ "ন্যাশনাল কনস্ট্রাকশন কোম্পানি" (বর্তমানে বন্ধ) নামে একটি কোম্পানি শুরু করেন। তার নির্মাণ কোম্প