Discover with Mainul

Discover with Mainul To unlock the universe & explore the cosmic wonders: Only on 'Discover with Mainul'
(1)

আজকের কসমিক ধাঁধা। কমেন্টে ধাঁধার উত্তর দিন।   #মহাকাশ
19/08/2026

আজকের কসমিক ধাঁধা। কমেন্টে ধাঁধার উত্তর দিন।

#মহাকাশ

আমরা কি আসলেই ত্রিমাত্রিক? স্টিফেন হকিং-এর ফাইনাল থিউরি ও হলোগ্রাফিক মহাবিশ্ব। ২০১৮ সালের ১৪ই মার্চ, বিশ্ব হারালো অন্যতম...
19/08/2026

আমরা কি আসলেই ত্রিমাত্রিক? স্টিফেন হকিং-এর ফাইনাল থিউরি ও হলোগ্রাফিক মহাবিশ্ব।

২০১৮ সালের ১৪ই মার্চ, বিশ্ব হারালো অন্যতম সেরা জ্যোতির্বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংকে। কিন্তু মৃত্যুর মাত্র দশ দিন আগে তিনি বিশ্বকে উপহার দিয়ে গেলেন এমন এক থিউরি, যা মহাবিশ্বের ধারণাটাই চিরতরে পাল্টে দিতে পারে। পদার্থবিজ্ঞানী টমাস হার্টগ এর সাথে শেষ গবেষণাপত্রটির মূল সারমর্ম হলো: আমাদের এই বিশাল মহাবিশ্ব হয়তো ত্রিমাত্রিক (3D) নয়, বরং একটি দ্বিমাত্রিক (2D) হলোগ্রামের অভিক্ষেপ মাত্র!
​এই চমকপ্রদ 'হোলোগ্রাফিক' দৃষ্টিভঙ্গিই মাল্টিভার্সের মতো এক অসীম ধারণাকে এনে দিয়েছে বিজ্ঞানের পরীক্ষামূলক সীমানায়।

​কেন হলোগ্রামের ধারণা?
​সাধারণত আমরা হলোগ্রাম বলতে বুঝি এমন একটি দ্বিমাত্রিক ছবি, যা থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে একটি ত্রিমাত্রিক বস্তুর ইমেজ তৈরি করে। হকিং ও হার্টগ-এর তত্ত্বে এই একই ধারণা প্রয়োগ করা হয়েছে মহাবিশ্বের ক্ষেত্রে।
কিন্তু ​ধারণাটি এলো কোথায় থেকে? এই 'হোলোগ্রাফিক নীতি' আসলে এসেছে স্ট্রিং থিওরি থেকে, যা আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদ এবং কোয়ান্টাম বলবিদ্যাকে একসূত্রে গাঁথার চেষ্টা করে।

হকিং ও হার্টগ-এর থিউরি অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের সব তথ্য বা ইনফরমেশন সেই অঞ্চলের ভেতরের আয়তনে (Volume) নয়, বরং তার বাইরের সীমানা বা পৃষ্ঠে (Boundary/Surface) এনকোড করা থাকে। ঠিক যেমন ব্ল্যাক হোল-এর ক্ষেত্রে, তার সমস্ত তথ্য ইভেন্ট হরাইজন নামক দ্বিমাত্রিক পৃষ্ঠে জমা থাকে।
​হকিং-হার্টগ তাঁরা এই নীতি ব্যবহার করে দেখান যে, বিগব্যাং থেকে শুরু করে আমাদের এই মহাবিশ্বের সম্পূর্ণ ইতিহাস হয়তো এর সীমানায়, অর্থাৎ সৃষ্টির একেবারে প্রথম মুহূর্তের এক 'সময়হীন' (Timeless) দশায় এনকোড করা আছে। সহজ করে বললে, আমাদের এই 3D মহাবিশ্ব আসলে তার 2D সীমানার একটি গাণিতিক অভিক্ষেপ মাত্র !

​'Eternal Inflation' তত্ত্ব অনুযায়ী, বিগ ব্যাং-এর পর মহাবিশ্ব যখন দ্রুত প্রসারিত হচ্ছিল, তখন অসংখ্য Bubble Universes সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে বিভিন্ন মহাবিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন ভৌত সূত্র (Laws of Physics) থাকতে পারে। এই তত্ত্ব ভিত্তি তৈরি করেছিল 'অসীম মাল্টিভার্স' (Infinite Multiverse) -এর ধারণার।

​এই তত্ত্ব অনুযায়ী যদি মহাবিশ্বের সংখ্যা অসীম হয়, তবে সেখানে যেকোনো অদ্ভুত ঘটনা ঘটাই সম্ভব। আর যেখানে সবকিছুই ঘটা সম্ভব, সেখানে বিজ্ঞান দিয়ে কোনো কিছুর সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া বা পরীক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, যা বিজ্ঞানীদের জন্য এক বড় সংকট ছিল। এই জটিল সমস্যার সমাধানে হকিং এবং হার্টগ তাঁদের হোলোগ্রাফিক পদ্ধতি ব্যবহার করে দেখান যে, মাল্টিভার্স আসলে অসীম বা অনিয়ন্ত্রিত নয়, বরং এর একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে; ফলে অন্য সমান্তরাল মহাবিশ্বগুলো আমাদের পরিচিত মহাবিশ্ব থেকে একদম অদ্ভুত বা সম্পূর্ণ আলাদা নয়, বরং সেগুলোর ভৌত নিয়ম ও প্রকৃতি আমাদের মহাবিশ্বের মতোই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, যা মাল্টিভার্সকে বিজ্ঞানের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার আওতায় নিয়ে আসে।

​এই তত্ত্বের সবচেয়ে বড় দিক হলো, এটি মাল্টিভার্সের মতো একটি ধারণাকে শুধুমাত্র তাত্ত্বিক আলোচনার স্তরে না রেখে, এটিকে পরীক্ষামূলক পর্যবেক্ষণের পথ বাতলে দিয়েছে। হকিং ও হার্টগ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, যদি সত্যিই আমাদের মহাবিশ্বের সাথে অন্য কোনো মহাবিশ্বের মিথস্ক্রিয়া ঘটে থাকে, তবে তার 'স্বাক্ষর' (Signature) রয়ে গেছে মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড (CMB) বিকিরণে। এটি হলো বিগ ব্যাং-এর "প্রতিধ্বনি"। তাই বলা যায়, ​CMB-এর তাপমাত্রার প্যাটার্ন বা বিন্যাসে যদি বিশেষ কোনো অস্বাভাবিকতা বা অসংগতি (Anomalies) ধরা পড়ে, যা অন্য কোনো মহাবিশ্বের মাধ্যাকর্ষণের টান বা ধাক্কার ফল হতে পারে, তবে তা হবে মাল্টিভার্সের প্রত্যক্ষ প্রমাণের দিকে প্রথম ধাপ।

​স্টিফেন হকিং-এর এই ফাইনাল থিউরিটি তাই শুধু মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্বের একটি ব্যাখ্যা নয়, এটি হলো এক আমূল বৈপ্লবিক দৃষ্টিভঙ্গি যা মহাবিশ্বকে একটি অতিকায় হলোগ্রাম হিসেবে কল্পনা করতে শেখায়। আর এই হলোগ্রামের 'কোড' যদি আমরা ভেদ করতে পারি, তবে একদিন হয়তো আমরাও এই মহাবিশ্বের সীমানা পেরিয়ে তাকিয়ে দেখতে পারবো সেই সমান্তরাল মহাবিশ্বের (Parallel Universes) অভূতপূর্ব দৃশ্য!

*** এই বিষয়ে জানতে কমেন্টে তথ্যসূত্র হিসেবে শেয়ারকৃত তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং এবং থমাস হার্টগ এর "A Smooth Exit from Eternal Inflation?" শীর্ষক মূল গবেষণাপত্রটি পড়ুন।

Physics Term of the Day (19/08/2026)
19/08/2026

Physics Term of the Day (19/08/2026)

নির্দিষ্ট ক্ষেত্রফল কিন্তু অসীম সীমানা! গণিতের সবচেয়ে অদ্ভুত প্যারাডক্স। আমাদের চোখের সামনের সাধারণ পৃথিবীতে যেকোনো নির...
18/08/2026

নির্দিষ্ট ক্ষেত্রফল কিন্তু অসীম সীমানা! গণিতের সবচেয়ে অদ্ভুত প্যারাডক্স।

আমাদের চোখের সামনের সাধারণ পৃথিবীতে যেকোনো নির্দিষ্ট আকারের জায়গার চারপাশের সীমানাও নির্দিষ্ট হয়। যেমন একটি বর্গাকার ঘরের ক্ষেত্রফল নির্দিষ্ট হলে তার চারপাশের দেয়ালের সীমানা বা পরিধি একটা নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের হয়। কিন্তু এমন কিছু অদ্ভুত আকৃতি আছে, যাদের ভেতরের জায়গা বা ক্ষেত্রফল খুবই সামান্য এবং নির্দিষ্ট, অথচ তাদের চারপাশের সীমানা বা পরিধি মাপতে গেলে তা অসীম পর্যন্ত চলে যায়!

এই অদ্ভুত জ্যামিতিক ধারণার জন্ম হয় ১৯০৪ সালে, যখন সুইডিশ গণিতবিদ হেলগে ভন কক একটি বিশেষ আকৃতি উদ্ভাবন করেন, যা "কক স্নোফ্লেক" বা 'ককের তুষারকণা' নামে পরিচিত। সত্তরের দশকে গণিতবিদ বেনোয়েট ম্যানডেলব্রট এই ধরনের জটিল রূপগুলোর নাম দেন ফ্র্যাক্টাল জ্যামিতি।

কক স্নোফ্লেক তৈরি করার নিয়মটি বেশ সুনির্দিষ্ট। প্রথমে একটি সমবাহু ত্রিভুজ দিয়ে শুরু হয়। এরপর সেই ত্রিভুজের প্রতিটি সোজা বাহুকে সমান তিন ভাগে ভাগ করে তিন ভাগের মাঝের অংশকে বাহু ধরে বাইরের দিকে একটি নতুন সমবাহু ত্রিভুজ আঁকা হয় এবং অত:পর মাঝের ঐই বাহুটি মুছে দেয়া হয়। এই একই নিয়ম বা প্রক্রিয়া যখন অসীম সংখ্যক বার পুনরাবৃত্তি করা হয়, তখন মূল ত্রিভুজটির সীমানায় অসংখ্য ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ত্রিভুজের ভাঁজ তৈরি হয়ে এটি একটি তুষারকণার রূপ নেয়। (পোস্টের ছবিটি দেখুন)

কক স্নোফ্লেকের পেছনে থাকা গাণিতিক হিসাবটি খুবই চমকপ্রদ। চলুন দুটি লজিকে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করি:

১. সীমানা কেন অসীম হয়?
প্রতিবার নতুন করে ছোট ছোট ত্রিভুজ বসানোর ফলে বাইরের দেয়াল বা সীমানাটি আগের চেয়ে ১.৩৩ গুণ বড় হয়ে যায়। এভাবে বারবার সীমানা বাড়তে থাকলে, অসীম সংখ্যক বার শেষে পুরো সীমানার দৈর্ঘ্যও অসীম হয়ে দাঁড়ায়।

২. ভেতরের জায়গা বা ক্ষেত্রফল কেন নির্দিষ্ট থাকে?
প্রতি ধাপে নতুন যে ত্রিভুজগুলো যুক্ত হয়, সেগুলোর আকার খুবই দ্রুত ছোট হতে থাকে। প্রথম ধাপে যেটুকু ক্ষেত্রফল বাড়ে, পরের ধাপে বাড়ে তার চেয়ে অনেক কম জায়গা বা ক্ষেত্রফল। এভাবে একটু একটু করে জায়গা বাড়তে বাড়তে একসময় আর নতুন কোনো জায়গা যুক্তই হতে পারে না।
গাণিতিক হিসাবে দেখা যায়, অসীম সংখ্যক বার ত্রিভুজ বসানোর পরও পুরো তুষারকণাটির মোট জায়গা মূল ত্রিভুজের চেয়ে মাত্র ১.৬ গুণ বড় হয়ে স্থির হয়ে যায়। অর্থাৎ, এর চারপাশের দেয়াল/সীমানা অসীম লম্বা হলেও ভেতরের ক্ষেত্রফল/জায়গাটি একেবারেই নির্দিষ্ট থাকে।

পরিশেষে বলা যায়, বাস্তব জগতের সবকিছু যেহেতু পরমাণু দিয়ে তৈরি, তাই বাস্তবে কোনো বস্তুর সীমানাকে অসীম পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে আমাদের ফুসফুসের বাতাস চলাচলের আঁকাবাঁকা পথ কিংবা মানচিত্রের জটিল সমুদ্র সৈকতে এই অদ্ভুত জ্যামিতির প্রভাব ছড়িয়ে আছে। কক স্নোফ্লেক এর মতো গাণিতিক আকৃতিগুলো আমাদের একটি চমৎকার সত্য শেখায়: অনন্ত অসীমকে ধারণ করার জন্য বিশাল কোনো জায়গার প্রয়োজন নেই, ছোট্ট একটি গণ্ডির ভেতরেও অসীমতা লুকিয়ে থাকতে পারে।

*** এই বিষয়ে অধিকতর জানতে কমেন্টে শেয়ারকৃত তথ্যসূত্র পড়ুন।

#গনিত #জ্যামিতি

১৩.৮ বিলিয়ন বছরের মহাবিশ্বের যাত্রা: বিগ ব্যাং থেকে বর্তমান মহাবিশ্ব!আজ থেকে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগের কথা। তখন ছিল ...
18/08/2026

১৩.৮ বিলিয়ন বছরের মহাবিশ্বের যাত্রা: বিগ ব্যাং থেকে বর্তমান মহাবিশ্ব!

আজ থেকে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগের কথা। তখন ছিল না কোনো স্থান, ছিল না সময়ের অস্তিত্ব, এমনকি অন্ধকারের জন্য শূন্যতাও নয়। এক পরম রহস্যময় অসীম ঘনত্বের বিন্দু সিংগুলারিটি থেকে এক নিমেষে উন্মোচিত হলো স্থান, কাল আর মহাজাগতিক পদার্থের মূল ক্যানভাস। বিগ ব্যাং কোনো মহাশূন্যের বুকে সাধারণ বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ছিল না, বরং এর মধ্য দিয়ে শূন্য স্থান নিজেই জন্ম নিয়ে প্রসারিত হতে শুরু করেছিল। এটাই আমাদের মহাজাগতিক অস্তিত্বের প্রথম স্পন্দন।

জন্মলগ্নের এক সেকেন্ডের অতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশে, ১০^(- ৩৬) থেকে ১০^(-৩২) সেকেন্ডের মধ্যে, নবজাতক মহাবিশ্ব এক অকল্পনীয় দ্রুত গতিতে প্রসারিত হয়, যাকে বলা হয় কসমিক ইনফ্লেশন বা মহাজাগতিক স্ফীতি। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুসারে, শূন্যস্থানের মধ্য দিয়ে কোনো বস্তু বা তথ্য আলোর চেয়ে দ্রুত চলতে পারে না। তবে স্ফীতির সময় কোনো বস্তু ছোটেনি, বরং শূন্যস্থান নিজেই স্থানিকভাবে প্রসারিত হয়েছিল, তাই এটি পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম লঙ্ঘন করে নাই। স্ফীতি থামার পর মহাবিশ্ব কিছুটা শীতল হয় এবং বিশুদ্ধ শক্তি থেকে প্রোটন, নিউট্রন ও ইলেকট্রনের মতো আদিম মৌলিক কণা তৈরি হতে শুরু করে। বিগ ব্যাং-এর মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় এই কণাগুলো যুক্ত হয়ে গঠিত হয় প্রথম পারমাণবিক নিউক্লিয়াস, যা মূলত হাইড্রোজেন এবং হেলিয়াম।

প্রথম ৩৮০,০০০ বছর মহাবিশ্ব ছিল এক ঘন, উত্তপ্ত প্লাজমার কুয়াশার মতো। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ছড়ানো মুক্ত ইলেকট্রনগুলো আলোর কণা বা ফটোনকে বারবার বাধা দিচ্ছিল, ফলে আলো মুক্তভাবে চলাচল করতে পারছিল না। ৩৮০,০০০ বছর পর মহাবিশ্ব যখন যথেষ্ট শীতল হলো, প্রায় ৩,০০০ কেলভিন, তখন প্রোটন ও ইলেকট্রন প্রথমবারের মতো একত্রে যুক্ত হয়ে নিরপেক্ষ পরমাণু গঠন করে, যাকে পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় 'রিকম্বিনেশন' বলা হয়। এর ঠিক পরপরই ইলেকট্রনগুলো পরমাণুর ভেতরে আটকে যাওয়ায় আলো প্রথমবারের মতো পদার্থ থেকে বিচ্ছিন্ন ও মুক্ত হয়ে মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, যাকে বলা হয় ফটোনের ডিকাপলিং। সৃষ্টির সেই আদিম আলো আজও সমগ্র মহাবিশ্বে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা আমরা কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে দেখতে পাই। এটি আমাদের মহাবিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো শৈশবের ছবি।

সৃষ্টির প্রথম আলো ছড়িয়ে পড়ার পর মহাবিশ্বে শুরু হয় এক দীর্ঘ আঁধার পর্ব, যাকে কসমিক ডার্ক এজেস বা মহাজাগতিক অন্ধকার যুগ বলা হয়। কারণ তখনো কোনো তারা বা নক্ষত্র তৈরি না হওয়ায় চারপাশ ছিল একদম আলোহীন। ​বিগ ব্যাং-এর প্রায় ১০ থেকে ৪০ কোটি বছর পর মহাকর্ষের টানে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস একত্রিত হয়ে জন্ম নেয় মহাবিশ্বের প্রথম প্রজন্মের বিশাল সব তারা। এই তারাগুলো থেকে তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি চারপাশের হাইড্রোজেন গ্যাসে আঘাত হানে। এতে হাইড্রোজেনের পরমাণুগুলো ভেঙে গিয়ে আবার প্রোটন ও ইলেকট্রন আলাদা হয়ে যায়, যাকে বলা হয় পুনঃআয়নায়ন বা রিয়ায়োনাইজেশন।

​ প্রশ্ন জাগতে পারে, ইলেকট্রন আলাদা হয়ে গেলে মহাবিশ্ব কি আবার আগের মতো অন্ধকার বা কুয়াশচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ার কথা ছিল না? উত্তর হলো - না। কারণ ততদিনে মহাবিশ্ব প্রসারিত হয়ে এতটাই বিশাল হয়ে গিয়েছিল যে, গ্যাসগুলো অনেক হালকা হয়ে পড়ে। ফলে মুক্ত ইলেকট্রনগুলো আর আলোকে আটকে রাখতে পারেনি। আলো খুব সহজেই পুরো মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং সমস্ত অন্ধকার দূর করে মহাবিশ্বকে স্থায়ীভাবে স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান করে তোলে।

এবার আসা যাক আমাদের সৌরজগতের জন্ম লগ্নের দিকে। মহাবিশ্বের বয়স যখন প্রায় ৯.২ বিলিয়ন বছর, অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় ৪.৫৭ বিলিয়ন বছর আগে, তখন এক প্রাচীন নক্ষত্রের সুপারনোভা বিস্ফোরণের ধূলিমেঘ ও গ্যাস ঘনীভূত হয়ে আমাদের সূর্য এবং একে ঘিরে পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহের সৃষ্টির মধ্য দিয়ে সৌরজগতের জন্ম হয়।

বিগ ব্যাং-এর পর প্রথম ৯০০ কোটি বছর পদার্থের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে মহাবিশ্বের প্রসারণের গতি ধীর হচ্ছিল। কিন্তু আজ থেকে প্রায় ৬০০ কোটি বছর আগে ডার্ক এনার্জির ঘনত্ব পদার্থের ঘনত্বকে ছাড়িয়ে যায় এবং আজ থেকে প্রায় ৫০০ কোটি বছর আগে থেকে এটি স্থানকে ত্বরান্বিত গতিতে ঠেলে প্রসারিত করতে শুরু করে। ১৯৯৮ সালে দূরবর্তী সুপারনোভা পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন যে, মহাবিশ্ব কেবল প্রসারিতই হচ্ছে না, বরং এর প্রসারণের গতি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ত্বরান্বিত প্রসারণের নেপথ্যে থাকা শক্তিকে ডার্ক এনার্জি বলা হয়, যা বর্তমানে মহাবিশ্বের মোট কাঠামোর প্রায় ৬৮ শতাংশ দখল করে আছে।

স্থান আর কালের এই অনন্ত মহাসমুদ্রে বিগ ব্যাং ছিল কেবল প্রথম তরঙ্গের সৃষ্টি। সেই তরঙ্গে ভেসে ভেসে কত নক্ষত্রের জন্ম হলো, কত গ্যালাক্সি বিলীন হলো - তারই এক অলৌকিক ধারায় আজ এই নীল গ্রহে আমাদের উপস্থিতি। মহাবিশ্বের ১৩৮০ কোটি বছরের এই সুদীর্ঘ ইতিহাসের দিকে তাকালে অনুধাবন করা যায়, মানবজীবন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি অনন্তযাত্রার অপূর্ব সুরঙ্গীত। নক্ষত্রের আলোয় রচিত আমাদের এই গল্প অচেনা ভবিষ্যতের পানে বইতেই থাকবে অবিরামভাবে।

*** এই বিষয়ে অধিকতর জানতে কমেন্ট শেয়ারকৃত তথ্যসূত্র পড়ুন।

NASA's Hubble Space Telescope #মহাবিশ্ব #বিগব্যাং

বাটারফ্লাই নীহারিকা: এক অপরূপ মহাজাগতিক সৃষ্টি ! মহাবিশ্বের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন সৃষ্টি হলো বাটারফ্লাই নীহারিকা (NGC 6302)...
18/08/2026

বাটারফ্লাই নীহারিকা: এক অপরূপ মহাজাগতিক সৃষ্টি !

মহাবিশ্বের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন সৃষ্টি হলো বাটারফ্লাই নীহারিকা (NGC 6302), যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৩,৪০০ আলোকবর্ষ দূরে বৃশ্চিক নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত। এটি মূলত একটি দ্বিমেরু গ্রহীয় নীহারিকা, যা একটি মৃতপ্রায় তারকার গ্যাসীয় স্তরের বিস্ফোরণের ফলে তৈরি হয়েছে। এর "ডানাগুলো" দেখতে সুন্দর হলেও তা ২০,০০০°C তাপমাত্রার উত্তপ্ত গ্যাসের ঝড়, যা ৩ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত। এর কেন্দ্রে রয়েছে ছায়াপথের অন্যতম উষ্ণতম তারা, যার পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২,৫০,০০০°C-এরও বেশি। তারাটি একটি ঘন, ধূলিকণার বলয় দ্বারা আড়াল হয়ে আছে, যা গ্যাসকে দুই বিপরীত দিকে ঠেলে দিয়ে প্রজাপতির মতো আকার দিয়েছে। এটি মহাকাশে একটি তারকার ধ্বংস এবং শৈল্পিক সৃষ্টিশীলতার এক বিরল উদাহরণ।

Image Credit: NASA - National Aeronautics and Space Administration, NASA's Hubble Space Telescope

#মহাকাশ

Physics Term of the Day (18/08/2026)
18/08/2026

Physics Term of the Day (18/08/2026)

ভিরিয়াল থিওরেম: যে সমীকরণ আমাদের 'ডার্ক ম্যাটারে'র সন্ধান দিয়েছিল!ভিরিয়াল থিওরেম হলো মহাজাগতিক বস্তুর ভর মাপার এক গাণিতি...
17/08/2026

ভিরিয়াল থিওরেম: যে সমীকরণ আমাদের 'ডার্ক ম্যাটারে'র সন্ধান দিয়েছিল!

ভিরিয়াল থিওরেম হলো মহাজাগতিক বস্তুর ভর মাপার এক গাণিতিক দাঁড়িপাল্লা, যা অদৃশ্য রহস্যময় বস্তুর অস্তিত্ব উন্মোচন করে। ১৯৩০-এর দশকে সুইস জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফ্রিৎস জুইকি এই সমীকরণটি ব্যবহার করে কোমা ক্লাস্টার নামক এক বিশাল গ্যালাক্সি ক্লাস্টারের ভর গণনা করতে গিয়ে চমকে যান। তিনি লক্ষ্য করেন যে, ক্লাস্টারের ভেতরের গ্যালাক্সিগুলোর গতিবেগ এতটাই বেশি যে দৃশ্যমান পদার্থের মহাকর্ষ বল দিয়ে তাদের আটকে রাখা অসম্ভব।

ভিরিয়াল থিওরেম অনুযায়ী, একটি স্থিতিশীল সিস্টেমে গ্যালাক্সিগুলোর গড় গতিশক্তি তাদের মোট মহাকর্ষীয় বিভব শক্তির পরম মানের ঠিক অর্ধেক হওয়ার কথা। জুইকি যখন এই গাণিতিক হিসাব মেলাতে গেলেন তখন দেখলেন যে, সেখানে পর্যাপ্ত দৃশ্যমান বস্তু নেই যা গ্যালাক্সিগুলোকে ছিটকে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে। এই সমীকরণ থেকে প্রাপ্ত শক্তির হিসাবে বিপুল গরমিল দেখেই তিনি প্রথম ডার্ক ম্যাটার এর অস্তিত্বের বৈজ্ঞানিক ধারণা দেন।

জুইকি প্রমাণ করেন যে, মহাকাশে এমন কিছু বিশাল ভরের বস্তু আছে যা আলো ছড়ায় না কিন্তু প্রবল মহাকর্ষীয় প্রভাব বজায় রাখে। বর্তমান জ্যোতির্বিজ্ঞানেও এই সমীকরণটি কোনো মহাজাগতিক সিস্টেমের স্থিতিশীলতা এবং মোট ভর নির্ণয়ে প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিজ্ঞানের এই সরল সমীকরণটিই আমাদের প্রথম জানিয়েছিল যে, মহাবিশ্বের সিংহভাগ অংশই আমাদের দৃষ্টির আড়ালে রয়ে গেছে। এটি শুধু একটি গাণিতিক নিয়ম নয় বরং মহাবিশ্বের ভারসাম্য রক্ষার এক অলংঙ্ঘনীয় প্রাকৃতিক বিধান।

#মহাকাশ

৪০ কুইন্টিলিয়ন অদৃশ্য দানব! পুরো মহাবিশ্ব কি তবে ব্ল্যাক হোলের দখলে?রাতের আকাশে তাকালে আমরা যেসব মিটিমিটি নক্ষত্রের মেলা...
17/08/2026

৪০ কুইন্টিলিয়ন অদৃশ্য দানব! পুরো মহাবিশ্ব কি তবে ব্ল্যাক হোলের দখলে?

রাতের আকাশে তাকালে আমরা যেসব মিটিমিটি নক্ষত্রের মেলা দেখি, তার আড়ালে কি এক বিশাল অদৃশ্য দানবদের সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে? সম্প্রতি আন্তর্জাতিক দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে উঠে এসেছে এমনই এক চমকপ্রদ সত্য। ইতালির গবেষণা প্রতিষ্ঠান SISSA এর গবেষক আলেক্স সিসিলিয়া (Alex Sicilia) এবং অধ্যাপক আলেক্সিস লাপির (Alexis Lapi) যৌথ নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক একদল জ্যোতিঃপদার্থবিদ আধুনিক কম্পিউটেশনাল মডেল ব্যবহার করে দৃশ্যমান মহাবিশ্বের ব্ল্যাক হোলের মোট সংখ্যা হিসাব করেছেন। তাঁদের সেই গাণিতিক গণনা অনুযায়ী, আমাদের দৃশ্যমান মহাবিশ্বে লুকিয়ে আছে প্রায় ৪০ কুইন্টিলিয়ন স্টেলার মাস ব্ল্যাক হোল, যা অংকে লিখতে গেলে ৪ এর পর ১৯টি শূন্য বসাতে হয়!

গবেষণায় মহাবিশ্বের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত কত বিশাল ভরের নক্ষত্র জন্মগ্রহণ করেছে, কীভাবে তারা বিবর্তিত হয়েছে এবং কীভাবে সুপারনোভা বিস্ফোরণের পর ধ্বংস হয়ে ব্ল্যাক হোলে পরিণত হয়েছে, এসব তথ্য মিলিয়ে তৈরি একটি বিশেষ অ্যালগরিদম ব্যবহার করে এই অনন্য গাণিতিক মডেল তৈরি করা হয়। আমাদের দৃশ্যমান মহাবিশ্বের সব স্বাভাবিক পদার্থের প্রায় ১ শতাংশ বর্তমানে এই দানবীয় ব্ল্যাক হোলগুলোর ইভেন্ট হরাইজনের ভেতরে বন্দি হয়ে আছে। এগুলো মূলত স্টেলার মাস ব্ল্যাক হোল, যা একটি একক নক্ষত্রের জীবনাবসানে নিজস্ব প্রকাণ্ড মহাকর্ষের চাপে সংকুচিত হয়ে তৈরি হয় এবং এদের ভর সাধারণত সূর্যের ভরের তুলনায় কয়েক গুণ থেকে প্রায় ১০০ গুণ পর্যন্ত বড় হতে পারে।

তাহলে কি পুরো মহাবিশ্ব ধীরে ধীরে ব্ল্যাক হোলের পেটে চলে যাচ্ছে? উত্তর হলো - না। সংখ্যায় ৪০ কুইন্টিলিয়ন শুনতে বিশাল মনে হলেও, সুবিশাল মহাবিশ্বের আয়তনের তুলনায় এরা বেশ দূরে দূরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
তবে এরা কিন্তু চুপচাপ বসে থাকে না। যখন দুটি ব্ল্যাক হোল জোড় বেঁধে পরস্পরের চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে একসময় মিশে এক হয়ে যায়, তখন মহাকাশে স্পেস-টাইম ফেব্রিকে এক শক্তিশালী কম্পন তৈরি হয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় মহাকর্ষীয় তরঙ্গ, যা আমরা পৃথিবীতে বসে লিগো এবং ভারগো যন্ত্রের সাহায্যে শনাক্ত করতে পারি।

তাছাড়া গ্যালাক্সিগুলোর কেন্দ্রে থাকা কোটি কোটি সূর্যের সমান বিশাল সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলগুলো কীভাবে এত বড় হলো? তার একটি অন্যতম বড় কারণ হলো এই ছোট ছোট স্টেলার-মাস ব্ল্যাক হোলগুলোর একের পর এক একীভূত হওয়া।

তাই মহাবিশ্ব এখনই পুরোপুরি ব্ল্যাক হোলের দখলে চলে যাচ্ছে না। তবে খালি চোখে আমরা রাতের আকাশে যা দেখি, তার চেয়ে অনেক বেশি পদার্থ নিঃশব্দে আটকে আছে এই অদৃশ্য গহ্বরগুলোর গভীরে।

*** এই বিষয়ে গভীরভাবে জানতে কমেন্টে তথ্যসূত্র হিসেবে শেয়ারকৃত গবেষক আলেক্স সিসিলিয়া এবং অধ্যাপক আলেক্সিস লাপির যৌথ নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক গবেষকদলের গবেষণার মূল গবেষণাপত্র পড়ুন।

#মহাকাশ #মহাবিশ্ব

Address

Dhaka
1207

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Discover with Mainul posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share