15/09/2026
🌸 একটি খাতা, একটি অচেনা জীবন
পর্ব–৪: একটি পরিচয়, একটি নতুন আশা
রহিম কিছুক্ষণ কথা বলতে পারল না।
তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটিই নুসরাত।
যাকে সে এতদিন শুধু একটি খাতার পাতায় চিনেছিল।
রহিম ধীরে ধীরে খাতাটি তার হাতে তুলে দিল।
নুসরাত খাতাটা বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরল।
চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল।
সে বলল—
“আমি ভেবেছিলাম খাতাটা আর কখনো ফিরে পাব না।”
রহিম বলল—
“আপনার লেখা পড়ে মনে হলো, খাতাটা শুধু আপনার নয়। আপনার স্বপ্নও এর মধ্যে আছে।”
নুসরাত মৃদু হেসে বলল—
“স্বপ্ন তো অনেকেই দেখে। কিন্তু আমার স্বপ্নের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষ কোথায়?”
রহিম কোনো উত্তর দিল না।
কারণ সে নিজেও জানত—তার নিজের জীবনেও তো স্বপ্ন আছে।
কিন্তু সেদিন থেকে দুজনের মধ্যে একটা অদ্ভুত বন্ধুত্ব তৈরি হলো।
রহিম নুসরাতের মায়ের চিকিৎসার জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করতে শুরু করল।
আর নুসরাত রহিমকে বলল—
“তুমি নিজের স্বপ্নটা কেন ছেড়ে দিয়েছ?”
রহিম বলল—
“সংসারের দায়িত্ব আছে।”
নুসরাত বলল—
“দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্বপ্নকে মেরে ফেলতে নেই।”
কথাটা রহিমের মনে গেঁথে গেল।
সে আবার পড়াশোনা শুরু করল।
দিনে কাজ, রাতে পড়াশোনা।
নুসরাতও নিজের পড়াশোনা চালিয়ে গেল।
দুজনেই জানত—তাদের পথ সহজ নয়।
কয়েক মাস পর নুসরাতের পরীক্ষার ফি দেওয়ার সময় এলো।
কিন্তু টাকা জোগাড় হয়নি।
পরীক্ষার মাত্র তিন দিন বাকি।
নুসরাত হতাশ হয়ে বলল—
“মনে হয় এবার আমার স্বপ্নটা এখানেই শেষ।”
রহিম কিছু বলল না।
পরদিন সকালে সে নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটি বিক্রি করে দিল।
আর সেই টাকা দিয়ে নুসরাতের পরীক্ষার ফি জমা দিল।
নুসরাত যখন বিষয়টি জানতে পারল, তখন তার চোখে পানি।
সে শুধু বলল—
“তুমি জানো না, তুমি আমার জীবনটা বদলে দিলে।”
কিন্তু রহিম জানত না—
এই ছোট্ট কাজটির প্রতিদান সে বহু বছর পর এমনভাবে পাবে, যা সে কখনো কল্পনাও করেনি।
চলবে… #গল্প