08/08/2026
আজ আমি একজন কৃষক হিসেবে আমার কষ্টের কথা বলছি।
আজ সকাল ৮টায় সরকারি ডিলারের কাছে সার নিতে গিয়েছিলাম। সকাল থেকে অপেক্ষা করতে করতে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকেও মাত্র ১ বস্তা টিএসপি ও ২ বস্তা পটাশ সার পেলাম। অথচ আমি ২০ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপণ করেছি।
এখন প্রশ্ন হলো - মাত্র এই তিন বস্তা সার দিয়ে কি ২০ বিঘা জমির চাষাবাদ সম্ভব?
দিনভর অপেক্ষা করে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে সন্ধ্যায় বাজারে একটি কীটনাশকের দোকানে যেতে হলো। সেখানে যে টিএসপি সার সরকারি ডিলারের কাছে ১,৩৫০ টাকায় পাওয়ার কথা, সেটিই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ১,৮৮০ টাকায় কিনতে বাধ্য হলাম।
তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে-
একজন কৃষক যদি সোনার বাংলার জন্য সোনালি ধান ফলাতে গিয়ে সামান্য সারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা হয়রানির শিকার হন, তাহলে তিনি কীভাবে কৃষিকাজ করবেন?
সরকারি কৃষি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কি এসব বিষয়ে কোনো নজরদারি নেই? যদি থাকে, তাহলে এই সিন্ডিকেট কীভাবে প্রকাশ্যে কৃষকদের জিম্মি করে রাখে?
যে দেশে কৃষকের ন্যায্য অধিকার ও সম্মানের মূল্য নেই, যে দেশে কৃষককে ন্যায্য মূল্যে সার পেতেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়, সেই দেশ কীভাবে টেকসই উন্নয়নের চূড়ায় পৌঁছাবে?
কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এখনই সময়ের দাবি।