30/07/2026
দোয়া কবুলের গল্প
পাওয়ারফুল আমল ইস্তেগফার
এক সময় আমার জীবন একেবারে ভেঙে পড়েছিল। এমনও দিন ছিল, যখন আমার খাওয়ার মতো কিছুই থাকত না। ক্ষুধার যন্ত্রণা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, সহ্য করতে না পেরে দুই-একবার বাজার থেকে খাবার চুরি করেছিলাম (আল্লাহ আমার এই গুনাহগুলো যেন মাফ করে দেন)।
না ছিল কোনো চাকরি, না টাকা, আর আশার আলো বলতে কিছুই ছিল না।
প্রতিদিন শুধু বেঁচে থাকার লড়াই, আর আমি বুঝতেই পারছিলাম না আমার এই অবস্থা কোনোদিন বদলাবে কি না। তারপর এক জুমার দিনে, খুতবায় ইমাম সাহেব ইস্তেগফারের শক্তি নিয়ে কথা বলছিলেন। তিনি একটা কথা বলেছিলেন, যা আমার ভিতরটা কাঁপিয়ে দিয়েছিল:
“যে ব্যক্তি অন্তর থেকে তওবা করে এবং নিয়মিত ইস্তেগফার করে, আল্লাহ তার জন্য এমন দরজা খুলে দেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।”
এই কথাটা যেন আমার হতাশার জীবনে একটু আশার আলো ছড়িয়ে দিল। সেদিন থেকেই আমি প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর অন্তত ১০ বার করে পড়া শুরু করলাম:
“আস্তাগফিরুল্লাহি ওয়া আতুবু ইলাইহি।”
আমি শুধু মুখে উচ্চারণ করে পড়েছি—এমন না, একদম অন্তরের অন্তস্থল থেকে ইস্তেগফার করেছি। আর আল্লাহর কাছে শুধু কাঁদতে কাঁদতে বলতাম, আল্লাহ যেন আমার এই অবস্থা বদলে দেন। সুবহানআল্লাহ!
অল্প কিছু দিনের মধ্যেই আমার জীবনে পরিবর্তন আসতে শুরু করল। আল্লাহর রহমতকে আমরা কখনোই পুরোপুরি বুঝতে পারি না।
প্রথমে ছোট একটা চাকরি পেলাম, তারপর আরও ভালোটা। কঠোর পরিশ্রম আর আল্লাহর রহমতে টাকা জমিয়ে একটা ছোট দোকান খুললাম। ব্যবসা বাড়তে লাগল,
আর কিছুদিনের মধ্যেই আমি কয়েকটি বাসাও কিনে ফেললাম ভাড়ার জন্য।
যে আমি একদিন একবেলার খাবারের জন্য চোখের পানি ফেলতাম, সে আমিই আজ আল্লাহর রহমতে একটি স্থির আর সম্মানজনক জীবন যাপন করছি। আর এই সব কিছুর চাবিকাঠি কী?
সত্যিকারের তওবা এবং আল্লাহর ওয়াদার উপর অগাধ ভরসা। আলহামদুলিল্লাহ, সুম্মা আলহামদুলিল্লাহ