09/08/2026
ছোট্ট একটা পুঁটি মাছ। ছিল তার বেজায় রাগ। কাউকে খেলতে নিত না। খাবারের ভাগ দিত না।
থাকত এক পুকুরে। সাঁতরে বেড়াত সারাদিন।
মাঝে মাঝে মাথা তুলত ভুশ করে। দেখত, পুকুরে কেউ এলো কি না।
একদিন এলো একটা ব্যাঙ। সবুজ রঙা ব্যাঙ। ব্যাঙটা হাসিমুখে বলল, ‘চলো, খেলি। একসাথে সাঁতার কাটি।’
পুঁটি মাছ চোখ গরম করে তাকাল। বলল, ‘আমি একা একা খেলি! কাউকে নিই না। আমার সাথে কেউ খেলতে পারবে না।’
বেজায় অবাক হলো ব্যাঙটা। তবু নরম গলায় বলল, ‘এত রাগ ভালো না বন্ধু। যাও না, শুয়ে থাকো পানির নিচে। আর বলো—আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজীম। তাহলে মন ঠান্ডা হবে।”
এই কথা শুনে পুঁটি মাছ গেল আরও রেগে। পানিতে ছপাছপ আওয়াজ তুলে চিৎকার করল, ‘আমাকে শেখাতে এসেছ? আমি কাউকে মানি না!”
ব্যাঙটা চুপ করে গেল। ভাবল, কথা বাড়িয়ে কী লাভ! সময় হলে ঠিক বুঝবে৷
ঠিক তখনই...
পানির ওপর ছায়া পড়ল।
একটা মাছরাঙা পাখি! ঠোঁট নামিয়ে দিল পুঁটি মাছের দিকে। মাছটা সে চিবিয়ে খাবে কচকচ!
পুঁটি মাছ কাঁপতে লাগল ভয়ে। চিৎকার করারও সময় পেল না।
হঠাৎ...
ব্যাঙটা দিলো জোরে লাফ। অনেক অনেক জোরে। তাই না পানিতে শব্দ হলো ঝপ ঝপাত!
মাছরাঙা আতংকে সরে গেল খানিক। ব্যাঙটা আবার লাফ দিল, আরও জোরে! অনেক অনেক জোরে! এবার মাছরাঙা উড়ে পালালো! পুঁটি মাছ তখন কাঁপতে কাঁপতে বলল, ‘তুমি আমাকে বাঁচালে?’
ব্যাঙটা শান্ত গলায় বলল, ‘আল্লাহ বাঁচিয়েছেন। আমি চেষ্টা করেছি মাত্র। তবে কি জানো? রাগ করলে বন্ধু থাকে না। আজ আমি ছিলাম। কাল হয়তো কেউ থাকবে না।’
পুঁটি মাছ মাথা নিচু করল। তার চোখে পানি।
সে ধীরে ধীরে বলল, ‘আমি ভুল করেছি। রাগ করা ঠিক না।’
সেদিন থেকে রাগ উঠলেই পুঁটি মাছ পানির নিচে চলে যেত। শুয়ে থাকত চুপচাপ। আর বলত, আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজীম। সেদিন থেকেই পুঁটি মাছটা সবার সাথে খেলত। খাবার ভাগ করে খেত।
তাই পুকুরটাও হয়ে উঠল আরও সুন্দর, আরও শান্ত।