Zaitun Post

Zaitun Post মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও সংঘাত বিশ্লেষণ | ফিলিস্তিন | লেবানন | সিরিয়া | ইরান | ইরাক | ইয়েমেন

ইসরায়েল তার জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত ১৫ টি যুদ্ধে প্রায় ২০ হাজারবার যুদ্ধ বিরতি লঙ্ঘন করেছে, আর এই যুদ্ধ বিরতি লঙ্ঘন পরবর্তী...
12/07/2026

ইসরায়েল তার জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত ১৫ টি যুদ্ধে প্রায় ২০ হাজারবার যুদ্ধ বিরতি লঙ্ঘন করেছে, আর এই যুদ্ধ বিরতি লঙ্ঘন পরবর্তী সময়ে ১৩ হাজার মানুষ মারা গেছেন।

সামরিক কৌশলে ‘অস্ত্রবিরতি’ বা শান্তিচুক্তি মূলত স্থায়ী শান্তির প্রাথমিক ধাপ হলেও, ইসরায়েলি সামরিক ডকট্রিনে এটি কখনোই শান্তির পথ নয়; বরং এটি রসদ পুনর্বিন্যাস, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং পরবর্তী আক্রমণের জন্য শক্তি সঞ্চয় করার একটি সাময়িক ‘কৌশলগত বিরতি’ (Tactical Pause) মাত্র।

১৯৪৮ সালের নাকবা থেকে শুরু করে চলমান সংঘাত পর্যন্ত—কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতা ছাড়াই চুক্তির শর্ত ভেঙে বারবার আক্রমণ চালানো তাদের এক স্থায়ী চরিত্রে পরিণত হয়েছে।

জাতিসংঘ ও রেড ক্রিসেন্টের আট দশকের ডেটা সাক্ষী দিচ্ছে, খাতা-কলমে চুক্তি স্বাক্ষর করে ময়দানে তা লঙ্ঘন করা তাদের এক ধারাবাহিক অভ্যাস। ১৯৪৮ সালের প্রথম অস্ত্রবিরতির পর থেকে শুরু করে ১৯৬৭ ও ১৯৭৩ সালের যুদ্ধের পরও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের রিপোর্টে ইসরায়েল কর্তৃক বারবার স্পষ্ট চুক্তি লঙ্ঘনের প্রমাণ মেলে। আর ২০০০ সালের দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সময় বিভিন্ন সমঝোতা ও বিরতির আবহে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারান ৩,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি।

ইসরায়েলের এই চুক্তি লঙ্ঘনের সবচেয়ে ঐতিহাসিক ও নির্মম ভিকটিম হলো লেবানন। ১৯৮২ সালের যুদ্ধে অস্ত্রবিরতি কার্যকরের পরও ইসরায়েলি বাহিনী চুক্তি ভেঙে সাবরা ও শাতিলা শরণার্থী শিবিরে নজিরবিহীন গণহত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। এই ভয়াবহ গণহত্যার তদন্তে ইসরায়েলের নিজের কমিশনই তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সরাসরি দায়ী করেছিল। অথচ তার কোনো শাস্তি তো হয়নিই, বরং তিনি পরবর্তীতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হন! পরবর্তীতে ২০০৬ সালের যুদ্ধে জাতিসংঘ রেজুলেশন ১৭০১ পাশ এবং যুদ্ধবিরতি হওয়ার পরও ইসরায়েল অন্তত ৩০টিরও বেশি সরাসরি আক্রমণ চালায়, যেখানে ১,২০০-এর বেশি মানুষ নিহত হন। আজও সেই রেজুলেশনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তাদের ড্রোন ও যুদ্ধবিমান লেবাননের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে প্রতিদিন গুপ্তহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।

অবরুদ্ধ গাজার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের এই চরিত্র আরও বেশি নিষ্ঠুর ও ভয়ংকর। ২০০৮ থেকে শুরু করে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রতিটি যুদ্ধের পরিসংখ্যানই বলছে—আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তারা যখনই অস্ত্রবিরতি মেনে নিয়েছে, ঠিক কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের মাথায় একতরফাভাবে তা ভেঙে দিয়েছে।

চলমান সংঘাতেও সাময়িক মানবিক বিরতির সময় ইসরায়েল অন্তত ৬০ বার বিরতির শর্ত ভেঙে গুলি ও গোলাবর্ষণ করেছে। ‘মানবিক বিরতি’র প্রতিশ্রুতি দিয়ে ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে না দেওয়া, ক্ষুধার্ত মানুষকে ত্রাণের লাইনে দাঁড় করিয়ে হত্যা করা এবং নিরাপদ অঞ্চল (Safe Zone) ঘোষণা করে সেখানে বোমা ফেলা—সবই প্রমাণ করে যে, গাজায় তাদের ঘোষিত যেকোনো বিরতি মূলত সাধারণ মানুষের জন্য একটি সুপরিকল্পিত ফাঁদ।

দশকের পর দশক ধরে কোনো আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতা বা শাস্তি ছাড়াই এই অপরাধ চালিয়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে পশ্চিমা পরাশক্তির কূটনৈতিক বর্ম। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যখনই ইসরায়েলের এই লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বারবার ‘ভেটো’ দিয়ে তাদের সুরক্ষা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের সুস্পষ্ট মানদণ্ড কিংবা পশ্চিমা বিশ্বশক্তির মধ্যস্থতা—এতসব ভারী শব্দের পরও আট দশকের পরিসংখ্যান কেবল একটি রূঢ় সত্যই তুলে ধরে। ইসরায়েলের অভিধানে ‘অস্ত্রবিরতি’ বলে কোনো স্থায়ী শব্দ নেই; এটি তাদের কাছে কেবল যুদ্ধপ্রস্তুতির একটি সাময়িক কৌশলমাত্র। অতএব, ইতিহাস ও বর্তমানের বাস্তব ডেটা এই সাক্ষ্যই দেয় যে—এই শক্তির সাথে যেকোনো ধরনের চুক্তি বা সমঝোতা কোনো শান্তির পথ নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ধোঁকা এবং নিরীহ মানুষের জন্য এক অনিবার্য মৃত্যুফাঁদ।

তথ্যসূত্র:
1. UN OCHA & UNICEF - Humanitarian Situation Reports
2. United Nations Interim Force in Lebanon (UNIFIL) Data
3. United Nations Archives & Historical Records (1948–1973)
4. Palestinian & Lebanese Ministries of Health (Official Reports)
5. Palestine & Lebanese Red Crescent Societies
6. International Human Rights Watch (HRW) & Amnesty International Reports

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীর সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত জানাজা অনুষ্ঠানে ৪ কোটির বেশি মানু...
07/07/2026

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীর সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত জানাজা অনুষ্ঠানে ৪ কোটির বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করবে বলে ধরা হচ্ছে। তাঁর জানাজা অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে তেহরান শহরেই অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ইতোমধ্যেই ২ কোটিরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। আজ জানাজার কার্যক্রম অব্যাহত ছিল ইরানের পবিত্র শিক্ষানগরী ক্বোমে, যেখানে প্রায় ১ কোটি শোকাহত মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। এরপর এটি ইরাকে পৌঁছাবে, যেখানে উপস্থিতি ১ কোটি ৩০ লাখ অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে মাশহাদে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আরও ১ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

এই অবিশ্বাস্য সংখ্যাগুলো কেবল তখনই স্পষ্ট হবে, যখন আমরা একে পশ্চিমা বিশ্বের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বিদায়যাত্রার সাথে তুলনা করব। আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিহত প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির শেষকৃত্যে রাষ্ট্রীয় শোক ও চার দিন ধরে সমস্ত টেলিভিশনে বিরতিহীন প্রচারণার পরও কফিন দেখতে এসেছিলেন মাত্র আড়াই লাখ মানুষ—যা তৎকালীন ১৯ কোটি মার্কিন জনসংখ্যার মাত্র ০.১৩ শতাংশ। আর আব্রাহাম লিঙ্কনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ দুই মাস ধরে ট্রেনে করে ১,৬০০ মাইল পথ ঘুরিয়ে পুরো আমেরিকার স্টেটে স্টেটে প্রচারণা চালানোর পর মোট ১০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটেছিল। যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের দেখতে মাসের পর মাস চষে বেড়িয়েও কয়েক লাখ মানুষের দেখা মেলে, সেখানে ইরানের রাস্তায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার আহ্বানে জড়ো হচ্ছে কোটি কোটি মানুষ।

জনসংখ্যার অনুপাতে এই সমাবেশের বিশালত্ব পৃথিবীর যেকোনো ভূ-রাজনৈতিক ইতিহাসেই নজিরবিহীন। ১৯৮৯ সালে যখন ইমাম রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজা হয়, তখন ইরানের মোট জনসংখ্যা ছিল মাত্র ৫ কোটি; অথচ গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্যমতে, কেবল তেহরানেই উপস্থিত হয়েছিল ১ কোটি ২৫ লাখ মানুষ—অর্থাৎ দেশের প্রতি ৪ জন নাগরিকের ১ জন সেদিন রাজপথে নেমেছিলেন। আর বর্তমানে ৯ কোটি জনসংখ্যার ইরানে কেবল একটি শহর তেহরানেই ২ কোটির বেশি মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে, সমগ্র দেশের মোট জনসংখ্যার ২২ শতাংশেরও বেশি মানুষ সশরীরে এক স্থানে একত্রিত হয়েছেন। আধুনিক বিশ্বে কোনো রাষ্ট্রীয় বা ধর্মীয় নেতার ডাকে একটিমাত্র শহরে দেশের এক-চতুর্থাংশ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত গণজোয়ার এক অকল্পনীয় ঘটনা।

এই মহাসমাবেশগুলো কেবল শোক প্রকাশ নয়, বরং পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে করা সাংস্কৃতিক যুদ্ধের অংশ। পশ্চিমা প্রোপাগান্ডা বারবার ইরানি নেতৃত্বকে—'রেজিম', 'জনবিচ্ছিন্ন' ও 'স্বৈরাচারী' হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করে; কিন্তু কাসেম সোলাইমানির মতো সামরিক জেনারেল, ইব্রাহিম রইসির মতো প্রেসিডেন্ট কিংবা ইমাম খোমেনি ও খামেনেয়ীর মতো আধ্যাত্মিক সর্বোচ্চ নেতা— পদবি যাই হোক না কেন, প্রতিটি রেভল্যুশনারি নেতার সাথেই সাধারণ মানুষের এক গভীর আত্মিক ও আদর্শিক সংযোগ রয়েছে। যার প্রমাণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।

দিনশেষে, এই বিশাল জনসমুদ্র ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পলিসি মেকারদের জন্য এক কড়া বার্তা বহন করে। এটি প্রমাণ করে যে, সমস্ত অর্থনৈতিক অবরোধ, সামরিক হুমকি আর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের পরেও ইরানি জাতি তাদের বিপ্লবী আদর্শ এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে আপসহীন। ভূ-রাজনীতির ভাষায়, এই ঐতিহাসিক জানাজাগুলো কোনো সাধারণ শোকসভা নয়; বরং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে গণমানুষের এক অকাট্য, জীবন্ত এবং ঐতিহাসিক 'গণভোট'।

তথ্যসূত্র:
প্রেস টিভি
আল-জাজিরা
আল-মায়েদান
গিনিস বুক ওফ ওয়্যাল্ড
US NATIONAL ARCHIVE
তাসনিম নিউজ
ফার্স নিউজ
আইআরআইবি

#ইরান #আয়াতুল্লাহ_খামেনেয়ী #ঐতিহাসিক_জানাজা #তেহরান #ক্বোম #সাম্রাজ্যবাদ_বিরোধী #ভূরাজনীতি #গণজাগরণ #বিপ্লবী_ইরান

গাজায় প্রতি মাসে গড়ে নিহত হচ্ছেন ১৩ জন সাংবাদিক— সহজ কথায়, প্রতি আড়াই দিনে প্রাণ হারাচ্ছেন অন্তত একজন গণমাধ্যমকর্মী। ২০২...
04/07/2026

গাজায় প্রতি মাসে গড়ে নিহত হচ্ছেন ১৩ জন সাংবাদিক— সহজ কথায়, প্রতি আড়াই দিনে প্রাণ হারাচ্ছেন অন্তত একজন গণমাধ্যমকর্মী। ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও এই মৃত্যুমিছিল থামেনি। ফিলিস্তিনি সূত্রমতে, মাত্র ২০ মাসে সেখানে ২৬০ জনের বেশি গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন, যা আধুনিক ইতিহাসের যেকোনো দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের চেয়ে আনুপাতিক হারে বহুগুণ বেশি।

​অতীতের যুদ্ধের দিকে তাকালে এই ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়। ২২ বছরের ইরাক যুদ্ধে ২৮৫ জন, ১৩ বছরের সিরিয়া যুদ্ধে ১৪০ জন, ৬ বছরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৬৯ জন এবং সাম্প্রতিক ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে মাত্র ১৯ জন সাংবাদিক নিহত হন। অথচ মাত্র ৩৬৫ বর্গকিলোমিটারের ক্ষুদ্র গাজায় দেড় বছরের কিছু বেশি সময়েই নিহতের সংখ্যা সম্পূর্ণ নজিরবিহীন।

​এত বড় মানবতাবিরোধী অপরাধের পরও পশ্চিমা বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা কেবল 'উদ্বেগ প্রকাশ' আর 'নিন্দা জ্ঞাপন'-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ইউক্রেনের মতো জায়গায় তারা তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নিলেও গাজার ক্ষেত্রে এই নীরবতা তাদের চরম দ্বিমুখী নীতিরই প্রকাশ। গাজায় আজ সত্য তুলে ধরার জন্য প্রেস ভেস্ট পরা বা হাতে একটি ক্যামেরা থাকাই যেন প্রাণ কেড়ে নেওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তথ্যসূত্র:
1. Committee to Protect Journalists (CPJ) - Journalist Casualties Report
2. Reporters Without Borders (RSF) - Press Freedom Index & Gaza Reports
3. Palestinian Government Media Office (Gaza)
4. International Federation of Journalists (IFJ)
5. Al Jazeera & Reuters Investigative Reports on Media Fatalities

৭ অক্টোবর, ২০২৩, অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে মুক্তির জন্য এক নতুন ও রক্তাক্ত অধ্যায়ের সূচনা হয়। এরপর থেক...
30/06/2026

৭ অক্টোবর, ২০২৩, অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে মুক্তির জন্য এক নতুন ও রক্তাক্ত অধ্যায়ের সূচনা হয়। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত গাজা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে—হাজার হাজার মানুষ নিহত, লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত, আর বেঁচে থাকার জন্য এক টুকরো রুটি ও বিশুদ্ধ পানির সংগ্রাম আজ নিত্যদিনের বাস্তবতা।

কিন্তু একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক প্রান্তে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র। ৭ অক্টোবর, ২০২৩ থেকে আজ পর্যন্ত সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হয়েছে অন্তত ২৯টি বড় বিনোদন ও ক্রীড়া আয়োজন।

▪️ বক্সিং (৯টি মেগা ইভেন্ট): নিশ্চিত ব্যয় ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি (প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা)।
▪️ WWE (৫টি আয়োজন): ব্যয় প্রায় ৫০ কোটি ডলার।
▪️ ই-স্পোর্টস (১টি বিশ্ব আসর): শুধু পুরস্কার তহবিলেই ৭ কোটি ডলারের বেশি।
▪️ সৌদি প্রো লিগ: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোসহ বিদেশি খেলোয়াড়দের দলে ভেড়াতে ব্যয় হয়েছে ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি। শুধু ২০২৩ সালের গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতেই ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৯৬ কোটি ডলার।

এর পাশাপাশি শাকিরা, পোস্ট ম্যালোন, জেনিফার লোপেজ এবং গানস এন' রোজেসের মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১১টি মেগা কনসার্ট এবং ৩টি সাউন্ডস্টর্ম মিউজিক ফেস্টিভ্যাল। এসব আয়োজনের প্রকৃত ব্যয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে নিশ্চিত হিসাবেই শুধু বক্সিং ও WWE আয়োজনেই ব্যয় হয়েছে ১৫০ কোটি ডলারের বেশি।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী গাজার পুরো জনগোষ্ঠীর জরুরি খাদ্য, চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তার জন্য প্রয়োজন প্রায় ২৮০ কোটি ডলার। অথচ অবরুদ্ধ গাজায় প্রতিদিন প্রয়োজনীয় ত্রাণের মাত্র ২৫ শতাংশ প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।

অর্থাৎ, যেখানে গাজার প্রতিটি তাঁবুতে মানুষ এক টুকরো রুটি, বিশুদ্ধ পানি কিংবা একটি স্যালাইনের জন্য লড়াই করছে, সেখানে কয়েকটি বক্সিং রিং ও রেসলিং মঞ্চের পেছনেই ব্যয় করা হয়েছে ১৫০ কোটি ডলারেরও বেশি।

এই বিপুল ব্যয়কে অনেক বিশ্লেষক কেবল বিনোদন হিসেবে দেখেন না। তাঁদের মতে, এটি সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি "স্পোর্টসওয়াশিং" কৌশলের অংশ—যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের ভাবমূর্তি পুনর্গঠন, বৈশ্বিক প্রভাব বৃদ্ধি এবং পশ্চিমা বিশ্বের কাছে একটি নতুন পরিচয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।

সংখ্যাগুলো শুধু অর্থের হিসাব নয়; এগুলো একই অঞ্চলের দুই ভিন্ন বাস্তবতার নির্মম প্রতিচ্ছবি।

#জাইতুনপোস্ট

নিজেদের চাহিদার মাত্র ২৫% ত্রাণ পাচ্ছে অবরুদ্ধ গাজা। জাতিসংঘের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, গাজাবাসী কার্যত এক ভয়াবহ ...
22/06/2026

নিজেদের চাহিদার মাত্র ২৫% ত্রাণ পাচ্ছে অবরুদ্ধ গাজা। জাতিসংঘের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, গাজাবাসী কার্যত এক ভয়াবহ খাদ্যসংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের মতে, গাজার ন্যূনতম মানবিক চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন অন্তত ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করা প্রয়োজন। কিন্তু ৬১ দিনের (২২ এপ্রিল–২১ জুন, ২০২৬) পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গড়ে প্রতিদিন ঢুকেছে মাত্র ১৫০টি ট্রাক— যা মোট চাহিদার এক-চতুর্থাংশ।

গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম শর্তগুলোর একটিই ছিল গাজায় নিরবচ্ছিন্ন ত্রাণপ্রবেশ। সেই চুক্তির গ্যারান্টর হিসেবে দাঁড়িয়েছিল কাতার, মিশর ও তুরস্কের মতো প্রভাবশালী মুসলিম রাষ্ট্র; পরবর্তীতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানও এর প্রতি সমর্থন জানায়। অথচ গোটা মুসলিম বিশ্বের এই রাজনৈতিক উপস্থিতিতেও গাজায় নিরবিচ্ছিন্ন ত্রাণ পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।

ত্রাণের এই হার সময়ের সাথে বাড়ছে না, উল্টো কমছে। ২২ এপ্রিলের সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ২০০টি ট্রাক ঢুকলেও তা এখন ১৫০-এ নেমেছে; কারণ গাজার প্রতিটি স্থলপথ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে, আর ২৪ মে জিকিম (Zikim) ক্রসিং বন্ধ করে দেওয়ায় একমাত্র সচল কার্গো ক্রসিং হিসেবে টিকে আছে কেরেম শালোম। ফলে এই ৬১ দিনে প্রয়োজনীয় ৩৬,৬০০টি ট্রাকের বিপরীতে প্রবেশ করেছে আনুমানিক ১০,২৫০টি; ঘাটতি প্রায় ২৬,৩৫০টি ট্রাকের।

একদিকে আন্তর্জাতিক চুক্তি ও জাতিসংঘের সুস্পষ্ট মানদণ্ড, অন্যদিকে মুসলিম গ্যারান্টর রাষ্ট্রগুলোর উপস্থিতি— এতকিছুর পরও পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। দিনশেষে খাতা-কলমের এসব প্রতিশ্রুতির সাথে গাজার রূঢ় বাস্তবতার এই বিশাল ফারাকটি মূলত বৈশ্বিক কাঠামোর চরম ব্যর্থতারই প্রমাণ।

নোট: জাতিসংঘ ত্রাণ সংস্থা- OCHA বর্তমানে দৈনিক ট্রাক সংখ্যার বদলে সাপ্তাহিক/মাসিক প্যালেট সংখ্যা প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদনে দেখানো দৈনিক ট্রাকের হিসাবটি মূলত সাপ্তাহিক গড় হিসেবে উপস্থাপিত, প্রতিদিনের প্রকৃত নিরীক্ষিত সংখ্যা নয়।

তথ্যসূত্র:
OCHA Humanitarian Situation Reports
UNRWA
WHO (Reuters-এর মাধ্যমে)
Al Jazeera
Gaza Government Media Office
Al Mayadeen

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে বিশ্বজুড়ে জব্দ হয়ে থাকা ইরানের সম্পদ। ...
19/06/2026

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে বিশ্বজুড়ে জব্দ হয়ে থাকা ইরানের সম্পদ। যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য সমঝোতার বিনিময়ে তেহরান দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই অর্থের অ্যাক্সেস ফিরে পেতে চাইছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, প্রাথমিকভাবে অন্তত ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ইরানের জব্দকৃত সম্পদের পরিমাণ ৫০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এর মধ্যে—

• চীনে: প্রায় ২০–৫০ বিলিয়ন ডলার
• ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ায়: প্রায় ৭–১০ বিলিয়ন ডলার
• ইরাকে: প্রায় ৬–৮ বিলিয়ন ডলার
• জাপান ও লুক্সেমবার্গে: প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার

দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বন্দিবিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে কাতারে স্থানান্তর করা হয়। তবে একই বছরের ৭ অক্টোবরের পর যুক্তরাষ্ট্র সেই অর্থের ব্যবহার আবারও স্থগিত করে।

মার্কিন-ইরান সম্পর্কে ‘ফ্রোজেন অ্যাসেট’ বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ দরকষাকষির হাতিয়ার। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি (JCPOA) স্বাক্ষরের পর কিছু অর্থ ছাড় করা হলেও ইরানের বিপুল পরিমাণ সম্পদ এখনও বিভিন্ন দেশে জব্দ অবস্থায় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই অর্থ ছেড়ে দিলে ইরান তা সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর পেছনে ব্যয় করতে পারে। তবে বর্তমান আলোচনায় ওয়াশিংটন নিজেই জব্দ থাকা অর্থের একটি অংশ ফেরত দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, ইরান অন্তত ২৪ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছে।

(নোট: টাকার পরিমাণগুলো আন্তর্জাতিক ফিন্যান্সিয়াল সংস্থা ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দেওয়া ধারণা থেকে নেওয়া; এ ব্যাপারে কোনো অফিশিয়াল ডকুমেন্ট সরাসরি উপস্থিত নেই।)

তথ্যসূত্র:
Wall Street Journal
CRS
Reuters
Al Monitor
Al Majalla
The Washington Institute

মুসলিম বিশ্বের প্রায় ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলার রয়েছে পশ্চিমাদের হাতে। উপসাগরীয় দেশগুলোর এই আয়ের ৭০% থেকে যায় পশ্চিমা ব্যাং...
14/06/2026

মুসলিম বিশ্বের প্রায় ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলার রয়েছে পশ্চিমাদের হাতে। উপসাগরীয় দেশগুলোর এই আয়ের ৭০% থেকে যায় পশ্চিমা ব্যাংক, বন্ড আর ওয়াল স্ট্রিটে — যা মূলত সুদভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইসলামি দৃষ্টিতে যা স্পষ্ট রিবা।

BlackRock (ব্ল্যাকরক) ও Vanguard (ভ্যানগার্ড)-এর মতো বিতর্কিত অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ মিশে যায় বিভিন্ন মদ কোম্পানি, অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, জুয়া কোম্পানি ও পশ্চিমা মিডিয়ার শেয়ারের সঙ্গে।

তবে কাঠামোগত দুর্বলতা শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। বৈশ্বিক ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেমের মেকানিজম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় — এই বিপুল সম্পদ ব্যবহারযোগ্য থাকে কেবল তখনই, যখন এই দেশগুলো পশ্চিমাদের শর্ত ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে পুরোপুরি একমত পোষণ করে।

রাশিয়া ও ইরানের গত তিন দশকের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংকট আমাদের দেখিয়েছে, এই পশ্চিমা ইকোসিস্টেম মূলত কীভাবে কাজ করে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার মতো পরাশক্তির ৩০০ বিলিয়ন ডলার জব্দ করতে সময় লেগেছে মাত্র ২ দিন। যদিও রাশিয়া আগে থেকেই নিজেদের ডলার থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল — তাদের রিজার্ভে ডলার ছিল মাত্র ৬৭ বিলিয়ন, আর ইউরোতে ছিল প্রায় ২০৭ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ। তবুও তারা নিজেদের সম্পদ জব্দ হওয়া থেকে বাঁচতে পারেনি, কারণ আল্টিমেটলি ইউরোপও আমেরিকার কাছে নতজানু। আর তাদের এই নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণেই রাশিয়া নিজেদের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে পারেনি।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আরব রাষ্ট্রগুলোর সম্পদ জব্দ করা হয়তো পশ্চিমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য নয়, কিন্তু আমেরিকা চাইলেই যেকোনো সময় তাদের সমস্ত বিনিয়োগকে বাজেয়াপ্ত করতে পারে — যাকে সংবাদমাধ্যমে আপনারা "ফ্রোজেন অ্যাসেট" (Frozen Asset) হিসেবে পড়ে থাকেন। ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে আরবরা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে চাইলে, যে কারো পরিণতিই রাশিয়া বা ইরানের মতো হতে পারে।

অর্থনৈতিক পরনির্ভরশীলতার পাশাপাশি আরব দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতাও সরাসরি আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল। ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করে কেনা পশ্চিমা সমরাস্ত্রের স্বাধীন ব্যবহার নিশ্চিত করার মতো নিজস্ব কোনো সিস্টেম তাদের নেই। অর্থাৎ, অস্ত্রের মালিকানা তাদের হলেও, তার রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং সফটওয়্যার আপডেটের জন্য পশ্চিমাদের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই নির্ভরতা পশ্চিমা দেশগুলোর হাতে এমন এক অদৃশ্য চাবি বা "কিল সুইচ" (Kill Switch) তুলে দিয়েছে, যার মাধ্যমে তারা চাইলেই যেকোনো সময় এসব আধুনিক অস্ত্রের কার্যকারিতা বা সামরিক নেভিগেশন বন্ধ করে দিতে পারে।

এই বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে সর্বশেষ আরব সফর শেষে ২৮ মে ২০২৫-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে, যেখানে তিনি বলেন, "ইউক্রেন যুদ্ধে আমেরিকা যে অর্থ ব্যয় করেছে তা আমি মাত্র দুই ঘণ্টায় তুলে এনেছি সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও কাতার থেকে — ৫.১ ট্রিলিয়ন ডলার। প্লাস কাতার থেকে ফ্রিতে বিশাল একটা প্লেন।"

তাই মুসলিম জাহানের ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলারের যে সম্পদের কথা আমরা জানি, তা আসলে মুসলিম বিশ্বের নিজস্ব সম্পদ নয় — বরং এটি কেবলই একটি সিস্টেমের ভেতরে থাকা কিছু সংখ্যার হিসাব।

তথ্যসূত্র:
US Treasury TIC System
OFAC (US Treasury)
PIF Official Press Release
Arab News
Argaam
CNBC
Gulf News
AGBI
Reuters
Al Jazeera
RUSI

#মুসলিম_বিশ্ব #পশ্চিমা_নির্ভরতা #রিবা #ভূরাজনীতি

২০২৫ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী রোহিঙ্গা শরণার্থী সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১ লাখ, অথচ মাথাপিছু সহায়তা কমে হয়েছে অর্ধেক। ২০...
11/06/2026

২০২৫ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী রোহিঙ্গা শরণার্থী সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১ লাখ, অথচ মাথাপিছু সহায়তা কমে হয়েছে অর্ধেক। ২০১৭ সালে যখন মানুষগুলো মায়ানমারের রাষ্ট্রীয় জুলুমের মুখে এদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তখন তাদের সংখ্যা ছিল সাড়ে ৮ লাখ — এখন সেটা ১১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মানুষ বেড়েছে আড়াই লাখ, কিন্তু সাহায্য বাড়েনি — বরং কমেছে। ২০১৮ সালে একজন শরণার্থীর জন্য মাসে বরাদ্দ ছিল প্রায় ৬,৯০০ টাকা। ২০২৫ এ সেটা নেমে এসেছে মাত্র ৩,৪০০ টাকায় — অর্থাৎ ৩ বেলা খাবার ও অন্যান্য সবকিছুর জন্য দৈনিক বরাদ্দ মাত্র ১১৩ টাকা।

২০২৫ সালে বাজেটের এই ধ্বসের সবচেয়ে বড় কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের "আমেরিকা ফার্স্ট" নীতি — যার আওতায় বিশ্বজুড়ে মানবিক সাহায্য বন্ধ বা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা তহবিলের অর্ধেকের বেশি আসত যুক্তরাষ্ট্র থেকে, সেই পথ বন্ধ হতেই পুরো হিসাব উল্টে গেছে। তার উপর ইউক্রেন, গাজা, সুদান — দাতা দেশগুলোর বাজেট এখন অনেক দিকে ভাগ হয়েছে, আর তাই ৮ বছরের পুরনো এই সংকট স্বাভাবিকভাবেই পেছনে পড়ে যাচ্ছে। ফলে WFP তিনবার খাবারের রেশন কাটতে বাধ্য হয়েছে।

UNICEF বলেছে শুধু ২০২৫ এর প্রথম ৯ মাসেই শিশু অপুষ্টি বেড়েছে ১১%। সহায়তা কমলে প্রথমে কমে খাবার, তারপর স্বাস্থ্যসেবা, তারপর কমবে শিক্ষার মান। আর তখন বাড়বে বাল্যবিবাহ, মানবপাচার আর সমুদ্রে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা।

৮ বছর হলো। শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া শিশুরা এখন কিশোর: তাদের এখনও কোন পরিচয় নেই, ভবিষ্যৎ নেই। টাকা আর মানুষের সংখ্যার এই তারতম্য যদি চলতেই থাকে, সামনে যা আসবে সেটা শুধু অভাব না — সেটা হবে একটা পুরো প্রজন্মের ধ্বংস।

তথ্যসূত্র:
UNHCR Population Dashboard (Feb 2026)
UN OCHA FTS / Joint Response Plan 2017–2025 WFP Bangladesh (2023)
UNICEF Bangladesh (2025)
Refugees International (2025)
Save the Children (2025)

#রোহিঙ্গা #কক্সবাজার #মানবিকসংকট #শরণার্থী #বাংলাদেশ

রাইফেল আর গোলাবারুদেই সীমাবদ্ধ বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্প। সামরিক বহরেরর প্রতি ১০টি বড় অস্ত্রের অন্তত ৭টিই আমদানি করা।...
07/06/2026

রাইফেল আর গোলাবারুদেই সীমাবদ্ধ বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্প। সামরিক বহরেরর প্রতি ১০টি বড় অস্ত্রের অন্তত ৭টিই আমদানি করা। রাইফেল আর গোলাবারুদ ছাড়া বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্প যুদ্ধের জন্য কার্যকরী তেমন কিছুই তৈরি করে না। যুদ্ধবিমান, ভারী ট্যাংক, ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন বা উন্নত ইলেকট্রনিক্স — এর কোনোটাই দেশে তৈরি হয় না। সামরিক বিষয়ক সাপ্তাহিকী Janes-এর ভাষায়, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্প হলো "nascent" বা সদ্যজাত।

ভারত নিজ দেশে যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন ও ক্ষেপণাস্ত্র বানায়। মিয়ানমার যুদ্ধাবস্থা ও নিষেধাজ্ঞার মাঝেও নিজের গোলাবারুদের অর্ধেক নিজেই উৎপাদন করছে। পাকিস্তান ছোট অস্ত্রে পুরোপুরি স্বনির্ভর, পাশাপাশি চীনের সাথে যৌথভাবে বানাচ্ছে যুদ্ধবিমান, তুরস্কের সাথে তৈরি করছে ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্র। অথচ বাংলাদেশ যেন সিঁড়ির একদম নিচের ধাপে দাঁড়িয়ে আছে।

ইরান যুদ্ধের মধ্যদিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে আমদানীনির্ভর আরব রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তাহীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্বাধীনতার অর্ধশতকেও বাংলাদেশ কেন সমরাস্ত্রে স্বনির্ভর হতে পারেনি— সেই প্রশ্ন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা সরকারের নিকট নয়, বরং গোটা জাতির কাছে প্রশ্ন।

তথ্যসূত্র:
SIPRI Arms Transfers Database
IISS Military Balance
Janes Defense Weekly
CSIS ChinaPower
GlobalSecurity

#বাংলাদেশ #প্রতিরক্ষা #সামরিকশিল্প #অস্ত্রনির্ভরতা #চীন #সার্বভৌমত্ব

ভারতের ইস্যুকৃত মেডিকেল ভিসার ৭০%-এর বেশি ইস্যু করা হয় বাংলাদেশীদের জন্য। এতে বছরে দেশ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে ৩০ হাজার কোটি ...
03/06/2026

ভারতের ইস্যুকৃত মেডিকেল ভিসার ৭০%-এর বেশি ইস্যু করা হয় বাংলাদেশীদের জন্য। এতে বছরে দেশ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। এমনকি জুলাই অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক সঙ্কটের মধ্যেও ভারতের মেডিকেল ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রি বাংলাদেশ থেকে ৪ লক্ষ ৮২ হাজার রোগী পেয়েছে, যা পূর্ববর্তী সময়ের প্রায় সমান (৫ লক্ষ, ২০২৩)।

বাংলাদেশ থেকে যত রোগী বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান, তার ৫১% এর গন্তব্য ভারত। লক্ষ্যণীয়, ভারতের সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী রাষ্ট্র ৫টির মধ্যে কেবলমাত্র বাংলাদেশই এত বিপুল সংখ্যক রোগী ভারতে পাঠিয়ে থাকে। বাংলাদেশের পরে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মায়ানমার, ভারতের ইস্যুকৃত মেডিকেল ভিসার ৩% মায়ানমারের জন্য ইস্যু করা হয়। ২০২৩-২৪ সালের হিসাব মতে — ৪,৪৯,৫৭০ জন বাংলাদেশীর মেডিকেল ভিসা ইস্যু হয়েছে, যেখানে একই সময়ে মিয়ানমারের মাত্র ৩,০১৯ জন ভিসা ইস্যু করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, "বিদেশে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ পুরো স্বাস্থ্য ইকোসিস্টেমের প্রতি অবিশ্বাস।"(DCCI SEMINAR, 2024) বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুরও বলেছেন, “হাসপাতাল ব্যবস্থা উন্নত করলে এই ব্যয় ১ বিলিয়ন ডলারে (যা বর্তমানে ৫ বিলিয়ন) নামিয়ে আনা সম্ভব।” আবার, ৪৫টি স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে জিডিপির অনুপাতে স্বাস্থ্যখাতে সবচেয়ে কম বিনিয়োগ করে বাংলাদেশ (World Bank, ২০২১)। এর পুরোটার ‘সুফল’ ভোগ করছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত, তার মেডিকেল ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে।

(নোট: ভারতের স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অর্থের কোনো সরকারি একক পরিসংখ্যান নেই। এই হিসাবটি করা হয়েছে ভারতের মেডিকেল ট্যুরিজম মার্কেটের আকার ($৭.৬৯ বিলিয়ন, Business Standard 2024) এবং বাংলাদেশের আনুমানিক রাজস্ব শেয়ার (৩০-৩৫%) ধরে — যেখানে রোগীর সংখ্যার শেয়ার ৫৪% হলেও বাংলাদেশিরা তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল চিকিৎসা করান বলে রাজস্ব শেয়ার কম ধরা হয়েছে। সে হিসাবে আনুমানিক ২৫,০০০–৩৩,০০০ কোটি টাকা প্রতি বছর ভারতের স্বাস্থ্যখাতে যাচ্ছে বলে অনুমান করা যায়।)

তথ্যসূত্র:
WHO
Bangladesh Bank
World Bank
India Ministry of Tourism
DCCI
Rajya Sabha
BIDS
Prothom Alo
The Business Standard

#বাংলাদেশ #স্বাস্থ্যখাত #চিকিৎসাপর্যটন #বিদেশেচিকিৎসা #ভারত #স্বাস্থ্যবাজেট #মেডিকেলট্যুরিজম #তথ্যচিত্র #রেমিট্যান্স

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Zaitun Post posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share