30/03/2026
বাংলাদেশ রেলওয়ের ৪ ট্রেনের অনবোর্ড সার্ভিসে অনিয়মের অভিযোগ: আলোচনায় দুই শীর্ষ কর্মকর্তা
**নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা- বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের অনবোর্ড সার্ভিস পরিচালনার দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। একতা, রংপুর, সুন্দরবন ও জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের এই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা অবৈধ লেনদেনের দাবি করেছেন অংশগ্রহণকারী এক দরদাতা। অভিযোগের আঙুল উঠেছে রেলওয়ের এডিজি (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম এবং চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (পশ্চিম) সুজিত কুমার বিশ্বাসের দিকে।
দরের অস্বাভাবিকতা ও বৈষম্য
অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান 'বেঙ্গালা ফাইভ স্টার সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড'-এর দাবি, সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন দরের চেয়েও কম মূল্যে প্রস্তাব দাখিলকারী নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত বেতন, ২% কন্টিনজেন্সি এবং ২০% ভ্যাট-ট্যাক্সসহ অন্যান্য খরচ হিসাব করলে প্যাকেজগুলোর সর্বনিম্ন দর হওয়ার কথা নিম্নরূপ:
প্যাকেজ ৮ (একতা) ও ৯ (রংপুর): ৮,৪৩,৮৭,৩৭৯ টাকা।
প্যাকেজ ১০ (সুন্দরবন) ও ১১ (জাহানাবাদ): ৮,৩৩,২১,২৫০ টাকা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, লভ্যাংশ বা মালামালের খরচ না ধরলেও এই দরের নিচে কাজ করা বাস্তবসম্মত নয়। অথচ একাধিক প্রতিষ্ঠান এর চেয়েও কম দর প্রস্তাব করেছে, যা আইনত বাতিলযোগ্য হলেও তাদের সুবিধা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নেপথ্যে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাবিব বাণিজ্য বিতানকে দুটি ট্রেন এবং শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজ ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী শাহ আলমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে একটি করে ট্রেনের কাজ দেওয়ার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। অভিযোগ উঠেছে, এই চারটি ট্রেনের কাজ পাইয়ে দিতে এডিজি (অপারেশন) ও সিসিএম (পশ্চিম) এর মাধ্যমে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার লেনদেন হয়েছে। এতে রেলওয়ের মহাপরিচালককেও (ডিজি) বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
BOQ ও গাণিতিক ত্রুটির অজুহাত
পৃথক এক অভিযোগে জানানো হয়েছে, দরপত্রের বিওকিউ (BOQ) পুনর্নির্ধারণের নামে বিশেষ কিছু প্রতিষ্ঠানকে অন্যায্য সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ২% কন্টিনজেন্সি, মালামালের মূল্য বা ট্যাক্স উল্লেখ না করলেও সেগুলোকে ‘গাণিতিক ত্রুটি’ হিসেবে দেখিয়ে সংশোধনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, যা দরপত্র আইনের পরিপন্থী। অভিযোগকারীদের মতে, প্রতিটি কলামে বাজারদর অনুযায়ী হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক।
পূর্বাঞ্চলেও একই চিত্র
বেঙ্গালা ফাইভ স্টার সিকিউরিটি সার্ভিসেস আরও জানিয়েছে, শুধু পশ্চিমাঞ্চল নয়, পূর্বাঞ্চলেও ‘মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ক্ষেত্রে একইভাবে আইন লঙ্ঘন করে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কাজ প্রদান করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য
এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে রেলওয়ের এডিজি (অপারেশন) নাজমুল ইসলামের হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সাড়া দেননি। অন্যদিকে, সিসিএম (পশ্চিম) সুজিত কুমার বিশ্বাসের হোয়াটসঅ্যাপ না থাকায় তাকে এসএমএস পাঠানো হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
রেলওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দরপত্র প্রক্রিয়ার এই অস্বচ্ছতা সাধারণ যাত্রীসেবা ও রাজস্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।