04/02/2026
কল্পনা করুন আপনার আদরের ছোট্ট মেয়েটিকে। বয়স বারো কিংবা তেরো। ফুলের মতো পবিত্র, চোখভরা স্বপ্ন, বুকভরা বিশ্বাস।
একদিন তাকে বলা হলো, সে নাকি একটি বিশেষ বৃত্তি পেয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে জ্ঞানী, ধনী আর প্রভাবশালী মানুষের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ। ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখানো হলো।
সরল বিশ্বাসে সে প্লেনে উঠল।
সে জানত না, চকচকে সেই প্লেনটির নাম ‘ললিটা এক্সপ্রেস’।
সে জানত না, এই যাত্রা তাকে কোনো স্বপ্নের দেশে নয়, বরং এক ভয়ংকর অন্ধকার জগতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, নাম ‘লিটল সেন্ট জেমস’।
বাইরে থেকে দ্বীপটি ছিল দুনিয়াবি জান্নাতের মতো। নীল সমুদ্র, খোলা আকাশ, রাজকীয় প্রাসাদ। কিন্তু ভেতরে ঢুকেই ভেঙে পড়ল সব স্বপ্ন।
টিভির পর্দায় যাদের সে নায়ক ভেবেছে, রাষ্ট্রনায়ক, বিজ্ঞানী, অভিনেতা, ক্ষমতাবান মানুষরা সেখানে বসে আছে। কিন্তু তাদের চোখে মমতা নেই। আছে এক নির্মম, লোভী ক্ষুধা।
মেয়েটি কেঁদে বলেছিল, “আমি আমার মায়ের কাছে যেতে চাই।”
কিন্তু তার কান্না চাপা পড়ে গিয়েছিল সমুদ্রের গর্জন আর শ্যাম্পেনের বোতল খোলার শব্দে।
তাকে বলা হয়েছিল,
“চুপ থাকো। এরা এই দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ। এদের সেবা করাই তোমার কাজ।”
দিনের পর দিন, এমন অসংখ্য নিষ্পাপ শিশুর জীবন ধ্বংস হয়েছে। যাদের পোস্টার আমরা দেয়ালে টাঙাই, যাদের বক্তব্য শেয়ার করি, যাদের ‘রোল মডেল’ বলি, তাদের হাতেই।
প্রশ্ন আসে, এত ক্ষমতাবান মানুষ জড়িত থাকলে সত্য সামনে এলো কীভাবে?
জেফ্রি এপস্টেইন নিজের নিরাপত্তার জন্য একটি কালো ডায়েরি রাখত। নাম ছিল ‘দ্য ব্ল্যাক বুক’। সেখানে লেখা থাকত তার প্রভাবশালী পরিচিতদের নাম আর যোগাযোগের তথ্য। সে ভেবেছিল, এই তালিকাই তাকে অজেয় করে রাখবে।
কিন্তু ইতিহাস বলে, পাপ শেষ পর্যন্ত ফাঁস হয়।
ভার্জিনিয়া জুফ্রে নামের এক সাহসী নারী, যিনি নিজে এই নির্যাতনের শিকার ছিলেন, তিনি আদালতে দাঁড়িয়ে কথা বলেন। তার মামলার সূত্র ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নির্দেশে বহু সিল করা নথি প্রকাশ পায়।
সেই নথিতে এমন সব নাম আসে, যাদের আমরা বছরের পর বছর সম্মান করেছি।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা মনে রাখা দরকার। আদালতের নথিতে কারও নাম আসা মানেই দোষ প্রমাণ নয়, কিন্তু প্রশ্ন তোলার মতো গুরুতর বিষয় অবশ্যই।
সাবেক প্রেসিডেন্ট, রাজপরিবারের সদস্য, ধনকুবের, খ্যাতিমান বিজ্ঞানী, হলিউড তারকা—অনেকে এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগে ছিলে