07/08/2026
আমি জাকসুতে নির্বাচিত হই স্বতন্ত্র ভাবে। কারো দল বা প্যানেলের অংশ হয়ে না। নির্বাচিত হবার পর প্রথম দিনই বলেছিলাম যে আমার মতো করে কাজ করতে না পারলে বা কেউ বাধা দিলে আমি পদত্যাগ করতে দুই মিনিটও ভাববো না। আমি সবার, সবার জন্যই কাজ করবো। গতকাল ইউনিভার্সিটির সেন্ট্রাল একটা প্রোগ্রাম ছিলো। একটা প্রোগ্রামে ৭ জন উপস্থাপক। ভাবা যায়??
এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের যখন কমিটি গঠন করে, দায়িত্ব পরে জাকসু এবং টিএসসির উপর। স্বাভাবিক ভাবেই টিএসসির শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে তাদের সামনেই উপস্থাপকে ফোন দেই এবং নির্বাচিত করি। এরপর আরো একজনকে উপস্থাপনায় এড করা হয়। আবার তাকে বাদ দিতে বলা হয়। পরে আমাকে জানানো হয় শুধু আলোচনা অংশের উপস্থাপক একজন শিক্ষক করবেন। পরে শিক্ষক না দেখি আরেকজন করেছে। আমাকে এটা জানানো উচিৎ ছিলোনা?যেহেতু আমি দুজন উপস্থাপকের সাথে অলরেডি কথা বলে রেখেছি।
যাইহোক অনুষ্ঠান শুরুর দুই ঘন্টা আগে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় (নাম বললাম না) থেকে প্রশানের আরেকজনের কাছে ফোন আসে। আমি তখন ওনার সামনেই ছিলাম। ইন্সট্যান্ট আরো দুজনের কথা বলা হলো। তারা নাকি এই প্রোগ্রামে উপস্থাপনা করবে, বলা হলো। এরপর স্টেজে অনুষ্ঠান শুরু করতে গেলাম সেখানে গিয়ে দেখি আরো দুজন উপস্থাপক। আর এগুলো করা হয়েছে রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য। একটা সাংস্কৃতিক প্রোগ্রামে কেনো এটা করতে হবে? এই ঘটনার কারণে একজন উপস্থাপক আর কোনো প্রোগ্রামে আর উপস্থাপনা করবেনা বলে জানায়। আরেকজন উপস্থাপক অসম্মানিত ফিল করে অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যায়। আমি একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে এগুলো সহ্য করবো? শিক্ষার্থীদের সম্মান আমার সম্মান না??
আমি জাহাঙ্গীরনগরের নির্বাচিত সাংস্কৃতিক সম্পাদক, অথচ আমাকে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দেয়া হচ্ছেনা।
এরপর আসি ২য় ঘটনায়, মুক্তমঞ্চে তখন অনুষ্ঠান চলছে আমাকে প্রসাশনের এবং সামনে থাকা শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে কয়েকজন ছাত্রনেতার নাম ধরিয়ে দেয়া হলো। যাদের অধিকাংশ নেতাকে আমি চিনিই না। বলা হলো মাইক্রোফোনে যেন নামগুলো বলি। ফোর্স করা হলো। নামগুলো লিখেও দিলো একজন।
পরবর্তীতে আমি যখন নামগুলো বললাম সামনে হট্টগোল বেধে গেলো ছাত্রদলের নেতাদের মধ্যে।
আমি স্টেজে দাড়ানো, আমাকে পিছন থেকে একজন ক্রমাগত সরি বলার জন্য ফোর্স করতে থাকলো। আমি কি আপনাদের দাবার গুটি? মন চাইলো আর চাললাম!
আমি শেখ জিসান আহমেদ। নিজের যোগ্যতায় এতটুকু এসেছি। নিজের সম্মান এবং আত্নমর্যাদা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
এই জাকসুতে আসার আগে আমি জিরো বাজেটে ফিল্ম নিয়ে কাজ করেছি, ছোট ছোট ভিডিও বানিয়েছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী আমার সাথে কাজ করেছে। আমার এক ডাকে ক্যামেরার সামনে শর্ট প্যান্ট পড়ে দাঁড়িয়ে গেছে শত শিক্ষার্থী। অথচ জাকসু! এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাকে এবং আমার সিদ্ধান্তকে কোনো সম্মান দেয়নি। আমাকে কাজ করার স্বাধীনতা দেয়নি।
আমার হাতে ফ্রাকচার, সেটা নিয়ে গত ১৫ দিন কাজ করেছি অথচ কাজের প্রাপ্য সম্মানটুকু কেউ দেয়নি। কেউ না।
যেখানে ছাত্রনেতাদের উদ্দেশ্যই থাকে রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভ, সেখানে আমি ক্ষমতায় থেকে ক্ষমতা ছেড়ে গেলাম। আমার কাছে ক্ষমতা খুবই তুচ্ছ এবং আত্নমর্যাদা গুরুত্বপূর্ণ। সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপালন কালে কেউ যদি আমার কোনো আচরণে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।