Hafez Salah Uddin

Hafez Salah Uddin রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত (বাণী) হলেও পৌঁছে দাও।’ (সহীহ মুসলিম) Assalamu Alaikum Orahmatullah. Thank You ! Thank you!

This is Hafez Salah Uddin Official page. The goal of page is to create high-quality educational videos based on comprehensive research and analyses. Our focus is to inspire, motivate and encourage people to become better version of themselves or simply to be a better human being. Our content promotes nothing but peace, unity and love. We hope you will continue enjoy our content. Stay Tune

d for the Inspiring Videos.







so, brothers and sisters in islam LIKE & FOLLOW our page & keep with us .

24/07/2025

নবিজির চিঠি

মুয়াজ ইবনু জাবাল রাযি. এর ছেলে মারা গেলে, রাসুলুল্লাহ সা. তাকে সমবেদনা জানিয়ে এই চিঠিটি লিখেন—

بِسْمِ اللهِ الرحمنِ الرحيمِ من محمدٍ رسولِ اللهِ إلى معاذِ بنِ جبلٍ سلامٌ عليكَ فإنِّي أحمَدُ إليكَ اللهَ الَّذِي لا إلهَ إلّا هو.
أمّا بعدُ فَأَعْظَمَ اللهُ لَكَ الأَجْرَ وأَلْهَمَكَ الصبرَ ورَزَقَنا وإيّاكَ الشكرَ فإنَّ أنفُسَنا وأموالَنا وأهلَنا من مواهِبِ اللهِ الهنِيَّةِ وعَوارِيهِ المُسْتَوْدَعَةِ متَّعَكَ اللهُ بِهِ في غِبْطَةٍ وسرورٍ وقَبْضَهٍ منكَ بِأَجْرٍ كثيرٍ الصلاةُ والرحمةُ والهدى إنِ احتسبْتَهُ فاصْبِرْ ولا يُحْبِطْ جزَعُكَ أجْرَكَ فَتَنْدَمَ واعلمْ أنّ الجزعَ لا يردُّ مَيِّتًا ولا يَدْفَعُ حُزْنًا وما هو نازِلٌ فقَدْ كانَ والسلامُ.

“বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহর পক্ষ থেকে মুয়াজ ইবনু জাবালের কাছে চিঠি।

তোমার প্রতি আমার সালাম। আমি তোমার কাছে (লিখে) পাঠাচ্ছি আল্লাহর হামদ (প্রশংসা), যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই।
তারপর (কথা হচ্ছে), আল্লাহ তায়ালা তোমার সওয়াব ও প্রতিদান আরও বাড়িয়ে দিক। তোমাকে সবর করার শক্তি দিক। তোমাকে ও আমাকে উভয়কেই তাঁর শুকরিয়া আদায় করার রিজিক দিক। (জেনে রেখো,) নিশ্চয়ই আমাদের জান, মাল, পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি সবকিছুই আল্লাহর দান, তাঁর দেওয়া আমানত (অর্থাৎ এগুলোর কোনোটির মালিকই আমরা নই; আমাদের (সীমিত সময়ের জন্য) কেবলই ধার দেওয়া হয়েছে)। তাই, নির্দিষ্ট একটা সময়সীমা পর্যন্তই আমরা এগুলো থেকে উপকৃত হই; তারপর আল্লাহ তায়ালা তা আবার (আমাদের কাছ থেকে) ফিরিয়ে নেন।
আল্লাহ তায়ালা যদি কিছু দান করেন, আমাদের কর্তব্য দাঁড়ায় তার শুকরিয়া আদায় করা। আর তিনি যদি কোনো পরীক্ষায় ফেলেন, তাহলে আমাদের কর্তব্য দাঁড়ায় সবর করা। তোমার সন্তানও আল্লাহর দেওয়া সুখকর এক নিয়ামত ছিল। ছিল আল্লাহর দেওয়া এক আমানত। এই ছেলের মাধ্যমেই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপকৃত করেছেন সুখ ও সাচ্ছন্দ্যের সময়কালে। আবার, (নির্ধারিত সময়ে) তিনি তোমার কাছ থেকে এই আমানত নিয়ে নিয়েছেন আর বিনিময়ে দান করেছেন অগণিত সওয়াব (প্রতিদান)। এখন তুমি যদি (এর মাধ্যমে) সওয়াবের আশা কর, তাহলে তোমার জন্য রয়েছে সালাত, রহমত ও হিদায়াত। তাই, তুমি ধৈর্য ধর। সামান্য অধৈর্য হয়ে তুমি তোমার প্রতিদান বরবাদ কর না; নইলে পরে পস্তাবে। (জেনে রেখো,) তোমার অধৈর্য তো আর তোমার সন্তানকে ফিরিয়ে আনবে না, তোমার দুঃখ-ব্যাথা উপশমও করবে না। বরং মনে রাখ, যা হওয়ার তাই হয়েছে (তবেই দুঃখ-ব্যাথা কিছুটা উপশম হবে)। তোমার প্রতি আমার সালাম রইল।”

(হাকিম; আল মুসতাদরাক : ৫১৯১, তাবারানি; আল কাবির : ১৬৭৪০, তাবারানি; আল আওসাত : ৮৩)

দুর্দশা কঠিন হৃদয়ের জন্য  ً
23/07/2025

দুর্দশা কঠিন হৃদয়ের জন্য

ً

21/07/2025

ঢাকা এখন আর শুধু একটি শহরের নাম নয়! এটি যেন মৃত্যুর সংবাদপত্রের শিরোনাম।
আজ দুপুরে উত্তরায় মাইলস্টোন কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় যে মর্মান্তিক ট্রাজেডির জন্ম হল, তা এই রাজধানী ঢাকার দীর্ঘ ব্যবস্থাগত ব্যর্থতার প্রতীক। এটি শুধু একটি যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, আমাদের ব্যবস্থাপনাগত সংকটের বহিঃপ্রকাশ।

আধুনিক প্রযুক্তির যুগে রাষ্ট্রের আওতাধীন বিমান হবার কথা সবচেয়ে আপটেডেট! রাজধানী শহরের আকাশপথ সবচেয়ে নিরাপদ হওয়ার কথা, কিন্তু সেই রাজধানীতেই ৭৭ সালের নষ্ট বিমানের আঘাতে, পুড়ে মারা গেলো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ! শতশত আহত, তারাও মৃত্য যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে! এই হল আমাদের দেশ ও শহরের চিত্র..
আধুনিককালে আমাদের উন্নয়ন! আমাদের সভ্যতা!

আমরা এমন এক ঢাকা শহর বানিয়েছি, যার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি বসবাসের যোগ্য নয়।
এখানে একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প বা ভবনধ্বস হলে কোনো সুষ্ঠু উদ্ধার অভিযান সম্ভব নয়, রানা প্লাজা যার উদাহরণ। যে কোনো সময় আগুন, গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ কিংবা নির্মাণাধীন ভবন থেকে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, ঘটছেও প্রতিনিয়ত! ট্রান্সফর্মার, মাকড়সার জালের মতো বিভিন্ন তার, ভাঙ্গা ড্রেন, মেয়াদবিহীন গাড়ি ও বিল্ডিং ইত্যাদি নিয়েই আমাদের নগরী! প্রতিনিয়ত যে রাস্তায় চলছি, যে গাড়িতে চড়ছি, তা অনিরাপদ! পরিবেশ দূষণ, ভয়াবহ মাত্রার বায়ু দূষণ, নদী ও ড্রেনেজ সিস্টেমের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাব, অপরিকল্পিত গ্যাস সিলিন্ডারের এ শহর ভয়ঙ্কর মরণফাঁদ নিয়ে অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। এখানকার অধিকাংশ বিল্ডিংও অপরিকল্পিত। বিল্ডিং নির্মানের সময় ফায়ার এস্কেপ রাখার কথা কারো যেন মনেই পড়ে না!

সুতরাং বিমান ও আকাশপথ মাথাব্যাথা কই থেকে আসবে!?

এই শহরে হাটলেই দেখবেন,
গ্যাসের লাইন, ইলেকট্রিসির লাইন অপরিকল্পিত এবং অগোছালো। আমাদের প্রতিটি শহর এখন অনিরাপদ শহর, ফলশ্রুতিতে আমাদের দেশ এক অনিরাপদ দেশ। আবাসিক এলাকায় একবার আগুন লাগলে অপরিল্পিত গ্যাসের লাইন, বিদ্যুতের লাইনের কারণে পুরো শহর মৃত্যুপুরীতে পরিণত হবে। আমাদের বিভাগীয় শহরের মানুষরা বহু আগে থেকেই মাইনফিল্ডে বসবাস করছে, যে কোনো সময়েই তারা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারেন!!

আজও অপরিকল্পিত ও ফালতু বিমান ব্যবস্থাপনায় মাইলস্টোন কলেজে পুড়ে ছাই হয়ে গেল, সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ মানুষের জীবন!
এ উন্নত প্রযুক্তির যুগে কি এটাই কাম্য?

হ্যাঁ!
এই বিমান দুর্ঘটনা, এটি কেবল পাইলটের ভুল নয়, এটি একটি সিস্টেমের ব্যর্থতা!
প্রত্যেকবার বিমান দুর্ঘটনার পর আমরা শুনি, যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল, রানওয়েতে পানি ছিল, কন্ট্রোল টাওয়ারে যোগাযোগ ব্যর্থ হয়েছিল ইত্যাদি! এসব কি কেবল ঘটনার ভাষ্য?
না, এগুলি হচ্ছে একটি রাষ্ট্রযন্ত্রের কাঠামোগত অবহেলার ফসল!

চিন্তা করে দেখুন,
যে দেশে ট্রাফিক সিগন্যাল কাজ করে না, ফায়ার সার্ভিসে পানি থাকে না, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে অক্সিজেন ফুরিয়ে যায়, সেখানে বিমান নিরাপত্তা কতটা শক্তপোক্ত হতে পারে?

ঢাকা শহর এমন এক পর্যায়ে এসেছে, যেখানে মাটিতে আগুন, বাতাসে দূষণ, আকাশে মৃত্যুর সিগন্যাল।
এ শহরে আগুনের খবর পুরনো হয়, মানুষের মৃত্যু সংখ্যা হালনাগাদ হয়, কিন্তু সিস্টেমের দায় কেউ স্বীকার করে না।
এ দেশ ও শহরের প্রধান সমস্যা আমাদের ব্যবস্থাগত সংকট। কিন্তু এ আলাপ বরাবরই আলোচনার বাহিরে থাকে। ফলশ্রুতিতে প্রতিনিয়তই এ জাতীয় দুর্ঘটনা বন্ধ হওয়ার বদলে হত্যার মিছিলের কারণে পরিণত হয়!

বিশ্ববিদ্যালয়, সিভিল সংগঠন, রাজনৈতিক আন্দোলনগুলোর কাজ নিয়ে কিছুই না বলি আজ। কিন্তু আমরা আমাদের সুশিক্ষা ও ব্যবস্থাগত সংকট এর কারণে দিন দিন চরম জাতিগত সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছি! এ মূল্যবোধ সম্পন্ন জনগণের কাছে সেই সভ্যতার শিক্ষা অনুপস্থিত! অথচ আমরা যদি উপলব্ধি করতাম– আমাদের দেশ ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশ, নগরায়নের শ্রেষ্ঠতর উদাহরণ আমাদের ইসলামী সভ্যতা! কিন্তু আজ আমাদের কি অবস্থা!?
যেখানে আমাদের নকশাগুলো অনুকরণ করে আমেরিকা-ইউরোপ আজ তাদের নগর/শহরগুলোকে সাজিয়েছে। আমাদের পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, মসজিদ, মজবুত নয়নাভিরাম স্থাপত্যকর্ম এবং পরিকল্পিত নগরগুলো যেন ছিলো জান্নাতি বাগান! আর সেই সমৃদ্ধশালী মুসলিম বাংলায় আজ আমাদের নগরীর এ কী হাল?

এ ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতার জন্য ব্যাপকভাবে দায়ী যে ‘রাষ্ট্রব্যবস্থা’, তা আমরা ভুলেও চিন্তা করি না, বলিও না; জাতির সামনে এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ব্যাপকহারে তুলে ধরা তো বহু দূরের কথা! তাই প্রতিটি ঘটনাই কিছু ছবি আর খবরের মাধ্যমে মিডিয়ার শিরোনাম হয়ে থাকে কিছুদিন, তারপর নতুন ইস্যুর ভিড়ে হারিয়ে যায়। অথচ নিজেদের সাধারণ অধিকার ও নিরাপত্তার জন্য হলেও উন্নত প্রযুক্তির সংকট ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি, বিশ্রি যোগাযোগ ব্যবস্থা, চিকিৎসাব্যবস্থার সংকট নিয়ে আলাপ জরুরি, ট্রেড ইউনিয়নগুলো শক্তিশালীকরণ, গতিশীলকরণ আবশ্যক। শক্তিশালী সিভিল সোসাইটি তো ফরজে আইন।

তবে যে বিষয়গুলো আমাকে ভয়ংকর দৃশ্যের মাঝেও আশাবাদী করেছে, প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী করেছে, তা হলো ‘আমাদের মূল্যবোধসমূহ’। সবাই যেভাবে সহযোগিতা করছে, এগিয়ে আসছে, দলভেদে রক্ত দিচ্ছে, শোকার্তেদের পাশে দাড়াচ্ছে, সত্যিই এ মূল্যবোধের প্রধান কারণ আমরা ইসলামী সভ্যতার সন্তান, সে সভ্যতা না থাকলেও সেই আখলাক ও মূল্যবোধ বহু অংশেই বিদ্যমান।
আমাদের উত্থান কাব্য রচনায় এটাই কি সবচেয়ে বড় শক্তি নয়? অন্যতম অস্ত্র নয়?

আমাদের সামনে সময় খুব সীমিত।
নাহয় আরেকটি মৃত্যুর খবর, আরেকটি কাভার্ড, ডেডবডি আরেকদিন আমাদের চোখে পানি এনে দিবে!

হাসান আল ফিরদাউস

আজ ২০ শে জুলাই সাইপ্রাসের ৫১তম বিজয় বার্ষিকী।১৯৭৪ সালের আজকের এই দিনে তুরস্কের তৎকালীন উপ প্রধানমন্ত্রী প্রফেসর ড. নাজমু...
21/07/2025

আজ ২০ শে জুলাই সাইপ্রাসের ৫১তম বিজয় বার্ষিকী।

১৯৭৪ সালের আজকের এই দিনে তুরস্কের তৎকালীন উপ প্রধানমন্ত্রী প্রফেসর ড. নাজমুদ্দিন এরবাকানের নেতৃত্বে সাইপ্রাস বিজয় অভিযান পরিচালিত হয়েছিল এবং আল্লাহ তালার অশেষ রহমতে এর অর্ধেক পুনরায় মুসলিমদের দখলে আসে।

কৌশলগত ভাবে সবচেয়ে গুরুত্ত্ব পূর্ণ এই দ্বীপটি হযরত উসমান (রা) এর সময় থেকে মুসলমানদের অধীনে ছিল। কিন্তু ১৬০০ শতাব্দীর শেষের দিকে এই দ্বীপটি ব্রিটিশ বাহিনী উসমানী খলীফাদের কাছ থেকে দখল করে নেয়। এর পর চলতে থাকে মুসলিম নিধন। বর্তমানে আরাকানের যে অবস্থা এটি ৩০০ বছর সেই অবস্থায় পরিনত হয়। বলা হয়ে থাকে উসমানী খিলাফাতের পতনের পর এই প্রথম তুরস্কের সেনাবাহিনী যুদ্ধ করে কোন অঞ্চল পুনরুদ্ধার করে।

আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সকল হুমকি, তাদের রণতরীকে উপেক্ষা করে ইসলামী আন্দোলনের অসীম সাহসী নেতা নাজমুদ্দিন এরবাকান সাইপ্রাসে অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেন এবং সফল ভাবে বিজয় অর্জন করেন।

তিনি বলতেন,
''আমার কি আমেরিকা? আমার কি ইউরোপীয় ইউনিয়ন? আমরা হলাম ফাতিহ সুলতান মেহমেদ এর উত্তরসূরী আমরা ১০০০ বছর সমগ্র দুনিয়াকে শাসন করেছি। আমরা ইউরোপকে আলোর স্পন্ধান দিয়েছি। আমরা আজও যদি কোরআনকে বুকে ধারন করে অগ্রসর হই কোন শক্তি আমাদেরকে পরাভুত করতে পারবে না।''

এই অভিযান নিয়ে বিস্তারিত পড়তে পারেন, প্রফেসর ড. নাজমুদ্দিন এর লেখা আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ 'দাওয়াম' এর সাইপ্রাস শান্তি অভিযান নামক লেখাটি।

(দাওয়াম পেইজ থেকে সংগ্রহীত)

20/07/2025

মানববিদ্যার (Humanities) প্রতিটি শাখায়ই আমাদের বিশেষজ্ঞ (Specialist) ব্যক্তি প্রয়োজন। এই বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা তাদের কর্মক্ষেত্রকে, নিজেদের অফিসকেই গ্রহণ করবে ইবাদতগাহ হিসেবে, মসজিদ হিসেবে। তারা তাদের গোটা জীবনকে বিলিয়ে দিবে নিজ নিজ বিশেষজ্ঞতার (Specialization) অঙ্গনে। কেবলই কুরবানির মানসিকতা নিয়ে তারা জীবন বিলিয়ে দিবে না; বরং নিজ নিজ কাজে তারা মজা ও স্বাদ অনুভব করবে, অনুভব করবে তৃপ্তি। তারা তাদের কাজে এমন মজা ও তৃপ্তি অনুভব করবে, যা অনুভব করে থাকে সেই ইবাদতগুজার ব্যক্তি, যে তার রুহকে খুশিমনে খোদার রাহে উৎসর্গ করে দিয়েছে।
এতত্সত্ত্বেও আমাদের বুঝতে হবে, এই বিশেষজ্ঞরা কিন্তু মানুষের জীবনে রাহবারের ভূমিকা পালন করে না কিংবা তাদের জন্য ঠিকও করে দেয় না চলার পথ। সবসময়ই রাহবারের ভূমিকা পালন করে এসেছে এবং সামনেও করবে— সুউচ্চ রুহানি শক্তির অধিকারী ব্যক্তিরা। মূলত তারাই বহন করে থাকেন এমন এক মুকাদ্দাস মশাল, যার উষ্ণতায় মিশে যায় জ্ঞানের প্রতিটি পরমাণু এবং তার আলোতেই উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে চলার পথ। আর এভাবেই প্রতিটি অঙ্গনে আলাদা আলাদা বিশেষজ্ঞতার রসদ নিয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে কাফিলা এবং দ্রুত গতিতে আগাতে থাকে তার সুউচ্চ ও সুমহান লক্ষ্যপানে।
এই রাহবাররাই তাদের অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে উপলব্ধি করতে পারে (নানান অঙ্গনের বিশেষজ্ঞদের মধ্যকার) সামগ্রিক একতাকে। অথচ এই সামগ্রিক একতার মাঝেই থাকে নানান দিক, নানান প্রকাশভঙ্গি। তাদের মাঝে কেউ আছে জ্ঞান নিয়ে, কেউ আছে শিল্প নিয়ে, কেউ আছে আকিদা-বিশ্বাস বা চিন্তা-ফিকির নিয়ে আবার কেউবা আছে কর্ম নিয়ে। রাহবার তাদের কাউকেই ছোটো করে দেখে না, কারো কাজকেই তুচ্ছজ্ঞান করে না; আবার কাউকে তার মর্যাদার চেয়ে বড়ো করেও দেখে না।
কেবল ছোটো মানসিকতার অধিকারীরাই, সীমাবদ্ধ জ্ঞানের ধারকরাই মনে করে— শক্তি, কর্ম ও জ্ঞানের এই বিবিধ দিক ও অঙ্গনের মাঝে পারস্পরিক বিরোধ আছে। ফলে তারা দ্বীনের নামে জ্ঞানের বিরোধিতা করে কিংবা জ্ঞানের নামে দ্বীনের বিরোধিতা করে। এরাই কর্মের দোহাই দিয়ে শিল্পকে ছোটো করে দেখে এবং তাসাউফি আকিদার নাম করে প্রাণবন্ততা ও কর্মচাঞ্চল্যকে (Activeness) তুচ্ছজ্ঞান করে।
তারা মনে করে এসবের প্রতিটি বিশেষজ্ঞতাই, প্রতিটি শক্তিই অন্যান্য শক্তি বা শক্তিসমষ্টি থেকে বিচ্ছিন্ন। অথচ এসব শক্তির সবই একটি সমষ্টি এবং নির্গত হয়েছে এক নির্মল আদি উৎস থেকে। এই শক্তির সবই নির্গত হয়েছে সেই সুমহান শক্তির কাছ থেকে, যেই শক্তি জগতের সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান অর্থাৎ আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছ থেকে। কিন্তু সীমাবদ্ধ জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তিরা এই সামগ্রিক একতাকে বুঝতে পারে না। এই একতাকে বুঝতে পারে কেবলই সেই সুমহান রাহবাররা। কেননা, তাদের রিশতা যে সকল শক্তির সেই আদি উৎসের সাথে। আর সেই উৎস থেকেই তারা গ্রহণ করে সকল মদদ।
এই ধরনের রাহবারের সংখ্যা কম... গোটা মানবেতিহাসই কম...। কম না বরং দুর্লভই বলা চলে। কিন্তু তাদের সংখ্যা যথেষ্ট অর্থাৎ মানুষের প্রয়োজনমাফিক পর্যাপ্ত। কেননা জগতের মালিক আল্লাহই তাদের গড়ে তুলেন এবং প্রয়োজনের ক্ষণে নির্ধারিত মুহূর্তে তিনিই তাদের পাঠান।
সাইয়িদ কুতুব I

নীল দলের ৭১ শিক্ষক মব নিয়ে বিবৃতি দিছে। দেশ নাকি মবের মুল্লুক হয়ে যাচ্ছে। তারা মানবাধিকার নিয়ে খুব চিন্তিত। আওয়ামীলীগ যে...
10/07/2025

নীল দলের ৭১ শিক্ষক মব নিয়ে বিবৃতি দিছে। দেশ নাকি মবের মুল্লুক হয়ে যাচ্ছে। তারা মানবাধিকার নিয়ে খুব চিন্তিত। আওয়ামীলীগ যে একটা শয়তানি স্পিরিটের নাম, তার উৎকৃষ্ট নমুনা হচ্ছে এই শিক্ষকরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানও তাদের কাছে মব। তারা এখন মব নিয়ে চিন্তিত; কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় খুনি হাসিনা যখন সারাদেশে মানুষ মারছিল, তখনও তারা হাসিনার পক্ষে মিছিল করেছে।

10/07/2025

বই পড়ার ব্যাপারে আলেমগণের পরামর্শ..................

১. পড়া শুরু করার পূর্বে নিয়ত করো। ইমাম শাফেয়ী বলেন, “যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জ্ঞান অর্জন করতে চায়, সে জ্ঞানের বরকতে উপনীত হয়।” জ্ঞানকে শুধুমাত্র তথ্য হিসেবে নয়—জ্ঞান যেন তোমার রূপান্তর ঘটায়, বিকশিত করে এবং হাকীকতের নিকটবর্তী করে।

২. অল্প করে হলেও প্রতিদিন পড়ো। ইবনে খালদুন বলেন, “জ্ঞানকে যদি ছোট ছোট অংশে গ্রহণ করা হয়, তবে সে জ্ঞান স্থায়ী হয়।” একসাথে বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করে পরে হাল ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে, দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় পড়ার জন্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এটি মানস (যিহিন) ও কলবকে জাগ্রত রাখে।

৩. পড়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করো। ইমাম গাজ্জালী বলেন, “জ্ঞান অর্জনের জন্য সর্বাধিক উপযুক্ত সময় হলো, যখন যিহিন বা মানস সবচেয়ে শাণিত থাকে।” সে সময়টি হলো ফজরের পর ও রাতের নিরবতা।

৪. পড়ার পূর্বে নিজেকে প্রস্তুত করো। বই হাতে নেওয়ার আগে নিজের অন্তরকে ফাঁকা করো। দৈনন্দিন সমস্যা, মোবাইল ও ব্যস্ততা থেকে নিজেকে কিছু সময়ের জন্য মুক্ত রাখো। বইয়ের দিকে রূহানী দৃষ্টিতে অগ্রসর হও—তাহলেই বইও নিজেকে তোমার সামনে মেলে ধরবে।

৫. মোবাইলকে এক পাশে রেখে দাও। বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো ভার্চুয়াল জগৎ। ইবনুল জাওযী বলেন, “মানসকে মশগুল করে রাখে এমন সব বিষয়ই অন্তরে পর্দা সৃষ্টি করে।” পড়ার সময় পুরো মনোযোগ বইয়ের দিকে রাখো।

৬. বই পড়ার সময় হাতে কলম রাখো। বদিউজ্জামান সাইদ নুরসি বলেন, “মুতালাআ মূলত লেখার মাধ্যমে পূর্ণতা পায়।” পড়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো দাগ দিয়ে চিহ্নিত করো। কলম যিহিনকে গভীর করে তোলে, চিন্তাকে স্থায়িত্ব দেয়।

৭. যে অংশ বোঝা যায় না, তা পাশ কাটিয়ে যেও না। বরং সেখানে থেমে চিন্তা করো ও অনুধাবনের চেষ্টা করো। ইমাম ইবনে রুশদ বলেন, “যিহিন মূলত কষ্টের মাধ্যমে পরিপক্ব হয়।” সহজে পাওয়া জ্ঞান নয়, কষ্ট করে অর্জিত জ্ঞানই পরিবর্তন আনে।

৮. একসাথে অনেকগুলো বই পড়ার পরিবর্তে একটি বই মনোযোগ দিয়ে পড়ো। অনেক বিষয়ে একসাথে পড়া যিহিনের মনোযোগ নষ্ট করতে পারে। যে বই হৃদয়ে গেঁথে যায়, তা শত বইয়ের চেয়েও উত্তম।

৯. বই পড়াকে রুটিনে পরিণত করো। নীরব, সুন্দর ও আলোকোজ্জ্বল একটি স্থানে পড়ার সময়কে যেন ইবাদতের মতো মনে হয়—হাকীকত এমন পরিবেশেই উদ্ভাসিত হয়।

১০. পড়ার সময় বইয়ের প্রতি সম্মান দেখাও। ইমাম মালেক যখন জ্ঞানের মজলিসে যেতেন, তখন সর্বোৎকৃষ্ট পোশাক পরতেন। তুমি জ্ঞানের প্রতি যত সম্মান দেখাবে, ততই জ্ঞান তোমার প্রতি অনুগ্রহ বর্ষণ করবে। বই রহস্যে পূর্ণ এক বন্ধু—তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করো।

১১. বিষয়ভিত্তিক বই নির্বাচন করো। শুধুমাত্র জনপ্রিয় বা প্রস্তাবিত বই নয়—যে বিষয়ে তোমার জানা প্রয়োজন, সেই বিষয়ে লেখা বই পড়ো। যে বই তোমার রূহের তৃষ্ণা মেটাবে, সেই বই-ই তোমার জন্য উপযুক্ত।

১২. যিহিন ক্লান্ত বা ব্যস্ত থাকলে পড়ো না। কারণ ক্লান্ত মানসিকতা নিয়ে বইয়ের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা যায় না। ইবনে হাযম বলেন, “জ্ঞান অর্জনকারীর প্রথম দায়িত্ব নিজের মননকে পরিশুদ্ধ করা, এরপর হাকিকতের দিকে ধাবিত হওয়া।”

১৩. বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করো—ফিকশন, ইতিহাস, দর্শন, সাহিত্য ও জীবনীমূলক বই পড়ো। এতে দুনিয়াকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গীতে দেখতে শিখবে। জ্ঞানকে এক চোখে নয়, অনেক চোখে দেখার চেষ্টা করো।

১৪. যা পড়বে, তা অন্যকে বোঝানোর চেষ্টা করো। বুঝানোর কেউ না থাকলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে বোঝাও, অথবা নিজের ডায়েরিতে লিখে রাখো। এতে স্মরণশক্তি বাড়বে ও অর্থ স্থায়িত্ব পাবে।

১৫. যা শিখবে তা জীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা করো। কেবল জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না। ইমাম আযম আবু হানিফা বলেন, “জ্ঞান তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা কাজে রূপান্তরিত হয়।”

১৬. তোমার নোটগুলো সংরক্ষণ করো। ভুলে যাওয়া জ্ঞানকে স্মরণে রাখার জন্য ডায়েরি রাখো। প্রতিটি লাইন হলো অতীতের ‘তুমি’র বর্তমান ‘তুমি’কে পাঠানো এক শুভেচ্ছা।

১৭. বইয়ের সঙ্গে চিন্তার সম্পর্ক তৈরি করো—এটি যিহিনকে গভীরতা দান করে।

১৮. নিজে পড়ার জন্য মাসিক ও বাৎসরিক লক্ষ্য নির্ধারণ করো। লক্ষ্যহীনতা মানে পথ হারানো, আর পরিকল্পনা হলো বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্বকে দীর্ঘস্থায়ী করার চাবিকাঠি।

১৯. প্রভাবিত করা লাইনগুলো লিখে রাখার জন্য নির্দিষ্ট ডায়েরি রাখো। একদিন সেই লাইনগুলোই তোমাকে নতুন করে জাগিয়ে তুলবে।

২০. লাইব্রেরি পর্যবেক্ষণ করো। যে বই আকর্ষণ করে না, তা এক পাশে রাখো—প্রতিটি বইয়ের নিজস্ব সময় আছে। সময় এলে সেই বই-ই নিজে থেকেই তোমাকে ডাক দেবে।

২১. পঠিত বিষয়কে আত্মস্থ করার জন্য সময়ের প্রয়োজন। ধৈর্য ধরো। জ্ঞান যিহিনে স্থান পাওয়ার পূর্বে তা হৃদয়ের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে যেতে হয়।

২২. যেসব বই পড়তে কষ্ট হয়, সেগুলোকে ভয় পেয়ো না। কঠিন বই যিহিনকে উন্মুক্ত করে এবং রূহে গভীরতা নিয়ে আসে। সহজে পাওয়া তথ্য নয়—যে জ্ঞান কষ্ট করে অর্জিত হয়, সেটাই তোমাকে সত্যিকার অর্থে জ্ঞানী করে তোলে।

২৩. পড়ার সময়কে পবিত্র মনে করো। যেমন নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করো, তেমনি পড়াশোনাও নির্ধারিত সময়ে করো। কারণ এটিও আত্মশুদ্ধির একটি পথ।

২৪. পড়াশোনার অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করো—সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, বন্ধুদের সঙ্গে কিংবা বই পাঠের গ্রুপে। এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করা অন্যদেরকেও উৎসাহিত করবে।

২৫. বইয়ের সঙ্গে গল্প করো। বইকে কেবল জ্ঞানের উৎস হিসেবে নয়, এক বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো দেখো। তারা তো সারাক্ষণ তোমার সঙ্গেই থাকে—তাদের কথাও শুনে দেখো।

২৬. লেখকের জীবনী জানার চেষ্টা করো। এতে লেখকের উদ্দেশ্য বুঝতে পারবে এবং বইটি তোমার সঙ্গে আরও গভীরভাবে সংযোগ স্থাপন করবে।

২৭. বইয়ের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করো। একসাথে পড়া, আলোচনা করা তোমাকে প্রাণবন্ত রাখবে। ইমাম শাফেয়ী বলেন, “একজন ভালো বন্ধু—জ্ঞানের অর্ধেক।”

২৮. নিজের জন্য একটি 'বুক কর্নার' তৈরি করো। এমন একটি স্থান, যা হবে তোমার চিন্তা, ধ্যান ও তাফাক্কুরের কেন্দ্র।

২৯. অল্প সময়ের জন্য নয়—সারাজীবন পড়ো। পড়া যেন একটি সাময়িক শখ না হয়ে ওঠে, বরং একটি জীবনধারা হয়। প্রতিটি বয়স ও অবস্থার জন্য উপযুক্ত বই আলাদা হয়ে থাকে।

৩০. বইয়ের মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তোলো। যে বিষয়গুলো পড়ো, তা-ই ধীরে ধীরে তোমার চিন্তা, কথা ও আখলাক গঠন করে। তুমি যা পড়ো, তা-ই একদিন হয়ে উঠবে।

৩১. পড়ার সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করো:
“হে আল্লাহ! এই জ্ঞানের মাধ্যমে আমার অন্তরকে আলোকিত করে দাও।”
জ্ঞান এক ধরনের নূর—দোয়ার মাধ্যমে তা অন্তরে সহজে প্রবেশ করে।

৩২. এমন মনোযোগ সহকারে পড়ো যেন পৃথিবী থেমে যায়। যখন কেউ মনপ্রাণ দিয়ে পড়ে, তখন দুনিয়ার অন্য সবকিছু গৌণ হয়ে যায়। সেই মুহূর্তেই সত্যিকারের শেখা শুরু হয়।

৩৩. ভালোভাবে বুঝার জন্য মাঝে মাঝে উচ্চস্বরে পড়ো। শ্রবণ তথ্যকে দ্রুত যিহিনে স্থান দিতে সাহায্য করে।

৩৪. চোখ বুলিয়ে পড়া আর গভীর পাঠ এক নয়। ধীরে পড়ো, প্রতিটি বাক্য চিন্তা করে পড়ো। প্রতিটি শব্দ যেন মুক্তার মতো—তাকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করো। ইমাম গাজ্জালী বলেন, “প্রত্যেকটি হরফ হিকমত ধারণ করে।”

৩৫. কোনো কোনো বই কেবল একটি লাইনের জন্য পড়া হয়। সেই একটি লাইনই পুরো জীবনধারাকে পরিবর্তন করে দিতে পারে।

৩৬. যা শিখবে, কেবল নিজের মধ্যেই রাখো না—লিখে ফেলো, আলাপ- আলোচনা করো। জ্ঞান যত বেশি ভাগ করা যায়, তা তত বেশি বরকতময় হয়ে ওঠে।

৩৭. পড়া যেন তোমাকে অহংকারী না করে তোলে। জ্ঞান বাড়লে বিনয়ও বাড়া উচিত। যে নিজেকে জানে, সে কখনোই নিজের জ্ঞানের ভারে ভেঙে পড়ে না।

৩৮. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—পড়াকে শুধু একটি কাজ মনে না করে আত্মশুদ্ধির একটি উপায় হিসেবে দেখো। যদি তোমার নিয়ত খালেস হয় এবং দিক সঠিক হয়, তবে বই তোমাকে তোমার সীমা ছাড়িয়ে উচ্চতর মর্যাদায় নিয়ে যাবে।

৩৯. প্রখ্যাত দার্শনিক মোল্লা সাদরা বলেন, “বই পড়ার উদ্দেশ্য হলো নিজেকে বইয়ের মাঝে ডুবিয়ে রাখা নয়; বরং রূহকে জাগ্রত করা। বাহ্যিক আকার থেকে অর্থের জগতে প্রবেশ করলেই আত্মা আলোকিত হয়।”

৪০. ইমাম গাজ্জালী বলেন, “নিঃসন্দেহে জ্ঞান একটি নূর। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জ্ঞান অর্জন করা ইবাদত; জ্ঞানের অনুসন্ধান করা জিহাদ; আর অজ্ঞকে শিক্ষা দেওয়া সদকা।”

সংকলন: বুরহান উদ্দিন আজাদ
(বিশিষ্ট অনুবাদক, জ্ঞান ও সভ্যতা বিষয়ক গবেষক)

06/07/2025

আশুরা সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক কিছু ঘটনা

ইতিহাসের পাতায় কিছুদিন এমন আছে, যেগুলোর গুরুত্ব শুধু কালের ধারায় নয়, বরং আসমানি বরকত, নবুয়তের স্মৃতি, আখলাকি শিক্ষা এবং ঐশী ব্যবস্থার নিদর্শন হিসেবে অক্ষয় হয়ে আছে। এসব দিবসের মধ্যে এক অনন্য মহিমাময় দিন হলো আশুরার দিন, অর্থাৎ মহররম মাসের দশম দিন।

এই দিনটির মাহাত্ম্য এতই বিস্তৃত যে, যুগে যুগে নবী-রাসুলদের জীবন, মানবতার দিশা, তাওবার কবুলিয়ত এবং সত্য-মিথ্যার চূড়ান্ত ফায়সালাও এই দিনেই ঘটেছে। তবে হ্যাঁ, আশুরা সম্পর্কিত ঐতিহাসিক সব বিবরণ সূত্রগতভাবে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়নি।

তবে ইতিহাসের নানা গ্রন্থে এসব ঘটনা নিয়ে বর্ণনায় থাকায় এসব ঘটনার ঐতিহাসিক ভেল্যু আছে—তা বলাই বাহুল্য। নিম্নে ইতিহাসের সেই চিরজাগরূক দিবসটির তাৎপর্য ও ঘটনাবলি সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরা হলো—

১. সৃষ্টির সূচনা : আশুরার দিনেই সৃষ্টি হয় আসমান-জমিনের, কলম এবং মানবজাতির পিতা আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়।

২. আদম (আ.)-এর তাওবা কবুল : ভুলের পর অনুতপ্ত হৃদয়ে আদম (আ.) আল্লাহর দরবারে ফিরে আসেন, আর এই দিনেই তাঁর তাওবা কবুল হয়।

৩. ইদ্রিস (আ.)-এর উত্থান : আশুরার দিনেই ইদ্রিস (আ.)-কে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়।

৪. নুহ (আ.)-এর নৌকার পরিত্রাণ : সৃষ্টির ইতিহাসের ভয়াবহতম প্লাবনের সময় নুহ (আ.)-এর জাহাজ এই দিনেই নিরাপদে কূলে ভেড়ে এবং জুদি পাহাড়ে অবস্থান নেয়।

৫. ইবরাহিম (আ.) ‘খলিলুল্লাহ’ হন : এই দিনেই ইবরাহিম (আ.)-কে ‘খলিলুল্লাহ’ (আল্লাহর প্রিয়তম বন্ধু) উপাধিতে ভূষিত করা হয় এবং তাঁর জন্য আগুন পরিণত হয় শীতল ও নিরাপদ ফুল বাগিচায়।

৬. ইসমাইল (আ.)-এর জন্ম : আশুরার দিনেই জন্মগ্রহণ করেন ত্যাগ ও কোরবানির প্রতীক ইসমাইল (আ.)।

৭. ইউসুফ (আ.)-এর মুক্তি : মিসরের অন্ধকার কারাগার থেকে এই দিনেই মুক্তি পান ইউসুফ (আ.) এবং পেয়ে যান রাজসিংহাসনের সম্মান।

৮. ইয়াকুব (আ.) ও ইউসুফ (আ.)-এর মিলন : দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর এই দিনেই বাবা-ছেলের পুনর্মিলন ঘটে; আনন্দের অশ্রু আর ভালোবাসার আলিঙ্গনে।

৯. মুসা (আ.) ও বনি ইসরাঈলের মুক্তি : ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তির সেতু তৈরি হয় এই আশুরার দিনে। লাল সাগর চিরে পথ তৈরি হয়, আর জালিম ফেরাউন তার সঙ্গীদের নিয়ে সলিল সমাধি লাভ করে।

১০. তাওরাতের নাজিল : মুসা (আ.)-এর প্রতি আল্লাহর কিতাব ‘তাওরাত’ এই দিনেই নাজিল হয়।

১১. সুলাইমান (আ.)-এর রাজত্ব ফিরে পাওয়া : কিছু সময় রাজত্ব থেকে বঞ্চিত থাকার পর সুলাইমান (আ.) পুনরায় রাজসিংহাসনে বসেন এই দিনে।

১২. আইয়ুব (আ.)-এর রোগমুক্তি : কষ্টে আর ধৈর্যে ভরা এক দীর্ঘ পরীক্ষার পর আইয়ুব (আ.)-কে তাঁর কঠিন রোগ থেকে আরোগ্য দান করা হয় এই দিনেই।

১৩. ইউনুস (আ.)-এর মুক্তি : ৪৪ দিন মাছের পেটে অবস্থান করে অবশেষে মুক্তি লাভ করেন ইউনুস (আ.) এই আশুরার দিনেই।

১৪. ইউনুস (আ.)-এর জাতির তাওবা কবুল : এই দিনে ইউনুস (আ.)-এর জাতি তাওবা করে এবং আল্লাহর গজব থেকে রক্ষা পায়।

১৫. ঈসা (আ.)-এর জন্ম : এই পবিত্র দিনে জন্মগ্রহণ করেন ঈসা (আ.)।

১৬. ঈসা (আ.)-এর উত্তোলন : এদিনেই আল্লাহ তাআলা তাঁকে শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করে আসমানে উঠিয়ে নেন।

১৭. প্রথম বারি-রহমত : এই দিনেই পৃথিবীতে প্রথমবারের মতো রহমতের বৃষ্টি নেমেছিল।

১৮. কাবার নতুন গিলাফ পরিধান : কুরাইশ গোত্রের লোকেরা প্রতিবছর এই দিনে কাবা শরিফে নতুন গিলাফ পরাতেন।

১৯. খাদিজা (রা.)-এর সঙ্গে নবিজি (সা.)-এর বিবাহ : এই মহান দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.) বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন উম্মুল মুমিনিন খাদিজা (রা.)-এর সঙ্গে।

২০. কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা : এই আশুরার দিনেই কুফার বিশ্বাসঘাতকরা শাহজাদা হুসাইন (রা.), নবীজির (সা.) প্রিয় নাতি এবং ফাতেমা (রা.)-এর নয়নমণিকে নির্মমভাবে শহীদ করে। কুফার রক্তাক্ত প্রান্তরে সত্য, সাহস ও ত্যাগের ইতিহাস রচিত হয়।

২১. কিয়ামতের দিন : হাদিসসমূহের আলোকে অনেক আলেমের অভিমত, কিয়ামতের ভয়াবহ দিনটিও হবে এই আশুরার দিনেই। (নুজহাতুল মাজালিস, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৪৭-৩৪৮, মাআরিফুল হাদিস, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা : ১৬৮)

লেখক : শিক্ষক, গবেষক ও প্রাবন্ধিক

06/07/2025

সেকুলারিজমের ইতিহাস শেষ হতে চলেছে। এটা পশ্চিমা ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে উদ্ভূত হয়েছিল মধ্যযুগে খ্রিস্টান চার্চের খবরদারির প্রতিক্রিয়া হিসেবে। জাতীয়তাবাদ এবং লেসেফেয়ার অর্থনীতি ও রাজনীতির সহচর হিসেবে সেকুলারিজম তার ইনিংস খেলে ফেলেছে। এই ত্রয়ী একটা সংহতি গড়ে তুলেছিল, একসাথে চলেছিল। জাতীয়তাবাদ এখন আর রাজনীতির খোদা নয়। আন্তর্জাতিকতাবাদ ও পারস্পরিক নির্ভরশীলতা উনবিংশ শতাব্দীর জাতীয়তাবাদের রূপ পাল্টে দিয়েছে। লেসেফেয়ার নীতিও আর অর্থনীতি বা রাজনীতির খোদা নয়। সমকালীন রাষ্ট্র ক্রমশ একটি মতাদর্শিক রাষ্ট্রে এবং সমকালীন অর্থনীতি ক্রমশই একটি কল্যাণমূলক অর্থনীতিতে রূপ নিচ্ছে, যেখানে রাষ্ট্রের ইতিবাচক ভূমিকা স্বীকৃত। এই পাল্টে যাওয়া ঐতিহাসিক বাস্তবতায়, সেকুলারিজম ক্রমেই আরও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। এখন প্রতিটি জাতি উপলব্ধি করছে যে, তাদের একটি আদর্শের প্রয়োজন। পাবলিক পলিসির জন্য কিছু ইতিবাচক মৌলিক মূল্যবোধগত মানদণ্ড থাকা জরুরি, যা এই নেতিবাচক দর্শন—সেকুলারিজম—প্রদান করতে অক্ষম। সভ্যতার ভবিষ্যৎ বিকাশ কেবল একটি মতাদর্শ ও একটি ইতিবাচক কর্মসূচির মাধ্যমেই সম্ভব।

এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মুসলিম জাহানে সেকুলারিজমের অভিজ্ঞতা নিতান্তই বিভীষিকাময় হয়ে উঠেছে। আপনি কামাল আতাতুর্কের শাসনাধীন তুরস্ক দেখুন, অথবা দুই শাহের শাসনামলের ইরান, কিংবা মিশর, পাকিস্তান, আলজেরিয়া বা পশ্চিম এশিয়ায় সেকুলারিজমের অন্যান্য স্বল্পস্থায়ী অভিজ্ঞতার দিকে তাকান—সর্বত্রই দেখা যাবে, সেকুলারিজম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে একনায়কতান্ত্রিক শাসনের মাধ্যমে, এবং তা টিকে থেকেছে যতদিন সেই একনায়কতন্ত্র টিকে ছিল। যেই মুহূর্তে জনগণ তার স্বাধীন ইচ্ছা প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে, তারা সেই একনায়কতান্ত্রিক শাসনগুলোকে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে। সংস্কৃতির ইতিহাসের একজন নামকরা অধ্যাপক, ফিল্মার এস. সি. নর্থরপ খুবই সংক্ষেপে মন্তব্য করেছেন যে, মুসলিম জগতে ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্র একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন—

“আমার বিশ্বাস, এটাই এক অন্যতম কারণ যে, এ ধরনের আইন (অর্থাৎ ধর্মনিরপেক্ষ আইন) সাধারণত প্রথমে একজন একনায়কের মাধ্যমেই প্রবর্তিত হয়। এটি কোনও গণআন্দোলনের মাধ্যমে আসতে পারে না, কারণ জনসাধারণ এখনও পুরোনো ঐতিহ্যের মধ্যেই রয়েছে।” (দেখুন: F.S.C. Northrop, Colloquium on Islamic Culture, Princeton University Press, 1953, পৃষ্ঠা ১০৯)

সেকুলারিজম যখনই এবং যেখানেই উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে একনায়কতান্ত্রিক শাসকদের মাধ্যমে, তা সমাজে সৃষ্টি করেছে সামাজিক বিভাজন, মতাদর্শগত সঙ্কট ও রাজনৈতিক অস্থিরতা। জাতীয় সম্পদ নষ্ট হয়েছে সেকুলার স্বৈরশাসকদের সাথে ইসলামপ্রাণ জনসাধারণের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে। একটি সমাজ, যে সমাজ নিজের মধ্যেই দ্বন্দ্বে জর্জরিত, তা কখনো মহৎ কিছু অর্জন করতে পারে না। বরং, এটি পরিণত হয় উপনিবেশবাদ-উত্তর নতুন প্রভুদের সহজ শিকারে, যারা ওঁত পেতে থাকে সুযোগের অপেক্ষায়। মুসলিম জাহানে সেকুলারিজমের অভিজ্ঞতা এতটাই ভয়াবহ হয়েছে যে, এটার পুনরাবৃত্তির আর কোনও সুযোগ নেই। এর একমাত্র বিকল্প হলো—জনগণের আকিদা-বিশ্বাস ও মূল্যবোধের সঙ্গে সংঘাতে না জড়ানো, বরং আন্তরিকভাবে সেই মূল্যবোধগুলোকে ধারণ ও বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা।

প্রফেসর খুরশিদ আহমাদ

মহররমের শিক্ষা, মাওলানা মওদূদী রহ.
05/07/2025

মহররমের শিক্ষা, মাওলানা মওদূদী রহ.

04/06/2025

“জামায়াত মানেই ইসলাম নয়” কিংবা “জামায়াতে ইসলামীতে ইসলাম নেই” - এই কথাগুলা আপনারা প্রচুর শুনে থাকবেন। অনেক স্মার্ট আর নিরপেক্ষ শোনালেও বাস্তবে এগুলো ডিপ্লি প্রবলেমেটিক বক্তব্য এবং খুব চতুর এক প্রোপাগান্ডার অংশ।
কেউই বলছে না যে জামায়াত এককভাবে ইসলাম রিপ্রেজেন্ট করে, খোদ জামায়াত নিজেকে ইসলামের একচ্ছত্র ঠিকাদার বলে নাই। কিন্তু এই নির্দিষ্ট বয়ানটা বারবার শুধু জামায়াতকে টার্গেট করে ব্যবহার করা হয় কেন?
উদ্দেশ্য ক্লিয়ার। ইসলামী রাজনীতি মানেই সন্দেহজনক, আর যারা ইসলামকে রাষ্ট্র আর সমাজের কেন্দ্রে আনতে চায়, তাদের ধর্মীয় নৈতিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলা। এই ন্যারেটিভ মূলত লিব্রেল সেক্যুলার ফ্রেমওয়ার্ক থেকে উঠে আসছে বলা যায়, যেইটা চায় ইসলাম হোক শুধু ব্যক্তিগত আর মসজিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ, সোশ্যাল ফেব্রিক চেঞ্জ করার কোন এজেন্ডা যেন না থাকে।
ফলে “জামায়াতে ইসলামীতে ইসলাম নেই” বলা মানে শুধু জামায়াতকে নয়, গোটা ইসলামি পলিটিক্যাল ভিশনকেই ডিসমিস করে দেওয়া।
আয়রনিকাল ব্যাপার হইল, লিব্রেল রাজনীতির ধ্বজাধারীরা এই জিনিস ফলাও করে প্রচার করে।

Send a message to learn more

“দাঁড়িপাল্লা” প্রতীক  ফিরে পেলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
01/06/2025

“দাঁড়িপাল্লা” প্রতীক ফিরে পেলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hafez Salah Uddin posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Hafez Salah Uddin:

Share

Category