24/07/2025
নবিজির চিঠি
মুয়াজ ইবনু জাবাল রাযি. এর ছেলে মারা গেলে, রাসুলুল্লাহ সা. তাকে সমবেদনা জানিয়ে এই চিঠিটি লিখেন—
بِسْمِ اللهِ الرحمنِ الرحيمِ من محمدٍ رسولِ اللهِ إلى معاذِ بنِ جبلٍ سلامٌ عليكَ فإنِّي أحمَدُ إليكَ اللهَ الَّذِي لا إلهَ إلّا هو.
أمّا بعدُ فَأَعْظَمَ اللهُ لَكَ الأَجْرَ وأَلْهَمَكَ الصبرَ ورَزَقَنا وإيّاكَ الشكرَ فإنَّ أنفُسَنا وأموالَنا وأهلَنا من مواهِبِ اللهِ الهنِيَّةِ وعَوارِيهِ المُسْتَوْدَعَةِ متَّعَكَ اللهُ بِهِ في غِبْطَةٍ وسرورٍ وقَبْضَهٍ منكَ بِأَجْرٍ كثيرٍ الصلاةُ والرحمةُ والهدى إنِ احتسبْتَهُ فاصْبِرْ ولا يُحْبِطْ جزَعُكَ أجْرَكَ فَتَنْدَمَ واعلمْ أنّ الجزعَ لا يردُّ مَيِّتًا ولا يَدْفَعُ حُزْنًا وما هو نازِلٌ فقَدْ كانَ والسلامُ.
“বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহর পক্ষ থেকে মুয়াজ ইবনু জাবালের কাছে চিঠি।
তোমার প্রতি আমার সালাম। আমি তোমার কাছে (লিখে) পাঠাচ্ছি আল্লাহর হামদ (প্রশংসা), যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই।
তারপর (কথা হচ্ছে), আল্লাহ তায়ালা তোমার সওয়াব ও প্রতিদান আরও বাড়িয়ে দিক। তোমাকে সবর করার শক্তি দিক। তোমাকে ও আমাকে উভয়কেই তাঁর শুকরিয়া আদায় করার রিজিক দিক। (জেনে রেখো,) নিশ্চয়ই আমাদের জান, মাল, পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি সবকিছুই আল্লাহর দান, তাঁর দেওয়া আমানত (অর্থাৎ এগুলোর কোনোটির মালিকই আমরা নই; আমাদের (সীমিত সময়ের জন্য) কেবলই ধার দেওয়া হয়েছে)। তাই, নির্দিষ্ট একটা সময়সীমা পর্যন্তই আমরা এগুলো থেকে উপকৃত হই; তারপর আল্লাহ তায়ালা তা আবার (আমাদের কাছ থেকে) ফিরিয়ে নেন।
আল্লাহ তায়ালা যদি কিছু দান করেন, আমাদের কর্তব্য দাঁড়ায় তার শুকরিয়া আদায় করা। আর তিনি যদি কোনো পরীক্ষায় ফেলেন, তাহলে আমাদের কর্তব্য দাঁড়ায় সবর করা। তোমার সন্তানও আল্লাহর দেওয়া সুখকর এক নিয়ামত ছিল। ছিল আল্লাহর দেওয়া এক আমানত। এই ছেলের মাধ্যমেই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপকৃত করেছেন সুখ ও সাচ্ছন্দ্যের সময়কালে। আবার, (নির্ধারিত সময়ে) তিনি তোমার কাছ থেকে এই আমানত নিয়ে নিয়েছেন আর বিনিময়ে দান করেছেন অগণিত সওয়াব (প্রতিদান)। এখন তুমি যদি (এর মাধ্যমে) সওয়াবের আশা কর, তাহলে তোমার জন্য রয়েছে সালাত, রহমত ও হিদায়াত। তাই, তুমি ধৈর্য ধর। সামান্য অধৈর্য হয়ে তুমি তোমার প্রতিদান বরবাদ কর না; নইলে পরে পস্তাবে। (জেনে রেখো,) তোমার অধৈর্য তো আর তোমার সন্তানকে ফিরিয়ে আনবে না, তোমার দুঃখ-ব্যাথা উপশমও করবে না। বরং মনে রাখ, যা হওয়ার তাই হয়েছে (তবেই দুঃখ-ব্যাথা কিছুটা উপশম হবে)। তোমার প্রতি আমার সালাম রইল।”
(হাকিম; আল মুসতাদরাক : ৫১৯১, তাবারানি; আল কাবির : ১৬৭৪০, তাবারানি; আল আওসাত : ৮৩)