30/10/2025
রাজীব সাহেব বয়স ষাট ছুঁই ছুঁই। অবসরপ্রাপ্ত কলেজ অধ্যাপক। সারাজীবন বই, ছাত্রছাত্রী আর নিঃসঙ্গতার মাঝেই কেটে গেছে। স্ত্রী মারা গেছেন বহু বছর আগে, একমাত্র ছেলে বিদেশে চাকরি করে—মাসে একবার ফোন করে।
বাড়ির পাশেই নতুন ভাড়াটিয়া এসেছে—এক তরুণী, নাম নীলা। বয়স তেইশ-চব্বিশের বেশি নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে, পাশাপাশি অনলাইন কাজ করে সংসার চালায়।
প্রথমদিকে শুধু “সালাম” “কেমন আছেন চাচা” এই পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে দেখা গেল, দু’জনের মধ্যে অদ্ভুত এক বন্ধুত্ব গড়ে উঠছে। নীলা প্রায়ই রাজীব সাহেবের বারান্দায় এসে বসে—চা খায়, বই নিয়ে গল্প করে, পুরোনো দিনের কথা শোনে।
একদিন বৃষ্টি পড়ছে, নীলা ছাতা আনেনি। রাজীব সাহেবের ছাতার নিচে দু’জন পাশাপাশি হাঁটলেন।
সেই মুহূর্তে যেন সময় থমকে গেল। রাজীব সাহেবের মনে হলো—জীবন আবার নতুন করে জেগে উঠেছে।
ধীরে ধীরে সম্পর্কটা গভীর হলো। সমাজে কানাঘুষা শুরু হলো, কিন্তু তারা কেউ তাতে পাত্তা দিল না।
নীলা একদিন বলল—
“আপনি জানেন, বয়স নয়, মানুষটাকেই ভালোবেসেছি। আপনি আমাকে যে সম্মান আর শান্তি দেন, সেটা কোনো তরুণ দিতে পারে না।”
রাজীব সাহেব চুপ করে থাকলেন, চোখ ভিজে উঠল।
শেষ পর্যন্ত দু’জনেই সিদ্ধান্ত নিলেন—বিয়ে করবেন।
অনেক প্রতিবন্ধকতা এল—পরিবার, সমাজ, হাসাহাসি—কিন্তু তারা থামেনি।
একটি ছোট কাবিন, কয়েকজন কাছের মানুষ, আর বাগানের ফুলের গন্ধে তাদের বিয়ে হলো।
বিয়ের পর রাজীব সাহেবের বাড়ি যেন আবার তরতাজা হয়ে উঠল।
নীলা সকালে গাছপালা জল দেয়, রাজীব সাহেব খবরের কাগজ পড়ে শুনান।
একদিন নীলা বলল—
“জীবন মানে বয়স নয়, অনুভূতি। আর ভালোবাসা মানে, দু’জনের একসাথে বেঁচে থাকার সাহস।”
রাজীব সাহেব হেসে বললেন—
“তুমি এলে বলেই আমার শেষ বসন্তটা ফিরে এল, নীলা।”
কপিরাইটঃ Osman's Creation