Arif Khandaker

Arif Khandaker আরিফ খন্দকার
কথাসাহিত্যিক
প্রকাশিত বই- ৫৮

রেডিও জকি-
ঢাকা এফএম 90.4
পিপলস রেডিও 91.6

আমার লেখা যেকোনো বই সংগ্রহ করুন বই জংশন বুকশপ থেকে।

ঠিক রাত বারোটা থেকে 'গল্পের রাত' নিয়ে থাকছি পিপলস রেডিও ৯১.৬ এফএম-এ Rj Arif Khandaker  শুনতে টিউন করুন এখনই।
26/08/2026

ঠিক রাত বারোটা থেকে 'গল্পের রাত' নিয়ে থাকছি পিপলস রেডিও ৯১.৬ এফএম-এ Rj Arif Khandaker

শুনতে টিউন করুন এখনই।

চার আনা জীবনের ষোলো আনাই ফাঁকি।জীবনটাকে দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবকিছু কত পরিপূর্ণ। কারও হাতে অর্থ আছে, কারও পাশে প্রিয় ম...
26/08/2026

চার আনা জীবনের ষোলো আনাই ফাঁকি।

জীবনটাকে দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবকিছু কত পরিপূর্ণ। কারও হাতে অর্থ আছে, কারও পাশে প্রিয় মানুষ আছে, কেউ নিজের স্বপ্ন পূরণ করছে, কেউ নিজের জন্য সুন্দর একটা পৃথিবী তৈরি করে নিয়েছে। কারও মুখে হাসি, কারও ঘরে আলো, কারও জীবনে উৎসব। আমরা বাইরে থেকে এসব দেখি আর মনে করি, এই মানুষটিই বুঝি জীবনের সবটুকু পেয়ে গেছে। অথচ মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য হলো, বাইরে থেকে যতটা পূর্ণ দেখায়, ভেতরে ততটা পূর্ণ থাকে না।

চার আনা জীবনের ষোলো আনাই ফাঁকি।

আমরা সারাজীবন এমন সবকিছুর পেছনে ছুটে বেড়াই, যেগুলোকে একসময় নিজের বলে মনে হয়। টাকা জমাই, বাড়ি করি, জায়গা-জমি কিনি, সম্পর্ক তৈরি করি, পরিচিতি বাড়াই, সম্মান অর্জন করি, মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার চেষ্টা করি। নিজের জন্য কত পরিকল্পনা করি। ভাবি, আরেকটু টাকা হলে ভালো থাকব, আরেকটু সফল হলে শান্তি পাব, প্রিয় মানুষটি পাশে থাকলে জীবনটা পূর্ণ হবে, নিজের একটা বাড়ি হলে নিশ্চিন্ত হব। কিন্তু একটার পর একটা পাওয়া হয়ে যাওয়ার পরও কোথায় যেন একটা শূন্যতা থেকে যায়।

কারণ মানুষ যা পায়, তার চেয়ে বেশি চায়। আর যা চায়, তা পাওয়ার আগ পর্যন্ত মনে করে সেটাই সুখের শেষ ঠিকানা।

তারপর একদিন বুঝতে পারে, এতদিন যে জীবনটাকে নিজের ভেবে এসেছিল, সেটাও আসলে তার নিজের ছিল না।

যে শরীর নিয়ে এত অহংকার, সেটাও একদিন মাটির কাছে ফিরে যাবে। যে সৌন্দর্য নিয়ে এত গর্ব, সময়ের কাছে সেটাও হার মেনে যাবে। যে অর্থের জন্য সম্পর্ক নষ্ট করেছি, সেই অর্থও একদিন অন্য কারও হাতে চলে যাবে। যে বাড়িটাকে নিজের সাম্রাজ্য ভেবেছি, সেখানে একদিন অন্য মানুষ বসবাস করবে। যে সম্পত্তির জন্য ভাইয়ের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছি, সেটার মালিকানাও একদিন বদলে যাবে। যে মানুষটাকে নিজের ভেবে আঁকড়ে ধরেছি, সেও হয়তো একদিন অন্য কারও হয়ে যাবে, অথবা মৃত্যুর কাছে আমাদের দুজনের একজন আগে হেরে যাবে।

তবুও আমরা কত আয়োজন করি!

কত অহংকার করি!

কত হিসাব করি!

কে আমাকে কতটা সম্মান দিল, কে কতটা অবহেলা করল, কে আমার চেয়ে কতটা এগিয়ে গেল, কার কাছে আমার মূল্য কতটুকু, কে আমার কথা শুনল আর কে শুনল না। সামান্য কিছু পাওয়া নিয়ে বুক ফুলিয়ে হাঁটি, আবার সামান্য কিছু হারিয়ে পৃথিবীটাকে অর্থহীন মনে করি।

অথচ এই জীবনটাই তো স্থায়ী নয়।

আমাদের হাসি যেমন স্থায়ী নয়, কান্নাও স্থায়ী নয়। সুখ যেমন চিরদিন থাকে না, দুঃখও থাকে না। আজ যে মানুষটা আমাদের সবচেয়ে আপন, কাল সে হয়তো দূরে চলে যাবে। আজ যে মানুষটা আমাদের ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারে না, সময় তাকে এমনভাবে বদলে দিতে পারে যে একদিন আমাদের অনুপস্থিতিও তার কাছে স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

জীবনের কত সম্পর্ক আসলে প্রয়োজনের সঙ্গে বাঁধা। প্রয়োজন শেষ হলে কথাও শেষ হয়, যোগাযোগও শেষ হয়, যত্নও কমে যায়। অথচ আমরা সেই সম্পর্কগুলোকেই চিরস্থায়ী ভেবে কত স্বপ্ন দেখি!

কত মানুষকে ধরে রাখার চেষ্টা করি!

কত মানুষকে বোঝাতে চাই যে আমরা তাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ!

কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানুষ নিজের প্রয়োজন, নিজের স্বার্থ, নিজের সময়, নিজের জীবনের কাছে ফিরে যায়। কেউ কারও জীবনে চিরদিনের অতিথি হয়ে থাকে না।

জীবন বড় অদ্ভুত।

এখানে মানুষ আসে খালি হাতে, তারপর সারাজীবন নিজের বলে কিছু জড়ো করতে থাকে। অথচ যাওয়ার সময় সেই হাত দুটো আবার খালিই থাকে। সঙ্গে থাকে না টাকা, বাড়ি, গাড়ি, জমি, পদবি, পরিচিতি কিংবা মানুষের প্রশংসা। সঙ্গে থাকে শুধু কিছু কাজ, কিছু স্মৃতি আর মানুষের হৃদয়ে রেখে যাওয়া কিছু অনুভূতি।

তবুও আমরা ভুলে থাকি।

মনে করি, আমাদের সময় অনেক।

ভালোবাসার কথা পরে বলব। ক্ষমা চাওয়ার কথা পরে বলব। মায়ের পাশে একটু বসব পরে। বাবার সঙ্গে গল্প করব পরে। প্রিয় মানুষটাকে সময় দেব পরে। নিজের জন্য বাঁচব পরে। শান্তি খুঁজব পরে।

এই ‘পরে’ শব্দটাই কখন যে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রতারণা হয়ে যায়, মানুষ বুঝতেই পারে না।

একদিন হঠাৎ বুঝতে পারে, যাকে ফোন করার কথা ছিল সে আর ফোন ধরবে না। যাকে কাছে পাওয়ার কথা ছিল সে আর কাছে আসবে না। যে সময়টাকে ধরে রাখার কথা ছিল, সেই সময় অনেক আগেই চলে গেছে।

তখন মনে হয়, এত দৌড়ঝাঁপের কী দরকার ছিল?

এত অভিমান কেন?

এত অহংকার কেন?

এত হিসাব কেন?

জীবন তো আসলে কয়েকটি দিনের সমষ্টি। কিছু সকাল, কিছু দুপুর, কিছু সন্ধ্যা, কিছু রাত। এর মধ্যেই আমরা জন্ম নিই, বড় হই, ভালোবাসি, ঘৃণা করি, হারাই, আবার নতুন করে বাঁচতে শিখি। তারপর কোনো একদিন সবকিছু থেমে যায়।

তাই চার আনা জীবনের ষোলো আনাই ফাঁকি।

যে জীবনকে আমরা খুব শক্ত করে আঁকড়ে ধরে আছি, সেটাই আমাদের হাত ফসকে প্রতিদিন একটু একটু করে চলে যাচ্ছে। আজকের দিনটা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। আজ যে মানুষটি পাশে আছে, তার সঙ্গে আজকের মতো করে আর কোনোদিন দেখা নাও হতে পারে। আজ যে সুযোগটি আছে, কাল সেটি নাও থাকতে পারে।

তাই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়তো অনেক কিছু পাওয়া নয়। বরং যা আছে, তার মূল্য বুঝতে শেখা।

একটু ভালোবাসা, একটু মায়া, একটু ক্ষমা, একটু সহানুভূতি, কিছু সত্যিকারের সম্পর্ক আর নিজের ভেতরের শান্তি। এর বাইরে মানুষ যত কিছুই অর্জন করুক, শেষ পর্যন্ত সবকিছুই সময়ের হাতে জমা পড়ে থাকে।

জীবন আমাদের অনেক কিছু দেখায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি কথাই শেখায়।

সবকিছু পাওয়া জরুরি নয়, সবকিছুকে নিজের ভাবাও জরুরি নয়। কারণ এই পৃথিবীতে আমরা কেউ কিছু নিয়েই আসিনি, আর কিছু নিয়েই চলে যেতে পারব না।

যতদিন আছি, ততদিন মানুষ হয়ে থাকাই বড় কথা।

কারও চোখের জলের কারণ না হয়ে, কারও মনে একটু শান্তি হয়ে থাকা বড় কথা।

কারও জীবনে বোঝা না হয়ে, আশ্রয় হয়ে থাকা বড় কথা।

কারণ শেষ বিচারে জীবন যত দীর্ঘই মনে হোক, আসলে খুব ছোট।

আর এই ছোট্ট জীবনের অধিকাংশই যদি মায়া, মোহ, অহংকার, প্রতিযোগিতা, অভিমান আর পাওয়ার হিসাবেই কেটে যায়, তাহলে সত্যিই বলতে হয়,

চার আনা জীবন, আর তার ষোলো আনাই ফাঁকি।

~ আরিফ খন্দকার Rj Arif Khandaker


#আরিফ_খন্দকারের_লেখা

আমাকে দুঃখ কেউ দিলে আমি চাই, সে ভালো থাকুক। সত্যিই ভালো থাকুক। আমার জন্য তার জীবনে কোনো অশান্তি না আসুক, কোনো অভাব না থা...
26/08/2026

আমাকে দুঃখ কেউ দিলে আমি চাই, সে ভালো থাকুক। সত্যিই ভালো থাকুক। আমার জন্য তার জীবনে কোনো অশান্তি না আসুক, কোনো অভাব না থাকুক, কোনো রাত যেন একাকিত্বে না কাটে। যে মানুষটি কোনো একসময় আমার জীবনে এসে আমাকে কাঁদিয়েছে, আমার ভেতরটা ভেঙে দিয়েছে, আমার বিশ্বাসের জায়গাগুলোতে আঘাত করেছে, তার প্রতিও আমার কোনো অভিশাপ নেই। বরং অদ্ভুতভাবে আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ।

কারণ দুঃখ মানুষকে এমন কিছু শেখায়, যা সুখ কোনোদিন শেখাতে পারে না। সুখের সময়ে আমরা মানুষকে বিশ্বাস করি, সম্পর্ককে আঁকড়ে ধরি, ভালোবাসাকে চিরস্থায়ী মনে করি। মনে হয়, এই মানুষগুলো সবসময় পাশে থাকবে। তাদের কথাগুলো সত্যি, তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো সত্যি, তাদের মায়াগুলো সত্যি। কিন্তু যখন সেই মানুষই একদিন বদলে যায়, দূরে সরে যায়, অবহেলা করে কিংবা কষ্ট দিয়ে চলে যায়, তখন জীবনের অনেক অদৃশ্য সত্যি চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

যে মানুষ আমাকে দুঃখ দিয়েছে, সে হয়তো জানেই না, তার দেওয়া সেই দুঃখ আমাকে কতটা বদলে দিয়েছে। একসময় যে বিষয়গুলো নিয়ে ভেঙে পড়তাম, সেগুলোই পরে আমাকে শক্ত হতে শিখিয়েছে। যে মানুষটিকে হারানোর ভয় ছিল, তাকে হারিয়েই বুঝেছি, কাউকে হারিয়ে জীবন থেমে যায় না। যে সম্পর্ককে শেষ আশ্রয় মনে হয়েছিল, সেটি শেষ হয়ে যাওয়ার পর বুঝেছি, নিজের ভেতরেও একটা পৃথিবী থাকে, যেখানে একা দাঁড়িয়েও বেঁচে থাকা যায়।

তাই তার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগ থাকলে হয়তো আজও আমি সেই অতীতের কাছেই আটকে থাকতাম। আমি বরং তাকে ছেড়ে দিয়েছি, তার স্মৃতিকেও ধীরে ধীরে ছেড়ে দিয়েছি। সে ভালো থাকুক, তার জীবন সুন্দর হোক। সে যাকে ভালোবাসে, তার সঙ্গে সুখে থাকুক। তার মুখে হাসি থাকুক। কারণ যে মানুষ আমাকে কাঁদিয়েছে, তার জন্যও আমার মনে খারাপ কিছু কামনা করতে ইচ্ছে করে না।

সব মানুষ আমাদের জীবনে থাকার জন্য আসে না। কেউ আসে ভালোবাসতে, কেউ আসে কিছু শেখাতে, কেউ আসে আমাদের ভেতরের দুর্বলতাগুলো চিনিয়ে দিতে। আবার কেউ কেউ আসে শুধু এই সত্যিটা বুঝিয়ে দিতে যে, সব সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত নিজের হয় না।

আমার জীবনে যে মানুষটি দুঃখ হয়ে এসেছিল, সে হয়তো আমার গল্পের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায় ছিল না। কিন্তু সে ছিল সবচেয়ে শিক্ষণীয় একটি অধ্যায়। তার কাছ থেকে আমি শিখেছি, কাউকে ভালোবাসা আর নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলা এক জিনিস নয়। কাউকে আপন ভাবা আর নিজের সমস্ত সুখ তার হাতে তুলে দেওয়া এক জিনিস নয়। আর সবচেয়ে বড় কথা, কাউকে ধরে রাখার জন্য নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

আজ তাই আমি তার দেওয়া দুঃখের জন্যও কৃতজ্ঞ। কারণ সেই দুঃখ আমাকে নিজের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। আমাকে শিখিয়েছে, মানুষ চলে গেলেও জীবন থেকে যায়। সম্পর্ক ভেঙে গেলেও সকাল হয়। প্রিয় মানুষ দূরে সরে গেলেও আকাশের রং বদলায় না। আর চোখের জল শুকিয়ে গেলে মানুষ আবারও হাসতে শেখে।

তাই তুমি ভালো থেকো। যে দুঃখ তুমি আমাকে দিয়েছ, তার হিসাব আমি রাখিনি। যে অশ্রু তুমি আমার চোখে এনেছ, তার জন্য তোমাকে দোষীও করছি না। হয়তো তোমার চলে যাওয়াটাই আমার জীবনের প্রয়োজন ছিল। হয়তো তোমাকে হারানো না হলে আমি নিজেকে খুঁজে পেতাম না।

তুমি ভালো থেকো। আর আমি তোমার দেওয়া দুঃখটুকু বুকে নিয়ে কৃতজ্ঞ থাকি। কারণ তুমি আমাকে শিখিয়ে গেছ, মানুষকে হারানোর চেয়েও বড় ব্যাপার হলো হারানোর পর নিজেকে আবার খুঁজে পাওয়া।

তোমার জন্য আমার কোনো অভিশাপ নেই। শুধু একটি নীরব প্রার্থনা আছে, তুমি ভালো থেকো। আর আমি যেন আমার জীবনের বাকি পথটুকু তোমাকে ক্ষমা করে, তোমাকে ভুলে, নিজের মতো করে সুন্দরভাবে বাঁচতে পারি।

~ আরিফ খন্দকার Rj Arif Khandaker


#আরিফ_খন্দকারের_লেখা

🌙 গল্পের রাত | আজ রাত ঠিক ১২টায়আজ রাত ঠিক বারোটায় আপনাদের সঙ্গে থাকছি Rj Arif Khandaker, ‘গল্পের রাত’ নিয়ে Peoples Radio...
26/08/2026

🌙 গল্পের রাত | আজ রাত ঠিক ১২টায়

আজ রাত ঠিক বারোটায় আপনাদের সঙ্গে থাকছি Rj Arif Khandaker, ‘গল্পের রাত’ নিয়ে Peoples Radio 91.6 FM-এ। 🎙️

গল্প, অনুভূতি, ভালোবাসা, অভিমান আর জীবনের নানা না বলা কথায় সাজানো এই রাতটুকু কাটুক আপনাদের সঙ্গে।

একইসঙ্গে Thoughts of Arif ইউটিউব চ্যানেলেও থাকছে সরাসরি লাইভ। ❤️

আপনিও যুক্ত হয়ে যেতে পারেন আমাদের এই গল্পের রাতে।
Thoughts of Arif ইউটিউব চ্যানেলটি এখনই সাবস্ক্রাইব করে রাখুন এবং রাত ১২টায় লাইভে সঙ্গে থাকুন।

📻 Peoples Radio 91.6 FM
🎙️ Rj Arif Khandaker
🌙 গল্পের রাত | রাত ১২টা
▶️ Thoughts of Arif | YouTube Live

চ্যানেলের লিংক প্রথম কমেন্টে দেওয়া থাকলো।

আপনাদের অপেক্ষায় থাকলাম। দেখা হবে গল্পের রাতে। ❤️

আমাকে তুমি প্রত্যাখ্যান করলে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে, তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছো, আমার ভালোবাসাকে অস্বীকার করেছো, আমার উ...
26/08/2026

আমাকে তুমি প্রত্যাখ্যান করলে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে, তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছো, আমার ভালোবাসাকে অস্বীকার করেছো, আমার উপস্থিতিকে তোমার জীবন থেকে সরিয়ে দিয়েছো। কিন্তু সত্যিটা একটু অন্যরকম। তুমি আসলে শুধু আমাকে প্রত্যাখ্যান করোনি, তুমি প্রত্যাখ্যান করেছো তোমার পাশে থাকা সেই মানুষটাকে, যে তোমাকে নিজের চেয়েও বেশি যত্নে রেখেছিল। তুমি ফিরিয়ে দিয়েছো সেই মানুষটাকে, যে তোমার মন খারাপের কারণ জানতে না চাইলেও তোমার নীরবতা বুঝতে চাইত, যে তোমার মুখের হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা কষ্টটুকুও অনুভব করার চেষ্টা করত।

তুমি হয়তো ভেবেছো, আমাকে ছেড়ে দিলে তোমার কিছুই হারাবে না। হয়তো মনে হয়েছে, একজন মানুষ চলে গেলে আরেকজন মানুষকে পাওয়া যাবে। পৃথিবীতে মানুষের অভাব নেই, সম্পর্কের অভাব নেই, কথা বলার মানুষের অভাব নেই। কিন্তু সবাই তো আর একইভাবে ভালোবাসে না। সবাই তোমার অভিমানকে নিজের দায়িত্ব মনে করে না। সবাই তোমার রাগের পরেও তোমার পাশে বসে থাকে না। সবাই তোমার ব্যস্ততার অজুহাতের আড়ালে তোমার অবহেলাটুকু ক্ষমা করে দিতে পারে না। আর সবাই তোমাকে পাওয়ার জন্য নিজের অনেক কিছু চুপচাপ বিসর্জনও দেয় না।

আমি তোমাকে ভালোবেসেছিলাম বলেই তোমাকে আগলে রেখেছিলাম। তোমার দুর্বলতাগুলোকে কখনো তোমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করিনি। তোমার ভুলগুলো গুনে গুনে তোমাকে ছোট করিনি। তোমার খারাপ সময়কে তোমার চরিত্রের পরিচয় বানাইনি। বরং তুমি যখন নিজের কাছেই নিজেকে অসহ্য মনে করেছো, তখনও আমি তোমাকে একটু ভালো চোখে দেখার চেষ্টা করেছি। তুমি যখন সবার কাছ থেকে দূরে সরে যেতে চেয়েছো, তখনও আমি তোমার পাশে থাকার কারণ খুঁজেছি। কারণ তোমাকে ভালোবাসা আমার কাছে কোনো সুবিধা নেওয়ার বিষয় ছিল না, ছিল যত্নের বিষয়।

তোমার হয়তো মনে থাকবে না, কিন্তু আমি তোমার ছোট ছোট প্রয়োজনগুলো মনে রাখতাম। তুমি কখন চুপ হয়ে যাও, কখন মন খারাপ করো, কখন একা থাকতে চাও, কখন একটু কথা বলার মানুষ খোঁজো, এসব বুঝতে চেষ্টা করতাম। তোমার ভালো থাকাটাকে নিজের ভালো থাকার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলেছিলাম। তুমি হাসলে আমার ভেতরেও শান্তি আসত। তুমি কষ্ট পেলে আমার নিজেরও অস্থির লাগত। তোমার জীবনে আমার জায়গাটা যতটা ছিল, তার চেয়েও অনেক বড় জায়গা আমি তোমাকে আমার জীবনে দিয়ে ফেলেছিলাম।

তাই আমাকে প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্তটা হয়তো তোমার কাছে খুব সহজ ছিল, কিন্তু আমাকে প্রত্যাখ্যান করার সঙ্গে সঙ্গে তুমি এমন একজন মানুষকেও হারিয়েছো, যে তোমাকে বিনিময়ে কিছু না চেয়ে ভালো রাখতে চেয়েছিল। যে তোমার কাছে প্রতিশ্রুতির চেয়ে বেশি চেয়েছিল তোমার সত্যিকারের উপস্থিতি। যে তোমার কাছ থেকে পৃথিবীর সব সুখ চায়নি, শুধু চেয়েছিল তুমি তার যত্নটুকুর মূল্য বুঝো।

একদিন হয়তো তুমি বুঝবে, মানুষ হারানোর কষ্ট সবসময় মানুষটাকে হারানোর কারণে হয় না। কখনো কখনো কষ্ট হয় সেই মানুষটার দেওয়া নিরাপত্তা, মায়া, যত্ন আর নির্ভরতার জায়গাটা হারিয়ে গেলে। তখন হয়তো অনেক মানুষ তোমার চারপাশে থাকবে, অনেকেই তোমার সঙ্গে কথা বলবে, কেউ হয়তো তোমাকে ভালোবাসার কথাও বলবে। কিন্তু তাদের মধ্যে এমন একজনকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে, যে তোমার ভালো থাকার জন্য নিজের মন খারাপটাকেও পাশে সরিয়ে রাখতে পারত।

তখন হয়তো তোমার মনে পড়বে, একজন মানুষ ছিল, যে তোমাকে খুব যত্নে রেখেছিল। যে তোমাকে হারানোর ভয় পেয়েও তোমাকে কখনো বন্দি করতে চায়নি। যে তোমার স্বাধীনতাকে সম্মান করেছিল, কিন্তু তোমার একাকীত্বকে কখনো অবহেলা করেনি। যে তোমার কাছে থাকার জন্য বারবার নিজের অহংকার ভেঙেছে। যে অনেকবার কষ্ট পেয়েও তোমাকে কষ্ট দেওয়ার পথ বেছে নেয়নি।

আর তখন যদি মনে হয়, তুমি আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলে, নিজেকে একটু প্রশ্ন কোরো। সত্যিই কি তুমি শুধু আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলে? নাকি তুমি এমন একজন মানুষকে প্রত্যাখ্যান করেছিলে, যে তোমাকে নিজের মানুষ ভেবে যত্নে রেখেছিল?

আমি হয়তো আজ তোমার জীবন থেকে দূরে। হয়তো আর তোমার খোঁজ নেব না, তোমার নীরবতার অর্থ বোঝার চেষ্টা করব না, তোমার মন ভালো করার দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নেব না। কিন্তু আমার দেওয়া যত্নের মূল্য কমে যাবে না শুধু তুমি সেটার মূল্য দিতে পারোনি বলে।

কারণ আমি তোমাকে ভালোবেসেছিলাম। আর ভালোবাসার সবচেয়ে সুন্দর প্রমাণ হলো, মানুষ চলে যাওয়ার পরও তার জন্য খারাপ কিছু না চাওয়া।

তাই তুমি আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছো, তাতে আমার কষ্ট আছে। অভিমান আছে। হয়তো কিছু অপূর্ণতাও থেকে যাবে। কিন্তু একটা কথা আমি জানি, তুমি আমাকে হারিয়েছো মানে শুধু একজন মানুষকে হারাওনি। তুমি হারিয়েছো এমন একজনকে, যে তোমাকে যত্নে রাখতে চেয়েছিল, আগলে রাখতে চেয়েছিল, তোমার ভাঙা জায়গাগুলোকে আরও ভেঙে না দিয়ে সযত্নে ছুঁতে চেয়েছিল।

তুমি আমাকে প্রত্যাখ্যান করোনি শুধু। তুমি প্রত্যাখ্যান করেছো তোমাকে ভালোবাসতে জানা একজন মানুষকে। আর কোনো কোনো মানুষকে হারানোর পর তার শূন্যতা তখনই বোঝা যায়, যখন তাকে আর ফিরে পাওয়ার কোনো পথ খোলা থাকে না।

~ আরিফ খন্দকার Rj Arif Khandaker


#আরিফ_খন্দকারের_লেখা

মধ্যবিত্ত জীবনে দুই বেলা মোটা চালের ভাত, দুটো মোটা কাপড় আর বাস্তবতা মেনে নিয়ে হাসিখুশি থাকাটাও যেন এক বিলাসিতা।মধ্যবিত্ত...
26/08/2026

মধ্যবিত্ত জীবনে দুই বেলা মোটা চালের ভাত, দুটো মোটা কাপড় আর বাস্তবতা মেনে নিয়ে হাসিখুশি থাকাটাও যেন এক বিলাসিতা।

মধ্যবিত্তের জীবনটা বাইরে থেকে যতটা স্বাভাবিক মনে হয়, ভেতর থেকে ততটাই হিসাবি, ক্লান্ত আর সংগ্রামের। এখানে খুব বেশি কিছু চাওয়ার সুযোগ নেই, আবার একেবারে কিছু না চেয়েও থাকা যায় না। জীবনের প্রয়োজনগুলো এতটাই সীমিত অথচ এতটাই জরুরি যে, প্রতিটি মাস শুরু হওয়ার আগেই কতগুলো হিসাব মাথার ভেতর ঘুরতে থাকে। ঘরভাড়া, বাজার, বিদ্যুৎ, গ্যাস, সন্তানের পড়াশোনা, বাবা-মায়ের ওষুধ, কারও চিকিৎসা, কারও বিয়ের খরচ, হঠাৎ কোনো বিপদ, হঠাৎ কোনো প্রয়োজন। সবকিছুর হিসাব করতে করতে মাসটা কখন শেষ হয়ে যায়, মধ্যবিত্ত মানুষ নিজেই টের পায় না।

দুই বেলা পেট ভরে ভাত খেতে পারা, শরীর ঢাকার মতো দুটো কাপড় থাকা, মাথার ওপর একটা নিরাপদ ছাদ থাকা, পরিবারের মানুষগুলো সুস্থ থাকা, মাস শেষে কারও কাছে হাত না পেতে পারা, এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই তাদের কাছে বড় অর্জন। অথচ সমাজের চোখে এগুলো কোনো অর্জনই নয়। কারণ মধ্যবিত্তের সুখ কখনো খুব জাঁকজমকপূর্ণ হয় না। তাদের সুখের কোনো বড় আয়োজন থাকে না, কোনো আলো ঝলমলে ছবি থাকে না, কোনো দামি রেস্টুরেন্টের বিল থাকে না। তাদের সুখ হয়তো গরম ভাতের ধোঁয়ার মধ্যে, মায়ের হাতের রান্নায়, বাবার ক্লান্ত মুখের হাসিতে, সন্তানের পরীক্ষায় ভালো ফলাফলে, মাস শেষে সামান্য কিছু টাকা হাতে রেখে দিতে পারায়।

মধ্যবিত্ত মানুষ খুব বেশি চায় না। সে শুধু চায় তার সংসারটা কোনোভাবে চলুক। চায়, মাসের শেষ সপ্তাহে বাজারের ব্যাগটা যেন একেবারে খালি না হয়ে যায়। চায়, সন্তান যেন তার মতো অভাবের হিসাব শিখে বড় না হয়। চায়, বাবা-মায়ের প্রয়োজনের সময় যেন বলতে না হয়, 'এই মুহূর্তে টাকা নেই।' চায়, প্রিয় মানুষটির ছোট্ট কোনো আবদার যেন বারবার ফিরিয়ে দিতে না হয়। কিন্তু চাওয়ার সঙ্গে সামর্থ্যের যে দূরত্ব, সেই দূরত্বটাই মধ্যবিত্তের সবচেয়ে বড় কষ্ট।

এই জীবনে ইচ্ছেগুলোও হিসাব করে করতে হয়।

নতুন জামা ভালো লাগে, কিন্তু পুরোনো জামাটা এখনো পরার মতো আছে। নতুন ফোন কিনতে ইচ্ছে করে, কিন্তু পুরোনো ফোনটা এখনো চলে। কোথাও বেড়াতে যেতে মন চায়, কিন্তু সামনে সন্তানের স্কুলের বেতন। প্রিয় খাবার খেতে ইচ্ছে করে, কিন্তু বাজারের দাম মনে পড়ে। নিজের জন্য কিছু কিনতে গিয়ে মনে হয়, এই টাকাটা দিয়ে ঘরের আরও একটা প্রয়োজন মেটানো যাবে। ফলে নিজের ইচ্ছেগুলো ধীরে ধীরে ছোট হতে থাকে। একসময় মানুষ নিজের প্রয়োজন আর নিজের ইচ্ছার পার্থক্যটাই ভুলে যায়।

মধ্যবিত্তের সবচেয়ে বড় অভ্যাস হলো নিজের কষ্ট লুকিয়ে রাখা।

সে খুব কষ্টে থাকলেও বলে, 'ভালো আছি।'

পকেটে টাকা কম থাকলেও বলে, 'চলে যাবে।'

অনেক কিছু না থাকলেও বলে, 'আল্লাহ যা দিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ।'

কারণ সে জানে, তার কষ্টের গল্প শুনে কেউ তার সংসারের খরচ বহন করবে না। তার দুশ্চিন্তা শুনে বাজারের দাম কমবে না। তার চোখের পানি দেখে সন্তানের স্কুলের বেতন মাফ হবে না। তাই সে কাঁদে চুপচাপ, হিসাব করে চুপচাপ, প্রয়োজন কমিয়ে চুপচাপ এবং পরদিন সকালে আবার স্বাভাবিক মানুষের মতো ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।

মধ্যবিত্তের হাসিটাও তাই অনেক সংগ্রামের ফল।

কত রাত সে দুশ্চিন্তায় ঘুমাতে পারে না, অথচ সকালে সন্তানকে দেখে হাসে। কতবার নিজের প্রয়োজন বাদ দিয়ে পরিবারের প্রয়োজন মেটায়, অথচ কাউকে বুঝতে দেয় না। কত স্বপ্ন সে নিজের ভেতরে কবর দিয়ে রাখে, শুধু পরিবারের মানুষগুলো যেন ভালো থাকে সেই জন্য। কতবার নিজের পছন্দের জিনিস না কিনে সন্তানের পছন্দের জিনিস কিনে বাড়ি ফেরে। তারপর সন্তান যখন আনন্দে বলে, 'বাবা, তুমি সবচেয়ে ভালো,' তখন সেই মানুষটির সমস্ত না পাওয়াও যেন কিছুক্ষণের জন্য পাওয়া হয়ে যায়।

এই জীবনে বিলাসিতা মানেই দামি গাড়ি, বড় বাড়ি কিংবা বিদেশ ভ্রমণ নয়। কখনো কখনো বিলাসিতা হলো কোনো হিসাব ছাড়া বাজার করা। বিলাসিতা হলো পছন্দের খাবার দেখে দাম না ভাবা। বিলাসিতা হলো মাসের মাঝামাঝি সময়ে হাতে পর্যাপ্ত টাকা থাকা। বিলাসিতা হলো অসুস্থ হলে চিকিৎসার খরচ নিয়ে ভয় না পাওয়া। বিলাসিতা হলো সন্তান কিছু চাইলে সঙ্গে সঙ্গে কিনে দিতে পারা। বিলাসিতা হলো নিজের জন্যও কিছু টাকা খরচ করতে পারা, অপরাধবোধ ছাড়াই।

আর সবচেয়ে বড় বিলাসিতা হলো বাস্তবতার কঠিন মুখোমুখি দাঁড়িয়েও হাসিখুশি থাকতে পারা।

কারণ মধ্যবিত্ত মানুষ জানে, জীবন তার জন্য সবসময় সহজ হবে না। সে জানে, সামনে আরও অনেক হিসাব, আরও অনেক দায়িত্ব, আরও অনেক অনিশ্চয়তা অপেক্ষা করছে। তবুও সে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে পরিবারের মানুষের সঙ্গে বসে চা খায়। সামান্য খাবার নিয়ে গল্প করে। সন্তানের মাথায় হাত রাখে। মায়ের পাশে বসে। বাবার সঙ্গে দুটো কথা বলে। স্ত্রী বা স্বামীর ক্লান্ত মুখ দেখে হাসার চেষ্টা করে। কারণ সে জানে, দুঃখের কাছে পুরোপুরি হেরে গেলে সংসারটা আরও কঠিন হয়ে যাবে।

মধ্যবিত্ত মানুষ আসলে খুব অল্পের মধ্যে বড় সুখ খুঁজে নিতে শেখে।

এক প্লেট গরম ভাত, পাশে ডাল আর একটু ভর্তা। বৃষ্টির দিনে জানালার পাশে বসে চা। ছুটির দিনে পরিবারের সবাই একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়া। অনেকদিন পর পছন্দের একটা খাবার রান্না হওয়া। মাসের শেষে সামান্য কিছু টাকা সঞ্চয় করতে পারা। সন্তানের মুখে হাসি দেখা। প্রিয় মানুষটি সুস্থ আছে জানতে পারা। এসব ছোট ছোট মুহূর্তই তার জীবনের বড় সম্পদ।

তবুও এই ছোট ছোট সুখের জন্যও তাকে অনেক বড় মূল্য দিতে হয়।

নিজের শখকে মেরে ফেলতে হয়। নিজের আরামকে কমিয়ে দিতে হয়। অনেক সময় নিজের স্বপ্নকে পিছিয়ে দিতে হয়। কখনো কখনো নিজের ভালো লাগার মানুষটির কাছ থেকেও দূরে থাকতে হয়, শুধু দায়িত্বের কারণে। নিজের বয়স বাড়তে থাকে, অথচ তার জীবন থামে না। শরীর ক্লান্ত হয়, মন ক্লান্ত হয়, কিন্তু দায়িত্ব ক্লান্ত হয় না।

মধ্যবিত্তের জীবন তাই এক অদ্ভুত জীবন।

এখানে মানুষ না খুব গরিব যে কারও কাছে সাহায্যের হাত বাড়াতে পারে, না এতটা স্বচ্ছল যে নিজের সব ইচ্ছা পূরণ করতে পারে। সে মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে। সমাজ তাকে দেখে স্বচ্ছল মনে করে, আর তার নিজের জীবন তাকে প্রতিদিন মনে করিয়ে দেয় সে কতটা সীমাবদ্ধ।

কেউ ভাবে, 'ওদের তো সংসার ভালোই চলে।'

কিন্তু কেউ দেখে না, সেই সংসারটা চালাতে গিয়ে মানুষটা কত কিছু থেকে নিজেকে বঞ্চিত করেছে।

কেউ দেখে নতুন জামা।

কেউ দেখে না, সেই জামা কেনার আগে পুরোনো জামাটার ছেঁড়া অংশ কতবার সেলাই করা হয়েছিল।

কেউ দেখে সন্তানের ভালো স্কুল।

কেউ দেখে না, সেই স্কুলের বেতন দিতে গিয়ে বাবা নিজের কত প্রয়োজন পিছিয়ে দিয়েছেন।

কেউ দেখে পরিবারের হাসি।

কেউ দেখে না, সেই হাসির পেছনে কত রাতের দুশ্চিন্তা জমে আছে।

মধ্যবিত্ত মানুষ তাই অভাবের সঙ্গে শুধু লড়াই করে না, সে নিজের অভাবটাকে স্বাভাবিক দেখানোর সঙ্গেও লড়াই করে। সে চায় না তার সন্তান বুঝুক, বাবা-মায়ের হাতে টাকা নেই। সে চায় না প্রিয় মানুষটি বুঝুক, তার ইচ্ছেটা পূরণ করতে গিয়ে তাকে কতটা হিসাব করতে হয়েছে। সে চায় না সমাজ তাকে অসহায় ভাবুক।

তাই সে হাসে।

হয়তো সেই হাসির পেছনে কান্না থাকে।

তবুও হাসে।

কারণ সংসার তাকে কাঁদার বিলাসিতা পর্যন্ত সবসময় দেয় না।

মধ্যবিত্ত জীবনের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হয়তো এখানেই। এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা ভালোবাসতে জানে। সামান্য খাবার ভাগ করে খেতে জানে। অল্পের মধ্যে আনন্দ খুঁজে নিতে জানে। নিজের জন্য না হলেও আপনজনের জন্য স্বপ্ন দেখতে জানে। নিজের কষ্টের কথা না বলে অন্যের কষ্ট শুনতে জানে।

তাদের ঘরে হয়তো দামি আসবাব নেই, কিন্তু মায়া আছে। বড় আয়োজন নেই, কিন্তু আন্তরিকতা আছে। প্রচুর টাকা নেই, কিন্তু একে অন্যের জন্য ত্যাগ করার মানসিকতা আছে। জীবনের অনেক কিছু নেই, কিন্তু “আমরা আছি” এই অনুভূতিটুকু আছে।

আর শেষ পর্যন্ত মানুষ তো এত কিছু নিয়ে বাঁচে না।

একদিন সব হিসাব শেষ হয়ে যায়। টাকা থাকে না, সম্পদ থাকে না, চাকরি থাকে না, পদ থাকে না, অহংকার থাকে না। থেকে যায় কিছু সম্পর্ক, কিছু স্মৃতি, কিছু ভালোবাসা, কিছু মানুষের মুখ, আর কিছু মুহূর্ত যেখানে মানুষ সত্যিকার অর্থে সুখী ছিল।

তাই মধ্যবিত্তের দুই বেলা মোটা চালের ভাতকে ছোট করে দেখার কিছু নেই। দুটো সাধারণ কাপড়ও কম কিছু নয়। একটা ছোট ঘরে পরিবারের মানুষগুলো একসঙ্গে বসে খেতে পারাও কম সুখ নয়।

আসলে সুখের দাম সবসময় টাকায় মাপা যায় না।

কখনো সুখ মানে পেট ভরে ভাত খাওয়া। কখনো সুখ মানে প্রিয় মানুষগুলো সুস্থ থাকা। কখনো সুখ মানে মাসটা কোনোভাবে পার করে দেওয়া। কখনো সুখ মানে ধার না করে সংসার চালানো। কখনো সুখ মানে দীর্ঘ দুশ্চিন্তার পর এক রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়া।

আর কখনো কখনো সবচেয়ে বড় সুখ হলো, জীবনের সমস্ত বাস্তবতা, অভাব, অপূর্ণতা আর না পাওয়াকে মেনে নিয়েও নিজের মানুষগুলোর সামনে মুখে একটুখানি হাসি ধরে রাখা।

এই হাসিটা সহজ নয়।

এই হাসির পেছনে থাকে অসংখ্য ত্যাগ, অগণিত না বলা কথা, হাজারো হিসাব, কিছু অপূর্ণ স্বপ্ন আর বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখা অনেক কষ্ট।

তাই মধ্যবিত্তের হাসিকে কখনো সাধারণ হাসি ভাবতে নেই।

হয়তো সেই হাসিটাই তার সবচেয়ে বড় বিলাসিতা।

~ আরিফ খন্দকার Rj Arif Khandaker


#আরিফ_খন্দকারের_লেখা

হাসপাতালে গেলে বোঝা যায়, বেঁচে থাকা কতটা জরুরি, জীবন কতটা গুরুত্বপূর্ণ।বাইরে থেকে আমরা জীবনকে খুব সহজভাবে নিই। প্রতিদিন ...
26/08/2026

হাসপাতালে গেলে বোঝা যায়, বেঁচে থাকা কতটা জরুরি, জীবন কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

বাইরে থেকে আমরা জীবনকে খুব সহজভাবে নিই। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠি, কাজে যাই, মানুষের সঙ্গে কথা বলি, অভিমান করি, রাগ করি, ভালোবাসি, কষ্ট পাই, ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করি। কখনো টাকা নেই বলে মন খারাপ করি, কখনো কারও আচরণে ভেঙে পড়ি, কখনো নিজের না পাওয়া নিয়ে আফসোস করি। মনে হয়, জীবন বুঝি শুধু পাওয়া আর না পাওয়ার হিসাব। অথচ হাসপাতালের করিডোরে কয়েক ঘণ্টা দাঁড়ালেই জীবনের সব হিসাব বদলে যায়।

সেখানে গিয়ে বোঝা যায়, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সম্পদ আসলে সুস্থ শরীর আর স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারা।

হাসপাতালের একটি বিছানায় শুয়ে থাকা মানুষটির কাছে হয়তো কোটি টাকা কোনো অর্থ বহন করে না। তার কাছে তখন সবচেয়ে বড় চাওয়া, আরেকটু ভালোভাবে শ্বাস নেওয়া। আরেকটু ব্যথামুক্ত থাকা। প্রিয় মানুষগুলোর মুখ আরেকবার দেখা। বাড়ির দরজাটা আরেকবার পার হওয়া। সন্তানের মাথায় হাত রাখা। মায়ের কণ্ঠটা আরেকবার শোনা। বাবাকে আরেকবার জড়িয়ে ধরা। প্রিয় মানুষটাকে আরেকবার বলা, 'ভালো থেকো।'

তখন বোঝা যায়, আমরা কত অপ্রয়োজনীয় জিনিসকে প্রয়োজনীয় ভেবে সারাজীবন ছুটে বেড়াই।

যে টাকা নিয়ে এত দুশ্চিন্তা, যে সম্পত্তি নিয়ে এত অহংকার, যে সম্পর্ক নিয়ে এত অভিমান, যে কথাটাকে আমরা নিজের সম্মানের প্রশ্ন বানিয়ে ফেলি, সেসবের কোনোটাই তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ থাকে না। তখন শুধু জীবনটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একটি নিঃশ্বাস, একটি হৃদস্পন্দন, একটি স্বাভাবিক সকাল, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে হাঁটতে পারা, নিজের হাতে খাবার তুলে খেতে পারা, নিজের মানুষগুলোর পাশে বসে থাকতে পারা, এগুলোই তখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মনে হয়।

হাসপাতাল মানুষকে খুব নির্মমভাবে সত্য শেখায়।

শেখায়, সুস্থ থাকা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। প্রতিদিন কোনো ব্যথা ছাড়াই ঘুম থেকে ওঠা, নিজের মতো করে হাঁটা, হাসা, কথা বলা, খাওয়া, কাজ করা, বাইরে বের হওয়া, আকাশ দেখা, বৃষ্টিতে ভেজা, সন্ধ্যার বাতাস অনুভব করা, প্রিয় কারও সঙ্গে গল্প করা, এসবই আসলে জীবনের বিশাল আশীর্বাদ।

আমরা সুস্থ থাকলে এসবের মূল্য বুঝি না। মনে হয়, এগুলো তো প্রতিদিনই হচ্ছে। অথচ একদিন শরীর একটু অসুস্থ হলেই বুঝতে পারি, স্বাভাবিক একটি দিন কত বড় পাওয়া।

হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা স্বজনদের চোখেও জীবনের মূল্য দেখা যায়। কেউ দুশ্চিন্তায় এদিক-ওদিক হাঁটছে, কেউ নীরবে দোয়া করছে, কেউ ফোনে খবর দিচ্ছে, কেউ চোখের পানি লুকিয়ে শক্ত থাকার চেষ্টা করছে। কারও কাছে প্রিয় মানুষটির জীবনই তখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিষয়। টাকা-পয়সা, মান-অভিমান, ঝগড়া, পুরোনো অভিযোগ, কে কাকে কী বলেছে, কে কাকে কষ্ট দিয়েছে, এসবের কোনো মূল্য থাকে না।

শুধু মনে হয়, মানুষটা যেন বেঁচে থাকে।

শুধু এই একটি চাওয়াই তখন সব চাওয়ার ওপরে উঠে যায়।

হাসপাতালে গেলে আরও বোঝা যায়, জীবন কতটা অনিশ্চিত। সকালে যে মানুষটি স্বাভাবিকভাবে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল, বিকেলে তাকে হয়তো হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকতে হচ্ছে। যে মানুষটি গতকাল পর্যন্ত নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করছিল, আজ তার পরিবার শুধু তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছে।

তাই জীবনের ওপর এত অহংকার করার কিছু নেই।

আমরা কেউ জানি না, আমাদের হাতে আসলে কতটা সময় আছে। আমরা ধরে নিই, আগামীকালও থাকবে। পরে কথা বলব, পরে দেখা করব, পরে ক্ষমা চাইব, পরে ভালোবাসা প্রকাশ করব, পরে বাবা-মায়ের পাশে বসব, পরে নিজের যত্ন নেব। অথচ সেই পরে সবসময় আসে না।

কখনো কখনো জীবন হঠাৎ থেমে যায়।

তাই যতদিন বেঁচে আছি, জীবনটাকে অবহেলা করা উচিত নয়। নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া উচিত। নিজের মানুষগুলোর যত্ন নেওয়া উচিত। ভালোবাসার মানুষকে ভালোবাসি বলতে ভয় পাওয়া উচিত নয়। কারও ওপর রাগ থাকলে সম্ভব হলে মিটিয়ে নেওয়া উচিত। যাকে কষ্ট দিয়েছি, সুযোগ থাকলে ক্ষমা চাওয়া উচিত। যাকে ভালোবাসি, তাকে সময় দেওয়া উচিত।

কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষ বুঝতে পারে, জীবনে সবচেয়ে বেশি আফসোস হয় না যে কত টাকা আয় করতে পারিনি, কত বড় বাড়ি বানাতে পারিনি, কত সম্পদ রেখে যেতে পারিনি। অনেক সময় সবচেয়ে বড় আফসোস হয়, যাদের ভালোবাসতাম তাদের যথেষ্ট সময় দিতে পারিনি। যাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া দরকার ছিল, তাদের কাছে অহংকার করে নীরব থেকেছি। যে মুহূর্তগুলো উপভোগ করার কথা ছিল, সেগুলো ভবিষ্যতের চিন্তায় নষ্ট করেছি।

হাসপাতাল আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবন খুব ছোট।

আজ যে মানুষটি আমাদের পাশে আছে, কাল সে থাকবে কি না আমরা জানি না। আজ যে শরীর আমাদের এত কিছু করার সুযোগ দিচ্ছে, কাল সেই শরীর আমাদের সহযোগিতা করবে কি না আমরা জানি না।

তাই জীবনকে ছোট করে দেখো না।

সবকিছু তোমার মনের মতো হবে না। সব মানুষ তোমাকে বুঝবে না। সব সম্পর্ক টিকে থাকবে না। সব স্বপ্ন পূরণ হবে না। জীবনে কষ্ট থাকবে, ব্যর্থতা থাকবে, বিচ্ছেদ থাকবে, অপূর্ণতা থাকবে। তবুও বেঁচে থাকার মধ্যে এক ধরনের অসীম সৌন্দর্য আছে।

কারণ বেঁচে থাকলে আবার শুরু করা যায়। হারিয়ে গেলে আবার খুঁজে পাওয়া যায়। ভেঙে গেলে আবার গড়ে ওঠা যায়। ব্যর্থ হলে আবার চেষ্টা করা যায়। কেউ ছেড়ে গেলে নিজের জন্য নতুন করে বাঁচা যায়। কোনো স্বপ্ন ভেঙে গেলে নতুন স্বপ্ন দেখা যায়। কিন্তু জীবনটাই যদি না থাকে, তাহলে আর কোনো সম্ভাবনাই থাকে না।

হাসপাতালের দেয়াল তাই শুধু অসুস্থতার গল্প বলে না। হাসপাতাল জীবনের মূল্য শেখায়। শেখায়, বেঁচে থাকাটাই প্রথম সাফল্য। সুস্থভাবে ঘুম থেকে ওঠাটাই বড় পাওয়া। প্রিয় মানুষদের পাশে পাওয়াটাই বড় সম্পদ। আর একটি নতুন সকাল পাওয়া মানেই সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে পাওয়া আরেকটি সুযোগ।

তাই জীবন যত কঠিনই হোক, বেঁচে থাকার জন্য কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত।

সবকিছু না পাওয়ার দুঃখের মাঝেও ভাবা উচিত, অন্তত আমি বেঁচে আছি। এখনও আমার চোখে আলো আছে, এখনও আমি প্রিয় মানুষদের দেখতে পারি, এখনও আমি কথা বলতে পারি, এখনও আমি হাঁটতে পারি, এখনও আমার হাতে কিছু করার সুযোগ আছে।

হয়তো জীবন নিখুঁত নয়। হয়তো অনেক কিছুই আমাদের মনের মতো হয়নি। হয়তো অনেক মানুষ আমাদের ছেড়ে গেছে। হয়তো অনেক স্বপ্ন মাঝপথে ভেঙে গেছে। তবুও জীবনকে ভালোবাসতে হয়।

কারণ হাসপাতালের কোনো এক নীরব রাতে, কোনো এক বিছানায় শুয়ে থাকা মানুষটি হয়তো পৃথিবীর সবকিছুর বিনিময়ে শুধু আরেকটি স্বাভাবিক সকাল চায়।

আর আমরা সেই স্বাভাবিক সকাল প্রতিদিন বিনা মূল্যে পেয়ে যাই।

তাই সকালে ঘুম ভাঙলে একটু কৃতজ্ঞ হও। প্রিয় মানুষটির মুখ দেখলে একটু বেশি ভালোবাসো। মা-বাবা পাশে থাকলে একটু বেশি সময় দাও। নিজের শরীরটাকে অবহেলা কোরো না। অকারণে সম্পর্ক নষ্ট কোরো না।

অহংকার করে ভালোবাসা আটকে রেখো না। কারণ জীবন খুব অল্প সময়ের। হাসপাতালে গেলে সত্যিই বোঝা যায়, পৃথিবীতে সবচেয়ে দামি জিনিস টাকা নয়, সম্পদ নয়, ক্ষমতা নয়, খ্যাতি নয়।

সবচেয়ে দামি জিনিস হলো একটি সুস্থ শরীর, একটি সচল হৃদয়, একটি স্বাভাবিক শ্বাস এবং আরেকটি সকাল দেখার সুযোগ।

অর্থাৎ, বেঁচে থাকা।

জীবন যতদিন আছে, ততদিন জীবনকে ভালোবাসো। কারণ একদিন যখন জীবন সত্যিই ফুরিয়ে যাবে, তখন পৃথিবীর কোনো সম্পদ, কোনো অহংকার, কোনো অভিমান, কোনো অপূর্ণ স্বপ্নই আর তোমাকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না।

আজ তুমি বেঁচে আছো। এই মুহূর্তটুকুই তোমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।

~ আরিফ খন্দকার Rj Arif Khandaker


#আরিফ_খন্দকারের_লেখা

কেউ কাউকে ধরে রাখতে পারে না। মানুষ শুধু কাউকে নিজের কাছে রাখার জন্য চেষ্টা করতে পারে, যত্ন নিতে পারে, ভালোবাসতে পারে, বা...
25/08/2026

কেউ কাউকে ধরে রাখতে পারে না। মানুষ শুধু কাউকে নিজের কাছে রাখার জন্য চেষ্টা করতে পারে, যত্ন নিতে পারে, ভালোবাসতে পারে, বারবার ফিরে আসার কারণ হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একজন মানুষ আরেকজন মানুষের জীবনে কতটা সময় থাকবে, কতটা পথ পাশে হাঁটবে, কতটা আপন হয়ে থাকবে, সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি কারও হাতে থাকে না।

আমরা অনেক সময় ভাবি, ভালোবাসা দিয়ে মানুষকে আটকে রাখা যায়। একটু বেশি যত্ন নিলে, একটু বেশি সময় দিলে, অভিমান ভাঙালে, বারবার ক্ষমা করলে, নিজের ইচ্ছেগুলো বিসর্জন দিলে হয়তো প্রিয় মানুষটা থেকে যাবে। তাই একজন মানুষ আরেকজনকে ধরে রাখার জন্য নিজের অনেক কিছু বদলে ফেলে। নিজের কষ্ট লুকায়, নিজের অভিমান গিলে ফেলে, নিজের প্রয়োজনগুলোকে ছোট করে দেখে। শুধু একটা আশায়, মানুষটা যেন না যায়।

কিন্তু সত্যিটা খুব কঠিন। কাউকে জোর করে ধরে রাখা যায় না। শরীরকে কাছে রাখা যায়, কিন্তু মনকে নয়। একজন মানুষ পাশে বসে থাকতে পারে, অথচ তার মন অনেক দূরে চলে যেতে পারে। একই ঘরে থাকা যায়, একই বিছানায় ঘুমানো যায়, প্রতিদিন কথা বলা যায়, তবুও দুজন মানুষের ভেতর এমন এক দূরত্ব তৈরি হতে পারে, যেটা কোনো স্পর্শ দিয়ে মুছে ফেলা যায় না।

ভালোবাসার সবচেয়ে অসহায় জায়গাটা হয়তো এখানেই। তুমি কাউকে সত্যি ভালোবাসতে পারো, তার জন্য নিজের সর্বস্ব দিয়ে দিতে পারো, তার সুখের জন্য নিজের অনেক সুখ ছেড়ে দিতে পারো, তবুও তার থেকে যাওয়ার নিশ্চয়তা তুমি কিনতে পারবে না।

তুমি শুধু তোমার দিক থেকে চেষ্টা করতে পারো।

তুমি বলতে পারো, 'থেকে যাও।'

তুমি অপেক্ষা করতে পারো। তুমি ভুল হলে ক্ষমা চাইতে পারো। তুমি অন্যের ভুল ক্ষমা করে দিতে পারো। তুমি সম্পর্কটা বাঁচানোর জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে পারো।
কিন্তু এরপরও যদি সে চলে যেতে চায়, তাকে আটকে রাখার মতো কোনো দরজা পৃথিবীতে নেই।

কারণ সম্পর্ক তখনই সুন্দর, যখন দুজন মানুষই থাকতে চায়। একজন মানুষ প্রাণপণে ধরে রাখবে আর অন্যজন প্রতিদিন একটু একটু করে দূরে সরে যাবে, এমন সম্পর্ককে টেনে নেওয়া যায়, বাঁচিয়ে রাখা যায় না।

কাউকে ধরে রাখার জন্য নিজের আত্মসম্মান হারিয়ে ফেলা উচিত নয়। কারণ যে মানুষটাকে রাখতে গিয়ে তোমাকে প্রতিদিন নিজের মূল্য কমাতে হয়, তার থেকে দূরে সরে যাওয়াও কখনো কখনো নিজের প্রতি ভালোবাসা হয়ে দাঁড়ায়।

মানুষকে ধরে রাখার সবচেয়ে সুন্দর উপায় হলো তাকে স্বাধীনতা দেওয়া। সে যদি তোমার পাশে থাকার কারণ খুঁজে নেয়, তবে সে থাকবে। আর যদি চলে যাওয়ার হাজারটা কারণ খুঁজে নেয়, তাহলে তোমার শক্ত করে ধরে রাখাও তাকে আটকে রাখতে পারবে না।

জীবনে কিছু মানুষ আসে থাকার জন্য, কিছু মানুষ আসে শেখানোর জন্য, আর কিছু মানুষ আসে আমাদের ভেতর এমন কিছু অনুভূতি রেখে যাওয়ার জন্য, যা তারা চলে যাওয়ার পরও থেকে যায়। আমরা চাই সবাই যেন সারাজীবন আমাদের পাশে থাকে। কিন্তু জীবন সবসময় আমাদের চাওয়া অনুযায়ী মানুষকে রেখে দেয় না।

তাই কাউকে হারানোর ভয়েই নিজেকে হারিয়ে ফেলো না।

যে মানুষ তোমার মূল্য বোঝে, তাকে বারবার ধরে রাখতে হয় না। আর যে মানুষ চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, তাকে হাজারবার আঁকড়ে ধরেও রাখা যায় না।

শেষ পর্যন্ত মানুষ কাউকে ধরে রাখতে পারে না। শুধু ভালোবাসতে পারে। শুধু যত্ন নিতে পারে। শুধু নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু করতে পারে। তারপর বাকিটা সময়ের হাতে ছেড়ে দিতে হয়।

কারণ সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো শিকল নয়।ভালোবাসা হলো এমন এক সম্পর্ক, যেখানে দুজন মানুষই প্রতিদিন নতুন করে একে অপরকে বেছে নেয়।

আর কেউ যদি তোমাকে বেছে না নেয়, তাহলে তাকে ধরে রাখার চেয়ে নিজের ভাঙা মনটাকে একটু একটু করে জোড়া লাগানোই হয়তো সবচেয়ে জরুরি।

কেউ কাউকে ধরে রাখতে পারে না। মানুষ শুধু চেষ্টাটুকু করতে পারে। তারপর যে থাকার, সে থেকে যায়। আর যে চলে যাওয়ার, সে একদিন ঠিকই চলে যায়। তোমার কাজ কাউকে সারাজীবন ধরে রাখা নয়।

তোমার কাজ হলো, যতদিন সে তোমার জীবনে আছে, ততদিন তাকে সত্যিকারের ভালোবাসা দেওয়া। আর যেদিন সে আর থাকতে চাইবে না, সেদিন কষ্ট হলেও তাকে যেতে দেওয়ার মতো শক্তিটুকু নিজের মধ্যে তৈরি করা।

কারণ ভালোবাসার শেষ প্রমাণ সবসময় কাউকে ধরে রাখা নয়। কখনো কখনো ভালোবাসার শেষ প্রমাণ হলো, চোখে পানি নিয়েও কাউকে মুক্ত করে দেওয়া।

~ আরিফ খন্দকার Rj Arif Khandaker


#আরিফ_খন্দকারের_লেখা

টাকা ছাড়া দুনিয়ার বাকিসব মিথ্যে। কথাটা শুনতে খুব কঠিন, খুব নির্মম মনে হলেও জীবনের কোনো এক পর্যায়ে এসে মানুষ এই নির্মম সত...
25/08/2026

টাকা ছাড়া দুনিয়ার বাকিসব মিথ্যে। কথাটা শুনতে খুব কঠিন, খুব নির্মম মনে হলেও জীবনের কোনো এক পর্যায়ে এসে মানুষ এই নির্মম সত্যটার মুখোমুখি হয়। ছোটবেলায় আমাদের শেখানো হয়, টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায় না, ভালোবাসা কেনা যায় না, সম্পর্ক কেনা যায় না। কিন্তু বড় হতে হতে আমরা বুঝতে শিখি, টাকা হয়তো সরাসরি সুখ কিনতে পারে না, কিন্তু সুখে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই কিনে দেয়। টাকা ভালোবাসা কিনতে পারে না ঠিকই, কিন্তু টাকার অভাব অনেক গভীর ভালোবাসাকেও ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে দিতে পারে।

পকেটে টাকা থাকলে পৃথিবীটা আশ্চর্যরকম সুন্দর মনে হয়। পরিচিত মানুষের সংখ্যা বেড়ে যায়, ফোনে খোঁজ নেওয়ার মানুষ বাড়ে, আড্ডায় গুরুত্ব বাড়ে, কথার মূল্য বাড়ে। তুমি কী বলছো, তার চেয়েও কখনো কখনো বড় হয়ে দাঁড়ায় তুমি কী অবস্থানে আছো। অথচ যখন পকেট খালি হয়ে যায়, তখন একই পৃথিবী হঠাৎ করেই অন্যরকম হয়ে ওঠে। চেনা মুখগুলো ব্যস্ত হয়ে যায়, কাছের মানুষগুলোর দূরত্ব বাড়তে থাকে, প্রয়োজনের সময় ফোন করলে ওপাশ থেকে শোনা যায় ব্যস্ততার গল্প।

টাকা না থাকলে শুধু শখ মরে না, অনেক সময় আত্মসম্মানও প্রতিদিন একটু একটু করে আহত হয়। পছন্দের কিছু দেখেও না দেখার ভান করতে হয়। প্রিয় মানুষটার জন্য সামান্য কিছু করতে ইচ্ছে হলেও সামর্থ্যের কাছে হার মানতে হয়। পরিবারের কারও প্রয়োজনের কথা শুনে বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠলেও মুখে বলতে হয়, ‘দেখছি, ব্যবস্থা করছি।’ অথচ নিজের ভেতর তুমি জানো, ব্যবস্থা করার মতো কিছুই তোমার হাতে নেই।

অভাব মানুষকে এমন অনেক সত্য দেখিয়ে দেয়, যা স্বচ্ছলতার দিনে দেখা যায় না। কে সত্যিকার অর্থে পাশে থাকে, কে শুধু সুসময়ের সঙ্গী, কে তোমাকে ভালোবাসে আর কে তোমার অবস্থানকে ভালোবাসে, অভাবের দিনগুলো খুব নিখুঁতভাবে সেই হিসাব বুঝিয়ে দেয়। তখন বোঝা যায়, পৃথিবীতে মুখের কথার চেয়ে সামর্থ্যের ভাষা অনেক বেশি শক্তিশালী।

একটা সময় মানুষ স্বপ্ন দেখে ভালোবাসার। তারপর স্বপ্ন দেখে সুন্দর একটা জীবনের। বয়স আর দায়িত্ব একটু বাড়লে সেই স্বপ্নগুলো ধীরে ধীরে টাকার অঙ্কে রূপ নিতে শুরু করে। বাবা-মায়ের চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা, সংসারের খরচ, মাথার ওপর একটা নিরাপদ ছাদ, নিজের ছোট ছোট ইচ্ছে, সবকিছুর পেছনেই প্রয়োজন হয় টাকার। তখন আর টাকা বিলাসিতা থাকে না, টাকা হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার অন্যতম প্রয়োজন।

অর্থহীন মানুষের কষ্টটা শুধু এই নয় যে সে নিজের ইচ্ছেগুলো পূরণ করতে পারে না। সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো, সে অনেক সময় তার প্রিয় মানুষগুলোর প্রয়োজনও পূরণ করতে পারে না। মায়ের ওষুধ শেষ হয়ে গেলে, বাবার চিকিৎসার প্রয়োজন হলে, সন্তানের কোনো আবদার সামনে এলে কিংবা প্রিয় মানুষটির ছোট্ট কোনো ইচ্ছা পূরণ করতে না পারলে মানুষ নিজের কাছেই ছোট হয়ে যায়। সেই অসহায়ত্বের যন্ত্রণা পৃথিবীর খুব কম মানুষই বুঝতে পারে।

মানুষ বলে, ‘আমি সবসময় তোমার পাশে আছি।’ কিন্তু জীবন যখন সত্যিই কঠিন হয়ে ওঠে, তখন পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের সংখ্যা আশ্চর্যজনকভাবে কমে যায়। কারণ সুখের গল্পের অংশীদার হওয়া সহজ, কিন্তু কারও দুঃসময়ের বোঝা বহন করা কঠিন। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বুঝতে শেখে, প্রতিশ্রুতি সুন্দর, আবেগ সুন্দর, ভালোবাসাও সুন্দর, কিন্তু বাস্তবতার দরজায় দাঁড়িয়ে এসবের পাশাপাশি সামর্থ্যও প্রয়োজন।

টাকা মানুষকে মহান করে না, চরিত্রবানও করে না। প্রচুর টাকা থাকা মানেই একজন মানুষ ভালো, এমন নয়। আবার টাকা না থাকা মানেই কেউ মূল্যহীন, সেটাও নয়। মানুষের প্রকৃত মূল্য কখনো অর্থ দিয়ে নির্ধারণ করা উচিত নয়। কিন্তু এই সমাজের বাস্তবতা হলো, অর্থ মানুষের জীবনকে সহজ করে, নিরাপত্তা দেয়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেয় এবং অনেক অপমান থেকে নিজেকে দূরে রাখার শক্তি দেয়।

জীবন তাই একসময় খুব নিঃশব্দে একটা শিক্ষা দিয়ে যায়। শুধু আবেগ দিয়ে সংসার চলে না, শুধু ভালোবাসা দিয়ে দায়িত্ব পালন করা যায় না, শুধু স্বপ্ন দিয়ে ভবিষ্যৎ তৈরি হয় না। স্বপ্নকে বাস্তবে নামিয়ে আনতে সামর্থ্য লাগে, আর সেই সামর্থ্যের বড় একটা অংশের নাম টাকা।

তাই টাকা ছাড়া দুনিয়ার বাকিসব মিথ্যে কথাটার অর্থ হয়তো এই নয় যে ভালোবাসা, মায়া, সম্পর্ক কিংবা মানবিকতার কোনো মূল্য নেই। বরং এর অর্থ হলো, অর্থের অভাব যখন জীবনের দরজায় এসে দাঁড়ায়, তখন সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতিগুলোকেও কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

মানুষ তখন বুঝতে পারে, এই পৃথিবীতে ভালোবাসার মানুষ প্রয়োজন, বিশ্বস্ত সম্পর্ক প্রয়োজন, শান্তি প্রয়োজন, কিন্তু নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মতো অর্থও প্রয়োজন। কারণ পকেটের শূন্যতা অনেক সময় শুধু মানিব্যাগে থাকে না, তার প্রভাব পড়ে স্বপ্নে, সম্পর্কে, আত্মসম্মানে এবং ভবিষ্যতের ওপর।

শেষ পর্যন্ত জীবন মানুষকে আবেগের চেয়ে বাস্তবতার পাঠটাই বেশি মনে করিয়ে দেয়। তুমি যতই ভালো মানুষ হও, যতই সুন্দর স্বপ্ন দেখো, যতই কাউকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসো, জীবন চালাতে তোমাকে বাস্তবতার মুখোমুখি হতেই হবে।

আর সেই বাস্তবতার সবচেয়ে কঠিন ভাষাটার নামই হয়তো টাকা।

কারণ এই দুনিয়ায় অনেক মানুষ তোমার চোখের জল দেখেও না দেখার ভান করবে, তোমার কষ্ট শুনেও ব্যস্ত হয়ে যাবে, তোমার অভাব জেনেও পাশ কাটিয়ে যাবে। কিন্তু তোমার সামর্থ্য থাকলে তোমার সামনে বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেক দরজাই আবার খুলে যাবে।
তখন মনে হবে, সত্যিই হয়তো—
টাকা ছাড়া দুনিয়ার বাকিসব মিথ্যে।

~ আরিফ খন্দকার Rj Arif Khandaker


#আরিফ_খন্দকারের_লেখা

Address

Dhaka Cantonment
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Arif Khandaker posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category