20/07/2026
"মানুষ হাত বাড়িয়ে দিলে সবই ছোঁয়া যায়, কিন্তু হাত বাড়িয়ে দিলে সবার বিশ্বাস ছোঁয়া যায় না। ভালোবাসা সবাই পায় না, কেউ পেয়েও অবহেলায় হারিয়ে ফেলে।" (পুরো গল্পটা পড়ার অনুরোধ রইলো)...
শাফিন আর নিলার বিয়ে হয়েছে আজ তিন বছর। প্রেম করে বিয়ে হলেও বিয়ের পর শাফিনের আচরণ কেমন যেন বদলে যেতে শুরু করে। শাফিন একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে বড় পদে চাকরি করে, ব্যস্ততা তার লেগেই থাকে। কিন্তু নিলা বুঝতো, এই ব্যস্ততা যতটুকু সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য শাফিনের অবহেলা।নিলা সারাদিন একা বাসায় থাকতো। শাফিন কখন আসবে, একসাথে বসে চা খাবে—এই আশায় বসে থাকতো। শাফিন রাতে ফিরলে নিলা হাসিমুখে এগিয়ে গিয়ে বলতো, "আজ খুব ক্লান্ত লাগছে? এক কাপ কফি বানিয়ে দেবো?"শাফিন মোবাইলের স্ক্রিন থেকে চোখ না সরিয়েই খিটখিটে গলায় বলতো, "লাগবে না। মাথাটা ধরে আছে, একটু একা থাকতে দাও তো!"নিলা চুপসে যেত। কখনো কখনো নিলা খুব শখ করে রান্না করতো। টেবিলে বসে শাফিনকে বলতো, "দেখো তো তরকারিটা কেমন হয়েছে?" শাফিন এক লোকমা মুখে দিয়ে বলতো, "নুন কম হয়েছে। রান্নাবান্নাটাও ঠিকমতো শিখতে পারলে না।" নিলার চোখ দিয়ে পানি পড়তে চাইতো, কিন্তু সে জোর করে হাসতো।নিলার ভালোবাসা ছিল খুব সাধারণ। সে শাফিনের দামি গিফট বা দামি রেস্টুরেন্টে ডিনার চাইতো না। সে শুধু চাইতো শাফিন বাড়ি ফিরে অন্তত ১০টা মিনিট তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুক। একটু জিজ্ঞেস করুক—"আজ সারাটা দিন কেমন কাটলো তোমার?" কিন্তু অবহেলা ছিল শাফিনের প্রতিদিনের রুটিন। শাফিন ভাবতো, নিলা তো ঘরেই থাকে, ও যাবে কোথায়? ও তো আমাকে ভালোবাসে, তাই ও সবসময় এমনই থাকবে। সে ভুলেই গিয়েছিল, অবহেলা করতে করতে একটা সময় পাথরেও ফাটল ধরে।একদিন নিলার খুব জ্বর হলো। শরীর এতটাই দুর্বল যে সে বিছানা থেকে উঠতে পারছিল না। শাফিনকে সকালে ডেকে বলল, "আজ শরীরটা খুব খারাপ লাগছে, একটু ডাক্তার দেখাবে?" শাফিন ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বিরক্ত হয়ে বলল, "আজ অফিসে আমার একটা ইম্পর্টেন্ট মিটিং আছে নিলা। সামান্য জ্বরের জন্য নাটক করো না। প্যারাসিটামল খেয়ে শুয়ে থাকো।" এই বলে শাফিন চলে গেল।সেদিন দুপুরে নিলার এক বান্ধবীর ভাই (যিনি ডাক্তার) এসে নিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করান। নিলার ডেঙ্গু হয়েছিল এবং প্লাটিলেট খুব দ্রুত নেমে যাচ্ছিল।অফিস শেষে রাত ৯টায় শাফিন যখন বাড়ি ফিরল, দেখল পুরো বাড়ি অন্ধকার। টেবিলে কোনো খাবার নেই। সে রেগে গিয়ে নিলার ফোনে কল দিল। ফোনটা ধরল নিলার ভাই। ওপাশ থেকে ঠান্ডা গলায় বলল, "শাফিন ভাই, নিলা লাইফ সাপোর্টে আছে। ডাক্তার বলেছেন অবস্থা খুব আশঙ্কাজনক।"শাফিনের হাত থেকে ফোনটা পড়ে গেল। বুকে একটা তীব্র মোচড় দিল। সে পাগলের মতো হাসপাতালে ছুটে গেল। কাঁচের ওপাশে শুয়ে থাকা নিস্তেজ নিলাকে দেখে শাফিনের চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে লাগল। সে আইসিইউ-র বাইরে বসে নিলার ডায়েরিটা উল্টে দেখছিল, যেটা নিলার ভাই তাকে দিয়েছিল।ডায়েরির শেষ পাতায় লেখা ছিল:"আমি শাফিনকে খুব ভালোবাসতাম। এখনো বাসি। কিন্তু প্রতিদিনের এই অবহেলাগুলো আমার ভেতরটা কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। মানুষের শরীর তখনই মরে যায় যখন তার ফুসফুস বাতাস নেওয়া বন্ধ করে, কিন্তু মানুষের মন তখনই মরে যায় যখন তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটা তাকে মূল্যহীন মনে করে। শাফিন হয়তো একদিন বুঝবে, ভালোবাসার মানুষ খোঁজা সহজ, কিন্তু অবহেলা সহ্য করে ভালোবাসার মানুষ পাওয়া কতটা কঠিন।"শাফিন ডায়েরিটা বুকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠল। যে মানুষটা প্রতিদিন তার একটুখানি মনোযোগের জন্য চাতক পাখির মতো বসে থাকতো, তাকে সে কতটা কাঁদিয়েছে! আজ শাফিনের কাছে সময় আছে, ক্যারিয়ার আছে, টাকা আছে—শুধু নিলার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার মতো নিলাটাই হয়তো আর নেই।উপসংহার (শিক্ষণীয় মেসেজ):গল্পের শেষটা হয়তো ট্র্যাজিক, কিন্তু আমাদের চারপাশে এমন গল্প প্রতিদিন ঘটছে। মনে রাখবেন, কেউ আপনাকে খুব ভালোবাসে এবং আপনার অবহেলা সহ্য করে পাশে আছে মানে এই নয় যে সে দুর্বল। এর মানে হলো তার জীবনে আপনার মূল্য নিজের আত্মসম্মানের চেয়েও বেশি। কিন্তু অবহেলা করতে করতে যেদিন সেই মানুষটার ধৈর্য ভেঙে যাবে, সেদিন কোটি টাকা ঢাললেও সেই খাঁটি ভালোবাসা আর ফেরত পাবেন না। প্রিয় মানুষকে অবহেলা নয়, সময় দিন।💬 আপনার কি মনে হয়? অতিরিক্ত অবহেলা কি সত্যিই একটা সুন্দর সম্পর্ককে শেষ করে দেয়? কমেন্টে আপনার মতামত জানান। #বাস্তব_গল্প #ভালোবাসা #অবহেলা