Nipu's Own Diary

Nipu's Own Diary Life is too short. keep smiling and stay happy :)

 #অচেনা_চেনা_মুখ #অষ্টমাংশAklima Nipu ***বাইরের ঝড়-বৃষ্টি থেমে গেলেও, আমার মনের ভেতরটা যেন এখনো অন্ধকারে ঢেকে আছে।রাতটা ...
18/10/2025

#অচেনা_চেনা_মুখ
#অষ্টমাংশ
Aklima Nipu

*
*
*

বাইরের ঝড়-বৃষ্টি থেমে গেলেও, আমার মনের ভেতরটা যেন এখনো অন্ধকারে ঢেকে আছে।
রাতটা প্রায় জেগে কাটালাম।
মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে শুধু দু’টো নাম — আদিয়ান আর তামিম।

---

সকালে অফিসে পৌঁছাতেই দেখি, গেইটের সামনে তামিম দাঁড়িয়ে।
চোখে ক্লান্তি, মুখে অপরাধবোধ।
আমি না দেখার ভান করে পাশ কাটিয়ে যেতে চাইলাম, কিন্তু সে আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়ল।

“প্লিজ, ইরা… আজ আমার কিছু কথা তোমাকে শুনতেই হবে। তারপর বাকি সিদ্ধান্ত তোমার।”

তার এমন আচরণে ভেবেচেকা খেয়ে গেলাম।
অবশেষে অফিসের পাশের কফিশপে গিয়ে বসলাম দু’জনে।

তামিম প্রথমেই বলল —
“ইরা, আমি জানি আমি অনেক বড় ভুল করেছি। কিন্তু বিশ্বাস করো, তোমার জন্য আমার অনুভূতিটা কখনো মিথ্যা ছিল না। আমি জানি না, আমি তোমাকে হারিয়েছি, না নিজেকেই।”

সে নিঃশ্বাস ফেলে চালিয়ে গেল,
“আদিয়ান ভাই সব জানত। সে-ই ছিল আমার সবচেয়ে বড় ভয়, আবার ভরসাও। আমি নিজে তাকে জানিয়েছিলাম তোমার আর আমার ব্যাপারে। ও শুধু বলেছিল তোমার খেয়াল রাখতে — কিন্তু ভালোবাসে এমন কিছু বলেনি।”

আমি চুপ করে শুনছিলাম। তামিম থেমে গিয়ে বলল,
“আর চৈতী... তুমি জানো, ও আমার শুধু বান্ধবী — আসলে ও আমার কাজিন ও। আদিয়ান ভাইয়ের ছোট বোন।”

আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল।
আর ভাবতে থাকলাম আরো কি কি সত্য আমার জানা বাকি !

চোখে ঝাপসা পানি এসে গেল। আমি প্রায় দৌড়ে কফিশপ থেকে বেরিয়ে এলাম।
আর ঠিক তখনই বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল আদিয়ান।

তার চোখে কোনো বিস্ময় নেই — যেন সে জানত আমি এখানে আসব।

আমি কাঁপা গলায় বললাম,
“সব মিথ্যে ছিল?”

সে ধীরে বলল,
“না, সত্যি ছিল। কিন্তু তুমি সত্যিটা অন্য জায়গায় খুঁজেছিলে।”

আমি স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলাম।

“তুমি ভেবেছিলে আমি হঠাৎ করে তোমার জীবনে এসেছি, কিন্তু আসলে আমি কখনোই যাইনি, ইরা। তোমার প্রতিটা পদক্ষেপ, প্রতিটা কান্না — আমি দেখেছি।”

আমার গলা শুকিয়ে এলো,
“তাহলে তামিম? সে বলেছিল আপনি আমাদের সব জানতেন…”

আদিয়ান মুখ ফিরিয়ে বলল,
“ও জানত না। কিন্তু আমি জানতাম — একদিন ওর নিজেরই তোমাকে হারাতে হবে।”

আমি চিৎকার করে উঠলাম,
“সব জানতেন, তবুও কিছু বলেননি! আমি কষ্টে ভেঙে পড়ছিলাম, আর আপনি চুপ ছিলেন!”

আদিয়ান চোখ বন্ধ করে নরম গলায় বলল,
“আমি যদি তখন আসতাম, তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে না, ইরা। তুমি ভাবতে আমি তোমার দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছি।”

চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।
“তাহলে এখন কেন এলেন?”

সে এক পা এগিয়ে এসে খুব ধীরে বলল,
“কারণ তামিম এখন তোমার কাছে আসছে, কিন্তু তার উদ্দেশ্য আর আগের মতো নেই।”

“মানে?”

“ও তোমার ওপর নজর রাখছে,” আদিয়ান বলল নিচু স্বরে।
“ওর ফোনে হ্যাকিং সফটওয়্যার ছিল। তোমার সব মেইল, মেসেজ—সব ও দেখতে পেত।”

আমার মাথা ঘুরে উঠল।
“মানে অফিসের মেইল, সেই ফটো, সেই অচেনা আইডি—সবই তামিমের কাজ?”

আদিয়ান নিঃশব্দে বলল,
“হ্যাঁ… কিন্তু এখন ও নিজের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণই হারিয়েছে। মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়েছে।”

ঠিক তখনই পেছন থেকে শোনা গেল কর্কশ কণ্ঠ —

“তুমি ভাবলে, আমায় বাদ দিয়ে তোমরা আবার শুরু করতে পারবে?”

আমরা ঘুরে তাকালাম — তামিম!
চোখ লাল, মুখে বিকৃত হাসি, হাতে ফোন।

“তুমি জানো, ইরা,” সে বলল,
“তোমার জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত আমি রেকর্ড করে রেখেছি। তুমি যতবার আমার নাম নিয়েছ, আমি শুনেছি।”

আদিয়ান এগিয়ে এলো, কিছুটা রেগে—
“তামিম, থামো।”

“না!” তামিম চিৎকার করে উঠল।
“তুমি সবসময় আমার কাছ থেকে সব কেড়ে নাও, আদিয়ান ভাই — পরিবার, সুযোগ, আর এখন ইরা!”

পরিস্থিতি কিছুটা ভয়ানক হয়ে উঠল।
আমি এক ধাপ পিছিয়ে গেলাম।
বাইরে আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

আদিয়ান বলল,
“ইরা, এখান থেকে চলে যাও।”

আমি মাথা নাড়লাম,
“না, আমি যাব না। আমি সত্যিটা নিজের চোখে দেখতে চাই।”

তামিমের চোখে জল চলে এলো।
“তুমি জানো, ইরা… আমি সত্যিই তোমায় ভালোবাসতাম। কিন্তু হয়তো আমার ভালোবাসা ভুল ছিল। আর আদিয়ান ভাই আমার সাথে কি খেলা খেলল আমি নিজেই বুঝতে পারিনি।"

সে পকেট থেকে একটা পেনড্রাইভ বের করে মেঝেতে ছুঁড়ে মারল।
“এখানে সব রেকর্ড আছে — মেইল, মেসেজ, ভিডিও… সবকিছু।
তুমি জানতে চেয়েছিলে সত্যি — এই নাও, এটাই সত্যি।”

বৃষ্টি থেমে গেল।
তামিম ধীরে সামনের দিকে হাঁটল।
ঘাড় না ঘুরিয়েই বলল,
“কিছু গল্পের শেষ আমরা নিজেরাই লিখে দিই… আর আমি লিখে ফেলেছি।”

ইরা কাঁপা হাতে পেনড্রাইভটা তুলে নিল।
ভেতরে কী আছে — জানা নেই।
কিন্তু মনে হলো, আজ কিছু একটা সত্যিই শেষ হলো…
অথচ এক নতুন শুরুর দরজা খুলে গেল।

---

রাত ১২টা।
ইরা ল্যাপটপ খুলে পেনড্রাইভটা ইনর্সাট করল।

একটা ভিডিও ফাইল ওপেন হলো।
স্ক্রিনে তামিম — চোখে অনুতাপের ছাপ।

> “ইরা, যদি তুমি এটা দেখো, জেনে রেখো — সবকিছুই ছিল আমার অপরাধবোধ।
আমি শুধু চেয়েছিলাম তুমি আমাকে মনে রাখো, যেমন আমি তোমায় রেখেছি।

আদিয়ান ভাই… আপনি ছিলেন আমার ঈর্ষা, আবার অনুপ্রেরণাও।
আর চৈতী… তুমি কেন আমার সাথে এই খেলা খেললে?
নাকি সবকিছুই তোমার ভাইয়ের প্ল্যান ছিল?”

ভিডিওটা হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল।

ইরা বোকার মতো বসে রইল…
চোখের সামনে শুধু কালো পর্দা —
আর মনে হাজারো প্রশ্ন।

---

চলবে.....

 #অচেনা_চেনা_মুখ  #সপ্তমাংশ Aklima Nipu ***রাতটা একদমই ভালো কাটলো না। মাথায় যেন হাজারটা চিন্তা ঘুরছে—তামিমের বলা কথা, আদ...
10/10/2025

#অচেনা_চেনা_মুখ
#সপ্তমাংশ
Aklima Nipu

*
*
*

রাতটা একদমই ভালো কাটলো না। মাথায় যেন হাজারটা চিন্তা ঘুরছে—তামিমের বলা কথা, আদিয়ান স্যারের আচরণ, সেই পুরনো ছবি, আর রহস্যময় মেসেজগুলো।
সবকিছু যেন এক অজানা জালে জড়িয়ে গেছে।

পরদিন সকালে অফিসে গিয়ে দেখলাম, সবাই আগের মতো কাজ করছে, যেন কিছুই হয়নি। কিন্তু আমার মন স্থির হচ্ছে না।
ঠিক তখনই পিওন এসে বললো—
“ইরা ম্যাম, স্যার আপনাকে ডেকেছেন।”

আমার বুক কেঁপে উঠলো।
আমি জানতাম, আজ কিছু একটা ঘটবেই।

রুমে ঢুকতেই দেখি, আদিয়ান স্যার জানালার পাশে দাঁড়িয়ে।

সূর্যের আলো তার মুখে পড়ে একধরনের গভীর ছায়া তৈরি করেছে।

সে ধীরে ঘুরে তাকালো আমার দিকে—
“বসো, ইরা।”

তার কণ্ঠে কোনো কঠোরতা ছিল না, বরং একটা ক্লান্তি।
আমি চুপচাপ বসে রইলাম।

কিছুক্ষণ নীরবতার পর সে বলল—
“তুমি ভাবছো, তোমার জীবনের সব অদ্ভুত ঘটনার পেছনে আমি বা তামিম কেউ না কেউ আছি… তাই না?”

আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু তাকিয়ে রইলাম।

সে একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলল।
“তাহলে শুনো পুরো গল্পটা।”

তার চোখে একরাশ অতীত জমে উঠলো।

“আমি যখন দেশের বাইরে যাই, তখন আমাদের ফ্যামিলিতে বড় ক্রাইসিস চলছিল। মা অসুস্থ, আর আমাকে অনেক দ্রুত ক্যারিয়ারে সেট হতে হতো। তামিম তখন আমার ছোট কাজিন—আমাদের দুজনের মধ্যে সবসময় বন্ধুর মতো সম্পর্ক ছিল।

তুমি আর তামিম তখন একই ইউনিভার্সিটিতে পড়ো, আমি জানতাম তোমার কথা—তুমি মেধাবী, পরিশ্রমী, আর একটু ইমোশনাল। আমি তখন তামিমের কাছে তোমার -আমার ব্যাপারে সব শেয়ার করেছিলাম।

এবং ওকে বলেছিলাম—‘তুমি যেহেতু ইরার ক্লাস সিনিয়র, ওর দিকে একটু খেয়াল রেখো। ও যেন কোনোভাবে একা না পড়ে।’

কিন্তু আমি জানতাম না, ওর খেয়াল রাখা একসময় ‘ভালোবাসা’তে পরিণত হবে।”

আমি চুপচাপ শুনছিলাম, বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে যাচ্ছে।

“তামিম প্রথমে তোমাকে নিয়ে গর্ব করতো, কিন্তু পরে ও নিজেই হারিয়ে গেল সেই আবেগে।
আমি ওকে সাবধান করেছিলাম। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।
ওর জীবনে অন্য এক সম্পর্ক চলে আসে—চৈতি। তুমি জানোই।
আমি ওর পাশে থাকতে পারিনি, বিদেশে ছিলাম, শুধু জানতাম—তুমি কষ্ট পাচ্ছো, আর ও ভুল পথে যাচ্ছে।”

আমি মুখে কোনো কথা আনতে পারছিলাম না। শুধু ঠোঁট শুকিয়ে যাচ্ছিল।

“তাহলে ফেসবুকে যিনি আমার সাথে কথা বলতেন, তিনি আপনি?”

আদিয়ান একটু থেমে বলল—
“শুরুতে আমি ছিলাম, পরে আইডিটা আমার কাছে আর ছিল না।

আমার শরীর কাঁপছে।
সব কিছু যেন উলটে যাচ্ছে সামনে।

“মানে আপনি জানতেন, আমি আপনাকে খুঁজছিলাম?”

সে নিঃশব্দে হাসল।
“তোমার প্রতিটা পোস্ট, প্রতিটা কনফেশন আমি পড়েছি।
তুমি খুঁজেছো—আমাকে।
আর আমি অপেক্ষা করছিলাম, সময় যেন নিজে তোমাকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনে।”

রুমের নীরবতায় শুধু ঘড়ির টিকটিক শব্দ।

আমি ধীরে বললাম—
“তাহলে এখন আপনি কি চান, স্যার?”

সে জানালার দিকে তাকিয়ে বলল—
“সত্যি বলতে, আমি চাই না তুমি আবার কষ্ট পাও। তবে আমি এ ও জানি না তুমি আসলে কি চাও। তামিম তোমাকে এখনো ফলো করে, কারণ ও জানে—তোমার কাছে ওর অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই। কিন্তু তুমি যদি ভাবো আমি সব কিছু প্ল্যান করে তোমার কাছে এসেছি—না, ভাগ্য আমাদের আবার মুখোমুখি করেছে।”

তার চোখে এবার এক ঝলক কোমলতা দেখা গেল।
“ইরা, আমি শুধু চেয়েছিলাম তুমি জানো—সব কিছুই কাকতালীয় নয়। কিছু সাক্ষাৎ, কিছু মানুষ… বারবার ফিরে আসে।”

আমি কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম—
“তাহলে এই মেইলগুলো, এই ছবি, এই অচেনা আইডি—সব কার কাজ?”

আদিয়ান গভীরভাবে তাকালো আমার দিকে।
“আমি ভেবেছিলাম সেটা তুমি জানো না…”

“মানে?”

সে ধীরে বলল—
“তামিমই করছে সবকিছু। সে চাইছে তুমি বিভ্রান্ত হও, যাতে আবার তার জীবনে ফিরে যাও। কিন্তু এবার আমি ওকে থামাবো।”

আমার বুকের ভেতর হঠাৎ এক ভয় জমে উঠলো।
“তামিম? কিন্তু সে তো এখন…”

“হ্যাঁ,” আদিয়ান থেমে বলল,
“সে এখন বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।”

বাইরে বজ্রপাত হলো।
রুমের আলো কেঁপে উঠলো।

আমি বুঝে গেলাম—
গল্পটা এখানেই শেষ নয়, বরং নতুন এক অন্ধকার অধ্যায়ের শুরু।

চলবে......

 #অচেনা_চেনা_মুখ  #ষষ্ঠাংশ Aklima Nipuতারপর ইরা চিন্তা করল যা হবার হবে সে সাহস করে আদিয়ান কে জিজ্ঞেস করেই ফেলবে, এতে যদি...
05/10/2025

#অচেনা_চেনা_মুখ
#ষষ্ঠাংশ
Aklima Nipu

তারপর ইরা চিন্তা করল যা হবার হবে সে সাহস করে আদিয়ান কে জিজ্ঞেস করেই ফেলবে, এতে যদি তার চাকরি চলে যায় এমনকি মানুষ টাকেও যদি হারিয়ে ফেলে তাও।।

***

তার আরো কয়েকদিন পর হঠাৎ একদিন তামিম কে দেখতে ফেলাম আমার অফিসের সামনে, সে মনে হচ্ছিল কিছু একটা বলতে যাবে আমি কোন কথা না বলেই রিক্সায় উঠে গেলাম। ওয়েট, সে আমার অফিস এড্রেস কোথায় পেল?? --আমিতো ফ্রেন্ড সার্কেল, স্যোশাল মিডিয়া কোথাও আমার নিউ জব নিয়ে কিছু শেয়ার করিনি, তারমানে সে আমাকে ফলো করছে। ওকে দেখেই মেজাজটা প্রচন্ড রকম খারাপ হচ্ছিল।

এরপর বেশকিছু দিন যাবৎ এমন হতে লাগলো, ও আমার বাসা পর্যন্ত আসলে ও আমি তাকে এভয়েড করেছি। চৈতি সাথে এত কিছু হয়ে যাওয়ার পরও আমার সাথে কি, প্রতারক একটা 😡। "তবে আমিও কি আদৌ ওকে ভালোবেসেছিলাম" হাজার প্রশ্ন ইরার মনে।

হাতে অনেক কাজ, মাথাটাও ধরেছে মনে হলো এক মগ কফি খেলে মন্দ হয় না, যেই আমি অফিস ক্যাফেটেরিয়ার তে যাবো হঠাৎ দেখি তামিম আর আদিয়ান স্যার একসাথে বসে আছে!! মানে how could it be possible !!! They know each other or it's just a coincidence. ইরা মনে মনে ঝপতে লাগলো।

অফিসের কাচের জানালা দিয়ে সূর্যের আলো ঠিকরে পড়ছে, কিন্তু আমার চোখে আলোটা পর্যন্ত কেমন ঝাপসা লাগছে।

রাতের পর রাত ঘুমাতে পারছি না। আর আজকে ক্যাফেটেরিয়ায় তামিম আর আদিয়ানকে একসাথে বসে থাকতে দেখা—তারপর থেকেই মনে হচ্ছে, আমি যেন অন্য এক বাস্তবতার মধ্যে ঢুকে গেছি।

দুজনই আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ।
একজন আমাকে ভেঙেছে…
আর অন্যজন—আমার ভেতরে কিছু নতুন করে জাগিয়ে তুলছে।
তবে এরা একে অপরকে “চেনে”? কীভাবে? কেন?

হাজারো প্রশ্ন নিয়ে আমি সেখান থেকে চলে আসি, আসলে আমার মাথা কাজ করছিল ও না আমার কি করা উচিত।

------

সকালে অফিসে এসে দেখি, ইনবক্সে একটা মেইল—
Sender: Unknown
Subject: “Do you still believe in coincidences?”

আমার বুক ধক করে উঠলো।
মেইলের ভেতরে কোনো লেখা নেই, শুধু একটা ছবি অ্যাটাচমেন্ট—
সাদা-কালো ফটো, সিদ্দেশ্বরী কলেজের বাইরের গেট।
আর ছবিটায়… আমি নিজেই!
এক হাতে ব্যাগ, চোখে টেনশন, আর তারিখটা নিচে স্পষ্ট—6th April 2017।

আমার হাত কাঁপছে।
কে তুলেছিল এই ছবি?
কোথা থেকে এলো আমার অফিস মেইলে?

ঠিক তখনই দরজায় নক।
আমি চমকে উঠে বললাম—“Come in!”

আদিয়ান স্যার ঢুকলেন, আগের মতোই নির্লিপ্ত মুখে।
“ইরা, তোমার রিপোর্টটা পেয়েছি, গুড ওয়ার্ক,”
তারপর একটু থেমে যোগ করলেন,
“are you alright? তোমার মুখ খুব ফ্যাকাশে লাগছে।”

আমি কষ্টে একটা হাসি দিলাম।
“না স্যার, সব ঠিক আছে…”

কিন্তু সে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ,
একটা অদ্ভুত দৃষ্টিতে—যেটা আমি ব্যাখ্যা করতে পারলাম না।
তার চোখে ছিল না কোনো মমতা, না কোনো দূরত্ব—
ছিল এক অজানা হিসেবের রেখা।

দুপুরে লাঞ্চ ব্রেকে তামিম সামনে এসে দাঁড়ালো।
আমি তাকাইনি, কিন্তু সে থামেনি—
“ইরা, একটু সময় হবে?”
“আমার কোনো কথা বলার নেই।”

তামিম দীর্ঘশ্বাস ফেলল,
“তুমি যা ভাবছো, ঠিক তেমন না। "

আমি রাগে কাঁপতে লাগলাম।
“তুমি, তামিম, তুমি কি সত্যিই ভাবো আমি আবার তোমার কথা বিশ্বাস করবো?”

তামিম নিচু স্বরে বলল,
“তুমি শুধু এটুকু জানো—আদিয়ান ভাই আমার cousin, এবং… সে জানে তোমার আমার সবকিছু।”

আমি হতভম্ব।
“কি বললে তুমি?”

তামিম আর কিছু না বলে চলে গেল।
তার মুখে একরাশ আতঙ্ক—যেন কিছু বলতে চেয়েও থেমে গেল।

---

সন্ধ্যায় ফাইল নিতে গেলাম আদিয়ান স্যারের রুমে।
সে রুমে নেই।
টেবিলে একটা খোলা ড্রয়ার—
ভেতরে চোখে পড়লো একটা পুরনো ছবি।

আমি তুলে নিলাম।
ছবিটা দেখে নিঃশ্বাস আটকে গেল।
সিদ্দেশ্বরী কলেজের গেট, ২০১৭ সালের সেই সকাল…

ছবির পেছনে হালকা কালি দিয়ে লেখা—
“Some meetings are meant to happen again.”

আমার শরীর শিউরে উঠলো।
ঠিক তখনই দরজার পেছন থেকে কণ্ঠ ভেসে এলো,
“ওটা তোমার দেখা উচিত ছিল না, ইরা।”

আমি ঘুরে দাঁড়ালাম—
আদিয়ান স্যার দাঁড়িয়ে আছেন, চোখ দুটো একদম ঠাণ্ডা।

“স্যার… এই ছবিটা এখানে কেন?”
“কিছু স্মৃতি ভুলে গেলেই ভালো থাকে মানুষ।”

তার কথাগুলো যেন ইঙ্গিতপূর্ণ।
আমি বলতে গেলাম, “আপনি… আপনি কি আমাকে চিনতেন আগে?”

সে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো, তারপর ঠোঁটে হালকা হাসি এনে বললো—
“তুমি যা ভাবছো, ইরা, সবই ঠিক—আবার কিছুই ঠিক নয়।”

আমি কিছু বলার আগেই সে দরজার বাইরে চলে গেল।

---

রাতে বাসায় ফিরলাম ভীষণ অস্থির হয়ে।
বাইরে ঝিরঝিরে বৃষ্টি, জানালার কাঁচে টুপটাপ জল পড়ছে।
হঠাৎ দরজার নিচ দিয়ে একটা খাম ঢুকে পড়লো।

ধীরে ধীরে তুলে নিলাম—ভেতরে একটা ছবি।
সিদ্দেশ্বরী কলেজের সেই গেট,
আর নিচে একটাই লাইন—

“The truth started there… and it’s coming back.”

আমার হাতে ঘাম জমে গেল।
আমি ফিসফিস করে বললাম—
“কে? কে পাঠাচ্ছে এগুলো?”

ঠিক তখনই ফোনে নোটিফিকেশন এল।
সেই অচেনা ডট (.) আইডি থেকে—

--- “তুমি ভেবেছিলে আমিই শুধু হারিয়ে গিয়েছিলাম?”
--- “না ইরা… এবার তোমার পালা খুঁজে পাওয়ার।”

স্ক্রিনের আলো নিভে গেল।
বাইরে বজ্রপাত।
আর আমার মনে হলো—
এই গল্পটা এখনো শেষ হয়নি,
বরং শুরু হলো অচেনা চেনা মুখের আসল অধ্যায়…

চলবে?

04/10/2025

When someone used my phone behind me 😁
Le me 😎 and my cousin 🥺

03/10/2025

About last night 😁

 #অচেনা_চেনা_মুখ  #পঞমাংশAklima Nipu ফোন অন করে মেসেঞ্জার ওপেন করতেই দেখি—তার আইডি ডিজেবল করা। হঠাৎ মনে হলো, মাথার উপর আ...
02/10/2025

#অচেনা_চেনা_মুখ
#পঞমাংশ
Aklima Nipu

ফোন অন করে মেসেঞ্জার ওপেন করতেই দেখি—তার আইডি ডিজেবল করা। হঠাৎ মনে হলো, মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়লো। এটা কী হলো! শরীরের পাশাপাশি মনটাও যেন পুরোপুরি অসুস্থ হয়ে গেল 😭

মনে হলো, এতদিনের সমস্ত অপেক্ষা, বিশ্বাস আর খুশি যেন এক নিমিষে মিলিয়ে গেল… 😭

*
*

হাসপাতাল থেকে ফেরার পর আমি চেষ্টা করলাম আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার। কিন্তু আমার ভেতরটা যেন খালি খালি লাগছিল। প্রতিদিনই রাতে ফোন হাতে নিয়ে কত খুঁজেছি আবার সেই আগের মতো। মনে হতো, সে আমাকে রেখে এমনভাবে হুট করে হারিয়ে যেতে পারে না।

সময় চলে গেল, আমি আবার পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত হতে লাগলাম। কিন্তু গভীরে তার অনুপস্থিতি থেকে গেল। মাঝে মাঝে মনে হতো, হয়তো সে ছিল কেবলই কাকতালীয়—কিংবা হয়তো ভাগ্য আমাকে এক অদ্ভুত খেলা খেলিয়েছে।

কিন্তু আজ যখন নতুন অফিসে প্রথম মূহূর্তে তাকে সামনে দেখলাম, আমি বুঝলাম—ভাগ্য কাউকে কাউকে বারবার ফিরিয়ে আনে। কিন্তু সে কেন আমাকে চিনতে পারছে না, নাকি অভিনয় করছে—সেটা এক অমীমাংসিত প্রশ্ন।

অফিসে জয়েন করার পর কয়েকদিন কেটে গেছে। প্রতিদিনই আমি তার সামনে দাঁড়াই, কাজ করি, কথা বলি--তবুও মনে হয় বুকের ভেতর কেমন হাহাকার জমে আছে।

সে ছিল একদম প্রফেশনাল, কাজ ছাড়া কোন অতিরিক্ত কথা নয়। অথচ আমি তার প্রতিটি দৃষ্টি, প্রতিটি শব্দের মধ্যে খুঁজে ফিরছিলাম সেই মানুষটাকে, যে একদিন বলেছিল “Hm is a kind of silent and sweetest yes”।

সে আমাকে কোনোভাবেই চিনতে পারছে না, নাকি ইচ্ছাকৃত ভান করছে—এটা বুঝতে পারছিলাম না।

দিনগুলো গড়াতে গড়াতে আমার মনে হচ্ছিল, হয়তো সত্যিই আমি ভুল করেছি। হয়তো ইনি আমার সেই মানুষ টা নন, হয়তো আমার কল্পনার জগতে আমি তাকে এঁকে ফেলেছি।

অফিস থেকে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বিছানায় শুয়ে ফোনটা হাতে নিতেই, হঠাৎ স্ক্রিনে এক ঝলক নোটিফিকেশন ভেসে উঠলো।

মেসেজ ওপেন করতেই বুকটা ধক করে উঠলো—

“Hm is a kind of silent and sweetest yes.”

ইরা ফোনটা ফেলে দিলো। হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসছে। এই লাইন তো আমার আর সেই মানুষটার মাঝে একান্তই ছিল! কিন্তু এত বছর পর, কে পাঠাচ্ছে এটা?

প্রোফাইলটা একদম ফাঁকা—নেই কোনো ছবি, নেই কোনো নাম। শুধু একটা ডট (.) আইডি।

ইরা ফিসফিস করে: “এটা কি… আদিয়ান?”

কিন্তু পরক্ষণেই মাথা নাড়লো। “না, সম্ভব না। অফিসে তো সে আমাকে চেনে না ভান করে!”

পরদিন সকাল। ইরা কনফারেন্স রুমে ফাইল সাজাচ্ছে। আদিয়ান ঢুকলো শান্তভাবে। তার চোখে সেই রহস্যময় চাহুনি, তবে ঠোঁটে একটুও আবেগ নেই।

আদিয়ান: “ইরা, ওই রিপোর্টটা কি শেষ হয়েছে?”
ইরা (কাঁপা গলায়): “জি… স্যার।”

তার চোখের দিকে তাকাতে পারছিল না ইরা। মনে হচ্ছিল সে সব জানে। আবার মনে হচ্ছিল কিছুই জানে না।

এক দুপুরে ডেস্কে ফিরেই পুরো চমকে গেলাম আমি। কিবোর্ডের ওপর একটা ছোট কাগজ দেখে।

তাতে লেখা—
“Siddheswari Girls’ College – 6th April 2017”

আমার হাত কাঁপতে লাগলো।
“এটা তো শুধু আমি আর সে জানি… তাহলে কে রাখলো এটা এখানে?”

চারপাশে তাকালাম, কিন্তু কেউ খেয়াল করছে না।

অফিস শেষে এক রাতে রাস্তায় হাঁটছে ইরা। মনে হচ্ছে, কেউ যেন পিছু নিচ্ছে।
পেছনে তাকাতেই অন্ধকারে ছায়ামূর্তি। কাছে আসার আগেই মিলিয়ে গেল।

ঠিক তখনই কারও ফিসফিস—
“তুমি ভেবেছিলে আমি হারিয়ে গেছি?”

ইরার বুক ধক করে উঠলো। দ্রুত দৌড়ে বাসায় ঢুকে দরজা আটকালো। সারারাত ঘুম এলো না।

আমি আসলেই বুঝতে পারছিনা, কি হচ্ছে আমার সাথে। আসলেই কিছু হচ্ছে নাকি সব আমার ভাবনার ভুল।।

একদিন অফিসের কাজে ইরা ও আদিয়ানকে বাইরে মিটিং-এ যেতে হলো। ফেরার পথে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলো। গাড়ি থেমে গেল মাঝপথে।

দুজনেই ভিজে যাচ্ছে। আদিয়ান ছাতাটা বাড়িয়ে দিলো তার দিকে।
আদিয়ান: “কাছেই একটা শেড আছে, চলুন।”

দুজন পাশাপাশি ছাতার নিচে হাঁটছে। ইরার বুক কাঁপছে। এতো পরিচিত অনুভূতি কেন?

এক মুহূর্তের জন্য তাদের চোখাচোখি হলো।
নীরবতায় যেন হাজারো কথা লুকিয়ে।

কিন্তু আদিয়ান হঠাৎ মুখ ফিরিয়ে নিলো।
আদিয়ান (ঠাণ্ডা গলায়): “আপনি ফাইলগুলো কাল রিভিউ করবেন।”

রোমান্টিক টান হঠাৎ ছিঁড়ে গেল। ইরা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো তার দিকে।

সেই রাতে ফোনে আবার নোটিফিকেশন।

“তুমি ভেবেছিলে শুধু তুমি আমাকে খুঁজেছো? আমি-ও খুঁজেছি…”

মেসেজের সাথে এসেছে একটি ছবি।
ছবিটি হলো—সিদ্দেশ্বরী কলেজের গেট, ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিলের ডেট-স্ট্যাম্প সহ।

ইরার বুক ধড়ফড় করতে লাগলো।
“এই ছবি তো আমার কাছেও নেই! তাহলে কে পাঠাচ্ছে?”

-----

চলবে…......

 #অচেনা_চেনা_মুখ  #চর্থুতাংশ Aklima Nipuআর অবাক করার মতো ব্যাপার হলো—হঠাৎ একদিন আমার মেসেঞ্জারে একটা টেক্সট এলো, আর মনে ...
01/10/2025

#অচেনা_চেনা_মুখ
#চর্থুতাংশ
Aklima Nipu

আর অবাক করার মতো ব্যাপার হলো—হঠাৎ একদিন আমার মেসেঞ্জারে একটা টেক্সট এলো, আর মনে হলো আমার দুনিয়াটা সেখানেই থমকে গেল…

*
*

*আচ্ছা, তুমি কি সেই যাকে আমি পরীক্ষা হলে ড্রপ করেছিলাম? তোমার এক্সাম কেমন হয়েছিল, রেজাল্ট কেমন হলো? * – শুধু এই ছোট্ট টেক্সটটুকু পেয়ে আমি এতটাই খুশি হয়েছিলাম যে মনে হয়েছিল, পুরো দুনিয়াটাই যেন আমার হাতের মুঠোয় 😊

তার ফেসবুক আইডি ছিল অন্য কোনো ল্যাংগুয়েজে, যা আমার বোধগম্য ছিল না। প্রোফাইলে তেমন কোনো ছবি ও ছিল না। তবুও তার সঙ্গে কথা বলতে আমার ভীষণ ভালো লাগতো। মনে হতো, বিশ্বাস করা যায়—এটাই সে!

প্রায় প্রতিদিন নিয়ম করে আমাদের কথা হতো চ্যাটে, তবে খুব সীমিত—দিনে বড়জোর দু-চারবার। কিন্তু এতেই আমি মহা খুশি ছিলাম। অবশেষে আমি যেন তাকে পেয়ে গেছি। তবে বেশিরভাগ সময় আমিই বেশি বলতাম, আর সে শুধু “হুম হুম” করতো। একদিন আমি তাকে দেখা করতে বললাম, তখনো তার রিপ্লাই ছিল সেই বিখ্যাত “হুম”। অভিমান করে আমি বলে ফেললাম—

“আপনি বোধহয় আসলে সে নন যাকে আমি খুঁজছি। আপনি সবকিছুতে শুধু এভয়েড করেন আর হুম হুম বলেন।”

তখন তার উত্তর ছিল—
“আরে পাগলী, Hm is a kind of silent and sweetest yes. ”

আমাদের মধ্যে প্রেমালাপ বা আবেগমাখা কোনো কথাই হতো না। সে কখনো করতো না, তাই আমিও সাহস পেতাম না। মোস্টলি আমার পড়াশোনা আর তার অফিস নিয়ে টুকটাক আড্ডা।

ওই সময়েই হঠাৎ ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত হলাম। একেবারে বিছানায় পড়ার মতো অবস্থা। টেস্টে জানা গেল, ডেঙ্গু—প্লাটিলেট কাউন্ট নেমে গেছে ৫০,০০০-এ। তড়িঘড়ি করে বাসা থেকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হলো। প্রায় দশ দিন কেটে গেল। কিছুটা সুস্থ হলে মনে হলো, ফোনটা একটু দেখা উচিত। এতদিন সোশ্যাল মিডিয়া সবকিছু থেকে একেবারেই ডিসকানেকটেড ছিলাম।

ফোন অন করে মেসেঞ্জার ওপেন করতেই দেখি—তার আইডি ডিজেবল করা। হঠাৎ মনে হলো, মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়লো। এটা কী হলো! শরীরের পাশাপাশি মনটাও যেন পুরোপুরি অসুস্থ হয়ে গেল 😭

মনে হলো, এতদিনের সমস্ত অপেক্ষা, বিশ্বাস আর খুশি যেন এক নিমিষে মিলিয়ে গেল… 😭

চলবে. ....

 #অচেনা_চেনা_মুখ  #তৃতীয়াংশ Aklima Nipuচোখ বন্ধ করে নিজেকে সামলালাম। তারপর কাজে মন দিলাম। পিসিতে লগইন করে মেইল ওপেন করতে...
30/09/2025

#অচেনা_চেনা_মুখ
#তৃতীয়াংশ
Aklima Nipu

চোখ বন্ধ করে নিজেকে সামলালাম। তারপর কাজে মন দিলাম। পিসিতে লগইন করে মেইল ওপেন করতেই বেশ কিছু মেইল এবং ভেসে উঠলো নামটা—

আদিয়ান আশরাফ।

ওকে… তার মানে এটাই তার নাম 🙂

*ফ্ল্যাশব্যাক (৬ এপ্রিল ২০১৭, বৃহস্পতিবার)*

সেদিন আমার ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষা (HSC)। খুব তাড়াহুড়ো করে বাসা থেকে বের হয়েছিলাম। রাস্তায় হিউজ ট্রাফিক—গাড়ি পাওয়া মুশকিল। কোনরকমে একটা বাসে উঠতে যাবো এমন সময় পেছন থেকে আরেকটা বাস দ্রুত এসে আমার গায়ের সঙ্গে ধাক্কা লাগায় আমি প্রায় পড়ে যাচ্ছিলাম। ঠিক তখনই মনে হলো কেউ একজন আমার ডান হাত ধরে টেনে তুললো।

– “একটু হলেইতো বাসের নিচে পরতে, রাস্তায় একটু দেখেশুনে চলা উচিত!” অনেকটা ধমকের স্বরেই বললো সে।

আমি ততক্ষণে আতঙ্কে পাগলপ্রায়—পরীক্ষা যেন মিস না হয়ে যায় আমার। চারপাশে অনেকেই অনেক কিছু বলছে, কিন্তু আপাতত আমার কানে কিছুই যাচ্ছে না। আতঙ্কিত কণ্ঠে আমি তাকে বললাম,
“আপনি কি আমাকে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারবেন? আজ আমার পরীক্ষা…”

তার বাইক দেখে মনে হলো অফিসগামী কেউ হবেন—ফুল ফরমাল লুক, কাঁধে ল্যাপটপ ব্যাগ। কিছুক্ষণ ভেবে তিনি বললেন,
“বাইকে উঠুন।”

প্রায় আধঘন্টার মধ্যে আমি কলেজের সামনে পৌঁছে গেলাম। আমি আর সময় নষ্ট না করে সরাসরি পরীক্ষার হলে ছুটে গেলাম। তিন ঘন্টার পরীক্ষা কোনোভাবে শেষ করলাম, মনটা ভালো কারণ পরীক্ষা মোটামুটি ভালোই হলো।

কিন্তু হায়! আমি তো ওই ভদ্রলোককে কিছু না বলেই বাইক থেকে নেমে দৌড়ে চলে এসেছি। এখন তাকে কোথায় পাবো?

সেই থেকে আমি তাকে অনেক খুঁজেছি—বিশেষ করে সেই জায়গাটায় যেখানে আমাদের দেখা হয়েছিল। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে আমি যতই তাকে খুঁজেছি, ততই তিনি আমার নেশার মতো হয়ে উঠেছেন। এখনো স্পষ্ট মনে আছে তার চেহারা, তার চাহনি, তার কণ্ঠ।

বাড়ি ফিরে আমি পুরো ঘটনাটা বড় বোনকে বললাম। ফেসবুকের নানা কনফেশন গ্রুপে পোস্ট করলাম—হয়তো কোনভাবে তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে। এবং এটা আমি অনেকদিন যাবতই করছিলাম, এমনকি ইউনিভার্সিটি এডমিশনের পরও।

হঠৎ একদিন আমারই এক কাজিন বললো, “তুমি ওই ভদ্রলোকের বর্ণনা দাও, আমি একটা স্কেচ করে দিবো। হয়তো এতে তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে।” সে তখন চারুকলায় পড়ে। আমি তাই করলাম।

আর অবাক করার মতো ব্যাপার হলো—হঠাৎ একদিন আমার মেসেঞ্জারে একটা টেক্সট এলো, আর মনে হলো আমার দুনিয়াটা সেখানেই থমকে গেল…

---

চলবে....

 #অচেনা_চেনা_মুখ  #দ্বিতিয়াংশ Aklima Nipuআমি নিজেকে কিছুটা গুছিয়ে, হাতে একটা ফাইল নিয়ে স্যারের রুমে ঢুকলাম। আর ঢুকেই যেন...
29/09/2025

#অচেনা_চেনা_মুখ
#দ্বিতিয়াংশ
Aklima Nipu

আমি নিজেকে কিছুটা গুছিয়ে, হাতে একটা ফাইল নিয়ে স্যারের রুমে ঢুকলাম। আর ঢুকেই যেন ভুত দেখার মতো হকচকিয়ে গেলাম—
এটা কী করে সম্ভব?! 🤔
যাকে আমি খুজছি প্রায় আট বছর ধরে 😒

মুহূর্তটা এত অদ্ভুত ছিল যে বোঝা যাচ্ছিল না আমি খুশি হবো, না অবাক হবো___

**তামিমের দেওয়া আঘাতের পর যখন ভেবেছিলাম—জীবনে আর কাউকে জায়গা দেবো না,
ঠিক তখনই ভাগ্য আবার আমার সামনে দাঁড় করালো সেই মানুষটিকে..... **

আমি জানি না—আসলেই জানি না—এই মুহূর্তে আমার কী করা উচিত। সে কি আমাকে চিনতে পেরেছে? তবে তার এক্সপ্রেশন দেখে কিছুই বোঝার উপায় নেই। মনে হলো, এরই মধ্যে একবার আমাকে বসতে বলেছেন, কিন্তু আমি এখনো দাঁড়িয়ে আছি। হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে, ক্রমশ ঘামছি…

আবার তিনি বললেন, “বসুন।”
আমি কিছুটা বর্তমানে ফিরে এলাম। সেই কণ্ঠ, সেই চাহুনি, সেই মুখ—সবকিছু যেন হঠাৎ করে আমাকে টেনে নিয়ে গেল অতীতে। আমি নিজেও ভাবিনি তাকে দেখে এতটা অস্থির হয়ে পড়বো।

“ইরা তাসনীম, রাইট? নিশ্চয়ই আপনি অফিসিয়াল মেইল পেয়ে গিয়েছেন। তো আমি কিছু মেইল আপনাকে ফরওয়ার্ড করছি। এগুলো স্টাডি করুন এবং সব মিলিয়ে কী বুঝলেন, সেটা একটা সামারাইজড মেইলে আমাকে পাঠিয়ে দেবেন।”

আমি কেবল “জ্বী স্যার” বলেই তার রুম থেকে বেরিয়ে এলাম। এসে আমার ডেস্কে বসতেই দেখি, এখনো কপালে ঘাম জমে আছে।

উফ্… ছাব্বিশ বছর বয়সে এসে এমন ইমোশনাল হলে চলবে না!

চোখ বন্ধ করে নিজেকে সামলালাম। তারপর কাজে মন দিলাম। পিসিতে লগইন করে মেইল ওপেন করতেই বেশ কিছু মেইল এবং ভেসে উঠলো নামটা—

আদিয়ান আশরাফ।

ওকে… তার মানে এটাই তার নাম 🙂

চলবে---

আজ আমার নতুন অফিসের প্রথম জয়েনিং ডে। সকাল সকাল অফিসে হাজির হয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে পরিচিত হতে লাগলাম। শুধু আমার রিপোর্টিং ম...
28/09/2025

আজ আমার নতুন অফিসের প্রথম জয়েনিং ডে। সকাল সকাল অফিসে হাজির হয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে পরিচিত হতে লাগলাম। শুধু আমার রিপোর্টিং ম্যানেজার ছাড়া, শুনলাম তিনি হয়তো কোনো কারণে ছুটিতে আছেন। তাই প্রথম দিন ট্রেইনিং বাদে তেমন কোনো কাজ ছিল না।

তবুও মনটা খুব একটা ভালো নেই। কারণ তামিমের সঙ্গে সম্পর্কটা এত বাজেভাবে শেষ হলো যে আমি না চাইতেও ভীষণ ডিপ্রেশনে আছি। রাতে ঘুমাতে গেলেই একরাশ চিন্তা আর ক্লান্তি মাথা চেপে বসে।

তামিম আর আমি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম। সে আমার দুই বছরের সিনিয়র ছিল। বলতে গেলে প্রায় এক বছর আমার পেছনে ঘুরে আমাকে রাজি করিয়েছিল প্রেমে। অথচ সেই তামিমই আমাকে এত বাজেভাবে ছেড়ে চলে গেল। তবে সত্যি বলতে কী, সে আমাকে ছেড়েছে কিনা জানিনা— আমিই তাকে ছেড়ে দিয়েছি, মুক্ত করে দিয়েছি আমার বাঁধন থেকে। কারণ আমি জানতে পেরেছিলাম, আমি একা তার প্রেয়সী নই। সে তারই বান্ধবী চৈতীর সঙ্গেও জড়িত, যাকে আমি সম্মান করে “আপু” বলে ডাকতাম। অথচ তিনি ভালোভাবেই জানতেন আমি তামিমের প্রেমিকা।

তাদের সম্পর্ককে অনেকেই বলবে “সিচুয়েশনশিপ”, অবশ্য তামিমের ব্যাখ্যায় ও তাই। প্রায় বছরখানেক আগে চৈতীর মা মারা যান। সেই সময়ে চৈতী ভীষণ ভেঙে পড়েছিল। পরিবার বলতে ছিল শুধু মা আর এক ভাই, যিনি থাকতেন আমেরিকায়। সেই শূন্যতায় বন্ধুদের পাশাপাশি তামিমও তাকে সাহায্য করতে শুরু করে। যেহেতু তাদের বাসা কাছাকাছি, যোগাযোগটা আরও বেড়ে যায়, প্রয়োজনও বেড়ে যায়, আর তার মাঝেই তৈরি হয় ঘনিষ্ঠতা।

প্রথমে তামিম কিছুই স্বীকার করেনি, কিন্তু অনেক প্রমাণ সামনে আসার পর আর অস্বীকার করতে পারেনি। তবে তার দাবি ছিল—সে আসলে আমাকেই চায়, চৈতী ছিল শুধুই পরিস্থিতির কারণে। এক হাসি দিয়ে আমি সব ছেড়ে আসি, আর পেছনে তাকাবোনা বলে।

পরেরদিন___

আজ সকাল ৯টার মধ্যেই হুড়মুড়িয়ে অফিসে এলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই ডাক পড়ল—
“ইরা তাসনীম, ম্যানেজার স্যার আপনাকে ডাকছেন।”

আমি নিজেকে কিছুটা গুছিয়ে, হাতে একটা ফাইল নিয়ে স্যারের রুমে ঢুকলাম। আর ঢুকেই যেন ভুত দেখার মতো হকচকিয়ে গেলাম—
এটা কী করে সম্ভব?! 🤔
যাকে আমি খুজছি প্রায় আট বছর ধরে 😒

মুহূর্তটা এত অদ্ভুত ছিল যে বোঝা যাচ্ছিল না আমি খুশি হবো, না অবাক হবো......

চলবে....


#অচেনা_চেনা_মুখ
#প্রথমাংশ
Aklima Nipu

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nipu's Own Diary posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share