31/10/2025
সোনা পৃথিবীর অন্যতম মূল্যবান ধাতু, আর এর এই মূল্যবোধ কোনো কাকতালীয় বিষয় নয় — বরং দীর্ঘ ইতিহাস, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির সম্মিলিত ফল। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ সোনার প্রতি মুগ্ধ, কারণ এর প্রাকৃতিক রঙ, উজ্জ্বলতা ও চকচকে সৌন্দর্য একে অন্যসব ধাতুর থেকে আলাদা করে তোলে। সোনা এতটাই নমনীয় ও প্রসারিতযোগ্য যে এক গ্রাম সোনাকে প্রায় এক বর্গমিটার পাতায় রূপান্তর করা যায়, যা দিয়ে সূক্ষ্ম অলংকার বা পাতলা সোনার প্রলেপ বানানো সম্ভব। রাসায়নিকভাবে এটি একটি “noble metal” — অর্থাৎ অক্সিজেন, আর্দ্রতা বা সাধারণ অ্যাসিডের সঙ্গে সহজে বিক্রিয়া করে না, ফলে এটি মরিচা ধরে না বা ক্ষয় হয় না। এই স্থায়িত্ব ও জৌলুসের কারণে সোনা হাজার বছর পরেও একই অবস্থায় থাকে, যা একে ধনসম্পদের প্রতীক হিসেবে স্থায়ী করেছে।
অর্থনীতির দিক থেকেও সোনা যুগে যুগে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। মুদ্রা ব্যবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে যখন কাগজের নোটের প্রচলন হয়নি, তখন সোনাই ছিল আন্তর্জাতিক মানদণ্ড। আজও বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে মানুষ সোনায় বিনিয়োগ করে নিরাপত্তা খোঁজে। আবার সংস্কৃতি, ধর্ম ও সামাজিক ঐতিহ্যেও সোনার ভূমিকা অপরিসীম — বিবাহ, উৎসব কিংবা মর্যাদার প্রতীক হিসেবে সোনা প্রায় প্রতিটি সভ্যতায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
সবশেষে, সোনার বিরলতা ও প্রাকৃতিক উৎপত্তিও একে বিশেষ করে তুলেছে। পৃথিবীর ভূত্বকে সোনার পরিমাণ খুবই অল্প, আর এটি তৈরির প্রক্রিয়া মহাজাগতিক — ধারণা করা হয়, সোনার অনেকাংশই এসেছে প্রাচীন তারকার বিস্ফোরণ বা নিউট্রন তারার সংঘর্ষ থেকে। অর্থাৎ, সোনা কেবল একটি ধাতু নয়; এটি মহাবিশ্বের ইতিহাসের এক অমূল্য নিদর্শন। এইসব কারণেই সোনা শুধুমাত্র ধনসম্পদ নয়, বরং সময়, স্থায়িত্ব এবং সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে আজও মানব সভ্যতার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তথ্য: ওয়াইজিলাইফ