02/06/2026
আজ পুরোনো কিছু জিনিস বের করে ছবি তুললাম। জিনিসগুলো দেখে মনে হলো, এগুলো আসলে শুধু জিনিস না—আমার শৈশবের একেকটা গল্প।
এই ক্যামেরাটা আব্বু আমাকে দিয়েছিলেন যখন আমি ক্লাস ফাইভে পড়ি। আব্বুর খুব ইচ্ছা ছিল আমি বড় হয়ে একজন সাংবাদিক হই। সেই স্বপ্ন নিয়েই হয়তো আমার হাতে প্রথম ক্যামেরা তুলে দিয়েছিলেন। তখন ছবি তোলার আনন্দটাই বুঝতাম, আজ বুঝি এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল একজন বাবার স্বপ্ন আর সন্তানের প্রতি তার অগাধ বিশ্বাস।
পাশেই আছে সেই ছোট্ট রেডিও/ক্যাসেট প্লেয়ার। কত গান যে শুনেছি এটা দিয়ে! তখন গান শোনার জন্য ইউটিউব ছিল না, স্পটিফাই ছিল না। প্রিয় গান বাজলে বারবার শুনতাম, আর মনে হতো পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জিনিসটা যেন এই মুহূর্তটাই।
আর এই দূরবীন… রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে চাঁদ দেখতাম। দূরের জিনিস কাছে এনে দেখার সেই বিস্ময়টা এখনও মনে আছে। মনে হতো আমি যেন কোনো বড় অভিযানে বের হয়েছি।
আজকের দিনে এসব জিনিসের কাজ হয়তো একটা মোবাইল ফোন একাই করে দিতে পারে। কিন্তু একটা মোবাইল কখনো সেই অনুভূতি, সেই অপেক্ষা, সেই বিস্ময় আর সেই স্মৃতিগুলো ফিরিয়ে দিতে পারে না।
মজার বিষয় হলো, এগুলো আমার সংগ্রহের খুব সামান্য অংশ। এখনও অনেক পুরোনো জিনিস খুঁজে বের করা বাকি, অনেক স্মৃতি ধুলো ঝেড়ে আবার সামনে আনা বাকি। হয়তো সেগুলোর ছবিও একদিন শেয়ার করব।
সময় চলে যায়, মানুষ বড় হয়ে যায়, প্রযুক্তি বদলে যায়। কিন্তু কিছু স্মৃতি আছে, যেগুলো কখনো পুরোনো হয় না। ❤️