23/10/2025
ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে গর্ভাবস্থার সময় মা-বাবার আমল ও আচরণ সন্তানের চরিত্র ও আখলাকের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। কুরআন ও সুন্নাহতে সরাসরি “গর্ভকালীন প্যারেন্টিং” শব্দ না থাকলেও এই সময়ে করণীয় আমল, দোআ ও আচরণ সম্পর্কে বহু ইঙ্গিত ও আলেমদের পরামর্শ পাওয়া যায়।
নিচে ধাপে ধাপে গাইডলাইন ও আমল সাজিয়ে দিলাম 👇
---
🌿 ১. নিয়্যাত ও তাওয়াক্কুল (বিশ্বাসের ভিত্তি গঠন)
প্রথম থেকেই নিয়্যাত করুন: “আল্লাহ, এই সন্তানকে সৎ, তাকওয়াবান, দ্বীনের খিদমতে নিয়োজিত বানাও।”
কুরআনে হযরত ইমরানের স্ত্রী এই দো‘আ করেছিলেন:
> “হে আমার প্রভু! আমি আমার গর্ভস্থ সন্তানকে আপনার সেবায় নিবেদিত করলাম…”
(সূরা আলে ইমরান ৩:৩৫)
🕌 প্রস্তাবিত দোআ:
> اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ ذُرِّيَّةً صَالِحَةً، وَاجْعَلْهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ، وَمِنْ أَهْلِ الْقُرْآنِ وَالسُّنَّةِ
“হে আল্লাহ, তাকে সৎ, মুত্তাকী এবং কুরআন ও সুন্নাহর অনুসারী বানান।”
---
📿 ২. নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত ও শ্রবণ
মায়ের কণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াত গর্ভের শিশুর উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে — আধুনিক বিজ্ঞানও “prenatal sound influence” স্বীকার করে।
বিশেষ করে সূরা ইউসুফ, সূরা মারইয়াম, সূরা লুকমান, সূরা আল-ফাতিহা, সূরা আল-ইখলাস, আল-ফালাক, আন-নাস — এগুলো তেলাওয়াত বা শোনানো উপকারী।
📖 সূরা ইউসুফ: সন্তানের চেহারা ও চরিত্র সুন্দর হওয়ার নিয়তে।
📖 সূরা মারইয়াম: সহজ প্রসব ও মা-বাচ্চার নিরাপত্তার জন্য।
📖 সূরা লুকমান: সন্তানকে হিকমত ও আদর্শবান বানানোর নিয়তে।
---
🤲 ৩. দোআ ও যিকর বেশি করা
নবী ﷺ বলেছেন:
> “দোআ হলো ইবাদতের মূল।” (তিরমিজি)
উপকারী দোআগুলো:
🌸 اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً
“হে আল্লাহ, তাকে পবিত্র সন্তান বানান।”
🌸 رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ (সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১০০)
“হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সৎ সন্তান দান করুন।”
🌸 رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ (সূরা আল-ফুরকান ২৫:৭৪)
“হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের চোখের শীতলতা বানাও।”
দৈনন্দিন যিকর:
সকালে ও সন্ধ্যায় মাসনূন দোআ
দরুদ শরীফ পাঠ
আয়াতুল কুরসি, ৩ কুল (ইখলাস, ফালাক, নাস)
---
🧘 ৪. ইবাদত ও পবিত্র পরিবেশ বজায় রাখা
সালাত সময়মতো আদায় করা।
হারাম বা সন্দেহজনক খাবার ও আয়ের থেকে বিরত থাকা।
📌 কারণ: মায়ের গর্ভে সন্তানের শরীর মায়ের খাওয়া খাদ্য থেকেই তৈরি হয়। হালাল রিজিক শরীর ও রুহে পবিত্রতা আনে।
আলেমরা বলেন: “গর্ভাবস্থায় মায়ের আচরণই সন্তানের ভবিষ্যৎ চরিত্রের বীজ রোপণ করে।”
---
🕊️ ৫. মানসিক প্রশান্তি ও সুন্দর আচরণ
ক্রোধ, দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত ভয় বা মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকা।
গীবত, মিথ্যা, অশ্লীলতা ও ঝগড়া থেকে বিরত থাকা — কারণ এগুলো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নামাজ, তেলাওয়াত ও দোআর মাধ্যমে মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা।
---
🍃 ৬. সৎ পরিবেশে থাকা ও ভালো মানুষদের সংস্পর্শ
নেককার মানুষের দোআ নেওয়া।
ইসলামি পরিবেশে সময় কাটানো।
ঘরে যতটা সম্ভব কুরআন-হাদীসের আলোচনা বা শ্রবণ চালু রাখা।
---
🧠 ৭. নাম ও আদবের প্রস্তুতি
ইসলামীভাবে অর্থবহ, সুন্দর নাম বেছে রাখা।
জন্মের আগেই বাবা-মা মিলে সন্তানের জন্য দোআ ও লক্ষ্য ঠিক করে রাখা — যেমন: দ্বীনের পথে বড় করা, সৎ বানানো, আলেম বানানো ইত্যাদি।
---
⚠️ ৮. কিছু বিষয় থেকে বিরত থাকা
ঝগড়া-বিবাদ, গালাগালি, ভয়ংকর বা অশ্লীল কন্টেন্ট, গান-বাজনা ইত্যাদি।
হারাম খাদ্য বা আয়।
গর্ভাবস্থায় কুসংস্কার বা অইসলামিক রীতি পরিহার।
---
🕌 ৯. নবী ﷺ এর আমল ও দিকনির্দেশ
নবী ﷺ এর আমল ছিল সন্তান জন্মের পর আযান ও ইকামত, আকীকা, ভালো নাম রাখা, হালাল দুধ খাওয়ানো, এবং ভালো পরিবেশে বড় করা।
তবে সন্তানের আখলাক ও চরিত্র গঠনের প্রস্তুতি গর্ভকাল থেকেই শুরু হয় — এটা ইসলামী প্যারেন্টিংয়ের মূল দর্শন।
---
✅ সংক্ষেপে:
> 📿 “হালাল রিজিক + কুরআন তেলাওয়াত + দোআ + ইবাদত + মানসিক প্রশান্তি” → ভবিষ্যৎ সন্তানের রুহানী গঠনের ভিত।