19/08/2026
আমি যে মাঝে মধ্যে বলি- জামাত যে ইসলাম পালন করে সেটা নবী স: এর দেখানো শরীয়তের ইসলাম না। সেটা কেবলমাত্র মওদুদীর সৃষ্টি করা নব্য ইসলাম। যেখানে কিছু পরিমান মদ খাওয়াও হালাল আছে..!
এখন এই বিষয়ে কথা বল্লেই আমার চৌদ্দপুরুষ উদ্ধার করতে চলে আসবেন আপনারা। এতে অবশ্য আমার কোনো সমস্যা নেই।
আমার সমস্যা এবং আফসোস হচ্ছে এক জায়াগাতেই। এত সুন্দর সুন্দর উদাহরণ দেখার পরও কিছু ইলমী মানুষ,জ্ঞানী মানুষ তাদের কথার জালে আটকে যাচ্ছে।
অনেকেই বলে, জামাতের আক্বীদা তাদের কাছেই থাকুক,আমরা তাদের রাজনৈতিক অবস্থান দেখি। তাহলে আপনাকে একটা তিক্ত সত্য কথা বলি। জামাতের আক্বীদা এবং তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ একই সূতোই গাঁথা।
যাই হোক- যেটা বলতে আসছি সেটা বলি-
গতকাল রাতে বাসায় যাওয়ার পর বাবুর মা বলছে, বিকেলে মেয়ের স্কুলের এক ম্যাডাম তার মাকে নিয়ে বাসায় আসছিলো। আমি একটু অবাকই হলাম। হঠাৎ করে এভাবে বাসায় চলে আসা..! চিনলো কিভাবে বাসা...!?
বাবুর মা বল্লো- মেয়েকে একদিন স্কুক থেকে ফেরার পথে বাসায় ঢুকিতে দেখেছিলো। তাই তারা চিনে চলে আসছে।
- কি বিষয়ে এসেছিলো?
- জামাতে যোগদানের দাওয়াত নিয়ে আসছিলো! বাইতুল মালের টাকা নেওয়ার জন্য আসছিলো!
- (হাসতে হাসতে) তা যোগদান করছো?
- পাগল হইছো নাকি?
- আরে, তুমি জিজ্ঞেস করতে যে, যোগদান করলে কোনো পদ দিবেন কিনা...!
- ফাও কথা বাদ দেও।
- এভাবে হুট করে বাসায় এসে কোনো এক দলের দাওয়াত দেওয়া..! বিষয়টা কেমন হলো না...? তুমি কি বলছো তাদের কে?
- খুলনায় সব দেওয়া হয় এইসব বলে কাটায়ে দিছি।
- বাহ, ভালোই বুদ্ধি হচ্ছে আমার সঙ্গে থাকতে থাকতে😁
এই ঘটনাটা বলার একটাই উদ্দেশ্য। তারা তাদের দলে কর্মী নেওয়ার জন্য মাঠ পর্যায়ে কেমন কাজ করে সেটা একটু জেনে রাখেন আপনারা। পূর্ব পরিচিত না। আগে কখন বাসায় আসেনি। বাবুর মায়ের সঙ্গে জীবনেও তাদের সাক্ষাত হয়নি। তবুও তারা একটা সূত্র ধরে চলে আসছে এবং সোজা দলে যুক্ত হওয়ার দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছে। ইসলামী দল হিসবে ধর্ম প্রাণ সাধারণ মোসলমানদের ঘরে ঘরে ঢুকে নিজেদের আক্বীদাগুলো প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আর অন্যদিকে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান নিয়ে তারা মন গড়া বয়ান দিচ্ছে। পশ্চিমাদের খুশি করতে ফরজ বিধানকেও বিভিন্ন সময়ে খাটো করে জানান দিচ্ছে যে, আমরা আসলে আধুনিকা মোসলামান।
শোনেন ভাই...! ইসলাম শুরু থেকে আজ পর্যন্ত পুরোটাই আধুনিক। ইসলামের প্রতিটা বিধান আধুনিকতার সঙ্গেই মানানসই। কিন্তু এইটা তো আপনি বুঝতে পারেন না। পারবেন কিভাবে...! আপনার মাথায় তো তারা ঢুকিয়ে দিয়েছে যে, ইসলাম মানেই শেকেলে...!
আর সেই কারণে আপনি/আমি পশ্চিমাদের কালচারকে আধুনিক কালচার মনে করি। অথচ তারাই দিন দিন শেকেলে হয়ে যাচ্ছে। এইটা নিয়ে পরে আলাপ করব ইনশাআল্লাহ।
একজন বেগানা নারী বা পুরুষ একসঙ্গে বসে কোথায় কাজ করতে পারবে না এটাই ইসলামের হুকুম এবং বিধান। নারীর কাজের জায়গা থাকবে পুরুষদের থেকে আলাদা। ইসলাম কাজ করতে মানা করেনি ,কিন্তু অবাধ মেলামেশাকে শক্তভাবে নিষেধ করেছে। শরীয়ত নারীকে বলেছে পর-পুরুষের সঙ্গে রূড় ভাষায় কথা বলতে, যেনো সেই পুরুষ তোমার প্রতি দূর্বল না হতে পড়ে। কথার মধ্যেও যেখানে মাপকাঠি দিয়ে রেখেছে সেখানে আপনি একসঙ্গে বসা হালাল হওয়ার সার্টিফিকেট কিভাবে দেন?
তাই আমি কি বলি জানেন...?! তারা নিজেদের কে পশ্চিমা সভ্যতায় কনভার্ট করতে এভাবেই আস্তে আস্তে তারা এগোচ্ছে। এখন বলছে একসঙ্গে বসতে পারবে! কিছুদিন পরে বলবে কাজের ক্ষেত্রে শরীরও দেখতে পারবে। এরপর বলবে কাজের সুবিধার্তে ছুঁতেও পারবে....!