11/09/2026
সামার ক্যাম্পের সেই দিনগুলোতে কখন সকাল হতো, আর কখন যে রাত নেমে আসত, টেরই পেতাম না। দিনগুলো যেন শুধু ছুটেই চলত। 🥹
সকাল ৬টা–সাড়ে ৬টার মধ্যে ঘুম থেকে ওঠা দিয়ে শুরু, তারপর সারাদিন ক্লাস। এক বিল্ডিং থেকে আরেক বিল্ডিং, ডরম থেকে ক্লাসরুম, ক্লাসরুম থেকে ক্যান্টিন—সবই হেঁটে হেঁটে। সারাদিনের ক্লাস শেষ হওয়ার পরও যেন দিনের শেষ হতো না। রাতে আবার প্রায় এক ঘণ্টার মিটিং, মিটিং শেষে রুমে ফিরে ১–২ ঘণ্টা পারফরম্যান্সের প্র্যাকটিস, তার ওপর হোমওয়ার্ক।
কখনো চাইনিজে অন্তত এক মিনিট কোনো একটা বিষয়ে কথা বলতে হতো, কখনো আবার এক পৃষ্ঠা চাইনিজ লিখে জমা দিতে হতো। 😭
মাঝে মাঝে মনে হতো ইসসস...
“একটা দিন যদি একটু ছুটি পেতাম!”
“আর মাত্র এক ঘণ্টা যদি বেশি ঘুমাতে পারতাম!”
তখন বুঝিনি, ওই একটা অতিরিক্ত ঘণ্টা ঘুম কিংবা একটু বিশ্রামই আমাদের কাছে কত বড় বিলাসিতা হয়ে উঠেছিল।
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এত ব্যস্ততার সেই দিনগুলোই আমাদের জীবনটাকে অদ্ভুতভাবে একটু গুছিয়ে দিয়ে গেছে। ❤️
সামার ক্যাম্প থেকে ফিরে আসার প্রায় ২–৩ মাস পরও আমরা দুজন সবকিছু ধরে রাখতে না পারলেও একটা জিনিস এখনো ধরে রেখেছি—খাবারের রুটিন।
🍳 সকালের খাবার — সকাল ৮টার মধ্যে
🍚 দুপুরের খাবার — সকাল ১১:৩০টার মধ্যে
🥗 রাতের খাবার — বিকেল ৬টার মধ্যে
আর এর ফলাফল?
সাবরিনা: অসম্ভব রকমের মাইগ্রেনের সমস্যা ছিল। যাদের এই সমস্যা আছে, তারা জানেন সামান্য আবহাওয়ার পরিবর্তন, ঠান্ডা-গরম খাবার, কিংবা একটু জার্নি করলেই কী ভয়ংকর মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। অথচ গত প্রায় তিন মাসে হাতে গোনা এক-দুবারের বেশি মাথাব্যথা হয়নি। যেখানে আগে প্রায় প্রতিদিনই হতো!
আর আমি?
আমার ছিল বেশ সিরিয়াস গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা। এমনকি মাঝে মাঝে বুক আর পেটজুড়ে ভীষণ জ্বালাপোড়া করত। অথচ ক্যাম্প থেকে ফিরে এই খাবারের সময়টা মেনে চলা শুরু করার পর থেকে সেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাটা আর সেভাবে ফেসই করিনি।
সামার ক্যাম্প আমাদের শুধু নতুন মানুষ, নতুন সংস্কৃতি কিংবা নতুন অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়নি, বরং, আমাদের নিজেদের জীবনটাকেও একটু নতুনভাবে গুছিয়ে নিতে শিখিয়েছে। 🇨🇳❤️
তখন যে জিনিসগুলোকে শুধু “ব্যস্ততা” মনে হয়েছিল, আজ বুঝি; সেগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে ছিল আমাদের জন্য ছোট ছোট কিছু ভালো অভ্যাস।
Sometimes, the busiest days teach us the routines we needed the most😇