ARA's Creations

ARA's Creations ।। ইসলাম ♥ শান্তি ও মুক্তির একমাত্র পথ ।।

নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেবেন।
প্রকৃতপক্ষে আমরা যা করি তিনি তা অবগত আছেন।।

15/09/2026

সুখের ঠিকানা

15/09/2026

15/09/2026

আবু জাহেলের বাড়ি

আল্লাহর সৃষ্টির অসীম এক কুদরত জমজম কূপ। মসজিদুল হারামের ভেতর পবিত্র কাবাঘরের ২০ মিটার পূর্বে এই কূপের অবস্থান। প্রায় ৪ হ...
15/09/2026

আল্লাহর সৃষ্টির অসীম এক কুদরত জমজম কূপ। মসজিদুল হারামের ভেতর পবিত্র কাবাঘরের ২০ মিটার পূর্বে এই কূপের অবস্থান। প্রায় ৪ হাজার বছর আগে এই কূপের উৎপত্তি। হজরত ইব্রাহিম (আ:), তার স্ত্রী হাজেরা (আ.) এবং শিশুপুত্র ইসমাইল (আ:) এর সঙ্গে জমজম কূপ উতপত্তির ইতিহাস রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা ও গবেষকরা পবিত্র জমজম কূপে নেমে এবং এটি নিয়ে গবেষণা করে এর কিছু অস্বাভাবিক ও বিস্ময়কর ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য দেখে অবাক হয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে তৎকালীন সৌদি বাদশাহ ফয়সালের নির্দেশে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে ডুবুরি ও গবেষক দল এই কূপের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন।
ভারী মোটরের সাহায্যে প্রতি সেকেন্ডে হাজার হাজার লিটার পানি তোলার পর যখন কূপের পানির স্তর প্রায় ৪৪ ফুট নিচে নেমে যায়, তখন পাম্প বন্ধ করার মাত্র ১১ মিনিটের মধ্যে পানির স্তর আবার আগের জায়গায় (১৩ ফুটে) চলে আসে। মরুভূমির একটি ছোট কূপে এত দ্রুত পানি পুনর্ভরণ হওয়া বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়েছিল।
কূপের তলদেশ পরিষ্কার করার সময় দেখা যায় যে, এর ভেতরের নির্দিষ্ট কিছু অংশে পানির নিচে সাধারণ কম্পাস বা দিকনির্ণয় যন্ত্রও কাজ করছিল না। এতেও বিজ্ঞানিরা অবাক হয়ে যান।
সাধারণত যেকোনো কূপের পানি দীর্ঘদিন আবদ্ধ থাকলে তাতে শ্যাওলা বা জলজ উদ্ভিদ জন্মায় এবং ব্যাকটেরিয়ার কারণে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। কিন্তু জমজম কূপের তলদেশে নেমে বিজ্ঞানীরা কোনো ধরণের শৈবাল, জলজ উদ্ভিদ বা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব পাননি। হাজার বছর ধরে এর স্বাদ ও গন্ধ একদম অপরিবর্তিত রয়েছে।
কূপটি মাত্র ৩০ মিটার (প্রায় ৯৮ ফুট) গভীর। গবেষকরা তলদেশে নেমে দেখেন, কোনো সুনির্দিষ্ট নদী বা বড় জলাশয়ের সংযোগ ছাড়াই আশেপাশের পাথরের ফাটল ও বালুময় স্তর থেকে তীব্র গতিতে পানি অবিরতভাবে কূপে প্রবেশ করছে।
মরুভূমির তীব্র গরমে হাজার হাজার বছর ধরে এই পাথরের ফাটল থেকে পানির প্রবাহ কীভাবে অপরিবর্তিত রয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো ভূতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা বিজ্ঞানিরা খুজে পান নি। আল্লাহ পাকের কুদরত দেখে বিজ্ঞানীরাও অবাক!
এই কূপের পানি কখনও শুকায়নি, সৃষ্টির পর থেকে একই রকম আছে এর পানি প্রবাহ, এমনকি হজ্ব মওসুমে পানির ব্যবহার কয়েক গুন বেড়ে যাওয়া সত্বেও এই পানির স্তর কখনও নিচে নামে না।
সৃষ্টির পর থেকে এর গুনাগুন, স্বাদ ও এর মধ্যে বিভিন্ন উপাদান একই পরিমানে আছে। এই কূপের পানির মধ্যে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সল্ট এর পরিমান অন্যান্য পানির থেকে বেশী, এজন্য এই পানি শুধু পিপাসাই মেটায় না, এই পানি ক্ষুধাও নিবারণ করে। এই পানিতে ফ্লুরাইডের পরিমান বেশী থাকার কারণে এতে কোন জীবানু জন্মায় না ।
রাসুল (সা.) বলেন, ‘জমিনের বুকে জমজমের পানি সর্বোত্তম পানি। এটি এমন একটি বরকতপূর্ণ পানি যেটা শুধু তৃষ্ণাই মেটায়না,এটি ক্ষুধাও মেটায় এবং রোগ নিরাময়ও করে।
তাই এই জমজম কূপ মানুষের জন্য মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর এক অপূর্ব নেয়ামত ও বরকতময় উপহার বলে মনে করা হয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও সেটাই প্রমাণিত।
সুবহানআল্লাহ!

সূরা আল-হাদীদ-এর প্রথম ৩টি আয়াতে আল্লাহ তাআলা নিজের একত্ববাদ, মহাবিশ্বের ওপর তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং তাঁর মহান গুণাবলি ...
14/09/2026

সূরা আল-হাদীদ-এর প্রথম ৩টি আয়াতে আল্লাহ তাআলা নিজের একত্ববাদ, মহাবিশ্বের ওপর তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং তাঁর মহান গুণাবলি (সিফাত) প্রকাশ করেছেন।
আয়াতগুলি হলো ~

আয়াত ১) আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করে। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আয়াত ২) আসমান ও যমীনের রাজত্ব তাঁরই, তিনিই জীবন দেন আর তিনিই মৃত্যু দেন। আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
আয়াত ৩) 'তিনিই প্রথম, তিনিই সর্বশেষ, তিনিই প্রকাশমান ও অপ্রকাশমান এবং তিনি সব বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।
সূরা আল-হাদীদ-এর এই আয়াত ৩টিতে আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টিজগতের চিরন্তন সত্য এবং নিজের এমন কিছু মহান গুণাবলি (সিফাত) বর্ণনা করেছেন, যাতে মানুষ অহংকার ভুলে খাঁটি মনে আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্য স্বীকার করে, যা মানুষের চিন্তাভাবনা ও বিশ্বাসের ভিত্তি মজবুত করে। মানুষ যেন বুঝতে পারে যে তার জীবন, মরণ এবং পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ আল্লাহর দেওয়া আমানত। তিনি যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো কিছু করতে পূর্ণ সক্ষম।
এই আয়াতগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের অন্তরে আল্লাহর প্রতি গভীর ভীতি, শ্রদ্ধা এবং তাঁর অসীম ক্ষমতার প্রতি নিখাদ বিশ্বাস (ঈমান) স্থাপন করা, যা পরবর্তী আয়াতগুলোতে আল্লাহর রাস্তায় ত্যাগ ও সম্পদ ব্যয়ের প্রেরণা জোগায়।
তিনি যেমন অসীম ক্ষমতার অধিকারী, তেমনি তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও সৃষ্টি নিখুঁত প্রজ্ঞা ও কৌশলে ভরপুর।
এটি মানুষকে আল্লাহর মহত্ত্ব স্মরণ করায়, দুনিয়ার মোহ কমায়, দানশীল হতে শেখায় এবং আখিরাতের আলো পাওয়ার জন্য প্রস্তুত করে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘুমানোর আগে এই সূরাটি তিলাওয়াত করতেন এবং বলেছিলেন যে এর মধ্যে এমন একটি আয়াত আছে যা হাজার আয়াতের চেয়েও উত্তম (হাদীস: তিরমিযী)।

সূরা আল হাদীদ এর ফজিলত শুধু একটি তালিকার বিষয় নয়; এটি হৃদয় বদলানোর একটি কুরআনি ডাক। এই সূরা আমাদের শেখায়—আল্লাহ সবকিছুর মালিক, দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী, আর আখিরাতের নূর পেতে হলে আজই ঈমান, দান, তাওবা ও ভালো আমল দরকার। তাই সূরাটি পড়ে, অর্থ বুঝে, নিজের জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে অল্প হলেও নিয়মিত আমল করা উচিৎ। আল্লাহ সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

হুদায়বিয়ার সন্ধি ~  এটি ছিল মক্কার কুরাইশদের সাথে মদিনার মুসলিমদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তি চুক্তি। ৬ষ্ঠ হিজরিতে এটি সংঘ...
14/09/2026

হুদায়বিয়ার সন্ধি ~ এটি ছিল মক্কার কুরাইশদের সাথে মদিনার মুসলিমদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তি চুক্তি। ৬ষ্ঠ হিজরিতে এটি সংঘটিত হয়।
৬ষ্ঠ হিজরির জিলকদ মাসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ১৪০০ সাহাবী নিয়ে উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার দিকে রওয়ানা হলে, কুরাইশরা তাদের মক্কায় প্রবেশে বাধা দেয়।
প্রথমে কুরাইশদের খবরাখবর সংগ্রহ করার জন্য একজন গোয়েন্দা মক্কায় পাঠালেন। উসফান নামক স্থানে পৌঁছে তিনি জানতে পারলেন যে, কুরাইশরা যুদ্ধের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্ত্ততি গ্রহণ করছে। তিনি আরও জানতে পারলেন যে, কুরাইশরা তাকে কাবার কাছেই পৌঁছতে দিবেনা এবং তাঁর সাথে তারা প্রচন্ড লড়াইয়ে লিপ্ত হবে। রাসূল (সা:) সাহাবীদের সাথে পরামর্শে বসলেন। আবু বকর (রাঃ) এর পরামর্শ ছিল, কুরাইশদেরকে কোন প্রকার ছাড় দেয়া যাবেনা। তারা যদি রাস্তায় আটকিয়ে দেয়, তাহলে প্রয়োজনে তাদের সাথে যুদ্ধ করা হবে। রাসূল (ﷺ) আবু বকরের এই মতকেই পছন্দ করলেন এবং সামনে অগ্রসর হতে থাকলেন। হুদায়বিয়া নামক স্থানে পৌঁছে রাসূল (ﷺ) উছমান (রাঃ) কে এই খবর দেয়ার জন্য মক্কায় পাঠালেন যে, আমরা যুদ্ধ করার জন্য মক্কায় আসছিনা। উমরাহ পালন করাই আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। সুতরাং আমাদের পথ ছেড়ে দাও। কিন্তু কুরাইশরা এই কথার মোটেই মূল্যায়ন করলনা। তারা বলল- আমরা তোমার কথা শুনলাম। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে সন্ধির ব্যাপারে আলোচনা শুরু হল। আলোচনা সামনে অগ্রসর হচ্ছিল। এক পর্যায়ে সন্ধির পরিবর্তে যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার উপক্রম হল। উভয় পক্ষের লোকেরা পরস্পর তীর ও পাথর নিক্ষেপে লিপ্ত হল। এই পর্যায়ে রাসূল (ﷺ) এর কাছে খবর পৌঁছল যে, কুরাইশরা উছমান (রাঃ) কে হত্যা করে ফেলেছে। মুসলমানেরা এই খবর শুনে ভিষন রাগান্বিত হলেন এবং প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলেন। তারা একটি গাছের নীচে একত্রিত হয়ে রাসূল (ﷺ) এর হাতে এই মর্মে বায়আত নিলেন যে, তারা যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্ত্তত এবং কোনক্রমেই এই হত্যাকান্ডের প্রতিশোধ না নিয়ে মদ্বীনায় ফেরত যাবেন না। কিন্তু একটু পরেই সহীহ-সালামতে উছমান (রাঃ) মক্কা হতে ফেরত আসলেন। উছমান (রাঃ) এর আগমণে পরিস্থিতি শান্ত হল। পুনরায় নতুন করে সন্ধির ব্যাপারে আলোচনা শুরু হল। আলোচনা-পর্যালোচনা শেষে নিম্নে বর্ণিত শর্তে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সন্ধি চুক্তি রচিত হল। ইসলামের ইতিহাসে এটি হুদায়বিয়ার সন্ধি নামে পরিচিত।
সন্ধির প্রধান প্রধান শর্তগুলো ছিল এই ~
মদিনার মুসলমান ও মক্কার কুরাইশদের মধ্যে দীর্ঘ দশ বছর পর্যন্ত সকল প্রকার যুদ্ধ-বিগ্রহ বন্ধ থাকবে।
এই বছর মুসলমানেরা উমরাহ না করেই মদ্বীনায় ফেরত যাবেন।
আগামী বছর তারা মক্কায় আগমণ করতে পারবেন। এ সময় তারা সাথে তীর ও বর্শা আনতে পারবেন না। আত্মরক্ষার জন্য শুধু কোষবদ্ধ তলোয়ার সাথে রাখতে পারবে।
মক্কায় তারা কেবল তিন দিন অবস্থান করতে পারবেন। তিন দিন পার হওয়ার সাথে সাথে মক্কা থেকে বের হয়ে চলে যেতে হবে।
এই দশ বছরের মধ্যে মক্কার কোন লোক যদি মুসলমান হয়ে মদ্বীনায় আশ্রয় নেয় তাহলে মদ্বীনাবাসীগণ তাকে আশ্রয় দিবে না। পক্ষান্তরে মদ্বীনার কোন লোক যদি মক্কায় চলে আসে তাহলে মক্কাবাসীগণ তাকে মদ্বীনায় ফেরত দিবে না।
শর্তগুলো প্রাথমিকভাবে মুসলমানদের জন্য অসমতাপূর্ণ মনে হলেও, এটি পরবর্তীতে ইসলামের ইতিহাসে এক বিরাট রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে প্রমাণিত হয়।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
যুদ্ধ এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে এই চুক্তি আরবের বিভিন্ন গোত্রকে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর সুযোগ করে দেয়। যুদ্ধরত পরিবেশের অবসান ঘটায় বহু মানুষ নতুন করে ইসলাম গ্রহণের সুযোগ পায় এবং মাত্র দুই বছরের মাথায় এই সন্ধির পটভূমি ধরেই মুসলমানরা বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় করেন। পবিত্র কোরআনেও এই সন্ধিকে ‘ফাতহুম মুবীন’ বা স্পষ্ট বিজয় বলে অভিহিত করা হয়েছে।

14/09/2026

কাবাশরিফের হাতিম

মুসা (আ.)-কে 'কালিমুল্লাহ' (আল্লাহর সাথে কথা বলা ব্যক্তি) বলা হয় কারণ তিনি আল্লাহর সাথে সরাসরি কথোপকথনের সৌভাগ্য অর্জন ক...
14/09/2026

মুসা (আ.)-কে 'কালিমুল্লাহ' (আল্লাহর সাথে কথা বলা ব্যক্তি) বলা হয় কারণ তিনি আল্লাহর সাথে সরাসরি কথোপকথনের সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন।
একটি সহিহ হাদিসে তার ও আল্লাহ তাআলার মধ্যে হওয়া একটি গভীর অর্থবহ সংলাপ বর্ণিত হয়েছে, যেখানে মুসা (আ.) আল্লাহ তাআলাকে ৭টি প্রশ্ন করেন ~

তিনি প্রথমে জিজ্ঞাসা করেন, হে আমার রব, আপনার কোন বান্দা আপনাকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে?
আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার যে বান্দা সব সময় আমাকে স্মরণে রাখে, কখনও ভুলে যায় না।
(এর দ্বারা উদ্দেশ্য এমন ব্যক্তি, যিনি প্রতিটি মুহূর্ত মনে রাখেন যে আল্লাহ তাআলা আমাকে দেখছেন। আর এই ভাবনা থেকে তিনি কোনো গোনাহ করেন না)

মুসা (আ.) জিজ্ঞাসা করেন, হে আমার রব, আপনার কোন বান্দা হেদায়াতপ্রাপ্ত?
আল্লাহ তাআলা বলেন, যে হেদায়াতের পথ অনুসরণ করে।
(মানুষের জন্য সব সময় হেদায়াতের পথ অনুসরণ জরুরি। এমন ভাবা যাবে না যে আমি তো হেদায়াত পেয়ে গেছি। কারণ আল্লাহ তাআলা যে কাউকে হেদায়াতের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেন)

মুসা (আ.) জিজ্ঞাসা করেন, হে আমার রব, আপনার কোন বান্দা সর্বোত্তম বিচারক?
আল্লাহ তাআলা বলেন, যে অন্যের জন্য যে বিচার করে, নিজের জন্য ঠিক সেই বিচারই করে।
(অধিকাংশ মানুষই গোটা দুনিয়াকে নিজের জায়গা থেকে চিন্তা করে, নিজের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয় এবং নিজের জন্য ১৬ আনা রাখলেও অন্যের জন্য ১ আনা ছাড়তেও রাজি হয় না। আল্লাহ তাআলার এই কথা থেকে বোঝা যায়, অন্যের জন্য তাই পছন্দ করা উচিত যা মানুষ নিজের জন্য পছন্দ করে)

মুসা (আ.) জিজ্ঞাসা করেন, হে আমার রব, আপনার কোন বান্দা বড় জ্ঞানী?
আল্লাহ তাআলা বলেন, যে জ্ঞান অর্জন করে কখনোই পরিতৃপ্ত হয় না এবং মানুষের জ্ঞানকে নিজের জ্ঞানের সাথে সংযুক্ত করে।
(অর্থাৎ মানুষের কাছ থেকে তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা শুনে নিজের জ্ঞানকে বৃদ্ধি করতে থাকে)

মুসা (আ.) জিজ্ঞাসা করেন, হে আমার রব, আপনার কোন বান্দা বেশি মর্যাদাবান?
আল্লাহ তাআলা বলেন, যে ক্ষমতাবান হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমাশীল হয়।
(মানুষ ক্ষমতাবান হলে তার মধ্যে দয়ার অনুভূতি ধীরে ধীরে কমে আসে। সেই সময়ও যদি কেউ ক্ষমাশীলতার গুণ ধরে রাখে, তখণ প্রমাণিত হয় সে সত্যিই অনেক মর্যাদাবান)

মুসা (আ.) জিজ্ঞাসা করেন, হে আমার রব, আপনার কোন বান্দা সবচেয়ে ধনী?
আল্লাহ তাআলা বলেন, যে বান্দাকে যা দেওয়া হয়েছে তা নিয়েই সে সন্তুষ্ট আছে।’
(এর মানে সন্তুষ্টিই ধনাঢ্যতা, আর যদি নিজের অবস্থান নিয়ে কেউ অসন্তুষ্ট থাকে, কোটিপতি হলেও সে গরিব থেকে যায়)

মুসা (আ.) জিজ্ঞাসা করেন, হে আমার রব, আপনার কোন বান্দা সবচেয়ে গরিব?’
আল্লাহ তাআলা বলেন, কৃপণ ব্যক্তি।
এ সম্পর্কে আল্লাহর রসুল (সা.) বলেন, দুনিয়াতে যার অনেক ধনসম্পদ দেখা যায়, সে আসলে ধনী নয়। প্রকৃত ধনী সেই ব্যক্তি—যার হৃদয় ধনী। আল্লাহ যখন কারও কল্যাণ চান, তার হৃদয়কে অভাবমুক্ত করে দেন। আর যখন কারও অকল্যাণ চান, তখন তার দুই চোখের মাঝে গরিবি ঢেলে দেন।
(অর্থাৎ তার লোভ অনেক বেড়ে যায়। সেই লোক তখন চারদিকে শুধু ‘এটা নাই, ওটা নাই’ দেখতে থাকে। যতই ধনসম্পদের মালিক হোক না কেন, সে শুধু নিজের মধ্যে অভাবই দেখতে থাকে)
(সূত্র: সহিহ ইবনে হিব্বান: ৬২১৭, সিলসিলাতুল আহাদিসিস সহিহাহ: ৩৩৫০)

13/09/2026

তাহাজ্জুদ

আল্লাহ বলেন ~ ‘হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ...
12/09/2026

আল্লাহ বলেন ~ ‘হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (যুমার ৩৯/৫৩)।
বনী ইসরাঈলের জনৈক ব্যক্তি একশ’ ব্যক্তিকে হত্যা করে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন (বুখারী হা/৩৪৭০; মুসলিম হা/২৭৬৬; মিশকাত হা/২৩২৭)।
নিম্নে আল্লাহর ক্ষমার একটি ঘটনা বর্ণনা করা হ’ল।-
বনী ইসরাঈলে দু’জন লোক ছিল। তাদের একজন অত্যন্ত ইবাদতগুযার ছিল। অন্যজন ছিল নিজের প্রতি যুলুম করে পাপে লিপ্ত। কিন্তু তাদের একে অপরের মধে গভীর সম্পর্ক ছিল। ইবাদতগুযার ব্যক্তি তার অপর সাথীকে সর্বদা অপকর্মে লিপ্ত থাকতে দেখে বলত, তুমি পাপ কাজ থেকে বিরত থাকো। উত্তরে সে বলত, আমাকে আমার প্রভুর উপর ছেড়ে দাও। তোমাকে কি আমার উপর পাহারাদার হিসাবে পাঠানো হয়েছে?
ইবাদতগুযার ব্যক্তি একদিন তাকে এমন গোনাহে লিপ্ত হতে দেখল যা তার কাছে বড় গোনাহ মনে হল। তখন সে তাকে বলল, তোমার জন্য আফসোস! তুমি পাপ কাজ থেকে বিরত থাকো। উত্তরে সে বলল, আমাকে আমার প্রভুর উপর ছেড়ে দাও। তোমাকে কি আমার উপর পাহারাদার হিসাবে পাঠানো হয়েছে? তখন সে বলল, আল্লাহর কসম! আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ তোমাকে কখনো জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাদের উভয়ের নিকটে ফেরেশতা পাঠিয়ে তাদের জান কবয করার ব্যবস্থা করলেন। এরপর তাঁর নিকট তাদের একত্রিত করে ইবাদতগুযার ব্যক্তিকে বললেন, তুমি কি আমার রহমত সম্পর্কে জানতে? কিংবা তুমি কি জানতে আমার হাতে কি পরিমাণ ক্ষমতা রয়েছে? এরপর ফেরেশতাদের সম্বোধন করে বললেন, একে তোমরা জাহান্নামে নিয়ে যাও। আর পাপীকে বললেন, তুমি যাও এবং আমার রহমতের বরকতে জান্নাতে প্রবেশ কর। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, যার হাতে আমার প্রাণ তার কসম, সে এমন কিছু উক্তি করেছে, যার মাধ্যমে সে তার দুনিয়া ও আখিরাত উভয় বরবাদ করেছে’ (আহমাদ হা/৮২৭৫; আবুদাঊদ হা/৪৯৭৫; ছহীহুল জামে‘ হা/৪৪৫৫)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘আমার ক্রোধের উপর আমার রহমত বিজয়ী হয়েছে’ (বুখারী হা/৭৫৫৩; মুসলিম হা/২৭৫১)।

তাই আল্লাহর ক্ষমার ব্যাপারে কাউকে হতাশাব্যঞ্জক কথা বলা যাবে না। কারণ আল্লাহ তাঁর রহমতের বারিধারায় কাকে সিক্ত করবেন এবং কার আমল তাঁর নিকট গৃহীত হবে তা তিনিই ভাল জানেন। আল্লাহর রহমত ব্যতীত কেবল স্বীয় আমল দ্বারা কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না। এজন্য সর্বাস্থায় আল্লাহর রহমতের আশা নিয়ে সৎকর্ম করে যেতে হবে। কখনো নিরাশ হওয়া যাবে না (বুখারী হা/৫৬৭৩; মুসলিম হা/২৮১৬; মিশকাত হা/২৩৭১)।

মহান আল্লাহপাক আমাদের উপর তোমার রহমত বর্ষণ করো। আমিন।

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ARA's Creations posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share