জ্যামের শহর ঢাকা

জ্যামের শহর ঢাকা Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from জ্যামের শহর ঢাকা, Media/News Company, Dhaka.

14/10/2024

নিনজা – আসলেই কি এরা ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর ভাড়াটে খুনী?
পপ কালচারের সাথে পরিচিত হলে বা অ্যানিমে ফ্যান হয়ে থাকলে নিনজা শব্দটা কারো অপরিচিত নয়। অতিমানবীয় ক্ষমতার অধিকারী গুপ্তঘাতক ও যোদ্ধাদের একটা দল, অদম্য, দুর্ধর্ষ, নির্ভীক, যাদের অদৃশ্য হবার, পানির ওপর দিয়ে ছুটে যাবার বা রূপ বদলানোর ক্ষমতা আছে। অসংখ্য সিনেমা সিরিজ আর অ্যানিমে তৈরি হয়েছে এই নিনজাদের নিয়ে। তৈরি হয়েছে অসংখ্য গল্প, কিংবদন্তী, মিথ। তাদের নিয়ে হয়েছে বিভিন্ন ধরণের গবেষণা।

নিনজারাই হয়ত পৃথিবীর সামরিক সংগঠনগুলোর মধ্যে একমাত্র, যাদের ঝুলিতে এত মিথ আর গল্পগুজব রয়েছে। তবে, তার কতটুকু সত্য?

প্রথমেই আসি ‘নিনজা’ নামকরণটি নিয়ে। নিনজাদের ইতিহাস প্রায় ৮০০ বছরের পুরনো হলেও, তাদের নিনজা নামে উনবিংশ শতাব্দীর আগে কখনও অভিহিত করা হয়নি। তাদেরকে প্রকৃতপক্ষে ‘শিনোবি নো মোনো’ বা ‘শিনোবি’ বলা হত। শিনোবি শব্দটা পাওয়া যায় অষ্টম শতকে রচিত হাইকুতে। এর অর্থ ছিল চুরি করা বা লুকিয়ে থাকা।

মার্শাল আর্ট শেখানো হত কেবল আত্মরক্ষার খাতিরে
চীনা সমরবিদ ও দার্শনিক জিয়ান জিয়া তার সামরিক কৌশল বিষয়ক বই, “সিক্স সিক্রেট টিচিং” এ সর্বপ্রথম বিশেষায়িত সামরিক বিভাগ সমূহের কথা উল্লেখ করেন যেখানে গুপ্তচরবৃত্তি ও গুপ্তঘাতক দলের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা ছিল।
প্রথমত সামন্ত জাপানের উচ্চবংশীয় সামরিক ব্যক্তিবর্গ যাদের সামুরাই বলা হত, তারা ছিলেন শোগুনের প্রতি অনুগত। জাপানে সামরিক স্বৈরশাসকগণকে “শোগুন” বলা হত। শোগুনরা এই ধরণের গোপন যুদ্ধের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে ছিলেন। এই ধরণের যুদ্ধকৌশল একটা সময়ে জাপানে মৃত্যুদন্ডযোগ্য অপরাধ ছিল। তবে সময়ের সাথে জাপানের শাসকরা এর প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করতে শুরু করেন। তারা গুপ্তচর বা ঘাতক হিসেবে নিনজাদের তখন থেকেই নিয়োগ দেওয়া শুরু করেন।

প্রথম শিনোবি নামটা যুক্ত হয় চতুর্থ শতকের ইয়ামাটো রাজবংশের রাজপুত্র ওনসুর নামের সঙ্গে। কথিত আছে, তিনি ইয়ামাটো রাজবংশের প্রতিপক্ষ কুমাসোদের নেতৃস্থানীয়দের হত্যা করেন। তাদের এক মদ্যপানের আসরে তিনি একজন পরিচারিকার ছদ্মবেশে প্রবেশ করেন ও মাতাল কুমাসো নেতাদের ওপর ছুরি হাতে ঝাপিয়ে পড়েন। তার হাতে নিহত কুমাসো নেতাদের একজন মৃত্যুর আগে তাকে ইয়ামাটো টাকেরু বা ইয়ামাটোদের বীর নামকরণ করেন। তবে এই নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থেকেই যায়। তৎকালীন জাপানের সামরিক আইন এই ধরণের কর্মকান্ডকে খুব নিচু চোখে দেখত আর শক্তভাবে বিরোধিতা করত।

ইয়ামাটো টাকেরু
চোরাগোপ্তা হামলা, গুপ্তহত্যা এসবকে অসম্মানিত বলে জ্ঞান করা হত। কোন সামুরাই যদি ইচ্ছে করে এই ধরণের কর্মকান্ডে লিপ্ত হয় তাহলে তার শাস্তি ছিল মৃত্যুদন্ড। হয় সে হারাকিরি করে সম্মান জিইয়ে রেখে মৃত্যুকে বরণ করে নেবে, নইলে ভয়ংকর অপমানের সঙ্গে শোগুন তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করবে। এমন পরিস্থিতিতে তার হাতে চোরাগোপ্তা হামলায় নিহত ব্যাক্তির তাকে মৃত্যুর আগে ইয়ামাটোদের বীর আখ্যা দেওয়াটা পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য নয়। তবে ওনসুকে তারপর থেকে ইয়ামাটো টাকেরু নামেই গোটা জাপান চেনে। তার আবক্ষ মুর্তিও ছিল তদানীন্তন কোনসু রাজ্যে।

এরপর নিনজাদের উল্লেখ পাওয়া যায় ষষ্ঠ শতকে, রাজপুত্র শোটোকু সাফল্যের সাথে শত্রুর বিরুদ্ধে গুপ্তচরদের কাজে লাগান। এটাই গুপ্তচরবৃত্তির ওপর পৃথিবীতে পাওয়া প্রথম প্রামাণ্য দলিল। দশম শতকে শোমোনকি গ্রন্থে কোহারুমারু নামের এক বালকের উল্লেখ পাওয়া যায়। গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধে তার শিরশ্ছেদ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ ডার্ক ওয়েবে আসলেই কি রেড রুম আছে?

এছাড়াও পরে চতুর্দশ শতকের যুদ্ধকালীন দলিলপত্রে শিনোবি কথাটার উল্লেখ পাওয়া যায় যা থেকে বোঝা যায় যুদ্ধে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে তখন নিনজা বা শিনোবিদের কাজে লাগানো হত।

কিন্তু সামুরাইদের সাথে নিনজাদের সম্পর্ক কোন কালেই ভাল ছিল না। নিনজারা কাজ করত টাকার বিনিময়ে আর এর বিরুদ্ধে ছিল সামুরাইদের অবস্থান। নিনজারা ছিল মূলত শোগুনের বিরোধী। কিন্তু এই শত্রুতার পরেও সামুরাই, সামন্ত বা শোগুনদের নিনজা ভাড়া করা বন্ধ হয়নি। তারা শত্রুকে সহজ পথে নিকেশ না করতে পারলে নিনজাদের দ্বারস্থ হত।
খ্রীস্টপূর্ব ৬০০ শতকে সান জু তার আর্ট অফ ওয়ার গ্রন্থে গুপ্তচর ও গুপ্তঘাতকদের বিষয়ে বর্ণনা করলেও পঞ্চদশ শতাব্দীর আগে কখনও প্রশিক্ষিত গুপ্তচরদের কথা জানা যায়নি। জাপানীরা আর্ট অফ ওয়ারের বিভিন্ন দীক্ষা গ্রহণ করলেও গুপ্তহত্যা ও গুপ্তচরবৃত্তির অধ্যায়টা তারা একরকম এড়িয়ে যায়।

প্রশিক্ষিত আর সংঘবদ্ধ নিনজাদের উত্থান হয় পঞ্চদশ শতকে, সেনগোকু আমলে, ইগা প্রদেশের কোগা নামক গ্রামে। ইগা প্রদেশটি ছিল পর্বতে ঘেরা ও দুর্গম, এ কারণেই ওই অঞ্চলটি গোপনে গুপ্তঘাতকদের প্রশিক্ষণ দেবার জন্য আদর্শ ছিল। ইতোপূর্বে নিনজারা কখনো সংঘবদ্ধভাবে কাজ করেনি। টাকার লোভ দেখিয়ে শাসকগোষ্ঠী সমাজের দরিদ্রদের দিয়ে কাজ করাতেন। কোগা গ্রামে সর্বপ্রথম নিনজাদের প্রশিক্ষণকেন্দ্র আর প্রথম বাহিনী তৈরি হয়। সামন্ত জাপানের সামুরাই অধ্যুষিত অঞ্চলে নিনজাদের প্রয়োজনীয়তার কারণ বিভিন্ন গবেষক বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

ইগা প্রদেশ
তার মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ধরা হয় যে ব্যাখ্যাটি সেটি হল, ‘তৎকালীন জাপানে সামন্ত রাজাদের মধ্য থেকে বিভিন্ন ওয়ার লর্ডের উত্থান হয়। যুদ্ধে জেতার জন্য তাদেরকে বিভিন্ন বাঁকা পথের আশ্রয় নিতে হয়। যেমন গুপ্তচরবৃত্তি, গুপ্তহত্যা, গেরিলা হামলা, অন্তর্ঘাত, অগ্নিসংযোগ। আগেই বলা হয়েছে এসব কর্মকান্ড তৎকালীন জাপানে গ্রহণযোগ্য ছিল না। ওয়ার লর্ডদের সাথে যে সকল উচ্চবংশীয় সেনাপতিরা ছিলেন তারা সকলেই ছিলেন সামুরাই। তারা শোগুনের নিয়মে বাঁধা এবং নিজের সম্মান রক্ষার্থে এই ধরণের কর্মকান্ডে লিপ্ত হতেন না। আর একটি কারণ ছিল অধীনস্ত সৈন্যের স্বল্পতা। ওয়ারলর্ডদের সকলের যথেষ্ট পরিমাণ সৈন্য সংগ্রহের ক্ষমতা থাকত না। তারা অর্থের বিনিময়ে তার পক্ষে যুদ্ধ করার জন্য সৈন্য ভাড়া করতে পারতেন। সৈন্য যত প্রশিক্ষিত আর দুর্ধর্ষ তার পারিশ্রমিক তত বেশি। এই কারণেই পনের শতক থেকে নিনজারা ভাড়াটে সৈনিক হিসেবে কাজ করতে শুরু করে। নিনজারা বেশিরভাগই ছিল গ্রামের কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণীর মানুষ। নিম্নবর্ণের লোকেদের সম্মানের ভয় নেই, কাজেই তাদের প্রশিক্ষিত করা শুরু হল।

কোগার নিনজারা ১৪৮৫ সাল থেকে ১৫৮১ সাল পর্যন্ত ভাড়ায় বিভিন্ন জাপানী শাসকের জন্য কাজ করতে থাকে। পরে ওদা নোবুনাগা নামের একজন ওয়ার লর্ড ইগা প্রদেশে হামলা চালান ও নিনজাদের বসতি ধ্বংস করেন। নিনজারা টিকতে না পেরে পালিয়ে যায়। তাদের কিছু পালায় কাই পর্বতে, অধিকাংশই গিয়ে সম্রাট টোকুগাওয়া ইয়েয়াসুর কাছে আশ্রয় নেয়। টোকুগাওয়া ইয়েয়াসু ছিলেন তৎকালীন টোকুগাওয়া সাম্রাজ্যের সম্রাট। তিনি নিনজাদের নিজের অধীনে নিয়োগ দেন। ইগা গোত্রের বিখ্যাত নিনজা হাতোরি হানজো সম্রাটের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী নিযুক্ত হয়।

নিনজাদের হামলাগুলো তারা রাতেই পরিচালনা করত
নিনজাদের প্রশিক্ষণ নিয়ে মিথ সম্ভবত সবচেয়ে বেশি। নিঃশব্দে চলাচল করা, লাফিয়ে উঁচু উঁচু ভবনের ছাদে উঠে যাওয়া, আকাশে ওড়া, অদৃশ্য হয়ে যাওয়া, রূপ বদলানো, একাই দশ বারোজনের সাথে যুদ্ধ করা ইত্যাদি বিষয়ে কিভাবে নিনজাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হত? প্রশ্ন জাগে মনে।

পৃথিবীর সর্বশেষ নিনজা, কাওয়াকামি জিনিচি একটি সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, “নিনজাদের প্রশিক্ষণ ছিল মূলত বেঁচে থাকার, টিকে থাকার প্রশিক্ষণ। নিনজাদের লড়তে শিখতে হত কারণ, সবসময় গা বাচিয়ে চলা সম্ভব ছিল না। কখনও না কখনও শত্রুর সামনে পড়তেই হত। নিনজাদের প্রশিক্ষণ সাধারণ সামরিক প্রশিক্ষণের থেকে খুব একটা আলাদা কিছু ছিল না। কিছু ব্যাতিক্রম ছিল যেগুলো কেবল বিশেষায়িত অস্ত্রের ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছিল।

কিন্তু কেমন ছিল নিনজাদের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি? আর ঠিক কিভাবে তারা হয়ে উঠলো ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর সৈন্যদের মধ্যে অন্যতম?

14/05/2024

কম্পিউটার কাকে বলে | Computer definition
যে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস বা বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা ব্যবহারকারীর কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য বা ডেটা ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ভুল ফলাফল আউটপুট হিসেবে প্রদান করে তাকে কম্পিউটার বলে।

কম্পিউটার শব্দের অর্থ কি | Computer meaning in Bengali
বাংলায় Compute শব্দের অর্থ অর্থ হল গণনাকারী বা হিসাবকারী (calculation) যন্ত্র। আগে কম্পিউটারের গণনার কাজে ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে এটি প্রায় ক্ষেত্রে, সকল কাজেই ব্যবহার করা হয়। আশা করি কম্পিউটার মানে কি এ বিষয়টি বুঝতে পারলেন।

কম্পিউটার এর পুরো নাম কি | Full form of computer
Computer এর পূর্ণরূপ হল “Commonly Operated Machine Particularly Used in Technical and Educational Research”

C – Commonly

O – Operated

M – Machine

P – Particularly

U – Used

T – Technical

E – Educational

R – Research

কম্পিউটারের জনক কে
ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক চার্লস ব্যাবেজ (Charles Babbage) কে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয়।

চার্লস ব্যাবেজ সর্বপ্রথম প্রোগ্রামেবল কম্পিউটার তৈরি করেন । তিনি 1837 সালে Analytical Engine, এছাড়া ডিফারেন্স ইঞ্জিন ও (difference engine) আবিষ্কার করেন

আধুনিক কম্পিউটারের সমস্ত ধারণা গুলি চার্লস ব্যাবেজ এর Analytical Engine এ পাওয়া যায় তাই চার্লস ব্যাবেজ কে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয় বা father of computer বলা হয়।

কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে
কম্পিউটার মূলত চারটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কার্য সম্পন্ন করে।

• input

• storage

• processing

• output

প্রথমে ব্যবহারকারী কম্পিউটারকে ইনপুট দেয় ইনপুট ডিভাইসের মাধ্যমে যেমন মাউস কিবোর্ড ইত্যাদি

তারপর ইনপুটকৃত ডাটা গুলি স্টোরেজ ডিভাইস এ সেভ হয়।

তারপর প্রসেসর সমস্ত ডাটাগুলি প্রসেসিং করে।

এবং সর্বশেষ আউটপুট ডিভাইসের (যেমন মাউস, কিবোর্ড, প্রিন্টার, প্রজেক্টর ইত্যাদি) মাধ্যমে ফলাফল আমাদেরকে দেখায়।

উদাহরণস্বরূপ, যখন আমরা কোন কমান্ড বা ইনপুট কিবোর্ড এর মাধ্যমে দেই তখন মাউস সে কমান্ড বা নির্দেশকে 0 এবং 1 রূপে মাদারবোর্ডে পাঠায়, মাদারবোর্ড সেই নির্দেশকে ভেরিফাই করে প্রাইমারি মেমোরি যেমন ram এ জমা করে রাখে

তারপর 0 এবং 1 নির্দেশ গুলি সিপিউ অর্থাৎ প্রসেসিং ইউনিটে যায় তে যায়, এরপর প্রসেসিং ইউনিট সেই ডাটাগুলি প্রসেসিং করে আউটপুটের মাধ্যমে আমাদেরকে ফলাফল দেখায় এভাবেই মূলত একটি কম্পিউটার কাজ করে থাকে

কম্পিউটারের ইতিহাস | History of Computer in bengali
শিক্ষা, ব্যবসা, চিকিৎসা, বিনোদন ও প্রায় সব জায়গায় কম্পিউটারের ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। তো এই কম্পিউটার কিন্তু হঠাৎ করে আবিষ্কার হয়নি ।

দীর্ঘদিন ধরে প্রচুর বিজ্ঞানীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল হচ্ছে কম্পিউটার। তবে কম্পিউটার একক কোন ব্যক্তি আবিষ্কার করেননি। বিভিন্ন বিজ্ঞানীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কম্পিউটার তৈরি হয়েছে।

1822 সালে চার্লস ব্যাবেজ কম্পিউটার তৈরিতে যে নীতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিলেন পরবর্তীকালে বিজ্ঞানীরা সেই নীতি অনুসরণ করেছিলেন বলেই উন্নত আধুনিক কম্পিউটার আবিষ্কার হয়েছিল। এইজন্যই মূলত চার্লস ব্যাবেজকে ফাদার অফ কম্পিউটার বলা হয়।

কিন্তু তিনি সর্বপ্রথম কম্পিউটার আবিষ্কার করেননি বা কম্পিউটারের আবিষ্কারক নন । তাহলে পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটারের নাম কি?

Abacus :
পৃথিবীর প্রথম গণনাকারী যন্ত্র হলো অ্যাবাকাস (abacus) এটি প্রায় ৫ হাজার পূর্বে দিয়ে চীন দেশে পাওয়া গিয়েছিল। তবে এটি পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার নয়। এটি এক ধরনের গণনাকারী যন্ত্র।

তবে অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন ENIAC (Electronic Numerical Integrator and Computer) তাহলে পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার ।

Napier’s Bones :
স্কটল্যান্ড এর গণিতবিদ John Napier 1614 সালে logarithms আবিষ্কার করেন এটির সাহায্যে খুব সহজে গুণ ভাগ, বর্গ, বর্গমূল ইত্যাদি অর্থাৎ জটিল গণনা করা সম্ভব হয়।

logarithms ভিত্তিক হিসাব কাজের জন্য যে সংখ্যা চিহ্নিত দন্ড ব্যবহার করা হয়েছিল সেইগুলো Napier’s Bones নামে পরিচিত।

Slide rule :
1620 সালে ইংরেজ গণিতজ্ঞ William Oughtred স্লাইড রুল যন্ত্রটি আবিষ্কার করেন এটি Napier’s Bones ধারণা এবং প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে তৈরি করেছিলেন, ফলে এটি সাহায্যে গুণ, ভাগ, বর্গমূল করা যেত। তবে এই যন্ত্রটি দিয়ে বড় বড় অংক করা সম্ভব হতো না।

Pascaline :
ফরাসি গণিতবিদ এবং দার্শনিক Blaise Pascal 1642 – 1644 সালের মধ্যেই এই মেকানিক্যাল ক্যালকুলেটর জেটির নাম পাস্কাল ক্যালকুলেটর ( Pascal’s calculator)

এটির সাহায্যে চার সারি সংখ্যার যোগ বিয়োগ গুণ ভাগ করা যেত।

Stepped Reckoner :
জার্মান গণিতবিদ এবং দার্শনিক Gottfried Wilhelm von Leibniz 1771সালে স্টেপড রেকনার (Stepped Reckoner) নামে এক গণনা যন্ত্র তৈরি করেন।

তিনি পাস্কাল ক্যালকুলেটর ধরনের উপর ভিত্তি করে এটি তৈরি করেছিলেন যদি সাহায্যের যোগ বিয়োগ গুন ভাগ করা সম্ভব হতো।

Difference engine :
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চার্লস ব্যাবেজ 1822 সালে ডিফারেন্স ইঞ্জিন নামে এক ধরনের গণনা যন্ত্র আবিষ্কার করেন। তিনি সর্বপ্রথম স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটিং ইঞ্জিন ডিজাইন করেছিলেন এবং আধুনিক কম্পিউটারের সাথে তার তৈরি কম্পিউটারের অনেক মিল পাওয়া যায় বলে চার্লস ব্যাবেজ কে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয়।

ডিফারেন্স ইঞ্জিনে একটি মেমোরি বা স্মৃতি ভান্ডার ছিল জেটির সাহায্যে তথ্য ধরে রাখা সম্ভব হতো এবং একসঙ্গে অনেকগুলো কাজ করা যেত, এছাড়া এটির মাধ্যমে বিভিন্ন রকম গাণিতিক কাজ করা যেত যেমন মান নির্ণয়, ত্রিকোণমিতি, যোগ, গুণ, ভাগ ইত্যাদি ।

Analytical Engine :
1833 খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী চার্লস ব্যাবেজ ডিফারেন্স ইঞ্জিন কে আরো উন্নত করার লক্ষ্যে আরেকটি স্বয়ংক্রিয় কম্পিউ-টার আবিষ্কার করেন যেটির নাম Analytical Engine

এটির সাহায্যে যে কোন গাণিতিক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হতো। এই যন্ত্রটির সাহায্যে সর্বপ্রথম ইনপুট, আউটপুট, তথ্য সঞ্চয় করে রাখা, তথ্য আদান প্রদান ইত্যাদি ধারণা পাওয়া যায় যেগুলো বর্তমান কম্পিউটারেও ব্যবহার করা হয়।

Hollerith Tabulating Machine :
1990 সালে আরেকটি যন্ত্র আবিষ্কার হয় যার নাম Hollerith Tabulator এই যন্ত্রটিতে এক ধরনের ছিদ্রযুক্ত পাঞ্চ কার্ড ব্যবহার করা হয়েছিল। এবং এ যন্ত্রটি সে বছর আমেরিকার আদমশুমারির ফলাফল গণনা করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল ।

Mark – 1 :
আমেরিকার হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক Howard Aiken ও IBM এর চারজন প্রকৌশলীর সহায়তায় 1944 খ্রিস্টাব্দে mark 1 নামে প্রথম স্বয়ংক্রিয় ইলেকট্রন মেকানিক্যাল ডিজিটাল কম্পিউটার তৈরি করেন।

এই কম্পিউটারটি আকারে খুবই বড় ছিল 55 ফুট লম্বা, 8 ফুট উঁচু এবং 5 টন ওজনের ছিল । এটির সাহায্যে যোগ বিয়োগ গুন বা খুবই দ্রুত করা সম্ভব হতো এবং তথ্য ধরে রাখা, তথ্য আদান-প্রদান করা সমস্ত কিছু কাজ করা হতো। অর্থাৎ চার্লস ব্যাবেজের অসমাপ্ত কাজগুলো এই কম্পিউটারের লক্ষ্য করা যায়।

Eniac :
John Mauchly ও J. Presper Eckert 1946 সালে একটি কম্পিউ-টার তৈরি করেন যার নাম ENIAC (Electronic Numerical Integrator and Computer) এটি সর্বপ্রথম পূর্ণাঙ্গ ইলেকট্রনিক ডিজিটাল কম্পিউটার।

আমেরিকার আর্মিদের জন্য আর্টিলারি ফায়ারিং (artillery firing) টেবিল গণনা করার জন্য ENIAC ডিজাইন ও নির্মিত হয়েছিল।

এভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে কম্পিউটার ও উন্নত হতে থাকলো যেমন কম্পিউটারের আকার ছোট হলো এবং তার কর্মক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পেল ।

তো এভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজ আমরা কম্পিউ-টার ব্যবহার করতে পারছি। তো এটাই ছিল মূলত কম্পিউটারের ইতিহাস। সুম্পূর্ণ কম্পিউটারের ইতিহাস প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করলাম আশা করি এটি বুঝতে পারলেন।

কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য গুলো কি কি ?
চলুন তাহলে কম্পিউটারের প্রধান বৈশিষ্ট্য কি কি বা কম্পিউটারের সুবিধা কি এ বিষয়গুলোর নিম্নে আলোচনা করি।

গতি :
কম্পিউটার যেকোন কাজ খুবই দ্রুতগতিতে করতে পারে। এছাড়া অনেক কাজ একসঙ্গে করতে পারে। কম্পিউটারের কাজ করার ক্ষমতা অতি দ্রুত বলে কম সময়ে অনেক কাজ করতে পারে।

সঞ্চয় ক্ষমতা :
কম্পিউটারে প্রচুর পরিমাণ তথ্য বা ডেটা স্টোর করে রাখতে পারে। যেমন ধরুন আমরা কম্পিউটারে প্রচুর ভিডিও, অডিও, ফটো, ফাইল ইত্যাদি save করে রাখি।

নির্ভুলতা :
এই পৃথিবীতে কোন কিছুই নিখুঁত বা নির্ভুল নয়, তবে কম্পিউটার ঠিক তার বিপরীত । কম্পিউটারের সাহায্যে লক্ষ লক্ষ্য গাণিতিক কাজ নির্ভুলভাবে করা সম্ভব হয়। কম্পিউ-টার কখনো ভুল করে না। মানুষ ভুল করলেও কম্পিউটার সে ভুলটি ধরিয়ে দেই।

পরিশ্রম ক্ষমতা :
কম্পিউটার ক্লান্তি মুক্ত। এটি ভুল না করে ঘন্টার পর ঘন্টা কাজ করে যেতে পারে। মানুষ কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেলেও কম্পিউটার ক্লান্ত হয় ন, কম্পিউটার অনেকক্ষণ ধরে কাজ করতে পারে।

বহুমুখীতা :
একটি কম্পিউটারের সাহায্যে বিভিন্ন রকম কাজ করা সম্ভব হয় যেমন কম্পিউটারে একসঙ্গে ভিডিও দেখতে পারেন এবং চ্যাটও করতে পারেন।

যোগাযোগ ব্যবস্থা :
যোগাযোগ ব্যবস্থা কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশিষ্ট্য। কম্পিউটারের সাহায্যে চ্যাট বা মেসেজের মাধ্যমে যে কারো সঙ্গে কথা বলতে পারি এছাড়া ওয়েবক্যাম ব্যবহার করে ভিডিও কল করতে পারি, এবং বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে অন্যের কম্পিউ-টার কে কন্ট্রোল করতে পারি।

তো বন্ধুরা, আজকের এই আর্টিকেল থেকে কম্পিউটার কি (computer ki) | কম্পিউটারের কাজ কি | কম্পিউটার বেসিক নলেজ | কম্পিউটারের পরিচিতি (computer porichiti) কি ইত্যাদি বিষয় জানতে পারলেন।
কম্পিউটার বলতে কি বুঝ য় এই নিয়ে আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের কেমন লাগলো অবশ্যই নিচে থাকা কমেন্ট বক্সে আপনাদের মতামত জানাতে পারেন ধন্যবাদ।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when জ্যামের শহর ঢাকা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share