08/05/2026
✍️
শুনেছিলাম ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে, জুতা চোরের কাবায় গেলেও জুতা দেখলে চুরির লিপ্সাই জাগে, তদ্রূপ বিকৃত মস্তিষ্কের নারীলিপ্সু চরিত্রহীন গুলো (হোক আলেম/জেনারেল) দ্বীনে ফিরলে বা দ্বীন পালন শুরু করলেও ওদের লিপ্সার বৈধতা খুঁজে দ্বীনের নামে একাধিক বিয়ের মতো সংবেদনশীল বিধানের অপব্যাখ্যা করে।
ওদের লালসায় ভরা মন কতগুলো লেইম যুক্তি দাড় করায় জনসম্মুখে-
১. “এতিম বিধবাদের দায়িত্ব নেয়ার জন্য নাকি একাধিক বিয়ে প্রয়োজন” অথচ আলী ইবনে হোসাইন(যাইনুল আবিদিন) ১০০ বিধবা নারীর বাড়িতে খাদ্যের বোঝা নিজে বহন করে গোপনে পৌঁছে দিতেন। এতটাই গোপনে এ আমল করতেন যে পরিবারগুলো অব্দি জানতো না কে তাদের খাদ্যের যোগান দেয়। মৃত্যুর পর জানা গেছে। যে দায়িত্ব আল্লাহর জন্য নিতে চায় তার বিয়ে করে নিতে হয়না।
২. পতিতালয় যাওয়ার চেয়ে একাধিক বিয়ে ভালো।
হ্যাঁ বিষ্ঠা/মলমূত্রের চেয়ে সিগারেট খাওয়া ভালো ঐ ব্যক্তির জন্য যে বিষ্ঠা খাওয়ায় আসক্ত। রেন্ডমলি সুস্থ সাধারণ, ভালো মানুষের জন্য না।
অনুরূপ পতিতালয়ের চেয়ে একাধিক বিয়ে ভালো পতিতালয়ের কাস্টমারদের জন্য আম পাবলিকের জন্য না। লেজকাটা শিয়াল নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে সব শেয়ালকেই দাওয়াত দেয় লেজটা কেটে ফেলতে! আল্লাহ সাধারণদের হেফাজত করুন।
এই চরিত্রহীন গুলোর তুলনায়ও ওদের স্বভাবের পরিচয় পাওয়া যায়, আসলে ওরা পতিতালয় আর পার্কের চিপাচাপারই মানুষ।
৩. অনেক গুলো বউ নাকি শক্তিশালী পুরুষের নিদর্শন।
তাহলে তো ইমাম বুখারী (রহঃ) সবচেয়ে দূর্বল পুরুষ ছিলেন, তার কোনো শক্তিই ছিলো না, তাইনা!
৪. পুরুষকে নাকি বহুগামী করে সৃষ্টি করা হয়েছে।
অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আদম (আঃ)কে একটা মাত্র স্ত্রী দিয়েছিলেন, যদি পুরুষ ফিতরতান বহুগামী হতো তবে প্রথম পুরুষকেই একসাথে কয়েকজন স্ত্রী দিতেন।
৫. তাদের লজিকে এটাই প্রতিয়মান হয় যে, “যারা একাধিক বিয়ে করেনা তারা সবাই হয়তো পতিতালয় আর পার্কে যায়” তাহলে আমার কলিজার মুরুব্বি আবদুল মতিন বিন হুসাইন (দাঃবাঃ),আব্দুল মালেক সাহেব, ওলীপুরী হুজুর, আইয়ুবী সাহেব, হাসান জামিল, তারিক জামিল (দাঃবাঃ), জুলফিকার নকশবন্দি (রহঃ) সবার সম্পর্কে আপনার কি ধারণা?
৬. ওরা একাধিক বিয়ে মেনে নেয়াকে নারীর বুযুর্গীর মানদণ্ড বানায়।
যদি তাই হতো তবে নারীদের জন্য এ বিধান মেনে নেয়া ফরজ করা হতো, কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা হাদিসে কুদসিতে বলেছেন- مَا تَقَرَّبَ إِلَيَّ عَبْدِي بشَيءٍ أَحَبَّ إلَيَّ مِمَّا افْتَرَضْتُ عَلَيهِ অর্থাৎ আমার বান্দা যে সমস্ত জিনিস দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করে, তার মধ্যে আমার নিকট প্রিয়তম জিনিস হল তা - যা আমি তার উপর ফরয করেছি।
আরেক আয়াতে বলেছেন- إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللهِ أَتْقَاكُمْ অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত সে, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী তাক্বওয়াবান। যদি বিয়ে মেনে নেয়া বুযুর্গী বা মর্যাদার মানদণ্ড হতো তাহলে বলতেন স্বামীর একাধিক স্ত্রী মেনে নেয়া নারী বেশি নৈকট্যশীল বা মর্যাদাবান।(আস্তাগফিরুল্লাহ)
আসলে একাধিক বিয়ের গুরুত্ব তো ইসলাম দেয়ইনি বরং অনুৎসাহিত করেছে সূরা নিসার ১২৯ নং আয়াতে। যে হাদিসগুলোতে একাধিক স্ত্রী গ্রহণকারী ব্যক্তির প্রশংসা করা হয়েছে তার চেয়ে উক্ত এক আয়াতের ওজন লাখো-কোটিগুন ভারি। তা বোঝার জন্য আগে নফসের দাসত্ব ছেড়ে ভালো হতে হবে।
প্রবৃত্তির দাসগুলো শরীয়তের মাকসাদ(উদ্দেশ্য) ভুলে গিয়ে সীমানা নির্ধারণের একটা আয়াতকে খাহেশাত চরিতার্থ করার দলীল বানিয়ে ফেলেছে।
যে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল নারী জাতির কল্যাণের জন্যই সে আয়াতকে আমার সাধারণ বোনদের নিকট ভীতিকর বানিয়ে ছেড়েছে।
আমার বোনেরা! ইসলাম সুন্দর, ইসলামের সকল বিধান সুন্দর, শুধু সুন্দরই নয় বরং হার এক বিধানের উপর প্রেম জাগ্রত হয়, জান লুটাতে ইচ্ছে হয় যদি গভীরে ডুব দেয়া যায়।
তাই যদি কোন বিধান আপনার মনে ভীতির সৃষ্টি করে তবে বুঝে নিবেন এ বিধানটি আপনার সামনে ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, যারা উপস্থাপন করছে তারা কোনো না কোনো বাড়াবাড়িতে লিপ্ত।
তাই ইসলামের সৌন্দর্য বুঝতে এমন হৃদয় অন্বেষণ করুন যে সৌন্দর্য বোঝে তাকে খুঁজে বের করুন এবং খুঁজতেই থাকুন যতক্ষণ না পাওয়া যায়।
যেমন নাকি এক ডক্টরের কাছে রোগ না সারলে অন্য আরো ভালো, আরো বড় ডক্টর খুঁজে রোগীগণ, তদ্রূপ প্যাশনেট হয়ে যতক্ষণ ইসলামী বিধানের সৌন্দর্য বুঝে না আসে খুঁজুন।
অবশ্যই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা মিলিয়ে দিবেন এবং তার কাছে জিজ্ঞেস করুন, জানুন হাকীকত কী, নিশ্চয়তা দিচ্ছি হৃদয়ে শীতলতা অনুভব হবে।
কোনো লিপ্সুর ভুলভাল উপস্থাপনে ইসলামোফোবিয়ায় ভুগবেন না, হতাশ হবেন না। এ বিধান নারী জাতির কল্যাণে অনুমোদিত, পুরুষদের খাহেশাতের