Investigative journalism

Investigative journalism অনুসন্ধান মুলক

🚨 ঢাকা অচলের ভয়াবহ নীলনকশা ফাঁস! মেজর সাদেকুল ও সুমাইয়া জাফরিন গ্রেপ্তার 🚨বন্ধুরা, চাঞ্চল্যকর খবর! গত কয়েক মাস ধরে ঢাকা ...
08/08/2025

🚨 ঢাকা অচলের ভয়াবহ নীলনকশা ফাঁস! মেজর সাদেকুল ও সুমাইয়া জাফরিন গ্রেপ্তার 🚨
বন্ধুরা, চাঞ্চল্যকর খবর! গত কয়েক মাস ধরে ঢাকা শহরকে অচল করে দেওয়ার জন্য গোপনে নাশকতার পরিকল্পনা চলছিল। এর পেছনে ছিলেন সেনাবাহিনীর মেজর সাদেকুল হক ও তার স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিন। এই দম্পতি আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ নেতাকর্মীদের গেরিলা প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘Operation Dhaka Blocked’ (ODB-M-1701) নামে একটি ভয়াবহ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন। 😱
কী ঘটেছিল?
গত ৮ জুলাই বসুন্ধরার কেবি কনভেনশন সেন্টারে প্রায় ৪০০ জনের গোপন প্রশিক্ষণের খবর ফাঁস হওয়ায় মেজর সাদেকুল ও সুমাইয়া জাফরিনকে তাদের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুমাইয়া ফেসবুকে ‘ODB-M-1701’ নামে একটি প্রাইভেট গ্রুপ পরিচালনা করতেন, যেখানে বাছাইকৃত নেতাকর্মীদের গোপন কোড দিয়ে যুক্ত করা হতো। এই গ্রুপের মাধ্যমে নাশকতার সব নির্দেশনা দেওয়া হতো। তিনি শেখ হাসিনা, জয়, আরাফাতদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং গুগল শিটে তথ্য সংরক্ষণ করতেন। 🕵️‍♀️
মিথ্যা পরিচয় ও সিসিটিভি ফুটেজ
সুমাইয়া জাফরিন, যিনি ইউনিলিভারে কাজ করতেন, নিজেকে পুলিশের এএসপি হিসেবে পরিচয় দিয়ে কেবি কনভেনশন সেন্টার ভাড়া নিয়েছিলেন। অথচ পুলিশ সদর দফতর নিশ্চিত করেছে, এই নামে কোনও কর্মকর্তা তাদের নেই! 😲 আরও মজার বিষয়, প্রশিক্ষণ শেষে হলের সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলা হয়, যার মালিকও একজন আওয়ামী লীগ নেতা।
ব্যর্থ নাশকতা ও প্রশিক্ষণ
গত ৫ মাসে তারা ৪০০ জনের একটি কোর টিম গঠন করে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে টোকাইদের সংগ্রহ করে নাশকতার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়। তাদের লক্ষ্য ছিল ঢাকাকে অচল করে পলাতক আওয়ামী নেতাদের রাস্তায় নামানো। কিন্তু তথ্য ফাঁস হওয়ায় তাদের পরিকল্পনা ধরাশায়ী হয়। 🛑
উদ্বেগজনক তথ্য
গ্রেপ্তারের সময় গোয়েন্দা বাহিনী তাদের বাসার সামনে ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিল সেনাবাহিনীর ফোর্সের জন্য। এই সময়ে তারা মোবাইল-পিসি থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে ফেলার সুযোগ পায়। এটা কি ইচ্ছাকৃত? 🤔 আরও চিন্তার বিষয়, মেজর সাদেকুল ১৫০ দিন ধরে ইউনিটে অনুপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তার সিও কর্নেল মোস্তাফিজ, যিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক, কোনও রিপোর্ট করেননি। এটা কীভাবে সম্ভব? 😡
জনগণের সাহস ও দাবি
জুলাইয়ের আন্দোলনে আমাদের তরুণ প্রজন্ম খালি হাতে বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। পকেটে আইডি কার্ড নিয়ে তারা রাস্তায় নেমেছিল, যাতে মৃত্যু হলেও পরিচয় শনাক্ত করা যায়। এই প্রজন্মকে ভয় দেখানোর কিছু নেই! 💪 কিন্তু নাশকতাকারীরা যদি সরকারি প্রতিষ্ঠান, যানবাহনে আগুন দেয়, তবে ক্ষতি হবে আমাদেরই। তাই প্রশাসনে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের সমর্থকদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। গোয়েন্দা বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। 🛡️
ড. ইউনূসের নেতৃত্বে আমরা একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ বাংলাদেশ চাই। নাশকতার জন্য কোনও নিরাপদ স্থান থাকতে পারে না। আসুন, ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই। 🇧🇩
#নাশকতারবিরুদ্ধে_ঐক্যবদ্ধ #ঢাকা_অচল_পরিকল্পনা #আওয়ামী_নাশকতা #গোয়েন্দা_তৎপরতা #বাংলাদেশ_এগিয়ে_চলো

27/07/2025

আল জাজিরার তদন্তমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ৩৬ দিনের রক্তাক্ত ছাত্র আন্দোলনের নৃশংস সত্য। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে নিরীহ বিক্ষোভকারীদের উপর মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, যা হাজার হাজার জীবন কেড়ে নিয়েছে। এই তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে হাসিনার গোপন ফোন কলের রেকর্ড, যেখানে তিনি প্রতিবাদ দমনে নির্দয় নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা এই অত্যাচারের বিচার চাই! ✊

#৩৬জুলাই #আলজাজিরাতদন্ত #ছাত্রআন্দোলন #বাংলাদেশেরজাগরণ #ফ্যাসিস্টমুক্তবাংলাদেশ #বিচারচাই #জুলাইআন্দোলন #গণতন্ত্রেরলড়াই #হাসিনারপতন #ন্যায়েরআওয়াজ #বাংলারছাত্রশক্তি #অত্যাচারেরবিরুদ্ধে #মানুষেরজয় #গণজাগরণ #স্বাধীনতারআওয়াজ #অন্যায়েরবিরুদ্ধে

**এয়ার ফোর্সের এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের কাছে সরাসরি উত্তরের আহ্বান: সেনাবাহিনীর স্বচ্ছতার প্রশ্ন, পূর্ববর্তী ...
23/07/2025

**এয়ার ফোর্সের এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের কাছে সরাসরি উত্তরের আহ্বান: সেনাবাহিনীর স্বচ্ছতার প্রশ্ন, পূর্ববর্তী এফ-৭ দুর্ঘটনা ও একটি সাধারণ নাগরিক ও ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে আমার প্রশ্ন—শোকস্তব্ধ শিশুদের ও সত্য গোপনের বিস্তারিত আলোচনা**

আজ, ২৩ জুলাই ২০২৫, ভোর ২:৫২টায় আমি এই লেখাটি শুরু করছি—হৃদয়ে এক অদ্ভুত ভার আর মনে কষ্টের ছায়া নিয়ে। গত ২১ জুলাই বাংলাদেশের আকাশে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা আমাদের সবার মনে গভীর ক্ষতি এঁকে দিয়েছে। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে, উত্তরার ডায়াবাড়িতে, একটি এয়ার ফোর্সের এফ-৭ প্রশিক্ষণ বিমান প্রায় বিকাল ১:১৫টায় ক্যাম্পাসের দুই তলা ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে। এই বিপর্যয়ে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০-৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে—বেশিরভাগই প্রাথমিক স্তরের শিশু শিক্ষার্থী—এবং ১৬০-১৭১ জন আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকে গুরুতর দগ্ধ ক্ষতি পেয়েছে। এটি সম্ভবত রানা প্লাজার পর বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় দুঃখের ঘটনা, যা একটি স্কুলের মতো নিরীহ জায়গায় ঘটেছে।

ছবিতে এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানকে দেখলে মনে হয় তিনি একজন গাম্ভীর্যময় সৈনিক—নীল পোশাকে সোনালি ফিতে, বুকে পদকের সারি, কাঁধে তারকার ঝকঝকে চিহ্ন। নামের পাশে "হাসান" লেখা আমাদের কাছে শুধু একটি পরিচয় নয়, একটি দায়িত্বের প্রতীক। কিন্তু এই দায়িত্বের ভারে আজ আমরা প্রশ্ন তুলছি। আমি একজন সাধারণ নাগরিক, একজন ভাই-বোনের দাদা, আর একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক। আমার ছোট ভাই-বোনদের মুখ মনে পড়ে, আর তারা যদি সেই স্কুলে থাকত—তখন আমার কী অবস্থা হতো, ভাবতেই গা শিরশির করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় গত দু’দিন ধরে মানুষের ক্রোধ, কান্না আর প্রশ্নের ঝড় বইছে। ফেসবুকে, টুইটারে মানুষ বলছে—মৃত্যুসংখ্যা ২০০-এর কাছাকাছি হতে পারে, কিন্তু অফিসিয়াল ডাটা এখনও স্পষ্ট নয়। এই অস্পষ্টতা আমাদের মনে সন্দেহ আর ক্ষোভ জাগাচ্ছে।

**মাইলস্টোন স্কুল দুর্ঘটনার শোকস্তব্ধ শিশুদের ও সেনাবাহিনীর স্বচ্ছতার প্রশ্ন:**
২১ জুলাই বিকাল ১:০৬টায় এফ-৭ বিমানটি এয়ার ফোর্স বেস একে খান্দকার থেকে উড়ান ভরেছিল। কিছু মিনিটের মধ্যেই একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বিমান নিয়ন্ত্রণ হারায়। পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ তৌকির ইসলাম প্রথমে জনবহুল এলাকা এড়িয়ে বিমানটিকে কম জনসংখ্যার দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু বিমানটি মাইলস্টোনের সপ্তম তলা ভবনের ছাদে আঘাত করে এবং পরে দুই তলা প্রাথমিক বিভাগের ভবনের ওপর পড়ে। সেই মুহূর্তে প্রাথমিক স্তরের শিশুরা—বয়সের পরিসর ৬ থেকে ১২ বছর—ক্লাস শেষ করে ক্যান্টিনে বা সিঁড়িতে ছিল, অনেকে প্রাইবেট কোচিং-এর জন্য অপেক্ষা করছিল। বিস্ফোরণে ভবন জ্বলে উঠল, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল। শিক্ষার্থীদের বর্ণনা থেকে জানা যায়, অনেকে পোড়া শরীরে ছুটে বেড়াচ্ছিল, কেউ কেউ হাত-পা হারিয়েছিল।

মৃতদের মধ্যে রয়েছেন মাহরিন চৌধুরী (৪৬), একজন শিক্ষক যিনি ৮০% পোড়া পেয়ে শিশুদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারান। তিনি হায়দার আলী হল ভবন থেকে শিশুদের বের করার চেষ্টা করছিলেন। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ফাতেমা আক্তার (৯), সামিউল করিম (৯), রজনী ইসলাম (৩৭), মেহনাজ আফরিন হুরায়রা (৯), শারিয়া আক্তার (১৩), নুসরাত জাহান আনিকা (১০), সাদ সালাউদ্দিন (৯), সায়মা আক্তার (৯) এবং অনেক ছোট শিশু যাদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি। আহতদের মধ্যে শামিম ইউসুফ (১৪), মাহিন (১৫), আবিদ (৯), আশরাফ (৩৭), যুশা (১১), পায়েল (১২), আলবার্টা (১০), তাসমিয়া (১৫) ইত্যাদি রয়েছেন, যারা গুরুতর পোড়া ক্ষতি পেয়েছে। একজন ছাত্রের মা, রুবিনা আক্তার, বলেছেন, তাঁর ছেলে রায়ান তৌফিকের শার্টে আগুন লাগার পর সে ঘাসের ওপর লুটিয়ে পড়ে বেঁচে গেছে। অন্য একজন ছাত্র ফারহান হাসান বলেছে, "আমার সেরা বন্ধু আমার চোখের সামনে মারা গেছে।" এই শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ ছিল—তাদের হাসি, তাদের স্বপ্ন, তাদের অপেক্ষাকৃত জীবন এখন ধোঁয়ায় মিলিয়ে গেছে। হাসপাতালে আহতদের মধ্যে অনেকে ১০-১৫ বছর বয়সী, যাদের পোড়া শরীরে জ্বলন্ত তেলের ক্ষতি হয়েছে। একটি ফ্রিজার ভ্যানে শিশুদের মরদেহ নেয়ার সময় কালিয়াকৈয়রে দুর্ঘটনা হয়ে গেছে, যাতে আত্মীয়রা আহত হয়েছে।

**সেনাবাহিনীর স্বচ্ছতার অভাব ও সত্য গোপনের চেষ্টা:**
দুর্ঘটনার পর মৃতদেহ সংগ্রহকারীদের, শিক্ষক-বড় ছাত্রদের, এবং বেঁচে ওঠা ও মৃতদেহ সরানোর সাহায্যকারীদের কথা উঠছে, কিন্তু সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা এসব আলোচনা বন্ধ করার চেষ্টা করছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে কথা চলছে যে, সৈন্যরা মৃত্যুসংখ্যা লুকাতে চাইছেন, এবং যারা এই সংখ্যা প্রকাশের চেষ্টা করেছে—যেমন শিক্ষক বা বড় ছাত্ররা—তাদের নির্যাতন করা হয়েছে। স্থানীয়দের বর্ণনা থেকে জানা যাচ্ছে, সৈন্যরা মিডিয়াকে সঠিক তথ্য দেওয়ার চেষ্টাকারীদের মারধর করেছে। এর পেছনে সম্ভবত কারণ হতে পারে প্রশাসনিক দায় থেকে বাঁচা, কারণ এত বড় ট্র্যাজেডিতে দায়িত্ব নেওয়া জটিল হতে পারে। আবার কোনো উচ্চপরিচালনার চাপ বা দুর্নীতির প্রকাশের ভয়ও থাকতে পারে, যা তথ্য গোপনের নির্দেশ দিচ্ছে। এই সব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া আমরা শান্তি পাব না।

**পূর্ববর্তী এফ-৭ দুর্ঘটনার ইতিহাস:**
এফ-৭ বিমানের সঙ্গে সম্পর্কিত পূর্ববর্তী দুর্ঘটনাগুলো প্রশ্নের বহর তৈরি করেছে। ২০০৮ সালে, একটি এফ-৭ প্রশিক্ষণ বিমান ঢাকার বাইরে বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটের মৃত্যু ঘটে। ২০২৪ মে, চট্টগ্রামে একটি এফ-৭ প্রশিক্ষণ বিমান নদীতে পতিত হয়ে একজন স্কোয়াড্রন লিডারের মৃত্যু হয়। এছাড়া, ২০১২ সালে একটি এফ-৭-এর সাথে সংযুক্ত ঘটনা উল্লেখযোগ্য, যদিও বিস্তারিত তথ্য সীমিত। এই প্যাটার্ন ইঙ্গিত দেয় যে, এই বিমানের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণে গুরুতর ত্রুটি থাকতে পারে, যা বারবার দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠছে।

এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, আমি আপনাকে একজন সৈনিকের মর্যাদা দিই। আপনার পদকগুলো বলে, আপনি যোগ্য এবং কোয়ালিফায়েড। আমি মনে করি, আপনি ভালো মানুষ। কিন্তু এই দুর্ঘটনার দায় আপনার কাঁধে। আমরা চাই না আপনাকে আক্রমণ করি, আমরা চাই আপনাকে প্রেস কনফারেন্সে এসে নিজের মুখে উত্তর দিতে। আপনি যদি ভালো মানুষ হন, তাহলে এই প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হওয়ার সাহস দেখান।

আমার প্রশ্নগুলো হলো:
১. আপনি যখন জানতেন যে এফ-৭ বিমানে ত্রুটি আছে, তাহলে কেন তা ট্রেনিং-এ চালানোর অনুমোদন দিয়েছিলেন?
২. ২০০৮, ২০১২, ২০২৪ সালে এফ-৭-এর পূর্ববর্তী দুর্ঘটনায় আপনি ফোর্সে ছিলেন, তখনও দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। চিফ হওয়ার পরেও কেন কোনো পদক্ষেপ নিলেন না?
৩. যদি উপরের মহলে বা বাহ্যিক প্রভাবে বাধা থাকে, তাহলে স্পষ্ট বলুন কারা বা কে এই বাধা তৈরি করছে। নাহলে দায় আপনারই পড়বে।
৪. মৃত্যুসংখ্যা লুকানোর চেষ্টা কেন হচ্ছে? সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করা হোক।
৫. এয়ার ফোর্সের বিমানগুলোর শেষ কবে স্বচ্ছভাবে ফিটনেস চেক করা হয়েছে? ত্রুটি ধরা পড়েনি কেন, এটা কার ভুল?
৬. এই বিমান কেনা, মেইনটেন্যান্সে অবহেলা, আর নতুন না কেনার পেছনে কাদের দুর্নীতি রয়েছে? দয়া করে স্পষ্ট নাম বলুন।
৭. সৈন্যরা কেন মৃতদেহ সংগ্রহকারীদের, শিক্ষক-বড় ছাত্রদের, এবং বেঁচে ওঠা ও মৃতদেহ সরানোর সাহায্যকারীদের কথা বলতে বাধা দিচ্ছেন? এই তথ্য গোপনের পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে?
৮. ২০০৮, ২০১২, ২০২৪ সালের এফ-৭ দুর্ঘটনার পর কোনো তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে কি? যদি হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলো কেন গোপন রাখা হয়েছে?
৯. এই পূর্ববর্তী দুর্ঘটনাগুলোর পরেও এফ-৭ ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার কারণ কী? কি ধরনের চাপ বা সিদ্ধান্তের পেছনে এই পছন্দ রয়েছে?
১০. বাংলাদেশে এফ-৭-এর ভবিষ্যৎ ব্যবহার বন্ধ করার পরিকল্পনা আছে কি, নাকি এই দুর্ঘটনার পরেও এটি চালু থাকবে?

আমি জানি, যদি আপনার এয়ার ফোর্স বিদেশি শত্রুর বিরুদ্ধে রক্ষা করত, আমরা আপনাকে প্রশংসা করতাম। কিন্তু আজ আমার ভাই-বোনদের মৃত্যু আমাকে প্রশ্ন করতে বাধ্য করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষের ক্রন্দন আর রাগ দেখে মনে হয়, আমরা সবাই স্বচ্ছ উত্তরের অপেক্ষায়। তাই, হাসান মাহমুদ খান, আপনার ফোর্সের দায় নিন, এবং আমাদের প্রশ্নের জবাব দিন। আমরা নাগরিক হিসেবে এটাই চাই।

**এক নারীর অসীম ত্যাগের নির্মম প্রতিদান: বাল্যবিবাহ, নির্যাতন আর বিশ্বাসঘাতকতার গল্প**সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যম...
06/07/2025

**এক নারীর অসীম ত্যাগের নির্মম প্রতিদান: বাল্যবিবাহ, নির্যাতন আর বিশ্বাসঘাতকতার গল্প**

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে এক নারীর হৃদয়বিদারক গল্প নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। উম্মে সাহেদীনা টুনি, যিনি নিজের স্বামী মোহাম্মদ তারেকের জীবন বাঁচাতে নিজের কিডনি দান করেছিলেন, তিনি আজ সেই স্বামীর হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার। শুধু তাই নয়, সুস্থ হওয়ার পর তারেক পরকীয়ায় জড়িয়ে টুনিকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন এবং তার প্রেমিকার সঙ্গে সংসার পেতেছেন। এই গল্পের শিরোনাম যতটা নাটকীয়, ভেতরের বাস্তবতা ততটাই নির্মম এবং সমাজের কিছু কঠিন সত্যকে তুলে ধরে।

# # # বাল্যবিবাহ ও গ্রুমিংয়ের শিকার
টুনির জীবনের গল্প শুরু হয় ২০০৬ সালে, যখন মাত্র ১৬ বছর বয়সে তার বিয়ে হয় তারেকের সঙ্গে। বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি, যা ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে সর্বোচ্চ হারের মধ্যে রয়েছে। প্রতি তিনটি বিয়ের দুটিই বাল্যবিবাহ, এবং টুনিও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। এই অল্প বয়সে বিয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুতির আগেই সংসারের দায়িত্বে ঠেলে দেয়। একজন প্রতিবেশীর বক্তব্য অনুযায়ী, “মাত্র ১৬-১৭ বছর বয়সে টুনি আপা বিয়ে করেছিলেন। এরপর নিজের সবকিছু স্বামীর চিকিৎসায় ব্যয় করেছেন।” এই বিয়ের মাধ্যমে টুনি শুধু বাল্যবিবাহের শিকারই হননি, বরং গ্রুমিংয়েরও শিকার হন, যেখানে তার সরলতা ও কম ধারণার সুযোগ নেওয়া হয়।

বিয়ের এক বছরের মধ্যেই টুনি মা হন। তাদের পুত্রসন্তান আজমাইন দিব্য জন্ম নেয়। এই অল্প বয়সে মা হওয়া এবং সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব টুনির জীবনকে আরও জটিল করে তোলে। সমাজে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, অল্প বয়সে সন্তান জন্ম দেওয়া নারীদের “নিয়ন্ত্রণে” রাখার একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। টুনির ক্ষেত্রেও এটি সত্য বলে মনে হয়, কারণ তিনি সংসার ও সন্তানের দায়িত্বে আটকে পড়েন।

# # # স্বামীর অসুস্থতা ও টুনির অসীম ত্যাগ
২০০৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে তারেক অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসকরা জানান, তার দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে। টুনি এই সংকটের মুহূর্তে স্বামীর পাশে দাঁড়ান। তিনি একা সন্তান লালন-পালন করার পাশাপাশি হোম পার্লার ও বুটিকের ব্যবসা শুরু করেন। তার উপার্জনের পুরোটাই স্বামীর চিকিৎসা ও সংসারে ব্যয় হয়। তিনি নিজের গয়না বিক্রি করেন, বাবার বাড়ি থেকে সাহায্য নেন, এমনকি তার মায়ের পেনশনের টাকাও তারেকের উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার খরচে ব্যবহার করেন।

বছরের পর বছর চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা জানান, তারেকের কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া বাঁচার উপায় নেই। টুনির শ্বশুরবাড়ির অনেকের সঙ্গে কিডনি ম্যাচ করলেও কেউ দাতা হতে এগিয়ে আসেননি। এমন পরিস্থিতিতে টুনি নিজের কিডনি দান করার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর দিল্লির চিকিৎসক কেএন সিংয়ের তত্ত্বাবধানে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়। এই ত্যাগের মাধ্যমে টুনি তারেকের জীবন ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু এই ত্যাগের প্রতিদান কী পেলেন তিনি?

# # # নির্যাতনের শুরু: হাসপাতাল থেকেই অমানবিক আচরণ
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, কিডনি প্রতিস্থাপনের পর হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই তারেক টুনির সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। দিল্লির হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্টাফরা তারেকের আচরণে এতটাই বিস্মিত হয়েছিলেন যে তারা তাকে ডেকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, যে নারী তাকে নতুন জীবন দিয়েছে, তার সঙ্গে এমন আচরণ কীভাবে সম্ভব! কিন্তু তারেকের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

দেশে ফিরে তারেকের আচরণ আরও খারাপ হয়। সুস্থ হয়ে চাকরি খোঁজার বদলে তিনি অনলাইন জুয়ায় মেতে ওঠেন এবং এক তালাকপ্রাপ্তা নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। টুনি যখন এই সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করেন, তখন তারেক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেন। তিনি টুনিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে আরও টাকা আনার জন্য চাপ দিতে থাকেন এবং গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধা করেননি।

# # # আইনি লড়াই ও সমাজের নিষ্ঠুরতা
নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে টুনি ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সাভার মডেল থানায় তারেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। কিন্তু তারেক কৌশলে মুচলেকা দিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করিয়ে নেন। এরপর নির্যাতন আরও বেড়ে যায়। শেষপর্যন্ত জীবনের ভয়ে টুনি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল তারেকের বিরুদ্ধে যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের করেন। তারেক ২৪ এপ্রিল গ্রেপ্তার হলেও ৪ জুন জামিনে মুক্তি পান এবং বর্তমানে তিনি তার প্রেমিকার সঙ্গে টুনির বাড়িতেই বসবাস করছেন। টুনিকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে সম্পত্তি তার নামে করার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

টুনির আইনজীবী নেহার ফারুক বলেন, “নিজের কিডনি দিয়ে যে নারী স্বামীকে বাঁচিয়েছেন, সেই স্বামীই এখন তার ওপর নির্যাতন চালাচ্ছেন। আমরা তার জামিন বাতিলের আবেদন করব।” সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসানের মতে, এই ঘটনা শুধু নারী নির্যাতন নয়, বরং ‘মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন’ লঙ্ঘনেরও অভিযোগ হিসেবে গণ্য করা উচিত।

# # # সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা
সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে। একটি পোস্টে বলা হয়, “যে স্ত্রী তাকে কিডনি দিয়ে জীবন দিলো, সুস্থ হয়ে সেই স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে বসবাস করছেন তারেক। অমানবিক ও হৃদয়বিদারক এই ঘটনা সাভারের কলমা এলাকায় ঘটেছে।” নেটিজেনরা এই ঘটনাকে “নারী নির্যাতনের চরম নজির” হিসেবে উল্লেখ করছেন এবং তারেকের কঠিন শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

# # # সমাজের প্রতিচ্ছবি
টুনির গল্প শুধু একজন নারীর নয়, বরং বাংলাদেশের অসংখ্য নারীর জীবনের প্রতিচ্ছবি। বাল্যবিবাহ, গ্রুমিং, পারিবারিক নির্যাতন, এবং সামাজিকভাবে নারীর অধিকারহীনতার এই চক্র থেকে বের হওয়া এখনও অনেক নারীর জন্য দুঃসাধ্য। টুনি হয়তো অনেক আগেই তারেককে ছেড়ে চলে যেতে পারতেন, কিন্তু সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি তাকে “লোভী” বা “স্বার্থপর” বলে গালি দিত। তবুও তিনি প্রায় দুই দশক ধরে এই সম্পর্কে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন, এমনকি নিজের স্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি নিয়েও।

# # # আশার আলো
টুনির এই লড়াই শুধু তার নিজের নয়, বরং প্রতিটি নারীর অধিকার ও স্বাধীনতার লড়াই। তিনি এখন আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথে হাঁটছেন। তার মা বলেন, “আমরা আদালতের কাছে তারেকের কঠিন শাস্তি দাবি জানাই, যাতে আর কোনো মেয়ের জীবন এভাবে ধ্বংস না হয়।” আমরাও চাই, টুনি এই জখম থেকে সুস্থ হয়ে উঠুন, নিজের জীবনের মালিক হন, এবং আর কখনো পিছনে ফিরে না তাকান।

**সূত্র**: জুগান্তর, রাইজিংবিডি, ওয়ানবাংলানিউজ, সমকাল, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত পোস্ট।[](https://inews.zoombangla.com/kidney-donation-betrayal-2/)[](https://www.jugantor.com/country-news/973525)[](https://www.risingbd.com/bangladesh/news/612510)

?
18/05/2025

?

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাতে গিয়ে আহত এক যুবলীগ নেতা জুলাই যোদ্ধা হিসেবে অনুদান পেয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৪ মে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আহত জুলাই যোদ্ধা হিসেবে ‘সি ক্যাটাগরিতে’ এক লাখ টাকার চেক গ্রহণ করেন তিনি

টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুদকের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা: দুর্নীতির তদন্ত না রাজনৈতিক প্রতিহিংসা?লিখেছেন: একজন ফ্রিল্যান্স সা...
17/04/2025

টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুদকের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা: দুর্নীতির তদন্ত না রাজনৈতিক প্রতিহিংসা?
লিখেছেন: একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক
বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর তাকে বাংলাদেশের আদালতে হাজির করতে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছে। দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, ইন্টারপোল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সহযোগিতায় টিউলিপকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। তবে, টিউলিপ সিদ্দিক এই অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন, যা বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
দুদকের অভিযোগ: প্লট ও ফ্ল্যাট জালিয়াতি
দুদকের তদন্তে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাটির দাবি, টিউলিপ তার খালা শেখ হাসিনার প্রভাব খাটিয়ে রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে তার মা শেখ রেহানা, ভাই রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং বোন আজমিনা সিদ্দিকের নামে ৬০ কাঠার ছয়টি প্লট অবৈধভাবে বরাদ্দ করিয়েছেন। এছাড়া, গুলশানে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডকে সরকারি জমি হস্তান্তরের বিনিময়ে ফ্ল্যাট উপহার গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে।
একটি মামলায় দুদক অভিযোগ করেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প থেকে ৩.৯ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা) আত্মসাতের সঙ্গে টিউলিপের পরিবার জড়িত, যার তদন্তে তার নাম এসেছে। এই অভিযোগের জেরে তিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের ‘সিটি মিনিস্টার’ পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
১৩ এপ্রিল, ২০২৫-এ ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন তিনটি মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, টিউলিপ সিদ্দিকসহ ৫৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। দুদক জানিয়েছে, টিউলিপ আগামী ২৭ ও ২৯ এপ্রিল আদালতে হাজির না হলে তাকে পলাতক ঘোষণা করে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টিউলিপের প্রতিক্রিয়া: রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ
টিউলিপ সিদ্দিক দুদকের অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেনি এবং গণমাধ্যমে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালাচ্ছে। তার আইনজীবীরা দুদককে চিঠি দিয়ে ২৫ মার্চ, ২০২৫-এর মধ্যে প্রশ্ন উত্থাপনের আহ্বান জানিয়েছিলেন, যার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিউলিপ বলেন, “এই অভিযোগগুলো আমাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্য উত্থাপিত। আমার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ নেই।” তিনি যুক্তরাজ্যে তার স্বচ্ছ রাজনৈতিক জীবন এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো সরাসরি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। তবে, ২০১৭ সালের একটি সভার ফুটেজে তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন, যা তার নির্বাচনী প্রচারণায় ভূমিকা রেখেছিল।
আন্তর্জাতিক তদন্ত ও প্রত্যর্পণ সম্ভাবনা
দুদকের তদন্তে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) সহযোগিতা করছে। এনসিএ বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং টিউলিপের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার জন্য তথ্য সংগ্রহ করছে। ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
তবে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় টিউলিপকে ফিরিয়ে আনা জটিল হতে পারে। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ ‘২বি’ প্রত্যর্পণ দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত, যার মানে প্রত্যর্পণের জন্য স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই পদক্ষেপ বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে।
ফ্ল্যাট বিতর্ক ও যুক্তরাজ্যের তদন্ত
টিউলিপের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ হলো, তিনি লন্ডনে আওয়ামী Lীগের সঙ্গে যুক্ত একজন ডেভেলপারের কাছ থেকে ২০০৪ সালে উপহার হিসেবে একটি ফ্ল্যাট পেয়েছিলেন। ২০২২ সালে তিনি ডেইলি মেইলকে দাবি করেছিলেন, ফ্ল্যাটটি তার বাবা-মা কিনে দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে ভূমি রেজিস্ট্রি তথ্যে ভিন্ন তথ্য প্রকাশ পায়। এই বিতর্কের জেরে তিনি যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিপরিষদ মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কাছে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানান। তদন্তে লাউরি ম্যাগনাস জানান, টিউলিপ ফ্ল্যাটের মালিকানার উৎস সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত ছিলেন না।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
শেখ হাসিনার ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুতির পর তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত ত্বরান্বিত হয়েছে। টিউলিপ ছাড়াও শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ, ছেলে সজীব ওয়াজেদ এবং প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্কাই নিউজকে বলেছেন, টিউলিপের দেশে বিপুল সম্পদ রয়েছে, যার জন্য তাকে জবাবদিহি করতে হবে।
আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুক এই অভিযোগগুলোকে ‘বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন। তবে, দুদকের তদন্তে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, যার সঙ্গে টিউলিপের নাম জড়িয়েছে।
সম্ভাব্য পরিণতি
টিউলিপ সিদ্দিক বর্তমানে লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেট আসনের এমপি। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ফলে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং যুক্তরাজ্যে ভাবমূর্তি সংকটের মুখে পড়তে পারে। বাংলাদেশ তাকে ‘পলাতক’ ঘোষণা করলে যুক্তরাজ্যের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করতে পারে। তবে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুক্তরাজ্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে প্রত্যর্পণে সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে।
উপসংহার
টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগ এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি স্পর্শকাতর ইস্যু। এটি কেবল দুর্নীতির তদন্ত নয়, বরং শেখ হাসিনার পরিবারের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগও উত্থাপন করছে। সত্য উদঘাটনের জন্য স্বচ্ছ তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। তবে, এই প্রক্রিয়া বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।
সূত্র:
প্রথম আলো
কালবেলা
দৈনিক জনকণ্ঠ
বিবিসি বাংলা
(এই লেখা জনস্বার্থে তথ্যভিত্তিক। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে লেখা হয়নি।)

17/04/2025

ইভেন্ট টাচ, মেজর (অব.) মাইনুল ও ৪১ লাখ টাকার ‘প্ল্যানচেট’ ইভেন্ট: সত্য না সাজানো গল্প?
লিখেছেন: একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক
গতকালের একটি ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে আজ সকালে আমার সঙ্গে ৩২ মিনিট ধরে ফোনে কথা বলেছেন ইভেন্ট টাচ কোম্পানির মালিক মেজর (অব.) মাইনুল ইসলাম, যিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তা। তিনি তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর ‘প্ল্যানচেট’ নামক বিতর্কিত ইভেন্টের ডেকোরেশনের কাজের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, এই ইভেন্টের ডেকোরেশনের কাজটি তার কোম্পানি করলেও লেজার শো-এর অংশটি পরিচালনা করেছিল ফার্ম হাউজ নামে আরেকটি কোম্পানি। পুরো প্রকল্পের মূল্য ছিল মাত্র ৪১ লাখ টাকা (ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ)।
ফেয়ার এনাফ?
মাইনুল সাহেবের দাবি অনুযায়ী, খরচ তাহলে খুব বেশি হয়নি। লেজার শো-এর ‘ডিজাস্টার’ ইস্যুটি এখানে এড়িয়ে গেলেও, তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে এই প্রকল্পটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ছিল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, নৌবাহিনী নিশ্চয়ই এই অংকের সত্যতা যাচাই করতে পারবে এবং জানাতে পারবে যে তার কোম্পানিকে ৪১ লাখ টাকা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এর চেয়ে বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে কিনা।
মাইনুলের গল্প: সৎ ব্যবসায়ী না সুবিধাবাদী?
মেজর (অব.) মাইনুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ১৯৯৬-২০০১ সালে এসএসএফে (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) কাজ করার কারণে বিএনপি আমলে নাকি ব্যাপক হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। এমনকি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেও তারেক সিদ্দিকী নামে এক ব্যক্তির কারণে তাকে হয়রানি সহ্য করতে হয়েছে। ফলে তিনি নৌবাহিনীর চাকরি ছেড়ে ব্যবসায় নামেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি একজন নামাজি ও পরহেজগার মানুষ। তিনি এলাকায় এতিমদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন, দান-খয়রাত করেন এবং জীবনে কখনো ‘হারাম’ খাননি। তিনি দাবি করেন, তার নামে অন্যরা অর্থ আত্মসাৎ করলেও তিনি নিজে তা করেননি। তিনি যে কাজের জন্য ৪১ লাখ টাকা পেয়েছেন, সেই কাজের নামে অন্যরা নাকি কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
আমি তাকে বলেছিলাম, আমার পোস্টেও তো সেটাই বলেছি। আপনি একা ‘খেতে’ পারেননি, এখানে বড় বড় ‘রাঘব বোয়াল’ জড়িত থাকার কথা। তাদের নাম বলুন। জবাবে তিনি বলেন, “এগুলো সবাই জানে।” কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট নাম তিনি উল্লেখ করেননি।
আমি তাকে আরও বলেছিলাম, বাংলাদেশে অসৎ উপার্জনকারীরাই দান-খয়রাত বেশি করে। ধরে নিলাম আপনি সৎ, চোরদের সঙ্গে ব্যবসা করেও চুরির ভাগ নেননি, তারা আপনার নাম ব্যবহার করে চুরি করেছে। কিন্তু চোরদের সঙ্গে ব্যবসা করাটাও তো কোনো ধার্মিক ব্যক্তির সঙ্গে যায় না। এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
হাশরের ময়দানের অভিসম্পাত
কথোপকথনের শেষ দিকে মাইনুল সাহেব আমাকে অভিসম্পাত দিয়ে বলেন, “হাশরের ময়দানে আমি আপনাকে নিয়ে আল্লাহর কাছে দাবি ছাড়ব না।” এ থেকে তার আল্লাহর প্রতি অগাধ আস্থা বোঝা যায়। আমার পক্ষ থেকে কামনা, আল্লাহ তাকে তার এই আস্থার প্রতিদান দিন।
একটি প্রশ্ন মাথায় ঘুরছে
কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “অন্যের ক্ষতি করে এসব লেখালেখি করে কী ফায়দা পান?” প্রশ্নটি আমার মাথায় ঘুরছে। সত্যিই তো, এসব লিখে ফায়দা কী? লোকে কেন এত লেখালেখি করে?
অনলাইন সূত্রে অতিরিক্ত তথ্য
ইভেন্ট টাচ কোম্পানি এবং মেজর (অব.) মাইনুল ইসলামের এই ইভেন্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হলেও কোনো বিশ্বাসযোগ্য সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তবে, ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে এই ‘প্ল্যানচেট’ ইভেন্টের সমালোচনা হয়েছে, বিশেষ করে এর অদ্ভুত নামকরণ ও লেজার শো-এর ব্যর্থতার কারণে। কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, এই ইভেন্টে সরকারি তহবিলের অপচয় হয়েছে এবং এর পেছনে বড় মাপের দুর্নীতি রয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নৌবাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রয়োজন।
ইভেন্ট টাচ কোম্পানি সম্পর্কে
ইভেন্ট টাচ বাংলাদেশে একটি পরিচিত ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, যারা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ইভেন্টের ডেকোরেশন ও আয়োজনের কাজ করে। মাইনুল ইসলামের নেতৃত্বে এই কোম্পানি বেশ কিছু বড় ইভেন্টে অংশ নিয়েছে। তবে, তাদের কাজের গুণগত মান এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে এই ‘প্ল্যানচেট’ ইভেন্টের পর।
নৌবাহিনীর ভূমিকা
মাইনুল ইসলামের দাবি, এই প্রকল্পটি নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ছিল। এখন প্রশ্ন হলো, নৌবাহিনী কীভাবে এই প্রকল্পের জন্য ইভেন্ট টাচকে নির্বাচন করল? ৪১ লাখ টাকার এই বাজেট কি যৌক্তিক ছিল, নাকি এর পেছনে আরও বড় অঙ্কের তহবিলের অপচয় হয়েছে? এই বিষয়ে নৌবাহিনীর কাছ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য প্রকাশ পেলে জনগণের মনে জাগা প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে।
উপসংহার
মেজর (অব.) মাইনুল ইসলামের বক্তব্য অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তিনি নিজেকে সৎ ও ধার্মিক দাবি করলেও তার কোম্পানির কাজ এবং সম্ভাব্য দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশে অনীহা সন্দেহের জন্ম দেয়। এই ইভেন্টের পেছনে সত্যিই কি বড় মাপের দুর্নীতি হয়েছে? নাকি এটি কেবল একটি ব্যর্থ আয়োজনের গল্প? সত্য উদঘাটনের জন্য নৌবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন। আর আমি? আমি একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে শুধু প্রশ্ন তুলছি। কারণ, সত্য উন্মোচনই আমার ‘ফায়দা’।
(এই লেখা জনস্বার্থে তথ্যভিত্তিক। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে লেখা হয়নি।)

আমি একজন সংবাদ সংগ্রাহক হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সম্ভাব্য দেড় বছরের (১.৫ বছর) শাস...
26/03/2025

আমি একজন সংবাদ সংগ্রাহক হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সম্ভাব্য দেড় বছরের (১.৫ বছর) শাসনকাল নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরছি। এই বিশ্লেষণে সাধারণ জনগণের উপকার, রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য ক্ষতি, এবং পূর্ববর্তী শাসনের সাথে তুলনা করা হবে।

আজকের তারিখ ২৬ মার্চ, ২০২৫, এবং বর্তমানে ড. ইউনূসের সরকার ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ক্ষমতায় রয়েছে। এই প্রতিবেদন বর্তমান পরিস্থিতি ও জনমতের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

ড. ইউনূস সরকারের দেড় বছর: সাধারণ জনগণের উপকার
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন, যখন ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। তাঁর সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার, দুর্নীতি দমন, এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার। যদি এই সরকার দেড় বছর ক্ষমতায় থাকে (অর্থাৎ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত), তবে সাধারণ জনগণের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট সুবিধা দেখা যেতে পারে।

প্রথমত, ড. ইউনূসের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক উদ্যোগের উপর গুরুত্ব দেয়। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য ক্ষুদ্রঋণের প্রকল্প চালু হতে পারে, যা দরিদ্র মানুষের আয় বাড়াতে সহায়ক হবে। উদাহরণস্বরূপ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান শুরু হলে গ্রামীণ অর্থনীতি কিছুটা শক্তিশালী হতে পারে। দ্বিতীয়ত, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থানের কারণে সরকারি তহবিলের অপচয় কমে আসতে পারে। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ও জরুরি সেবার মতো খাতে জনগণের জন্য সুবিধা বাড়তে পারে। তৃতীয়ত, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার শুরু হলে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের পথ প্রশস্ত হবে। যদিও দেড় বছরে বড় ধরনের পরিবর্তন সম্ভব নয়, তবু এই সময়ে একটি ভিত্তি তৈরি হতে পারে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য ক্ষতি
রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ড. ইউনূসের দেড় বছরের শাসনকাল বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো প্রধান দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার লড়াইয়ে লিপ্ত। পূর্ববর্তী শাসনে এই দলগুলোর অনেক নেতা-কর্মী দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ড. ইউনূসের সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিলে এই দলগুলোর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তি কমে যেতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, যদি দুর্নীতির তদন্তে বড় নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়, তবে দলগুলোর সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হতে পারে। এছাড়া, ‘লুটপাটের’ সুযোগ না থাকায় দলীয় কর্মীদের আর্থিক প্রণোদনা কমে যাবে, যা তাদের রাজনৈতিক প্রভাব কমাতে পারে। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে অর্থনৈতিক সুবিধাভোগী গোষ্ঠী গড়ে উঠেছিল, তারা এই সময়ে চাপে পড়তে পারে। একইভাবে, বিএনপি যদি দ্রুত নিজেদের পুনর্গঠন করতে না পারে, তবে তারাও জনগণের সমর্থন হারাতে পারে।

পূর্ববর্তী শাসনের তুলনা: শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন
আপনি শেখ হাসিনার শাসনকে ‘স্বৈরাচারী’ ও ‘খুনী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা জনগণের একটি অংশের মতামতের প্রতিফলন হতে পারে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাঁর ১৫ বছরের শাসনকালে বাংলাদেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও, দুর্নীতি, নির্বাচনে কারচুপি, এবং বিরোধীদের দমনের অভিযোগ তাঁর শাসনকে বিতর্কিত করে তুলেছিল। ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে শত শত প্রাণহানির ঘটনা তাঁর সরকারের পতনের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।

শেখ হাসিনার শাসনে ‘লুটপাটের পথ’ বলতে সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, টেন্ডারবাজি, এবং প্রভাবশালীদের হাতে সম্পদ কেন্দ্রীভূত হওয়ার অভিযোগ বোঝানো হতে পারে। ড. ইউনূসের সরকার এই সংস্কৃতি ভাঙার চেষ্টা করছে। দেড় বছরে এটি পুরোপুরি সম্ভব না হলেও, জবাবদিহিতার একটি সূচনা জনগণের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা: পাঁচ বছরের শাসন
যদি ড. ইউনূস পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করেন, তাহলে আমাদের দেশের ও দেশের মানুষের জন্য কতটুকু উপকার ও দেশের উন্নতি কতটুকু হবে, তা কল্পনাতীত। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি দুর্নীতিমুক্ত শাসন প্রতিষ্ঠা, গ্রামীণ অর্থনীতির পুনর্গঠন, এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারে বড় ধরনের অবদান রাখতে পারেন। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়লে জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে, আর ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাস পাবে। আন্তর্জাতিকভাবে তাঁর সুনামের কারণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও বিনিয়োগ বাড়তে পারে। তবে, এই সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনসমর্থন অপরিহার্য।

উপসংহার
ড. ইউনূসের সরকার যদি দেড় বছর ক্ষমতায় থাকে, তবে সাধারণ জনগণ কিছুটা অর্থনৈতিক সুবিধা ও গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার স্বাদ পেতে পারে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এটি একটি কঠিন সময় হবে, কারণ তাদের পুরোনো ‘লুটপাটের’ ধরন আর চলবে না। তবে, এই স্বল্প সময়ে বড় পরিবর্তন আনা চ্যালেঞ্জিং হবে। আর যদি তিনি পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করেন, তবে দেশের উন্নতি ও জনগণের উপকারের সম্ভাবনা এতটাই বেশি যে তা কল্পনারও অতীত। সাফল্য নির্ভর করবে সরকারের দক্ষতা ও জনগণের সমর্থনের উপর।

জয়শঙ্করের স্বীকারোক্তি: শেখ হাসিনার পতন জানা সত্ত্বেও ভারতের হাত ছিল বাঁধানয়াদিল্লি, ২৬ মার্চ ২০২৫, – ভারতের পররাষ্ট্রম...
25/03/2025

জয়শঙ্করের স্বীকারোক্তি: শেখ হাসিনার পতন জানা সত্ত্বেও ভারতের হাত ছিল বাঁধা

নয়াদিল্লি, ২৬ মার্চ ২০২৫, – ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি এক সংসদীয় কমিটির বৈঠকে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “হ্যাঁ, আমরা জানতাম শেখ হাসিনার সরকার টিকবে না। কিন্তু পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। আমাদের কিছু করার ছিল না।” এই বক্তব্যের পর থেকে দিল্লির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে তোলপাড় চলছে।

এর ঠিক আগে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করেছে যে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মামলা দায়ের করা হবে। এই ঘোষণার পর ভারতের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে আশ্রয়ে রয়েছেন, যা ভারতের জন্য কূটনৈতিক অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলেছে।

জয়শঙ্করের বক্তব্যের পাশাপাশি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর শীর্ষ কর্মকর্তা রমনশ্রান্ত আগারওয়ালের মন্তব্যও আলোচনায় এসেছে। তিনি বলেন, “আমরা হাসিনাকে পরামর্শ দিয়েছিলাম গুলি চালানো থেকে বিরত থাকতে। তিনি আমাদের কথা শুনেছিলেন, কিন্তু পরে বুলেট চালানোর নির্দেশ দেন। এরপরের দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। হাসিনার সঙ্গে মোদির সম্পর্ক এতটাই গভীর ছিল যে, তিনি আমাদের পরামর্শে কান দিতেন না।” জয়শঙ্করও একই সুরে বলেন, “আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেয়েছিলাম, কিন্তু হাসিনার সরকার তখন এমন অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল যে কেউ তাঁকে রক্ষা করতে পারত না। তবু মোদি চেষ্টা করেছিলেন।”

আইসিসি-তে মামলা: ভারতের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
হাসিনার বিরুদ্ধে আইসিসি-তে গণহত্যার অভিযোগ উঠলে ভারতও কি এর দায় এড়াতে পারবে? মুম্বাইভিত্তিক স্বাধীন তদন্ত সংস্থা ‘ট্রু জাস্টিস’-এর মুখপাত্র জানিয়েছেন, “হাসিনার বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোতে ভারত পাশে ছিল। মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় থেকে ভারত পুরোপুরি মুক্ত নয়। বাংলাদেশ যদি শক্ত অবস্থান নেয়, তাহলে ভারতকেও আইসিসি-র কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে।” তবে জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমরা কোনোভাবেই আইসিসি-তে যাব না। হাসিনার সঙ্গে হেগে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”

এদিকে, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ব্যয়ের হিসাব দিয়ে বলেন, “২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোদির ৩৮টি বিদেশ সফরে ২৫৮ কোটি রুপি খরচ হয়েছে। আইসিসি-তে অংশ নিতে প্রতিবার ১২-১৫ কোটি রুপি লাগবে, যা আমাদের বাজেটের সঙ্গে মানানসই নয়। মোদি ভ্রমণ পছন্দ করলেও আদালতের জন্য নয়।”

হাসিনার দিল্লি জীবন: অতিথি থেকে ‘বন্দি’
দিল্লিতে ‘বিশেষ অতিথি’ মর্যাদায় থাকা শেখ হাসিনার জীবন এখন কার্যত বন্দি দশায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, “প্রথমে তাঁকে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হলেও তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন তিনি নিজে রান্না করে দুধ-মুড়ি খেয়ে দিন কাটান।” গেস্ট হাউজের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক জয়রাজ মালহোত্রা বলেন, “হাসিনা সম্প্রতি জয়শঙ্করকে ফোন করে দেশে ফেরার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। জয়শঙ্কর ধৈর্য হারিয়ে বলেন, ‘ম্যাডাম, আপনি জনগণের কথা শুনলে দুধ-মুড়ি খেতে হতো না। এখন আপনাকে আইসিসি-তে পাঠানোর টিকিট নিয়ে আলোচনা চলছে।’”

মোদির নীরবতা ও আন্তর্জাতিক চাপ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, “আইসিসি সক্রিয় হলে হাসিনার ঠিকানা দিল্লির গেস্টহাউজ নয়, হেগের ট্রাইব্যুনাল হবে।” ভারত এই কূটনৈতিক সংকট কীভাবে সামলাবে, তা নিয়ে সবার দৃষ্টি এখন দিল্লির দিকে।

সংবাদদাতা: নিজস্ব প্রতিবেদক

©The New York 24 | Real News, Twisted Truths

Address

Dhaka

Telephone

+8801914105107

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Investigative journalism posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Investigative journalism:

Share