23/07/2025
**এয়ার ফোর্সের এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের কাছে সরাসরি উত্তরের আহ্বান: সেনাবাহিনীর স্বচ্ছতার প্রশ্ন, পূর্ববর্তী এফ-৭ দুর্ঘটনা ও একটি সাধারণ নাগরিক ও ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে আমার প্রশ্ন—শোকস্তব্ধ শিশুদের ও সত্য গোপনের বিস্তারিত আলোচনা**
আজ, ২৩ জুলাই ২০২৫, ভোর ২:৫২টায় আমি এই লেখাটি শুরু করছি—হৃদয়ে এক অদ্ভুত ভার আর মনে কষ্টের ছায়া নিয়ে। গত ২১ জুলাই বাংলাদেশের আকাশে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা আমাদের সবার মনে গভীর ক্ষতি এঁকে দিয়েছে। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে, উত্তরার ডায়াবাড়িতে, একটি এয়ার ফোর্সের এফ-৭ প্রশিক্ষণ বিমান প্রায় বিকাল ১:১৫টায় ক্যাম্পাসের দুই তলা ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে। এই বিপর্যয়ে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০-৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে—বেশিরভাগই প্রাথমিক স্তরের শিশু শিক্ষার্থী—এবং ১৬০-১৭১ জন আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকে গুরুতর দগ্ধ ক্ষতি পেয়েছে। এটি সম্ভবত রানা প্লাজার পর বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় দুঃখের ঘটনা, যা একটি স্কুলের মতো নিরীহ জায়গায় ঘটেছে।
ছবিতে এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানকে দেখলে মনে হয় তিনি একজন গাম্ভীর্যময় সৈনিক—নীল পোশাকে সোনালি ফিতে, বুকে পদকের সারি, কাঁধে তারকার ঝকঝকে চিহ্ন। নামের পাশে "হাসান" লেখা আমাদের কাছে শুধু একটি পরিচয় নয়, একটি দায়িত্বের প্রতীক। কিন্তু এই দায়িত্বের ভারে আজ আমরা প্রশ্ন তুলছি। আমি একজন সাধারণ নাগরিক, একজন ভাই-বোনের দাদা, আর একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক। আমার ছোট ভাই-বোনদের মুখ মনে পড়ে, আর তারা যদি সেই স্কুলে থাকত—তখন আমার কী অবস্থা হতো, ভাবতেই গা শিরশির করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় গত দু’দিন ধরে মানুষের ক্রোধ, কান্না আর প্রশ্নের ঝড় বইছে। ফেসবুকে, টুইটারে মানুষ বলছে—মৃত্যুসংখ্যা ২০০-এর কাছাকাছি হতে পারে, কিন্তু অফিসিয়াল ডাটা এখনও স্পষ্ট নয়। এই অস্পষ্টতা আমাদের মনে সন্দেহ আর ক্ষোভ জাগাচ্ছে।
**মাইলস্টোন স্কুল দুর্ঘটনার শোকস্তব্ধ শিশুদের ও সেনাবাহিনীর স্বচ্ছতার প্রশ্ন:**
২১ জুলাই বিকাল ১:০৬টায় এফ-৭ বিমানটি এয়ার ফোর্স বেস একে খান্দকার থেকে উড়ান ভরেছিল। কিছু মিনিটের মধ্যেই একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বিমান নিয়ন্ত্রণ হারায়। পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ তৌকির ইসলাম প্রথমে জনবহুল এলাকা এড়িয়ে বিমানটিকে কম জনসংখ্যার দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু বিমানটি মাইলস্টোনের সপ্তম তলা ভবনের ছাদে আঘাত করে এবং পরে দুই তলা প্রাথমিক বিভাগের ভবনের ওপর পড়ে। সেই মুহূর্তে প্রাথমিক স্তরের শিশুরা—বয়সের পরিসর ৬ থেকে ১২ বছর—ক্লাস শেষ করে ক্যান্টিনে বা সিঁড়িতে ছিল, অনেকে প্রাইবেট কোচিং-এর জন্য অপেক্ষা করছিল। বিস্ফোরণে ভবন জ্বলে উঠল, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল। শিক্ষার্থীদের বর্ণনা থেকে জানা যায়, অনেকে পোড়া শরীরে ছুটে বেড়াচ্ছিল, কেউ কেউ হাত-পা হারিয়েছিল।
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন মাহরিন চৌধুরী (৪৬), একজন শিক্ষক যিনি ৮০% পোড়া পেয়ে শিশুদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারান। তিনি হায়দার আলী হল ভবন থেকে শিশুদের বের করার চেষ্টা করছিলেন। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ফাতেমা আক্তার (৯), সামিউল করিম (৯), রজনী ইসলাম (৩৭), মেহনাজ আফরিন হুরায়রা (৯), শারিয়া আক্তার (১৩), নুসরাত জাহান আনিকা (১০), সাদ সালাউদ্দিন (৯), সায়মা আক্তার (৯) এবং অনেক ছোট শিশু যাদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি। আহতদের মধ্যে শামিম ইউসুফ (১৪), মাহিন (১৫), আবিদ (৯), আশরাফ (৩৭), যুশা (১১), পায়েল (১২), আলবার্টা (১০), তাসমিয়া (১৫) ইত্যাদি রয়েছেন, যারা গুরুতর পোড়া ক্ষতি পেয়েছে। একজন ছাত্রের মা, রুবিনা আক্তার, বলেছেন, তাঁর ছেলে রায়ান তৌফিকের শার্টে আগুন লাগার পর সে ঘাসের ওপর লুটিয়ে পড়ে বেঁচে গেছে। অন্য একজন ছাত্র ফারহান হাসান বলেছে, "আমার সেরা বন্ধু আমার চোখের সামনে মারা গেছে।" এই শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ ছিল—তাদের হাসি, তাদের স্বপ্ন, তাদের অপেক্ষাকৃত জীবন এখন ধোঁয়ায় মিলিয়ে গেছে। হাসপাতালে আহতদের মধ্যে অনেকে ১০-১৫ বছর বয়সী, যাদের পোড়া শরীরে জ্বলন্ত তেলের ক্ষতি হয়েছে। একটি ফ্রিজার ভ্যানে শিশুদের মরদেহ নেয়ার সময় কালিয়াকৈয়রে দুর্ঘটনা হয়ে গেছে, যাতে আত্মীয়রা আহত হয়েছে।
**সেনাবাহিনীর স্বচ্ছতার অভাব ও সত্য গোপনের চেষ্টা:**
দুর্ঘটনার পর মৃতদেহ সংগ্রহকারীদের, শিক্ষক-বড় ছাত্রদের, এবং বেঁচে ওঠা ও মৃতদেহ সরানোর সাহায্যকারীদের কথা উঠছে, কিন্তু সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা এসব আলোচনা বন্ধ করার চেষ্টা করছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে কথা চলছে যে, সৈন্যরা মৃত্যুসংখ্যা লুকাতে চাইছেন, এবং যারা এই সংখ্যা প্রকাশের চেষ্টা করেছে—যেমন শিক্ষক বা বড় ছাত্ররা—তাদের নির্যাতন করা হয়েছে। স্থানীয়দের বর্ণনা থেকে জানা যাচ্ছে, সৈন্যরা মিডিয়াকে সঠিক তথ্য দেওয়ার চেষ্টাকারীদের মারধর করেছে। এর পেছনে সম্ভবত কারণ হতে পারে প্রশাসনিক দায় থেকে বাঁচা, কারণ এত বড় ট্র্যাজেডিতে দায়িত্ব নেওয়া জটিল হতে পারে। আবার কোনো উচ্চপরিচালনার চাপ বা দুর্নীতির প্রকাশের ভয়ও থাকতে পারে, যা তথ্য গোপনের নির্দেশ দিচ্ছে। এই সব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া আমরা শান্তি পাব না।
**পূর্ববর্তী এফ-৭ দুর্ঘটনার ইতিহাস:**
এফ-৭ বিমানের সঙ্গে সম্পর্কিত পূর্ববর্তী দুর্ঘটনাগুলো প্রশ্নের বহর তৈরি করেছে। ২০০৮ সালে, একটি এফ-৭ প্রশিক্ষণ বিমান ঢাকার বাইরে বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটের মৃত্যু ঘটে। ২০২৪ মে, চট্টগ্রামে একটি এফ-৭ প্রশিক্ষণ বিমান নদীতে পতিত হয়ে একজন স্কোয়াড্রন লিডারের মৃত্যু হয়। এছাড়া, ২০১২ সালে একটি এফ-৭-এর সাথে সংযুক্ত ঘটনা উল্লেখযোগ্য, যদিও বিস্তারিত তথ্য সীমিত। এই প্যাটার্ন ইঙ্গিত দেয় যে, এই বিমানের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণে গুরুতর ত্রুটি থাকতে পারে, যা বারবার দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠছে।
এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, আমি আপনাকে একজন সৈনিকের মর্যাদা দিই। আপনার পদকগুলো বলে, আপনি যোগ্য এবং কোয়ালিফায়েড। আমি মনে করি, আপনি ভালো মানুষ। কিন্তু এই দুর্ঘটনার দায় আপনার কাঁধে। আমরা চাই না আপনাকে আক্রমণ করি, আমরা চাই আপনাকে প্রেস কনফারেন্সে এসে নিজের মুখে উত্তর দিতে। আপনি যদি ভালো মানুষ হন, তাহলে এই প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হওয়ার সাহস দেখান।
আমার প্রশ্নগুলো হলো:
১. আপনি যখন জানতেন যে এফ-৭ বিমানে ত্রুটি আছে, তাহলে কেন তা ট্রেনিং-এ চালানোর অনুমোদন দিয়েছিলেন?
২. ২০০৮, ২০১২, ২০২৪ সালে এফ-৭-এর পূর্ববর্তী দুর্ঘটনায় আপনি ফোর্সে ছিলেন, তখনও দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। চিফ হওয়ার পরেও কেন কোনো পদক্ষেপ নিলেন না?
৩. যদি উপরের মহলে বা বাহ্যিক প্রভাবে বাধা থাকে, তাহলে স্পষ্ট বলুন কারা বা কে এই বাধা তৈরি করছে। নাহলে দায় আপনারই পড়বে।
৪. মৃত্যুসংখ্যা লুকানোর চেষ্টা কেন হচ্ছে? সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করা হোক।
৫. এয়ার ফোর্সের বিমানগুলোর শেষ কবে স্বচ্ছভাবে ফিটনেস চেক করা হয়েছে? ত্রুটি ধরা পড়েনি কেন, এটা কার ভুল?
৬. এই বিমান কেনা, মেইনটেন্যান্সে অবহেলা, আর নতুন না কেনার পেছনে কাদের দুর্নীতি রয়েছে? দয়া করে স্পষ্ট নাম বলুন।
৭. সৈন্যরা কেন মৃতদেহ সংগ্রহকারীদের, শিক্ষক-বড় ছাত্রদের, এবং বেঁচে ওঠা ও মৃতদেহ সরানোর সাহায্যকারীদের কথা বলতে বাধা দিচ্ছেন? এই তথ্য গোপনের পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে?
৮. ২০০৮, ২০১২, ২০২৪ সালের এফ-৭ দুর্ঘটনার পর কোনো তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে কি? যদি হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলো কেন গোপন রাখা হয়েছে?
৯. এই পূর্ববর্তী দুর্ঘটনাগুলোর পরেও এফ-৭ ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার কারণ কী? কি ধরনের চাপ বা সিদ্ধান্তের পেছনে এই পছন্দ রয়েছে?
১০. বাংলাদেশে এফ-৭-এর ভবিষ্যৎ ব্যবহার বন্ধ করার পরিকল্পনা আছে কি, নাকি এই দুর্ঘটনার পরেও এটি চালু থাকবে?
আমি জানি, যদি আপনার এয়ার ফোর্স বিদেশি শত্রুর বিরুদ্ধে রক্ষা করত, আমরা আপনাকে প্রশংসা করতাম। কিন্তু আজ আমার ভাই-বোনদের মৃত্যু আমাকে প্রশ্ন করতে বাধ্য করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষের ক্রন্দন আর রাগ দেখে মনে হয়, আমরা সবাই স্বচ্ছ উত্তরের অপেক্ষায়। তাই, হাসান মাহমুদ খান, আপনার ফোর্সের দায় নিন, এবং আমাদের প্রশ্নের জবাব দিন। আমরা নাগরিক হিসেবে এটাই চাই।