20/06/2026
আকাশী-সাদা শিবিরের দিকে যদি আপনি একটু তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকান, তবে এই রঙিন, চাকচিক্যময় ভিড়ের মাঝে একটি অদ্ভুত দৃশ্য আপনার চোখ এড়াতে পারবে না। পুরো আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়রা পরে আছেন নীল বা গাঢ় রঙের বুট। আর ঠিক সেই গাঢ় রঙের সমুদ্রের মাঝে, ঘাসের ওই সবুজ ক্যানভাসে নীরবে ফুটে আছে এক জোড়া ধবধবে সাদা বুট।
যেন এক বিশাল, অন্ধকার অরণ্যের মাঝখানে ফুটে থাকা একটি শ্বেতপদ্ম।
এই সাদা বুট জোড়ার মালিক কে? লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।
আধুনিক ফুটবল এখন আর কোনো খোলা প্রান্তর নয়, এটি হলো এক দমবন্ধ করা গোলকধাঁধা। এখানে স্পেস বা জায়গা বলে কিছু নেই। আপনি বল রিসিভ করার আগেই বিপক্ষ দলের তিনজন খেলোয়াড় আপনার ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলে। প্রেসিং, কাউন্টার প্রেসিং আর ফিজিক্যাল ট্যাকলের এই রণাঙ্গনে একজন মিডফিল্ডারের কাছে বল পাস দেওয়ার জন্য সময় থাকে মাত্র এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশ।
একবার কল্পনা করুন সেই রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তের কথা। এনজো ফার্নান্দেজ বা রদ্রিগো ডি পল মাঝমাঠে বল পেয়েছেন। চারদিক থেকে বিপক্ষ দলের বিশালদেহী গ্ল্যাডিয়েটররা তাঁদের ঘিরে ধরছে। তাঁদের শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। তাঁরা জানেন, এক সেকেন্ড দেরি মানেই বল হারানো, আর বল হারানো মানেই প্রতিপক্ষের ভয়ংকর কাউন্টার-অ্যাটাক। এই চরম প্যানিকের মুহূর্তে, তাঁরা যখন মাথা নিচু করে পাস দেওয়ার জায়গা খুঁজছেন, তখন ওই গাঢ় রঙের বুটের ভিড়ে তাঁদের পেরিফেরাল ভিশনে হঠাৎ করেই ঝলসে ওঠে ওই ধবধবে সাদা রং!
এটি কোনো সাধারণ রং নয়; এটি হলো ওই দমবন্ধ করা গোলকধাঁধার মাঝে জ্বলে ওঠা এক 'বাতিঘর' ! সতীর্থরা চোখের পলকে, এক মিলি-সেকেন্ডের মধ্যে ওই সাদা রং দেখে চিনে ফেলেন...ওখানে তাঁদের অধিনায়ক দাঁড়িয়ে আছেন। ওই সাদা বুট জোড়া যেন নিঃশব্দে বার্তা দিচ্ছে, "আমি এখানে! আমাকে বল দাও, আমি এই বিপদ থেকে পথ বের করে নিচ্ছি।"
ফুটবলের আসল মহত্ত্ব তো এই অদৃশ্য, মাইক্রোস্কোপিক ডিটেইলসগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে, যা সাধারণ মানুষের চোখে কখনো ধরা পড়ে না।
ফুটবলকে এমন এক উচ্চতায় বসে অনুধাবন করা, যেখানে পৃথিবীর খুব কম মানুষই পৌঁছাতে পেরেছে...এটাই হলো লিওনেল মেসি।