16/09/2026
আমি অনেক উচ্চস্বরে কথা বলি আর প্রচন্ড বদরাগী। রাগলে এতো চেচাই ☹️
আরিশ হবার পর আমি আর আমার হাসব্যান্ড ঠিক করেছি আমরা বাচ্চার সামনে ঝগড়া করবো না, চিৎকার করবো না, রেগে জোরে আরিশকে বকবোনা।
আমরা চেষ্টা করেছি, প্রতিদিন করি। আরিশের জন্মের পর থেকে ২/৪ বার আরিশের সামনে আমরা কোন কিছু নিয়ে রাগারাগী/ কথা কাটাকাটি করেছি। এই ২১ মাসে আরিশের সাথে উচ্চস্বরে কথা বলেছি। হঠাৎ করে পাল্টে যাওয়া যায় না। আমি চেষ্টা করি প্রতিনিয়ত যেন এরকম আর না হয়। অনেকটাই সফল আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণে।
যাই হোক, যে বিষয়ে এগুলো কথা বলছি … আমি লক্ষ্য করেছি আরিশের সামনে কেউ উচ্চস্বরে কথা বললেই আরিশ ঘাবড়ে যায়। ইভেন আনন্দে হইহুল্লোর করলেও ওই নয়েজে ও ভয়ে কেদে ফেলে। এই কিছুদিন আগেই আমি, আমার হাসব্যান্ড এক বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম। সেখানে কি নিয়ে আমরা অনেক হাসাহাসি আর উচ্চস্বরে কথা বলছিলাম। অনেক দিন পর দেখা হলে যা হয় আর কি। হঠাৎ দেখি আরিশের চোখ ছলছল করছে, শেষে ওকে কোলে নেবার সাথে সাথে কেঁদেই দিল।
যেসব মায়েরা জেন্টাল প্যারেন্টিং করেন, বাচ্চার সাথে নরম সুরে কথা বলেন তাঁদের পোস্টে প্রায়ই এরকম একটা কমেন্ট দেখি “এভাবে বড় করলে বাচ্চা অন্যকারো শক্ত কথা নিতে পারবে না!“
মিথ্যা বলবো না, ওইদিন আরিশের কান্না দেখে আমার মাথায় সাথে সাথে এই গোবর মার্কা ভাবনাটা এসেছিলো 😑
পরে লজিক্যালি ভাবলাম, আরিশ কি এই ২১ মাসের বাচ্চাই থাকবে সারাজীবন? ওর তো বুদ্ধির বিকাশ হবে, নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শিখবে। তখন তো বুঝবে ওর মায়ের ভয়েস একটু বেশি লাউড, বেশি খুশি হলে জোরে জোরেই কথা বলে, কোনটা আনন্দের চেচামেচি আর কোনটা ঝগড়া, বুঝবে অনেক মানুষ একসাথে হলে, অনেক কথা হলে তখন অনেক নয়েজ হয়। এরকম আরও অনেক অনেক কিছু ও বুঝতে শিখবে।
তাই বলছি, বাচ্চাকে ভবিষ্যতের রূঢ় বাস্তবতার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে, আপনি ওর সাথে রূঢ় আচরণ করতে হবে, এরকম গোবরভর্তি মাথার মানুষের কথা আপনার মাথাতেও আনবেন না। আর যদি মাথাতে আসেও আমার মতো একটু লজিক্যালি ভাববেন।