NB Creation

NB Creation সবাই কেমন আছেন । নিজে ভালো থাকুন আর অন্য সবাইকে ভালো রাখুন। ধন্যবাদ সবাইকে ❤️🙏

19/09/2026

radhe radhe

রবিবারের দুপুরে বাঙালির আসল আবেগ: জিভে জল আনা “মটন আলুর লাল ঝোল” 🍖🥔🥣🔥রবিবারের ছুটির দুপুর মানেই প্রেসার কুকারের সিটির শব...
12/09/2026

রবিবারের দুপুরে বাঙালির আসল আবেগ: জিভে জল আনা “মটন আলুর লাল ঝোল” 🍖🥔🥣🔥
রবিবারের ছুটির দুপুর মানেই প্রেসার কুকারের সিটির শব্দ আর বাড়িভর্তি খাসির মাংসের ঝোলের মন মাতানো সুবাস! এক থালা ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের সাথে টকটকে লালচে পাতলা ঝোল, মুখে মিলিয়ে যাওয়া নরম তুলতুলে বড় এক টুকরো আলু আর জুসি মাটন—বাঙালির কাছে এর চেয়ে বড় তৃপ্তির খাবার বোধহয় আর কিছুই হতে পারে না।
আজ একদম সাবেকি নিয়মে সর্ষের তেলে কড়া করে কষিয়ে বানিয়ে ফেললাম এই লাল ঝোল। মাংসের টুকরোগুলো হাড় থেকে মাখনের মতো আলগা হয়ে আসছে আর ঝোলের রঙ হয়েছে একদম দেখার মতো! আমি ঠিক যেভাবে ধাপে ধাপে এটি রান্না করলাম, পুরো রেসিপিটি শেয়ার করছি—
🥘 আমার রান্নার উপকরণ:
মটন বা খাসির মাংস: ১ কেজি (হাড় ও চর্বিসহ ফ্রেশ পিস)
বড় আলু: ৪টি (খোসা ছাড়িয়ে বড় বড় টুকরো করে কাটা)
পেঁয়াজ কুচানো: ৩টি বড় সাইজের (মিহি কুচি)
টমেটো কুচানো: ১টি মাঝারি
আদা বাটা: ১.৫ টেবিল চামচ
রসুন বাটা: ১ টেবিল চামচ
কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো: ২ চা চামচ (টকটকে সুন্দর লাল রঙের জন্য)
জিরে গুঁড়ো: ১ চা চামচ
ধনে গুঁড়ো: ১ চা চামচ
হলুদ গুঁড়ো: ১ চা চামচ
গোটা গরম মশলা: ছোট এলাচ ৩টি, লবঙ্গ ৩টি ও দারচিনি ১ ইঞ্চি
ফোড়নের জন্য: গোটা জিরে ১/২ চা চামচ, তেজপাতা ২টি ও শুকনো লঙ্কা ২টি
খাঁটি সর্ষের তেল: পরিমাণমতো
নুন ও চিনি: স্বাদমতো
ফোটানো গরম জল: ঝোলের পরিমাণ অনুযায়ী
🍳 যেভাবে আমি রান্না করলাম:
ধাপ ১: মটন ম্যারিনেশন
খাসির মাংস ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে একটি পাত্রে নিলাম। এবার মাংসের মধ্যে সামান্য খাঁটি সর্ষের তেল, অর্ধেকটা আদা-রসুন বাটা, হলুদ গুঁড়ো এবং স্বাদমতো নুন দিয়ে খুব ভালো করে মেখে আধ ঘণ্টা ম্যারিনেট করে রেখে দিলাম।
ধাপ ২: লালচে করে আলু ভাজা
কড়াইতে সর্ষের তেল ধোঁয়া ওঠা পর্যন্ত গরম করে নিলাম। কেটে রাখা বড় আলুর টুকরোগুলোতে সামান্য নুন ও হলুদ গুঁড়ো মাখিয়ে তেলে দিয়ে দিলাম। মাঝারি আঁচে উল্টে-পাল্টে চমৎকার সোনালি ও নরম করে ভেজে আলাদা তুলে রাখলাম।
ধাপ ৩: ফোড়ন ও পেঁয়াজ-টমেটো ভাজা
আলু ভাজার তেলে তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা, গোটা জিরে এবং গোটা গরম মশলা ফোড়ন দিলাম। সুন্দর মিষ্টি গন্ধ বের হতেই মিহি পেঁয়াজ কুচি দিয়ে দিলাম। সাথে দিলাম সামান্য চিনি (চিনি তেলে গলে ঝোলের সুন্দর লাল রঙ আনে)। পেঁয়াজ সোনালি ও নরম হওয়া পর্যন্ত ভেজে নিয়ে টমেটো কুচি দিয়ে নরম করে নিলাম।
ধাপ ৪: মশলা ভালো করে কষানো
পেঁয়াজ ও টমেটো নরম হলে বাকি আদা বাটা ও রসুন বাটা দিয়ে কাঁচা গন্ধ চলে যাওয়া পর্যন্ত কষিয়ে নিলাম। এরপর জিরে গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, হলুদ গুঁড়ো, কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো এবং সামান্য জল দিয়ে মশলা খুব ভালো করে কষিয়ে নিলাম যতক্ষণ না মশলা থেকে তেল আলাদা হয়ে আসে।
ধাপ ৫: আসল ‘কষা’ পর্ব
মশলা থেকে তেল ছাড়লে ম্যারিনেট করা পুরো মটন কড়াইতে ঢেলে দিলাম। চুলার আঁচ মাঝারি রেখে মাংস খুব ভালো করে মশলার সঙ্গে মিশিয়ে ঢাকা দিয়ে দিয়ে কষাতে থাকলাম। মাংস থেকে প্রচুর জল ও নিজস্ব চর্বির তেল ছাড়তে শুরু করবে। জল শুকিয়ে মাংস একদম তেল চকচকে ভাজা ভাজা হওয়া পর্যন্ত ভালো করে কষিয়ে নিলাম।
ধাপ ৬: প্রেসার কুকারে সেদ্ধ ও ঝোল রান্না
মটন খুব ভালোভাবে কষানো হয়ে এলে কড়াই থেকে মাংস ও গ্রেভি প্রেসার কুকারে ঢেলে দিলাম। সাথে দিয়ে দিলাম আগে থেকে ভেজে রাখা বড় আলুর টুকরোগুলো। এবার পরিমাণমতো ফুটন্ত গরম জল ও স্বাদমতো নুন দিয়ে দিলাম। প্রেসার কুকারের ঢাকনা ভালো করে বন্ধ করে মাঝারি আঁচে ৬টি থেকে ৭টি হুইসল (সিটি) দিয়ে মাংস ও আলু একদম নরম তুলতুলে করে সেদ্ধ করে নিলাম।
ধাপ ৭: ফিনিশিং টাচ (দমে রাখা)
প্রেসারের বাষ্প নিজে থেকে সম্পূর্ণ কমে গেলে ঢাকনা খুলে নিলাম। দেখলাম ওপর দিয়ে কী চমৎকার লালচে রোগন (তেল) ভেসে উঠেছে! ঝোলটা একদম পারফেক্ট পাতলা হয়েছে। নামানোর আগে ওপর থেকে সামান্য গরম মশলা গুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়ে আলতো হাতে নেড়ে নিলাম।
ব্যাস! তৈরি হয়ে গেল রবিবারের স্পেশাল অমৃত স্বাদের মটন আলুর লাল ঝোল!
🍽 পরিবেশন:
ধোঁয়া ওঠা গরম গরম বাসমতি বা সুগন্ধি চালের সাদা ভাতের সাথে এই পাতলা লাল ঝোল, নরম আলু আর এক টুকরো গন্ধরাজ লেবু চিপে মেখে মুখে তুলুন—সপ্তাহের সব ক্লান্তি এক নিমিষেই দূর হয়ে যাবে!
💡 আমার ছোট্ট টিপস:
মটনের লাল ঝোলে সবসময় ফোটানো গরম জল ব্যবহার করবেন, এতে মাংস শক্ত হয় না এবং ঝোলের স্বাদ বহুগুণ বেড়ে যায়।
পেঁয়াজ ভাজার সময় সামান্য চিনি দিলে কাশ্মীরি লঙ্কার সাথে মিলে ঝোলে রেস্তোরাঁর মতো টকটকে লাল রঙ আসে।
আমার হাতের এই লোভনীয় মটন আলুর লাল ঝোলের রেসিপিটি আপনাদের কেমন লাগলো, কমেন্ট করে জানাতে কিন্তু একদম ভুলবেন না! রবিবারের দুপুরে খাসির মাংস কার কার সবচেয়ে প্রিয়? ❤️

ওভেন ছাড়াই কড়াইতে বানালাম দারুণ সুগন্ধি নরম তুলতুলে “তালের স্পঞ্জ কেক” 🥮🌴🥥✨পাকা তালের মৌসুমে তালের বড়া বা পিঠা তো আমরা স...
12/09/2026

ওভেন ছাড়াই কড়াইতে বানালাম দারুণ সুগন্ধি নরম তুলতুলে “তালের স্পঞ্জ কেক” 🥮🌴🥥✨
পাকা তালের মৌসুমে তালের বড়া বা পিঠা তো আমরা সবসময়ই খাই, তবে তালের মিষ্টি সুবাসে তৈরি এমন নরম, তুলতুলে স্পঞ্জি কেক কখনো ট্রাই করেছেন? আজ মন চাইল একটু ভিন্ন কিছু বেক করতে, তাই ডিম আর ওভেন ছাড়াই সাধারণ কড়াইতে বানিয়ে ফেললাম দুর্দান্ত স্বাদের তালের কেক!
কেকের মিষ্টি সুবাসে পুরো ঘর ম-ম করছিল, আর মুখে দিতেই নারকেলের হালকা ক্রাঞ্চ আর তালের রসালো স্বাদে এক পরম তৃপ্তি পেয়েছি! আমি যেভাবে খুব সহজে এবং একদম নিখুঁত মাপে এটি বানালাম, পুরো রেসিপিটি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি—
🥘 আমার রান্নার উপকরণ:
ঘন তালের পাল্প: ১/২ কাপ (পাল্প পাতলা হলে সামান্য বেশি নেবেন)
চিনি: ১ কাপ
সাদা তেল: ১/৪ কাপ
ময়দা: ১ কাপ (২০০ গ্রাম)
সুজি: ১/২ কাপ (১০০ গ্রাম)
বেকিং পাউডার: ১ চা চামচ
বেকিং সোডা: ১/২ চা চামচ
নুন: মাত্র এক চিমটি (মিষ্টির ব্যালেন্সের জন্য)
জল: ১ কাপ (ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার)
ছোট পাতলা নারকেলের টুকরো: সাজানোর জন্য পরিমাণমতো
কেক মোল্ডের জন্য: সামান্য তেল ও বাটার পেপার
🍳 যেভাবে আমি কেক বেক করলাম:
ধাপ ১: ভেজা উপকরণ মেশানো
প্রথমে একটি বড় মিক্সিং বাউলে ১/২ কাপ ঘন তালের পাল্প, ১ কাপ চিনি এবং ১/৪ কাপ সাদা তেল নিলাম। এবার একটি হ্যান্ড হুইস্ক দিয়ে চিনি সম্পূর্ণ গলে না যাওয়া পর্যন্ত খুব ভালো করে ফেটিয়ে মিশিয়ে নিলাম।
ধাপ ২: শুকনো উপকরণ যোগ করা
এবার ওই মিশ্রণের মধ্যে ১ কাপ ময়দা, ১/২ কাপ সুজি, এক চিমটি নুন, ১ চা চামচ বেকিং পাউডার এবং ১/২ চা চামচ বেকিং সোডা দিয়ে দিলাম।
ধাপ ৩: মসৃণ ব্যাটার তৈরি
এবার ১ কাপ জল অল্প অল্প করে ঢেলে একটি মাঝারি ঘনত্বের মসৃণ কেকের ব্যাটার বানিয়ে নিলাম। ব্যাটারটি ৩–৪ মিনিট একটানা খুব ভালো করে ফেটিয়ে নিলাম, যাতে ভেতরে কোনো দানা না থাকে এবং কেক দারুণ স্পঞ্জি হয়।
ধাপ ৪: কেক মোল্ড প্রস্তুতি ও সাজানো
একটি স্টিলের গোল পাত্রে (বা কেক মোল্ডে) তলায় বাটার পেপার বিছিয়ে সামান্য তেল ভালো করে ব্রাশ করে নিলাম। এবার তৈরি করা ব্যাটারটি মোল্ডে ঢেলে দিলাম। পাত্রটি হালকা ২–৩ বার ট্যাপ (Tap) করে নিলাম যাতে ভেতরের বাতাস বের হয়ে যায়। এবার ওপর থেকে সুন্দর করে পাতলা নারকেলের টুকরোগুলো ছড়িয়ে দিলাম।
ধাপ ৫: কড়াইতে বেক করা
একটি বড় কড়াই চুলায় বসিয়ে মাঝখানে একটি স্ট্যান্ড রেখে পাত্রটি স্ট্যান্ডের ওপর বসালাম। এবার কড়াইয়ের ওপর একটি ভারী ঢাকনা দিয়ে ভালো করে ঢেকে দিলাম যাতে ভাপ বের হতে না পারে।
প্রথমে ২০ মিনিট একদম কম আঁচে এবং
পরের ২০ মিনিট মাঝারি থেকে কম আঁচে মোট ৪০ মিনিট বেক হতে দিলাম।
ধাপ ৬: কেক টেস্ট ও মোল্ড আউট
৪০ মিনিট পর ঢাকনা খুলে দেখলাম কেকের গায়ে কী চমৎকার লালচে সোনালি রঙ এসেছে! এবার কেকের মাঝখানে একটি টুথপিক (কাঠি) ঢুকিয়ে দেখলাম—কাঠিটি একদম পরিষ্কার বের হলো, মানে কেক ভেতর থেকে সম্পূর্ণ তৈরি।
কেকটি চুলা থেকে নামিয়ে সম্পূর্ণ ঠান্ডা হতে দিলাম। ঠান্ডা হলে একটি ছুরি দিয়ে চারপাশটা আলতো করে ছাড়িয়ে মোল্ড উল্টে কেকটি বের করে নিলাম এবং তলার বাটার পেপার ছাড়িয়ে নিলাম।
ব্যাস! তৈরি হয়ে গেল অপূর্ব সুবাসের নরম তুলতুলে তালের কেক!
🍽 পরিবেশন:
ছুরি দিয়ে সুন্দর স্লাইস করে কেটে বিকেলের চায়ের আড্ডায় কিংবা মিষ্টি মুখ করতে পরিবেশন করুন। মুখে দিলে তালের মিষ্টি সুবাসে সবাই একদম মুগ্ধ হয়ে যাবে!
💡 আমার ছোট্ট টিপস:
কেক সবসময় সম্পূর্ণ ঠান্ডা হওয়ার পরই মোল্ড থেকে বের করবেন, গরম অবস্থায় বের করতে গেলে কেক ভেঙে যেতে পারে।
সুজি মেশানোর কারণে কেকটি ভেতর থেকে ভীষণ সফট এবং একটু দানাদার স্পঞ্জি টেক্সচার পায় যা খেতে অসাধারণ লাগে।
আমার হাতের এই ডিম ছাড়া সহজ তালের কেকের রেসিপিটি আপনাদের কেমন লাগলো, কমেন্ট করে জানাতে একদম ভুলবেন না কিন্তু! তালের কেক কার কার পছন্দ? ❤️

বাঙালির ঐতিহ্যে মুখে মিলিয়ে যাওয়া নরম তুলতুলে “তালের পাটিসাপটা পিঠা” 🥞🌴🥥✨পাকা তালের মন মাতানো মিষ্টি গন্ধ মানেই বাঙালির ...
12/09/2026

বাঙালির ঐতিহ্যে মুখে মিলিয়ে যাওয়া নরম তুলতুলে “তালের পাটিসাপটা পিঠা” 🥞🌴🥥✨
পাকা তালের মন মাতানো মিষ্টি গন্ধ মানেই বাঙালির ঘরে ঘরে পিঠের উৎসব! সাধারণ পাটিসাপটা তো আমরা প্রায়ই খাই, তবে তালের মৌসুমে তালের রস আর নারকেলের পুর দিয়ে তৈরি এই পাটিসাপটার কোনো তুলনাই হয় না। আজ ঘরেই বানিয়ে ফেললাম অপূর্ব স্বাদের নরম তুলতুলে তালের পাটিসাপটা।
পাটিসাপটার ওপরের পাতলা নরম খোলস আর ভেতরে তাল-নারকেলের রসালো আঠালো পুর—মুখে দিলে যেন মাখনের মতো মিলিয়ে যায়! আমি যেভাবে খুব সহজে এবং নিখুঁত মাপে এটি তৈরি করলাম, সেই মিষ্টি রেসিপিটি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি—
🥘 আমার রান্নার উপকরণ:
১. তালের খোলসা/ব্যাটার তৈরির জন্য:
পাকা তাল: ১টি (মিডিয়াম সাইজের, পাল্প বের করে নেওয়া)
সুজি: ১০০ গ্রাম (জলে ভেজানো)
ময়দা: ১৫০ গ্রাম
চিনি: প্রয়োজনমতো (স্বাদ অনুযায়ী)
নুন: মাত্র ১ চিমটে (মিষ্টির ব্যালেন্সের জন্য)
জল: প্রয়োজনমতো (পাতলা ব্যাটার তৈরির জন্য)
রিফাইন্ড তেল: ৩ টেবিল চামচ (তাওয়ায় ব্রাশ করার জন্য)
২. ভেতরের নারকেল-তালের মিষ্টি পুরের জন্য:
কোরানো নারকেল (মালাই নারকেল): ১/২টি
ঘন তালের পাল্প: বাকি পুরোটা
চিনি: প্রয়োজনমতো (স্বাদ অনুযায়ী মিষ্টি)
🍳 যেভাবে আমি পিঠা বানালাম:
ধাপ ১: তালের পাল্প জ্বাল দেওয়া
প্রথমে পাকা তালের আঁশ ছাড়িয়ে চালনি দিয়ে ছেঁকে মসৃণ পাল্প বের করে নিলাম। এবার একটি প্যানে তালের পাল্প ঢেলে চুলায় ফোটাতে শুরু করলাম। ফোটানোর সময় ওপরে যে সাদাটে ফেনা তৈরি হয়েছিল, তা চামচ দিয়ে তুলে ফেলে দিলাম। তাল সামান্য ঘন হয়ে এলে ব্যাটারের জন্য ৩ টেবিল চামচ তালের পাল্প একটি বাটিতে আলাদা তুলে রাখলাম।
ধাপ ২: নারকেল ও তালের রসালো পুর তৈরি
প্যানে থাকা বাকি তালের পাল্প আরও কিছুক্ষণ ফুটিয়ে জল শুকিয়ে নিলাম। এবার তাতে কোরানো নারকেল ও প্রয়োজনমতো চিনি মিশিয়ে কম আঁচে অনবরত নেড়েচেড়ে নিলাম। চিনি গলে যখন মিশ্রণটি বেশ ঘন ও আঠালো পুরে পরিণত হলো, তখন গ্যাস বন্ধ করে পুর ঠান্ডা হতে নামিয়ে নিলাম।
ধাপ ৩: মসৃণ তালের ব্যাটার তৈরি
সুজি ভালো করে ধুয়ে অল্প জলে আধ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখেছিলাম যাতে সুজি নরম হয়ে যায়। এবার একটি মিক্সিং জারে ময়দা, ভেজানো নরম সুজি, স্বাদমতো চিনি, সামান্য জল, এক চিমটে নুন এবং আগে থেকে তুলে রাখা ৩ টেবিল চামচ তালের পাল্প একসাথে নিয়ে ব্লেন্ডারে ঘুরিয়ে নিলাম। তৈরি হয়ে গেল একদম মসৃণ, লাম্পস ছাড়া একটি পাতলা ব্যাটার।
ধাপ ৪: পাটিসাপটা তৈরি
একটি নন-স্টিক তাওয়া হালকা গরম করে ব্রাশ বা বেগুনের বোঁটা দিয়ে সামান্য তেল মেখে নিলাম। এবার এক হাতা ব্যাটার তাওয়ার মাঝখানে ঢেলে চামচের পেছন দিক দিয়ে আলতো করে ঘুরিয়ে গোল পাতলা রুটির মতো ছড়িয়ে দিলাম।
ধাপ ৫: পুর ভরা ও রোল করা
চুলার আঁচ একদম কম রাখলাম। পিঠার ওপরের অংশ শুকিয়ে টান টান হয়ে এলে একপাশে লম্বা করে তৈরি করে রাখা তাল-নারকেলের পুর দিয়ে দিলাম। এবার একটি খুন্তির সাহায্যে এক প্রান্ত থেকে আলতো হাতে মুড়ে সুন্দর রোল (ফোল্ড) করে নিলাম।
তাওয়ায় এপিঠ-ওপিঠ সামান্য হালকা শেঁকে তুলে নিলাম। ঠিক একইভাবে একে একে বাকি সবগুলো পাটিসাপটা বানিয়ে নিলাম!
🍽 পরিবেশন:
গরম গরম কিংবা হালকা ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন অপূর্ব সুস্বাদু তালের পাটিসাপটা পিঠা। মুখে দিলেই তালের খাঁটি সুবাসে মন ভরে যাবে!
💡 আমার ছোট্ট টিপস:
তালের পাল্প জ্বাল দেওয়ার সময় ওপরের ফেনা ফেলে দিলে তালের কোনো তিতকুটে ভাব থাকে না।
ব্যাটারে ভেজানো সুজি ব্যবহার করলে পাটিসাপটা তাওয়ায় আটকে যায় না এবং ঠান্ডা হওয়ার পরও অনেকক্ষণ নরম থাকে।
আমার হাতের এই নরম তুলতুলে তালের পাটিসাপটার রেসিপিটি আপনাদের কেমন লাগলো, কমেন্ট করে জানাতে কিন্তু একদম ভুলবেন না! তালের পিঠা কার কার সবচেয়ে প্রিয়? ❤️

আমার তৈরি স্পেশাল ‘আচারি মশলা’:মৌরি ১ চা চামচ, গোটা জিরা ১ চা চামচ, মেথি দানা ১/২ চা চামচ, কালোজিরে ১/২ চা চামচ, গোটা সর...
11/09/2026

আমার তৈরি স্পেশাল ‘আচারি মশলা’:
মৌরি ১ চা চামচ, গোটা জিরা ১ চা চামচ, মেথি দানা ১/২ চা চামচ, কালোজিরে ১/২ চা চামচ, গোটা সর্ষে ১ চা চামচ, গোটা ধনে ১ চা চামচ এবং শুকনো লাল মরিচ ২টি।
(সব মশলা শুকনো তাওয়ায় হালকা গরম করে নিয়ে মিক্সারে আধভাঙা/দরদরে করে গুঁড়ো করে নিয়েছি। এটিই এই রান্নার আসল প্রাণ!)
🥘 আমার রান্নার মূল উপকরণ:
চিকেন: ৮০০ গ্রাম – ১ কেজি (মাঝারি পিস)
আলু: ৩–৪টি (খোসা ছাড়িয়ে ডুমো করে কাটা)
টকদই: ১/২ কাপ (ভালো করে ফেটানো)
আমের আচার বা লঙ্কার আচারের তেল ও মশলা: ১.৫ টেবিল চামচ (আসল আচারি স্বাদের জন্য)
পেঁয়াজ কুচি: ১.৫ কাপ (মিহি কুচানো)
টমেটো কুচি বা পিউরি: ২টি মাঝারি
আদা বাটা: ১.৫ টেবিল চামচ
রসুন বাটা: ১.৫ টেবিল চামচ
হলুদ গুঁড়ো: ১ চা চামচ
লাল মরিচ গুঁড়ো: ১.৫ চা চামচ (ঝাল অনুযায়ী)
কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো: ১ চা চামচ (সুন্দর গাঢ় রঙের জন্য)
আস্ত কাঁচামরিচ: ৫–৬টি (মাঝখান থেকে চেরা)
ধনেপাতা কুচি: ২ টেবিল চামচ
খাঁটি সরিষার তেল: ৪–৫ টেবিল চামচ
লবণ ও সামান্য চিনি: স্বাদমতো
ফোটানো গরম পানি: ১.৫ কাপ
🍳 যেভাবে আমি রান্না করলাম:
ধাপ ১: চিকেন ম্যারিনেশন
চিকেনের টুকরোগুলো ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিলাম। এবার মাংসের মধ্যে ফেটানো টকদই, ১ চামচ আদা-রসুন বাটা, আমার তৈরি করে রাখা আচারি মশলার অর্ধেকটা, সামান্য হলুদ, লবণ ও ১ চামচ সরিষার তেল দিয়ে খুব ভালো করে মেখে ৩০–৪০ মিনিট রেখে দিলাম।
ধাপ ২: আলু ভাজা
কড়াইতে সরিষার তেল ভালো করে ধোঁয়া ওঠা পর্যন্ত গরম করে নিলাম। আলুর টুকরোগুলোতে সামান্য লবণ ও হলুদ মাখিয়ে মাঝারি আঁচে চমৎকার সোনালি-লালচে করে ভেজে আলাদা তুলে রাখলাম।
ধাপ ৩: ফোড়ন ও পেঁয়াজ ভাজা
আলু ভাজার তেলে এক চিমটি গোটা মেথি, কালোজিরে ও মৌরি ফোড়ন দিলাম। সুবাস বের হতেই মিহি পেঁয়াজ কুচি দিয়ে মাঝারি আঁচে লালচে-সোনালি করে ভেজে নিলাম।
ধাপ ৪: বাটা ও গুঁড়ো মশলা কষানো
পেঁয়াজ ভাজা হলে বাকি আদা-রসুন বাটা দিয়ে কাঁচা গন্ধ চলে যাওয়া পর্যন্ত কষিয়ে নিলাম। এরপর টমেটো পিউরি, হলুদ গুঁড়ো, লাল মরিচ গুঁড়ো, কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো এবং স্বাদমতো লবণ দিয়ে দিলাম। চুলার আঁচ কমিয়ে মশলা খুব ভালো করে কষিয়ে নিয়েছি যতক্ষণ না মশলা থেকে সুন্দর লালচে তেল আলাদা হয়ে আসে।
ধাপ ৫: চিকেন ও আলু কষা
তেল ছেড়ে এলে ম্যারিনেট করা পুরো চিকেন কড়াইতে দিয়ে দিলাম। চুলার আঁচ মাঝারি রেখে মাংস মশলার সাথে ৭–৮ মিনিট ভালো করে কষাতে থাকলাম। মাংস থেকে জল ছাড়তে শুরু করলে ভেজে রাখা আলুর টুকরোগুলো দিয়ে দিলাম। এবার ঢাকনা বন্ধ করে কম আঁচে মাংস ও আলু নিজস্ব জলেই প্রায় ৭০% সেদ্ধ করে নিলাম।
ধাপ ৬: আচার যোগ ও ঝোল রান্না
মাংসের জল শুকিয়ে তেল ওপরে ভেসে উঠলে এতে ১.৫ টেবিল চামচ আমের আচারের তেল/মশলা, বাকি অর্ধেক আচারি মশলা এবং ১/২ চা চামচ চিনি দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিলাম। এবার ১.৫ কাপ ফোটানো গরম পানি ও চেরা কাঁচামরিচ দিয়ে ঢাকনা দিয়ে কম আঁচে ৮–১০ মিনিট রান্না করলাম, যাতে মাংস ও আলু একদম নরম হয়ে যায় এবং গ্রেভি ঘন ও মাখামাখা হয়।
ধাপ ৭: ফিনিশিং টাচ
গ্রেভি তেল চকচকে হয়ে এলে ওপর থেকে তাজা ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে গ্যাস বন্ধ করে দিলাম এবং ঢাকনা দিয়ে ৫ মিনিট দমে রেখে দিলাম।
ব্যাস! তৈরি হয়ে গেল জিভে জল আনা চটপটা স্বাদের আলু দিয়ে আচারি চিকেন!
🍽 পরিবেশন:
ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত, ভুনা খিচুড়ি, রুটি, লুচি কিংবা পরোটার সাথে এই আচারি চিকেন পরিবেশন করুন—প্রথম কামড়েই টক-ঝালের ম্যাজিকে সবাই মুগ্ধ হয়ে যাবে!
💡 আমার ছোট্ট টিপস:
রান্নায় ঘরে থাকা যেকোনো আমের আচার বা চালতার আচারের তেল-মশলা ব্যবহার করলে আচারি ফ্লেভার একদম আসল ও তীব্র হয়।
আচারি চিকেন সবসময় খাঁটি সরিষার তেলেই রান্না করবেন, এতে আচারের আসল স্বাদ ও গন্ধ ফুটে ওঠে।
আমার হাতের এই লোভনীয় আচারি চিকেনের রেসিপিটি আপনাদের কেমন লাগলো, কমেন্ট করে জানাতে কিন্তু ভুলবেন না! টক-ঝাল খাবার কার কার সবচেয়ে প্রিয়? ❤️

আমার রান্নার উপকরণ:চিকেন বা মুরগির মাংস: ১ কেজি (হাড়সহ বা বোনলেস মাঝারি টুকরো)টকদই: ১/২ কাপ (ভালো করে ফেটানো)পাতিলেবুর র...
11/09/2026

আমার রান্নার উপকরণ:
চিকেন বা মুরগির মাংস: ১ কেজি (হাড়সহ বা বোনলেস মাঝারি টুকরো)
টকদই: ১/২ কাপ (ভালো করে ফেটানো)
পাতিলেবুর রস: ১ টেবিল চামচ
খাঁটি গাওয়া ঘি: ৪ থেকে ৫ টেবিল চামচ + শেষে ১ চামচ
কারি পাতা: এক মুঠো (তাজা)
কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো: ১ চা চামচ (সুন্দর গাঢ় লাল রঙের জন্য)
হলুদ গুঁড়ো: ১/২ চা চামচ
কাঁচা লঙ্কা ও শুকনো লঙ্কা: ঝাল অনুযায়ী পরিমাণমতো
গুড় বা সামান্য চিনি: স্বাদমতো (স্বাদের ব্যালেন্সের জন্য)
নুন: স্বাদমতো
🌟 আমার তৈরি স্পেশাল ‘ঘি রোস্ট মশলা পেস্ট’:
শুকনো লঙ্কা (ঝাল অনুযায়ী), গোটা গোলমরিচ ১ টেবিল চামচ, জিরে ১ চা চামচ, মৌরি ১ চা চামচ, গোটা ধনে ১ চা চামচ, সর্ষে ১ চা চামচ, মেথি দানা ১/২ চা চামচ, রসুন কোয়া ১০–১২টি এবং আদা কুচি ১ টেবিল চামচ।
🍳 যেভাবে আমি রান্না করলাম:
ধাপ ১: স্পেশাল মশলা পেস্ট তৈরি
একটি শুকনো প্যানে শুকনো লঙ্কা, গোটা গোলমরিচ, জিরে, মৌরি, ধনে, সর্ষে এবং মেথি দানা কম আঁচে হালকা সুবাস বের হওয়া পর্যন্ত রোস্ট (টেলে) করে নিলাম। মশলা ঠান্ডা হলে ব্লেন্ডারে বা শিলনোড়ায় রসুন ও আদার সাথে সামান্য জল দিয়ে একদম মিহি ও মসৃণ পেস্ট বানিয়ে নিলাম।
ধাপ ২: চিকেন ম্যারিনেশন
চিকেনের টুকরোগুলো ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিলাম। এবার একটি পাত্রে মাংসের সাথে ফেটানো টকদই, পাতিলেবুর রস, সামান্য নুন এবং হলুদ গুঁড়ো দিয়ে খুব ভালো করে মেখে কমপক্ষে ১ ঘণ্টা ম্যারিনেট করে রেখে দিলাম।
ধাপ ৩: ঘিয়ে মশলা কষানো
কড়াইতে ৪–৫ টেবিল চামচ খাঁটি গাওয়া ঘি ভালো করে গরম করে নিলাম। এবার ঘিয়ে এক মুঠো তাজা কারি পাতা এবং আমার তৈরি করে রাখা মশলার পেস্ট দিয়ে দিলাম। চুলার আঁচ মাঝারি রেখে মশলা খুব ভালো করে কষাতে থাকলাম, যতক্ষণ না মশলা থেকে ঘি আলাদা হয়ে ওপরে ভেসে ওঠে।
ধাপ ৪: চিকেন যোগ ও ঢাকা দিয়ে রান্না
মশলা ভালো করে কষানো হলে ম্যারিনেট করা পুরো চিকেন কড়াইতে দিয়ে দিলাম। চুলার আঁচ মাঝারি রেখে মাংস মশলার সাথে খুব ভালো করে উল্টে-পাল্টে মিশিয়ে নিলাম। এবার কড়াই ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রান্না করতে থাকলাম।
ধাপ ৫: মাংসের জল শুকিয়ে রোস্ট করা
মাংস থেকে প্রচুর জল বের হবে। চুলার আঁচ বাড়িয়ে নেড়েচেড়ে মাংসের সেই জল সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিলাম। এবার এতে কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো, কাঁচা লঙ্কা এবং সামান্য গুড় (বা চিনি) দিয়ে দিলাম। কম আঁচে অনবরত নেড়েচেড়ে মাংস খুব ভালো করে ভাজতে থাকলাম যতক্ষণ না মশলা একদম গাঢ় লালচে হয়ে মাংসের গায়ে মাখা মাখা হয়ে জড়িয়ে যায়।
ধাপ ৬: ফিনিশিং টাচ (শাহী সুবাস)
চিকেন পুরোপুরি নরম ও সেদ্ধ হয়ে যখন ঘি এবং মশলা দিয়ে মাংসের গায়ে চমৎকার কোটিং তৈরি হয়ে গেল, তখন নামানোর ঠিক আগে ওপর থেকে আরও ১ চামচ খাঁটি গাওয়া ঘি ছড়িয়ে ভালো করে মিশিয়ে গ্যাস বন্ধ করে দিলাম।
ব্যাস! তৈরি হয়ে গেল রেস্তোরাঁকেও হার মানানো অসম্ভব সুস্বাদু চিকেন ঘি রোস্ট!
🍽 পরিবেশন:
ওপর থেকে সামান্য লেবুর রস ছড়িয়ে গরম গরম পরোটা, রুমালি রুটি, ধোসা, নীর দোসা কিংবা ফ্রাইড রাইসের সাথে এই ঘি রোস্ট পরিবেশন করুন—প্রথম কামড়েই চোখ বন্ধ হয়ে যাবে স্বর্গীয় তৃপ্তিতে!
💡 আমার ছোট্ট টিপস:
গোটা মশলাগুলো টেলে নেওয়ার সময় খেয়াল রাখবেন যেন পুড়ে না যায়, হালকা সুবাস বের হলেই নামিয়ে নেবেন।
রান্নায় সামান্য গুড় ব্যবহার করলে মশলার কড়া ঝাল আর লেবুর টক ভাব সুন্দর ব্যালেন্স হয়ে একদম অথেনটিক স্বাদ এনে দেয়।
আমার হাতের এই স্পাইসি চিকেন ঘি রোস্টের রেসিপিটি আপনাদের কেমন লাগলো, কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন! গাওয়া ঘিয়ে ভাজা চিকেন কার কার পছন্দ? ❤️

Address

Purbo Lotakhola Joypara Dohar Dhaka
Dhaka
1330

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when NB Creation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share