20/04/2026
আজ ইরানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছে, 'ইরানের মাটির মতোই ইরানের ইউরোনিয়াম পবিত্র। এই ইউরোনিয়াম কাউকে দেওয়া হবেনা।’ অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র যদি আরো কয়েক শতবার ইরানের সাথে বৈঠকে করে তবুও ইরান তাদের উচ্চ ঘনত্বের সমৃদ্ধ ইউরোনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে সম্মত হবেনা।
যুক্তরাষ্ট্রের হাতে একটা পথই খোলা আছে সেটি হলো, ইরানকে সম্মুখ যুদ্ধে হেড টু হেড পরাজিত করা। তখন ইরান আত্মসমর্পণ দলিলে সাক্ষরও করবে এবং ইউরোনিয়াম তুলে দিতে আপত্তি করবেনা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র আদৌও কি ইরানের সাথে অলআউট যুদ্ধ জড়াবে?
ইরান তার পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র ও সামরিক সংগ্রহশালা অত্যন্ত মাটির গভীরে নির্মাণ করেছে। স্থল অভিযান চালানো ছাড়া যুদ্ধবিমান দিয়ে যতই এ্যায়ার স্ট্রাইক চালানো হোক না কেন, তা পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলা সম্ভব হবেনা, এমনকি ইউরোনিয়ামও সংগ্রহ করতে পারবেনা।
যুক্তরাষ্ট্র যতই পরাক্রমশালী সামরিক শক্তির দেশ হোক না কেন, ইরানে হলিউড স্টাইলে বিনা রক্তপাতে ইউরোনিয়াম সংগ্রহ করে চলা আসা একেবারেই সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রকৃত অর্থেই ইউরোনিয়াম সংগ্রহ করতে চায়। তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে স্থল অভিযান পরিচালনা করতে হবে। সে অভিযানে ইরানের সেনাদের বিপক্ষে অন্তত ৫০ হাজার মার্কিন সেনা নিহত হবে। অপরদিকে ইরানের কমপক্ষে ১ লাখ নিহত হবে। তারপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পরাজিত করতে সক্ষম হবে। তবে এ যুদ্ধ অন্তত চার থেকে পাঁঁচ বছর দীর্ঘায়িত হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, ৫০ হাজার মার্কিন সেনা কি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত আছে?
ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেবেছিল ইরানের উপর সাময়িক হামলা ও রিজিম প্রধানদের সরিয়ে দিলে ইরান আত্মসমর্পণ করে ফেলবে। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প পড়েছে বেকায়দায়। ট্রাম্প চাচ্ছে তার সেনাদের কোনো প্রকার বিপদ ছাড়াই বিজয় অর্জন করতে। ইরানের বিপক্ষে মাত্র ১৫ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়ে যাওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের টেনশনের শেষ নেই। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মধ্য ব্যাপক প্রতিক্রিয়া চলমান রয়েছে। মার্কিন সাধারণ নাগরিকদের ধারণা ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের সাথে মিত্র হয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে মার্কিন সেনাদের প্রাণ হুমকিতে ফেলেছে।