Tajkira

Tajkira Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Tajkira, News & Media Website, Dhaka.

▌ ঈদের সালাতের পদ্ধতি।১. রাসূলুল্লাহ ﷺ  ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার দিনে ঈদগাহে গিয়ে সর্বপ্রথম সালাত আদায় করতেন। অত:পর খুতব...
19/03/2026

▌ ঈদের সালাতের পদ্ধতি।

১. রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার দিনে ঈদগাহে গিয়ে সর্বপ্রথম সালাত আদায় করতেন। অত:পর খুতবা দিতেন। আর লোকেরা তাদের কাতারে বসে থাকত। খুতবার মধ্যে রাসূলুল্লাহ ﷺ মানুষের জন্য ওয়ায-নসিহত করতেন আর বিভিন্ন আদেশ প্রদাণ করতেন। (যেমন : যদি কোথাও সৈন্য প্রেরণের প্রয়োজন পড়ত তবে তার প্রস্তুতি গ্রহণ ও অন্যান্য বিষয়ে আদেশ দিতেন) অত:পর ঈদগাহ হতে ফিরে যেতেন। [১] ’

২. (ঈদের সালাত আদায়কারী) প্রথমে ওযু অবস্থায় কিবলামুখী হয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে রফেউল ইয়াদাইন করবে। [২]

৩. অত:পর বুকে হাত বেঁধে সালাত শুরুর দুআ (ছানা) পড়বে।

৪. সালাত শুরুর দুআ শেষ করে কিরআত শুরুর পূর্বে (ধীরে ধীরে) সাতটি তাকবির দিবে। [৩]

৫. অত:পর ইমাম উঁচু আওয়াযে আর মুক্তাদি নিচু আওয়াযে সূরাতুল ফাতিহা পাঠ করবে, তারপর ইমাম উঁচু আওয়াযে কিরআত পাঠ করবে ও মুক্তাদি চুপ করে ইমামের কিরআত শুনবে।

৬. নবি ﷺ ঈদুল আযহা এবং ঈদুল ফিতরে সূরাতুল ক্বাফ এবং সূরাতুল কমার পাঠ করতেন। অন্য বর্ণনাতে সূরাতুল আ’লা এবং সূরাতুল গাশিয়াহ পাঠ করার কথাও এসেছে। ’[৪]

৭. উত্তম হলো সূরা ফাতিহা পাঠের পর সুন্নাত সম্মত কিরআত পাঠ করবে। যখন প্রথম রাকআত (অন্যান্য সালাতের মত) শেষ করে দ্বিতীয় রাকআতের জন্য দাঁড়ানো হবে, তখন ওঠার সময়ে তাকবির পাঠ করবে (যেমনটি অন্যান্য সালাতে পাঠ করা হয়) অত:পর কিরআত শুরু করার পূর্বে পাঁচটি তাকবির দিবে। [৫]

৮. অত:পর দুই রাকআত সালাত শেষ করে সালাম ফিরাবে।


------------------------
[১] সহিহুল বুখারি হা/৯৫৬; সহিহ মুসলিম হা/৮৮৯।
[২] সহিহুল বুখারি হা/৭৩৮।
[৩] [হাসান] সুনানু আবি দাউদ হা/১১৫১, সনদ হাসান।
[৪] সহিহ মুসলিম হা/৮৯১।
[৫] [হাসান] সুনানু আবি দাউদ হা/১১৫১, সনদ হাসান।

------------------------
মূল : নামাযে নববী পৃ.৩২৭।
তাহকিক : হাফিয যুবাইর আলি যাঈ।
পরিবেশনায় : তাযকিরা রিসার্চ টিম।

▌ ঈদের সালাত সম্পর্কিত আহকাম ও মাসায়েল।১. হযরত আলি [রাদ্বিআল্লাহু আনহু] বলেন, الغسلৃ يوم الجمعة ويوم عرفة ويوم النحر ويو...
18/03/2026

▌ ঈদের সালাত সম্পর্কিত আহকাম ও মাসায়েল।

১. হযরত আলি [রাদ্বিআল্লাহু আনহু] বলেন,
الغسلৃ يوم الجمعة ويوم عرفة ويوم النحر ويوم الفطر
‘জুমুআ, আরাফা, কুরবানি এবং ঈদুল ফিতরের দিন গোসল করবে।[১] ’

২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু উমর [রাদ্বিআল্লাহু আনহু] ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে গোসল করতেন।[২]

৩. ঈদুল ফিতরের সালাতে বের হওয়ার পূর্বে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করে নেওয়া আবশ্যক।[৩] হাদিস হতে প্রমাণিত হয়, সাদাকাতুল ফিতর ঈদের সালাতে যাওয়ার পূর্বে অবশ্যই আদায় করতে হবে এবং এক্ষেত্রে বিলম্ব করা জায়েয নয়।

৪. ঈদ যদি জুমুআর দিনে হয়, তবে ঈদের সালাত আদায়ের পর জুমুআর সালাত আদায় করবে অথবা যোহর আদায় করবে এক্ষেত্রে প্রশস্থতা রয়েছে।[৪]

৫. রাসূলুল্লাহ ﷺ দুই ঈদের সালাত আযান এবং ইকামত ব্যতীত আদায় করেছেন। [৫]

৬. হযরত জাবির বিন আব্দুল্লাহ [রাদ্বিআল্লাহু আনহু] বলেন, ‘ঈদের সালাতের জন্য আযান নেই, কোন তাকবির নেই। আর না কোন ডাকাডাকি আছে না অন্য কোন আওয়ায আছে।’[৬]

৭. নবি ﷺ ঈদগাহে ঈদের দুই রাকআত সালাত ব্যতীত আগে ও পরে কোন সালাত আদায় করতেন না। [৭]

৮. নবি ﷺ ঈদুল ফিতরের দিন কিছু খেয়ে সালাতের জন্য বের হতেন। আর ঈদুল আযহার দিনে সালাত আদায়ের পর খেতেন। [৮]

৯. রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈদুল ফিতরে বিজোড় সংখ্যক খেজুর খেয়ে ঈদগাহে যেতেন। [৯]

১০. হযরত আনাস বিন মালিক [রাদ্বিআল্লাহু আনহু] যখন শহরে গিয়ে ঈদের সালাত জামাতের সাথে আদায় করতে সক্ষম হতেন না তখন তিনি তার গোলাম, পরিবার ও আত্মীয়দের একত্র করতেন এবং তার গোলম আব্দুল্রাহ বিন আবু উতবাহ [রহিমাহুল্লাহ]-কে শহরের মত করে সালাত আদায়ের হুকুম দিতেন। [১০]

১১. রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট একটি কাফিলা আসলো, অত:পর সাক্ষ্য দিল- তারা গতদিনে চাঁদ দেখেছে। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বাকি সাহাবিগণকে রোযা ভঙ্গ করতে আদেশ দিলেন। আর দ্বিতীয় দিন ঈদের সালাতের জন্য বের হওয়ার নির্দেশ দিলেন।[১১] (কারণ চাঁদ দেখার খবর এত দেরিতে এসেছিল যে ঈদের সালাতের সময় শেষ হয়ে যায়।)

১২. ঈদের দিনে মসজিদে সাহাবায়ে কিরাম যুদ্ধ খেলা প্রদর্শন করেছিলেন।[১২]

১৩. একদা হযরত আব্দুল্লাহ বিন বিশর [রাদ্বিআল্লাহু আনহু] ঈদুল ফিতর অথবা ঈদুল আযহার দিনে সালাতের জন্য বের হলেন। ইমাম সাহেব সালাতে আসতে দেরি করলে, তিনি বলে উঠলেন, ‘রাসূলুল্লাহ ﷺ এর যুগে আমরা এতক্ষণে সালাত শেষ করে বের হতাম।’ রাবী বলেন, সেটি চাশত এর ওয়াক্ত ছিল। [১৩]

১৪. যে পথ দিয়ে ঈদগাহে গমন করবে, ফিরবার সময় ভিন্ন পথ অবলম্বন করবে। [১৪]

------------------------
[১] [সহিহ] আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকি, ৩/২৭৮, হা: ৬১২৪, সনদ সহিহ।
[২] [সহিহ] আল-মুআত্তা লিল ইমাম মালিক, হা: ৪৩৬, এর সনদ সহিহ।
[৩] সহিহুল বুখারি হা: ১৫০৩, সহিহ মুসলিম, হা: ৯৮৬।
[৪] [হাসান] সুনানু আবী দাউদ, হা: ১০৭০, সনদ হাসান; সুনানু ইবনি মাজাহ, হা: ১৩১০; হাকিম আল-মুস্তাদরাক ১/২৮৮ এ, ইমাম ইবনে খুযাইমাহ হা: ১৪৬৫ এবং হাফিয যাহাবি হাদিসটিকে সহিহ আখ্যায়িত করেছেন।
[৫] সহিহুল বুখারি, হা: ৯৬০; সহিহ মুসলিম, হা: ৪-৮৮৫।
[৬] সহিহ মুসলিম হা: ৪-৮৮৫।
[৭] সহিহুল বুখারি, হা: ৯৮৯; সহিহ মুসলিম ১৩-৮৮৪।
[৮] [হাসান] জামিউত তিরমিযি, হা: ৫৪২, সনদ হাসান; সুনানু ইবনি মাজাহ, হা: ১৭৫৬, ইমাম ইবনু হিব্বান আল-মাওয়ারিদ হা: ৫৯৩ এ, ইমাম ইবনু খুযায়মাহ হা: ১৪২৬, ইমাম হাকিম আল-মুস্তাদরাক: ১/২৯৪ এবং হাফিয যাহাবি হাদিসটিকে সহিহ আখ্যা দিয়েছেন।
[৯] সহিহুল বুখারি, হা: ৯৫৩।
[১০] সহিহুল বুখারি, হা: ৯৮৭, তা’লিক; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকি, ৩/৩০৫, হা: ৬২৩৭, সনদ সহিহ।
[১১] [সহিহ] সুনানে আবি দাঊদ, হা: ১১৫৭, সনদ সহিহ, সুনানে নাসাঈ, হা: ১৫৫৮, ইবনে হাযম ৫/৯২, বায়হাকি ৩?৩১৬ সহিহ বলেছেন।
[১২] সহিহুল বুখারী, হা: ৪৫৪, ৪৫৫, সহিহ মুসলিম, হা: (১৭)-৮৯২।
[১৩] [সহিহ], সুনানে আবি দাঊদ, হাদিস: ১১৩৫, সনদ সহিহ, ইমাম হাকিম আল-মুস্তাদরাক ১/২৯৫, আর যাহাবী এটিকে সহিহ বলেছেন।
[১৪] সহিহুল বুখারী, হা: ৯৮৬।

------------------------
মূল : নামাযে নববী পৃ.৩২২।
তাহকিক : হাফিয যুবাইর আলি যাঈ [রহিমাহুল্লাহ]।
পরিবেশনায় : তাযকিরা রিসার্চ টিম।

▌সিয়াম সম্পর্কিত আয়াতসমূহের তাফসীর : পর্ব : ০৪।আল্লাহ তাআলা বলেন:یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا كُتِبَ عَلَیۡكُمُ الصّ...
20/02/2026

▌সিয়াম সম্পর্কিত আয়াতসমূহের তাফসীর : পর্ব : ০৪।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا كُتِبَ عَلَیۡكُمُ الصِّیَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُوۡنَ
❝হে ঈমানদারগণ! তোমাদের প্রতি রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন তোমাদের আগের লোকেদের প্রতি ফরয করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার।❞
-সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৩

▌আয়াতটির অংশ : (كُتِبَ عَلَیۡكُمُ الصِّیَامُ) “তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে।” -এর তাফসীর :

◾১০. অত্র আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা রমযান মাসে সিয়াম পালন করা ফরয করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন আসতে পারে কেউ এই ফরয ত্যাগ করলে তার ক্ষেত্রে হুকুম কী হবে?

ক. যদি কোন ব্যক্তি স্পষ্ট দলীল পাওয়ার পরেও এ কথা অস্বীকার করে যে আল্লাহ তাআলা রমযান মাসে সিয়াম পালন ফরয তথা আবশ্যক করেননি, তবে সে ব্যক্তি সকল আলেমগণের নিকট কাফির হয়ে দ্বীন হতে বের হয়ে যাবে।[১]

খ. যদি কোন ব্যক্তি সিয়াম বা আল্লাহর দেওয়া অন্য কোন বিধানকে ঘৃণা করে বা অপছন্দ করে, যেমন, আল্লাহ তাআলা এমন হুকুম দিয়ে সমীচিন করেননি (নাউযুবিল্লাহ) বা এ ধরণের কোন কিছু, এমন ব্যক্তিও কাফির হয়ে দ্বীন থেকে বের হয়ে যাবে।[২]

গ. তবে কেউ যদি সিয়ামকে আল্লাহর বিধান হিসাবে স্বীকার করে এবং অপছন্দ না করেও অলসতা বশত বা শারঈ কোন ওযর ছাড়া রমযানের সিয়াম ভঙ্গ করে, তবে এমন ব্যক্তি কাফির হবেন না কিন্তু অনেক বড় গুনাহগার হবেন এবং তার ঈমান হ্রাসপ্রাপ্ত হবে। কেননা এটি সরাসরি আল্লাহর আদেশ এবং ইসলামের প্রধান পাঁচ স্তম্ভের মধ্যে একটি স্তম্ভ। [৩]

ঘ. তবে শারঈ ওযর যেমন, অসুস্থতা বা সফরের কারণে যদি কেউ সিয়াম ভঙ্গ করে, তবে তাতে কোন সমস্যা নেই। [৪]

(চলবে...)
- তাযকিরা রিসার্চ টিম।
----------------
[১] ফাতাওয়া আল-লাজনাতিদ দায়িমা ১০/১৪৩।
[২] নাওয়াকিদ্বুল ইসলাম, শাইখ ইবনু আব্দিল ওয়াহাব।
[৩] ফাতাওয়া আল-লাজনাতিদ দায়িমা ১০/১৪৩।
[৪] সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৫ ।

18/02/2026
▌সিয়াম সম্পর্কিত আয়াতসমূহের তাফসীর : পর্ব : ০৩।আল্লাহ তাআলা বলেন:یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا كُتِبَ عَلَیۡكُمُ الصّ...
18/02/2026

▌সিয়াম সম্পর্কিত আয়াতসমূহের তাফসীর : পর্ব : ০৩।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا كُتِبَ عَلَیۡكُمُ الصِّیَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُوۡنَ
❝হে ঈমানদারগণ! তোমাদের প্রতি রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন তোমাদের আগের লোকেদের প্রতি ফরয করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার।❞
-সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৩

▌আয়াতটির অংশ : (كُتِبَ عَلَیۡكُمُ الصِّیَامُ) “তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে।” -এর তাফসীর :

◾৬. প্রশ্ন আসতে পারে, অত্র আয়াতে সিয়ামকে ফরয করা হয়েছে। কিন্তু বছরের কোন সময়ে সিয়াম রাখা ফরয? এ প্রশ্নের উত্তর পরবতীর্তে বর্ণিত আয়াতে উল্লেখ পাওয়া যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘রমযান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। ’ -সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৫। এ আয়াত দ্বারা স্পষ্ট হয় গোটা রমযান মাস সিয়াম রাখা ফরয।

◾৭. প্রশ্ন আসতে পারে, রমযান মাসে সিয়াম ফরয প্রমাণিত হলো, কিন্তু দিনের কতটুকু অংশ সময় সিয়ামরত থাকতে হয়? এ প্রশ্নের উত্তরও কিছু আয়াত পরে পাওয়া যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা আহার ও পান করতে থাক যে পর্যন্ত তোমাদের জন্য কালো রেখা হতে ঊষাকালের সাদা রেখা প্রকাশ না পায়। তৎপর রাতের আগমন পর্যন্ত রোযা পূর্ণ কর ’ -সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৭। এ থেকে প্রমাণিত হয়, ফজরের পর থেকে রাতের আগমত তথা মাগরিবের শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত সময়ে সিয়াম রাখতে হবে।

◾৮. ইসলামে সিয়ামের ইতিহাস :

১ম পর্যায় : প্রথমে আশুরার সিয়াম পালন করা হতো। [১] অন্য একটি বর্ণনা অনুযায়ী প্রতি মাসে তিনদিন সিয়াম রাখার কথাও এসেছে। [২] (তবে এটির সনদে কিছু দুর্বলতা রয়েছে।)

২য় পর্যায় : সিয়াম পালনের পরিবর্তে মিসকিনকে খাবার খাওয়ালে তা যথেষ্ট হতো। [৩]

৩য় পর্যায় : অত:পর হুকুম পরিবর্তন হয়ে রমযান মাস সিয়াম ফরয হয়। আশুরার সিয়ামকে ইচ্ছাস্বাধীন করা হয়। [৪]

[এ সময়ে ইফতারের সময়ে সিয়াম ভঙ্গ না করলে পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সিয়াম রাখতে হতো। অর্থাৎ রাতেও সিয়াম রাখতে হতো।] [৫]

৪র্থ পর্যায়: অত:পর সে সব হুকুম পরির্তন হয়। কেবল রমযান মাসে ফজরের উদয় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সিয়ামের বিধান বিধিবদ্ধ হয়। [৬]

◾৯. রমযান মাসের সিয়াম কখন ফরজ হয়েছিল?
ইমাম নওয়াবী রাহিমাহুল্লাহ 'শারহুল মুহাযযাব' (৬/২৫০) গ্রন্থে বলেছেন:
"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নয় বছর রমযানের সিয়াম পালন করেছেন। কারণ রমযানের সিয়াম হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষের শাবান মাসে ফরজ হয়েছিল। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরী একাদশ সনের রবীউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেছেন।"
আবদুল্লাহ আল-বাসসাম 'তাওদীহুল আহকাম' (৩/১২৯) গ্রন্থে বলেছেন:
"রমযানের সিয়াম হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষের শাবান মাসে ফরজ করা হয়েছিল। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইজমা (সর্বসম্মতিক্রমে) নয়টি রমযান সিয়াম রেখেছেন।"
ইজমা (সর্বসম্মতি) সম্পর্কে

এই বিষয়ে ইজমা বর্ণনা করেছেন:
১. মারদাভী রাহিমাহুল্লাহ - 'আল-ইনসাফ' গ্রন্থে, কিতাবুস সিয়ামের শুরুতে
২. বুহূতী - 'আর-রাউদুল মুরবি' (১/১৫৭) গ্রন্থে
৩. ইবনে মুফলিহ - 'আল-মুবদি' (২/৪০৫) গ্রন্থে

(চলবে...)
- তাযকিরা রিসার্চ টিম।
----------------
[১] সহিহুল বুখারী হা/১৮৯৩।
[২] সুনানু আবি দাউদ হা/৫০৭।
[৩] সহিহুল বুখারী হা/৪৫০৭।
[৪] সহিহুল বুখারী হা/১৮৩৯।
[৫] সহিহুল বুখারী হা/১৯১৫।
[৬] সহিহুল বুখারী হা/১৯১৫।

▌সিয়াম সম্পর্কিত আয়াতসমূহের তাফসীর : পর্ব : ০২।আল্লাহ তাআলা বলেন:یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا كُتِبَ عَلَیۡكُمُ الصّ...
16/02/2026

▌সিয়াম সম্পর্কিত আয়াতসমূহের তাফসীর : পর্ব : ০২।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا كُتِبَ عَلَیۡكُمُ الصِّیَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُوۡنَ
❝হে ঈমানদারগণ! তোমাদের প্রতি রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন তোমাদের আগের লোকেদের প্রতি ফরয করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার।❞
-সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৩

▌আয়াতটির অংশ : (كُتِبَ عَلَیۡكُمُ الصِّیَامُ) “তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে।” -এর তাফসীর :

◾১. প্রায় সকল মুফাসসিরগণ একমত যে আরবি শব্দ ‘كُتِبَ’ দ্বারা ‘আবশ্যক তথা ফরয করা হয়েছে’ অর্থ প্রদান করে। [১] উদাহরণ স্বরূপ : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘كُتِبَ عَلَیۡكُمُ الۡقِتَالُ ’ ‘তোমাদের উপর লড়াই আবশ্যক তথা ফরয করা হয়েছে।’ [-সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২১৬]

◾২. আয়াতের অংশটিতে বলা হচ্ছে, ‘তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে।’ এখানে যদি প্রশ্ন উত্থাপন করা হয় ‘কে সিয়াম ফরয করেছেন?’। তবে এর উত্তর সম্পর্কে সকলে অবগত যে, তিনি হলেন মহান আল্লাহু সুবহানাহু ওয়া তাআলা যিনি ঈমানদারগণের উপর সিয়াম ফরয করেছেন।

◾৩. আয়াতটি সে সকল মু’তাযিলা (তথা কথিত যুক্তিবাদী) সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দলীল; যারা দাবি করেন- ওহী ব্যতীত বিবেক দ্বারা আবশ্যক বিধানাবলী জানা সম্ভব। অথচ সিয়াম ফরয হওয়ার বিষয়টি ওহী ব্যতীত অবগত হওয়া সম্ভব নয়।

◾৪. ‘সিয়াম’ (الصيام) শব্দটি ‘صام’ ক্রিয়ার ক্রিয়ামূল। যার শাব্দিক অর্থ- বিরত থাকা, থেমে যাওয়া। শারঈ পরিভাষায়, ‘ফজরের পর হতে মাগরিব পর্যন্ত সময়ে পানাহার, সহবাসসহ যাবতীয় সিয়ামভঙ্গকারী বিষয় থেকে বিরত থাকাকে সিয়াম বলা হয়।’
কুরআনুল কারীমে শব্দটি মোট ১৪ বার এসেছে।

◾৫. কেবল পানাহারই নয়। সিয়াম আমাদের যাবতীয় হারাম কর্মাবলী যেগুলোতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন, সে সকল কর্মাবলী হতে বিরত থাকার শিক্ষা দেয়।

◾৬. ‘সিয়াম’ (الصيام) শব্দটি কুরআনুল কারীমে দু’টি অর্থে এসেছে।
১ম অর্থ : যে অর্থটি সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। অর্থাৎ শারঈ অর্থে।
২য় অর্থ : চুপ থাকা অর্থে। যেমন : কুরআনের আয়াত, ”اِنِّیۡ نَذَرۡتُ لِلرَّحۡمٰنِ صَوۡمًا فَلَنۡ اُكَلِّمَ الۡیَوۡمَ اِنۡسِیًّا ” “‘আমি পরম করুণাময়ের জন্য চুপ থাকার মানত করেছি। অতএব আজ আমি কোন মানুষের সাথে কিছুতেই কথা বলব না’ ” [সূরা মারইয়াম, আয়াত: ২৬ ]

(চলবে...)
- তাযকিরা রিসার্চ টিম।
----------------
[১] মাআনিউল কুরআন ১/১১০।

16/02/2026

▌সিয়াম সম্পর্কিত আয়াতসমূহের তাফসীর : পর্ব : ০১।আল্লাহ তাআলা বলেন:یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا كُتِبَ عَلَیۡكُمُ الصّ...
14/02/2026

▌সিয়াম সম্পর্কিত আয়াতসমূহের তাফসীর : পর্ব : ০১।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا كُتِبَ عَلَیۡكُمُ الصِّیَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُوۡنَ
❝হে ঈমানদারগণ! তোমাদের প্রতি রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন তোমাদের আগের লোকেদের প্রতি ফরয করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার।❞
-সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৩

▌আয়াতটির অংশ : (یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا) “হে ঈমানদারগণ” -এর তাফসীর :

◾১. আল্লাহ তাআলা এখানে ঈমানদারদের যে পন্থায় আহ্বান করেছেন, তাতে পরবর্তী হুকুমটি আরো অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ক. আল্লাহ তাআলা এখানে দু’ভাবে আহ্বান করেছেন। প্রথমে ‘أي’ দ্বারা সাধারণভাবে ডাকা হয়েছে, এরপর ‘الذين آمنوا’ (হে ঈমানদারগণ) বলে বিশেষভাবে মুমিনদের সম্বোধন করা হয়েছে।

খ. শুধু ‘আইয়্যুহাল্লাযিনা’ বলার পরিবর্তে অতিরিক্ত ‘ইয়া’ যুক্ত করে “یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ ” ঈমানদারদের ডাকা হয়েছে হয়েছে, যা আহ্বানের উদ্দেশ্যকে আরও সুস্পষ্ট ও জোরালো করে তোলে।
◾২. আল্লাহ তাআলা ঈমানদারদের সম্বোধন করে আহ্বান করছেন, এটি প্রমাণ করে- সামনে আগত হুকুমটি মুমিনের ঈমানকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করবে। একজন মুসলিমের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

◾৩. একই সঙ্গে এটিও প্রমাণ করে যে পরবর্তী হুকুমটি (তথা সিয়ামের হুকুমটি) পরিত্যাগের ফলে ঈমান দুর্বল হয়ে পড়বে।

◾৪. এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উপলব্ধি করার রয়েছে।
যখন কোনো ব্যক্তিকে তার বিশেষ গুণ বা পরিচয় দ্বারা সম্বোধন করে কিছু বলা হয়, তখন মূলত সেই গুণটিকে সংরক্ষণ বা বৃদ্ধি করার জন্যই তা বলা হয়।
যেমন, যদি বলা হয়—
“হে ছাত্র! তুমি যা পড়ছ তা মুখস্থ করে রাখো।”
এখানে মূলত তার ‘ছাত্র’ হওয়ার গুণটিকে আরও সমৃদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই আয়াতেও ঠিক একই অর্থ নিহিত রয়েছে। এখানে ঈমানের গুণকে সম্বোধন করে আহ্বান করা হয়েছে, যাতে পরবর্তী হুকুম পালন করার মাধ্যমে তার ঈমান আরও শক্তিশালী ও পরিপূর্ণ হয়।

◾৫. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ [রাদ্বিআল্লাহু আনহু] হতে বর্ণিত হয়েছে :
“যখন তুমি দেখবে আল্লাহ তাআলা বলছেন, “(یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ) হে যারা ঈমান এনেছ”, তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোনো। কারণ সেখানে হয় কোনো ভালো কাজের আদেশ আছে, অথবা কোনো মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা হয়েছে।”
রেফারেন্স : আয-যুহ্‌দ, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল বর্ণনা নং : ৮৬৬। (সনদটিতে কিছু দুর্বলতা রয়েছে)

◾৬. এ আয়াতের “الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا” (যারা ঈমান এনেছে) কথাটির মধ্যে মু’মিন নারী-পুরুষ, স্বাধীন বা দাস সকলে অন্তর্ভূক্ত। তবে বিশেষ দলীল-আদিল্লা দ্বারা শিশু, মুসাফির বা অন্যান্যদের জন্য ছাড় রয়েছে। যা আমরা পরবর্তীতে জানতে পারব।

(চলবে...)

- তাযকিরা রিসার্চ টিম।

Address

Dhaka
1200

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Tajkira posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share