22/04/2026
ভোটের বৈধতা নেই, বিদ্যুতের নিশ্চয়তাও নেই
নারায়ণগঞ্জের কেওঢালায় একটা ডাইং কারখানায় ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ থাকছে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা। উৎপাদন ছিল ১০ টন, এখন নেমে এসেছে দুই টনে। বন্দরের মালিবাগে কাগজের কারখানায় আগে হতো ১৫ টন, এখন হচ্ছে ৮ থেকে ৯ টন। গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একজন কৃষক বলছেন, ১২ ঘণ্টার মধ্যে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টাও ঠিকমতো বিদ্যুৎ নেই, ক্ষেতে পানি দিতে পারছেন না। এটা কোনো গল্প না। এটা ২০২৬ সালের বাংলাদেশ, ফেব্রুয়ারির সেই তথাকথিত নির্বাচনের মাত্র দুই মাস পরের ছবি।
১২ ফেব্রুয়ারি যে ভোটটা হলো, সেটা নিয়ে বেশি কথা বলার কিছু নেই। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে বাইরে রেখে, মানুষ ঘরে বসে থেকে, ব্যালট বাক্সে নিজেরা নিজেরা ভোট ঢেলে যে সরকার বানানো হয়েছে, সেটা ক্ষমতায় এসেছে। আর সেই সরকারের অধীনে এপ্রিল মাসে এসে মানুষ ঘামছে অন্ধকারে। সন্ধ্যার পর মোমবাতি জ্বালাচ্ছে। শিশু পড়তে পারছে না, হাসপাতালে রোগী ভুগছে, কৃষক মাঠে সেচ দিতে পারছে না।
বিএনপি যে দলটা, সেটার জন্মই হয়েছিল সেনানিবাসে। জিয়াউর রহমান যখন বন্দুকের জোরে ক্ষমতা নিলেন, তখন থেকেই এই দলের ডিএনএতে গণতন্ত্রের চেয়ে গদির গন্ধ বেশি। সেই ঐতিহ্য বহন করে এখনকার নেতৃত্ব ক্ষমতায় বসেছে এবং বসেই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে তারা নিজেদের পূর্বসূরিদের চেয়ে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই।
গাজীপুরের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক বলছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে "গ্রাহকদের একটু বোঝাতে।" এটা পড়ে হাসবেন না কাঁদবেন বুঝতে পারছি না। গ্রীষ্মের ৪০ ডিগ্রি গরমে ৮ ঘণ্টা ফ্যান বন্ধ থাকলে মানুষকে "বোঝানো" যায়? কিসের জন্য বোঝানো? এই কষ্ট মেনে নিতে? আর কত মেনে নেবে মানুষ?
ডিপিডিসির প্রকৌশলী বলছেন, "কোথাও লোডশেডিং নেই।" একই সময়ে কারখানার মালিকরা বলছেন দিনে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই। একজন বলছেন সত্যি কথা, আরেকজন বলছেন সরকারি কথা। পার্থক্যটা বুঝতে খুব বেশি পড়াশোনা লাগে না।
নারায়ণগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর চাহিদা ৪০০ মেগাওয়াট, পাচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর চাহিদা ৪৮৪ মেগাওয়াট, পাচ্ছে ৩১২ মেগাওয়াট। কালিয়াকৈরে চার শতাধিক কারখানা আছে, চাহিদা ২০০ মেগাওয়াট, পাচ্ছে ১২০। এই সংখ্যাগুলো কোনো বিরোধী দলের বানানো না, এগুলো সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজেদের দেওয়া তথ্য।
এই ঘাটতির পেছনে কী আছে? উৎপাদন নেই, বিনিয়োগ নেই, পরিকল্পনা নেই। কিন্তু আছে বড় বড় বক্তৃতা। "লাল স্বাধীনতা" এলো, কিন্তু বিদ্যুৎ আসছে না। গ্রামের মানুষ রাত জেগে গরমে কাটাচ্ছে, শ্রমজীবী মানুষের কারখানা বন্ধ, চাষি সেচ দিতে পারছে না, ছেলেমেয়ে পড়তে পারছে না, হাসপাতালে রোগী কষ্ট পাচ্ছে। এটাই কি তাহলে বদলের ফল?
মন্ত্রী পরিষদ আছে, সংসদ বসছে, গাজীপুর-৪ এর সাংসদ সংসদে দাঁড়িয়ে বলছেন কাপাসিয়ায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। নিজেদের সরকারের বিরুদ্ধে নিজেরাই কথা বলছেন। তাহলে কাজ হচ্ছে না কেন? কারণটা সহজ, বলার মানুষ আছে, করার সদিচ্ছা নেই।
শ্রমজীবী মানুষগুলোর কপালে এখন শান্তি নেই। দিনমজুর, কারখানার কর্মী, রেস্টুরেন্টের মালিক, গৃহিণী, কৃষক, সবাই একই অন্ধকারে। রাত নামলে মোমবাতি। এটাই এই সরকারের উন্নয়নের সংজ্ঞা।