22/03/2026
পিছন থেকে জড়িয়ে ধরার বিধান- হালাল, হারাম, সুন্নাত, না বিদয়াত?
-------------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং সাহাবী জাহির ইবনে হারাম (রা.)-এর এই হৃদয়স্পর্শী ঘটনাটি ইসলামী ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা এবং বিনয়ের এক অনন্য দলিল। আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি সংবাদ প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো:
ভালোবাসার আলিঙ্গন: রাসূল (ﷺ) ও সাহাবী জাহিরের এক বিরল ভ্রাতৃত্বের গল্প
নিজস্ব প্রতিবেদক | ইসলাম ও জীবন
ইসলামি ইতিহাসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ)-এর জীবনের প্রতিটি দিকই মানবজাতির জন্য অনুকরণীয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনায় সাহাবী জাহির ইবনে হারাম (রা.)-এর প্রতি রাসূল (ﷺ)-এর অকৃত্রিম ভালোবাসার একটি ঘটনা ব্যাপকভাবে সমাদৃত হচ্ছে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, ইসলামে বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে অন্তরের সখ্যতা ও তাকওয়াই মূল।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, জাহির (রা.) ছিলেন একজন গ্রাম্য বা মরুচারী সাহাবী। তিনি যখনই মদিনায় আসতেন, রাসূল (ﷺ)-এর জন্য মরুভূমির ফলমূল বা বিভিন্ন উপহার নিয়ে আসতেন। বিনিময়ে রাসূল (ﷺ)-ও তাকে শহরের প্রয়োজনীয় সামগ্রী উপহার দিতেন। রাসূল (ﷺ) ভালোবেসে বলতেন, "জাহির আমাদের গ্রাম্য বন্ধু, আর আমরা তার শহরের বন্ধু।"
বাজারে সেই মধুর দুষ্টুমি
একদিন জাহির (রা.) মদিনার বাজারে নিজের পণ্য বিক্রি করছিলেন। তিনি দেখতে খুব একটা সুশ্রী ছিলেন না, যা নিয়ে হয়তো তার মনে কিছুটা সংকোচ ছিল। রাসূল (ﷺ) পেছন থেকে এসে অতর্কিতে তাকে জড়িয়ে ধরেন। প্রথমে চিনতে না পেরে জাহির (রা.) বলে ওঠেন, "কে আপনি? আমাকে ছেড়ে দিন!"
কিন্তু যখনই তিনি বুঝতে পারলেন যে এই পবিত্র স্পর্শ স্বয়ং আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর, তখন তিনি আর নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেননি। বরং পরম মমতায় নিজের পিঠকে প্রিয় নবীর বুকের সাথে আরও নিবিড়ভাবে মিশিয়ে দিলেন।
আল্লাহর কাছে মূল্যায়িত হওয়ার শিক্ষা
রাসূল (ﷺ) কৌতুক করে বাজারে উচ্চস্বরে বলতে লাগলেন, "এই গোলামকে (আল্লাহর বান্দাকে) কে কিনবে?" জবাবে জাহির (রা.) কিছুটা বিষণ্ণ মনে বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে সস্তা বা অকেজো হিসেবেই পাবেন (অর্থাৎ দুনিয়ার চোখে আমার তেমন মূল্য নেই)।" তখন দয়ার নবী (ﷺ) তাকে সান্ত্বনা ও মর্যাদা দিয়ে বলেছিলেন:
"কিন্তু আল্লাহর কাছে তুমি মোটেও সস্তা বা অকেজো নও, বরং তুমি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।"
বিধানগত শিক্ষা: হালাল না কি বিদয়াত?
এই হাদিস থেকে আলেমগণ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও বিধান বের করেছেন:
* হালাল ও সুন্নাত: পুরুষে-পুরুষে বা বন্ধুত্বের খাতিরে একে অপরকে ভালোবাসা থেকে জড়িয়ে ধরা জায়েজ এবং এটি রাসূল (ﷺ)-এর কর্ম দ্বারা প্রমাণিত (সুন্নাতে ফেলি)।
* কৌতুক ও বিনোদন: সত্যের ওপর ভিত্তি করে প্রিয়জনদের সাথে নির্মল কৌতুক করা বা পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে চমকে দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ এবং এটি পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করে।
* মর্যাদার মাপকাঠি: মানুষের বাহ্যিক রূপ নয়, বরং অন্তরের বিশ্বাস ও কর্মই তাকে আল্লাহর কাছে দামী করে তোলে।
এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে, আভিজাত্য বা সৌন্দর্যের অহংকার ভুলে গিয়ে মানুষের সাথে অমায়িক ব্যবহার এবং ভালোবাসা বিনিময় করাই প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।