19/08/2026
বিদেশ থেকে ছুটিতে এসে বিয়ে করে এক মাস থেকে চলে গিয়েছিলাম, এরপর আর আসব আসব বলে মাঝখানে তেমন আসা হয়নি। ৫ বছর ৮ মাস পর এখন সম্প্রতি দেশে আসছি ১ মাস ১৮ দিনের ছুটি নিয়ে। কিন্তু ঘটনা হচ্ছে, আমি আমার বউকে নিয়ে অনেক বড় সমস্যায় আছি। পরিস্থিতির কারণে আমাকে আবারও বিদেশে ব্যাক করতেই হবে, কিছুই করার নেই।
কিন্তু এই বিষয়টা বউ কিছুতেই মানতে পারছে না। দেখে মনে হচ্ছে পাগলই হয়ে যাবে, বাচ্চাদের মতো অনেক জেদ করে বসে আছে। প্রতিনিয়ত কান্নাকাটি করতেই থাকে এত কান্না যে কীভাবে করতে পারে জানি না! প্রায় সময় দেখি আমি রাতে যখন মোবাইল ব্রাউজিং করি, ও কান্না করতে করতে আমার বুকের গেঞ্জি বা শার্ট সত্যি সত্যি চোখের পানি দিয়ে ভিজিয়ে ফেলে। অনেক বোঝানোর চেষ্টা করি, কিন্তু ও বোঝে না।
আমি যখন ওকে বাস্তবতা দৃষ্টিতে কিছু বোঝানোর চেষ্টা করি যে দেখো, তুমি এরকম পাগলামি করো না... বড় ভাই বউ নিয়ে আলাদা হয়ে গেছে, আমাদের পরিবারের সাথে আর কোনো সম্পর্ক রাখে না। আমার বড় আপুর বাচ্চা হচ্ছে না বলে ডিভোর্স দিয়ে দিয়েছে। বাসায় আরও দুটো ছোট বোন আছে, ওরা এখন পড়াশোনা করছে। বাসায় বাবা-মায়ের অসুস্থতার সকল খরচ আমিই বহন করি। তাই দেশে আমি যত বড় ব্যবসাই দিই না কেন, এত বড় ফ্যামিলি দেশি ইনকাম দিয়ে আমার পক্ষে টানা সম্ভব না। ক্ষমা করো, একটু বোঝার চেষ্টা করো।
এসব বলার পর ও বোঝার বদলে আরও রেগে যায়। বলে তুমি শুধু শুধুই আমার জীবনটা নষ্ট করে দিলা, আমি তোমাকে কখনো ক্ষমা করব না। এসব বলে কান্না করতে থাকে। এরপর একবার বলেছিল তোমার ভাইকে এক্ষুনি কল দাও। কল দিয়ে বলো, তোমার পরিবারের সমস্ত খরচ তোমার একার বহন করা লাগলে তোমাদের দোকান যে আছে কয়েকটা, ওগুলো আর ভিটা সবকিছুই তোমার নামে করে নিতে।
আমি বললাম, ও নাকি 1**be_t খেলে এখন পথে বসে গেছে, ও কীভাবে খরচ দেবে? ও এখন নিজের বউকে চালাতে পারছে না। এটাব বলার পর ও বললো উফফ ভাই, বিরক্ত আমি তোমার পঙ্গু পরিবারের এইসব কিচ্ছা-কাহিনী শুনতে শুনতে! এই নাও, ধরো গ/লা টি\পে মে/ রে ফেলো আমাকে, এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দাও! দুটো জমজ বাচ্চা হয়েছে তোমার, ওদের সামলাতে আমার যে কী পরিমাণ সাফার করতে হয়েছে যদি দেখতে তুমি!
যমজ বাচ্চা সামলানো কী এতই সহজ? ওরা ছোট থাকা অবস্থায় কত রাত যে ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি, হিসাব নেই! আর জামাই পাশে না থাকার কষ্ট তো আমাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল! এটা বলেই জোর করে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে আর বলতে থাকে আমি আর সইতে পারব না এই একাকিত্ব। জামাই ছাড়া শ্বশুরবাড়িতে সারাক্ষণ এতিম এতিম লাগে নিজেকে। আমি তো তোমার পরিবারকে না দেখতে বলছি না, প্রয়োজন হলে আমার যেসব গহনা আর নামিদামি শাড়ি আছে, ওগুলো সব বেচে দিয়ে দেশে একটা কিছু করো প্লিজ...
এভাবে প্রতিনিয়ত চলতে থাকা ওর বাড়াবাড়ি সইতে না পেরে কদিন আগে বলেছিলাম আমি তোমার প্রতি অতিরিক্ত দুর্বল দেখে তুমি আসলেই আমাকে প্রচুর মানসিক প্যারায় রাখো। ঠিক আছে, তোমার যেহেতু জামাইকে পাশে এতই লাগবে, তাই আমি বিদেশে চলে গেলে তখন যার সাথে ইচ্ছে হবে চলে যেও। আমি কোনো বাধা বা কখনো ঝামেলা করার চেষ্টা করব না, তুমি সুখে থাকলেই হলো।
ও কী বললে এটা বলে ও শুধুই করুণ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থেকে নীরবে চোখের পানি ফেলছিল। এই ঘটনার পর আমিই বরং প্রায় ৮-৯ দিন ওর সাথে ইচ্ছে করেই কোনো কথা বলিনি। এর মধ্যেই একদিন আমার পছন্দের অনেক কিছুই রান্না করেছিল, কিন্তু আমি কিছুই খাইনি। ওই দিন সারাদিন আমি বাসায় ভাতও খাইনি, বাইরের থেকে নাস্তাপানি খেয়ে দিন পার করে দিয়েছিলাম। এই বিষয়টা যে ও এত খারাপভাবে নেবে, ভাবতে পারিনি! আমার মায়ের ডায়াবেটিসের ওষুধের একটা পুরো পাতা খেয়ে ফেলেছে, খাটে পড়ে গিয়েছিল। পরে হাসপাতালে নিতে হয়েছে, এই ঘটনার তিন দিন হলো, ও এখনো ভালো করে সেরে ওঠেনি।
কেন খেয়েছ এইসব? যখন জানতে চাইলাম, তখন ও বলল তুমি তো জীবন থেকে চলে যেতে বলছ না? তাই চলে যাওয়ার ট্রাই করলাম আরকি...! কথা হচ্ছে, আমার ওকে নিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য থাকার পরও নিতে পারছি না পরিস্থিতির কারণে। আমি চালাই লং-হাউল ড্রাইভিং, মানে বিশাল মালবাহী ট্রাক। অনেক দূরের যাত্রা করতে হয়... কতটা দূরের যাত্রা, তার একটু ধারণা দিই আপনাদের আমি আমার বিদেশের বাসায় ফিরতে মাসে নিয়মিত সর্বোচ্চ ২-৩ বার হয়, এর চেয়ে বেশি আর কখনো হয়নি। ডিউটি বলতে মাঝে মাঝে সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ওভারটাইম আছে; তবে ওভারটাইম প্রতিদিন না, যেদিন থাকবে, সেদিন আবার করতেই হবে।
এখানের আরেকটা সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এত দূরের যাত্র অথচ না কোনো ব্যাকআপ ড্রাইভার, না কোনো হেল্পার সাথে কেউই থাকে না।..
খাওয়া দাওয়া ঘুমানো সব গাড়িতে। এই চাকরির চাপে আমি নিজেই মাঝেমধ্যে নিজের মৃ\ ত্যু কামনা করি! এইসব যদি আমার বউকে একটু বোঝাতে পারতাম, তাহলে মনটা একটু শান্তি পেত। ও ভাবে আমি হয়তো এনজয় করে বেড়াই, এজন্য হয়তো বিদেশ থেকে ফিরে আসতে চাইছি না।
অর্থ সম্পদ ছাড়া কখনোই সুখি হওয়া সম্ভব না।
কীভাবে বোঝালে বুঝবে, জানি না। বাস্তবতা বোঝানোর আপনাদের বিচক্ষণতা ও অভিজ্ঞতা থেকে কিছু পরামর্শ দিয়ে আমাকে একটু হেল্প করুন, প্লিজ।..
যাতে ও আর কোনো উল্টো পাল্টা সিদ্ধান্ত না নেয় কিংবা আমাকে ছেড়ে না গিয়ে আমার এই জীবন যেন ও হাসিখুশিতে মেনে নেয়.....
-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক