20/06/2026
#দুজনে (০২)
#সানা_শেখ
“কে মানে এই বা/লের বিয়ে? ভালো না লাগলে বের হ আমার রুম থেকে। এই মাঝ রাতে বকবক করতে পারব না তোর সঙ্গে।”
জাওয়াদের কথাগুলো সাইয়ারার কানে বিষের মতো বিঁধল। কয়েক মুহূর্ত সে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর রাগে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“আপনি আমাকে আনলেন কেন?”
জাওয়াদ চোখ বন্ধ করে কঠিন গলায় বলল,
“ইচ্ছে হয়েছে তাই এনেছি।”
“কেন আনবেন? আমাকে কী পুতুল মনে হয় আপনাদের সকলের—যে যখন যার যা ইচ্ছে তাই করবেন? আপনি আমার জীবনটাকে আবার ওলটপালট করে দিয়েছেন।”
“দিলে দিয়েছি। এখন মুখ বন্ধ করে রাখ নয়তো বের হ আমার রুম থেকে, তোর বকবক শুনে নিজের মাথা খারাপ করতে চাই না আমি।”
রাগে গজগজ করতে করতে রুম থেকে বেরিয়ে এলো সাইয়ারা। এত অপমানে তার ম’রে যেতে ইচ্ছে করছে।
হোসনে আরার গলার আওয়াজ পেয়ে মুখ তুলে তাকাল সাইয়ারা। ইনি আবার এদিকে আসছে কেন? হোসনে আরা কাছে এগিয়ে এসে বললেন,
“তোর কী কিছু লাগবে?”
সাইয়ারা মুখে কিছু না বলে দুদিকে মাথা নাড়ল। হোসনে আরা আবার বললেন,
“এখানে এভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?”
“আমি থাকবো না এই রুমে।”
“কেন? জাওয়াদ কিছু বলেছে?”
সাইয়ারা চুপ করে রইল। হোসনে আরা সাইয়ারার হাত ধরে টেনে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেন। দেখলেন জাওয়াদ উলটো পাশ ফিরে শুয়ে আছে।
“জাওয়াদ।”
মায়ের ডাক শুনে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল জাওয়াদ। হোসনে আরা বললেন,
“সাইয়ারাকে কী বলেছিস?”
জাওয়াদ সাইয়ারার মুখের দিকে তাকাল। সাইয়ারা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। জাওয়াদকে চুপ থাকতে দেখে হোসনে আরা আবার বললেন,
“এতবার যে বুঝালাম সেসব কোথায় গেলো? ঝামেলা না করে মেনে নে সব।”
জাওয়াদ দাঁতে দাঁত চেপে তাকিয়ে রইল। ঝামেলা সে করছে? হোসনে আরা সাইয়ারার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“তুই মেয়ে মানুষ, ধৈর্য তোকেই বেশি ধরতে হবে। স্বামী কিছু বলল আর রাগ দেখিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলাম এসব ভালো না।”
সাইয়ারা চুপচাপ শুনল মাথা নিচু করে। রাগে তার শরীর জ্বলছে। সে মেয়ে বলে সে কেন বেশি ধৈর্য ধরবে?
হোসনে আরা দুজনকে আরও কিছুক্ষণ বুঝিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন দরজা ভিজিয়ে দিয়ে।
হোসনে আরা নিজেদের রুমের দিকে যাওয়ার সময় দরজার বাইরে সাইয়ারাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে এসেছিলেন।
সাইয়ারা রাগে ফণা তোলা সাপের মতো ফোস ফোস করতে করতে সোফায় বসল। সে জাওয়াদের পাশে শোবে না।
বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখল জাওয়াদ ওপাশ ফিরে শুয়ে আছে। চোখজোড়া বন্ধ করে সোফায় গা এলিয়ে দিলো সাইয়ারা।
সেই দিনটার কথা এখনো সাইয়ারার স্পষ্ট মনে আছে। তখন তার বয়স দশ বছর আর জাওয়াদের আঠারো। তখন জাওয়াদ তাকে ভীষণ ভালোবাসতো, আদর করতো—তাও চাচাতো বোন হিসেবেই। জাওয়াদ কি সুন্দর করে ডাকতো তাকে! সেও ভাইয়া ভাইয়া ডাকতে ডাকতে মুখে ফেনা তুলে ফেলতো। জাওয়াদ ভাইয়া বলতে পাগল ছিল সে, জাওয়াদও তার বেলায় ব্যতিক্রম ছিল না।
বিকেলে ঘুম থেকে উঠেই এবাড়িতে এসেছিল সে। সারা বিকেল এবাড়িতেই ছিল। জাওয়াদ সন্ধ্যার আগে আগে তাকে কাঁধে নিয়ে তাদের বাড়িতে যায় রাখার জন্য। গিয়ে দেখে ড্রয়িংরুমের সোফায় তাদের দুজনের বাবা আর দাদারা বসে আছেন।
দুজনকে দেখে উপস্থিত সবাই হেসে ওঠে। সেই হাসির কারণ সে বোঝেনি। জাওয়াদের কাঁধ থেকে নেমে বাবার পাশে বসে নিজের পাশে বসতে বলেছিল জাওয়াদকে। জাওয়াদ বসেছিল তার পাশে। সরু আর তীক্ষ্ণ চোখে দেখছিল সবাইকে।
সেদিন তারা দুজন জানতে পারে তাদের দাদারা তাদের দুজনের বিয়ে দিবে বলে ঠিক করেছে। এতে তাদের বাবা মায়েরাও রাজি হয়েছিল। সেদিন সে দেখেছিল বিয়ের কথা শোনার পর জাওয়াদের চেহারা যেন কেমন হয়ে গিয়েছিল। জাওয়াদ অদ্ভুত নজরে শুধু তাকেই দেখছিল। তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল সে জাওয়াদকে বিয়ে করবে কি-না, যদি বিয়ে করে তবে সারা জীবন জাওয়াদের সঙ্গে থাকতে পারবে। সে খুশি মনে রাজি হয়ে গিয়েছিল সেদিন।
জাওয়াদকেও জিজ্ঞেস করা হয়েছিল সে তাকে বিয়ে করতে রাজি কি-না। জাওয়াদ অনেকক্ষণ তার গোলগাল মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল কোনো কথা না বলে। প্রায় দশ মিনিট পর মাথা নেড়ে সম্মতি দিয়েছিল সে।
দুজনের দাদারা চাইলেন সেদিনই বিয়ে দিতে। দুই পরিবারের কেউই তেমন অমত করেনি। জাওয়াদের দাদা সামিউল শিকদার জাওয়াদকে বলেছিলেন গোসল করে রেডি হয়ে আসতে, আজকেই তাদের বিয়ে হবে।
রোকেয়া বেগমকে বলেছিলেন সাইয়ারাকে গোসল করিয়ে রেডি করিয়ে দিতে।
প্রায় ঘন্টা খানিক পর তাদের বাড়িতে ফিরে এসেছিল জাওয়াদ। জাওয়াদের পরনে ছিল সাদা ধবধবে পাঞ্জাবি পাজামা। বরাবরের মতো চুলগুলো পরিপাট। ঠোঁটে ছিল লাজুক হাসি।
জাওয়াদ তার পাশে বসে চাপা স্বরে বলেছিল, “কিরে শাড়ি পরিসনি কেন?”
সে অবুঝের মতন তাকিয়ে বলেছিল, “শাড়ি কেন পরব?”
“গাধা, বিয়ের দিন শাড়ি পরতে হয় জানিস না? আজ আমাদের বিয়ে, তুই শাড়ি পরবি না?”
সে ঠোঁট উলটে বলেছিল, “আমি কী শাড়ি পরতে পারি?”
“ছোটো মাকে বল পরিয়ে দিবে।”
সে মায়ের কাছে বায়না ধরেছিল সে শাড়ি পরবে কারণ আজ তার বিয়ে, আর বিয়ের দিন শাড়ি পরতে হয়।
তার লাল টকটকে নতুন জামাটা খুলে তাকে লাল শাড়ি পরিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেদিন। সে আয়নায় নিজেকে দেখে খুশিতে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেছিল, “আমাকে তো একদম বউ বউ লাগছে!”
স্বল্প পরিসরে খাবারের আয়োজনও করা হয়েছিল সেদিন। এলাকার মসজিদের ইমামকে দাওয়াত দিয়ে আনা হয়েছিল। খাওয়া-দাওয়ার পর তাদের দুজনের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছিল।
দুই পরিবারের সবাই সেদিন অনেক খুশি ছিল। জাওয়াদও সেদিন অনেক খুশি ছিল। বারবার শুধু তাকেই দেখছিল আর বলছিল তাকে অনেক বেশি সুন্দর লাগছে বউ সেজে।
*****
ফজরের আযান হচ্ছে। সাইয়ারা এখনো সোফায় বসে আছে গা এলিয়ে। জেদ ধরে সে সত্যিই বিছানায় যায়নি। চোখ বন্ধ করে রাখলেও তার দুচোখে ঘুম ধরা দেয়নি। একটু পর পর শুধু চোখজোড়া হতে ঝরঝর করে পানি গড়িয়ে পড়ছে। বুক ভার হয়ে রয়েছে, চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে তার। এই পরিবারের সঙ্গে সে কীভাবে বসবাস করবে? এদের সঙ্গে বসে সে কীভাবে খাবার খাবে? এদের দেখলেই তো পুরোনো স্মৃতি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এদের জন্য তার দাদা মা’রা গেছে, তার বাবাকে হসপিটালে ভর্তি হতে হয়েছিল। সে কীভাবে ভুলবে এই বাড়ির মানুষগুলো তাদের সঙ্গে কী করেছিল?
জাওয়াদও আর আগের মতন নেই। এই জাওয়াদ তাকে প্রত্যাখান করেছিল। সে থাকতে অন্য মেয়েকে ভালোবেসেছিল। সে কীভাবে সবকিছু ভুলে সংসার করবে? কোনোদিন কী সে জাওয়াদকে মেনে নিতে পারবে?
বিষিয়ে উঠল সাইয়ারার মন। সে এই জাওয়াদকে মেনে নিতে পারবে না কোনোদিন। এই জাওয়াদকে সে ভালোবাসেনি। সে ভালোবেসেছিল সেই জাওয়াদকে যেই জাওয়াদ তাকে ভালোবেসেছিল, সবসময় তাকে নিয়ে ভাবতো, উদ্বিগ্ন থাকতো।
বিছানার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়াল সাইয়ারা। নিজের বাড়ি থেকে যেভাবে এসেছিল এখনো সেভাবেই রয়েছে। শাড়ি, জুয়েলারী, মেক-আপ, সব আগের মতোই রয়েছে।
জুয়েলারী খুলে রেখে শাড়ির সেফটিপিন খুলল একটা একটা করে। জাওয়াদ ঘুমিয়ে রয়েছে ওপাশ ফিরে, মাথার উপর বালিশ চাপা দিয়ে রেখেছে। সেই যে ওপাশ ফিরেছে এপাশ আর ফেরেনি সে।
স্যুটকেস থেকে শাড়ি, ব্লাউজ, পেটিকোট আর তোয়ালে বের করল। ফেসওয়াশ, বডিওয়াশ, আর লুফাহ হাতে নিয়ে প্রবেশ করল ওয়াশরুমে। ভীষন অস্বস্তি বোধ হচ্ছে, গোসল করলে যদি একটু স্বস্তি পাওয়া যায়।
লম্বা সময় ধরে গোসল করার পর বেরিয়ে এলো সাইয়ারা। চুলের পানি ভালোভাবে নিংড়ে মুছে নিলো তোয়ালে দিয়ে। চুলগুলো হাত খোঁপা করে আঁচল তুলে মাথা ঢেকে নিলো, তারপর একটা সেফটিপিন দিয়ে ভালোভাবে আটকে নিলো আঁচলটা।
জায়নামাজ কোথায়? আশপাশে নজর বুলাল সে।
রুমের একপাশের পুরো দেওয়াল জুড়ে বিশাল আকারের স্লাইডিং ডোরের ওয়ারড্রোব। একটু ইতস্তত করে এগিয়ে এসে ওয়ারড্রোবের একটা পাল্লা সরাতেই চোখে পড়ল সুন্দর করে ভাঁজ করে রাখা একটা জায়নামাজ।
রুমের দক্ষিণ কোণটায় জায়নামাজটা বিছিয়ে দিলো সাইয়ারা। কিবলামুখী হয়ে যখন সে নিয়ত বাঁধল, তখন বাইরের আকাশটা একটু একটু করে ফরসা হতে শুরু করেছে। পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে চারপাশের নীরবতা ভাঙছে।
নামাজের শুরুতে নিজেকে শক্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করল সে। কিন্তু সূরা ফাতিহা পড়তে গিয়েই তার গলাটা বুজে এলো, কণ্ঠস্বর কাঁপতে লাগল। নিজের অজান্তেই চোখ থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় তপ্ত অশ্রু গাল বেয়ে জায়নামাজের জমিনে গিয়ে পড়তে লাগল।
রুকু শেষ করে যখন সেজদায় গেলো, তখন আর নিজের ভেতরের কান্নাকে আটকে রাখতে পারল না সে, শক্ত করে ধরে রাখতে পারল না নিজেকে। শক্ত মেঝেতে মাথা ঠেকিয়ে সেজদার অন্ধকারে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। সেজদা এমন একটি জায়গা যেখানে গেলে আল্লাহর অতি নিকটে পৌঁছানো যায়, যেখানে কাঁদলে কেউ দুর্বল বলে খোটা দেয় না, অবজ্ঞা করে না।
কান্নার তোড়ে সাইয়ারার পুরো শরীর কাঁপতে লাগল। চোখের পানিতে জায়নামাজ ভিজে যাচ্ছে, অথচ তার সেজদা থেকে ওঠার শক্তি যেন হারিয়ে গেছে।
বহু কষ্টে নিজেকে শান্ত করে নামায শেষ করল সাইয়ারা। যখন মোনাজাতের জন্য হাত দুটো তুলল, তার চোখজোড়া তখন লাল হয়ে ফুলে উঠেছে। ঠোঁট দুটো কাঁপছে প্রবলভাবে। উচুঁ করে ধরা শূন্য হাত দুটোর দিকে তাকিয়ে তার মনে হলো, এই বিশাল পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত তার পাশে আর কেউ নেই, সে বড্ড একা, বড্ড অসহায়।
মোনাজাতে কোনো গোছানো ভাষা বের হলো না তার মুখ থেকে। ফোঁপাতে ফোঁপাতে এলোমেলো স্বরে বলল,
“আল্লাহ, তুমি তো সব দেখছ। আমার বুকের ভেতরের এই আগুন তুমি নিভিয়ে দাও, এই কষ্ট কমিয়ে দাও। আমাকে এতখানি ধৈর্য আর শক্তি দাও যেন এই অহংকারী জংলি লোকটার সামনে আমি কখনো ভেঙে না পড়ি। ওদের দেওয়া প্রতিটা আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা আমায় দাও, মাবুদ...।”
ঘুম ভাঙল জাওয়াদের। মাথার উপর থেকে বালিশ সরিয়ে চিত হয়ে শুলো। লাইটের আলো চোখে পড়তেই চোখ খিঁচে বন্ধ করে নিলো।
চোখ বন্ধ রেখেই শোয়া থেকে উঠে বসল। লম্বা চুলগুলো আছড়ে পড়ল চোখমুখের উপর। চুলগুলো দুহাতে পেছনে ঠেলে চোখ মেলল আবার। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল সাড়ে সাতটা বেজে গেছে। স্মরণ হলো সাইয়ারার কথা। চোয়াল শক্ত করে সারা রুমে নজর বুলিয়ে দেখল সাইয়ারা রুমের কোথাও নেই। স্যুটকেসটা রুমের মাঝখানে রয়েছে, আর বিয়ের শাড়িটা সোফায় এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে।
রুমের এই অবস্থা দেখে জাওয়াদের মেজাজ আরও খারাপ হলো।
ফ্রেশ হয়ে গোসল সেরে ওয়াশরুম থেকে বের হলো জাওয়াদ। পরনে কালো রঙের ট্রাউজার, উদোম গা। ভেজা চুলগুলো থেকে টুপটাপ পানি গড়িয়ে পড়ছে।
দরজা খোলার আওয়াজ পেয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে দেখল সাইয়ারা রুমে ঢুকছে। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। সাইয়ারা তাকাল জাওয়াদের দিকে। কফির মগ তার হাতে না দিয়ে রাখল বিছানার পাশে থাকা টেবিলের উপর। সে কফি নিয়ে আসতে চায়নি, জোর করে তার হাতে কফি পাঠিয়েছেন হোসনে আরা।
জাওয়াদ চোখ সরিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে চুলগুলো ভালোভাবে আঁচড়ে নিলো। গায়ে পারফিউম লাগিয়ে ঘুরে এলো সোফার কাছে। সিগারেটের প্যাকেট হাতে নিয়ে ভেতর থেকে একটা সিগারেট বের করে ঠোঁটে গুঁজে দিলো। লাইটার দিয়ে সিগারেট ধরিয়ে তাকাল সাইয়ারার মুখের দিকে। সাইয়ারা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। একটা সময় এই মেয়েটা তার পুরো হৃদয়ে রাজত্ব করতো। এই মেয়েকে ছাড়া অন্য কিছু সে ভাবতেই পারতো না। অথচ আজ? ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস!
চলবে………..
ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক কমেন্ট করবেন আর সানা শেখ পেজটি ফলো দিয়ে রাখবেন।