Niamot Al Hasan

Niamot Al Hasan আমি কি আর আমার নাকী!
আমি তো শুধু তোর,
দূরে ঠেললে রাত্রি হবো
কাছে ডাকলেই ভোর!..
(1)

বিচ্ছেদে দুজনের বিদায় হয়, কিন্তু সিদ্ধান্তটা বেশিরভাগ সময় একজনেরই থাকে। একজন নতুন পথে হাঁটে, আর অন্যজন না চাইতেও কেবল এক...
21/08/2026

বিচ্ছেদে দুজনের বিদায় হয়, কিন্তু সিদ্ধান্তটা বেশিরভাগ সময় একজনেরই থাকে। একজন নতুন পথে হাঁটে, আর অন্যজন না চাইতেও কেবল এক বুক স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই শুরু করে। একটা সম্পর্ক ভাঙতে মাত্র একজনের ইচ্ছাই যথেষ্ট, কিন্তু সেই ভাঙনের পুরো দায় আর কষ্টটা বয়ে বেড়াতে হয় অন্য মানুষটিকে।

যে চলে যায়, সে হয়তো অনেক আগেই মানসিকভাবে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। তাই তার জন্য পথ পরিবর্তন করাটা সহজ হয়।...

কিন্তু যে মানুষটা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে, সে হঠাৎ করে এক বিশাল শূন্যতার মুখোমুখি হয়। না পারে তাকে ভুলে যেতে, না পারে আগের জীবনে ফিরে যেতে।

আসলে বিচ্ছেদ মানে শুধু একটা সম্পর্কের শেষ নয়; বিচ্ছেদ মানে একজনের কাছে নতুন জীবনের শুরু, আর অন্যজনের কাছে চেনা মানুষটার দেওয়া এক দীর্ঘ নীরবতার গল্প।

দিনশেষে, যে চলে গেছে তাকে জোর করে আটকে রাখার চেয়ে, নিজের ভাঙা মনটাকে একটু একটু করে জুড়ে নিয়ে বেঁচে থাকার নামই কঠিন বাস্তবতা।.

আমার হাসবেন্ড চাকরি করে, তার ডিউটি টাইম ৮-১০ ঘন্টা।  বাড়ি থেকে তার দুরত্ব ৪-৫ ঘন্টা র রাস্তা। সেলারি ৩০ হাজার প্লাস ।প্র...
20/08/2026

আমার হাসবেন্ড চাকরি করে, তার ডিউটি টাইম ৮-১০ ঘন্টা। বাড়ি থেকে তার দুরত্ব ৪-৫ ঘন্টা র রাস্তা। সেলারি ৩০ হাজার প্লাস ।
প্রতিমাসে সে বাড়িতে একদিন বাড়িতে আসে। বৃহস্পতিবার রাত ৯-১১ টার মধ্যে আসে। আবার পরদিন শুক্রবার বিকাল ৫-৬ টার দিকে চলে যায়।
এখন সে যে রাত ৯-১১ টার দিকে আসে। এসে যদি দেখে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে গেছে, ডেকে তুলে আড্ডা দিবে ভালো মন্দ জিঙ্গেস করবে।

হাসা ঠাট্টা, আলাপ আলোচনা করে খেয়ে ১-২ টার দিকে ঘরে আসবে। তখন আর আমাদের মধ্যে কোন কথাবার্তা হয় না, সে মোবাইল টিপে ঘুমানোর আগ অবধি, ফেসবুকে পোস্ট পরে, কমেন্ট করে, এসবই।৷ এর মাঝে আমি কোন আবেগের কথা বলতে গেলে সে বলে ঘুমাবে ঘুম ধরছে, ক্লান্ত অনেক।
এই করে ঘুমিয়ে যাবে, যখন তার ঘুম ভাঙবে তখন কাছাকাছি আসবে। বড়জোর একবার, তবুও তার মনমত।

আমার মন কি চায় বা আমি খুশি হলাম কিনা সেদিকে সে খেয়াল করবে না। আবার ঘুমিয়ে যাবে।

সকালে ১০-১১ টার দিকে উঠবে, আবার বাড়ির সবার সাথে আড্ডা গল্প, ভাবি, চাচি, জেঠিদের সাথে গল্প করবে। হাসাহাসি করবে। ভাতিজি দের সাথে গল্প করবে। এর মাঝে আমার সাথে আর কোন কথা নাই। প্রয়োজনীয় কথা বলার সুযোগ ও সে দেয় না।

তারপর খাওয়ার সময় এসে খাবার চাইবে খেয়ে আবার সে চলে যাবে নামাজে। নামাজ শেষে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে ৩ টা বাজে আসবে বাড়িতে। বাড়ি এসে ঘরে না এসে আবার এই ভাবি ঐ ভাবি তাদের পুলাপাইন এদের সাথে আড্ডা দিবে। এভাবে ৪-৫ টা বাজবে, খেয়ে আবার যাওয়ার জন্য রেডি হবে। চলে যাবে।

এভাবেই চলছে সংসার জীবনের ২ বছর।
আমি তাকে অনেক ভাবে আমার অভাব বুঝিয়েছি। তার এত আড্ডা দেয়া আমার ভালো লাগে।

রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে যায়। তখন ইচ্ছে করে তাদের না জাগিয়ে।..
আড্ডা দিয়ে সময় নষ্ট না করে। ঐটুকু সময় সে আমাকে দিতে পারে। দিনে ত তারা বাড়িতেই থাকবে।
তখন তাদের সাথে কথা বলতে পারে, ভালো মন্দ জিঙ্গেস করতে পারে। সব সময় শুধু তাদের সাথেই সময় কাটায়, তাহলে বিয়ে করার কি দরকার ছিলো।..
ন না করলেই পারত।

কিন্তু সে আগে থেকেই এমন পরিবর্তন হলে সবাই বলবে বউ পেয়ে তাদের ভুলে গেছে। সেজন্য সে এমনি থাকবে।

এখন আমি যদি চুপচাপ তাকে ছেড়ে দেই আমার কি ভুল হবে?

-- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

বিদেশ থেকে ছুটিতে এসে বিয়ে করে এক মাস থেকে চলে গিয়েছিলাম, এরপর আর আসব আসব বলে মাঝখানে তেমন আসা হয়নি। ৫ বছর ৮ মাস পর এখন ...
19/08/2026

বিদেশ থেকে ছুটিতে এসে বিয়ে করে এক মাস থেকে চলে গিয়েছিলাম, এরপর আর আসব আসব বলে মাঝখানে তেমন আসা হয়নি। ৫ বছর ৮ মাস পর এখন সম্প্রতি দেশে আসছি ১ মাস ১৮ দিনের ছুটি নিয়ে। কিন্তু ঘটনা হচ্ছে, আমি আমার বউকে নিয়ে অনেক বড় সমস্যায় আছি। পরিস্থিতির কারণে আমাকে আবারও বিদেশে ব্যাক করতেই হবে, কিছুই করার নেই।

কিন্তু এই বিষয়টা বউ কিছুতেই মানতে পারছে না। দেখে মনে হচ্ছে পাগলই হয়ে যাবে, বাচ্চাদের মতো অনেক জেদ করে বসে আছে। প্রতিনিয়ত কান্নাকাটি করতেই থাকে এত কান্না যে কীভাবে করতে পারে জানি না! প্রায় সময় দেখি আমি রাতে যখন মোবাইল ব্রাউজিং করি, ও কান্না করতে করতে আমার বুকের গেঞ্জি বা শার্ট সত্যি সত্যি চোখের পানি দিয়ে ভিজিয়ে ফেলে। অনেক বোঝানোর চেষ্টা করি, কিন্তু ও বোঝে না।

আমি যখন ওকে বাস্তবতা দৃষ্টিতে কিছু বোঝানোর চেষ্টা করি যে দেখো, তুমি এরকম পাগলামি করো না... বড় ভাই বউ নিয়ে আলাদা হয়ে গেছে, আমাদের পরিবারের সাথে আর কোনো সম্পর্ক রাখে না। আমার বড় আপুর বাচ্চা হচ্ছে না বলে ডিভোর্স দিয়ে দিয়েছে। বাসায় আরও দুটো ছোট বোন আছে, ওরা এখন পড়াশোনা করছে। বাসায় বাবা-মায়ের অসুস্থতার সকল খরচ আমিই বহন করি। তাই দেশে আমি যত বড় ব্যবসাই দিই না কেন, এত বড় ফ্যামিলি দেশি ইনকাম দিয়ে আমার পক্ষে টানা সম্ভব না। ক্ষমা করো, একটু বোঝার চেষ্টা করো।

এসব বলার পর ও বোঝার বদলে আরও রেগে যায়। বলে তুমি শুধু শুধুই আমার জীবনটা নষ্ট করে দিলা, আমি তোমাকে কখনো ক্ষমা করব না। এসব বলে কান্না করতে থাকে। এরপর একবার বলেছিল তোমার ভাইকে এক্ষুনি কল দাও। কল দিয়ে বলো, তোমার পরিবারের সমস্ত খরচ তোমার একার বহন করা লাগলে তোমাদের দোকান যে আছে কয়েকটা, ওগুলো আর ভিটা সবকিছুই তোমার নামে করে নিতে।

আমি বললাম, ও নাকি 1**be_t খেলে এখন পথে বসে গেছে, ও কীভাবে খরচ দেবে? ও এখন নিজের বউকে চালাতে পারছে না। এটাব বলার পর ও বললো উফফ ভাই, বিরক্ত আমি তোমার পঙ্গু পরিবারের এইসব কিচ্ছা-কাহিনী শুনতে শুনতে! এই নাও, ধরো গ/লা টি\পে মে/ রে ফেলো আমাকে, এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দাও! দুটো জমজ বাচ্চা হয়েছে তোমার, ওদের সামলাতে আমার যে কী পরিমাণ সাফার করতে হয়েছে যদি দেখতে তুমি!

যমজ বাচ্চা সামলানো কী এতই সহজ? ওরা ছোট থাকা অবস্থায় কত রাত যে ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি, হিসাব নেই! আর জামাই পাশে না থাকার কষ্ট তো আমাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল! এটা বলেই জোর করে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে আর বলতে থাকে আমি আর সইতে পারব না এই একাকিত্ব। জামাই ছাড়া শ্বশুরবাড়িতে সারাক্ষণ এতিম এতিম লাগে নিজেকে। আমি তো তোমার পরিবারকে না দেখতে বলছি না, প্রয়োজন হলে আমার যেসব গহনা আর নামিদামি শাড়ি আছে, ওগুলো সব বেচে দিয়ে দেশে একটা কিছু করো প্লিজ...

এভাবে প্রতিনিয়ত চলতে থাকা ওর বাড়াবাড়ি সইতে না পেরে কদিন আগে বলেছিলাম আমি তোমার প্রতি অতিরিক্ত দুর্বল দেখে তুমি আসলেই আমাকে প্রচুর মানসিক প্যারায় রাখো। ঠিক আছে, তোমার যেহেতু জামাইকে পাশে এতই লাগবে, তাই আমি বিদেশে চলে গেলে তখন যার সাথে ইচ্ছে হবে চলে যেও। আমি কোনো বাধা বা কখনো ঝামেলা করার চেষ্টা করব না, তুমি সুখে থাকলেই হলো।

ও কী বললে এটা বলে ও শুধুই করুণ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থেকে নীরবে চোখের পানি ফেলছিল। এই ঘটনার পর আমিই বরং প্রায় ৮-৯ দিন ওর সাথে ইচ্ছে করেই কোনো কথা বলিনি। এর মধ্যেই একদিন আমার পছন্দের অনেক কিছুই রান্না করেছিল, কিন্তু আমি কিছুই খাইনি। ওই দিন সারাদিন আমি বাসায় ভাতও খাইনি, বাইরের থেকে নাস্তাপানি খেয়ে দিন পার করে দিয়েছিলাম। এই বিষয়টা যে ও এত খারাপভাবে নেবে, ভাবতে পারিনি! আমার মায়ের ডায়াবেটিসের ওষুধের একটা পুরো পাতা খেয়ে ফেলেছে, খাটে পড়ে গিয়েছিল। পরে হাসপাতালে নিতে হয়েছে, এই ঘটনার তিন দিন হলো, ও এখনো ভালো করে সেরে ওঠেনি।

কেন খেয়েছ এইসব? যখন জানতে চাইলাম, তখন ও বলল তুমি তো জীবন থেকে চলে যেতে বলছ না? তাই চলে যাওয়ার ট্রাই করলাম আরকি...! কথা হচ্ছে, আমার ওকে নিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য থাকার পরও নিতে পারছি না পরিস্থিতির কারণে। আমি চালাই লং-হাউল ড্রাইভিং, মানে বিশাল মালবাহী ট্রাক। অনেক দূরের যাত্রা করতে হয়... কতটা দূরের যাত্রা, তার একটু ধারণা দিই আপনাদের আমি আমার বিদেশের বাসায় ফিরতে মাসে নিয়মিত সর্বোচ্চ ২-৩ বার হয়, এর চেয়ে বেশি আর কখনো হয়নি। ডিউটি বলতে মাঝে মাঝে সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ওভারটাইম আছে; তবে ওভারটাইম প্রতিদিন না, যেদিন থাকবে, সেদিন আবার করতেই হবে।

এখানের আরেকটা সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এত দূরের যাত্র অথচ না কোনো ব্যাকআপ ড্রাইভার, না কোনো হেল্পার সাথে কেউই থাকে না।..
খাওয়া দাওয়া ঘুমানো সব গাড়িতে। এই চাকরির চাপে আমি নিজেই মাঝেমধ্যে নিজের মৃ\ ত্যু কামনা করি! এইসব যদি আমার বউকে একটু বোঝাতে পারতাম, তাহলে মনটা একটু শান্তি পেত। ও ভাবে আমি হয়তো এনজয় করে বেড়াই, এজন্য হয়তো বিদেশ থেকে ফিরে আসতে চাইছি না।

অর্থ সম্পদ ছাড়া কখনোই সুখি হওয়া সম্ভব না।

কীভাবে বোঝালে বুঝবে, জানি না। বাস্তবতা বোঝানোর আপনাদের বিচক্ষণতা ও অভিজ্ঞতা থেকে কিছু পরামর্শ দিয়ে আমাকে একটু হেল্প করুন, প্লিজ।..
যাতে ও আর কোনো উল্টো পাল্টা সিদ্ধান্ত না নেয় কিংবা আমাকে ছেড়ে না গিয়ে আমার এই জীবন যেন ও হাসিখুশিতে মেনে নেয়.....

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

ভাবী বেশ তেঁতো গলায় বলল, “মনির তোমাকে একটা কথা বলি। দৌড়ে গিয়ে ভাইয়ের কানে তুলো না যেন।”তেলাপিয়া মাছের টুকরোটা থালার একপা...
19/08/2026

ভাবী বেশ তেঁতো গলায় বলল, “মনির তোমাকে একটা কথা বলি। দৌড়ে গিয়ে ভাইয়ের কানে তুলো না যেন।”

তেলাপিয়া মাছের টুকরোটা থালার একপাশে সরিয়ে রাখতে রাখতে মনির বলল, “কী কথা?”

“তোমার ভাই সাধারণ বেসরকারি অফিসের নিম্নপদস্থ কর্মচারী। বেতন খুবই অল্প। এই অল্প টাকায় দু'টো ছেলের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে পাঁচজনের খাওয়া-দাওয়া, বাসাভাড়া, পানির বিল এসব খরচ সামলানোর টাকা হয়ে ওঠে না।”

সে তার কথায় কোন জবাব দিলো না। তরকারিতে প্রচুর ঝাল। গাল জ্ব'লে যাচ্ছে। গ্লাস হাতে নিয়ে পানি পান করল। জবাব না পেয়ে ভদ্রমহিলা বেশ বিরক্ত হলো। বিরস মুখে বলল, “তুমি তো কিছু বললে না?”

“চাকরির কথা চলছে ভাবী। সামনের মাস থেকে শুরু হবে। টাকা পয়সা নিয়ে এত ভাবতে হবে না। কোন মানুষ আজীবন অস্বচ্ছল থাকে না।”

সে বিড়বিড়িয়ে কিছু বলল। তারপরই নিজের কাজে চলে গেল। মনির ধীরেসুস্থে খাওয়া শেষ করল। প্লেট ধুয়ে নিজের ঘরে চলে গেল। তালেব শিমুল তার বিছানায় বসে আছে৷ বিকেলের এই সময়ে তারা হোমওয়ার্ক শেষ করে। মনির খুব গুছিয়ে তাদের সব বুঝিয়ে দেয়। তালেব বলল, “কাকা, স্কুলের স্যার ম্যাডামদের মা'ম’লা করা যায় না?”

মনির হাসল। নরম গলায় বলল, “কিসের মামলা করবি রে?”

“শিশু নি’র্যা’ত’নের মা’ম’লা। তুমি দেখো এত পড়া কেউ দেয়? আমাদেরকে যেন মানুষই মনে করে না!”

“পড়াশোনা ফাঁকি দেওয়া ভালো কথা নয়। জীবনে বড় হতে গেলে পড়াশোনা করতে হবে।”

“পড়াশোনা করলেই কেউ বড় হয়ে যায় না কাকা। মা তো বলে– তোর কাকা এত পড়ে কী এমন করছে? তার চেয়ে রিকশাওয়ালাদের রোজগার বেশি।”

মনির একটু অন্যমনস্ক হয়ে পড়ল। তার পড়াশোনা এখনো শেষ হয়নি। সবে অর্নাস তৃতীয় বর্ষে উঠেছে। শিমুল বলল, “তালেবের কথায় শুনো না তো কাকা। পড়া দেখে ওর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তবু তুমি আছো বলে। নয়তো ঘন্টা ঘন্টা বসে কে আমাদের পড়াতো?”

“হুম। পড়া বের কর। শিমুল তুই গনিত বের কর। তালেব বাংলা বই খোল।”

মাগরিবের আজানের সাথে সাথে তারা দু'জন খাতা বন্ধ করল। শিমুল খুব উৎফুল্ল গলায় বলল, “অবশেষে বাঁচলাম।”

মনির উচ্ছাস দেখাল না। বাথরুমে ঢুকে ওজু করে নিলো। পানি ঠান্ডা। বরফ কুঁচি মেশানো পানি মতোই শীতল। তার শরীর জুড়াল ঠিকই মন শান্ত হলো না। অস্বস্তি চেপে বসে রইল। নামাজ শেষে সে খানিকক্ষণ জায়নামাজে বসে রইল। তারপর কিছু একটা ভেবে তড়িঘড়ি করে বাইরে চলে গেল। ফিরল বেশ রাতে। ঘরে ঢুকে দেখে সবুজ বসে আছে। তার বিছানায় বসে পায়ের উপর পা তুলে রেখেছে। চোখমুখ শান্ত। যেন বর্ষার নদী হঠাৎ থমথমে হয়ে গিয়েছে। মনির বলল, “ভাইয়া, এত রাতে তুমি এখানে? কিছু বলবে?”

সে শান্ত স্বরে উত্তর দিলো। ছোট্ট করে বলল, “বলব।”

“কি বলবে?”

“মনির, তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে। কথাগুলো এখানে বলা যাবে না। বাড়ির বাইরে যেতে হবে।”

“কোথায় যাবে?”

“রাস্তার দিকে চল। পার্ক এখনও বন্ধ হয়নি। ওখানেই না হয় বসলাম।”

পার্কের পরিবেশ শান্ত। হালকা হালকা বাতাস বইছে। কয়েকটা দোকানে আলো জ্বলছে। সবুজ কোন কথা বলছে না। মাথা নিচু করে রেখেছে। মনির তার অবস্থা বুঝল। আগ বাড়িয়ে বলল, “ছোট থেকে আমাদের সম্পর্ক পানি মতো। আমাদের মাঝে কোন পর্দা নেই ভাইয়া। তুমি কী বলবে বলো। সংকোচ করো না।”

সবুজ অস্ফুট শব্দ করল। জড়ানো গলায় বলল, “কথাটা তোকে বলতে ইচ্ছে করছে না। কিন্তু আর কোন উপায়ও নেই।”

“বলো তুমি।”

“তোর ভাবী তার ঘরে বাড়তি লোক চায় না। এই নিয়ে আমার সাথে অনেক ঝামেলা করে। বলে তাকে তা'লা'ক দিয়ে দিতে। আমার দু'টো বাচ্চা আছে। কতই বা বয়স ওদের। এই বয়সে আপন মা'কে ছেড়ে থাকাটা!”

মনির তার কথার জবাব দিলো না। উঠে দাঁড়াল। শান্ত পায়ে হেঁটে বাতি জ্বালানোর দোকানের দিকে চলে গেল। ফিরলও বেশ দ্রুত। তার হাতে খবরের কাগজে মোড়ানো দুটো পাউরুটি। সে পার্কের বেঞ্চে বসল। বসল বেশ আয়েশ করে। একটা পাউরুটির মাখন অন্যটায় মাখিয়ে শুধু পাউরুটিটা ভাইয়ের হাতে দিলো। কোমল হেসে বলল, “মনে আছে ভাইয়া। যখন আমাদের ঘরে রান্না হতো না। তুমি এমন দুটো পাউরুটি কিনতে। নিজের পাউরুটির মাখন আমারটায় লাগিয়ে দিয়ে বলতে তুমি মাখন খাও না। খেতে ভালো লাগে না। আমি খুব খুশি হতাম জানো? মাখন আমার খুব পছন্দ ছিল। এখনও আছে। একি! বসে আছো কেন? খাও খাও। বাড়ি ফিরতে হবে তো।”

সবুজ পাউরুটিতে কা’ম’ড় বসাল। গিলতে পারল না। তার গলাটা কেমন ধরে আসছে। মনির বেশ আয়েশ করে পাউরুটি খেল। পানি কিনল। সবুজের দিকে তাকিয়ে সহজ গলায় বলল, “বাসায় চলো। অনেক রাত হয়েছে। ভাবী তোমার জন্য চিন্তা করবে।”

সবুজ উঠে দাঁড়াল। হাঁটল তবে নিষ্প্রাণ হাঁটা। তার বুকের ভেতরে চিনচিনে ব্যাথা করছে। কিছু ভেবে ভয় পাচ্ছে তবে কী ভাবছে বুঝতে পারছে না। সে সারারাত ঘুমতে পারল না। বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করতে লাগল। নীলিমা বলল, “অমন করছ কেন? চুপচাপ ঘুমাও।”

সে ঘুমতে পারল না। ওভাবে পড়ে রইল। বুকের ব্যাথা ক্রমশ বাড়ছে। হৃৎপিণ্ড ছাড়িয়ে শিরা-উপশিরায় বয়ে যাচ্ছে। শরীরও কেমন কাঁপছে।

তার ঘুম বেলায়। ততক্ষণে সূর্য উঠে গিয়েছে। চারদিক রোদে ঝলমল করছে। সবুজ লাফিয়ে বিছানায় উঠে বসল। এক ছুটে মনিরের ঘরে গিয়ে দেখল– ঘর ফাঁকা। কাপড়চোপড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে নেই। বিছানার উপর ছোট্ট একটা কাগজ। সে কাগজ তুলল।

‘কলেজে কথা বলেছি ভাইয়া। হোস্টেল ফাঁকা আছে। এখন থেকে ওখানেই থাকব। ওদিকে দু'টো টিউশনি পেয়েছি। সুবিধা হবে। আমার জন্য চিন্তা করো না। বেড়াতে আসব।’

মনিরের হাতের লেখা ভালো। বেশ সুন্দর সাজানো লাইন, গোটা গোটা অক্ষর। আজকে হাতের লেখাটা গতানুগতিক লেখার চেয়ে বেশি ভালো মনে হচ্ছে। একদম স্পষ্ট। তবে সবুজ তা পড়তে পারল না। তার চোখ ঝাপসা হয়ে আছে। অস্পষ্ট দৃষ্টি এমন সুন্দর লেখাও পড়তে পারছে না।

নীলিমা আজকাল বেশ ঝামেলা শুরু করেছে। সারাদিন নাক উঁচু করে ঘোরে। স্বামীকে কয়েকটা কঠিন কথা বলবে বলবে করেও বলা হয় না। আজ হঠাৎই খাবার টেবিলে সে কথাগুলো বলে ফেলল। বেশ ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলল, “কতদিন থেকে বলছি তালেব আর শিমুলকে আর একটা মাস্টার ঠিক করে দিতে। একজন টিচার দু'জনকে পড়িয়ে পারে না। ওদের স্কুলের ম্যাডাম আমার কাছে নালিশ করেছে। আজকাল হোমওয়ার্কও ঠিক মতো করে না।”

সবুজ রেগে উঠল না। স্বাভাবিক গলায় বলল, “এখনকার টিউশনির বেতন অনেক। আমার রোজগারের দু'টো টিচার রাখা সম্ভব না।”

“তোমার রোজগারের কী সম্ভব? দু'বেলা ডাল-ভাত খেতে বেঁচে আছি। ভরা বর্ষায় একটাও ইলিশ মাছ খেলাম না। আগে তো বেশ ভালোই বাজার সদাই করতে। টাকা কোথায় যাচ্ছে এখন?”

“আমার বেতন বাড়েনি। একই আছে।”

“কী বলতে চাইছ তুমি?”

“আমি কী বলতে চাইছি সে কথা কী তুমি বুঝতে পারছ না নাকি বুঝতে চাইছ না? মনির কখনো এ বাসায় ফ্রি-তে খায়নি। টিউশনি করিয়ে যে টাকা পেয়েছে, হাত খরচ রেখে আমায় দিয়ে দিয়েছে। ফলাও করে বলে বেড়ায়নি দেখে তুমি কখনো ওর টাকার গুরুত্ব বোঝনি। ভেবেছ বাড়তি ঝামেলা, সংসারের বোঝা।”

নীলিমা কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে গেল। সবুজ বলল, “শিমুল তালেবের পড়াশোনা নিয়ে তুমি খুব দুশ্চিন্তায় আছো। আগে ওদের কোন টিচার ছিল না। রেজাল্ট সবার উপরে থাকত। কে ওদের পড়াত? মনির নিজের চার পাঁচ ঘন্টা সময় নষ্ট করে তোমার সন্তানদের পড়িয়েছে। চার-পাঁচ ঘন্টা পড়ানোর বেতন জানো? নাস্তার খরচ জানো?”

“তুমি মনির কল দাও। হোস্টেল ছেড়ে বাসায় আসতে বলো।”

“কেন বলব? তোমার প্রয়োজনে? মা বাপ ম'রা ভাইটা আমার কত কষ্ট বুকে নিয়ে বাসা ছেড়েছে সে ব্যাপারে তোমার কোন ধারনা আছে? ছোট থেকে আমি ওকে মানুষ করেছি। ও আমাকে ছাড়া থাকতে পারে না। খেলতে গেলেও খানিক বাদে বাদে ফিরে এসে আমাকে দেখে যেত। সেই মানুষ আজ ছয় মাসের বেশি আমার সাথে কথা বলে না। কল দেয় না। রিসিভও করে না। এখন তাকে বাড়ি আনব কেন? আমার রোজকারের তোমার চারজনের সংসার চলছে না বিধায়?”

নীলিমা মাথা নিচু করে ফেলল। সবুজ খুব শক্ত গলায় বলল, “তুমি আমার বিয়ে করা বউ। আমাদের দু'টো বাচ্চা আছে। ওদের দিকে তাকিয়ে কঠিন কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। তবে আজ তুমি একটা সত্যি কথা বলো। মনিরের এ বাসায় থাকায় কখনো কী তোমার প্রাইভেসি নষ্ট হয়েছে? ছেলেটা সারাদিন বাইরে বাইরে ঘোরে, বিকেলে তালেব শিমুলকে পড়ায়, রাতে দেরি করে ফেরে ততক্ষণে আমি বাসায় চলে আসি। তাহলে কেন তুমি ওকে তাড়াতে চাইতে?”

নীলিমা কোন জবাব দিতে পারল না। এসব প্রশ্নের উত্তর তার জানা নেই। তার সাথে মনিরের দেখা হতো না বললেই চলে। সে ভাত-তরকারি বেড়ে টেবিলে রেখে দিতো। মনির নিজের মতো খেয়ে প্লেট ধুয়ে রাখত। মনিরের কোন কাজও তার কখনো করতে হয়নি। তাহলে কেন সে তাকে তাড়ালো? চট করে এই প্রশ্নের কোন উত্তর তার মাথায় এলো না। সে চিন্তিত মুখে স্বামীর দিকে চেয়ে রইল। সবুজ তখনও খাবার খাচ্ছে। বেশ আয়েশ করে খাচ্ছে। চোখ-মুখের তৃপ্তির ছাপ। যেন বহুদিন বাদে তার মন শান্ত হয়েছে।

আকাশে চাঁদ উঠেছে। চতুর্থাংশের চাঁদ। আলো বেশ উজ্জ্বল। পার্কের বেঞ্চে এক ভদ্রলোক মাথা নিচু করে বসে আছে। মনির দূর থেকে তাকে দেখল। এত দূর থেকে কাউকে চেনার কথা না। তবে সে ঠিকই চিনল। এই মানুষটার ছায়া দেখলেই সে তাকে চিনে ফেলে। তার মন তীক্ষ্ণ পিনের মতো একটা প্রশ্ন আ'ঘা'ত করল– ভাইয়া এখানে কেন? তবে সে প্রশ্নের জবাব চাইতে ভাইয়ের কাছে যেতে পারল না। তার পা দু'টো কেমন অসাড় হয়ে আছে। যেন জমাট বাঁধা সীসা। কিছুতেই ছাড়ানো যাচ্ছে না।

মকবুল সাহেব নরম হাতের চশমার কাচ পরিষ্কার করে চোখে পরলেন। শীতল গলায় বললেন, “কী বলবে বলো?”

মনির মাথা তুলল। সবুজ এই মকবুল সাহেবের বাড়িতে ভাড়া থাকে। ভদ্রলোক ভালো মনের।

“কথা বলছ না কেন?”

“ভাইয়া ইদানিং খুব বেশি দুশ্চিন্তা করছে। কারণ জানতে চাইলে বলে না। আপনি কী কিছু জানেন?”

মকবুল সাহেব তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। কোন কিছুই তার চোখ এড়ায় না। মনিরের বাসা ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারটা তিনি বেশ ভালোই জানেন। সব কথা তার কানে গিয়েছে। তবে তিনি কোন ঝামেলা করলেন না। সহজ গলায় বললেন, “জানি। তার আর্থিক অবস্থা খারাপ যাচ্ছে। গত দু-মাসে বাসা ভাড়াও এখনও দিতে পারেনি।”

“কেন পারেনি?”

“অফিসে কী এক সমস্যার জন্য বেতন আটকে গিয়েছে।”

“আপনি কী আমার জন্য দশ মিনিট অপেক্ষা করবেন?”

“করব।”

মনির উঠে দাঁড়াল। দ্রুত পায়ে হেঁটে চলে গেল। ফিরল বিশ মিনিটের মাথায়। মকবুল সাহেব তখনও বসে আছেন। সে ছুটে গিয়ে মকবুল সাহেব হাতে একটা টাকা বান্ডিল দিলো। অনুরোধের সুরে বলল, “এখানে কিছু টাকা আছে। আপনার দু-মাসের বাসা ভাড়ার পরেও দশ হাজার টাকা আছে। এটা ভাইয়াকে দিবেন। জিজ্ঞেস করলেন বললেন ধার দিচ্ছেন। এতটুকু করবেন আমার জন্য?”

“এত টাকা কোথায় পেলে?”

“বলতে গেলে সারাদিনই টিউশন পড়াই। হোস্টেলে একা মানুষের খুব বেশি খরচ হয় না। দয়া করে আমার কথাটা রাখবেন?”

মনির চোখমুখে অসহায়ত্বের ছাপ। মকবুল সাহেব তার কাঁধে হাত রাখলেন। অসম্ভব কোমল গলায় বললেন, “রাখব। নিতে না চাইলেও জোর করে দেব। তুমি কোন চিন্তা করো না।”

মকবুল সাহেব উঠে দাঁড়ালেন। তার চোখজ্বলা করছে। ভিজে ভিজে ঠেকছে যেন। বাচ্চা ছেলের সামনে নিজের এমন দূর্বলতা দেখানোর পাত্র তিনি নয়। এত আবেগ প্রকাশ করতে হয় না।

রাতে ঘুমতে মনিরের বেশ দেরি হলো। এশার নামাজ পড়ে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করছিল। সময় কখন পেরিয়ে গিয়েছে বুঝতে পারেনি। বিছানায় পিঠ দিতেই তার চোখ বুঁজে এলো। শেষ রাতের দিকে দেখল স্বপ্ন–

মনির পার্কের বেঞ্চে বসে আছে। সবুজ দোকান থেকে দুই টুকরো পাউরুটি কিনল। নিজের ভাগেরটার মাখন অন্যটায় লাগিয়ে দিয়ে মনিরের দিকে এগিয়ে দিলো। আদুরে গলায় বলল, “তুই তো আবার মাখন থেকে পছন্দ করিস। নে খা।”

তার স্বপ্নটা খুব গাঢ়। বাস্তবের সাথে পার্থক্য করা যায়। তবুও তার কেমন অদ্ভুত ঠেকল। কারণ বুঝতে সময় নিলো না– তার বয়স কম মনে হচ্ছে। বাচ্চাদের মতো লাগছে। ভাইয়ার বয়সও অল্প।

সে ঘুমের মধ্যেই কাঁদল। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।..
বুক ভাসা কান্নায় বালিশ ভিজে একাকার। লোকে বলে ভোরের স্বপ্ন সত্যি হয়। সত্যিই কী হয়? সে কী চাইলেও আর অতিতে ফিরতে পারবে? নাহ! পারবে না। তা আর কখনো সম্ভব না। ঠিক তক্ষুনি মনিরের চোখের সামনে মাস ছয়েক আগে দৃশ্য ফুটে উঠল।

সে তার ভাইয়ের সাথে পাউরুটি খাচ্ছে। দু’টুকরো পাউরুটি। স্বপ্নের এই অংশটুকু বাস্তবে হওয়া সম্ভব। সত্যিই সম্ভব! মনির ঘুমের মধ্যে হাসল।.. কান্নাভেজা মুখে হাসির রেখা যেন সোনালী আলো মাখা সবুজ ঘাসের উপর এক বিন্দু শিশিরের মতো সতেজ। নির্ভেজাল এবং মনোমুগ্ধকর।

সমাপ্ত

মনির_এবং_দু'টুকরো_পাউরুটি
কলমে : ফারহানা_কবীর_মানাল

আমরা আমাদের সুন্দর পোশাক, সেরা পারফিউম, পছন্দের শার্ট, দামি প্যান্ট কিংবা ভালো জিনিসগুলো কত যত্ন করে তুলে রাখি-ভাবি, কোন...
18/08/2026

আমরা আমাদের সুন্দর পোশাক, সেরা পারফিউম, পছন্দের শার্ট, দামি প্যান্ট কিংবা ভালো জিনিসগুলো কত যত্ন করে তুলে রাখি-ভাবি, কোনো Special Occasion এ এগুলো ব্যবহার করব। কিন্তু একবার ভাবুন তো, জীবনের চেয়ে বড় কোনো Special Occasion কি হতে পারে?

আমরা ভাবি, “এটা নতুন বছরে পরব”, ওটা কোনো বিশেষ দিনে ব্যবহার করব।” কিন্তু সত্যি বলতে, আমাদের কারও কাছেই তো নিশ্চয়তা নেই যে আমরা সেই নতুন বছর বা সেই বিশেষ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকব?

কথাটা হয়তো একটু Unfading বা কঠোর শোনাচ্ছে, কিন্তু এটা আমার নিজের ক্ষেত্রেও সত্যি। আর আমি তো শুধু কোনো পোশাক বা পারফিউমের কথা বলছি না, আমি জীবনের কথা বলছি।

আমরা তো জীবনের আসল স্বাদটাই নিই না। সব সময় ভাবতে থাকি-এখনো অনেক সময় আছে, পরে বাঁচব।'...
কিন্তু যারা হঠাৎ করে বা অসময়ে চলে গেল, তারা কি জানত যে তাদের হাতে সময় এত কম?

আজকের এই বর্তমানটাকেই একটু আপন করে নিই।..
জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে নিজের মতো করে অনুভব করি, নিজের প্রিয় মানুষদের সঙ্গে কিছুটা বাড়তি সময় কাটাই, আর নিজের স্বপ্নের হাতটা আরও শক্ত করে ধরি।

একটু নিজের শর্তে বাঁচার চেষ্টা করি, ভাঙা সম্পর্কগুলো সম্ভব হলে আবার জোড়া লাগাই, অন্যকে ক্ষমা করতে শিখি এবং নিজের ওপরও কোনো অভিযোগ জমিয়ে না রাখি।..
চলুন, বাকি থাকা সময়টুকুতে কিছু সুন্দর স্মৃতি সাজিয়ে নিই-আর আজকেই আমাদের এই 'আজ'-কে আপন করে নিই!🩶

~Shahidul Sumon

মামারা কখনো আমাদের বাড়িতে দাওয়াত পেতেন না। আব্বা নিজেই তাদের আসতে নিষেধ করে দিতেন। কখনো সখনো নিজ থেকে এলে বাড়ির বাজার সদ...
16/08/2026

মামারা কখনো আমাদের বাড়িতে দাওয়াত পেতেন না। আব্বা নিজেই তাদের আসতে নিষেধ করে দিতেন। কখনো সখনো নিজ থেকে এলে বাড়ির বাজার সদাই বন্ধ হয়ে যেত। আব্বা বলতেন, “মাসের শেষ। হাতে কোন টাকাপয়সা নেই। ঘরে যা আছে তাই দিয়ে কাজ চালিয়ে দাও।”

মা কিছু বলত না। ঘরে যা থাকত তাই খাইয়ে মামাদের বিদায় করে দিতো। যাওয়ার সময় কড়া গলায় শাসিয়ে দিয়ে বলত, “কতবার বলেছি এই বাড়িতে আসবি না। তা-ও দু'দিন পরপর চলে আছিস কেন?”

মায়ের কথার জবাবে মামারা মাথা চুলকে হাসত। জড়ানো গলায় বলত, “জারিফকে দেখতে আসি। তুমি তো কখনো আমাদের বাড়িতে যাও না।”
মায়ের নানাবাড়িতে যাওয়ার অনুমতি ছিল না। উৎসব অনুষ্ঠানে দেখতাম মা শুকনো মুখে ঘুরছে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে আঁচলে চোখের পানি মুছছে। মায়ের কষ্ট একটু-আধটু বুঝলেও আমার কিছু করার ছিল না। আমি শুধু দেখতাম। মা নিজের হাতে পোলাও কোর্মা রাঁধত। যত্নসহকারে বাড়ির সবার পাতে তুলে খাওয়াত। তবে নিজে কিছু মুখে তুলতো না। খেতে ইচ্ছে করছে না বলে এড়িয়ে যেত। আব্বার কাছে এসব স্বাভাবিক লাগত। তিনি কিছুই বলতেন না।

মায়েরা তিন ভাইবোন। মা বড়। দুই ভাই ছোট। কতই বা বয়স! একজনের বারো, অন্যজনের পনেরো। নানা নেই। ছোট মামা জন্মের পরপরই নানা মা'রা গিয়েছেন। অভাবে সংসার। নানি তিন ছেলে-মেয়েকে নিয়ে কোন রকমে খেয়ে পরে দিন কাটায়। এমন অবস্থায় হঠাৎই দাদা মায়ের জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেলেন। স্কুলে যাওয়ার সময় তিনি মাকে দেখেছেন। দেখেই পছন্দ করে ফেলেছেন। অপরূপ সুন্দরী মেয়ে, বিয়েতে তেমন কোন খরচ খরচা করতে হবে না। সংসারের অভাব কিছু কমবে– এসব ভেবেই বোধহয় নানি বিয়েতে রাজি হয়ে গেলেন। অবশ্য রাজি না হওয়ার কিছু ছিল না। আব্বা সরকারি চাকরি করেন। দাদার আর্থিক অবস্থা জমিদারের চেয়ে কোন অংশে কম না। বিশাল বড় বাড়ি, বাড়ির পেছনে চার বিঘে জায়গা জুড়ে পুকুরে, সামনে ফুলের বাগান। দু'টো গাড়ি আছে। নিজেদের ব্যবসা আছে। এমন ছেলে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। পাড়াপ্রতিবেশি সবাই মায়ের ভাগ্যের তুমুল প্রশংসা করল। সবাই এমন রাজ কপাল নিয়ে জন্মায় না।

বিয়ের পর মা এই বাড়িতে এসে উঠল। বনেদি বাড়ির বনেদি নিয়মনীতি। দাদা সবাইকে এমন দেখালেন যেন তিনি খুব অসহায় একটা মেয়েকে ছেলের বউ করে নিয়ে এসেছেন। সমাজের মহানুভব মানুষের তালিকায় তার নাম সবার উপরে থাকা উচিত। তবে এ কথা সত্যি– মায়ের বিয়েতে নানির এক পয়সাও খরচ হয়নি। দাদা নিজে সব কেনাকাটা করে দিয়েছেন। বিয়ের দিন দুই চারজন বরযাত্রীর খাওয়ার আয়োজন ছিল। তিনি বিয়ের আগেরদিন রাতে লোক দিয়ে বাজার-সদাই পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।

এমনিভাবে দাদা সবার কাছে মহান মানুষ হয়ে রইলেন। আব্বা অল্প বয়সী অনবদ্য সুন্দরী একটা মেয়েকে নিজের বউ হিসাবে পেলেন। নানি খরচখরচা ছাড়া এ বড় বাড়িতে মেয়ের বিয়ে দিতে পেরে হাফ ছেড়ে বাঁচলেন। সবকিছুর মাঝে মা খুব বিপদে পড়ে গেল। বিয়ের কয়েক মাসের মাথায় তার বাপের বাড়ি যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল। পাছে যদি এ বাড়ি থেকে টাকাপয়সা চু'রি করে মা ভাইয়ের হাতে দিয়ে আসে। হাড়হাবাতের স্বভাব নাকি কখনো বদলায় না।

নানি প্রায়ই দুই মামাকে নিয়ে মা'কে দেখতে আসতেন। বাবা একদিন মা'কে ডেকে নিষেধ করে দিলেন। রোজ রোজ ফকির মিসকিনের মতো এ বাড়িতে আসার কী আছে? মেয়ের শ্বশুর বাড়ি রোজরোজ আসার মতো কোন জায়গা না। দুঃখে অপমানে নানি আর এখন আমাদের বাড়িতে আসেন না। মামারা আসে। আমাকে দেখতে আসে। মামাদের সাথে আমার বয়সে তেমন ব্যবধান নেই। তারা আমায় মাথায় করে রাখে৷ আদর করে। লুকিয়ে লুকিয়ে এটা ওটা এনে খাওয়ায়। এইতো দু'দিন আগে ছোট মামা এসেছিল। লাল রঙের নাম না জানা কতগুলো ফল আমার হাতের ভেতরে দিয়ে বলল, “কেউ দেখার আগে খেয়ে ফেল। দারুণ স্বাদ। টক মিষ্টি।”

এর আগে বড় মামা একটা খেলনা কিনে দিয়েছিল। আব্বা দেখার পর ফেলে দিয়েছেন। কড়া গলায় বলেছেন, “এত দামী খেলনা থাকতে এসব বাজে জিনিস দিয়ে খেলতে হবে কেন? কত দাম এই খেলনার? দশ বিশ টাকায় ফুটপাতে কিনতে পাওয়া যায়।”

আব্বার কথা ভুল। দশ বিশ টাকায় এই খেলনা কিনতে পাওয়া যায় না। বড় মামা দুইশো ত্রিশ টাকা দিয়ে খেলনাটা কিনেছে। গাছে উঠে নারকেল, সুপারি পেড়ে টাকা জোগাড় করেছে। মামা মায়ের কাছে সব স্বীকার করেছিল। আমি তখন শুনেছি। কিন্তু আব্বা শোনেননি। বারবার বলার পরেও হাত থেকে খেলনাটা নিয়ে পুকুরে ছুঁড়ে ফেলেছেন। প্রতিদিন গোসলের সময়ে আমি ওই খেলনাটা খুঁজি। পাই না। তখন আমার খুব কান্না আসে। চোখ জ্বা’লা করে।
আজ আমাদের বাড়িতে অনুষ্ঠান। দাদার মায়ের নামে মিলাদ। বেশ কয়েকজন এতিম খাওয়ানো হবে৷ আব্বা সমস্ত বাজার সদাই নিয়ে বাড়ি ফিরতেই মা তার কাছে গেল। নরম গলায় বলল, “মারুফ, ফিরোজকে আসতে বলব?”
“কেন? ওদের আসতে বলবে কেন?”
“না মানে বাড়িতে মিলাদ। এতিমদের খাওয়ানো হবে। ওরাও তো এতিমই।”
আব্বা মায়ের উপর চিৎকার করে উঠলেন।
“হ্যাঁ! তোমার ভাইয়েরা আমার বাড়িতে এতিমের খাওয়া খেতে আসবে? লোক সমাজে আমার মানসম্মান রাখবে না তাই না? মানে আর কী বলব! তোমার কী কোন মানসম্মান নেই? ঘরে ঢুকতেই মেজাজটা খারাপ করে দিলো।”

আব্বা বেরিয়ে গেলেন। আমি পা টিপেটিপে মায়ের কাছে গিয়ে বসলাম। মা আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করল। অস্পষ্ট গলায় কিছু বলল কি-না ঠিকমতো বুঝতে পারলাম না। মায়ের চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে বললাম, “মা আব্বা মামাদের পছন্দ করে না কেন?”

“কিছু না বাবা। এমনিতেই। তোমার মায়ের তেমন কোন পরিচয় নেই। খুব বেশি লেখাপড়া শেখেনি। যাওয়ার মতো কোন জায়গা নেই। খুব ভীতু স্বভাবের। তার পায়ের নিচের মাটি শক্ত না। তাই তার পরিচয়ে তোমার মামারা এ বাড়িতে আসতে পারে না।”

মায়ের কথাগুলো কঠিন মনে হলো। সবটুকু বুঝলাম না। তবে খুব বড়সড় একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম। আমি মামাদের এই বাড়িতে দাওয়াত দেব। নিজের টাকায় বাজার করে আনব। তাহলে আর কেউ কিছু বলতে পারবে না। দাদা আমায় খুব স্নেহ করেন। তার কাছ থেকে অনুমতি পাওয়া সহজ হবে। দাদা বলে দিলে আব্বা আর না করতে পারবেন না।

বাড়িতে ভালো কিছু রান্না হলে মা সে-সব ছুঁয়ে দেখে না। অস্পষ্ট স্বরে কাঁদে। হয়তো তার নিজের মা ভাইয়ের কথা মনে পড়ে। মামারা কখনো এতো ভালো খাবার খেতে পায় না। নানির বয়স বেড়েছে। তিনি আর আগের মতো কাজকর্ম করতে পারেন না। আব্বা কখনো তাদের টাকাপয়সা দিয়ে সাহায্য করেন না। ঈদ এলে দুয়েকটা কাপড় কিনে দেন। এতটুকুই। মামাদের দাওয়াত দিলে নিশ্চয়ই মা খুব খুশি হবে। তখন আমরা সবাই একসাথে বসে খাব।

মায়ের মুখে শুনেছিলাম– ভালো কাজের নিয়ত করলে আল্লাহ নিজেই একটা ব্যবস্থা করে দেন। কথাটা সত্যি। আল্লাহ আমাকেও একটা ব্যবস্থা করে দিলেন। ঈদ উপলক্ষে মহল্লার বাচ্চাদের নিয়ে একটা প্রতিযোগিতা হবে। প্রথম পুরষ্কার তিন হাজার টাকা। এই টাকা পেতে গেলে অনেকগুলো ধাপে জিততে হবে। এক বুক আশা আর মন ভরা নিয়ে প্রতিযোগিতায় নাম দিলাম। সবাই ভীষণ উৎসুক।

সাদা খামে মোড়ানো তিন হাজার টাকা হাতে পেয়ে আমার চোখে পানি এসে গেল। দাদা খুব গর্ব করে বললেন, “সবাই দেখো, আমার দাদাভাই মহল্লার সবাইকে হারিয়ে দিয়েছে।”
দাদা হাসছেন। বাড়ি ফিরেও আমায় নিয়ে অনেক কথা হলো। দাদা আমাকে তার কাছে ডেকে বললেন, “দাদু ভাই তুমি এই টাকা দিয়ে কী করতে চাও?”
“বাজার করব। গোশত কিনব, মাছ কিনব।”
“তাই? তা এসব কে খাবে?”
“মামারা। দাদু, আমি মামাদের দাওয়াত দিতে চাই।”
আব্বা কিছু বলতে যাচ্ছিলেন। দাদা তাকে থামিয়ে দিলেন। যথাসম্ভব স্বাভাবিক গলায় বললেন, “ঠিক আছে। তোমার মামাদের আসতে বলো। তাদের নিয়েই না হয় বাজারে যাব।”

পরদিন সকাল হতেই মামারা এলো। নানিও তাদের সাথে এসেছেন। দাদা নিজে নানিকে আসতে বলেছেন। ঘরে ঢুকেই বড় মামা আমায় কোলে তুলে ঘোরাতে শুরু করল। ঝলমলে গলায় বলল, “প্রতিযোগিতার কথা আগে বলবি তো। বললে আমরাও দেখতে আসতাম– কীভাবে তুই সবাইকে পেছনে ফেলে একদম ফার্স্ট হয়ে গেলি।”
মা হাসল। হাসি-হাসি মুখ করে বলল, “যদি হেরে যায় তাই আগে থেকে বলেনি।”

মায়ের হাসি খুব সুন্দর। শেষবার মাকে কবে এত সুন্দর করে হাসতে দেখেছি মনে করতে পারি না। দাদার সাথে গিয়ে বাজার করে নিয়ে এসেছি। আব্বা বাড়িতে নেই। কী একটা কাজে বাইরে গিয়েছেন। আব্বা থাকলে খুব ভালো হতো। সবাই মিলে একসাথে বসে খেতাম। দীর্ঘশ্বাস ফেলে মামাদের সাথে খেলতে আরম্ভ করলাম। আব্বা বাড়িতে নেই। পুকুরে ঝাঁপাঝাপি করলে আজ আর কেউ রাগ করবে না।

রান্না শেষ হতে হতে দুপুর গড়িয়ে প্রায় বিকেল। মা অনেক যত্ন নিয়ে সমস্ত রান্না শেষ করেছে। দুপুরে খাওয়ার সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। দেরি না করে খেতে বসে গেলাম। মা খাবার বেড়ে দিলেন। কোমল গলায় বলল, “যার যা লাগবে বলবি। মুখ বুঁজে থাকবি না কিন্তু।”

আমি বললাম, “মা, তুমিও আমাদের সাথে বসো না?”
জীবনে প্রথমবারের মতো মা সবার সাথে খেতে বসল। নিজের পাতে গোশতের টুকরো তুলে নিয়ে বলল, “গোশত অনেক ভালো সেদ্ধ হয়েছে।”
মায়ের চোখে পানি। সে চোখের পানি লুকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে। পারছে না। মায়ের ভাবসাব আমি বুঝতে পারি না। এখন এখানে কান্নার কী আছে?
হাত-মুখ ধুয়ে মায়ের কোলের কাছে গিয়ে বসলাম। বিরক্ত মুখে বললাম, “তুমি তখন কাঁদছিলে কেন?”

মা আমাকে জড়িয়ে ধরল। অসম্ভব কোমল গলায় বলল, “সব খুশি তো হাসিতে প্রকাশ করা যায় না বাবা।...
মাঝেমধ্যে খুব বেশি খুশি হলে মানুষের চোখে পানি এসে যায়।”

আমি একটু হাসার চেষ্টা করলাম। মাঝেমধ্যে মা অনেক কঠিন কথা বলে। আমি সে-সব কথার মানে বুঝতে পারি না।..

তখন নিজেকে কেমন অসহায় লাগে। একদিন মাকে খুব করে ব'কা দিতে হবে। সে কেন এত কঠিন কথা বলে? মা আমাকে আরও একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।..
ফিসফিসিয়ে বলল, “জীবনের সবচেয়ে সুখের মুহূর্ত হলো প্রিয় মানুষদের তৃপ্তি সহকারে খেতে দেখা।”

মায়ের এই কথাটা আমি বুঝলাম। অদ্ভুত রকমের ভালোলাগা সারা শরীরে ছড়িয়ে গেল। চোখ ভিজে উঠল। প্রিয় মানুষদের খুশি করতে পারলে এত ভালো লাগে কেন!
সমাপ্ত

লেখা: ফারহানা_কবীর_মানাল

আমার ৫বছরের সংসার।, আমার স্বামী বিয়ের সময় আমাকে বলে কখনো তিনি কোনো মেয়েকে পছন্দ অবধি করেন নি।রিলেশন তো দূর কি বাত !! কিন...
10/08/2026

আমার ৫বছরের সংসার।, আমার স্বামী বিয়ের সময় আমাকে বলে কখনো তিনি কোনো মেয়েকে পছন্দ অবধি করেন নি।রিলেশন তো দূর কি বাত !! কিন্তু বিয়ের বছর খানেক পর আমি জানতে পারি সে অগণিত মেয়ের সাথে প্রেম করেন তার যুবক বয়সে।কয়েক জনের সাথে শারিরীক সম্পর্কও করেন। এলাকার এমন কোন মেয়ে বাদ যায় নাই যে সে লাইন মারে নাই , কারো সাথে প্রেম, কারো সাথে রুম ডেট , কারো সাথে টাইম পাস । এমন কি একসাথে একি টাইমে একি ঘরে বড় বোন ছোট বোনের সাথেও প্রেম করছ । আমার কাছে প্রমাণও আছে সব।...
তাকে জিজ্ঞেস করায় সে স্বীকার করে না।শুধু প্রথম প্রেম যেটা সেটা স্বীকার করে।

বাকি সব বানোয়াট বলে। কিন্তু সে এখন আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসে।আগের কোনো স্বভাব তার মধ্যে নাই.. ।বুঝতে পারি আমাকে হারানোর ভয়ে স্বীকার করে না।আমার ২বছরের একটি ছেলেও আছে।আমার বাবার বাড়িতে এসব জানাই। ওরা চায় আমি যেন এই চরিত্রহীন ছেলের সংসার ত্যাগ করি।

আমার এক বান্ধুবী বুঝাচ্ছে সে যেহেতু এখন ভাল হয়ে গেছে তাকে ক্ষমা করে যেন করেদেই।কিন্তু আমি এসব মেনে নিতে পারছি না।ভিতরে ভিতরে শেষ হয়ে যাচ্ছি।অল্প বয়সে আমার বিয়ে হয়।...
কখনো প্রেম করার সুযোগ পাইনি আর আমার স্বামীর অতীত এত জঘন্য। আমি পারছি না সহ্য করতে।কি করা উচিত আমার প্লিজ হেল্প? পরামর্শ চাই।
(ইনবক্স থেকে)

সকালে খুলনা থেকে ট্রেনে ঢাকা আসছিলাম। নড়াইল থেকে এক ব্যক্তি ট্রেনে উঠে আমার সিটের সামনে এসে দাবি করেন সিটটা তার। আমি ভদ্...
09/08/2026

সকালে খুলনা থেকে ট্রেনে ঢাকা আসছিলাম। নড়াইল থেকে এক ব্যক্তি ট্রেনে উঠে আমার সিটের সামনে এসে দাবি করেন সিটটা তার। আমি ভদ্রভাবে তাকিয়ে বুঝিয়ে বললাম যে সিটটা আমার, তার কোথাও ভুল হচ্ছে।
কিন্তু নাহ, তিনি হচ্ছেন এলিয়েন। পৃথিবীর সবার ভুল হতে পারে কিন্তু ওনার কোনো ভুল হতেই পারে না। একপ্রকার কথার মাধ্যমেই তিনি আমাকে জানালা দিয়ে ছিটকে ফেলে দিতে চাচ্ছেন।

আমি তাকে বললাম যে আপনার সমস্যা হলে আপনি ট্রেনের গার্ডকে ডাকুন। তারা আপনার সমস্যার সমাধান করে দিবেন।
লোকটা তার আইফোন 14 প্রো ম্যাক্স মোবাইলটা বের করে আমার দিকে এগিয়ে বারবার বলতে লাগলেন, হাতে নিয়ে দেখেন সিটটা আমার।

আমি ওনার হাতে থাকা অবস্থায়ই দেখলাম তার সিট "জ" বগিতে নয় "ঝ" বগিতে। তাকে সেটা বললাম তবুও তিনি নাছোড়বান্দা। একটাই কথা তার, মোবাইলটা হাতে নিন। দেখুন এটা আমার সিট৷

আমি আর কি করবো। পকেট থেকে নিজের 17 প্রো ম্যাক্স হাতে নিয়ে সেখান থেকে টিকিট বের করে ওনাকে বললাম, আপনিও হাতে নিয়ে দেখেন ভাই, আমারও আছে। আপনার শুধু একার নাই ভাই। কেন হুদাই তর্ক করছেন।

যাইহোক, ট্রেনের এক কর্মকর্তা তখন সেখান থেকেই যাচ্ছিলো।...
তিনি বিষয়টা দেখে দাঁড়িয়ে ওনার টিকিট চেক করে পাশের বগিতে যেতে বললেন।
অতঃপর, ভাইটা পরাজিত সৈনিকের মতো চুপচাপ স্থান পরিত্যাগ করেন।

বিঃদ্রঃ ছবি তুলেছি হাতের দ্বিতীয় মোবাইল এন্ড্রয়েড দিয়ে।

আমার বয়স ৩৩ বছর, আমার স্ত্রীর বয়স ২৩ বছর,আমাদের বিয়ে হয়েছে ৭ বছর আগে। সে সম্পর্কে আমার চাচাতো বোন হতো।বিয়ের পূর্বে আমাদে...
09/08/2026

আমার বয়স ৩৩ বছর, আমার স্ত্রীর বয়স ২৩ বছর,আমাদের বিয়ে হয়েছে ৭ বছর আগে। সে সম্পর্কে আমার চাচাতো বোন হতো।বিয়ের পূর্বে আমাদের কোন প্রেমের সম্পর্ক ছিলো না।আমার মা, কাকা ও কাকিমার ইচ্ছাতে বিয়ে হয়। তবে আমিও অমত ছিলাম না। আমাদের একটি কন্যা সন্তান আছে বয়স ২ বছর। সমস্যা হলো যখন আমি বিয়ে করি তখন আমি বেকার ছিলাম, এমবিএ পড়তাম, আমি হোটেলে থেকে পড়াশুনা করতাম।

আমার বউয়ের কোন হাত খরচ দিতে পারতাম না, সম্ভবত এই কারনে বা ওর মনের কোন কারনে আমাকে সহ্য করতে পারতো না, আমার সাথে তেমন কথা বলতো না, মোবাইলে কল দিলেও কথা বলতো না,যদিও বলতো সেটা ওর মনের ইচ্ছায় বলতো না। এই রকম অবস্থায় দুই বছর কেটে যায়, দুই বছরে ওর সাথে আমার ৩-৪ বার ফিজিক্যাল সম্পর্ক হয়। তবে ওর ইচ্ছায় না, আমি ওকে খুব ভালবাসতাম, আমার ইচ্ছাতেই হয়।

এর পর আমার একটা কোম্পানির ভালো বেতনের চাকরি হয়, আমি ফ্ল্যাট বাসা নেই, অনেক অনুরোধ করে ওকে বাসায় নিয়ে যায়, প্রতিমাসে আব্বু-আম্মুর জন্য ১০,০০০/ টাকা দিতাম। বাকি টাকার সবই খরচ করে ফেলতাম। বাসায় কখনো খারাপ খাবার খেতাম না, আগে যা কিছু ওকে দিতে পারতাম না, তা এখন সব কিছুই আলহামদুলিল্লাহ পরিপূর্ণ ভাবে দিতাম।

তবে ও আমার সাথে ফিজিক্যাল সম্পর্ক করতে চায়তো না, নামাজ পড়ে না,প্রতিদিন সকাল ১০-১১ টা পর্যন্ত ঘুমায়, আমি সকালে অধিকাংশ দিন না খেয়ে অফিসে যায়, তাতে ওর কিছু যায় আসে না। আমি যে কথা বলি সে কথা কিছুটা শুনে অধিকাংশ কথাই শুনে না। বাধ্য হয়ে আমার কাকিমাকে অভিযোগ করি তাতেও কোন লাভ হয় না।

বর্তমান আমি ওকে কোন কিছুর অভাবে রাখি নাই,এখনও ও নামাজ পড়ার জন্য এতো অনুরোধ করি তবুও নামাজ পরে না, আমি নামাজ পড়ি তবে রেগুলার না। এখনও ঘুম থেকে সকাল ১০-১১ টায় উঠে, আমার একটি ফুটফুটে সুন্দর সন্তান আছে ও ওর আম্মুর সাথে ঘুমিয়ে থাকে।

আমার দুই রুম,দুই ব্যথরুম,একটি কিচেন,একটি ডাইনিং রুমের বাসা শুধু আমি, ও,আর আমার মেয়ে থাকি।..

কিন্তু এই রুমটাও ঠিক মত ঘুচিয়ে রাখে না, ঠিক মত রান্না করে না, আমি কোন কথা বললে শুনে না, ওর সাথে মাঝে মাঝেই ঝগড়া হয় এই সব বিষয় নিয়ে, ওকে ভয় দেখানোর জন্য বলি এই রকম করলে তোমাকে আমি ডিবোর্স দিবো, ও বলে, দিও দাও,
আমি চলে যাবো।
এই রকম অশান্তি আমার ভালো লাগছে না, আমি কি করবো সেটাও বুঝতে পারছি না। বিয়ের আগে স্বপ্ন দেখতাম, আমার বউকে আমি পাগলের মত ভালবাসবো, সুন্দর ছোট একটি বাসা থাকবে, বাসাটা আমি ভালবাসা দিয়ে রাঙিয়ে রাখবো...
,ভালবাসায় পরিপূর্ণ হয়ে থাকবে আমার ভুবন। এখন সবই আছে শুধু ভালোবাসাটাই নেই।

সবার কাছে পরামর্শ চাই কি করলে ভালবাসায় পরিপূর্ণ একটি সংসার হবে।...💙

( নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক)

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Niamot Al Hasan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Niamot Al Hasan:

Shortcuts

Share