Niamot Al Hasan

Niamot Al Hasan আমি কি আর আমার নাকী!
আমি তো শুধু তোর,
দূরে ঠেললে রাত্রি হবো
কাছে ডাকলেই ভোর!..
(1)

 #দুজনে (০২) #সানা_শেখ “কে মানে এই বা/লের বিয়ে? ভালো না লাগলে বের হ আমার রুম থেকে। এই মাঝ রাতে বকবক করতে পারব না তোর সঙ...
20/06/2026

#দুজনে (০২)
#সানা_শেখ

“কে মানে এই বা/লের বিয়ে? ভালো না লাগলে বের হ আমার রুম থেকে। এই মাঝ রাতে বকবক করতে পারব না তোর সঙ্গে।”

জাওয়াদের কথাগুলো সাইয়ারার কানে বিষের মতো বিঁধল। কয়েক মুহূর্ত সে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর রাগে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

“আপনি আমাকে আনলেন কেন?”

জাওয়াদ চোখ বন্ধ করে কঠিন গলায় বলল,

“ইচ্ছে হয়েছে তাই এনেছি।”

“কেন আনবেন? আমাকে কী পুতুল মনে হয় আপনাদের সকলের—যে যখন যার যা ইচ্ছে তাই করবেন? আপনি আমার জীবনটাকে আবার ওলটপালট করে দিয়েছেন।”

“দিলে দিয়েছি। এখন মুখ বন্ধ করে রাখ নয়তো বের হ আমার রুম থেকে, তোর বকবক শুনে নিজের মাথা খারাপ করতে চাই না আমি।”

রাগে গজগজ করতে করতে রুম থেকে বেরিয়ে এলো সাইয়ারা। এত অপমানে তার ম’রে যেতে ইচ্ছে করছে।
হোসনে আরার গলার আওয়াজ পেয়ে মুখ তুলে তাকাল সাইয়ারা। ইনি আবার এদিকে আসছে কেন? হোসনে আরা কাছে এগিয়ে এসে বললেন,

“তোর কী কিছু লাগবে?”

সাইয়ারা মুখে কিছু না বলে দুদিকে মাথা নাড়ল। হোসনে আরা আবার বললেন,

“এখানে এভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?”

“আমি থাকবো না এই রুমে।”

“কেন? জাওয়াদ কিছু বলেছে?”

সাইয়ারা চুপ করে রইল। হোসনে আরা সাইয়ারার হাত ধরে টেনে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেন। দেখলেন জাওয়াদ উলটো পাশ ফিরে শুয়ে আছে।

“জাওয়াদ।”

মায়ের ডাক শুনে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল জাওয়াদ। হোসনে আরা বললেন,

“সাইয়ারাকে কী বলেছিস?”

জাওয়াদ সাইয়ারার মুখের দিকে তাকাল। সাইয়ারা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। জাওয়াদকে চুপ থাকতে দেখে হোসনে আরা আবার বললেন,

“এতবার যে বুঝালাম সেসব কোথায় গেলো? ঝামেলা না করে মেনে নে সব।”

জাওয়াদ দাঁতে দাঁত চেপে তাকিয়ে রইল। ঝামেলা সে করছে? হোসনে আরা সাইয়ারার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন,

“তুই মেয়ে মানুষ, ধৈর্য তোকেই বেশি ধরতে হবে। স্বামী কিছু বলল আর রাগ দেখিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলাম এসব ভালো না।”

সাইয়ারা চুপচাপ শুনল মাথা নিচু করে। রাগে তার শরীর জ্বলছে। সে মেয়ে বলে সে কেন বেশি ধৈর্য ধরবে?
হোসনে আরা দুজনকে আরও কিছুক্ষণ বুঝিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন দরজা ভিজিয়ে দিয়ে।
হোসনে আরা নিজেদের রুমের দিকে যাওয়ার সময় দরজার বাইরে সাইয়ারাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে এসেছিলেন।

সাইয়ারা রাগে ফণা তোলা সাপের মতো ফোস ফোস করতে করতে সোফায় বসল। সে জাওয়াদের পাশে শোবে না।
বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখল জাওয়াদ ওপাশ ফিরে শুয়ে আছে। চোখজোড়া বন্ধ করে সোফায় গা এলিয়ে দিলো সাইয়ারা।

সেই দিনটার কথা এখনো সাইয়ারার স্পষ্ট মনে আছে। তখন তার বয়স দশ বছর আর জাওয়াদের আঠারো। তখন জাওয়াদ তাকে ভীষণ ভালোবাসতো, আদর করতো—তাও চাচাতো বোন হিসেবেই। জাওয়াদ কি সুন্দর করে ডাকতো তাকে! সেও ভাইয়া ভাইয়া ডাকতে ডাকতে মুখে ফেনা তুলে ফেলতো। জাওয়াদ ভাইয়া বলতে পাগল ছিল সে, জাওয়াদও তার বেলায় ব্যতিক্রম ছিল না।

বিকেলে ঘুম থেকে উঠেই এবাড়িতে এসেছিল সে। সারা বিকেল এবাড়িতেই ছিল। জাওয়াদ সন্ধ্যার আগে আগে তাকে কাঁধে নিয়ে তাদের বাড়িতে যায় রাখার জন্য। গিয়ে দেখে ড্রয়িংরুমের সোফায় তাদের দুজনের বাবা আর দাদারা বসে আছেন।
দুজনকে দেখে উপস্থিত সবাই হেসে ওঠে। সেই হাসির কারণ সে বোঝেনি। জাওয়াদের কাঁধ থেকে নেমে বাবার পাশে বসে নিজের পাশে বসতে বলেছিল জাওয়াদকে। জাওয়াদ বসেছিল তার পাশে। সরু আর তীক্ষ্ণ চোখে দেখছিল সবাইকে।

সেদিন তারা দুজন জানতে পারে তাদের দাদারা তাদের দুজনের বিয়ে দিবে বলে ঠিক করেছে। এতে তাদের বাবা মায়েরাও রাজি হয়েছিল। সেদিন সে দেখেছিল বিয়ের কথা শোনার পর জাওয়াদের চেহারা যেন কেমন হয়ে গিয়েছিল। জাওয়াদ অদ্ভুত নজরে শুধু তাকেই দেখছিল। তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল সে জাওয়াদকে বিয়ে করবে কি-না, যদি বিয়ে করে তবে সারা জীবন জাওয়াদের সঙ্গে থাকতে পারবে। সে খুশি মনে রাজি হয়ে গিয়েছিল সেদিন।
জাওয়াদকেও জিজ্ঞেস করা হয়েছিল সে তাকে বিয়ে করতে রাজি কি-না। জাওয়াদ অনেকক্ষণ তার গোলগাল মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল কোনো কথা না বলে। প্রায় দশ মিনিট পর মাথা নেড়ে সম্মতি দিয়েছিল সে।

দুজনের দাদারা চাইলেন সেদিনই বিয়ে দিতে। দুই পরিবারের কেউই তেমন অমত করেনি। জাওয়াদের দাদা সামিউল শিকদার জাওয়াদকে বলেছিলেন গোসল করে রেডি হয়ে আসতে, আজকেই তাদের বিয়ে হবে।
রোকেয়া বেগমকে বলেছিলেন সাইয়ারাকে গোসল করিয়ে রেডি করিয়ে দিতে।

প্রায় ঘন্টা খানিক পর তাদের বাড়িতে ফিরে এসেছিল জাওয়াদ। জাওয়াদের পরনে ছিল সাদা ধবধবে পাঞ্জাবি পাজামা। বরাবরের মতো চুলগুলো পরিপাট। ঠোঁটে ছিল লাজুক হাসি।
জাওয়াদ তার পাশে বসে চাপা স্বরে বলেছিল, “কিরে শাড়ি পরিসনি কেন?”
সে অবুঝের মতন তাকিয়ে বলেছিল, “শাড়ি কেন পরব?”
“গাধা, বিয়ের দিন শাড়ি পরতে হয় জানিস না? আজ আমাদের বিয়ে, তুই শাড়ি পরবি না?”
সে ঠোঁট উলটে বলেছিল, “আমি কী শাড়ি পরতে পারি?”
“ছোটো মাকে বল পরিয়ে দিবে।”
সে মায়ের কাছে বায়না ধরেছিল সে শাড়ি পরবে কারণ আজ তার বিয়ে, আর বিয়ের দিন শাড়ি পরতে হয়।
তার লাল টকটকে নতুন জামাটা খুলে তাকে লাল শাড়ি পরিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেদিন। সে আয়নায় নিজেকে দেখে খুশিতে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেছিল, “আমাকে তো একদম বউ বউ লাগছে!”

স্বল্প পরিসরে খাবারের আয়োজনও করা হয়েছিল সেদিন। এলাকার মসজিদের ইমামকে দাওয়াত দিয়ে আনা হয়েছিল। খাওয়া-দাওয়ার পর তাদের দুজনের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছিল।
দুই পরিবারের সবাই সেদিন অনেক খুশি ছিল। জাওয়াদও সেদিন অনেক খুশি ছিল। বারবার শুধু তাকেই দেখছিল আর বলছিল তাকে অনেক বেশি সুন্দর লাগছে বউ সেজে।

*****

ফজরের আযান হচ্ছে। সাইয়ারা এখনো সোফায় বসে আছে গা এলিয়ে। জেদ ধরে সে সত্যিই বিছানায় যায়নি। চোখ বন্ধ করে রাখলেও তার দুচোখে ঘুম ধরা দেয়নি। একটু পর পর শুধু চোখজোড়া হতে ঝরঝর করে পানি গড়িয়ে পড়ছে। বুক ভার হয়ে রয়েছে, চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে তার। এই পরিবারের সঙ্গে সে কীভাবে বসবাস করবে? এদের সঙ্গে বসে সে কীভাবে খাবার খাবে? এদের দেখলেই তো পুরোনো স্মৃতি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এদের জন্য তার দাদা মা’রা গেছে, তার বাবাকে হসপিটালে ভর্তি হতে হয়েছিল। সে কীভাবে ভুলবে এই বাড়ির মানুষগুলো তাদের সঙ্গে কী করেছিল?

জাওয়াদও আর আগের মতন নেই। এই জাওয়াদ তাকে প্রত্যাখান করেছিল। সে থাকতে অন্য মেয়েকে ভালোবেসেছিল। সে কীভাবে সবকিছু ভুলে সংসার করবে? কোনোদিন কী সে জাওয়াদকে মেনে নিতে পারবে?

বিষিয়ে উঠল সাইয়ারার মন। সে এই জাওয়াদকে মেনে নিতে পারবে না কোনোদিন। এই জাওয়াদকে সে ভালোবাসেনি। সে ভালোবেসেছিল সেই জাওয়াদকে যেই জাওয়াদ তাকে ভালোবেসেছিল, সবসময় তাকে নিয়ে ভাবতো, উদ্বিগ্ন থাকতো।

বিছানার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়াল সাইয়ারা। নিজের বাড়ি থেকে যেভাবে এসেছিল এখনো সেভাবেই রয়েছে। শাড়ি, জুয়েলারী, মেক-আপ, সব আগের মতোই রয়েছে।
জুয়েলারী খুলে রেখে শাড়ির সেফটিপিন খুলল একটা একটা করে। জাওয়াদ ঘুমিয়ে রয়েছে ওপাশ ফিরে, মাথার উপর বালিশ চাপা দিয়ে রেখেছে। সেই যে ওপাশ ফিরেছে এপাশ আর ফেরেনি সে।

স্যুটকেস থেকে শাড়ি, ব্লাউজ, পেটিকোট আর তোয়ালে বের করল। ফেসওয়াশ, বডিওয়াশ, আর লুফাহ হাতে নিয়ে প্রবেশ করল ওয়াশরুমে। ভীষন অস্বস্তি বোধ হচ্ছে, গোসল করলে যদি একটু স্বস্তি পাওয়া যায়।

লম্বা সময় ধরে গোসল করার পর বেরিয়ে এলো সাইয়ারা। চুলের পানি ভালোভাবে নিংড়ে মুছে নিলো তোয়ালে দিয়ে। চুলগুলো হাত খোঁপা করে আঁচল তুলে মাথা ঢেকে নিলো, তারপর একটা সেফটিপিন দিয়ে ভালোভাবে আটকে নিলো আঁচলটা।

জায়নামাজ কোথায়? আশপাশে নজর বুলাল সে।
রুমের একপাশের পুরো দেওয়াল জুড়ে বিশাল আকারের স্লাইডিং ডোরের ওয়ারড্রোব। একটু ইতস্তত করে এগিয়ে এসে ওয়ারড্রোবের একটা পাল্লা সরাতেই চোখে পড়ল সুন্দর করে ভাঁজ করে রাখা একটা জায়নামাজ।

রুমের দক্ষিণ কোণটায় জায়নামাজটা বিছিয়ে দিলো সাইয়ারা। কিবলামুখী হয়ে যখন সে নিয়ত বাঁধল, তখন বাইরের আকাশটা একটু একটু করে ফরসা হতে শুরু করেছে। পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে চারপাশের নীরবতা ভাঙছে।
নামাজের শুরুতে নিজেকে শক্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করল সে। কিন্তু সূরা ফাতিহা পড়তে গিয়েই তার গলাটা বুজে এলো, কণ্ঠস্বর কাঁপতে লাগল। নিজের অজান্তেই চোখ থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় তপ্ত অশ্রু গাল বেয়ে জায়নামাজের জমিনে গিয়ে পড়তে লাগল।

রুকু শেষ করে যখন সেজদায় গেলো, তখন আর নিজের ভেতরের কান্নাকে আটকে রাখতে পারল না সে, শক্ত করে ধরে রাখতে পারল না নিজেকে। শক্ত মেঝেতে মাথা ঠেকিয়ে সেজদার অন্ধকারে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। সেজদা এমন একটি জায়গা যেখানে গেলে আল্লাহর অতি নিকটে পৌঁছানো যায়, যেখানে কাঁদলে কেউ দুর্বল বলে খোটা দেয় না, অবজ্ঞা করে না।

কান্নার তোড়ে সাইয়ারার পুরো শরীর কাঁপতে লাগল। চোখের পানিতে জায়নামাজ ভিজে যাচ্ছে, অথচ তার সেজদা থেকে ওঠার শক্তি যেন হারিয়ে গেছে।

বহু কষ্টে নিজেকে শান্ত করে নামায শেষ করল সাইয়ারা। যখন মোনাজাতের জন্য হাত দুটো তুলল, তার চোখজোড়া তখন লাল হয়ে ফুলে উঠেছে। ঠোঁট দুটো কাঁপছে প্রবলভাবে। উচুঁ করে ধরা শূন্য হাত দুটোর দিকে তাকিয়ে তার মনে হলো, এই বিশাল পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত তার পাশে আর কেউ নেই, সে বড্ড একা, বড্ড অসহায়।

মোনাজাতে কোনো গোছানো ভাষা বের হলো না তার মুখ থেকে। ফোঁপাতে ফোঁপাতে এলোমেলো স্বরে বলল,

“আল্লাহ, তুমি তো সব দেখছ। আমার বুকের ভেতরের এই আগুন তুমি নিভিয়ে দাও, এই কষ্ট কমিয়ে দাও। আমাকে এতখানি ধৈর্য আর শক্তি দাও যেন এই অহংকারী জংলি লোকটার সামনে আমি কখনো ভেঙে না পড়ি। ওদের দেওয়া প্রতিটা আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা আমায় দাও, মাবুদ...।”


ঘুম ভাঙল জাওয়াদের। মাথার উপর থেকে বালিশ সরিয়ে চিত হয়ে শুলো। লাইটের আলো চোখে পড়তেই চোখ খিঁচে বন্ধ করে নিলো।
চোখ বন্ধ রেখেই শোয়া থেকে উঠে বসল। লম্বা চুলগুলো আছড়ে পড়ল চোখমুখের উপর। চুলগুলো দুহাতে পেছনে ঠেলে চোখ মেলল আবার। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল সাড়ে সাতটা বেজে গেছে। স্মরণ হলো সাইয়ারার কথা। চোয়াল শক্ত করে সারা রুমে নজর বুলিয়ে দেখল সাইয়ারা রুমের কোথাও নেই। স্যুটকেসটা রুমের মাঝখানে রয়েছে, আর বিয়ের শাড়িটা সোফায় এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে।
রুমের এই অবস্থা দেখে জাওয়াদের মেজাজ আরও খারাপ হলো।

ফ্রেশ হয়ে গোসল সেরে ওয়াশরুম থেকে বের হলো জাওয়াদ। পরনে কালো রঙের ট্রাউজার, উদোম গা। ভেজা চুলগুলো থেকে টুপটাপ পানি গড়িয়ে পড়ছে।
দরজা খোলার আওয়াজ পেয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে দেখল সাইয়ারা রুমে ঢুকছে। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। সাইয়ারা তাকাল জাওয়াদের দিকে। কফির মগ তার হাতে না দিয়ে রাখল বিছানার পাশে থাকা টেবিলের উপর। সে কফি নিয়ে আসতে চায়নি, জোর করে তার হাতে কফি পাঠিয়েছেন হোসনে আরা।

জাওয়াদ চোখ সরিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে চুলগুলো ভালোভাবে আঁচড়ে নিলো। গায়ে পারফিউম লাগিয়ে ঘুরে এলো সোফার কাছে। সিগারেটের প্যাকেট হাতে নিয়ে ভেতর থেকে একটা সিগারেট বের করে ঠোঁটে গুঁজে দিলো। লাইটার দিয়ে সিগারেট ধরিয়ে তাকাল সাইয়ারার মুখের দিকে। সাইয়ারা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। একটা সময় এই মেয়েটা তার পুরো হৃদয়ে রাজত্ব করতো। এই মেয়েকে ছাড়া অন্য কিছু সে ভাবতেই পারতো না। অথচ আজ? ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস!

চলবে………..

ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক কমেন্ট করবেন আর সানা শেখ পেজটি ফলো দিয়ে রাখবেন।

20/06/2026

হাসি খুশি।

আমার স্বামীর ফোনে আমার বান্ধবীর ২৮ টা মিসকল দেখে অবাক হয়ে গেলাম। ফোনটা ডাইনিং টেবিলে উপুড় করে রাখা ছিল। সায়মন যখন ওয়াশরু...
19/06/2026

আমার স্বামীর ফোনে আমার বান্ধবীর ২৮ টা মিসকল দেখে অবাক হয়ে গেলাম।
ফোনটা ডাইনিং টেবিলে উপুড় করে রাখা ছিল। সায়মন যখন ওয়াশরুমে গেল, ঠিক তখনই স্ক্রিনটা কেঁপে উঠল। সাধারণত আমি ওর ফোন ধরি না, আমরা একে অপরের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান করি।

কিন্তু টানা তিনবার ফোনটা ভাইব্রেট করার পর ভাবলাম, হয়তো অফিস থেকে কোনো জরুরি কল এসেছে।
​পর্দা উল্টাতেই আমার বুকের ভেতরটা যেন এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। স্ক্রিনে কোনো অপরিচিত নম্বর নয়, জলজ্যান্ত ভেসে উঠছে একটা নাম—‘রাফিয়া’। আমার স্কুলজীবনের সবচেয়ে কাছের বান্ধবী।
​কলটা কেটে যাওয়ার পর কৌতূহল আর এক অজানা আ*শঙ্কায় আমি সায়মনের ফোনের লক স্ক্রিনটা খুললাম।

সায়মনের পাসওয়ার্ড আমার জানা—আমাদের বিয়ের তারিখ। কল লগটা ওপেন করতেই আমার পায়ের নিচের মাটি যেন সরে গেল। একটা, দুটো নয়... গত রাত বারোটা থেকে সকাল আটটার মধ্যে রাফিয়ার মোট ২৮টি মিসকল!
​২৮টা মিসকল? একটা মানুষের ফোনে তার বান্ধবীর ২৮টা মিসকল থাকার মানে কী? তাও আবার মাঝরাতে?
​আমার আর সায়মনের বিয়ে হয়েছে চার বছর। ভালোবেসে ধুমধাম করে করা বিয়ে। ঢাকার ধানমন্ডির এই ফ্ল্যাটটিতে আমরা বেশ সুখেই দিন কাটাচ্ছিলাম। সায়মন একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে ভালো পদে আছে, আর আমি সংসার সামলানোর পাশাপাশি টুকটাক নিজের মতো থাকি। আমাদের এই সাজানো সংসারে রাফিয়ার যাতায়াত নিয়মিত। ডি*ভোর্সের পর রাফিয়া যখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল, আমিই ওকে আমাদের বাসায় নিয়ে এসেছিলাম। সায়মনও ওকে বোনের মতো শ্রদ্ধা করত, অন্তত আমি তেমনই জানতাম।
​"কী দেখছ ওভাবে?"
​ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে সায়মন তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে জিজ্ঞেস করল। ওর গলার স্বর একদম স্বাভাবিক। কোনো অপরা*ধবোধ বা ভয়ের লেশমাত্র নেই।
​আমি ফোনটা ওর দিকে ঘুরিয়ে ধরলাম। রাফিয়ার নাম আর সেই ২৮টি মিসকলের লাল দাগগুলো স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে।
​সায়মন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। ওর চোখের পলক স্বাভাবিকের চেয়ে একটু দ্রুত পড়ল, কিন্তু পরক্ষণেই ও একটা মলিন হাসি হেসে বলল, "ওহ, রাফিয়া ফোন করেছিল? আমি তো খেয়ালই করিনি। ও বোধহয় আবার কোনো ঝামেলায় পড়েছে। তুমি তো জানোই, ডিভো**র্সের পর ওর মানসিক অবস্থা কতটা অস্থির।"
​"ঝামেলা?" আমার কণ্ঠস্বর নিজের কানেই কেমন অচেনা ঠেকল। "ঝামেলা হলে ও আমাকে ফোন না করে মাঝরাতে তোমাকে ২৮ বার কল করবে কেন, সায়মন? ও কি আমার বান্ধবী না তোমার?"
​সায়মন তোয়ালেটা চেয়ারের ওপর রেখে আমার দিকে এগিয়ে এল। আমার কাঁধে হাত রাখতে গিয়েও কী ভেবে হাতটা সরিয়ে নিল। "অনন্যা, তুমি ভুল বুঝছ। রাফিয়া আসলে ওর এক্স-হাজবেন্ডের ব্যাপারে কিছু আইনি পরামর্শ চাচ্ছিল। আমাদের কোম্পানির লিগ্যাল অ্যাডভাইজারকে ও চেনে, তাই হয়তো..."
​"আইনি পরামর্শ রাত দুইটায় হয়?" আমি ওর কথা কেড়ে নিলাম। "আর একটা মানুষ যখন উত্তর দিচ্ছে না, তখন পর পর ২৮ বার কল করা কি শুধুই 'পরামর্শ' নেওয়ার জন্য? সায়মন, আমাকে বোকা ভাবা বন্ধ করো।"
​সায়মন এবার একটু বিরক্ত হওয়ার ভান করল। "তুমি তিলকে তাল করছ, অনন্যা। রাফিয়া বিপদে পড়ে ফোন করেছে, আর তুমি সেটা নিয়ে পর**কীয়ার গন্ধ খুঁজছ? ও তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড!"
​"ছিল।" আমি শক্ত গলায় বললাম। "ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল। কিন্তু এখন আমার সন্দেহ হচ্ছে, ও অন্য কিছু হওয়ার চেষ্টা করছে।"
​সায়মন অফিসে চলে যাওয়ার পরও আমার মনের ভেতর ঝড় থামল না। ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে আমি শুধু ভাবছিলাম, কোথায় ভুল হলো? সায়মন কি সত্যিই আমার আড়ালে রাফিয়ার সাথে কোনো সম্পর্কে জড়িয়েছে?
​আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। কাঁপতে থাকা হাতে রাফিয়ার নম্বরে ডায়াল করলাম। রিং হতে হতেই বুকটা ঢিপঢিপ করছিল। তিনবারের মাথায় ও ফোনটা ধরল। ওপাশ থেকে রাফিয়ার ঘুম জড়ানো কণ্ঠ ভেসে এল, "হ্যালো, সায়মন? তুমি এতক্ষণে ফোন করলে? কাল রাতে আমি কতটা ভ''য়ে ছিলাম তুমি জানো..."
​কথাটা শেষ হওয়ার আগেই রাফিয়া থেমে গেল। হয়তো ও খেয়াল করেছে যে ফোনটা সায়মন করেনি, কারণ ওপাশ থেকে কোনো উত্তর আসছিল না।
​আমি গভীর একটা শ্বাস নিয়ে বললাম, "সায়মন অফিসে গেছে, রাফিয়া। আমি অনন্যা বলছি।"
​ওপাশ থেকে সম্পূর্ণ নীরবতা। শুধু রাফিয়ার ভারী শ্বাসের শব্দ পাচ্ছিলাম। যে মেয়েটা কথায় কথায় খিলখিল করে হাসে, সে আজ একটা শব্দও উচ্চারণ করতে পারছে না।
​"কাল রাতে সায়মনের ফোনে তোমার ২৮টা মিসকল দেখলাম," দৃঢ় গলায় বললাম। "বলবে একটু, কী এমন জরুরি দরকার ছিল যে আমার স্বামীকে তোমার মাঝরাতে ২৮ বার কল করতে হলো?"
​রাফিয়া কিছুক্ষণ চুপ থেকে গলাটা একটু পরিষ্কার করে নিল। তারপর একদম স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে বলল, "আরে অনন্যা, তুই? আসলে কাল রাতে আমার ফ্ল্যাটের নিচে কিছু বখাটে ছেলে ঝামেলা করছিল। আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তোকে ফোন করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ভাবলাম তুই তো ঘুমাচ্ছিস। সায়মন ভাইয়া তো এসব ব্যাপারে বেশ সাহসী, তাই ওনাকে..."
​"মিথ্যে বলিস না, রাফিয়া!" আমার চিৎকার ড্রয়িংরুমের দেয়ালে বাড়ি খেয়ে ফিরে এল। "তুই ভয় পেলে পুলিশকে ফোন করতি, তোর বাড়ির গার্ডকে ডাকতি। সায়মনকে ২৮ বার কল করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আর সায়মনকে যদি ভাইয়াই ভাবিস, তবে ও ফোন ধরার আগে ওপাশ থেকে 'হ্যালো সায়মন' বলে ওভাবে অধিকার খাটিয়ে কথা বলতি না।"
​রাফিয়া এবার আর কোনো অজুহাত দেওয়ার চেষ্টা করল না। ওপাশ থেকে ও ঠান্ডা গলায় বলল, "অনন্যা, তুই যা ভাবছিস তা নয়। তুই শুধু শুধু একটা সিন ক্রিয়েট করছিস।"
​"আমি সিন ক্রিয়েট করছি না, রাফিয়া। আমি শুধু আমার চার বছরের বিশ্বাসের শেষ সীমানাটা দেখছি।" এইটুকু বলে আমি ফোনটা কেটে দিলাম।
​চোখ ফেটে জল বেরিয়ে আসতে চাইল, কিন্তু আমি তা চেপে রাখলাম। কাঁদতে কাঁদতে ভেঙে পড়ার সময় এটা নয়। আমাকে সত্যিটা জানতেই হবে। সায়মন আর রাফিয়া—আমার জীবনের সবচেয়ে বিশ্বাসের দুটো মানুষ কি সত্যিই আমাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার আয়োজন করেছে?
​বিকেলের দিকে সায়মন যখন অফিস থেকে ফিরল, ওর হাতে একটা শপিং ব্যাগ। আমার পছন্দের ধানমন্ডির সেই বিখ্যাত পেস্ট্রির দোকান থেকে কেক এনেছে ও। আমার রা''গ ভাঙানোর এই সস্তা চেষ্টা দেখে আমার ঘেন্না ধরে গেল।
​আমি সোফা থেকে উঠে ওর মুখোমুখি দাঁড়ালাম। কোনো ভূমিকা না করেই বললাম, "সায়মন, আমি আগামী পরশু দিনের জন্য চিটাগংয়ের টিকিট কেটেছি। আম্মার শরীরটা ভালো না, ওখানে কয়েকদিন থাকব।"
​সায়মনের চোখে এক পলকের জন্য স্বস্তির আভাস ফুটে উঠল, যা ও আড়াল করতে পারল না। ও হাসিমুখে বলল, "আচ্ছা, ভালোই তো। ঘুরে এসো। তোমারও একটু চেঞ্জ দরকার।"
​আমি মনে মনে হাসলাম। এই স্বস্তিটাই আমি ওকে দিতে চেয়েছিলাম। কারণ, আমি চিটাগং যাচ্ছি না। আমি দেখতে চাই, আমি এই বাসা থেকে বের হওয়ার পর সায়মন আর রাফিয়ার আসল রূপটা কেমন করে বেরিয়ে আসে।

লাগেজটা হাতে নিয়ে যখন ফ্ল্যাটের দরজার সামনে দাঁড়ালাম, সায়মন আমার কপালে একটা হালকা চুমু খেল। ওর চোখে-মুখে এক অদ্ভুত মায়াবী বিদায়ের অভিনয়। "পৌঁছেই ফোন দিয়ো, অনন্যা। সাবধানে যেয়ো," ও বলল। আমি শুধু একটা ম্লান হাসি দিয়ে বিদায় নিলাম।
​ঠিক বিকেল চারটায় আমি ধানমন্ডির এই ফ্ল্যাট থেকে বের হয়েছিলাম। কিন্তু আমি গাবতলী কিংবা সায়দাবাদ যাইনি। সোজা চলে গিয়েছিলাম আমাদের বাসার ঠিক তিন গলি পরের একটা ছোট কফি শপে। সেখানে বসে সময় গুনছিলাম। ঘড়ির কাঁটা যখন রাত আটটা ছুঁল, তখন আমি একটা উবার ডেকে আবার আমার নিজের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।
​আমার কাছে ফ্ল্যাটের একটা অতিরিক্ত চাবি সবসময় থাকে। সায়মন ভেবেছে আমি এখন ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়েতে বাসের সিটে ঘুমাচ্ছি। ও ধারণাও করতে পারেনি যে ওর সাজানো বিশ্বাসের তাসের ঘরটা ভা*ঙার জন্য আমি ঠিক দরজার ওপাশেই দাঁড়িয়ে আছি।
​লিফটের চার নম্বর বোতামটা চেপে যখন আমাদের ফ্লোরে নামলাম, করিডোরটা একদম নিস্তব্ধ। আমি খুব সাবধানে, কোনো শব্দ না করে চাবিটা তালার ভেতর ঢোকালাম। হাতটা সামান্য কাঁপছিল, কিন্তু মনের ভেতরের ক্ষো*ভ আর জেদ আমাকে শক্ত করে রাখল।
​খুব ধীরে, নিঃশব্দে দরজাটা খুললাম। ড্রয়িংরুমের লাইটগুলো নেভানো, শুধু ভেতরের বেডরুম থেকে মৃদু আলোর একটা রেখা ড্রয়িংরুমের মেঝেতে এসে পড়েছে। সেই সাথে ভেসে আসছে একটা চেনা হাসির শব্দ। যে হাসিটা আমি চার বছর ধরে ভালোবেসে এসেছি, আর যে হাসিটা আমার স্কুলজীবনের অজস্র স্মৃতির অংশ।
​আমি পা টিপে টিপে শোবার ঘরের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। দরজাটা পুরো আটকানো ছিল না, সামান্য ফাঁক ছিল।
​ভেতরের দৃশ্যটা দেখে আমার পুরো শরীর যেন এক মুহূর্তে বরফ হয়ে গেল। সায়মন বিছানায় আধশোয়া হয়ে আছে, আর ওর বুকের ওপর মাথা রেখে শুয়ে আছে রাফিয়া। রাফিয়ার গায়ে আমারই একটা সুতির শাড়ি, যেটা আমি গত ঈদে কিনেছিলাম। সায়মন ওর চুলে বিলি কেটে দিতে দিতে বলছিল, "অনন্যাকে চিটাগং পাঠিয়ে ভালোই হলো। অন্তত আগামী চার-পাঁচ দিন আমাদের আর কোনো লুকোচুরি করতে হবে না।"
​রাফিয়া আলতো করে সায়মনের গালে হাত দিয়ে বলল, "কিন্তু ও যেভাবে কাল জেরা করছিল, আমার তো ভয়ই লেগে গিয়েছিল। মেয়েটা বড্ড সন্দেহবাতিকগ্রস্ত হয়ে উঠছে দিন দিন।"
​"আরে ছাড়ো তো ওর কথা," সায়মন তাচ্ছিল্যের সুরে বলল। "অনন্যাকে হ্যান্ডেল করা কোনো ব্যাপারই না। দুটো মিষ্টি কথা আর একটু নাটক করলেই ও গলে জল হয়ে যায়। ও চিরকালই একটু বোকা।"
​আমার চোখের কোণ দিয়ে এক ফোঁটা জলও নামল না। চার বছরের সংসার, হাজারটা স্মৃতি, আর একটা গভীর বন্ধুত্ব—সব কিছু যেন এক পলকে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। আমার বুকের ভেতর যে কান্নাটা দলা পাকিয়ে আসছিল, সেটাকে জোর করে চেপে আমি পকেট থেকে ফোনটা বের করলাম।
​ক্যামেরাটা অন করে ভিডিও রেকর্ডিং চালু করলাম। তারপর দরজাটা এক ঝটকায় পুরোটা খুলে ভেতরে ঢুকে লাইটের মেইন সুইচটা অন করে দিলাম।
​হঠাৎ তীব্র আলোয় দুজনেই চমকে উঠে ছিটকে আলাদা হয়ে গেল।

সায়মন বিছানা থেকে প্রায় লাফিয়ে উঠল, ওর মুখের সমস্ত র**ক্ত যেন এক মুহূর্তে শুষে নিয়েছে কেউ। রাফিয়া অপ্রস্তুত হয়ে শাড়ির আঁচল টানতে টানতে বিছানার এক কোণে কুঁকড়ে গেল।
​"অনন্যা! তুমি... তুমি তো চিটাগং..." সায়মনের গলা কাঁপছিল। ও তোতলাতে শুরু করল।
​আমি কোনো কথা না বলে ফোনটা ওদের দিকে তাক করে রাখলাম। ভিডিও রেকর্ডিং চলছে।
​"অনন্যা, প্লিজ... তুই যা দেখছিস তা নয়, আমি আসলে..." রাফিয়া কেঁদে ফেলার ভান করে এগিয়ে আসতে চাইল।
​"খবরদার, রাফিয়া! এক পা-ও এগোবি না," আমার কণ্ঠস্বর এতটাই ঠান্ডা আর ধারা''লো ছিল যে ও থমকে দাঁড়িয়ে গেল। "আমার শাড়িটা গায়ে দিয়ে আমারই বিছানায় বসে এই নাটকটা করতে তোর একটুও ঘেন্না করল না? তুই না আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলি?"
​সায়মন এবার নিজেকে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করে বলল, "অনন্যা, মাথা ঠান্ডা করো। আমি স্বীকার করছি আমাদের ভুল হয়েছে। কিন্তু প্লিজ, ফোনটা নামাও। আমরা বসে কথা বলতে পারি।"
​"কথা বলার আর কিছু বাকি নেই, সায়মন," আমি ভিডিওটা বন্ধ করে ফোনটা ব্যাগে রাখলাম। "গত চার বছর ধরে যাকে স্বামী ভেবেছি, সে আসলে একটা মেরুদণ্ডহীন প্রতা**রক।

আর যাকে বোন ভেবে আশ্রয় দিয়েছিলাম, সে একটা বি*ষাক্ত সাপ।"
​আমি আর এক মুহূর্তও ওই ঘরে দাঁড়ালাম না। ড্রয়িংরুমে এসে আমার লাগেজটা আবার হাতে নিলাম। সায়মন আমার পেছন পেছন ছুটে এল, আমার হাত ধরার চেষ্টা করল। "অনন্যা, প্লিজ যেয়ো না। একটা সুযোগ দাও। আমি রাফিয়ার সাথে সব সম্পর্ক শেষ করে দেব, প্রমিস!"
​আমি ওর দিকে ঘুরে তাকালাম। আমার চোখে তখন আর কোনো কান্না ছিল না, ছিল তীব্র ঘৃণা। "যে মানুষটা আমার অনুপস্থিতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্য একটা মেয়েকে আমার বিছানায় নিয়ে আসতে পারে, তার কোনো প্রমিসের মূল্য আমার কাছে নেই। এই ভিডিওটা খুব জলদিই আমাদের ডি*ভোর্সের নোটিশের সাথে তোমার আর রাফিয়ার পরিবারের কাছে পৌঁছাবে। ঢাকার এই ফ্ল্যাটটা আমার বাবার টাকায় কেনা, সায়মন। আমি কালই আমার আইনজীবীকে পাঠাচ্ছি। আগামীকাল সকালের মধ্যে যেন তোমাকে আর তোমার এই সস্তা সঙ্গিনীকে আমার বাসায় না দেখি।"
​দরজাটা জোরে টেনে আমি বের হয়ে এলাম। লিফটে যখন নিচে নামছিলাম, তখন বাইরের রাতের ঠান্ডা হাওয়াটা আমার মুখে এসে লাগল।
আমার খুব হালকা লাগছিল।
​হ্যাঁ, আমার বিশ্বাস ভেঙেছে, আমার চার বছরের সংসার শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আমি হেরে যাইনি। একটা মিথ্যে আর প্রতা**রণার চাদর টেনে বাঁচার চেয়ে, সত্যিটা জেনে মুক্ত হওয়া অনেক ভালো। জীবনের এই অন্ধকার অধ্যায়টা আমি আজ রাতেই পেছনে ফেলে এলাম, এক নতুন ভোরের সন্ধানে।

​--- সমাপ্ত ---

অণুগল্প

19/06/2026

"মা, যদি তুমি এখনও এই বাড়িটাকে নিজের বাড়ি মনে করে আমার স্ত্রীর সঙ্গে এমন আচরণ করো, তাহলে আমি তোমাকে শিখিয়ে দেব কীভাবে আমার স্ত্রীকে সম্মান করতে হয়।" কথাগুলো রবিবার দুপুরের খাবারের টেবিলে এমনভাবে আছড়ে পড়ল, যেন পাকা মেঝেতে একটি স্টিলের থালা পড়ে বিকট শব্দ করেছে।

আবদুল করিম সাহেব স্থির হয়ে গেলেন। হাতে ধরা চামচটি মুখের কাছে উঠলেও আর এগোল না।

তাঁর বিপরীতে বসে থাকা সাবিনা বেগম ঠোঁটে জোর করে একটুখানি হাসি ফুটিয়ে রাখলেন। সেই হাসি ছিল এমন এক মায়ের হাসি, যে নিজের সন্তানের মুখ থেকে কষ্টদায়ক কথা শুনেও না শোনার ভান করে, কারণ সত্যিটা মেনে নেওয়া আরও বেশি যন্ত্রণাদায়ক।

রান্নাঘরজুড়ে ভেসে বেড়াচ্ছিল গরম পোলাও, ডাল, মুরগির রোস্ট আর সদ্য বানানো চায়ের মনমাতানো ঘ্রাণ। ডাইনিং টেবিলে রাখা ছিল গরম রুটির ঝুড়ি, লেবুর শরবতের জগ আর কাঁচামরিচ দিয়ে তৈরি ঝাল ভর্তা, যা সাবিনা বেগম নিজ হাতে বানিয়েছিলেন।

কারণ তাঁর ছেলে মিস্টার ইয়াসিন ছোটবেলা থেকেই ঝাল খাবার খুব পছন্দ করত।

একসময় রবিবার মানেই ছিল পারিবারিক আনন্দের দিন।

ইয়াসিন বাড়িতে এসে প্রথমেই মা-বাবার পায়ে হাত দিয়ে সালাম করত। তারপর সবার সঙ্গে গল্প করতে করতে খেতে বসত। পেট ভরে যাওয়ার পরও মায়ের হাতের রান্না বলে আরেকবার খাবার চাইত।

সাবিনা বেগম হাসিমুখে তার প্লেটে তুলে দিতেন।

শেষে জোর করে কিছু খাবার প্যাকেট করে দিতেন, যাতে ছেলে বাসায় নিয়ে যেতে পারে।

কিন্তু আজকের ইয়াসিন সেই আগের ইয়াসিন নয়।

আজ সে এই বাড়িতে এসেছে একজন সন্তানের মতো নয়, বরং একজন ক্ষমতাবান মানুষের মতো।

চৌত্রিশ বছর বয়সে সে এখন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। দামি পোশাক, হাতে মূল্যবান ঘড়ি, আর কথাবার্তায় এমন এক অহংকার—যেন অর্থই তাকে সবার উপরে তুলে দিয়েছে।

তার পাশে বসে ছিল তার স্ত্রী নিলুফা। নিখুঁত সাজসজ্জা, দামি সুগন্ধি আর ঠোঁটের কোণে সবসময় লেগে থাকা একরকম অবজ্ঞার হাসি—যেন এই সাধারণ মধ্যবিত্ত বাড়িটি তার মান-সম্মানের সঙ্গে যায় না।

বিয়ের পর থেকেই ইয়াসিনের আসা-যাওয়া কমে গিয়েছিল।

প্রতিবারই কোনো না কোনো অজুহাত থাকত—ব্যবসার কাজ, গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, যানজট কিংবা অতিরিক্ত ক্লান্তি।

তবুও প্রতিদিন রাত আটটার দিকে সাবিনা বেগম ছেলেকে একটি বার্তা পাঠাতেন

"বাবা, রাতের খাবার খেয়েছ?"

কখনও কখনও পরদিন সকালে শুধু একটি শব্দে উত্তর আসত

"হ্যাঁ।"

তবুও তিনি অপেক্ষা করতেন। ছেলের জন্য আলাদা করে খাবার তুলে রাখতেন। ঈদের সময় নতুন পাঞ্জাবি কিনতেন। এমনকি পুরোনো ল্যান্ডফোনটাও ঘরে রেখে দিয়েছিলেন।

কারণ তাঁর বিশ্বাস ছিল

"যদি কোনোদিন ছেলের মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে অন্তত এই নম্বরে ফোন করবে।"

আবদুল করিম সেই মায়ের ভালোবাসা বুঝতেন।

কিন্তু তিনি বুঝতে পারেননি, যে দরজা সবসময় খোলা রাখা হয়, একসময় কেউ কেউ সেই দরজাকে নিজের সম্পত্তি মনে করতে শুরু করে।

ঘটনার শুরুটা হয়েছিল খুব ছোট একটি বিষয় নিয়ে।

ইয়াসিন খাবারের বেশিরভাগ সময় মোবাইল ফোনের দিকে তাকিয়ে ছিল। সাবিনা বেগম ধীরে তার হাতে স্পর্শ করলেন।

"বাবা, ফোনটা একটু রাখো। অনেকদিন পর তো এলে। কেমন আছ?"

ইয়াসিন বিরক্ত মুখে তাকাল।

"মা, আমি আর ছোট বাচ্চা নই।"

"আমি তো সেটা বলিনি বাবা। শুধু জানতে চাইলাম তুমি ভালো আছ কি না।"

নিলুফা ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে উঠল।

"খালাম্মা, কিছু মনে করবেন না। ইয়াসিন এখন বড় মানুষ। তাকে সব সময় জবাবদিহি করতে হয় না।"

সাবিনা বেগম চোখ নিচু করে ফেললেন।

"আমি জবাবদিহি চাই না মা। আমি শুধু ছেলের খোঁজ নিতে চাই।"

হঠাৎ ইয়াসিন চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়াল।

চেয়ারের পা মেঝেতে ঘষা খেয়ে কর্কশ শব্দ তুলল।

ঘর নিস্তব্ধ হয়ে গেল।

"এইটাই সমস্যা!" সে চিৎকার করে উঠল। "তুমি সবসময় নিজেকে অসহায় দেখাতে চাও।"

আবদুল করিম চামচ নামিয়ে রাখলেন।

"ইয়াসিন, যথেষ্ট হয়েছে।"

"না বাবা! আপনি সবসময় মায়ের পক্ষ নেন। তাই উনি মনে করেন সব বিষয়ে নাক গলানোর অধিকার আছে।"

সাবিনা বেগম তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়ালেন।

"বাবা, যদি কোনো ভুল করে থাকি, মাফ করে দিও। বসো, শান্তিতে খাই।"

তিনি ছেলের কাঁধে হাত রাখার চেষ্টা করলেন।

আর ঠিক তখনই ঘটল সেই ঘটনা—

ইয়াসিন হাত তুলে মাকে চড় মারল।

শব্দটা পুরো ঘরে প্রতিধ্বনিত হলো।

সাবিনা বেগম টলতে টলতে পিছিয়ে গেলেন। এক হাত দিয়ে নিজের গাল চেপে ধরলেন।

কিন্তু তিনি চিৎকার করলেন না।

কাঁদলেনও না।

শুধু ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন।

সেই দৃষ্টিতে ছিল বিস্ময়, কষ্ট আর অবিশ্বাস।

যেন তিনি নিজের সন্তানকে নয়, সম্পূর্ণ অচেনা একজন মানুষকে দেখছেন।

নিলুফা ধীরে ধীরে হাততালি দিতে শুরু করল।

তার ঠোঁটে ছিল তৃপ্তির হাসি।

"অনেক আগেই এটা হওয়া উচিত ছিল," সে বলল। "কাউকে তো সীমা শেখাতে হতো।"

ইয়াসিন গভীর শ্বাস নিল। যেন সে কোনো বড় দায়িত্ব পালন করেছে।

কিন্তু ঠিক তখনই আবদুল করিমের ভেতরে বহু বছরের নীরবতা ভেঙে গেল।

দুপুর ১টা ৪২ মিনিট।

তিনি ধীরে ধীরে ঘরের এক কোণে রাখা পুরোনো ল্যান্ডফোনের দিকে এগিয়ে গেলেন।

ফোনটা এখনও সেখানে ছিল—সেই ফোন, যেটা সাবিনা বেগম শুধু ছেলের জন্যই তুলে ফেলতে দেননি।

ইয়াসিন অবাক হয়ে বলল,

"বাবা, আপনি কী করছেন?"

আবদুল করিম কোনো উত্তর দিলেন না।

তিনি রিসিভার তুলে জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করলেন।

দৃঢ় কণ্ঠে বললেন,

"আমি পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ জানাতে চাই। আমার ছেলে এইমাত্র তার মায়ের গায়ে হাত তুলেছে।"

ইয়াসিনের মুখ মুহূর্তেই ফ্যাকাশে হয়ে গেল।

"আপনি নিজের ছেলের বিরুদ্ধে পুলিশ ডাকছেন?"

আবদুল করিম ধীরে তার দিকে তাকালেন।

তার চোখে ছিল না রাগ। ছিল শুধুই গভীর হতাশা।

"যে মুহূর্তে তুমি তোমার মায়ের গায়ে হাত তুলেছ, সেই মুহূর্তেই তুমি আমার ছেলে হওয়ার অধিকার হারিয়েছ।"

নিলুফার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল। দূরে পুলিশের গাড়ির সাইরেনের শব্দ ক্রমশ কাছে আসতে লাগল।

আর যখন ইয়াসিন সাহায্যের আশায় স্ত্রীর দিকে তাকাল, তখন দেখল নিলুফা বাড়ির মূল ফটকের দিকে তাকিয়ে আছে।

হয়তো প্রথমবারের মতো সে বুঝতে পেরেছে এই ফোন কল শুধু পুলিশের জন্য নয়।

এটি সেই হিসাবের শুরু, যা এতদিন ধরে জমে ছিল।

চলবে.? পরবর্তী অংশ সবার আগে পেতে কমেন্ট করে পেইজে ফলো করে রাখুন।

#ছেলে_যখন_বউয়ের_গোলাম
পর্ব-০১
লেখক~

খুব শিগ্রই পরবর্তী অংশ পোস্ট করা হবে, পর্ব প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন আপনার নিউজ ফিডে পৌঁছে যায় সেই জন্য পেজটি ফলো করে রাখুন। 🌼

পারিবারিকভাবে বিয়ে হওয়ার পরেও আমি আমার স্ত্রীকে অল্প সময়ে আপন করে নিয়েছিলাম। তাকে বুঝতেই দেইনি আমাদের বয়সের পার্থক্য ৮ ব...
19/06/2026

পারিবারিকভাবে বিয়ে হওয়ার পরেও আমি আমার স্ত্রীকে অল্প সময়ে আপন করে নিয়েছিলাম। তাকে বুঝতেই দেইনি আমাদের বয়সের পার্থক্য ৮ বছর। ওর যেনো মনে হয় দুজন বন্ধু সেভাবে চলেছি। আমার স্ত্রীকে আমি বিয়ের পর কোনো কিছুর অভাব দেইনি। কাজের মহিলা সব কাজ করে দিতো। মাঝে মাঝে একটু সখের বসে রান্না করতো। রান্না বান্না আমার মা করতো, আর আমার বোন শ্বশুরবাড়ি থেকে বেড়াতে আসলে রান্না করতো । ও মাঝে মাঝে একটু সখের বসে রান্না করতো। আদর, যত্ন, ভালোবাসা, তার কাপড়, প্রসাধনী, হাত খরচ। এমনকি নিজে মাঝে মাঝে তাকে রান্না করে নিজ হাতে খাইয়ে দিয়েছি।

তাকে বুঝতেই দেইনি সে অন্য একটা পরিবারে এসেছে। সবার সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ক হয়ে যায়। আমার বোন আসলে ভাগ্নে ভাগ্নি বোনের সাথে গল্প, লুডু খেলেই সময় কেটে যেতো।
হেসে খেলেই তার সময় চলে যায়। ও খুব ভালো আছে নিজেই অনেকবার বলেছে। একসাথে হাসি আনন্দে গানে কবিতার মতো সংসার হয়ে যায় আমাদের।
আমার সাথে হাসিখুশি ব্যবহার করতো। মাঝে মাঝে কাপড় ইস্ত্রি করে দিতো। টুকটাক কেয়ার করতো।
এর মধ্যে ছোটো-ছোটো সমস্যা, অভিমান ছিলো এমন নয়। তবে সেটা খুব নগন্য।

কিন্তু সমস্যা তৈরি করে আমার শ্বাশুড়ি। উনি আমাকে, আমার পরিবারকে সহ্য করতে পারতেন না। আমার কাছে আমার স্ত্রী ১ সপ্তাহ থাকলেই অস্থির হয়ে যেতো মেয়েকে নেওয়ার জন্য। সকাল বিকাল ওকে আমাকে কল দিয়ে মাথা নষ্ট করে দিতো। না গেলে ওকে ইমোশনাল কথা বলতো। আর নেওয়ার পর ১৫/২০ দিন পার হয়ে গেলেও ওকে আসতে দিতো না।
অনুনয় বিনয় করে নিয়ে আসতে হতো।

ওর মা ওর মাথায় বিভিন্ন রকমের কুবুদ্ধি দিতে থাকে। ওকে বলতো স্বামীকে হাত করে পরিবারের কন্ট্রোল নেওয়ার জন্য। আমার টাকা পয়সা আমার স্ত্রীর কাছে রাখার জন্য। প্রতিমাসে ৫০০০ টাকা হাত খরচ দিতাম। তাও আরও দেওয়ার জন্য বলতো। আবার না বলে মানিব্যাগ থেকে টাকা নিতো। এই টাকা ওর মার কাছে জমা রাখতো। কখনও টাকা কম দিলে এটা নিয়ে কথা বলতো। প্রথম দিকে আমার স্ত্রী তার মার এসব কথা ইগ্নোর করতো। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে কুবুদ্ধি বাড়তে থাকলো। একটা পর্যায়ে আমার স্ত্রী পরিবর্তন হয়ে গেলো। ওর মায়ের পুরো কন্ট্রোলে চলে যায়।

এক বছর যেতে না যেতেই সে আমার সাথে বেয়াদবি করা শুরু করে। যৌথ পরিবারে আর থাকবে না। ওর কাছে বেতনের টাকা দেইনা বলে আমাকে বলে বিশ্বাস করিনা। আলাদা বাসায় যাইনা বলে আমি তাকে ভালোবাসি না। আমার মা বাবার বয়স হয়েছে দু'জনেই একটু অসুস্থ তাই আমার পক্ষে মা বাবাকে রেখে যাওয়া সম্ভব না। আর আমি একমাত্র ছেলে। ও কয়েকবার আমাকে বা আমার মাকে না বলে বাড়িতে এটা ওটা নিয়ে গেছে। বুঝতে পেরেও বলিনি।

প্রতি মাসে তার নতুন নতুন আবদার। কোনো মাসে নতুন কসমেটিক, কোনো মাসে নতুন বোরকা, কোনো মাসে চেইন, কোনো মাসে আংটি, কোনো মাসে দুল।স্বর্ণ বাদে ওকে সবকিছুই কিনে দিয়েছি।

স্বর্ণ কিনে না দেওয়ায় বলতো স্বর্ণ হলো সম্পদ বিপদে কাজে লাগে। তাছাড়া বলতো এগুলো পুরনো হয়ে গেছে নতুন ডিজাইন বের হয়েছে। নিজে নিজে অনলাইনে কাপড় অর্ডার করে ফেলতো। আমাকে জিজ্ঞেসও কারতো না।
তারপরও সে দিন দিন অবাধ্য হয়ে যায়।
তার নাকি এসব কম হয়ে যায়। আরও লাগবে। আমার প্রতি তার ও তার মায়ের অভিযোগ বাড়তেই থাকে।
এতো দেওয়ার পরেও তার মন ভরে না।

আমার সাথে মেজাজ দেখাইয়া কথা বলে। বাসায় ঢুকলেই খালি অভিযোগ আমার নামে। ওদের মা বাবার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য। ওর ভাইকে বিজনেসের টাকা দিতে বলে। ওর মা বাবাকে এটা ওটা কিনে দিতে বলে।

আমি বাধ্য হয়ে কিছু দেই কিছু দেই না। কিন্তু ওর ভাই আমার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার জন্য ওকে চাপ দিতে থাকে। টাকা দেইনি বলে আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। তারপর আগে আমার যা টেক কেয়ার করতো সব অফ হয়ে যায়। এরপর একদিন ওদের বাড়ি বেড়াতে যায়। যাওয়ার পর ১৫ দিন পার হয়ে যায় আর আমাদের বাড়ি আসে না। আমি আনতে যাই তখন বলে আসবে না। ওর মা বলে ওকে দিবে না। ওর জন্য আলাদা বাসা নিতে হবে। আর ওর ভাইয়ের বিজনেসের জন্য টাকা দিতে হবে। ওর পরিবাররের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে হবে। আর আলাদা বাসা না নিতে পারলে ও আর আসবে না। ওর মা বলে যৌথ পরিবারে থেকে আমার মেয়ের অনেক কষ্ট হয়। শুকাইয়া গেছে। ওর কাজিনরা ওর বাসায় বেড়াতে পারে না।
তোমার মা বাবার সাথে আমি আমার মেয়েকে দিবো না।

আমরা যা যা বলি সবকিছু দাবি না মানলে আমাদের মেয়ে সংসার করবে না তোমার সাথে। আমাকে অনেক অপমান করে বের করে দেয়। আমার স্ত্রীও ওর মা যা বলে সব কিছু মেনে নেয়। আমার স্ত্রী আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এভাবে অনেকদিন পার হয়ে যায়। তারপর আমাকে কল দিয়ে মেসেজ দিয়ে ওর মায়ের দাবি পূরণ করতে বলে। নয়তো আসবে না। আমি দাবি পূরণ করবো না বলে দেই। তারপর আমার সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করে। আমার মাকে কল দিয়ে অনেক অপমান করে আমার শ্বাশুড়ি। বলে আমার মা বাবার জন্য আমি ওদের মেয়ের জন্য আলাদা বাসা নেই না। নানাভাবে আমাকে চাপ দিতে থাকে। ওর বাবা আমার সহজ সরল বাবাকে কল দিয়ে মামলার ভয় দেখায়। আমার স্ত্রী আমাকে মৃত্যুর ভয় দেখায়। বলে ওর খুব কষ্ট হয় আমাকে ছাড়া থাকতে। আমি যেনো সব দাবি মিটিয়ে ওর মা বাবার মন জয় করে ওকে নিয়ে আসি। আমি বলি আমি পারবো না। আমাকে বিরক্ত করে তাই আমি আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেই। কিন্তু মেসেজের উত্তর দেইনা বলে আমার সাথে মেজাজ খারাপ করে। তাই পরে ব্লক করে দেই। এভাবে আরও মাস খানেক পার হয়ে যায়।

আমার স্ত্রী আমার শ্বাশুড়ি নতুন নাটক শুরু করে।
বলে ও নাকি অসুস্থ হয়ে গেছে আমার জন্য। তারপরও আমি এক কথা সংসার করতে হলে যৌথ পরিবারে করতে হবে। ওর তখন বলে তাহলে আমাদের মেয়েকে ডিভোর্স করাব। তবুও আর তোমার কাছে দিবো না। আমার স্ত্রীও ওর মায়ের কথামতো চলে।

এরপর আরও কিছুদিন পার হয়ে যায়।
এরমধ্যে প্রায়ই মেসেজে ওর সাথে কথা কাটাকাটি হতো। ওর মধ্যে কোনো অনুশোচনা নাই। ওর মা বাবা আমার সাথে ৪ মাসেও একবার যোগাযোগ করেনি। ও বলেনি আসবে। ও বলেছে আমি নাকি একবছর ওকে একটুও ভালোবাসিনি, যত্ন করিনি, টাকা দেইনি। অবহেলা করেছি, অবিশ্বাস করেছি, কষ্ট দিয়েছি। ও আমার সাথে ভালো থাকেনি এক বছর।

অনেক ভেবে চিন্তা করে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ওকে ডিভোর্স দিয়ে দিবো।
এরপর ওকে শেষবার বুঝাই। ওরা যা যা করেছে অন্যায় করেছে, ও যা যা বলেছে মিথ্যা বলেছে। নিজেদের ভুল বুঝে ক্ষমা চাইলে ওকে একটা শেষ সুযোগ দিবো।

কিন্তু ও অস্বীকার করে। ওরা যা যা করেছে ঠিক করেছে। ওর কোনো অনুশোচনা নাই। লজ্জা নাই।
এরপর আর যোগাযোগ হয়নি।
এরপর কিছুদিন পার হয়ে যায়। হঠাৎ করে আবার যোগাযোগ হয়। ও আমার কাছে ফিরে আসতে চায়। বলে যা হয়েছে এসব ভুলে যাও। আমি তোমার সাথে সংসার করতে চাই।
কিন্তু তাকে আমি বলি এতোদিন যে এসব কাহিনি করলা। এখন কেন আবার ফিরে আসতে চাও?

সে কোনো উত্তর দেয়না। কোনো ক্ষমা চায় না। তার ভুল স্বীকার করে না।
কেবল আমি আবার আসতে চাই।
ওর মা বাবা বলে দিয়েছে ওকে আমরা নাই তোর যা ইচ্ছে কর।
আমি ওকে বলে দেই তোমার সাথে আমি আর থাকবো না।
সব তোমরা ভেঙে শেষ করে দিয়েছো। এখন আর জোড়া লাগবে না।
এতো ঘটনার পরে অনুতপ্ত, অনুশোচনা নাই এইটা নিশ্চয়ই নতুন কোনো প্ল্যান। এসে আমাকে ফাঁসানোর জন্য।

এখনও ৬ মাসে ওর মা বাবা আমাকে একবারও কল দেয়নি। ওরা আমাকে একটু সম্মান করে না। ও আর সম্মান করে না।
ওর মা বাবা অনেক টাকা লোন করেছে। ব্যাংক ওদের বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেছে। ওর ভাই একটা ব্যবসা করতো সেটাও জুয়া খেলে টাকা নষ্ট করে ফেলেছে।

ওর পরিবারে অভাব অনটন তাই ও এখন আমার কাছে আসতে চায়। কিন্তু আমি আর ওকে আমার জীবনে আসতে দিবো না। কারণ আমি বুঝতে পারছি ও অনেক লোভী, ওরা লোভী, বেয়াদব। ওরা আমার জীবনটাকে জাহান্নাম বানিয়ে দিবে।

আমি দরকার হলে জায়গা বিক্রি করে কাবিনের ৮ লাখ টাকা দিবো। দরকার হলে সারাজীবন অবিবাহিত থাকবো। কিন্তু ওর সাথে আর সংসার করবো না।
আপনাদের কী মনে হয়। আমি কি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
কমেন্টে সবাই ডিভোর্সের পক্ষে। আমিও চাই। তার প্রতি, তার পরিবারের প্রতি কেবল ঘৃণা আছে। যা যা করেছে তা কোনোভাবে ভুলা সম্ভব না। আমি অনেকবার ভেবেছি তাকে একটা শেষ সুযোগ দিবো। কিন্তু তার থেকে এই ছয় মাসে কোনো অনুশোচনা পাইনি। বরং উল্টো জেদ ছিলো। নিজেদের দোষ যদি স্বীকার করতো। ক্ষমা চাইতো একটা সুযোগ দিতাম। অপরাধী তার অপরাধ বুঝে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাইলে তাকে একটা সুযোগ দেওয়া যায়। কিন্তু তার বা তার পরিবারের কোনো অনুশোচনা নাই। ভুল দোষ স্বীকার তো পরের কথা উল্টো আমাকে দোষ দেয় কেন বিয়ের পর তাদের আবদার মিটাইনি। তারা নাকি কোনো দোষ করেনি।

ও আমার প্রথম যাকে আমি স্পর্শ করেছি। আমিও ওর প্রথম পুরুষ।
তার প্রতি ভালোবাসা আছে কিনা সেটা জানি না। মায়া কাজ করে না আর।

শুধু ভাবি একটা মানুষ কীভাবে এমন একটা সুখের জীবন নষ্ট করে দিতে পারে। নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারে।
একদিন তো বুঝতে পারবে ওর মা ভাই পরিবার ওকে ব্যবহার করেছে।
তার জীবনে সামনে অনেক কষ্ট অপেক্ষা করছে।
সে বুঝতে পারবে এবং তিলে তিলে ম&রবে।
কিন্তু আমি তাকে আমার জীবনে এনে আমার জীবনটাকে আর নষ্ট করতে চাই না। কোনোকিছুরই অভাব ছিলো না আমাদের।

কেবলমাত্র একটু মানসিক শান্তি চেয়েছিলাম ওর কাছে। অনেক বুঝিয়েছি।
এখন আমি পাথর হয়ে গেছি।
এখনও ও বলে আমার সাথে থাকতে চায়।
আমাকে নাকি ভালোবাসে।
কিন্তু এতোসব অপমান, অপবাদ, এসবের কোনো জবাব নাই। কোনো কারণ বলতে পারে না।

সবকিছু তো বলা যায় না। আরও অনেক কিছু আছে। প্রচুর মিথ্যা কথা বলে। বাড়ি গেলে আমাকে না বলে মার সাথে শপিং করতে, বেড়াতে চলে যায়।
আমার সবসময় মনে হয় ওর মা ওর প্রথম স্বামী আর আমি দ্বিতীয়।
প্রতিটি পদক্ষেপ মায়ের কথা মতো নেয়। আবার সবকিছু মায়ের সঙ্গে শেয়ার করে।

যদি রাগ করে একটু কম কথা বলি সেটাও।
তবে অন্য কোনো ছেলের সঙ্গে প্রেম বা বন্ধুত্ব এমন কিছু নাই।
অনেক চেষ্টা করি কোনো কিছু পাই কিনা যেটা দিয়ে ওর সাথে সংসার করা যায়। বিশ্বাস করেন পাই না। বরং ভয় হয়, আতঙ্কিত হই। কারণ অনেক মিথ্যা দোষ দিয়েছে। যেটা আমি করিনি।
এমন এক পরিস্থিতিতে পড়েছি। বেঁচে থাকাটাই অনেক বেশি কঠিন হয়ে গেছে।
- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Niamot Al Hasan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Niamot Al Hasan:

Share