13/08/2026
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ফলাফল জানা, তবুও কোটি টাকার ভোটাভুটি!
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট ২০ আগস্ট।
ভোট চলবে মাত্র ৩ ঘণ্টা, এরপরই ফলাফল!
কিন্তু মজার বিষয়টা অন্য জায়গায়—
এই নির্বাচন হবে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ মেনেই।
৭০ অনুচ্ছেদ খুব সহজ ভাষায় কী বলে?
দলীয় মনোনয়নের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্য ভোট দিলে তার সংসদ সদস্যপদ চলে যেতে পারে। অর্থাৎ, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ কার্যত থাকে না।
এখন অংকটা মিলান—
সংসদে মোট ৩৫০ আসন। বিএনপির হাতে আছে ২৪৭টি।
ধরেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিএনপি রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করল।
তাহলে বিএনপির ২৪৭ ভোট নিয়ে খুব বেশি টেনশন করার কথা না। 😄
তার ওপর সংসদের বেশ কিছু স্বতন্ত্র সদস্যও আছেন, যাদের অনেকেই বিএনপির সাবেক বিদ্রোহী প্রার্থী। ফলে হিসাবটা আরও সহজ।
অর্থাৎ—
কে জিতবেন, সেটা ভোটের আগেই অনেকটা জানা।
তারপরও হবে নির্বাচন।
হবে ভোটাভুটি।
হবে আনুষ্ঠানিকতা।
আর খরচ হবে জনগণের টাকা!
আরেকটা তথ্য দিই—
সংসদে কার্যক্রম চলাকালে প্রতি মিনিটে প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৪ টাকা খরচ হয়—এমন তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র কমেন্ট বক্সে।
তাহলে প্রশ্নটা খুব স্বাভাবিক—
যখন নির্বাচনের ফলাফল প্রায় আগেই নির্ধারিত, তখন এই আনুষ্ঠানিক ভোটাভুটির পেছনে এত টাকা খরচ করার যৌক্তিকতা কতটুকু?
গণতন্ত্রের সৌন্দর্য কি শুধু ভোট দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতায়, নাকি ভোটটা সত্যিই স্বাধীন হওয়ার মধ্যেও?
আর এখানেই আসে জুলাই সনদ।
জুলাই সনদ কার্যকর হলে ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতেন—এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য এসেছে।
তাই যারা প্রশ্ন করেন—
“ঐকমত্য কমিশন আর আলী রীয়াজরা কী করে গেছেন?”
আমার উত্তর—
সবকিছু হয়তো নিখুঁত হয়নি।
কিন্তু ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য আনা যে ছোট অর্জন না, সেটা অন্তত স্বীকার করা যায়।
আর হ্যাঁ, এখানে চাইলে বিরোধী দলকেও একটু গালাগালি করতে পারেন! 😂
কারণ কর্নেল অলিকে প্রার্থী না করলে, এই নির্বাচনটা এতটা “জানা ফলের অজানা নাটক” হয়ে উঠত না!
শেষ কথা—
যে ভোটের ফলাফল ভোটের আগেই মোটামুটি জানা, সেই ভোটের আনুষ্ঠানিকতার পেছনে জনগণের কোটি কোটি টাকা খরচ—এটা কি সত্যিই গণতন্ত্র, নাকি গণতন্ত্রের আমলাতান্ত্রিক সংস্করণ?