06/04/2025
গল্পের নাম: “চিঠির শহর”
রূপম আর আয়েশার দেখা হয়েছিল এক অদ্ভুত জায়গায়—একটা পুরনো পোস্ট অফিসের সামনের বেঞ্চিতে। দু’জনই সেখানে এসেছিল ভুল করে, কারণ দুজনেই ভেবেছিল ওই পোস্ট অফিস এখনো খোলা আছে। অথচ সেটা বন্ধ হয়ে গেছে অনেক বছর আগেই।
রূপম ছিল এক জনমুখচোরা লেখক, যার লেখাগুলো কেবল তার ডায়েরিতেই বন্দি থাকত। আর আয়েশা ছিল একজন পুরনো দিনের চিঠি সংগ্রাহক—সে বিশ্বাস করত, একেকটা চিঠি একেকটা সময়ের জানালা।
সেদিন বেঞ্চিতে বসে কথা শুরু হলো—সাধারণ “আপনি এসেছেন এখানে কেন?” থেকে শুরু করে “আপনি শেষ কবে কাউকে চিঠি লিখেছেন?” অবধি।
তারপর প্রতি শনিবার, ঠিক বিকেল চারটায়, ওরা আসত সেই পুরনো পোস্ট অফিসের সামনে। কেউ কাউকে কিছু বলত না—কেবল একটা খাম দিত, যাতে লেখা থাকত এক সপ্তাহের অনুভব, না বলা কথা, অল্প কিছু স্বপ্ন।
চিঠি চালাচালির সেই সম্পর্ক কখনো ফোনে গড়ায়নি, কখনো সেলফিতে বন্দি হয়নি, কেবল খামে খামে জমেছে ভালোবাসা।
একদিন হঠাৎ রূপম আসা বন্ধ করে দিল।
আয়েশা তিন সপ্তাহ ধরে গিয়েছিল, খালি বেঞ্চে বসে অপেক্ষা করত, আবার ফিরে আসত। চতুর্থ সপ্তাহে সে খুঁজে পেল একটি খাম বেঞ্চের নিচে লুকানো। রূপম লিখেছিল—
"আয়েশা, আমি চলে যাচ্ছি অন্য শহরে, কিন্তু চিঠিগুলো থাকবে। তোমার ভালোবাসা থাকুক সেই পুরনো কাগজের গন্ধে। যদি কোনোদিন মনে হয়, চিঠির শহর আবার গড়তে চাই, আমি ঠিক সেই পুরনো পোস্ট অফিসেই অপেক্ষা করব।"
দুই বছর পর, এক শীতের বিকেলে, বেঞ্চে আবার দুটো চা রাখা ছিল। কেউ কিছু বলেনি, শুধু হাতে খামটা দিয়ে চুপচাপ বসে ছিল।
চিঠির শহরে, শব্দ ছাড়াও ভালোবাসা লেখা যায়।