১১৪ টি সূরা অনুবাদ

১১৪ টি সূরা অনুবাদ সূরা তিলাওয়াত
Surah recitation
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ|

হযরত মূসা (আঃ) ও এক নিঃসন্তান মহিলার কাহিনী। অবিচল আশা: হযরত মূসা (আঃ) ও নিঃসন্তান বৃদ্ধার কাহিনী |একদা আল্লাহর নবী হযরত...
02/12/2025

হযরত মূসা (আঃ) ও এক নিঃসন্তান মহিলার কাহিনী।

অবিচল আশা: হযরত মূসা (আঃ) ও নিঃসন্তান বৃদ্ধার কাহিনী |

একদা আল্লাহর নবী হযরত মূসা (আঃ) বনি ইসরাইলদের মাঝে আল্লাহর একত্ব (তাওহিদ) এবং আল্লাহর পথে চলার দাওয়াত দিচ্ছিলেন। হঠাৎ এক বৃদ্ধ মহিলা তাঁর কাছে এসে কাঁদতে কাঁদতে বললেন:

"হে আল্লাহর নবী! আমি বহু বছর ধরে আল্লাহর কাছে সন্তান চাইছি। কিন্তু কখনো আমার দোয়া কবুল হয়নি। দয়া করে আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, যেন আমিও মা হতে পারি।"

হযরত মূসা (আঃ) বৃদ্ধার আকুতি শুনে খুবই মর্মাহত হলেন। তিনি সোজা আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করলেন: "হে আমার প্রভু! এই বৃদ্ধ মহিলাটি বহু বছর ধরে সন্তান চাচ্ছে। তুমি কি তার প্রার্থনা কবুল করবে না?"

আল্লাহ তা'আলা ওহী পাঠালেন:

“হে মূসা! আমি তার জন্য লিখে দিয়েছি—সে নিঃসন্তান থাকবে। এটা আমার ফয়সালা।”

হযরত মূসা (আঃ) ব্যথিত হৃদয়ে সেই কথাটি বৃদ্ধাকে জানালেন।

বৃদ্ধা এই কঠিন কথাটি শুনে আবার কেঁদে ফেললেন। তবুও তাঁর মুখে ছিল অটল ঈমান ও ভরসা। তিনি অশ্রুসজল নয়নে বললেন: “আমি জানি আমার রব দয়ালু। তিনি চাইলে ভাগ্যও পরিবর্তন করে দিতে পারেন।”

আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা রেখে বৃদ্ধা চলে গেলেন।

কয়েক দিন পর সেই বৃদ্ধা আবার হযরত মূসা (আঃ)-এর কাছে এলেন এবং একই আবেদন জানালেন। মূসা (আঃ) আবার তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন।

আল্লাহ তা'আলা আবারও ওহী পাঠালেন: “হে মূসা! আমিতো বলেছি, তিনি নিঃসন্তান থাকবেন।”

হযরত মূসা (আঃ) এবার বিনয়ের সাথে আরজ করলেন: “হে আমার প্রভু! এই বান্দীটি তোমার রহমতের আশা ছাড়ছে না। তোমার প্রতি তার ভরসা এতটাই অটুট!”

বান্দীর এই অবিরাম আশা এবং আল্লাহর প্রতি দৃঢ় ঈমানের দৃশ্য দেখে আল্লাহ তা'আলার দয়া উত্তাল হয়ে উঠলো! আল্লাহ বললেন:

“হে মূসা! আমি তার নিয়তি বদলে দিলাম। আমি তার জন্য সন্তান নির্ধারণ করেছি।”

কিছু দিন পর বৃদ্ধা গর্ভবতী হলেন। যখন তাঁর কোলে সন্তান এলো, তখন তিনি আনন্দে কেঁদে ফেললেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন:

"সুবহানাল্লাহ! আমার রব সত্যিই দয়ালু ও ক্ষমাশীল!"

হযরত মূসা (আঃ) তখন বললেন: "আল্লাহর রহমতের দরজা কখনও বন্ধ হয় না। বান্দা যদি অবিরাম আশা রাখে, তবে আল্লাহ তাকে অবশ্যই আশীর্বাদ দেন। আল্লাহর রহমত থেকে কখনও নিরাশ হওয়া উচিত নয়। দোয়া কখনও সাথে সাথে কবুল হয়, আবার দেরিতে কবুল হয়—কিন্তু দোয়া কখনো বৃথা যায় না। ভাগ্য আল্লাহর হাতে; তিনি চাইলে তা বদলে দিতে পারেন।"

শিক্ষা:
আল্লাহর প্রতি অবিরাম আশা ও অটল বিশ্বাস রাখলে, আল্লাহ্‌র দয়া নিয়তিকেও পরিবর্তন করে দিতে পারে। আল্লাহর রহমত থেকে কখনও নিরাশ হওয়া উচিত নয়।

হযরত মূসা (আঃ) ও ৩৬০ বছর বয়সী শিশুর গল্প ।⏳ স্বল্প জীবনের দীর্ঘ আমল: হযরত মূসা (আঃ) ও অলৌকিক শিশু 🌟একদা আল্লাহর নবী হযর...
02/12/2025

হযরত মূসা (আঃ) ও ৩৬০ বছর বয়সী শিশুর গল্প ।

⏳ স্বল্প জীবনের দীর্ঘ আমল: হযরত মূসা (আঃ) ও অলৌকিক শিশু 🌟

একদা আল্লাহর নবী হযরত মূসা (আঃ) তাঁর প্রভু আল্লাহ্‌র সাথে কথা বলছিলেন। একান্তে আলাপকালে মূসা (আঃ) জিজ্ঞাসা করলেন:

“হে আল্লাহ! আপনি তো সর্বজ্ঞ। আপনি কি এমন কাউকে দেখিয়েছেন, যার বয়স খুবই ছোট, অথচ তার আমল (নেক কাজ) অনেক দীর্ঘ?”

আল্লাহ তা'আলা উত্তর দিলেন:
“হে মূসা! তুমি পাহাড়ের পেছনে যাও। সেখানে একটি বালক আছে, তাকে দেখে আসো।”

আদেশ পেয়ে হযরত মূসা (আঃ) সেই নির্দিষ্ট স্থানে গেলেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখলেন এক সুন্দর ছোট্ট শিশু। তার চেহারায় নূরের আলো, পরনে পরিষ্কার পোশাক। কিন্তু আশেপাশে তার কোনো অভিভাবক বা পরিবার নেই।

হযরত মূসা (আঃ) বিস্মিত হয়ে শিশুটিকে জিজ্ঞেস করলেন: “হে শিশু, তুমি এখানে একা কেন? তোমার বাবা-মা কোথায়?”

শিশুটির কণ্ঠস্বর ছিল নরম ও বিনীত। সে বললো: “হে আল্লাহর নবী! আমি জন্ম থেকেই এখানে আছি। আল্লাহ তা'আলা নিজেই আমাকে প্রতিপালন করছেন। প্রতিদিন পাখিরা আমাকে খাবার এনে দেয়, আর ঝর্ণা পানি দিয়ে আমি তৃষ্ণা নিবারণ করি।”

মূসা (আঃ) অবাক হলেন এবং আল্লাহর আদেশে তিনি শিশুটির সঙ্গে কিছু সময় কাটালেন।

অলৌকিক সমাপ্তিঃ

কিছুক্ষণ পর আল্লাহ তা'আলা ওহী পাঠালেন:
“হে মূসা! এই শিশুটি আমার একজন বিশেষ বান্দা। তার মৃত্যু হয়েছে। এখন তুমি তার জানাজা পড়ো।”

মূসা (আঃ) আরও বেশি বিস্মিত হলেন। তিনি বললেন: “হে আল্লাহ! এ তো এখনও শিশু! সদ্য জন্ম নেওয়া এই ছোট শিশুর জানাজা পড়তে বলছেন?”

আল্লাহ তা'আলা উত্তর দিলেন:

“হে মূসা! আমার কাছে সময় ও বয়স মানুষের মতো নয়। আমি তাকে এমন এক বিশেষ জীবন দিয়েছিলাম, যাতে সে স্বল্প সময়েই ৩৬০ বছরের আমল একদিনের মধ্যে পূর্ণ করে নিতে পারে।”

আল্লাহর এই কুদরত দেখে হযরত মূসা (আঃ) বুঝতে পারলেন, জীবন দীর্ঘ হওয়াটাই আসল নয়; আসল হলো জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে পূর্ণ করা।

☁️ চতুর্থ আসমানের যাত্রী: হযরত ইদ্রিস (আঃ)-এর অলৌকিক সমাপ্তি ।☁️হযরত ইদ্রিস (আঃ): চতুর্থ আসমানের যাত্রী ও চিরস্থায়ী জান...
01/12/2025

☁️ চতুর্থ আসমানের যাত্রী: হযরত ইদ্রিস (আঃ)-এর অলৌকিক সমাপ্তি ।

☁️হযরত ইদ্রিস (আঃ): চতুর্থ আসমানের যাত্রী ও চিরস্থায়ী জান্নাতবাস ।

হযরত ইদ্রিস (আঃ) ছিলেন মানবজাতির আদি পিতা হযরত আদম (আঃ)-এর ষষ্ঠ প্রজন্মের বংশধর এবং তাঁর পরবর্তীকালের মহান নবী। তিনি ছিলেন আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় বিশেষ অনুগ্রহপ্রাপ্ত।

তাঁর নামঃ-
তাঁর আসল নাম ছিল আখনূখ (অথবা হানোখ)। তিনি অত্যন্ত বেশি পড়াশোনা করতেন এবং আল্লাহর কিতাব পাঠ করতেন।

এই তথ্যগুলো হযরত ইদ্রিস (আঃ)-এর জ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা এবং আল্লাহর সাথে তাঁর বিশেষ মর্যাদার প্রমাণ বহন করে।

জ্ঞান ও সভ্যতার ভিত্তিপ্রস্তরঃ
ইদ্রিস (আঃ) ছিলেন মানব ইতিহাসের এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। আল্লাহ্‌র হুকুমে তিনি সমাজকে স্থবিরতা থেকে সভ্যতার দিকে নিয়ে যান। তিনি ছিলেন:

প্রথম লেখক: তিনিই সর্বপ্রথম কলম ব্যবহার করে লেখার কাজ শুরু করেন।

প্রথম দর্জি: তিনি সুই-সুতার সাহায্যে চামড়া ও কাপড় সেলাই করে পোশাক তৈরি করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন, যা মানবসভ্যতার পোশাক পরিধানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে।

গণনাবিদ: প্রাথমিক গণিত ও গণনা বিদ্যার ভিত্তি স্থাপন করে তিনি মানুষকে হিসাব-নিকাশ শেখান।

শহর নির্মাতা: কিছু বর্ণনা মতে, তিনি বিভিন্ন স্থানে শহর নির্মাণ করেন, এমনকি মিশর ও তার আশেপাশে সভ্যতার গোড়াপত্তন করেন।

দাওয়াত ও ইবাদতের পরাকাষ্ঠাঃ
দাওয়াত ও ইবাদতের পরাকাষ্ঠা হলো মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা এবং নিজেও সৎকর্ম ও ইবাদতে মশগুল থাকা।
হযরত ইদ্রিস (আঃ) তাঁর জাতিকে প্রায় তিন শত বছর ধরে এক আল্লাহ্‌র ইবাদতের দিকে দাওয়াত দিয়েছিলেন এবং মানুষকে রোজা রাখার জন্য উৎসাহিত করতেন। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তিনি এত বেশি রোজা রাখতেন যে একসময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন।
তাঁর জীবন ছিল আল্লাহ্‌র প্রতি পরিপূর্ণ উৎসর্গীকৃত।

আসমানে আরোহণ ও শেষ যাত্রাঃ
হযরত ইদ্রিস (আঃ)-এর এই একনিষ্ঠতা ও ইবাদতের কারণে আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীন তাঁকে এক বিশেষ মর্যাদা দান করেন। একদিন, অলৌকিকভাবে তাঁকে জীবিত অবস্থায় চতুর্থ আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়।

মালাকুল মাউতের সাথে কথোপকথনঃ
ইবনে কাসীর (রহঃ) এর বর্ণনায় একটি চমকপ্রদ ঘটনা পাওয়া যায়, যা তাঁর আসমানে আরোহণের সাথে সম্পর্কিত:

বর্ণনা অনুসারে, মালাকুল মাউত আল্লাহর কাছে অনুমতি চাইলেন ইদ্রিস (আঃ)-এর সাথে দেখা করার জন্য।

সাক্ষাৎকালে ইদ্রিস (আঃ) মালাকুল মাউতকে অনুরোধ করেন তাঁকে জান্নাত ও জাহান্নাম দেখানোর জন্য।

আল্লাহর নির্দেশে মালাকুল মাউত প্রথমে তাঁকে জাহান্নাম দেখান। জাহান্নামের ভয়াবহ দৃশ্য দেখে তিনি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চান।

এরপর তাঁকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হয়। জান্নাতের সৌন্দর্য দেখার পর তিনি সেখানে প্রবেশ করেন এবং আর বের হতে রাজি হননি।

মালাকুল মাউত তাঁকে বের হতে বললে ইদ্রিস (আঃ) বলেন, আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, "প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে" (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫)। আমি তো মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করে ফেলেছি। আর আল্লাহ বলেছেন, "তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করার পর তা থেকে আর বের হবে না" (সূরা হিজর, আয়াত ৪৮)।

এই যুক্তিতর্কের পর আল্লাহ তা'আলা ইদ্রিস (আঃ)-কে জান্নাতেই থাকার অনুমতি দেন। এই বর্ণনাটি যদিও মুহাদ্দিসদের দ্বারা বিতর্কিত, তবে এটি ইদ্রিস (আঃ)-এর জ্ঞান ও আল্লাহ্‌র প্রতি তাঁর ভালোবাসা ফুটিয়ে তোলে।
সেখানে তিনি মালাকুল মাউতের (মৃত্যুর ফেরেশতা) সাথে সাক্ষাৎ লাভ করেন, জান্নাতও দেখেন এবং এরপর আল্লাহর ইচ্ছায় মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করেন। কিন্তু এরপর যখন তাঁর রূহ (প্রাণ) আবার তাঁর দেহে ফিরে আসে, তখন তিনি আর জমিনে ফিরে আসেননি। তিনি সারাজীবনের জন্য সেখানেই থেকে যান।

পবিত্র কোরআনের সূরা মারইয়ামের ৫৬ থেকে ৫৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর এই সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করে বলেন:

"আর কিতাবে ইদ্রীসের কথা আলোচনা করুন, তিনি ছিলেন সত্যবাদী নবী। আর আমি তাঁকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছিলাম।"

এভাবেই হযরত ইদ্রিস (আঃ) তাঁর পার্থিব জীবন সমাপ্ত করে এক অভূতপূর্ব ও সম্মানজনক উপায়ে আল্লাহ্‌র সান্নিধ্যে চিরস্থায়ী হলেন।

💧 হযরত উসমান (রাঃ) ও রূমার কূপের দান: জান্নাতের সুসংবাদ |    হযরত উসমান (রাঃ) ও দানের মহিমা ।ইসলামের ইতিহাসে দানের গুরুত...
01/12/2025

💧 হযরত উসমান (রাঃ) ও রূমার কূপের দান: জান্নাতের সুসংবাদ |
হযরত উসমান (রাঃ) ও দানের মহিমা ।

ইসলামের ইতিহাসে দানের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম, বিশেষ করে যখন সেই দান হয় একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রাঃ) ছিলেন সেইসব সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম, যিনি নিজের সম্পদ আল্লাহর পথে বিলিয়ে দিয়ে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

তখন মদিনায় ছিল পানির তীব্র সংকট। সাধারণ মানুষ ছিল পানীয় জলের জন্য একটি মাত্র কূপের উপর নির্ভরশীল, যা ‘রূমার কূপ’ নামে পরিচিত ছিল। কূপটির মালিক ছিলেন একজন ইহুদি ব্যবসায়ী। পানির এই সংকটকালে তিনি কূপটির পানি উচ্চমূল্যে বিক্রি করতেন, যার ফলে মদিনার গরিব ও সাধারণ মানুষের খুব কষ্ট হচ্ছিল।

মহামানব মুহাম্মাদ (সাঃ) এই কষ্ট দেখে অত্যন্ত ব্যথিত হলেন এবং ঘোষণা করলেন: “যে ব্যক্তি এই রূমার কূপটি কিনে নেবে এবং মুসলিমদের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে, তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত।”

এই সুসংবাদ শুনে হযরত উসমান (রাঃ) কালবিলম্ব না করে এগিয়ে এলেন। তিনি সেই ইহুদি ব্যবসায়ীর কাছে গেলেন এবং কূপটি কেনার প্রস্তাব দিলেন। প্রথমে ইহুদি ব্যবসায়ী পুরো কূপটি বিক্রি করতে রাজি হননি, কারণ এটি ছিল তার আয়ের একমাত্র উৎস।

তখন হযরত উসমান (রাঃ) এক অভিনব প্রস্তাব দিলেন। তিনি পুরো কূপটি না কিনে কূপটির অর্ধেক মালিকানা বিপুল অর্থের বিনিময়ে কিনে নিলেন।

এরপর হযরত উসমান (রাঃ) ঘোষণা করলেন: “আমার অংশের পানির জন্য সকল মুসলিম স্বাধীন। আজ থেকে এক দিন আমার এবং এক দিন ইহুদির।”

ফলে, যেদিন উসমান (রাঃ)-এর পালা থাকত, সেদিন মুসলিমরা সারাদিনের জন্য বিনা বাধায় যত খুশি পানি পান করতেন এবং পরের দিনের জন্য জমিয়ে রাখতেন। এতে ইহুদি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আর কাউকে পানি কিনতে হচ্ছিল না।

ব্যবসায়টি লোকসানের মুখে পড়লে, অবশেষে ইহুদি ব্যবসায়ী বাকি অর্ধেক কূপটিও হযরত উসমান (রাঃ)-এর কাছে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন।

হযরত উসমান (রাঃ) পুরো কূপটির মালিক হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই সেই কূপটি পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্য উন্মুক্ত করে দিলেন। সবাই বিনা মূল্যে, বিনা বাধায়, যখন খুশি পানি পান করার সুযোগ পেলেন।

এই মহান ও নিঃস্বার্থ দানের প্রতি আল্লাহর রাসূল (সাঃ) অত্যন্ত সন্তুষ্ট হলেন এবং পূর্বে ঘোষিত সেই জান্নাতের সুসংবাদ নিশ্চিত করলেন।

এই ঘটনা প্রমাণ করে, হযরত উসমান (রাঃ)-এর দান শুধুমাত্র সম্পদ দেওয়া ছিল না; বরং এটি ছিল মানবিক সহমর্মিতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং আল্লাহর পথে ত্যাগের প্রতীক। আল্লাহর পথে দান সত্যিই কখনো বৃথা যায় না এবং এর ফল অসীম। আমাদের উচিত নিজ অর্থ বা সম্পদ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।

কূপ ক্রয়: হযরত উসমান (রাঃ) ইহুদির কাছ থেকে ৩৫ হাজার দিরহাম মূল্যে কূপটি কিনে নেন এবং এটিকে মুসলমানদের জন্য ওয়াকফ করে দেন।

জান্নাতের সুসংবাদ:রুমা কূপ ক্রয়ের মাধ্যমে হযরত উসমান (রাঃ)-কে জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়।

বর্তমান অবস্থা: আজও এই কূপটি "উসমানের কূপ" নামে পরিচিত এবং এর পাশে গড়ে ওঠা খেজুর বাগানটি বর্তমানে সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এই বাগান থেকে প্রাপ্ত আয়ের একটি অংশ এতিম ও গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

শিক্ষা:
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ছোট বা বড়, মানুষের কল্যাণে করা প্রত্যেকটি দানই আল্লাহর নিকট অত্যন্ত মূল্যবান এবং এর বিনিময়ে জান্নাতের সুসংবাদ লাভ করা যায়। মানুষের উপকারে দান করুন,আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করুন।

হযরত মূসা (আঃ)-এর বিয়ের ঘটনা।💍 মাদইয়ানের কূপে: হযরত মূসা (আঃ)-এর বিয়ের ঘটনা lএকসময়, যখন ফেরাউন আল্লাহর নবী হযরত মূসা ...
30/11/2025

হযরত মূসা (আঃ)-এর বিয়ের ঘটনা।

💍 মাদইয়ানের কূপে: হযরত মূসা (আঃ)-এর বিয়ের ঘটনা l

একসময়, যখন ফেরাউন আল্লাহর নবী হযরত মূসা (আঃ)-কে হত্যা করার আদেশ দিল, তখন আল্লাহর নির্দেশে তিনি মিশর থেকে বের হয়ে গেলেন। দীর্ঘ এবং ক্লান্তিকর ভ্রমণের পর, তিনি মাদইয়ান-এর নিকটবর্তী একটি কূপের কাছে পৌঁছালেন।

সেখানে তিনি দেখতে পেলেন, একদল রাখাল তাদের পশুদের পানি পান করাচ্ছে। মূসা (আঃ) যখন মাদইয়ান শহরে প্রবেশ করেন, তখন একটি কূপের কাছে ভিড়ের মধ্যে দুই বোনকে অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। তারা দুইজন ছিলো লাজুক ও ধর্মপরায়ণ তরুণী তাদের ছাগলগুলোকে ধরে রেখে দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের পশুদের পানি পান করানো হচ্ছিল না, কারণ রাখালরা তাদের পশুদের পানি পান করানোর পর তারা পানি নিতে পারত না।

হযরত মূসা (আঃ) নরম সুরে তাদের জিজ্ঞেস করলেন: “তোমরা তোমাদের পশুদের পানি দিচ্ছ না কেন?”

তরুণী দুজন উত্তর দিলেন: “আমরা দুর্বল, তাই সমস্ত রাখাল লোক যখন তাদের পশুদের পানি পান করিয়ে চলে যায়, তখন আমরা পানি দিই। আর আমাদের বাবা অনেক বৃদ্ধ, আমরা নিজেরা কূপের মুখ থেকে বড় পাথর সরাতে পারি না।”

তাদের কথা শুনে হযরত মূসা (আঃ)-এর মনে গভীর করুণা জাগল। তিনি এগিয়ে গেলেন। কূপের মুখে যে বিশাল পাথরটি রাখা ছিল, যা সরাতে সাধারণত একদল লোকের প্রয়োজন হতো, আল্লাহর সাহায্যে তিনি একাই সেই পাথরটি সরিয়ে ফেললেন।

এরপর তিনি মাত্র এক বালতি পানি তুললেন। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা সেই এক বালতি পানিতে এমন বরকত দান করলেন যে, তাতে সেই দুই তরুণীর সব পশু পরিতৃপ্ত হলো।

মেয়েরা এই অলৌকিক শক্তি দেখে বিস্মিত ও কৃতজ্ঞ হয়ে দ্রুত বাড়ি ফিরে গেলেন। তারা তাদের বাবা—আল্লাহর নবী হযরত শোয়াইব (আঃ)-এর কাছে পুরো ঘটনা জানালেন। শোয়াইব (আঃ) তাদের কাছ থেকে হযরত মূসা (আঃ)-এর অসাধারণ শক্তি ও সততার কথা জানতে চাইলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, এই লোকটি সাধারণ কেউ নন।

তিনি মেয়েদের বললেন, “যাও, সেই নেক হৃদয়ের লোকটিকে আমার কাছে ডেকে আনো।”

আল্লাহর নির্দেশে মূসা (আঃ) যখন হযরত শোয়াইব (আঃ)-এর কাছে পৌঁছালেন, তখন শোয়াইব (আঃ) তাঁর কথাবার্তা, চরিত্র এবং চেহারার নূর দেখে বুঝতে পারলেন—তিনি আল্লাহর প্রদত্ত জ্ঞান ও নেকীর অধিকারী এক অসাধারণ পুরুষ।

এরপর আল্লাহ তা’আলার নির্দেশে শোয়াইব (আঃ) হযরত মূসা (আঃ)-এর কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। তিনি বললেন, আমার এই দুই মেয়ের মধ্যে একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই। হযরত মূসা আঃ) এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং হযরত শোয়াইব (আঃ) তাকে তার একটি মেয়েকে বিয়ে করতে দেন।

বিয়ের শর্ত: বিয়ের শর্ত হিসেবে স্থির হলো যে, মূসা (আঃ)-কে মোহরানা স্বরূপ হযরত শোয়াইব (আঃ)-এর বাড়িতে আট বছর কাজ করতে হবে, তবে তিনি যদি চান, তবে দশ বছরও পূর্ণ করতে পারেন।

এইভাবে, আল্লাহর দুই নবী বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। হযরত মূসা (আঃ) সেখানে কাজ করলেন এবং জ্ঞান অর্জন করলেন, যা তাঁকে ভবিষ্যতের নবুওয়াতের জন্য প্রস্তুত করে তুলল।

শিক্ষা:
বিপদে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখলে তিনি অচেনা স্থানেও সাহায্যের দরজা খুলে দেন এবং জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নেক চরিত্র ও সততাই হলো প্রধান শর্ত।

এক দিন হযরত মূসা (আ:) দীর্ঘ সফরে বের হলেন।🌧️ অবাধ্য বান্দা ও আল্লাহর দয়ার গল্প: মেঘে ঢাকা দিনে 🤲একবার আল্লাহর নবী হযরত ...
30/11/2025

এক দিন হযরত মূসা (আ:) দীর্ঘ সফরে বের হলেন।
🌧️ অবাধ্য বান্দা ও আল্লাহর দয়ার গল্প: মেঘে ঢাকা দিনে 🤲
একবার আল্লাহর নবী হযরত মূসা (আঃ) এক দীর্ঘ সফরে বের হলেন। তিনি পথ চলছিলেন, এমন সময় হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গেল এবং শুরু হলো প্রবল বর্ষণ। চারপাশ অন্ধকার হয়ে এলো। বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে মূসা (আঃ) আশ্রয়ের খোঁজে একটি বড় গাছের নিচে দাঁড়িয়ে গেলেন।
ঠিক সেই মুহূর্তে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি এক আহ্বান ভেসে এলো:
“হে মূসা (আঃ)! সামনের ঝোপটির মধ্যে একটি কুটির দেখছো? সেখানে গিয়ে দরজাটি বন্ধ করে দাও।”
আল্লাহর এই আদেশ পেয়ে মূসা (আঃ) দ্রুত এগিয়ে গেলেন। দরজা পর্যন্ত পৌঁছে তিনি উঁকি দিয়ে দেখলেন—ভিতরে এক ব্যক্তি গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে। তিনি নিঃশব্দে দরজাটি বন্ধ করে দিলেন, যেন বৃষ্টির একটি ফোঁটাও লোকটির শরীরে না পড়ে।
কাজ শেষ করে তিনি আবার ফিরে এসে গাছের নিচে দাঁড়ালেন। এরপর মূসা (আঃ) বিনীত কণ্ঠে আল্লাহকে বললেন:
“হে আল্লাহ! এই ব্যক্তি কি আমার থেকেও বেশি পরহেজগার, যার জন্য আপনি আমাকে তার সেবায় পাঠালেন?”
আল্লাহ তা’আলা উত্তর দিলেন:
“না, হে মূসা! সে আমার অবাধ্য বান্দা। আমি তার ওপর খুবই অসন্তুষ্ট।”
এই কথা শুনে মূসা (আঃ) বিস্মিত হলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন:
“তাহলে, হে আল্লাহ! আপনি কেন আমাকে তার দরজা বন্ধ করতে পাঠালেন?”
আল্লাহর কণ্ঠস্বর ভেসে এলো:
“হে মূসা! যদি একটি বৃষ্টির ফোঁটাও তার শরীরে পড়তো, তখন সে আমার নাম নিয়ে আমাকে ডাকতো। আর আমি আমার নামের মর্যাদার জন্য তাকে সাথে সাথে ক্ষমা করে দিতাম। আমি চাইনি যে আমার অবাধ্য বান্দাটি আমাকে ডাকার সুযোগ পাক।”
আল্লাহর এই কথা শুনে মূসা (আঃ)-এর চোখে পানি চলে আসলো। তিনি কাঁপা কণ্ঠে বললেন:
“হে আল্লাহ! আপনি কত না মহান! নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষমাদানকারী।”
এরপর তিনি বিনয়ের সঙ্গে তাকবীর উচ্চারণ করলেন: “আল্লাহু আকবার!”
শিক্ষা:
আল্লাহর নাম ও দয়ার মর্যাদা এত বেশি যে, তাঁর কাছে এক মুহূর্তের জন্য ক্ষমা চাওয়া বা তাঁর নাম উচ্চারণ করাও অবাধ্য বান্দাকে মহাক্ষমা লাভের সুযোগ এনে দিতে পারে। আল্লাহর দয়া তাঁর ক্রোধের চেয়ে অনেক বেশি ব্যাপক।

🕌 হযরত ইব্রাহীম (আঃ)ও হযরত ইসমাঈল (আঃ)। ঘরের চৌকাঠ ও পারিবারিক বরকত: দুই পুত্রবধূর গল্প 🕌🕌 ঘরের চৌকাঠ: হযরত ইব্রাহীম (আঃ...
29/11/2025

🕌 হযরত ইব্রাহীম (আঃ)ও হযরত ইসমাঈল (আঃ)। ঘরের চৌকাঠ ও পারিবারিক বরকত: দুই পুত্রবধূর গল্প 🕌

🕌 ঘরের চৌকাঠ: হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর পারিবারিক শিক্ষা

যখন হযরত ইসমাইল (আঃ)জন্মগ্রহণ করেন,তখন হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর বয়স ছিল ৮৬ বছর। মহান নবী হযরত ইব্রাহীম (আঃ)আল্লাহর নির্দেশে তাঁর স্ত্রী হাজেরা (আঃ) এবং শিশুপুত্র হযরত ইসমাঈল (আঃ) কে মক্কার জনমানবহীন প্রান্তরে রেখে এসেছিলেন। বহু বছর পর,যখন ইসমাঈল (আঃ)বড় হলেন এবং বিবাহ করলেন,তখন ইব্রাহীম (আঃ)একদিন পুত্রকে দেখতে মক্কায় এলেন।

হযরত ইব্রাহীম (আঃ)ও হযরত ইসমাইল (আঃ)এর পরিবার সম্পর্কিত ঘটনাগুলো হলো আল্লাহর নির্দেশে ইব্রাহীম (আঃ)তার স্ত্রী হাজেরাকে ও নবজাতক পুত্র ইসমাইলকে মক্কার জনমানবহীন প্রান্তরে রেখে আসা, সেখানে হাজেরার সংগ্রাম, যমযম কূপের সৃষ্টি এবং পরবর্তীতে ইব্রাহীম (আঃ)কর্তৃক নিজ পুত্রকে আল্লাহর নামে উৎসর্গ করার এক চরম পরীক্ষামূলক ঘটনা। এই ঘটনাগুলো ত্যাগ,বিশ্বাস এবং আল্লাহর প্রতি নির্ভরতার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

প্রথম visit: অকৃতজ্ঞতা
ইব্রাহীম (আঃ)যখন ইসমাঈল (আঃ)-এর বাড়িতে পৌঁছলেন,তখন তাঁর পুত্র বাড়িতে ছিলেন না। দরজায় ছিলেন তাঁর প্রথম পুত্রবধূ।

ইব্রাহীম (আঃ)জিজ্ঞেস করলেন,“তোমার স্বামী কোথায়?”

পুত্রবধূ উত্তর দিলেন,“তিনি শিকার করতে গেছেন।”

এরপর ইব্রাহীম (আঃ)ঘরের হালচাল জানতে চাইলেন। পুত্রবধূ বিরক্তিমাখা কণ্ঠে বললেন,“আমাদের অবস্থা মোটেও ভালো না। আমরা ঠিকমতো খেতেও পাই না,আপনি তো দেখতেই পারছেন।”তিনি দারিদ্র্য ও অভাবের অভিযোগ করলেন,যা তাঁর কন্ঠস্বরে ছিল কেবল অভাব ও অসন্তুষ্টির ছাপ।

ইব্রাহীম (আঃ)তাঁর পুত্রবধূর এই অকৃতজ্ঞতা ও অভিযোগ শুনে আর কিছু বললেন না। তিনি চলে যেতে লাগলেন এবং শুধু বললেন:“তোমার স্বামী ফিরে এলে তাকে বলো—সে যেন তার ঘরের চৌকাঠ বদলে ফেলে।”

ইসমাঈল (আঃ)শিকার থেকে ফিরে এসে স্ত্রীর কাছ থেকে ঘটনাটি শুনলেন। তিনি ছিলেন আল্লাহর নবী এবং পিতার ইশারা বুঝতে পারলেন। তিনি বুঝে গেলেন যে,‘ঘরের চৌকাঠ পরিবর্তন’বলতে তাঁর অসন্তুষ্ট স্ত্রীকে বুঝানো হয়েছে। এই অসন্তুষ্টি ও অকৃতজ্ঞতা পারিবারিক জীবনে অশান্তি ও অনৈক্য সৃষ্টি করছিল।

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং পিতার নির্দেশের তাৎপর্য বুঝে ইসমাঈল (আঃ) সেই স্ত্রীকে তালাক দিলেন।

দ্বিতীয় visit:সন্তুষ্টি ও আতিথেয়তা-কৃতজ্ঞতা ও বরকতের নিদর্শন ✅

কিছুকাল পর হযরত ইসমাঈল (আঃ)আবার বিবাহ করলেন। এরপর একদিন ইব্রাহীম (আঃ)পুনরায় পুত্রকে দেখতে তাঁর বাড়িতে এলেন। এবারও ইসমাঈল (আঃ)বাড়িতে ছিলেন না। দরজায় এলেন তাঁর নতুন পুত্রবধূ।

ইব্রাহীম (আঃ)জিজ্ঞাসা করলেন,“তোমার স্বামী কোথায়?”

পুত্রবধূ অত্যন্ত বিনয়ী ও সুন্দরভাবে উত্তর দিলেন,“তিনি শিকার করতে গেছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা খুব ভালো ও শান্তিতে আছি।”

তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে ইব্রাহীম (আঃ)-কে দুধ ও মাংস খেতে এনে দিলেন। যদিও তিনি জানতেন না যে তিনি একজন নবী এবং তাঁর স্বামীর পিতা। তাঁর আতিথেয়তা ছিল আন্তরিক ও নিঃস্বার্থ।

হযরত ইব্রাহীম (আঃ)পুত্রবধূর এই ভদ্রতা,কৃতজ্ঞতা ও সুন্দর আতিথেয়তায় অত্যন্ত খুশি হলেন। তিনি তাঁকে আশীর্বাদ করলেন এবং বললেন, “তোমার স্বামী ফিরে এলে তাকে আমার সালাম জানাবে। আর বলবে—তার ঘরের চৌকাঠ এখন ঠিক আছে।”

ইসমাঈল (আঃ) বাড়ি ফিরে স্ত্রীর কাছ থেকে ঘটনাটি শুনলেন। তিনি অত্যন্ত আনন্দের সাথে বললেন,“যিনি তোমার কাছে এসেছিলেন,তিনি আমার পিতা—আল্লাহর নবী হযরত ইব্রাহীম (আঃ)। তিনি কাবাঘর নির্মাণ করেছেন এবং মানুষকে হজ্জ্বের দাওয়াত দিয়েছেন।”

ইসমাঈল (আঃ) বুঝতে পারলেন,একজন কৃতজ্ঞ ও সন্তুষ্ট স্ত্রীই হলেন একজন পুরুষের জন্য সেরা চৌকাঠ,যা পরিবারে শান্তি ও আল্লাহর বরকত নিয়ে আসে।

শিক্ষা:
পারিবারিক সুখ-শান্তি এবং আল্লাহর রহমত কেবল ধন-সম্পদের ওপর নির্ভর করে না। বরং,সন্তুষ্টি,কৃতজ্ঞতা,এবং সুন্দর আচরণই একটি পরিবারকে স্থিতিশীল ও বরকতময় করে তোলে।

29/11/2025

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জ্ঞানী কে?মুসা (আঃ) ও খিজির (আঃ)রহস্যময় এর ঘটনা ।

#১১৪টিসূরাঅনুবাদ

সূরা কাহাফে একসঙ্গে হযরত মূসা (আঃ)ও খিজির (আঃ)তিনটি রহস্যময় ঘটনা।পবিত্র কোরআনের ১৮ তম সূরা আল কাহাফ। কাহাফ মানে গুহা। এ...
28/11/2025

সূরা কাহাফে একসঙ্গে হযরত মূসা (আঃ)ও খিজির (আঃ)তিনটি রহস্যময় ঘটনা।

পবিত্র কোরআনের ১৮ তম সূরা আল কাহাফ। কাহাফ মানে গুহা। এ সূরার আয়াত সংখ্যা ১১০। মক্কায় অবতীর্ণ এই সুরায়, গুহাবাসীদের বিবরণ স্থান পেয়েছে। সরল পথের আলোচনা করে মোহাম্মদ (সাঃ)-কে সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে। হযরত মূসা (আঃ) খিজির (আঃ)–এর সঙ্গে সফর করার সময় তিনটি ঘটনা সংঘটিত হয়।

প্রথম ঘটনায় খিজির (আঃ) একটি নৌকা ছিদ্র করে ফেলেন, অথচ নৌকার মালিক বিনা ভাড়ায় তাঁকে নৌকায় উঠিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ঘটনায় তিনি একটি নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করেন। তৃতীয় ঘটনায় তিনি একটি দেয়াল উঠিয়ে দেন। ঘটনা তিনটি দেখে হযরত মূসা (আঃ) চুপ থাকতে পারলেন না। তখন খিজির (আঃ) ঘটনাগুলোর তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাখ্যা দেন। হযরত মূসা (আঃ) বুঝতে পারলেন আল্লাহ কীভাবে কাউকে কাউকে অন্তর্দৃষ্টি দেন,যাতে তাঁরা সুদূরপ্রসারী অর্থে এমন কাজ করতে পারেন যাকে আপাতদৃষ্টিতে বোধগম্য বলে মনে হয় না।

সব জ্ঞানের অধিকারী কেবলই আল্লাহ। তাই জ্ঞান নিয়ে অহংকার করা অনুচিত।

এ সুরায় দুটি কাহিনি এসেছে ৬০ থেকে ১০১ আয়াতে। সে দুটি হলো মুসা (আঃ)ও খিজির (আঃ) ঘটনা।একবার আল্লাহর নবী হযরত মূসা (আঃ) কে তাঁর সঙ্গী (ইউশা’ বিন নূন) বললেন, "দুই সমুদ্রের মিলনস্থল (মাজমা’ আল-বাহরাইন) না পৌঁছা পর্যন্ত আমি থামব না। প্রয়োজনে আমি বছরের পর বছর চলতে থাকব।" তিনি জানতেন, সেই স্থানেই তিনি আল্লাহর এক বিশেষ জ্ঞানসম্পন্ন বান্দার (খিজির আঃ) সাক্ষাৎ পাবেন।

দীর্ঘ পথ চলার পর যখন তাঁরা দুই সমুদ্রের সংগমস্থলে পৌঁছালেন, তখন তাঁরা নিজেদের সঙ্গে আনা মাছের কথা ভুলে গেলেন। মাছটি অলৌকিকভাবে সুড়ঙ্গের মতো পথ তৈরি করে সমুদ্রে নেমে গেল। তাঁরা আরও কিছু দূর যাওয়ার পর মূসা (আঃ) ক্লান্ত হয়ে তাঁর সঙ্গীকে বললেন, “আমাদের খাবার আনো; আমাদের এই দীর্ঘ যাত্রায় আমরা তো কাহিল হয়ে পড়েছি।”

তখন তাঁর সঙ্গী বললেন, “আপনি কি লক্ষ্য করেছিলেন, আমরা যখন পাথরের ওপর বিশ্রাম করছিলাম, তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম? শয়তানই আমাকে সে কথা বলতে ভুলিয়ে দিয়েছিল। মাছটা আশ্চর্যরকমভাবে সমুদ্রে নিজের পথ করে নিল।”

মূসা (আঃ) বললেন, “আমরা তো এই জায়গারই খোঁজ করছিলাম!”

তাঁরা তখন নিজেদের পায়ের চিহ্ন ধরে ফিরে চললেন এবং এক বিশেষ বান্দার দেখা পেলেন—যিনি ছিলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহপ্রাপ্ত এবং যাঁর কাছে ছিল বিশেষ জ্ঞান। এই বান্দাটিই ছিলেন খিজির (আঃ)।

অঙ্গীকার ও শর্ত
মূসা (আঃ) তাঁকে বললেন, “সত্য পথের যে বিশেষ জ্ঞান আপনাকে দেওয়া হয়েছে, তা থেকে আমাকে শিক্ষা দেবেন—এই শর্তে কি আমি আপনাকে অনুসরণ করব?”

খিজির (আঃ) বললেন, “তুমি কিছুতেই আমার সঙ্গে ধৈর্য রাখতে পারবে না। যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে তুমি কেমন করে ধৈর্য ধরবে?”

মূসা (আঃ) দৃঢ়তার সঙ্গে বললেন, “আল্লাহ্ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীল দেখতে পাবেন, আর আপনার কোনো আদেশ আমি অমান্য করব না।”

খিজির (আঃ) শর্ত দিলেন, “আচ্ছা, তুমি যদি আমাকে অনুসরণ করই, তবে আমাকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন কোরো না, যতক্ষণ না আমি সেই সম্বন্ধে তোমাকে কিছু বলি।”

“অতঃপর তারা উভয়ে চলতে লাগল। পরে যখন তারা নৌকায় আরোহণ করল তখন সে (খিজির আঃ) তা বিদীর্ণ করে দিল। সে (মূসা আঃ) বলল, আপনি কি আরোহীদের (সাগরে) নিমজ্জিত করার জন্য তা ছিদ্র করে দিলেন? আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করেছেন।”-(সূরা কাহাফ: ৭১)

তিনটি রহস্যময় ঘটনা
১. নৌকায় ছিদ্র: শর্ত মেনে তাঁরা চলতে শুরু করলেন। যখন তাঁরা একটি নৌকায় উঠলেন, তখন নৌকার মালিকরা কোনো ভাড়া না নিয়েই তাঁদের দয়া করে পার করে দিচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ খিজির (আঃ) সেই নৌকাটিতে ছিদ্র করে দিলেন।

মূসা (আঃ) নিজেকে আর সামলাতে পারলেন না এবং বলে উঠলেন, “তুমি কি সওয়ারিদেরকে ডোবানোর জন্য ওর মধ্যে ফুটো করলে? এ তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলে!”

খিজির (আঃ) মনে করিয়ে দিলেন, “আমি কি বলিনি যে তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্য রাখতে পারবে না?”

মূসা (আঃ) ক্ষমা চাইলেন, “আমার ভুলের জন্য আমার অপরাধ ধরবেন না, আর আমার ওপর আর বেশি কঠোর হবেন না।” (সুরা কাহাফ: ৭৯)

২. নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা: এরপর তাঁরা আবার চলতে লাগলেন। চলতে চলতে পথে এক ছেলের সাথে দেখা হলো, আর খিজির (আঃ) তাকে খুন করলেন।

মূসা (আঃ) এবার আরও বেশি বিচলিত হয়ে বললেন, “তুমি এক নিষ্পাপ লোককে খুন করলে, যে কাউকে খুন করেনি। তুমি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলে!”

খিজির (আঃ) এবারও একই কথা বললেন, “আমি কি বলিনি তুমি কিছুতেই আমার সঙ্গে ধৈর্য রাখতে পারবে না?”

মূসা (আঃ) তখন বললেন, “এর পর যদি আমি তোমাকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করি, তবে তুমি আর আমাকে সাথে রাখবে না। আমার ওজর-আপত্তি শেষ হয়েছে।” (সুরা কাহাফ: ৮০-৮১)

৩. পারিশ্রমিক ছাড়া দেয়াল নির্মাণ: তাঁরা তৃতীয়বারের মতো পথ চললেন। যখন তাঁরা এক জনপদের বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছুলেন, তখন তাঁরা তাদের কাছে কিছু খাবার চাইলেন; কিন্তু সেখানকার লোকেরা তাঁদের আতিথেয়তা করতে রাজি হলো না। এরপর তাঁরা সেখানে একটি পড়ে যাওয়া দেয়াল দেখতে পেলেন, যা খিজির (আঃ) নিজ হাতে মেরামত করে শক্ত করে দিলেন।

মূসা (আঃ) শেষবারের মতো প্রশ্ন করে বসলেন, “তুমি ইচ্ছা করলে অবশ্যই এর জন্য পারিশ্রমিক নিতে পারতে।”

খিজির (আঃ) বললেন, “এখানেই তোমার ও আমার সম্পর্কচ্ছেদ হলো।” (সুরা কাহাফ: ৮২)

যে-বিষয়ে তুমি ধৈর্য রাখতে পারলে না। আমি তার অর্থ বলে দিচ্ছি।

ঘটনার তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাখ্যা
বিদায়ের আগে খিজির (আঃ) সেই তিনটি কাজের রহস্য উদঘাটন করলেন:

নৌকা ছিদ্র করার কারণ: "নৌকার ব্যাপার—সেটা ছিল কয়েকজন গরিব লোকের, ওরা সাগরে তাদের জীবিকা অন্বেষণ করত। আমি ইচ্ছা করে নৌকাটায় ত্রুটি ঢুকিয়ে দিলাম, কারণ ওদের সামনে ছিল এক রাজা, যে জোর করে সব ভালো নৌকা ছিনিয়ে নিত।" (নৌকাটি সামান্য ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় গরিব মালিকরা সেটিকে রাজার হাত থেকে বাঁচাতে পারলেন)।

শিশু হত্যার কারণ: "আর ছেলেটির বাবা-মা ছিল বিশ্বাসী। আমার আশঙ্কা হয়েছিল, তার অবাধ্যতা ও অবিশ্বাস তাদেরকে বিব্রত করবে। তারপর আমি চাইলাম যেন তার পরিবর্তে ওদের প্রতিপালক ওদেরকে এক সন্তান দেন, যে পবিত্রতায় হবে আরও বড় ও ভক্তি-ভালোবাসায় হবে আরও অন্তরঙ্গ।" (এই কাজটি ছিল বিশ্বাসী বাবা-মাকে ভবিষ্যতের কঠিন পরীক্ষা থেকে রক্ষা করার জন্য)।

দেয়াল নির্মাণের কারণ: "আর এই দেয়ালটি ছিল শহরের দুই এতিমের। তার নিচে ছিল ওদের গুপ্তধন। আর ওদের পিতা ছিল এক সৎকর্মপরায়ণ লোক। সেজন্য তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করলেন যে, ওরা যেন সাবালক হয় ও তারপর ওরা ওদের ধন উদ্ধার করে। আমি নিজ থেকে কিছু করিনি। তুমি যে-বিষয়ে ধৈর্য রাখতে পারনি, এটাই তার ব্যাখ্যা।”

এভাবে মূসা (আঃ) বুঝতে পারলেন, জ্ঞান কেবলই আল্লাহর হাতে। আল্লাহ কীভাবে কাউকে কাউকে এমন অন্তর্দৃষ্টি দেন, যাতে তাঁরা সুদূরপ্রসারী কল্যাণের জন্য এমন কাজ করতে পারেন, যা আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ যুক্তিতে বোধগম্য হয় না।

শিক্ষা: সব জ্ঞানের অধিকারী কেবলই আল্লাহ। তাই জ্ঞান নিয়ে অহংকার করা অনুচিত। আল্লাহর বিধানে যা আপাতদৃষ্টিতে মন্দ মনে হয়, তার পেছনেও সুদূরপ্রসারী কল্যাণ থাকতে পারে।

রুটি বিক্রেতা এক আল্লাহ ওয়ালা যুবকের অবাক করা ঘটনা - শুনলে হৃদয় কেঁপে উঠবে – 🕌 রুটি বিক্রেতা যুবকের অবাক করা ঘটনা: ক্ষ...
27/11/2025

রুটি বিক্রেতা এক আল্লাহ ওয়ালা যুবকের অবাক করা ঘটনা - শুনলে হৃদয় কেঁপে উঠবে –

🕌 রুটি বিক্রেতা যুবকের অবাক করা ঘটনা: ক্ষমা চাওয়ার ফল 🤲

ইসলামের ইতিহাসে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) ছিলেন হাদীস শাস্ত্রে এক মহান ইমাম ও ব্যক্তিত্ব। একবার তিনি হাদীস সংগ্রহ করার জন্য এক দীর্ঘ সফরে বের হলেন।

সেটা ছিল তীব্র শীতের এক রাত। মাগরিবের পর তিনি এক মসজিদে এশার নামাজ আদায় করলেন এবং সেখানে বিশ্রাম নিতে চাইলেন। শুয়ে শুয়ে তিনি মনোযোগ দিয়ে কিতাব থেকে হাদীস পড়ছিলেন। কিন্তু মসজিদের দারোয়ান এসে তাঁকে জানালেন যে, এখানে রাত কাটানো যাবে না। দারোয়ান চিনতে পারেননি যে এই বৃদ্ধ মানুষটি কে—তিনি স্বয়ং ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহঃ)।

অগত্যা, কাঁথা গুছিয়ে, কিতাব ও ব্যাগ হাতে নিয়ে ইমাম সাহেব তীব্র শীতের মধ্যে মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলেন। বয়স্ক শরীর শীতে কাঁপছিল, কিন্তু কোথাও তাঁর থাকার জায়গা ছিল না।

চলতে চলতে তিনি বাজারের কাছে এসে দেখলেন, এক যুবক রুটি বিক্রেতা তার দোকানে রুটি বানাচ্ছে। চুলার আগুন তখনো জ্বলছে। উষ্ণতার খোঁজে ইমাম সাহেব সেই যুবকের কাছে গিয়ে সালাম দিলেন। যুবকও বিনয়ের সাথে জবাব দিল।

ইমাম সাহেব বললেন, “যুবক, আমি সফরে বেরিয়েছি। রাত কাটানোর কোনো জায়গা নেই এবং প্রচন্ড শীতে খুব কষ্ট পাচ্ছি। তুমি যদি অনুমতি দাও, তবে তোমার চুলার আগুন থেকে একটু তাপ নিতে পারি?”

যুবকটি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে বলল, “নিশ্চয়ই! এতে আমার কোনো সমস্যা নেই। আপনি নিশ্চিন্তে আগুন পোয়ান।”

আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) বসলেন এবং আগুন পোহাতে লাগলেন। এরপরই তিনি অবাক হয়ে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখলেন। যুবকটি রুটির জন্য আটা মাখে আর বিড়বিড় করে 'আস্তাগফিরুল্লাহ' পড়ে, রুটির গোলা বানায় আর 'আস্তাগফিরুল্লাহ' পড়ে, চুলার ভেতরে রুটি ছেঁকে আর একই সাথে 'আস্তাগফিরুল্লাহ' পড়ে।

ইমাম সাহেব কৌতূহলী হয়ে যুবককে প্রশ্ন করলেন, "যুবক, তোমার ঘটনা কী? আসার পর থেকে আমি দেখছি, তুমি রুটি বানাও আর বিক্রি করো, আর কেবলই 'আস্তাগফিরুল্লাহ' পড়ো।"

যুবকটি বিনয়ের সাথে উত্তর দিল, "এটা আমার সবচেয়ে পছন্দের আমল। আমি সবসময় আঠার মতো এর সাথে লেগে থাকি। আর এর বদলে আল্লাহ আমাকে এমন এক নেয়ামত দিয়েছেন যে, আমি মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ্ (যার দোয়া কবুল হয়) হয়ে গেছি।"

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) অবাক হয়ে বললেন, "ইন্নালিল্লাহ! তুমি একজন রুটিওয়ালা, আর তুমি মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ্? আমি এত বছর ধরে হাদিস পড়াই, এত জ্ঞান অর্জন করেছি, অথচ আমি তো এমন নই। তাহলে কি তোমার সব দোয়াই আল্লাহ কবুল করেছেন?"

যুবকটি বলল, "হ্যাঁ, আলহামদুলিল্লাহ! আমার জীবনে আমি আল্লাহর কাছে যত দোয়া করেছি, তিনি তার সব কবুল করেছেন। শুধুমাত্র একটি দোয়া ছাড়া।"

ইমাম সাহেব আগ্রহী হয়ে জানতে চাইলেন, "সেই দোয়াটি কী, যা আল্লাহ কবুল করেননি?"

যুবকটি তখন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলল, "সেই দোয়াটি হলো... আমি বহু বছর ধরে আল্লাহর কাছে এই বলে প্রার্থনা করে আসছি যে: 'হে আল্লাহ! আমি পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় হাদীস বিশারদ ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল-এর নাম অনেক শুনেছি। আল্লাহ, তুমি দয়া করে আমাকে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার সুযোগ দাও!'"

কথাটি শেষ হতেই ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) আর চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না। তাঁর হৃদয় আবেগে কেঁপে উঠলো। অশ্রুসজল চোখে তিনি বললেন:

"ওহে যুবক, তোমার এই দোয়াও কবুল হলো! তাঁর সাথে দেখা করার জন্য তোমার আর দূরে কোথাও যাওয়ার দরকার নেই। শোনো, আমিই আহমাদ ইবনে হাম্বল! আল্লাহ তোমার কাছে ছুটে আসার জন্য আমাকে তোমার দরবার পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন।"

যুবকটিও বিস্ময় ও আনন্দে চিৎকার করে কেঁদে উঠলো। সে ছুটে এসে ইমাম সাহেবকে জড়িয়ে ধরল, তাঁর হাতে হাত রেখে মুসাফা করল এবং কপালে চুমু খেলো। উভয়েই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলেন—যে আল্লাহ তাঁর বান্দার সবকটি দোয়া, এমনকি দীর্ঘদিনের একটি অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষাও এমন বিস্ময়কর উপায়ে কবুল করে নিলেন।

শিক্ষা:
সতর্কভাবে এবং একনিষ্ঠতার সাথে ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার) করলে আল্লাহ বান্দার জন্য অভাবনীয় বরকতের দরজা খুলে দেন এবং এমনভাবে দোয়া কবুল করেন যা কল্পনাও করা যায় না। যুবক আর আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে বলে। আল্লাহ আমার এই দোয়া ও কবুল করলো।

রেফারেন্স-মিজানুর রহমান আজহারী।

হযরত সুলাইমান (আঃ) এর মৃত্যু সম্পর্কে অজানা ঘটনা।হযরত সুলাইমান (আঃ) ছিলেন একজন অত্যন্ত ক্ষমতাধর নবী,যাঁর রাজত্বে মানুষ,প...
27/11/2025

হযরত সুলাইমান (আঃ) এর মৃত্যু সম্পর্কে অজানা ঘটনা।

হযরত সুলাইমান (আঃ) ছিলেন একজন অত্যন্ত ক্ষমতাধর নবী,যাঁর রাজত্বে মানুষ,পশুপাখি এবং জিনেরা পর্যন্ত তাঁর অনুগত ছিল। আল্লাহর নির্দেশে তিনি জিনদের দিয়ে বড় বড় ও কঠিন কাজ করিয়ে নিতেন।

সুলাইমান (আঃ) একজন শক্তিশালী একজন নবী ছিলো। একবার তিনি মালাকুল মাউত (মৃত্যুর ফেরেশতা)-কে ডেকে জিজ্ঞেস করেছিলেন:

"আপনি যখন আমার রূহ কবজ করতে আসবেন, তখন কি আমার মৃত্যুর কিছু সময় আগে আমাকে অবহিত করবেন? কারণ, আমার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে যা আমি সম্পন্ন করতে চাই।"

ঠিক যেমনটি কথা ছিল, মালাকুল মউত সুলাইমান (আঃ)-এর কাছে এসে বললেন: "টাইম ইজ ওভার (Time is over), সময় শেষ! আপনার হাতে আর অল্প কিছু সময় বাকি। যা করার আছে, দ্রুত করে নিন।"

মালাকুল মাউত মৃত্যুর কিছু সময় আগে বলেন সুলাইমান time is over সময় শেষ। অল্প কিছু সময় বাকি। কি করবেন করেন।
🔨 জিনদের মহাপ্রকল্প
সংকেত পেয়েই সুলাইমান (আঃ) কালক্ষেপণ না করে জিনদেরকে ডাকলেন। তিনি বললেন: "ওহে জিনের দল! একটি বিশাল এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টের কাজ শুরু করো। দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে।

একইসাথে, তিনি তাঁর বিশ্বস্ত কিছু অনুচরকে নির্দেশ দিলেন যেন চারদিকে কাঁচ (গ্লাস) দিয়ে ঘেরা একটি বিশেষ কক্ষ তৈরি করা হয়। সেই কাঁচের ঘরে প্রবেশ করে সুলাইমান (আঃ) নিজের লাঠির ওপর ভর করে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে রইলেন এবং জিনদের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন।

আসলে, জিনদের একটি অংশ ছিল অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির। তারা সুলাইমান (আঃ)-এর ভয়েই কাজ করত; যদি তিনি দাঁড়িয়ে না থাকতেন বা তদারকি না করতেন, তবে তারা কাজ থেকে বিরত থাকত।

🐜 লাঠি ভক্ষণ ও সত্য প্রকাশ
সুলাইমান (আঃ) এমনভাবেই লাঠির ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন যে, মালাকুল মউত তাঁর রূহ (প্রাণ) কবজ করে নিয়ে গেলেন। তাঁর শরীরটা তখন নিথর হয়ে কেবল একটি লাশে পরিণত হয়েছিল, কিন্তু লাঠির ওপর ভর থাকার কারণে তিনি জমিনে লুটিয়ে পড়েননি—তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন।

দূরে থাকা জিনেরা দেখল যে, তাদের 'বস' (সুলাইমান আঃ) স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাদের দিকে তাকিয়ে আছেন। জিনেরা মনে করলো যে, বস যেহেতু দাঁড়িয়ে আছেন, তাই কাজ করতেই হবে। ভয়ে ও কর্তব্যের তাড়নায় তারা বিরতিহীনভাবে সেই বিশাল প্রজেক্টের কাজ চালিয়ে যেতে লাগলো।

অনেকদিন ধরে জিনেরা কাজ করতে করতে সেই পুরো প্রজেক্টের কাজ শেষ করে ফেলল।

ইন দ্য মিনটাইম (In the mean time), একটি ছোট পোকা (তেলাপোকা বা উইপোকা) সুলাইমান (আঃ)-এর লাঠির ভেতরে ঢুকে ধীরে ধীরে তা খেয়ে ফেলছিল। একসময় পোকাটি যখন লাঠির ভেতরের কাঠ শেষ করে দিল, তখন সেই দুর্বল লাঠিটি ভেঙে গেল। আর তখনই, হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর নিথর দেহটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।

সুলাইমান (আঃ)-এর লাশ জমিনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে জিনেরা বুঝতে পারল যে, তিনি বহু আগেই ইন্তেকাল করেছেন। এই দেখে তারা আফসোস করে বলতে শুরু করল: "হায় হায়! আমরা এত কঠিন কাজ করলাম! খালি খালি এত দিন ধরে কাজ করছি! যদি আমরা অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে জানতাম, তবে কখনও এমন অপমানজনক শাস্তি ভোগ করতাম না।"

এভাবে সুলাইমান (আঃ)-এর মৃত্যুর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, জিনেরা অদৃশ্যের জ্ঞান রাখে না।

আল্লাহর পরিকল্পনা: এটি ছিল আল্লাহর এক বিস্ময়কর পরিকল্পনা, যার মাধ্যমে তিনি জিনদের ক্ষমতা ও অদৃশ্য জ্ঞান সম্পর্কে তাদের দাবির অসারতা প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন।

শিক্ষা: এই ঘটনার মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ যা চান তা কোন না কোন উপায়ে সম্পন্ন করেন। এমনকি মৃত ব্যক্তির মাধ্যমেও তিনি তাঁর ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারেন।

অপ্রত্যাশিত ঘটনা: জিনরা এই অপমানের শিকার হয়েছিল কারণ তারা গায়েবের বা অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে মিথ্যা দাবি করত।

Address

Dhaka
1207

Telephone

+8801756083714

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ১১৪ টি সূরা অনুবাদ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to ১১৪ টি সূরা অনুবাদ:

Share