16/09/2026
“তুমি শঙ্খ বাজাচ্ছ? 😳 হিন্দু মেয়েদের শঙ্খ বাজাতে নেই!”
কথাটা শুনে সত্যি বলতে সেদিন আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম! 😮
প্রথমবার যখন কোয়ার্টারে গিয়েছিলাম, সন্ধ্যেবেলা পুজো দিয়ে আমি শঙ্খ বাজাচ্ছিলাম। হঠাৎ পাশের একজন দিদি এসে বললেন,
“তুমি শঙ্খ বাজাও? মেয়েদের শঙ্খ বাজাতে নেই। তোমার হাজব্যান্ড পুজো করলে তখন বাজাতে পারো, কিন্তু মেয়েরা নিজেরা শঙ্খ বাজালে সেটা নাকি খুব বড় অপরাধ! অমঙ্গল হয়!”
আমি তো একেবারে থ! 😳
কারণ ছোটবেলা থেকে আমি যেটা দেখে বড় হয়েছি, সেটা একেবারেই অন্যরকম।
আমাদের বাড়িতে পুজো মানেই মায়ের শঙ্খ বাজানো। শুধু আমার মা নয়, পাড়ার কত কাকিমা-জেঠিমা-দিদিরাই তো পুজোর সময় শঙ্খ বাজাতেন। আমাদের এখানে তো অনেক বাড়িতে পুরুষের থেকে মহিলারাই বেশি পুজো করেন, আর শঙ্খও বাজান।
তাই আমি তখন বলেছিলাম,
“না না, আমাদের এখানে তো মেয়েরাই শঙ্খ বাজায়!”
কিন্তু আমাকে বলা হলো—
“না, এটা নিয়মের বাইরে। মেয়েদের শঙ্খ বাজানো উচিত নয়।”
তারপর আশেপাশের আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও একই কথা শুনতে শুনতে আমিও আর কোয়ার্টারে শঙ্খ বাজাতাম না।
পরে আবার অন্য জায়গায় পোস্টিং হওয়ার পর দেখলাম, সেখানেও সন্ধ্যেবেলায় ঘণ্টা বাজে, কিন্তু শঙ্খের আওয়াজ প্রায় শুনতেই পাই না। 😯
আর তখন থেকেই আমার মাথায় একটা প্রশ্ন ঘুরতে শুরু করল—
একই হিন্দু ধর্মের মধ্যে এত আলাদা আলাদা নিয়ম হয় কীভাবে?
আমাদের বাংলায় তো শঙ্খধ্বনি শুভ বলেই জানি। পুজো, সন্ধ্যা, আরতি—সবকিছুর সঙ্গেই শঙ্খের একটা আলাদা সম্পর্ক।
তাহলে “মেয়েরা শঙ্খ বাজাতে পারবে না”—এমন কোনো সত্যিই ধর্মীয় নিয়ম আছে? নাকি এটা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল, সম্প্রদায় বা পরিবারের প্রচলিত রীতি?
আমি কিন্তু সত্যিই জানতে চাই।
কারণ ছোটবেলা থেকে একরকম দেখে এসেছি, আর পরে অন্য জায়গায় গিয়ে একেবারে উল্টো কথা শুনেছি! 😳
তোমাদের বাড়িতে কে শঙ্খ বাজান—মেয়েরা, নাকি ছেলেরা? আর তোমরা কি কখনও শুনেছ যে মেয়েদের শঙ্খ বাজানো নিষেধ?
❓❓