26/12/2025
এই ছবিটা ভালো করে দেখুন—এটাই আজকের শাহবাগ।
হাজার হাজার মানুষ দাঁড়িয়ে আছে হাদির ন্যায়বিচারের দাবিতে। কাউকে ভাড়া করে আনা হয়নি, কোনো প্যাকেট বিতরণ হয়নি—মানুষ এসেছে নিজের বিবেকের ডাকে। কারণ মানুষ বুঝে গেছে, দেশে এখন আর নিয়ম চলে না—চলে দাদাবাবুদের দাপট।
এখন প্রশ্নটা সোজা—দেশটা কার কন্ট্রোলে?
এমন অবস্থা যে অনেকেই বলছে, “ড. ইউনুসও কি সত্যিই কন্ট্রোলে আছেন?”
কারণ বাস্তবতা বলছে—কন্ট্রোল অন্য জায়গায়, যেখানে আইন কথা বলে না, দাদাবাবুদের দাপট চলে
এখন যদি এখান থেকেই সতর্ক না হন, তাহলে জুলাইয়ের বিপ্লবে যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, তাদেরকে একে একে নিষ্ক্রিয় করা হবে। আজ পোস্ট উধাও, কাল পেজ উধাও, পরশু বিপ্লবীরাও উধাও—এই হচ্ছে ধাপে ধাপে প্ল্যান। তাই এই প্রতিবাদ থামানো যাবে না। থামালেই তারা বুঝে নেবে—“ভয় পাইছে, ঘরে ঢুকছে।”
হাদির ওপর হামলার বিচার না হলে মনে রাখবেন—আর কারও বিচার হবে না। যাকে খুশি তুলে নিয়ে যাবে, কেউ কিছু করতে পারবে না। ২দিন আগে ২০ বছেরের জুলাই অগ্নি কন্যা নাম খেতো এক মেয়েকে বাসা থেকে নিয়ে গেছে, সে নাকি চাঁদা বাজি করছে আর ওয়াকের বিরুদ্ধে বলছে, আপনার পালা এলে পাশে তাকিয়ে দেখবেন—ভিড় আছে, কিন্তু পাশে কেউ নাই।
আর হাদিকে কে টেকডাউন করল—এটা নিয়ে গোয়েন্দাগিরির দরকার নাই। সোজা হিসাব:
হাদির ভিডিও প্রধান উপদেষ্টার পেজ থেকেও উধাও।
হাদিকে নিয়ে যত কনটেন্ট—সব ক্লিন।
মানে যারা এই কাজ করছে, তারা এমন লেভেলে যে প্রশ্ন করলেই আপনাকেও থামিয়ে দেওয়া হবে
আসিফ মাহমুদের ৩ মিলিয়ন ফলোয়ারের পেজ উধাও, বড় বড় পেজ উধাও।
আর যে লোক হাদিকে মারতে লেগেছিল, তার অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার লেনদেন—কিন্তু ব্যাংক নাকি “কিছুই দেখেনি”!
আমরা ৫০ লাখ ঘোরালেই ব্যাংক ফোন দেয়, আর দাউদ ফয়সালের অ্যাকাউন্টে ১৬৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়, অথচ ব্যাংক থেকে কোনো ধরনের প্রশ্নই তোলা হয় না! এবার বুঝছেন, খেলা কোন লেভেলে চলছে?
এতেই বোঝা যায়—খেলা এমন জায়গায় গেছে, যেখানে সরকারের হাতও ছোট।
ইনকিলাব মঞ্চ এখন স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে—তারা থামবে না।
আজ রাতেও সিটিং চলবে, কাল থেকে আরও বড় হবে। সামনে ৩ জানুয়ারী জামাতের নেতৃত্বে জোটদের নিয়ে মহাসমাবেশ—সব মাথায় রাখুন। এখন কিছু না করলে পরে আফসোস করার সুযোগও থাকবে না।
আর তুলনা দেখুন—ডেইলি স্টার বা প্রথম আলোর ঘটনায় ১২ ঘণ্টায় গ্রেফতার হয় ৩৩ জন।
আর হাদির ঘটনায় দিন পেরোয়, সপ্তাহ পেরোয়—কেউ ধরা পড়ে না।
এখন আবার প্রশ্ন—নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?
১৭ বছরেও হাসিনার আমলে ইলিয়াসের পেইজ বন্ধ হয়নাই, আর এখন তার পেইজ নাই, বাংলাদেশ থেকে তার কনটেন্ট দেখা যায় না, আর এখন বড় বড় পেজ উধাও। আপনি আমি তো তাদের কাছে মশার মতো।
একটা জিনিস চিন্তা করুন—খালেদা জিয়া যখন সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ছিলেন, তখন তারেক জিয়া আসতে পারেননি। তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন, “এটা আমার হাতে নেই।” এখন প্রশ্ন হলো, এই দুই সপ্তাহে এমন কী হলো যে এখন তারেক জিয়া আসতে পারলেন? যেদিন তিনি ল্যান্ড করলেন, দেখলেন ৩০০ ফিট এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ মিলিয়ে ২০ হাজারের মতো লোক তাকে ঘিরে নিরাপত্তা দিচ্ছে। এত সিকিউরিটি যদি এখন দেওয়া যায়, তাহলে খালেদা জিয়া সংকটে থাকার সময় দেওয়া যেত না? তখনো তো তিনি আসতে পারতেন! কিন্তু না, তিনি আসেননি, কারণ তখন হয়তো কোনো ডিল হয়নি। এখন ডিল ফাইনাল হয়ে গেছে বলেই তিনি আসতে পারছেন। বোঝাই যাচ্ছে, ভেতরে কী ডিল হয়েছে। তখন যদি একই সিকিউরিটি দেওয়া যেত, তাহলে তখন আসতে সমস্যা ছিল না। আর তখন তিনি বলেছিলেন নিয়ন্ত্রণ তার হাতে নেই—এখন কীভাবে এই নিয়ন্ত্রণ ফিরে এলো? এটা ভেবেই দেখুন।
চোখ বন্ধ করে ভাবলেই সব পরিষ্কার।
আজ হাদির পালা, কাল আপনার পালা—এই সাইকেলটাই চলছে।
কন্ট্রোল এখন সরকারের হাতেও নেই
তাই এখনই আওয়াজ তুলুন।
আমরা কমরেড—হার মানার জন্য না।
যেখানে কণ্ঠ আছে, সেখান থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠবে।
এই সুযোগ হাতছাড়া করলে, পরে আর সুযোগ থাকবে না।