01/06/2026
🇬🇧 যুক্তরাজ্যের (UK) রাজধানী লন্ডনের বুকে এক চরম লোমহর্ষক, গা শিউরে ওঠা এবং পৈ’শাচিক হ,ত্যাকা,ণ্ডের ঘটনায় এক বাংলাদেশি যুবকের ২৬ বছরের কনফার্মড জেলসহ যাবজ্জীবন কা’রাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
নিজের বিবাহবিচ্ছেদ হতে যাওয়া ২৫ বছর বয়সী ব্রিটিশ মুসলিম স্ত্রী নাজিয়া বেগমকে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায়,পূর্বপরিকল্পিতভাবে এবং পৈ’শাচিক কায়দায় খু,ন করার অপরাধে ওল্ড বেইলি আদালত ৩২ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ আনহার আলীকে এই ঐতিহাসিক শাস্তি প্রদান করেছে।
নিজের দুই অবুজ কন্যাসন্তানের চোখের সামনেই এই নির্মম হ,ত্যাকা,ণ্ড ঘটিয়ে পুরো ব্রিটেনের বাঙালি কমিউনিটিসহ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আ’তঙ্ক ও নিন্দার ঝড় তুলেছে এই ঘাতক।
📍 পূর্ব লন্ডন, যুক্তরাজ্য | ৩১ মে, ২০২৬ - 🎙_
📦 আলমারির ভেতর ১০ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অপেক্ষা ও বর্বরোচিত হামলা:
মেট্রোপলিটন পুলিশের স্পেশাল হোমিসাইড অ্যান্ড মেজর ক্রাইম কমান্ডের ডিটেকটিভদের ভেরিফাইড তদন্ত প্রতিবেদন এবং ওল্ড বেইলি আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘাতক মোহাম্মদ আনহার আলী বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে আসার পরপরই নাজিয়ার সাথে তার পরিচয় ও বিয়ে হয়। কিন্তু দুই বছরের মাথায় তাদের দাম্পত্য জীবন ভেঙে যায় এবং নাজিয়া আলী তার দুই মেয়েকে নিয়ে পূর্ব লন্ডনের বো (Bow) এলাকার একটি ফ্ল্যাটে আলাদা থাকা শুরু করেন।
নাজিয়া অন্য এক পুরুষের (ইসমাইল আলী) সাথে নতুন সম্পর্ক শুরু করায় এবং আলীর চাপিয়ে দেওয়া চরম গোঁড়া ও শাসনমূলক জীবনযাত্রা প্রত্যাখ্যান করে নিজেকে ও সন্তানদের একটু পশ্চিমা ধাঁচে বড় করার সিদ্ধান্ত নিলে আলীর মনে তীব্র হিংসা ও ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।
এই ক্ষোভ থেকে ঘটনার দিন আনহার আলী বাজার থেকে ধারালো ছ,ুরি এবং হাত-পা বাঁধার শক্ত ক্যাবল কিনে গোপনে চাবি জোগাড় করে নাজিয়ার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। সে ড্রয়িংরুমের একটি ছোট অন্ধকার আলমারি বা কাপবোর্ডের ভেতর টানা ১০ ঘণ্টা ওত পেতে বসে থাকে। রাত ১১টার দিকে নাজিয়া যখন সন্তানদের নিয়ে ঘরে ফেরেন, তখনো তিনি টের পাননি যে মৃ,ত্যুর দূত তার ঘরের আলমারিতেই লুকিয়ে আছে।
🩸 হাড়কাঁপানো নির্যাতন ও লা,শের পাশে রাতযাপন:
গভীর রাতে শিশুরা ঘুমিয়ে পড়ার পর আলমারি থেকে বের হয়ে হিং’স্র পশুর মতো নাজিয়ার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আনহার। সে প্রথমে নাজিয়াকে পৈ’শাচিক কায়দায় অনবরত ঘু’ষি মেরে তার নাক ও পাঁজর ভেঙে ফেলে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা যায়, নাজিয়ার বুকে হয়তো হাঁটু দিয়ে চেপে ধরে হাড় ভেঙে ফেলা হয়েছিল। এরপর সে নাজিয়ার পা ও গোড়ালি শক্ত ক্যাবল দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং নিজের ওড়না বা স্কার্ফ নাজিয়ার গলায় পেঁচিয়ে টানটান করে শ্বাসরোধ করে তার মৃ,ত্যু নিশ্চিত করে।
সবচেয়ে ভয়ংকর এবং বিকৃত মানসিকতার বিষয় হলো, স্ত্রীকে এভাবে নির্মমভাবে খু,ন করার পর ঘাতক আনহার আলী লা,শটি একটি সাদা চাদর দিয়ে ঢেকে রাখে। এরপর কোনো প্রকার অনুশোচনা ছাড়াই সে তার দুই নিষ্পাপ সন্তানের (যাদের বয়স মাত্র ৩ ও ৬ বছর) পাশে একই বিছানায় গিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ে!
☕ সকালের চা পানের দৃশ্য এবং পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ:
পরদিন সকাল প্রায় ৬টার দিকে খু,নি আনহার আলী নিজেই ৯৯৯ (Emergency Line) নম্বরে ফোন করে অত্যন্ত শান্ত ও ঠাণ্ডা মাথায় পুলিশকে বলে, "আমি আমার স্ত্রীকে খু,ন করেছি, আমার পুলিশ এবং অ্যাম্বুলেন্স লাগবে"। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের পুলিশ কর্মকর্তারা যখন ঘটনা স্থলে পৌঁছান, তখন তারা দেখেন ঘরের দরজায় সম্পূর্ণ ইস্ত্রি করা পোশাক পরে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে এক কাপ চা খাচ্ছে খু,নি আনহার! সে পুলিশকে লিভিংরুমে নিয়ে মেঝেতে পড়ে থাকা নাজিয়ার ঠাণ্ডা বরফ হয়ে যাওয়া লা,শটি দেখায় এবং ফিসফিস করে বলে, "একটু আস্তে কথা বলুন, আমার বাচ্চারা ওপরের তলায় ঘুমাচ্ছে"।
😭 "মা স্বর্গ থেকে কবে আসবে?"—মাতৃহারা শিশুদের বুক ফাটা কান্না:
আদালতে নাজিয়ার মা জানাহারা বেগমের দেওয়া একটি লিখিত বয়ান পড়ে শুনানোর সময় পুরো এজলাসে এক আবেগঘন ও কান্নার পরিবেশ তৈরি হয়। তিনি বলেন:
"আমাদের হৃদয় এমনভাবে ভেঙে গেছে যা আর কোনোদিন জোড়া লাগবে না। আমি ৩ বছরের একটি শিশুকে কীভাবে বোঝাব যে তার মাকে এভাবে জবাই বা খু,ন করা হয়েছে? প্রতিদিন যখন দুই বোন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে এবং আমাকে জিজ্ঞেস করে—'আম্মা স্বর্গ থেকে কবে ফিরে আসবে?' তখন আমার বুকটা ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়।"
⚖️ আদালতের রায় ও বিচারকের কঠোর পর্যবেক্ষণ:
লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালতের মহামান্য বিচারক ওয়েন্ডি জোসেফ (Wendy Joseph) ঘাতক আনহার আলীকে কঠোর ভাষায় তিরস্কার করে বলেন, এটি একটি চরম কর্তৃত্বপরায়ণ, কারসাজিপূর্ণ এবং স্বাধীনচেতা নারীর অধিকার কেড়ে নেওয়ার জঘন্য বহিঃপ্রকাশ। নাজিয়ার নিজের মতো করে বাঁচার অধিকারকে মেনে নিতে না পেরেই এই ঘাতক সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেয়। আদালত আনহার আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, অন্তত ২৬ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে সে কোনোভাবেই প্যারোলে মুক্তির আবেদন করতে পারবে না।
লন্ডনের পূর্ব বো (Bow) এলাকায় সংঘটিত এই মর্মান্তিক হ,ত্যাকা,ণ্ডটি ঘটেছিল ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে।