25/01/2026
৯মাসের একটা শিশু কথা বলতে পারে না। এরা মাত্রই মায়ের বুকের দুধের উপর নির্ভরতা কমিয়ে অন্যান্য সাধারণ খাবারের উপর নির্ভর হতে শেখে। ক্ষুধা পেলে অস্থির হয়ে খুব করে কাঁদে। এসময় এদেরকে আমাদের স্বাভাবিক এক থালা ভাতের জাস্ট একটা নলা খাইয়ে দিলেই এদের পেট ঠান্ডা। শান্ত হয়ে এই বয়সের বাচ্চারা ঘুমিয়ে যায়, নিস্পাপ একটা চেহারায় সুন্দর ঘুম। ঘুম ভাঙলে এরা আবার খেলে, হাসে। এভাবে সারাদিনে এরা এক মুঠো ভাত খায় কী না তাও সন্দেহ। এইটুকুন বাচ্চাও ক্ষুধা সহ্য করেছে, মা'টা পারেনাই। মনের দুঃখ, পেটের ক্ষুধা, দারিদ্র্যতায় জীবন কতটা বিপন্ন হলে মা তার সন্তানকে মেরে ফেলে!
আমার বন্ধুদের দেখেছি, ওরা যারা মা হয়েছে ওরা বাচ্চাকে কেমন করে বুকের মধ্যে আগলে নিয়ে থাকে। মা হলে একটা কাঁটাও যেন সন্তানকে স্পর্শ না করে সেজন্য কেমন সতর্ক থাকে! বাগেরহাটের ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের স্ত্রী স্বর্ণালি মা হয়ে কেমনে পারলো বলেন তো? স্বর্ণালী তো একা একা সন্তানকে জন্ম দিয়েছিল, সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার সংবাদ সাদ্দাম পেয়েছে জেলখানায়। এই বাচ্চাটাকে স্বর্ণালী একা একা ৯টা মাস দুনিয়ার বুকে আগলে রাখলো, আজ এসে আর পারলো না! শুনলাম বাচ্চাটাকে পানিতে ডুবিয়ে মেরে ফেলেছে সে। একটা মা কী করে এমন পিশাচে রূপান্তরিত হলো? মানুষ মা হয়ে কতখানি কষ্ট নিয়ে নাড়িছেঁড়া ধনের শেষ নিঃশ্বাসের কান্না নিজের কানে শুনলো? শেষবারের মতো এই মা কখন বাচ্চাটার ক্ষুধা নিবারণ করতে পেরেছিল? এমন অদ্ভুত সব প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।
এদেশের রাজনীতি কতখানি নিকৃষ্ট, তার উদাহরণ হিসেবে সাদ্দামের স্ত্রী সন্তানের এই মৃত্যু আজীবন আমাদের মনে করিয়ে দেবে রাষ্ট্রের ব্যর্থতার উপাখ্যান। এই বাচ্চাটা জন্মের পর বাবাকে দেখেনি, বাবা সাদ্দাম তার বাচ্চাকে বুকে নেবার উষ্ণতা পায়নি। বাবা সন্তানের জীবনের প্রথম দেখা নিথর দেহে, নিঃশ্বাস নেই, প্রাণ নেই, কিচ্ছু নেই। ৫মিনিটের জন্য স্ত্রী সন্তানের লাশ এলো কারাগারের দরজায়। বাবা মা আর ছেলে শেষ সাক্ষাত হলো, এমন কষ্টের সময়ে রাষ্ট্রের রক্ষাকর্তারা কী করে? উনারা এখন আর কী কী দখলের প্ল্যান করে!? এনিমেটেড ঝুলন্ত লাশ আর, মেঝেতে পরে থাকা শিশুর ছবিটা সুন্দর। একটা ড্রোন শো করে নিয়েন, লোকে দেখে বাহবা দেবে। জুলাই জাদুঘরে মা আর শিশুর ছবিটাও রাখবেন, এসবও জুলাইয়ের অংশ। ফ্যাসিবাদের পতনে তো এইসব পাপী নেতা জেলে গেছে, ওদের বউ বাচ্চা না খেয়ে মরেছে, এইটাও তো ইতিহাস। এইসব ইতিহাসও মনে রাইখেন।
বড় বড় নেতারা পালায়, বিদেশে যায়, দেশ থেকে বিতারিত হয়। কিন্তু কোনোদিন দেখেছেন ক্ষুধার তাড়নায় এদের বউ-বাচ্চা মরে গেছে বা মরে যেতে চেয়েছে!? ধরা খেলে বড় বড় নেতাদের রাজকীয় বাড়ি-গাড়ি বাজেয়াপ্ত হয়, আর তৃণমূলের নেতাদের হয় এমন পরিণতি। ধিক্কার!
এদেশটায় আশার কিছু দেখতে পাইনা। প্লিজ একটু আশা দেখায়েন, যেন সবাই খেয়ে পড়ে বাঁচতে পারে। ক্ষুধা আর দারিদ্র্যতায় মানুষ দুধের বাচ্চা নিয়ে আত্মহত্যা করবে এই দিন দেখা খুব কষ্টের। বাবা তার সন্তানকে জীবন্ত বুকে নিতে পারে নাই এমন দিন শত্রুর জীবনেও না আসুক। মৃত স্ত্রী সন্তানকে বিদায় দিয়ে জেলখানায় থাকা সন্তানের বাবা সাদ্দামের আহাজারি বা নিরব চোখের জলও আমাদের জন্য অভিশাপ। সময় ক্ষণিকের ছাড় দিলেও ছেড়ে দেয় না কাউকে। আল্লাহ নিস্পাপ বাচ্চাটা আর তার মা'কে ওপারে একটু শান্তি দিক।
২৫জানুয়ারি, ২০২৬
ঢাকা।