17/09/2026
আদর্শ বউ হতে চান,তাই তো???
নিজে না খেয়ে স্বামীকে খাওয়ানো, ছেঁড়া জামা পরেও কোনো আবদার না করা, মাছের বড় পিস কিংবা মুরগির রানটা স্বামীর পাতে তুলে দেওয়া, একদম জিরো এক্সপেক্টেশন রাখা—এমন হলেই যেন আদর্শ বউ হওয়া যায়!
আদতেই কি তাই হয়?
আপনি সারাজীবন এগুলো করে গেলেও আপনার পার্টনার আপনাকে ‘আদর্শ স্ত্রী’ হিসেবে কোনো অ্যাওয়ার্ড দেবে না।
বরং কী হবে জানেন?
যখন পুষ্টির অভাবে অসুস্থ হয়ে যাবেন, তখন বলবে— “কে বলছে ওরে না খেয়ে থাকতে? আমি কি বাজার করি না? কয় টাকা আয় করে ফেলছে মাছ-মাংস না খেয়ে?
দিনের পর দিন পুরোনো, ছেঁড়া কাপড় পরে থাকলে একসময় ঠিকই শুনতে হতে পারে— “এমনে ফকিন্নির মতো থাকো কেন? সারাদিন পর বাসায় আসি, একটু পরিপাটি হয়েও থাকতে পারো না?”
এমনকি আরও শুনবেন— “এই বয়সেই তো বুড়া হয়ে গেছো! নিজের যত্ন নিতে পারো না? অমুকের বউকে দেখো, কত পরিপাটি!”
খাবারের টেবিলে আপনি বাচ্চাদের আর স্বামীকে ভালো ভালো পিস তুলে দিয়ে নিজে শুধু হাড়-হাড্ডি নিয়ে বসে থাকলে, একদিন হয়তো স্বামীই বাচ্চাদের বলবে— “তোমাদের আম্মু তো গোশত খেতেই চায় না কখনো!"
অপরদিকে,
সবসময় সবার পছন্দের খাবার প্লেটে তুলে দেওয়ার সময় নিজের পছন্দেরটাও নিজে নিয়ে নিবেন।
একদিন দেখবেন আপনার স্বামীই খাবারের টেবিলে বাচ্চাদের বলছে— “ওই পিসটা তোমাদের মায়ের পছন্দের, ওটা রেখে অন্যটা নাও।”
মাঝেমধ্যে এক মুঠো ফুলের আবদার করুন। একটা শাড়ির আবদার করুন। নিজের পছন্দের কোনো ছোট্ট জিনিস চাইতে দ্বিধা করবেন না।
তখন দেখবেন ঠিকই সে সবার কাছে বলবে— “আমার বউটা তেমন কিছুই চায় না। একটু ফুল, একটা শাড়ি—এতেই কত খুশি!”
নিজের খাবার-দাবার নিয়ে সচেতন থাকুন। নিজের শরীরের যত্ন নিন।
তখন দেখবেন স্বামীও প্রাউডলি বলবে— “আমার বউটা আসলে খাবার-দাবার নিয়ে খুব সচেতন।
নিয়মিত (প্রয়োজনীয়) নিজের জন্য নতুন ড্রেস, স্কিনকেয়ার বা পছন্দের ছোটখাটো কিছু কিনুন।
তাহলে একদিন আপনি একটু মনমরা হয়ে পুরোনো একটা ড্রেস পরে থাকলেই দেখবেন ঠিকই সে বুঝে যাবে— কাহিনী কি।
এখন সিদ্ধান্ত আপনার, আপনি কেমন আদর্শ বউ হতে চান???
স্বামীর যত্ন নেবেন, অবশ্যই। তবে নিজের যত্নও নেবেন।
স্বামীকে ভালোবাসবেন, তার পছন্দকে গুরুত্ব দেবেন। তবে নিজের পছন্দকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
"নিজেরে নিজে ভালো না বাসলে কেউ ভালোবাসবেনা।"