মো. শওকত আলীর কথা ও কণ্ঠ

মো. শওকত আলীর কথা ও কণ্ঠ সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসচর্চার প্রতি মমত্ত্ববোধ ও আগ্রহ।

https://youtube.com/channel/UC-dkQrLuNq3F1IXJ7zsySgw

30/10/2025
 #মুক্তিযুদ্ধ  #বাংলাদেশেরইতিহাস    ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার এক বিশাল জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত...
29/10/2025

#মুক্তিযুদ্ধ
#বাংলাদেশেরইতিহাস


ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার এক বিশাল জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে খালাস পাওয়া অভিযুক্তদের এক গণসংবর্ধনা দেয়া হয়। এই জনসভাতেই
শেখ মুজিবুর রহমানকে "বঙ্গবন্ধু" উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ২৩শে ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯

 #মুক্তিযুদ্ধ  #বাংলাদেশেরইতিহাস   উর্দুতে 'পদ্মা সুরখ হ্যায়' মানে রক্তাক্ত পদ্মা, এই স্মৃতিগ্রন্থের লেখক পশ্চিম পাকিস্...
29/10/2025

#মুক্তিযুদ্ধ
#বাংলাদেশেরইতিহাস


উর্দুতে 'পদ্মা সুরখ হ্যায়' মানে রক্তাক্ত পদ্মা, এই স্মৃতিগ্রন্থের লেখক পশ্চিম পাকিস্তানি আনােয়ার শাহিদ খান ১৯৭১ সালে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের পশ্চিম পাকিস্তানী ছাত্র। ১৯৭১ সালে আনােয়ার শাহিদ খান প্রত্যক্ষ করেছেন পাকিস্তানিদের নির্মম অত্যাচার ও হত্যাযজ্ঞ। যুদ্ধের সময় তাঁর অন্যতম বন্ধুর পরিবারের সাথে তিনি রাজশাহীতে তাদের গ্রামের বাড়ীতে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অবস্থান গ্রহণ করেন। সেখানেও তিনি প্রত্যক্ষ করে পাকিস্তানি নির্যাতনের ভয়াবহ কর্মকান্ড। আনােয়ার শাহিদ খান যখন রাজশাহীতে তাঁর বাঙালি বন্ধুর বাড়িতে ছিলেন, তখন সেই সময়ের কথা তিনি লিখেছেন:

"বাজারে গেলাম একদিন। অবস্থা এমন হয়েছে যে দরকারি জিনিসপত্র বাজারে পাওয়াই যায় না কিংবা পাওয়া গেলেও দাম এত বেশি যে ছুঁলেই হাত পুড়ে যায়। দোকানগুলো লুট হয়েছিল, যোগাযোগের রাস্তাঘাট এতটাই নষ্ট হয়েছে যে গ্রাম থেকে শহরে জিনিসপত্র আনা-নেওয়াও কঠিন। সব মিলিয়ে জিনিসপত্রের দাম আগের চেয়ে কয়েকগুণ চড়ে গেছে। চার আনা দামের এক প্যাকেট সিগারেট বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে তিন টাকায়, ঘি আর চা তো পাওয়াই যায় না। একটা ব্যাটারির দামই হয়ে গেছে চার টাকা। ভালো মানের ব্লেড বাজার থেকে উধাও, নিম্নমানের ব্লেড আগের চেয়ে অনেকগুণ বেশি দাম। এমনকি ম্যাচ বাক্সের দামও আকাশে পৌঁছে গেছে।

আজকাল বাজার বসছে ফুটপাথে। আগের লাখপতিরা এখন ফুটপাথে বসে ডাল বিক্রি করছে। লুঠ করা মাল বিক্রি হচ্ছে খোলাখুলি। দামি কাপড়চোপড় গড়াগড়ি যাচ্ছে ফুটপাথের ধুলোয়। লুট করা সিল্কের বেনারসী শাড়ি থেকে শুরু করে লিপস্টিক, মুখের পাউডার ও অন্যান্য প্রসাধনী দিব্যি পাওয়া যাচ্ছে দোদার, কিন্তু মুশকিল হলো এসব লুঠের মালের আসল দাম বিক্রেতা নিজেই জানে না। তারা হয়ত ১০০ টাকার জিনিস বিক্রি করছে ৫ টাকায়, কিংবা ১ টাকার দামের জিনিসের দাম হাঁকছে ৫০ টাকা। সবচেয়ে লক্ষণীয় হলো, সারা বাজারে বাঙালি দোকানদার একজনও নেই।"

Abm Sirajul Hossain

 #মুক্তিযুদ্ধ  #বাংলাদেশেরইতিহাস   ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঠেকানোর জন্য আমেরিকার পাঠানো সপ্তম নৌবহর যখ...
29/10/2025

#মুক্তিযুদ্ধ
#বাংলাদেশেরইতিহাস


১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঠেকানোর জন্য আমেরিকার পাঠানো সপ্তম নৌবহর যখন চট্টগ্রামের কাছে পৌঁছে, তখন সাগরের তলদেশ থেকে রাশিয়ার পাঠানো পারমাণবিক সাবমেরিনগুলো তাদের সামনে ভেসে ওঠে। ফলে আমেরিকার সপ্তম নৌবহর ও ব্রিটেনের পাঠানো নৌবহরটি লেজ গুটিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়। যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায় এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।

রাশিয়া আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু রাষ্ট্র।

সংগৃহীত।

যাঁর কথা লিখছি তাঁর প্রথম কবর হয়েছিল পাকিস্তানের মাটিতে। তাঁর কবরে  লেখা ছিল,"ইধার শো রাহে এক গাদ্দার। " যার অর্থ এখানে ...
29/10/2025

যাঁর কথা লিখছি তাঁর প্রথম কবর হয়েছিল পাকিস্তানের মাটিতে। তাঁর কবরে লেখা ছিল,
"ইধার শো রাহে এক গাদ্দার। " যার অর্থ এখানে এক বেঈমান শুয়ে আছে।
জ্বী পাকি দের ভাষায় এই "গাদ্দার" না থাকলে মুক্তিযুদ্ধ গৌরবময় হতো না। জয়ী হয়ে স্বাধীন দেশে বুক ফুলিয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারতো না বাঙালি।

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের উদ্দেশ্যে একাত্তরের ২০ আগস্ট করাচির মাশরুর বিমানঘাঁটিতে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে একটি টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান ছিনতাই করেন মতিউর রহমান। বিমানটির নবীন পাইলট ছিলেন পাঞ্জাবি রাশেদ মিনহাজ। অনুশীলনের জন্য কন্ট্রোল টাওয়ারের ক্লিয়ারেন্স পেয়ে তিনি বিমানটি নিয়ে ২৭ নম্বর রানওয়েতে যেতে ৪ নম্বর ট্যাক্সি ট্র্যাক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। মতিউর রহমান তখন ফ্লাইট সেফটি কর্মকর্তা। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে দ্রুত সেখানে গিয়ে রাশেদ মিনহাজকে থামার সংকেত দেন। রাশেদ মিনহাজ বিমানের ক্যানোপি তুলে মতিউর রহমানকে জিজ্ঞাসা করেন, কী হয়েছে? তখন মতিউর রহমান লাফ দিয়ে ককপিটে উঠে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। এরপর ভারতের উদ্দেশে রওনা দেন। একপর্যায়ে মিনহাজ বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে সিন্ধুর বেদিনে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে মতিউর রহমান শহীদ হন।
১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার ১০৯, আগা সাদেক রোডের "মোবারক লজ"-এ জন্মগ্রহণ করেন মতিউর রহমান। তার পৈতৃক নিবাস নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে। যা এখন মতিনগর নামে পরিচিত। ৯ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ৬ষ্ঠ। তার বাবা মৌলভী আবদুস সামাদ, মা সৈয়দা মোবারকুন্নেসা খাতুন। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ষষ্ঠ শ্রেণী পাস করার পর সারগোদায় পাকিস্তান বিমান বাহিনী পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। ডিস্টিংকশনসহ মেট্রিক পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন।

১৯৬৫ তে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় ফ্লাইং অফিসার অবস্থায় কর্মরত ছিলেন। এরপর মিগ কনভার্সন কোর্সের জন্য পুনরায় সারগোদায় যান। সেখানে ১৯৬৭ সালের ২১ জুলাই তারিখে একটি মিগ-১৯ বিমান চালানোর সময় আকাশে সেটা হঠাৎ বিকল হয়ে গেলে দক্ষতার সাথে প্যারাসুট যোগে মাটিতে অবতরণ করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ইরানের রানী ফারাহ দিবার সম্মানে পেশোয়ারে অনুষ্ঠিত বিমান মহড়ায় তিনি ছিলেন একমাত্র বাঙালি পাইলট।
মতিউর রহমান একাত্তরের প্রথমার্ধ থেকে ছুটিতে বাংলাদেশেই ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি প্রতিরোধযুদ্ধেও অংশ নেন। পরে বয়োজ্যেষ্ঠদের চাপে সপরিবার পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যেতে বাধ্য হন। ৯ মে করাচি পৌঁছে মতিউর লক্ষ করেন বাঙালি কর্মকর্তাদের সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। তাঁকেও প্রশিক্ষণের দায়িত্ব না দিয়ে দেওয়া হয় ফ্লাইট সেফটি কর্মকর্তার দায়িত্ব। এ অবস্থায় মতিউর একটি প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চিন্তা করতে থাকেন। কিন্তু এর আগে পিআইএর একটি বিমান হাইজ্যাকের পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বাঙালি পাইলটদের আকাশে উড্ডয়নের অনুমতি বাতিল করা হয়।

মতিউর রহমানকে মরণোত্তর বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি দিয়ে সম্মানিত করা হয়। ২০০৬ সালে খালেদা জিয়ার,আমলে তাঁর মরদেহের অংশবিশেষ দেশে এনে নতুন করে কবর দেয়া হয় তাঁকে।

এবার আসল কথায় আসি, রিসেট বাটন কি মতিউর রহমানকে ডিলিট করে দিবে? কবর ডিলিট করলেই কি ইতিহাস থেকে মতিউর রহমানের বীরত্ব ডিলিট হয়ে যাবে মহাজন?

যার সাথে ইচ্ছে বন্ধুত্ব করেন যার সাথে ইচ্ছে দুশমনি কিন্তু একাত্তর দাঁড়িয়ে আছে চিরকাল দাঁড়িয়ে থাকবে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের সাহস হয়ে।
বদলে যাওয়া দেশ, বিভ্রান্ত তারুণ্য, সুবিধাবাদী মানুষ দেখে নয়ন জলে ভাসলেও আমি আমরা তোমায় ভালোবাসি।।

লেখা - Ajoydas Gupta

 #মুক্তিযুদ্ধ  #বাংলাদেশেরইতিহাস   ন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে আ্নীত তেইশটি অভিয...
29/10/2025

#মুক্তিযুদ্ধ
#বাংলাদেশেরইতিহাস


ন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে আ্নীত তেইশটি অভিযোগের বিচার হয়েছিলো। বিচারের রায়ে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা তেইশটি অভিযোগের মধ্যে নয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। ১৪টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগগুলোর বেশ কয়েকটাতে তাঁর পাঁচ থেকে বিশ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছিলো। চারটে অভিযোগ, অভিযোগ ৩ (নূতন চন্দ্র সিংহ হত্যা), অভিযোগ ৫ (সুলতানপুর বণিকপাড়া গণহত্যা), অভিযোগ ৬ (উনসত্তরপাড়া গণহত্যা) ও অভিযোগ ৮ (আওয়ামী লীগের নেতা শেখ মোজাফফর আহমেদকে অপহরণের পর হত্যা) এ তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেয় আদালত।

বিবাদীপক্ষের আপিলের কারণে এই মামলা আপিলেট ডিভিশনে যায়। সেখানে শুধুমাত্র ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিশ বছরের দণ্ড মওকুফ পান তিনি। বাকি সবগুলো অভিযোগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়কে সঠিক বলে রায় দেয় আপিলেট ডিভিশন।

আজকে এখানে আমরা অভিযোগ ৩, অর্থাৎ নূতন চন্দ্র সিংহের হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করবো।

নিজের মেয়েকে লেখাপড়া শেখাতে পারেননি বলে তাঁর মনে একটা ক্ষোভ এবং আক্ষেপ ছিলো। রাউজানে তখন কোনো মেয়েদের স্কুল ছিলো না। তিনি কুণ্ডেশ্বরী বালিকা বিদ্যালয় গড়ে তোলেন। এই বিদ্যালয় ছিলো সম্পূর্ণ আবাসিক। বিদ্যালয়ে ডাকঘর ছিলো, টেলিফোন ছিলো, জেনারেটর ছিলো, বলতে গেলে প্রত্যন্ত একটা অঞ্চলে তিনি মেয়েদের জন্য যতখানি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যায় পড়ালেখার জন্য সেটা করেছিলেন। এর বাইরে কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়েরও প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। শিক্ষিত, মার্জিত, বিনয়ী, দয়ালু এবং দানশীল ব্যক্তিটিকে সবাই ভালবাসতো।

একাত্তরের অনিশ্চিত এবং ভীতিকর সময়ে অধ্যক্ষ নূতন চন্দ্র সিংহের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক। শুধু শিক্ষকই নন, আরও অনেক পেশার প্রথিতযশা মানুষজন আশ্রয় নিয়েছিলেন সেখানে। প্রবল ঝড়ে ভীত-সন্ত্রস্ত পাখিরা যেমন আশ্রয় খোঁজে বটবৃক্ষের কাছে, সেরকম অসংখ্য সাধারণ মানুষ এসে আঁকড়ে ধরেছিল তাঁকে সামান্য একটু নিরাপত্তার জন্য। জান-মাল, ইজ্জত-সম্মান, আর প্রাণ রক্ষার তাগিদে। চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে সবাই যখন দেশ ছেড়ে সীমান্তের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে, কেউ কেউ তাকে অনুরোধ করে বলেছে “চলেন দাদা, চলে যাই। পরিস্থিতি ভালো হলে ফিরে আসবেন। তারপর না হয় জনসেবা করবেন।“ নূতন চন্দ্র সেইসব কথা শুনেন নাই। এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে অন্য কান দিয়ে বের করে দিয়েছেন। কোথায় যাবেন তিনি এই মাটি ছেড়ে? কোথায় পালাবেন প্রিয় জন্মভূমি ছেড়ে? কিসের মায়ায়? কার জন্য? তিনি কোথাও যাননি। এই না যাওয়াটাই কাল হয়েছিলো তাঁর জন্য।

১৩ই এপ্রিল ১৯৭১, সকাল ৯টা থেকে ১০টার দিকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল পাকিস্তানি আর্মি গহিরার কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ে এসে উপস্থিত হয়। তারা সরাসরি ঢুকে পড়ে নূতন চন্দ্র সিংহের বসত ভিটায়। নূতন চন্দ্র তখন মন্দিরে (যা হিন্দুদের বাসগৃহস্থিত প্রার্থনালয়) প্রার্থনারত অবস্থায় ছিলেন। পাকিস্তান আর্মি যখন তাঁর বাড়িতে এলো তাঁর স্বভাবসুলভ অতিথি পরায়ণতা দেখাতে এক বিন্দু ভুল করেননি তিনি। উঠোনে চেয়ার সাজিয়ে রেখেছিলেন তাদের জন্য। তাঁর অমায়িক ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে ফিরে যাচ্ছিলো মিলিটারি। কিন্তু যাওয়া হয় নি। কারণ, সাথে ছিলো মৃত্যুদূত, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিরোধিতা করা কনভেনশনাল মুসলিম লীগের নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর বড় সন্তান।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তখন সেনাদের বুঝাচ্ছিলো এই বলে যে, তাঁর বাবার নির্দেশ আছে নূতন চন্দ্র সিংহকে হত্যা করার জন্য। এই নির্দেশনা শুনে পাকিস্তান আর্মি নূতন চন্দ্র সিংহের উপর গুলি চালায়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। নূতন চন্দ্র খানিকটা নড়ে উঠলে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করতে অভিযুক্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী নিজের হাতে পুনরায় গুলি করে নিশ্চিত করেন নূতন চন্দ্র সিংহের মৃত্যু! ঘটনার পর সেই স্থান ত্যাগ করে সবাই।

বিএনপির মহাসচি মির্জা ফখরুল কি চট্টগ্রামের এই হত্যাকাণ্ডের খবর জানেন না? তিনি কি জানেন না ফজলুল কাদের চৌধুরী এবং সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী কি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিলো ওখানে? কী ভয়ানক প্রতিহিংসা নিয়ে তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো হিন্দুদের উপর? হিন্দুদের একটাই মাত্র অপরাধ ছিলো তারা সত্তরের নির্বাচনে ফজলুল কাদের চৌধুরীকে ভোট দেয়নি।

আমি জানি না ঠিক কোন কারণে তাঁর ধারণা হলো যে সাকা চৌধুরীকে মিথ্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে? উচ্চ পদে থাকলে মানুষকে অনেক বিবেচক হতে হয়, দায়িত্বশীল আচরণ করতে হয়। বিএনপির মহাসচিব যখন এই ধরনের বেফাঁস মন্তব্য করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই লাভবান হয় স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত। জামায়াত তাদের ঘন এবং হালকা দুই ধরনের অনুসারীদেরই বোঝাতে সক্ষম হয় যে একাত্তর বিষয়ক সবকিছুই হচ্ছে আওয়ামী লীগের সাজানো ঘটনা। যুদ্ধাপরাধ বলে কিছু নেই, রাজাকার-আলবদর বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। যা আছে তা হচ্ছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসার রাজনীতি। সেই প্রতিহিংসায় বলি হয়েছে কিছু নিরীহ ও নিরপরাধ আলেম-ওলামা এবং দেশপ্রেমিক(!) মানুষ।
সংগৃহিত

 #মুক্তিযুদ্ধ  #বাংলাদেশেরইতিহাস   মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা  ত্রিশ লক্ষ। পাক সেনাবাহিনীর জেনারেলের স্বীকারোক্তি অনুযায়...
28/10/2025

#মুক্তিযুদ্ধ
#বাংলাদেশেরইতিহাস


মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ত্রিশ লক্ষ। পাক সেনাবাহিনীর জেনারেলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পনর থেকে বিশ। এদেশে তাদের দোসররা বলে তিন লাখ।

 #মুক্তিযুদ্ধ  #বাংলাদেশেরইতিহাস   কুশেল প্রসাদ চক্রবর্তী।১৯৬৩ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের আগরতলা  গোপন  সফরের শেষ সাক্ষী ক...
26/10/2025

#মুক্তিযুদ্ধ
#বাংলাদেশেরইতিহাস


কুশেল প্রসাদ চক্রবর্তী।১৯৬৩ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের আগরতলা গোপন সফরের শেষ সাক্ষী কুলেশ প্রসাদ চক্রবর্তী,একজন আইএএস অফিসার, ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই মহকুমার প্রশাসক,দক্ষিন ত্রিপুরা জেলা প্রশাসক,ত্রিপুরা সরকারের সচিব।
১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন বিশ্বস্ত বন্ধু।

কুলেশ প্রসাদ চক্রবর্তী।১৯৬৩ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের আগরতলা গোপন সফরের শেষ সাক্ষী কুলেশ প্রসাদ চক্রবর্তী,একজন আইএএস অফিসার, ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই মহকুমার প্রশাসক,দক্ষিন ত্রিপুরা জেলা প্রশাসক,ত্রিপুরা সরকারের সচিব।
১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন বিশ্বস্ত বন্ধু।

 #মুক্তিযুদ্ধ  #বাংলাদেশেরইতিহাস   আশীষ গুপ্ত হার্ভাডে গিয়েছিলেন পড়াশোনা করতে। সেটা ১৯৭১ সাল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ক...
24/10/2025

#মুক্তিযুদ্ধ
#বাংলাদেশেরইতিহাস


আশীষ গুপ্ত হার্ভাডে গিয়েছিলেন পড়াশোনা করতে। সেটা ১৯৭১ সাল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে যখন ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়, সেই সময় তিনি বোস্টন গ্লোবে একটা লেখা পাঠিয়েছিলেন। ডিসেম্বরের ৯ তারিখে সেই লেখাটা ছাপা হয়ে যায় তাঁকে বিস্মিত করে দিয়ে।

ওই এক লেখার কারণে কপাল খুলে যায় তাঁর। বোস্টনের 'ফিনিক্স' পত্রিকা তাঁকে বাংলাদেশে গিয়ে যুদ্ধ কভার করার জন্য নিয়োগ দেয়। আশীষ গুপ্ত ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানে করে বাংলাদেশে ঢোকেন ডিসেম্বর মাসের ১৫ তারিখে। বাংলাদেশে ঢোকার পরে তিনি একটা মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে যান। ওই ক্যাম্পের কমান্ডার ছিলেন ‘রাহুল ভাই’।

এই ভদ্রলোক খুলনার দৌলতপুরের একজন সক্রিয় আওয়ামী লীগ কর্মী ছিলেন। পাকিস্তান বাহিনীর ঢাকা আক্রমণের পরপরই তিনি আরও দুই হাজার আওয়ামী লীগের সমর্থক নিয়ে দৌলতপুরের অস্ত্রাগার লুট করেন। ওই অস্ত্র দিয়েই রাহুল ভাই প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করেন। ডিসেম্বরে গিয়ে তাঁর বাহিনীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছিলো চারশো জনে। এদের অর্ধেক ছিলো মুসলমান আর বাকি অর্ধেক হিন্দু। ডিসেম্বরে যুদ্ধ যখন তীব্রতর আকার ধারণ করে, রাহুল ভাই তাঁর বেশ কিছু মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়েছিলেন সম্মুখ সমরে।

আশীষ গুপ্ত যখন মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে পৌঁছান, সেখানে খুব হট্টগোল চলছিলো। আগের রাতে মুক্তিযোদ্ধারা যখন অপারেশনে গিয়েছিলো তারা চারজন রাজাকারকে ধরে এনেছিলো। রাজাকার ধরে আনা হয়েছে শুনে অসংখ্য শরণার্থী জমা হয়েছে তাদের ‘আদর-যত্ন’ করার জন্য। মুক্তিযোদ্ধারা কাউকেও ক্যাম্পের মধ্যে ঢুকতে দিচ্ছিলো না।

ব্যতিক্রম ছিলো একজন। উন্মত্তের মতো ক্রন্দনরত এক বৃদ্ধা নারীকে শুধু ঢুকতে দেওয়া হয়। তাঁকেও মূলত ঢুকতে দেওয়া হয়েছিলো রাজাকারদের চিহ্নিত করার জন্য। ওই বৃদ্ধা নারীর নাম চাঁপাবালা দাস। চাঁপাবালা দাসের চোখের সামনে পাকিস্তানিরা তাঁর স্বামীকে গুলি করে হত্যা করেছিলো। তাঁর আঠারো আর চৌদ্দ বছরের দুই কন্যাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিলো।

যে তাবুতে রাজাকারদের বন্দি করে রাখা হয়েছিলো, সেখানে নিয়ে যাওয়া হয় চাঁপাবালা দাসকে। তিনি ওখানে গিয়ে পাগলের মতো ঝাঁপিয়ে পড়েন রাজাকারদের উপর। চড়-কিল ঘুষি কোনোটাই বাদ পড়ে না। এক রাজাকারকে চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে পেটাতে থাকেন তিনি। রাহুল ভাই তাঁকে থামান জোর জবরদস্তি করে তাঁবুর বাইরে নিয়ে আসেন। চাঁপাবালা দাস তখনও সমানে চিৎকার করে যাচ্ছেন। বাইরে এসে পরিশ্রমের কারণে মাটিতে শুয়ে পড়েন তিনি। পানি খাইয়ে তাঁকে কিছুটা সুস্থ করা হয়। শরীরে শক্তি ফিরে পেয়েই চাঁপাবালা দাস আবার ছুটে যান তাঁবুর ভিতরে। তাঁর গ্রামের থেকে আসা রাজাকারটাকে নির্দয় ভাবে লাথি মারতে থাকেন তিনি।

 #মুক্তিযুদ্ধ  #বাংলাদেশেরইতিহাস   প্রায় আট দশক আগে,ধর্মযাজক হিসাবে বাংলাদেশে আসলেও, ধর্মীয় কর্মকান্ডের পাশাপাশি তিনি বা...
23/10/2025

#মুক্তিযুদ্ধ
#বাংলাদেশেরইতিহাস


প্রায় আট দশক আগে,ধর্মযাজক হিসাবে বাংলাদেশে আসলেও, ধর্মীয় কর্মকান্ডের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম-মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিসহ বহুমাত্রিক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখে, বাঙালির মূল ধারায় নিজেকে বিলীন করে দিয়ে এক অনন্য উদাহরন সৃষ্টি করেছিলেন।

যাপিত জীবনের উজ্জ্বল ৬৪টি বছর,
বাংলাদেশে কাটানো বাংলাদেশের সম্মানসূচক নাগরিক এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় পুরস্কার 'মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা' পাওয়া, মোংলার শেলাবুনিয়া গ্রামের ক্যাথলিক ধর্মযাজক ইটালীয় নাগরিক ফাদার মারিনো রিগন।

সংগৃহিত

 #মুক্তিযুদ্ধ  #বাংলাদেশেরইতিহাস   উনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়ার অপরাধে রাজাকাররা তাঁর স্ত্রীকে ধর্ষণ করার হুমকি দিয়েছিলো।...
22/10/2025

#মুক্তিযুদ্ধ
#বাংলাদেশেরইতিহাস


উনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়ার অপরাধে রাজাকাররা তাঁর স্ত্রীকে ধর্ষণ করার হুমকি দিয়েছিলো। এটা শুনে যুদ্ধের ময়দান থেকে বাড়ী এসেছিলো স্ত্রী সন্তানের খবর নিতে। এসে দেখলো তাঁর স্ত্রী সতীত্ব বাচাতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্বহত্যা করেছে। বাচ্চারা একজনও বেচে নেই।
পাহাড় সমান শোককে শক্তি করে বাড়ি ছেড়েছিলেন আর দেশ স্বাধীন করেই তবে বাড়ী ফিরেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি পাঁচ হাজার মুক্তিযোদ্ধার এক দুধর্ষ গেরিলা বাহিনী গড়েছিলেন যারা বরিশাল, ঝালকাঠি, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরিয়তপুর আর বাগেরহাট এলাকায় দুর্দান্ত প্রতাপের সাথে যুদ্ধ করে পাকিস্তানী হানাদার আর তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকারদের পরাভুত করেছে।

একদিন সম্মুখ যুদ্ধে একটা বুলেট লোকটার গালের একপাশ দিয়া ঢুকে আরেক পাশ দিয়ে বেড়িয়ে যায়। আটটা দাঁত পড়ে গেল। ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিলো তবুও লোকটা যুদ্ধ থামায় নি, অজ্ঞান হওয়ার আগ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে গেছে এবং শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানি হানাদাররা পরাজিত হয়ে পালিয়েছিলো।

লোকটির নাম হেমায়েত উদ্দিন।

হেমায়েত বাহিনীর প্রধান বীর বিক্রম হেমায়েত উদ্দিন।শুধু বাংলাদেশের না, সমগ্র মডার্ন মিলিটারি ইতিহাসের অন্যতম গেরিলা লিজেন্ড।

২০১৬ সালের ২২ অক্টোবর এই লোকটা ঘুমিয়ে গেছে।
অতল শ্রদ্ধা!

Address

Dhaka

Telephone

+8801716813947

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মো. শওকত আলীর কথা ও কণ্ঠ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to মো. শওকত আলীর কথা ও কণ্ঠ:

Share