03/08/2026
হযরত ঈসা (আ.)-এর যুগে এক নেককার নারী ছিলেন। তিনি একদিন রুটি বানানোর খামির চুলায় রেখে নামাজে দাঁড়ালেন।
এমন সময় শয়তান এক নারীর রূপ ধারণ করে এসে বলল, “তোমার খামির তো পুড়ে যাচ্ছে!”
কিন্তু তিনি তার কথায় কোনো ভ্রুক্ষেপ করলেন না। তখন শয়তান তাঁর শি'শু সন্তানকে তুলে চু'লায় ফেলে দিল। তবুও তিনি সেদিকে কোনো খেয়াল করলেন না।
কিছুক্ষণ পর তাঁর স্বামী ঘরে এসে দেখলেন, শিশুটি চুলার ভেতরে আগুনের মধ্যে নিশ্চিন্তে খেলছে। আর আল্লাহ তাআলা আগুনকে তার জন্য লাল ইয়াকূত পাথরের মতো শীতল ও নিরাপদ করে দিয়েছেন।
ঘটনাটি হযরত ঈসা (আ.)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি সেই নারীকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, "তুমি এমন কী আমল করো?"
তিনি বললেন,
"আমি যখনই ওজু করি, তখনই নামাজ আদায় করি। আর আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে, এমন কোনো সাহায্য যদি কেউ আমার কাছে চায়, আমি সাধ্য অনুযায়ী তা পূরণ করি। আর মানুষের কষ্টকে আমি এমন ধৈর্যের সঙ্গে সহ্য করি, যেমন মৃত ব্যক্তি জীবিতদের আচরণে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না।"
যে হৃদয় সত্যিই আল্লাহর হয়ে যায়, তাকে দুনিয়ার ভয়, শয়তানের ধোঁকা কিংবা বিপদের ঝড় সহজে নাড়াতে পারে না। মানুষ যখন আল্লাহর দিকে পূর্ণ মনোযোগ দেয়, তখন আল্লাহই তার দুনিয়ার দায়িত্ব নিজের রহমতে সামলে দেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
"আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।" (সূরা তালাক,২–৩)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
"তুমি আল্লাহকে হেফাজত কর (তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলো), তিনি তোমাকে হেফাজত করবেন।" (তিরমিযী)
আল্লাহ তাআলা আমাদের এমন ইবাদত, চরিত্র ও ধৈর্য দান করুন, যা রবের সন্তুষ্টি অর্জনের কারণ হয়। আমীন
©
সূত্র: নুযহাতুল মাজালিস, ইমাম আব্দুর রহমান আস-সফুরি রহ.