06/06/2026
আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ উপেক্ষার অভিযোগে চকরিয়া পৌর কিচেন মার্কেটে মাছ ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ
মৎস্য আড়তে অতিরিক্ত কর ও হাছিল টোকেনের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ; পৌর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার কিচেন মার্কেটের মৎস্য আড়তে আদালতের স্থিতাবস্থা (Status Quo) আদেশ উপেক্ষা করে কর ও টোকেনের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী মাছ ব্যবসায়ী ও আড়ৎদাররা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শহীদ আব্দুল হামিদ পৌর বাস টার্মিনাল কিচেন মার্কেট মাছ বাজারে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারি মাছ ব্যবসায়ীরা মাছ বিক্রির উদ্দেশ্যে আসেন। এ সময় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের ইজারাদার দাবি করে রশিদ বইয়ের মাধ্যমে টোকেন প্রদান করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে পৌরসভার বাজার শাখা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানে আলম বলেন, “পৌর কিচেন মার্কেটের মৎস্য আড়তের দোকানগুলো দীর্ঘমেয়াদে মাছ ব্যবসায়ীদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তারা নিয়মিত পৌরসভাকে ভাড়া প্রদান করেন। আমার জানামতে মৎস্য আড়ত ইজারা দেওয়া হয়নি। তবে কিচেন মার্কেটের বাইরের খোলা জায়গাটি ইজারা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ভালো বলতে পারবেন।”
পরে চকরিয়া পৌর প্রশাসক শাহিন দেলোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কিচেন মার্কেটের বাইরের অংশ ‘কুলামাটি’ এলাকায় শহিদুল ইসলাম গং-এর নামে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় এবং স্থিতাবস্থা আদেশ বহাল থাকাকালে মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এদিকে মাছ ব্যবসায়ীদের পক্ষে মাদারল্যান্ড ফিস ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. মইনুল ইসলাম (মোনাফ) অভিযোগ করে বলেন, “মৎস্য বাজারের ইজারা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে এবং মাননীয় যুগ্ম জেলা জজ (২য়) আদালত স্থিতাবস্থা আদেশ দিয়েছেন। এরপরও আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মামুন নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে মাছ বিক্রির সময় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “যার নামে বাজারের ইজারা দেওয়া হয়েছে, সেই শহিদুল ইসলাম অতীতে আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা ছিলেন বলে এলাকায় পরিচিত। অথচ বর্তমানে তার স্বার্থ রক্ষায় কারা সক্রিয় এবং কেন আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করা হচ্ছে—তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানাচ্ছি।”
এ ঘটনায় সচেতন মহল বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।