19/07/2025
হুমায়ূন আহমেদ যখন ২০১২ সালের ১৯ জুলাই পরপারে পাড়ি জমান, তখন আমি খুব ছোট। তখনো জানতাম না, 'হুমায়ূন আহমেদ' নামটা কী এক যাদুকরি জগতের চাবিকাঠি। আমার হুমায়ূন-ভুবনে প্রবেশ ঘটে তাঁরই লেখা প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে দিয়ে। সেই একবার ঢুকেই আর বের হওয়া হয়নি। হতে চাওয়াটাই ভুল ছিল বোধহয়!
এরপর ধীরে ধীরে পরিচিত হতে থাকি তাঁর বিস্তৃত জগতে। উপন্যাস, নাটক, সিনেমা, গান- সবকিছুতেই যেন এক অদ্ভুত মোহ। হুমায়ূনের লেখা হয়তো গুটিকয়েক বই এখনো বাকি, কিন্তু তাঁর নাটক আর চলচ্চিত্র-ভান্ডার আমি গুনে গুনে, বারবার উপভোগ করেছি।
সাহিত্যিকদের লেখা অনুভব করা যায়, তাঁদের ভাবনায় ভাসা যায়। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের বেলায় ব্যাপারটা যেন আরও গভীর। একটা সময় টের পেলাম, এই মানুষটার প্রতি আমার বুকভরা আবেগ জমে আছে—নিঃশব্দে, কিন্তু প্রবলভাবে।
তাঁর মৃত্যুর দিনের সেই ভিডিও, জানি না কতবার দেখেছি, আর কেঁদেছি নিরবে, গভীরভাবে। হয়তো সব হুমায়ূনভক্তই এমন করে কাঁদেন, জানি না।
চান্নিপসর রাতগুলোতে এখনো আমি হুমায়ূন আহমেদের লেখা গান শুনি, তাঁকে স্মরণ করি। তাঁর লেখা থেকে জন্ম নেওয়া প্রতিটি সুর যেন আজো আমাকে ছুঁয়ে যায়, ভেতরটা কাঁপিয়ে দেয়।
আমি আর হুমায়ূন আহমেদ, আমরা দুজনই বগুড়া জিলা স্কুলের ছাত্র। সেই টুকরো সংযোগটাই হয়তো আমার কিশোর মনে এক অলিখিত দায়বোধ তৈরি করেছিল। তাঁর শিক্ষা-যাত্রার পদচিহ্ন অনুসরণ করার। ভাবতাম, হুমায়ূন আহমেদের ঢাকা কলেজ আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগ্যাসি ধরে রাখবো। নটর ডেম কলেজে চান্স পাওয়ায় সেটা সম্ভব হয়নি, কিন্তু শেষমেশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সেই
স্কুল-আর-ইউনিভার্সিটি সংযোগটা ঠিকই পূর্ণ করতে পেরেছি।
আজও তাঁর
প্রয়াণ দিবসে আমি মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। আমার বিশ্বাস, আপনি শান্তিতে আছেন, স্যার। আমরা যারা এখনও আপনার লেখার আলোয় পথ খুঁজি, তাঁদের হৃদয়ে আপনি আজও অম্লান, চিরজীবন্ত।
মাহতাব আজমাঈন রিয়াদ
১৯-০৭-২০২৫